ফ্রেডেরিক স্যাঙ্গার

1467306_10151892653753521_1008530825_n

পচানব্বই বছরের একটি দীর্ঘ কর্মবহুল জীবন কাটিয়ে বিদায় নিলেন ফ্রেডেরিক স্যাঙ্গার (Frederik Sanger) গতকাল ..১৯ নভেম্বর; অত্যন্ত বিনয়ী এই বৃটিশ এই প্রাণরসায়নবিদ সবার কাছে পরিচিত ছিলেন ’ফ্রেড’ স্যাঙ্গার নামেই। BA শেষ করার পর অতিরিক্ত একবছর তিনি খানিকটা জিদ করেই বায়োকেমিস্ট্রি পড়েছিলেন, এবং খুব ভালো রেজাল্ট করে প্রমান করে দিয়েছেলেন.. তিনি কাজটি করতে পারেন। আমাদের সৌভাগ্য যে তিনি বায়োকেমিষ্ট্রিকে নিজেরক্ষেত্র হিসাবে বেছে নিয়ে ছিলেন।

মোট দুবার রসায়নে নোবেল পুরষ্কার জিতেছিলেন স্যাঙ্গার। বিনয়ের সাথে নাইটহুড প্রত্যাখান করেছিলেন, কারন চাননি তাকে স্যার বলা হোক। (প্রসঙ্গ ক্রমে বলে রাখা যেতে পারে তার দুই ডক্টরাল স্টুডেন্ট, লিজ (এলিজাবেথ ) ব্ল্যাকবার্ণ নোবেল পেয়েছিলেন টেলোমেয়ার এর গঠন আবিষ্কার এর জন্য এবং রডনি রবার্ট পোর্টার নোবেল পেয়েছিলেন অ্যান্টিবডির গঠন আবিষ্কার এর জন্য); বেশ কিছু গুরুত্বপুর্ণ অবদান আছে তার জীববিজ্ঞানে, অনেকেই তাকে মনে করেন “father of genomics” …

১৯৫৮ সালে তিনি পেপার ক্রোমাটোগ্রাফির অত্যন্ত কষ্টকর প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রথম ইনসুলিন হরমোন এর অ্যামাইনো এসিড অনুক্রম করে দেখিয়েছিলেন। যা প্রমান করেছিল, প্রোটিন এর সুনির্দিষ্ট অ্যামাইনো এসিড অনুক্রম থাকে, যা দীর্ঘদিনের একটি ধারনাকে ভ্রান্ত প্রমান করে ও যা পরবর্তীতে ফ্রান্সিস ক্রিককে সাহায্য করেছিলো কিভাবে ডিএনএ বেস অনুক্রম প্রোটিন তৈরীর সংকেত কোড করে সেই হাইপোথিসিসটি প্রস্তাব করার জন্য। এছাড়া তিনি প্রথম formylmethionine tRNA এর বর্ণনা দিয়েছিলেন যা ব্যাকটেরিয়ায় প্রোটিন সংশ্লেষন প্রক্রিয়াটি শুরু করে, পরে অবশ্য তিনি tRNA এর বেস অনুক্রম নিরুপনের দৌড়ে দ্বিতীয় হয়েছিলেন। এরপর তিনি শুরু করেন তার অন্যতম কাজটি… ডিএনএ অনুক্রম বা ডিএনএ সিকোয়েন্সিং করার প্রক্রিয়া। মনে রাখতে হবে সেই সময় ডিএনএ সিকোয়েন্সিং এর কাজটি কেবল শুরু হয়েছে, এবং প্রক্রিয়াটা খুবই ধীর, ১৯৭৫ সালে সেখানে সামান্য গতি আনেন Alan Coulson এর প্লাস অ্যান্ড মাইনাস টেকনিক, Coulson এর টীমই প্রথম bacteriophage φX174 এ জিনোম সিকোয়েন্স করেন, প্রথম বারের মত বিজ্ঞানীরা বুঝতে পারেন জীনোম এর কোডিং অংশগুলো ওভারল্যাপও করতে পারে।

১৯৭৭ সালে স্যাঙ্গার এর টীম dideoxy” chain-termination method বা Sanger method” উদ্ভাবন করেন, এই প্রক্রিয়াটি ডিএনএ অনুক্রম প্রক্রিয়াটিকে অনেক দ্রুত করে তোলে, এই কাজটির জন্য তিনি দ্বিতীয়বার নোবেল পান Walter Gilbert ও Paul Berg এর সাথে।এই নতুন প্রক্রিয়ায় প্রথম বারের মত human mitochondrial DNA র অনুক্রম প্রকাশ করেন তার টীম। আর এই Sanger মেথড দিয়েই ১৯৯০ সালে জীববিজ্ঞানের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় কোলাবরেটিভ প্রজেক্ট.. Human Genome Project ( যা ২০০৬ সালে সমাপ্ত হয় অফিশিয়ালী), পরে এর সাথে যুক্ত হয় ক্রেইগ ভেন্টার এর শট গান সিকোয়েন্স মেথড এর একটি ভ্যারিয়েশন।

কোয়েকার মতাদর্শী পিতার সন্তান প্রতিপালিত হয়েছিলেন কোয়েকার ঘরানায়, তবে তিনি পরবর্তীতে তিনি অনেক বিজ্ঞানীর মতই ঈশ্বর প্রশ্নে সন্দিহান.. ২০০০ সালে টাইমস এর সাথে একটি সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন..

My father was a committed Quaker and I was brought up as a Quaker, and for them truth is very important. I drifted away from those beliefs – one is obviously looking for truth but one needs some evidence for it. Even if I wanted to believe in God I would find it very difficult. I would need to see proof.”

বিদায় স্যাঙ্গার.. আমরা চির কৃতজ্ঞ ..

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s