জেরী কয়েন এর হোয়াই ইভোল্যুশন ইজ ট্রু : পঞ্চম অধ্যায় (শেষ পর্ব)

ছবি:  হ্যাগফিশ এবং ল্যাম্প্রের ( আদিম গঠনের ঈল-সদৃশ মেরুদন্ডী প্রানী) চোখের গঠন এবং ভ্রণতাত্ত্বিক বিকাশ ইঙ্গিত দেয় কেমন করে আমাদের ক্যামেরা-স্টাইল চোখ বিবর্তিত হয়েছে এবং এর প্রথম দিকের ধাপগুলো এটি কিভাবে কাজ করতো। প্রাপ্তবয়স্ক হ্যাগফিসের চোখ ডিজেনেরেট বা অপজাত হয়ে যায়, যা দিয়ে সে আর কোন কিছু দেখতে পায়না, তবে সম্ভবত তার শারীরিক সারকাডিয়ান (দৈনন্দিন) রিদমকে নিয়ন্ত্রন করার জন্য এই অপজাত চোখটি আলো শনাক্ত করতে সক্ষম (১); ভ্রুনাবস্থায় প্রথম দিকে ল্যাম্প্রের চোখ দেখতে অনেকটা সহজ গঠনের হ্যাগফিশের চোখের মতই, পরবর্তীতে যা রুপান্তরিত হয় গঠনগতভাবে জটিল ক্যামেরা স্টাইল চোখে (২); মানুষের চোখও ভ্রুণাবস্থায় একপর্যায়ে হ্যাগ ফিসের চোখের মত পর্যায় অতিক্রম করে, যখন আমাদের রেটিনা তিনটি স্তরের হবার আগে দুটি স্তর বিশিষ্ট থাকে (৩); সাধারনতঃ কোন প্রাণীর ভ্রুণতাত্ত্বিক বিকাশের সময় পরিলক্ষিত নানা বৈশিষ্ট তার লিনিয়েজের বিবর্তনের সময় ঘটা নানা পর্যায়গুলোকেই প্রতিফলন করে। আজ পযন্ত্য পাওয়া সকল প্রমান ‌ ইঙ্গিত করে, দৃষ্টিক্ষমতাহীন দ্বিস্তর বিশিষ্ট রেটিনা বিশিষ্ট একটি প্রোটো-আই বা আদি চোখ প্রায় ৫৫০ থেকে ৫০০ মিলিয়ন বছর আগে মেরুদন্ডী প্রানীদের আদি পুরুষদের মধ্যে বিবর্তিত হয়েছিল (৪); যে প্রোটো-আইটি ক্যামেরা স্টাইল চোখের আদিরুপ সেই প্রোটো-আই আমাদের পুর্বপুরুষ প্রানীদের শরীরের আভ্যান্তরীন শারীরবৃত্তীয় ছন্দ ( সারকাডিয়ান রিদম) বা ইন্টারনাল ঘড়িকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য আলো শণাক্ত করতো। (সুত্র: Illustration by Jen Christiansen /Scientific American);


ছবি: উপরের ছবিটিতে দেখানো হয়েছে কর্ডেট এবং মেরুদন্ডী প্রানীদের বিবর্তনের বিভিন্ন পর্যায়ে সিলিয়ারী ফটোরিসেপ্টরদের গঠন: ছবির মাঝের স্তরে দেখানো হয়েছে পুরো সিলিয়ারী রিসেপ্টরগুলোর স্কিমাটিক ডায়াগ্রাম; উপরে এবং নীচের স্তরে দেখানো হয়েছে যথাক্রমে রিসেপ্টরের বাইরের সেগমেন্টের ও সাইন্যাপটিক বা ভিতরের স্নায়ু সংযোগ স্থানের ইলেক্ট্রন মাইক্রোগ্রাফ। ভালো করে লক্ষ্য করলে বোঝা যাবে ধীরে ধীরে বাইরের সেগমেন্টে কেমন করে ল্যামিনার বা পর্দার মতো আরো সুসংগঠিত হয়েছে, আর সাইনাপটিক টার্মিনালে সাইন্যাপটিক রিবনের আবির্ভাব হয়েছে। সুত্র: ট্রেভর ল্যাম্ব ও সহযোগীরা : Nature Reviews: neuroscience; volume 8, December 2007)


ছবি: রেটিনা: আমাদের চোখের পেছনে স্নায়ুকোষ, ফটোরিসেপ্টর ও নানা সহযোগী কোষের একটি স্তর। এটি আলোক সংকেতকে স্নায়ুসংকেতে রুপান্তরিত করে অপটিক নার্ভের মাধ্যমে আমাদের ব্রেনে ভিজুয়াল ইনফরমেশন প্রেরণ করে, যা আমাদের দেখার অনুভুতি সৃষ্টি করে।  রঙ্গীন কোন দৃশ্য দেখাটা নির্ভর করে কোন ( CONE) নামের একধরনের ফটোরিসেপ্টরের উপরে, যারা কোনের মতোই দেখতে এবং আলোক সংবেদী বিশেষ পিগমেন্ট বহন করে, যা আলোর সংস্পর্শে আসলে সক্রিয় হয়ে ওঠে। অন্য যে ফটোরিসেপ্টরগুলো আমাদের কম আলোয় (যেমন রাতে) দেখতে সাহায্য করে তাদের নাম রড (ROD); এই রড এবং কোন কোষগুলো রেটিনার একদম পেছনের স্তরে, অন্য অনেক সহযোগী কোষের পিছনে অবস্থান করে যারা সবাই আমাদের দৃষ্টি ক্ষমতার জন্য দায়ী। ANDREW SWIFT (retina illustrations); Scientific American.

