রিচার্ড ডকিন্সের দ্য গ্রেটেস্ট শো অন অার্থ

ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা  মইনুল আহসান সাবের ভাইকে বইটি প্রকাশ প্রকাশ করার জন্যে।
বহু দিন আগে লেখা বইটি দেশের অনেক মুক্তমনা প্রকাশকও প্রকাশ করতে ইচ্ছা প্রকাশ করেনি,
কেউ কেউ না বলতে এমনকি এক দুই বছর অপেক্ষাও করেছেন।
পরবর্তী ডকিন্সের জন্য অপেক্ষায় থাকলাম। শিল্পী আসমা সুলতানাকে ধন্যবাদ প্রচ্ছদটির জন্যে।

দিব্যপ্রকাশের নতুন বই

দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ
দি এভিডেন্স ফর ইভোল্যুশন
The Greatest Show on Earth
রিচার্ড ডকিন্স। Richard Dawkins
অনুবাদ কাজী মাহবুব হাসান

প্রচ্ছদ আসমা সুলতানা
পৃষ্ঠা সংখ্যা : ৫৪৪। মূল্য ৮০০ টাকা

এই বই আপনারা ২৫ শতাংশ কমিশনে বিকাশের মাধ্যমে কিনতে পারেন। ক্যুরিয়ার খরচ আমাদের।

বিকাশ ০১৭১১৯৫২৮১০, ০১৬২২০৯৫৪৮০, ০১৭১৩৩০৩১১৩ ( তিনটিই ব্যক্তিগত নাম্বার )।
যে কোনো নাম্বারে বইয়ের নাম, মূল্য ও আপনার ঠিকানা পাঠালে বই পৌঁছে যাবে।
দিব্যপ্রকাশ। ৩৮ /২ ক, বাংলাবাজার। ঢাকা ১১০০ ফোন ৪৭১১৪৪৭৩

 

37564097_10216977071729408_513454406704824320_n

 

Advertisements
রিচার্ড ডকিন্সের দ্য গ্রেটেস্ট শো অন অার্থ

কবির

12 Kabir 01
(কবির তার তাঁতে কাপড় বুনছেন, সাথে তার সঙ্গীরা, মোগল স্কুল, অষ্টাদশ শতাব্দী)


কবির: ওহে শুনছো !

১৪৪০? -১৫১৮?

(( পরবর্তী প্রজেক্ট থেকে পরীক্ষামূলকভাবে , পঞ্চদশ শতকের ভারতে মরমী কবি এবং সাধু কবিরকে নিয়ে একটি লেখা: কাজী মাহবুব হাসান এবং আসমা সুলতানা))

রাজস্থানের রাজধানীতে প্রতি বছর শীতে জয়পুর সাহিত্য সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে, এটি পৃথিবীর সবচেয়ে বৃহত্তম উন্মুক্ত সাহিত্য উৎসব, এবং এটি হয়তো সবচেয়ে বেশী বাধ্যবাধকতাশূন্য, প্রথামুক্ত আর সংকোচহীন। ২০১৫ সালে প্রায় আড়াই লক্ষ মানুষ সেখানে এসেছিলেন প্রায় ৩০০ জন লেখকের ভাষণ শুনবার জন্যে। যে সময়ে ভারতে মুক্তচিন্তা, সরকারের কঠোর দৃষ্টিভঙ্গি, বর্ণ এবং ধর্ম নিয়ে ক্রমবর্ধিষ্ণু অসহিষ্ণু সমাজ, সহজেই অপমানিত হয় এমন নানা জনগোষ্ঠীসহ বহু দিক থেকেই চাপের মুখে, তখন জয়পুর উৎসবে মঞ্চ আর সামিয়ানার তাবুগুলো বীপরিত অবস্থান নেয়া চিন্তাবিদদের ক্ষণস্থায়ী দোকানে পরিণত হয়েছিল।

যতবার তার নাম উল্লেখ করা হয়েছে সেটি বিচার করলে এই উৎসবটির পথপ্রদর্শনকারী প্রাণশক্তি ছিলেন পঞ্চদশ-শতাব্দীর কবি কবির, যে মানুষটিকে উত্তর ভারতের সব জায়গায় একজন সাধু, প্রায় একজন দেবতা হিসাবে উপাসনা করা হয়। দূর্লভ একটি সত্তা যাকে একই সাথে রক্ষনশীল ধর্মীয় গোষ্ঠীগুলো এবং উদারনৈতিক সাহিত্