জেরী কয়েন এর হোয়াই ইভোল্যুশন ইজ ট্রু : পঞ্চম অধ্যায় ( শেষ পর্ব)

(অনুবাদ প্রচেষ্টা: কাজী মাহবুব হাসান)

Why Evolution Is True: Jerry A. Coyne

প্রথম অধ্যায়
দ্বিতীয় অধ্যায় : প্রথম পর্ব  দ্বিতীয় পর্ব তৃতীয় পর্ব চতুর্থ পর্বশেষ পর্ব
তৃতীয় অধ্যায়: প্রথম পর্ব , দ্বিতীয় পর্ব , তৃতীয় পর্ব , শেষ পর্ব
চতুর্থ অধ্যায়:  প্রথম পর্ব ; দ্বিতীয় পর্বশেষ পর্ব
পঞ্চম অধ্যায়:  প্রথম পর্ব ; দ্বিতীয় পর্ব ; তৃতীয় পর্ব ; চতুর্থ পর্ব ; পঞ্চম পর্ব

আরো একটি আলোচনা:  ন্যাচারাল সিলেকশন বা প্রাকৃতিক নির্বাচনকে যাচাই করে দেখার পরীক্ষা:

অধ্যায় ৫ : বিবর্তনের ইন্জিন

  নির্বাচন কি জটিল কিছু সৃষ্টি করতে পারে?

কিন্তু যদি আমরা একমতও হই যে প্রাকৃতিক নির্বাচন প্রকৃতিতে কাজ করছে, ঠিক কি পরিমান কাজ আসলেই এটি করছে? নিশ্চয়ই, নির্বাচন পারে পাখির ঠোটে আকার আকৃতি বা গঠন কিংবা কোন উদ্ভিদের ফুল ফোটার সময় পরিবর্তন করতে । কিন্তু এটি কি আসলেই জটিলতর কিছু সৃষ্টি করতে পারে? জটিল কিছু বৈশিষ্ট যেমন, টেট্রাপড দের হাত পা বা রক্ত জমাট বাধা জটিল আর সুক্ষ ধাপগুলো, যা দেখাচ্ছে ঠিক কি সুনির্দিষ্ট উপায়ে সুর্নির্দিষ্ট বহুসংখ্যক প্রোটিনগুলো কাজ করছে বা সবচেয়ে জটিলতম অঙ্গ যেটি বিবর্তিত হয়েছে, মানুষের মস্তিষ্ক? আমরা খানিকটা হাতপা বাধা এই পরিস্থিতিতে কারন আমরা জানি, জটিলতর বৈশিষ্টগুলো বিবর্তিত হবার জন্য বহু সময়ের দরকার এবং বেশীর ভাগই তারা উদ্ভব হয়েছে দুর অতীতে, যখন আমরা সেখানে ছিলাম না কিভাবে সেটা ঘটেছে তা দেখার জন্য। তাহলে আমরা কিভাবে নিশ্চিৎ হবো নির্বাচন এখানে কাজ করেছ ? আমরা কিভাবে জানি যে সৃষ্টিবাদীরা ভুল, যখন তারা বলেন প্রাকৃতিক নির্বাচন ছোটখাট পরিবর্তন হয়তো ঘটাতে পারে তবে এর কোন ক্ষমতা নেই বড় ধরণের কোন পরিবর্তন ঘটাতে? Continue reading “জেরী কয়েন এর হোয়াই ইভোল্যুশন ইজ ট্রু : পঞ্চম অধ্যায় (শেষ পর্ব)”

Advertisements
জেরী কয়েন এর হোয়াই ইভোল্যুশন ইজ ট্রু : পঞ্চম অধ্যায় (শেষ পর্ব)

জেরী কয়েন এর হোয়াই ইভোল্যুশন ইজ ট্রু : পঞ্চম অধ্যায় (পঞ্চম পর্ব)

Collage2
ছবি: Top row: juvenile J. haematoloma (first and second images), J. coturnix, and B. trivittata. Second row: juvenile B. rubrolineata, L. mitellatus, L. tagalicus, and L. bahram. Species in third and fourth rows are adult versions of the species in the first and second rows, respectively. সুত্র

25-10-2013 11-15-40 PM
ছবি: Jadera haematoloma feeding সুত্র

5333880346_e001c5770f_b
ছবি: J. haematoloma feeding on Cardiospermum halicacabum seed

আকারে খুব ক্ষুদ্র কিন্তু শক্তিশালী সোপবেরী বাগ (Soapberry bug) মানুষের বদলে দেয়া এই প্রকৃতিতে খুব দ্রুত খাপ খাইয়ে নিচ্ছে, বেশ কিছু উদহারন একটি এই সোপবেরী বাগ আমাদের দেখিয়ে দিয়েছে বিবর্তন প্রক্রিয়া অব্যাহত আছে প্রতিটি মুহুর্তে।কিভাবে প্রকৃতিতে প্রাকৃতিক নির্বাচন প্রক্রিয়াটি কাজ করছে, আমাদের জীবদ্দশায় তা দেখার সুযোগ আমরা পেয়েছি।সারা পৃথিবীতে প্রায় ৬০ প্রজাতির সোপবেরী বাগ আছে; মুলত subfamily Serinethinae অন্তর্ভুক্ত ৩ টি জেনেরায় সোপবেরী বাগ এর প্রজাতিগুলো বিন্যস্ত,, Jadera, Leptocoris, ও Boisea;  সোপবেরী বাগরা মুলত সাপনিড গ্রুপের গাছদের বীজ খায়, এদের লম্বা একটা ঠোটের মত উপাঙ্গ আছে, যা ফলের মাংশল অংশ ভেদ করে সরাসরি বীজের কাছে পৌছে যায় এর পর এটি দিয়ে বীজের শক্ত খোলস ছিদ্র করে বীজের ভিতর তার পরিপাক রস ঢুকিয়ে দেয়, সেই পরিপাক রসই বীজটিকে খোলসের মধ্যে গলিয়ে তরলে রুপান্তরিত করে, সোপবেরী পোকারা সেটা চুষে খেয়ে নেয় সহজে। এই পোকাগুলো বিশেষ বিশেষ গাছের ফল বীজ খাবার জন্য অভিযোজিত হয়েছে। এর জন্য তারা তাদের ঠোটের আকারও পরিবর্তন করেছে প্রয়োজনমত; যদি সেই গাছের এমন কোন ফল থাকে যার বীজ অনেক গভীরে থাকে, যে সোপবেরী পোকারা সেই গাছে বাস করে তাদের ঠোট সেই আকারে লম্বা হয়, আর যদি বীজ বেশ গভীরে না থাকে সেই গাছে থাকা সোপবেরী পোকাদের ঠোটও সেই আকারে ছোট হয়। বিজ্ঞানীরা লক্ষ্য করেছেন সোপবেরী পোকা, বিশেষ করে উত্তর আমেরিকার Jadera haematoloma ঠোটের (মুখোপাঙ্গ) আকারের দ্রুত বিবর্তন হচ্ছে, আর  এই বিবর্তনের পেছনে কাছ করছে বিশেষ কিছু গাছের নিজেদের বীজ বাচানোর কৌশলের নির্বাচনী চাপ; বিশেষ করে যে নতুন প্রজাতির সাপনিড গাছগুলো উত্তর আমেরিকায় প্রবেশ করার সুযোগ করে হয়েছে, তাদের সাথে সহবিবর্তনের একটি ধারাবাহিকতা লক্ষ্য করেছেন বিজ্ঞানীরা। এবং এখানে সবচেয়ে লক্ষ্যনীয় বিষয় হচ্ছে এই নতুন প্রজাতির গাছ যাদের বীজ তারা খেতে শুরু করেছে, তারা কিন্তু খুব সাম্প্রতিককালে তাদের বসবাসের এলাকা নিয়ে আসা হয়েছে, এবং বিজ্ঞানীরা সহজেই পুর্বধারণা করতে পেরেছেন,এই নতুন গাছগুলোর ফলের মধ্যে বীজের অবস্থানেরে উপর নির্ভর করে এই পোকাদের ঠোটের আকার ধনাত্মক হারে পরিবরর্তিত হবে এবং নিশ্চয়ই এর একটি জিনগত ভিত্তি থাকবে। আর এটাই আমাদের দেখার সুযোগ করে দিয়েছে কিভাবে প্রকৃতিতে প্রাকৃতিক নির্বাচন বিবর্তনের ইন্জিনটাকে সচল রাখে, যা কিনা কখনো কখনো আমাদের জীবদ্দশায় দেখবার সৌভাগ্য হয়। যেমন balloon vine, Cardiospermum corindum, দক্ষিন ফ্লোরিডার স্থানীয় একটি সাপনিড জাতীয় উদ্ভিদ, এদের উপর নির্ভর করে বেচে থাকে red-shouldered সোপবেরী পোকা ( Jadera haematoloma), বেলুন ভাইন দের ফল বেশ বড়,গোল, ফোলা এবং Jadera haematoloma যারা এই বেলুন ভাইন এর ফলের বীজ খায় তাদের ঠোটের আকার দৈর্ঘে্য তাদের দেহের প্রায় ৭০%; ১৯৫০ এর দিকে তাইওয়ান থেকে আরো একটি সৌন্দর্যবর্ধন কারী সাপনিড প্রজাতির ‍বৃক্ষ Chinese flametree, Koelrueteria elegans ফ্লোরিডাতে নিয়ে আসা হয়, এবং এর কিছু দিন পর থেকেই Jadera haematoloma পোকারা এই গাছটির ফল খেতে শুরু করে; এর প্রায় ২০ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে দেখা যায় এদের এই গাছটির ফল খাবার জন্য বিশেষভাবে উপযোগী ঠোটও বিবর্তিত হয়। এবং সেই সাথে এই গাছটির বীজ খেয়ে বেচে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় বেশ কিছু পরিবর্তনও হয় ( কারন ফ্লেম ট্রী ফল বছরে একবার খুব কম সময়ের জন্য হয়), এদের ফলের আকার ছোট, এখানে বিশেষায়িত পোকারা কম উড্ডয়নক্ষম, দ্রুত প্রজনন ক্ষম হয়ে ওঠা এবং প্রজননের জন্য বিশেষ সচেষ্টা থাকা ও সেই সংক্রান্ত বেশ কিছু বৈশিষ্ট নিয়ে তারা অভিযোজিত হয় যা তাদের পার্থক্য করে তাদের পুর্বসুরী Jadera haematoloma দের থেকে।

জেরী কয়েন এর হোয়াই ইভোল্যুশন ইজ ট্রু : পঞ্চম অধ্যায় ( পঞ্চম পর্ব)

(অনুবাদ প্রচেষ্টা: কাজী মাহবুব হাসান)

Why Evolution Is True: Jerry A. Coyne

প্রথম অধ্যায়
দ্বিতীয় অধ্যায় : প্রথম পর্ব  দ্বিতীয় পর্ব তৃতীয় পর্ব চতুর্থ পর্বশেষ পর্ব
তৃতীয় অধ্যায়: প্রথম পর্ব , দ্বিতীয় পর্ব , তৃতীয় পর্ব , শেষ পর্ব
চতুর্থ অধ্যায়: চতুর্থ অধ্যায়:  প্রথম পর্ব ; দ্বিতীয় পর্বশেষ পর্ব
পঞ্চম অধ্যায়:  প্রথম পর্ব ; দ্বিতীয় পর্ব ; তৃতীয় পর্ব ; চতুর্থ পর্ব

আরো একটি আলোচনা:  ন্যাচারাল সিলেকশন বা প্রাকৃতিক নির্বাচনকে যাচাই করে দেখার পরীক্ষা:

অধ্যায় ৫ : বিবর্তনের ইন্জিন

বন্য প্রকৃতিতে নির্বাচন:

মানুষের আরোপিত নানা ধরনের প্রতিকুল চাপ ও রাসায়নিক দ্রব্যর প্রতি যে প্রতিক্রিয়াগুলো আমরা দেখি সেগুলো বোধগম্য অর্থেই প্রাকৃতিক নির্বাচনকেই বোঝায়। যদিও এই নির্বাচনের চাপের কারনটি মানুষের পরিকল্পিত, কিন্তু প্রতিক্রিয়াটি হচ্ছে পুরোপুরিভাবে প্রাকৃতিক এবং আমরা যা দেখেছি সেগুলো খুব জটিল হতে পারে।কিন্তু হয়তো এটি আরো বিশ্বাসযোগ্য হতে পারে যদি আমরা প্রকৃতিতে এই কাজটি সরাসরি হতে দেখি, কোন মানুষের হস্তক্ষেপ ছাড়াই। অর্থাৎ আমরা একটি প্রাকৃতিক জনগোষ্ঠীকে প্রাকৃতিক চ্যালেন্জ এর মুখোমুখি হতে দেখতে চাই। আমরা জানতে চাই সেই চ্যালেন্জটা কি? এবং আমরা সেই জনগোষ্ঠীকে আমাদের সামনে বিবর্তিত হতে দেখতে চাই।

Continue reading “জেরী কয়েন এর হোয়াই ইভোল্যুশন ইজ ট্রু : পঞ্চম অধ্যায় (পঞ্চম পর্ব)”

জেরী কয়েন এর হোয়াই ইভোল্যুশন ইজ ট্রু : পঞ্চম অধ্যায় (পঞ্চম পর্ব)

জেরী কয়েন এর হোয়াই ইভোল্যুশন ইজ ট্রু : পঞ্চম অধ্যায় (চতুর্থ পর্ব)

richard-lenski
ছবি:   রিচার্ড ই লেনস্কি, একজন বিবর্তন জীববিজ্ঞানী , যিনি ২৫ বছরের বেশী সময় ধরে ল্যাবরেটরীতে  E coli  এর বিবর্তন নিয়ে কাজ করছেন। তার এই গবেষনরা এখনও চলমান। এখান থেকে আমরা  বিবর্তন আর প্রাকৃতিক নির্বাচন সম্বন্ধে গুরত্বপুর্ণ সব উপাত্ত পেয়েছি।  তার বিভাগীয় ওয়েবসাইট  বলছে তার সেই E coli দের বিবর্তনে বর্তমানে 58777.8 তম প্রজন্ম চলছে।  এই দীর্ঘমেয়াদী বিবর্তনের পরীক্ষায় লেনস্কি ও তার সহযোগীরা যাত্রা শুরু করেছিলেন ১২ টি জীনগত ভাবে হুবুহু ব্যাকেরিয়াদের জনগোষ্ঠীদের নিয়ে ১৯৮৮ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারী, ২০১০ সালে এটি তাদের ৫০০০০ তম প্রজন্ম অতিক্রম করে। িএই পরীক্ষাটি খুব সহজ ভাবে ব্যাখ্যা করেছেন রিচার্ড ডকিন্স তার The Greatest Show on Earth এ, যা আমি বইটির ধারাবাহিক অনুবাদের অংশ হিসাবে এর পরের পর্বে যুক্ত করবো। (((অধ্যাপক লেনস্কির নিজের ওয়েবসাইট)))

জেরী কয়েন এর হোয়াই ইভোল্যুশন ইজ ট্রু : পঞ্চম অধ্যায় ( চতুর্থ পর্ব)

(অনুবাদ প্রচেষ্টা: কাজী মাহবুব হাসান)

Why Evolution Is True: Jerry A. Coyne

প্রথম অধ্যায়
দ্বিতীয় অধ্যায় : প্রথম পর্ব  দ্বিতীয় পর্ব তৃতীয় পর্ব চতুর্থ পর্বশেষ পর্ব
তৃতীয় অধ্যায়: প্রথম পর্ব , দ্বিতীয় পর্ব , তৃতীয় পর্ব , শেষ পর্ব
চতুর্থ অধ্যায়: চতুর্থ অধ্যায়:  প্রথম পর্ব ; দ্বিতীয় পর্বশেষ পর্ব
পঞ্চম অধ্যায়:  প্রথম পর্ব ; দ্বিতীয় পর্ব ; তৃতীয় পর্ব ;

আরো একটি আলোচনা:  ন্যাচারাল সিলেকশন বা প্রাকৃতিক নির্বাচনকে যাচাই করে দেখার পরীক্ষা:

অধ্যায় ৫ : বিবর্তনের ইন্জিন

 

টেষ্ট টিউবে বিবর্তন:

আমরা আর এক ধাপ এগিয়ে যেতে পারি, ব্রীডারদের পছন্দ মত বৈশিষ্ট বাছাই করার বদলে আমরা ব্যপারটা প্রাকৃতিকভাবে হতে দিতে পারি ল্যাবরেটরীতে, কোন একটি বন্দী প্রজাতি জনগোষ্ঠীতে পরিবেশগত কিছু চ্যালেন্জ এর মুখোমুখি দাড় করানোর মাধ্যমে। এই কাজটি খুব সহজে করা যায় অনুজীবদের সাথে, যেমন ব্যাক্টেরিয়া, যারা প্রতি বিশ মিনিট অন্তর অন্তর দ্বিবিভাজিত হয়, যে ব্যাপারটি আমাদের সুযোগ করে দেয় বহু হাজার প্রজন্মের মধ্যে বিবর্তনীয় কোন পরিবর্তন চোখের সামনে ঘটতে দেখতে। এবং এটি সত্যিকারের বিবর্তনীয় পরিবর্তন, যা প্রাকৃতিক নির্বাচনের মাধ্যমে বিবর্তনের তিনটি প্রাকশর্তই পুরণ করে: প্রকরণ, বংশগতি এবং প্রকরণদের ভিন্নহারে বেচে থাকা আর প্রজনন সাফল্য। যদিও এই পরিবেশগত চ্যালন্জে মানুষের সৃষ্টি, তবে এধরনের পরীক্ষাগুলো আরো বেশীভাবেই প্রাকৃতিক নির্বাচন এর উদহারণ, কারণ কৃত্রিম নির্বাচনের ব্যতিক্রম এখানে মানুষের কোন হাত থাকে কোন সদস্যরা প্রজননের অধিকার পাবে।

Continue reading “জেরী কয়েন এর হোয়াই ইভোল্যুশন ইজ ট্রু : পঞ্চম অধ্যায় (চতুর্থ পর্ব)”

জেরী কয়েন এর হোয়াই ইভোল্যুশন ইজ ট্রু : পঞ্চম অধ্যায় (চতুর্থ পর্ব)

জেরী কয়েন এর হোয়াই ইভোল্যুশন ইজ ট্রু : পঞ্চম অধ্যায় (তৃতীয় পর্ব)

dog-breed-2
ছবি: কয়েকটি ব্রীডের কুকুর (উপরে বা দিক থেকে): বুলডগ, বক্সার, ডাখশুন্ড;
( মধ্যে বা দিক থেকে): ব্যাসেট হাউন্ড, বরজোয়, ল্যাব্রাডর রিট্রিভার,
(নীচে: বা দিক থেকে): পুডল, ল্যাবরাডুডল, স্কটি)

17-02-2012-8-36-20-pm
ছবি: চিহুয়াহুয়া (Chihuahua) এবং গ্রেট ডেন (Great Dane): দুজনেই চামড়ার নীচে
আসলে নেকড়ে।মাত্র কয়েক শতাব্দীর কৃত্রিম নির্বাচন বা
সিলেকটিভ ব্রীডিং এর ফলে সৃষ্ট এই দুই জাতের কুকুরের ব্যাহ্যিক চেহারা দেখে তা কি অনুমান করা সম্ভব?

জেরী কয়েন এর হোয়াই ইভোল্যুশন ইজ ট্রু : পঞ্চম অধ্যায় ( তৃতীয় পর্ব)

(অনুবাদ প্রচেষ্টা: কাজী মাহবুব হাসান)

Why Evolution Is True: Jerry A. Coyne

প্রথম অধ্যায়
দ্বিতীয় অধ্যায় : প্রথম পর্ব  দ্বিতীয় পর্ব তৃতীয় পর্ব চতুর্থ পর্বশেষ পর্ব
তৃতীয় অধ্যায়: প্রথম পর্ব , দ্বিতীয় পর্ব , তৃতীয় পর্ব , শেষ পর্ব
চতুর্থ অধ্যায়: চতুর্থ অধ্যায়:  প্রথম পর্ব ; দ্বিতীয় পর্বশেষ পর্ব
পঞ্চম অধ্যায়:  প্রথম পর্ব ; দ্বিতীয় পর্ব

আরো একটি আলোচনা:  ন্যাচারাল সিলেকশন বা প্রাকৃতিক নির্বাচনকে যাচাই করে দেখার পরীক্ষা:

অধ্যায় ৫ : বিবর্তনের ইন্জিন

 

প্রানী এবং উদ্ভিদ ব্রীডিং বা কৃত্রিম প্রজনন

প্রাকৃতিক নির্বাচনের তত্ত্ব ভবিষ্যদ্বানী করে যে কোন ধরনের অভিযোজন আমরা আশা করতে পারি এবং আরো গুরুত্বপুর্ণভাবে, প্রকৃতিতে কোন ধরনের অভিযোজন আমরা খুজে পাবার আশা করি না। এবং এই সব ভবিষ্যদ্বানী পুর্ণ হয়েছে। কিন্তু বহু মানুষ আরো বেশী দাবী করেন: তারা প্রাকৃতিক নির্বাচন কাজ করছে এমনটা দেখতে চান চোখের সামনে এবং তারা তাদের নিজেদের জীবদ্দশায় বিবর্তনীয় পরিবর্তন দেখতে চান। খুব কঠিন না কিন্তু মেনে নেয়া যেমন ধরুন, মিলিয়ন বছরে প্রাকৃতিক নির্বাচন স্থলবাসী স্তন্যপায়ী প্রানী থেকে তিমির বিবর্তন ঘটাতে পারে। কিন্তু কোন না কোন এক ভাবে নির্বাচনের ধারনাটা আমাদের কাছে আরো বিশ্বাসযোগ্য মনে হয় যখন আমরা সেই প্রক্রিয়া চোখের সামনে কাজ করতে দেখি। চোখের সামনে এভাবে প্রাকৃতিক নির্বাচন আর বিবর্তন প্রক্রিয়াকে দেখতে চাইবার ব্যাপারটা বোধগম্য তবে খানিকটা কৌতুহল সৃষ্টি করে। কারণ সর্বোপরি আমরা কিন্তু মেনে নিয়েছি গ্রান্ড ক্যানইয়ন সৃষ্টি হয়েছে কলোরাডো নদীর বহু মিলিয়ন বছরের অনুভব করা সম্ভব না এমন ধীর গতির ক্ষয়ীভবন প্রক্রিয়ার খোদাইয়ের মাধ্যমে, যদিও আমাদের জীবদ্দশায় আমরা কিন্তু বুঝতে পারবো না ক্যানইয়নের গভীরতা বাড়ছে ক্রমশ। কিন্তু কিছু মানুষের জন্য ভুতাত্ত্বিক শক্তির এই এই সময়টা অনুধাবন করার ধারনা কোন না কোনভাবে বিবর্তনের জন্য প্রযোজ্য নয়। তাহলে কিভাবে আমরা নির্নয় করি যে প্রাকৃতিক নির্বাচন বিবর্তনের প্রধান চালিকা শক্তি? অবশ্যই আমরা তিমির বিবর্তন এর প্রক্রিয়ার পুণরাবৃত্তি করতে পারবো  না, যেখানে আমরা দেখতে পাই প্রতিটি ছোট ছোট ধাপের কি কি প্রজননগত সুবিধা আছে যা তাদের আবার পানির দিকে নিয়ে গেছে। কিন্তু যদি আমরা দেখতে পারি যে, নির্বাচন অল্প কয়েকটি প্রজন্মের মধ্যে ছোট ছোট কিছু পরিবর্তন করছে, তাহলে হয়তো আমাদের বুঝতে সহজ হবে, বহু মিলিয়ন বছর ধরে, একই ধরনের নির্বাচনী শক্তি অনেক বড় মাপের অভিযোজনীয় পরিবর্তন করতে পারে যা জীবাশ্ম রেকর্ডে রক্ষিত আছে।

Continue reading “জেরী কয়েন এর হোয়াই ইভোল্যুশন ইজ ট্রু : পঞ্চম অধ্যায় (তৃতীয় পর্ব)”

জেরী কয়েন এর হোয়াই ইভোল্যুশন ইজ ট্রু : পঞ্চম অধ্যায় (তৃতীয় পর্ব)

জেরী কয়েন এর হোয়াই ইভোল্যুশন ইজ ট্রু : পঞ্চম অধ্যায় (দ্বিতীয় পর্ব)

2
 ছবি:  নিউট্রাল বিবর্তনের একটি স্কীমাটিক ডায়াগ্রাম ( বড় করে দেখার জন্য ক্লিক করুন);  ইলাসট্রেশন: Tommy Moorman

জেরী কয়েন এর হোয়াই ইভোল্যুশন ইজ ট্রু : পঞ্চম অধ্যায় ( দ্বিতীয় পর্ব)

(অনুবাদ প্রচেষ্টা: কাজী মাহবুব হাসান)

Why Evolution Is True: Jerry A. Coyne

প্রথম অধ্যায়
দ্বিতীয় অধ্যায় : প্রথম পর্ব  দ্বিতীয় পর্ব তৃতীয় পর্ব চতুর্থ পর্বশেষ পর্ব
তৃতীয় অধ্যায়: প্রথম পর্ব , দ্বিতীয় পর্ব , তৃতীয় পর্ব , শেষ পর্ব
চতুর্থ অধ্যায়: চতুর্থ অধ্যায়:  প্রথম পর্ব ; দ্বিতীয় পর্বশেষ পর্ব
পঞ্চম অধ্যায়:  প্রথম পর্ব

আরো একটি আলোচনা:  ন্যাচারাল সিলেকশন বা প্রাকৃতিক নির্বাচনকে যাচাই করে দেখার পরীক্ষা:

অধ্যায় ৫ : বিবর্তনের ইন্জিন

Life results from the non-random survival of randomly varying replicators. Richard Dawkins

বিবর্তন..  যখন প্রাকৃতিক নির্বাচন এর মাধ্যমে ঘটে না ‍: 

এবার সংক্ষেপে একটু অন্য প্রসঙ্গ নিয়ে আলোচনা করা যায়, কারন আমাদের অনুধাবন করার প্রয়োজন আছে যে বিবর্তনীয় পরিবর্তনের জন্য শুধু প্রাকৃতিক নির্বাচনই একমাত্র উপায় না। বেশীর ভাগ জীববিজ্ঞানী বিবর্তনকে সংজ্ঞায়িত করেন কোন একটি জনসংখ্যায় অ্যালীলদের  ( কোন জীনের বিকল্প সংষ্করণ) আনুপাতিক হারের পরিবর্তনকে। যেমন ধরুন, জীনের ’হালকা রঙ’ এর উপস্থিতির হার যখন কোন ইদুর জনগোষ্ঠীতে বৃদ্ধি পায়, সেই জনগোষ্ঠীতে তাদের চামড়ার রং বিবর্তিত হয়। কিন্তু এই পরিবর্তন অন্যভাবেও হতে পারে। প্রজাতির প্রতিটি সদস্যদের কোন একটি জীনের দুটি করে কপি থাকে, তারা হুবুহু একই হতে পারে আবার ভিন্নও হতে পারে। যখনই যৌন প্রজনন হচ্ছে, পিতা বা মাতার কোন একটি জীন জোড়ার একটি করে সদস্য পিতা কিংবা মাতার একই জীনের অন্য কোন সদস্যর সাথে তাদের সন্তানদের শরীরে প্রবেশ করে। পিতা বা মাতার জীনগুলোর কোন সদস্য পরবর্তী প্রজন্মে হস্তান্তরিত হবে সেটা একটা টসের মত। আপনার যদি AB রক্তের গ্রুপ হয়, এবং(আপনার একটি A অ্যালীল ও একটি B অ্যালীল থাকে) আর আপনি যদি একটি সন্তানের জন্ম দেন, তাহলে শুধু শতকরা ৫০ শতাংশ সম্ভাবনা আছে সে আপনার A অ্যালীল বা B অ্যালীল পাবে। সুতরাং এক সন্তানের পরিবারে নিশ্চিৎভাবে আপনার কোন না কোন একটি অ্যালীল অবশ্যই হারিয়ে যাবে চিরতরে। মুল ফলাফল হচ্ছে, প্রতিটি প্রজন্মে, পিতা মাতার জীনগুলো একটি লটারীতে অংশ নেয়, যে লটারীর প্রাইজ হচ্ছে পরবর্তী প্রজন্মে হস্তান্তরিত হওয়ার সুযোগ। যেহেতু সন্তানের সংখ্যা সীমিত, সন্তানের শরীরে জীনের উপস্থিতির হার তার পিতা মাতার শরীরে জীনের উপস্থিতির হার একই না। এই জীনগুলো স্যাম্পলিং বা নমুনা বাছাই ঠিক পয়সা দিয়ে টস করার মত। যদি শতকরা ৫০ ভাগ সম্ভাবনা আছে যে কোন টসে একটি নির্দিষ্ট একটি ফলাফল ( যেমন হেড কিংবা টেইল) পাবার, আপনি যদি অল্প কয়েকবার টস করেন তাহলে বেশ বড় একটি সুযোগ আছে আপনি এই প্রত্যাশিত ফলাফল থেকে কিছুটা ভিন্ন ফল পাবেন ( চারবার টসে যেমন আপনার ১২ শতাংশ সুযোগ আছে, হয় হেড বা টেইল পাবার); এবং সেভাবে বিশেষ করে কোন একটি ছোট জনগোষ্ঠীতে, বিভিন্ন অ্যালীলগুলো আনুপাতিক হার শুধুমাত্র চান্সের মাধ্যমে পরিবর্তিত হতে পারে। এবং নতুন মিউটেশন এর মধ্যে তৈরী হতে পারে এবং তাদের নিজেদের উপস্থিতির হারও ওঠা নামা করতে পারে এই  এলোমেলো টস বা র‌্যানডোম স্যাম্পলিং এর কারণে। এবং ধীরে ধীরে এই ’র‌্যানডোম ওয়াক’ এমন কি কোন জীনের উপস্থিতি কোন জনগোষ্ঠীতে স্থির করে দিতে পারে (অর্থাৎ উপস্থিতির হার শতকরা ১০০ শতাংশ )বা বিকল্পভাবে, পুরোপুরি হারিয়ে যেতে পারে।

Continue reading “জেরী কয়েন এর হোয়াই ইভোল্যুশন ইজ ট্রু : পঞ্চম অধ্যায় (দ্বিতীয় পর্ব)”

জেরী কয়েন এর হোয়াই ইভোল্যুশন ইজ ট্রু : পঞ্চম অধ্যায় (দ্বিতীয় পর্ব)

জেরী কয়েন এর হোয়াই ইভোল্যুশন ইজ ট্রু : পঞ্চম অধ্যায় (প্রথম পর্ব)


1381324_10151799032403521_699627545_n
ছবি:  The Asian giant hornet (Vespa mandarinia), including the subspecies Japanese giant hornet (Vespa mandarinia japonica), colloquially known as the yak-killer hornet,is the world’s largest hornet, native to temperate and tropical Eastern Asia. Its body length is approximately 50 mm (2 in), its wingspan about 76 mm (3 in), and it has a 6 mm (0.24 in) stinger which injects a large amount of potent venom. (Wikipedia)

জেরী কয়েন এর হোয়াই ইভোল্যুশন ইজ ট্রু : পঞ্চম পর্ব ( প্রথম অধ্যায়)

(অনুবাদ প্রচেষ্টা: কাজী মাহবুব হাসান)

Why Evolution Is True: Jerry A. Coyne

প্রথম অধ্যায়
দ্বিতীয় অধ্যায় : প্রথম পর্ব  দ্বিতীয় পর্ব তৃতীয় পর্ব চতুর্থ পর্বশেষ পর্ব
তৃতীয় অধ্যায়: প্রথম পর্ব , দ্বিতীয় পর্ব , তৃতীয় পর্ব , শেষ পর্ব
চতুর্থ অধ্যায়: চতুর্থ অধ্যায়:  প্রথম পর্ব ; দ্বিতীয় পর্বশেষ পর্ব

অধ্যায় ৫ : বিবর্তনের ইন্জিন

What but the wolf’s tooth whittled so fine
The fleet limbs of the antelope?
What but fear winged the birds, and hunger
Jewelled with such eyes the great goshawk’ s head?

Robinson Jeffers, “ The Bloody Sire”

বিবর্তনের অন্যতম একটি বিস্ময়কর উদহারণ হচ্ছে, এশিয়ান জায়ান্ট হরণেট (Asian Giant Hornet), এক ভয়ঙ্কর দর্শন শিকারী ও আক্রমনাত্মক ওয়াস্প (Wasp) বা বোলতা বা ভীমরুল, যাদের সাধারণত জাপানেই বেশী দেখা যায়। এর চেয়ে ভীতিকর কোন পতঙ্গ কল্পনা করা বেশ কঠিন। এটি বিশ্বের সবচেয়ে বড় হরনেট বা ভীমরুল, আপনার হাতের বুড়ো আঙ্গুলের মত দীর্ঘ, প্রায় দুই ইন্চি লম্বা দেহ, শরীর জুড়ে ভয়্ঙ্কর দর্শন কমলা আর কালো রং ঢোরা কাটা দাগ। এর অস্ত্র হচ্ছে শক্তিশালী ভয়ঙ্কর চোয়াল, যা দিয়ে সে অনায়াসে তার শিকার পতঙ্গদের ধরে হত্যা করতে পারে, এছাড়া আাছে প্রায় সিকি ইন্চি লম্বা হুল, যা প্রতি বছর কয়েক ডজন মানুষের মৃত্যুর কারণ হয়  এশিয়ায়। এছাড়াও তাদের ডানার একপ্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত প্রশস্ত প্রায় তিন ইন্চি, প্রতি ঘন্টায় এরা প্রায় পচিশ মাইল গতিতে উড়তে পারে ( আপনি যে গতিতে দৌড়াতে পারেন তার চেয়ে দ্রুত) এবং প্রায় ৬০ মাইল দুরত্ব তারা অতিক্রম করতে পারে এক দিনে।

1391834_10151799032993521_54025877_n
ছবি: Asian Giant Hornet (Wikipedia)

এই হরনেট গুলো শুধু হিংস্রই না এরা সারাক্ষনই ক্ষুধার্ত থাকে, ভীষন পেটুক এবং এদের লার্ভাগুলোও মোটা সোটা যাদের খাওয়া চাহিদাও ভীষন বেশী, নিরন্তর মেশিনের মত এরা খেতে পারে, ভীমরুল চাকে মাথা ঠুকে ঠুকে জোর করে জানান দেয় তাদের মাংশ দরকার। আর এই লার্ভাদের ক্রমাগত খাদ্যের চাহিদা বাধ্য করে পুর্ণবয়স্ক ভীমরুলগুলোকে সামাজিক মৌমাছির বা ওয়াস্পদের চাকে আক্রমন করার জন্য।

এই হরণেটদের প্রধান শিকার হচ্ছে ইউরোপীয় মৌমাছিরা, যারা এশিয়ার স্থানীয় প্রজাতি নয়, যাদের এশিয়ায় পরবর্তীতে নিয়ে আসা হয়েছে। এই মৌমাছিদের মৌচাকে হরণেটদের আক্রমন হচ্ছে  নির্মম গণ হত্যাকান্ড, প্রকৃতিতে যার অনুরুপ উদহারণ খুব কম। এটি শুরু হয় একটি সন্ধানী বা স্কাউট হরনেট এদের মৌচাক খুজে বের করার মাধ্যমে। প্রথমেই স্কাউট হরনেট টি তার পেট দিয়ে মৌচাকটির জন্য মৃত্যুপরোয়ানা নিশ্চিৎ করে যায় এক ফোটা ফেরোমেন ঢেলে দিয়ে , যা মৌচাকের মুখের কাছে জায়গাটিকে চিহ্নিত করে অন্যান্য হরনেট দের জন্য। এই চিহ্ন র সংকেত পেয়ে, স্কাউট হরণেটদের একই চাকে বসবাসকারী সদস্য হরনেটরা সেই মৌচাকের উপর ঝাপিয় পড়ে, বিশ থেকে ত্রিশটা হরণেট এর একটি দল প্রায় ত্রিশ হাজার মৌমাছিদের বিরুদ্ধে।

কিন্তু কোন প্রতিদ্বন্দীতাই আসলে সেখানে হয় না। তাদের শক্ত ধারালো চোয়াল নাড়িয়ে তারা মৌচাকে ঢোকে, তাদের চোয়ালের আঘাতে একের পর এক মৌমাছির মাথা কাটা পড়ে। প্রতিটি হরণেট মিনিটে ৪০ টা মৌমাছির গলা বিচ্ছিন্ন করে ফেলে, কয়েক ঘন্টার মধ্যে যুদ্ধ শেষ, প্রত্যেকটা মৌমাছি মারা যায়, তাদের শরীরের ছিন্ন ভিন্ন অংশ পুরো মৌচাক জুড়ে ছড়িয়ে থাকে। এর পর হরণেট টা তাদের খাদ্যগুদামের মজুত আক্রমন করতে শুরু করে। কয়েক সপ্তাহ ধরে তারা ধীরে ধীরে মৌচাকের সবু কিছু লুট করে, মধু খায়, মৌমাছিদের অসহায় লার্ভা গুলোতে নিয়ে যায় তাদের নিজেদের চাকে, সাথে সাথে মৌমাছির সেই লার্ভাগুলো জায়গা হয় তাদের নিজেদের ক্ষুধার্ত লার্ভাদের হা করে থাকা মুখের মধ্যে।

Continue reading “জেরী কয়েন এর হোয়াই ইভোল্যুশন ইজ ট্রু : পঞ্চম অধ্যায় (প্রথম পর্ব)”

জেরী কয়েন এর হোয়াই ইভোল্যুশন ইজ ট্রু : পঞ্চম অধ্যায় (প্রথম পর্ব)

জেরী কয়েন এর হোয়াই ইভোল্যুশন ইজ ট্রু : চতুর্থ অধ্যায় (শেষ পর্ব)

6279312949_42dd205dc1_b

বিস্ময়কর হাওয়াই দ্বীপের হানিক্রিপাররা। Hawaiian honeycreepers. মাঝখানে তরুন Laysan finch আর ঘড়ির কাটার দিক অনুযায়ী উপর থেকে: Hawai’i ‘akepa, Maui parrotbill, po’ouli, i’iwi, Maui ‘alauahio and ʻakiapōlāʻau. [Cover, Current Biology, volume 21, issue 22 (8 November 2011)]. Image: H. Douglas Pratt [velociraptorise].

6305462557_05d4b731c1
The Nihoa finch, Telespiza ultima, dines on birds’ eggs, arthropods, flowers and seeds. (Image: Jack Jeffrey.)

6305462811_7109d2ee5d_z
Hawai’i ʻAkepa, Loxops coccineus. This species has a crossed bill that it uses to pry open leafbuds to extract tiny caterpillars.
mage: Jack Jeffrey.

6305986830_df02ba0959
‘I’iwi, Vestiaria coccinea, is a nectarivorous species. Image: Jack Jeffrey.

6305986920_6a67afd810_z
Akiapōlāʻau, Hemignathus munroi, is a passerine version of the woodpecker, feeding on insects hiding within the branches of trees.

time-calibrated mitochondrial-genome phylogeny  অ্যানালাইসিসের মাধ্যমে জানা গেছে প্রাচীন রোস ফিন্চ যারা ৭.২ মিলিয়ন আর ৫.৮ মিলিয়ন বছর আগে হাওয়াইতে বসতি গড়েছিল, তাদের থেকে বিবর্তিত হয়েছে েএই বিচিত্র হানিক্রিপার রা, যারা দ্বীপের নানা ইকোলজিক্যাল নীশ দখল করে আছে।

জেরী কয়েন এর হোয়াই ইভোল্যুশন ইজ ট্রু : চতুর্থ অধ্যায় ( দ্বিতীয় পর্ব)

(অনুবাদ প্রচেষ্টা: কাজী মাহবুব হাসান)

Why Evolution Is True: Jerry A. Coyne

প্রথম অধ্যায়
দ্বিতীয় অধ্যায় : প্রথম পর্ব ;  দ্বিতীয় পর্ব ; তৃতীয় পর্ব চতুর্থ পর্বশেষ পর্ব
তৃতীয় অধ্যায়: প্রথম পর্ব , দ্বিতীয় পর্ব , তৃতীয় পর্ব , শেষ পর্ব
চতুর্থ অধ্যায়: প্রথম পর্ব ; দ্বিতীয় পর্ব

জীবনের ভুগোল

দ্বীপ..

কোন দ্বীপে বিভিন্ন প্রজাতির প্রাণীদের বিস্তারের এর প্যাটার্ণে যে বিবর্তনের স্বপক্ষে চুড়ান্ত কিছু প্রমান দেয় এটি অনুধাবন করতে পারাটি জীব বিজ্ঞানের ইতিহাসে অন্যতম সেরা অনুসন্ধানী গবেষনার ফসল। আর এটাও ডারউইনেরই কাজ, যার ধারনাগুলো এখন বায়োজিওগ্রাফীর ক্ষেত্রে প্রাধান্য বিস্তার করে আছে। তার অরিজিন (The Origin) বইটির ১২ তম অধ্যায়ে ডারউইন একের পর এক তথ্য উপস্থাপন করেন। বহু বছরের কষ্টসাধ্য পর্যবেক্ষন, বিভিন্ন গবেষকদের সাথে যোগাযোগের মাধ্যমে সযত্নে সংগ্রহ করা সেই সব প্রমান দিয়ে দুর্দান্ত মেধাবী কোন আইনজীবির মত তিনি তার ধারনা স্বপক্ষে এই কেসটি তৈরী করেন। আর যখন আমি আমার ছাত্রদের বিবর্তন তত্ত্ব পড়াতে যাই, এটাই আমার প্রিয় লেকচার। যেন প্রায় এক ঘন্টা দীর্ঘ রহস্য রোমানঞ্চ কাহিনী, যেখানে আপাতদৃষ্টিতে সংযোগহীন সব উপাত্ত পরিশেষে একীভুত হয়ে তৈরী করে বিবর্তনের পক্ষে অকাট্য প্রমান।

Continue reading “জেরী কয়েন এর হোয়াই ইভোল্যুশন ইজ ট্রু : চতুর্থ অধ্যায় (শেষ পর্ব)”

জেরী কয়েন এর হোয়াই ইভোল্যুশন ইজ ট্রু : চতুর্থ অধ্যায় (শেষ পর্ব)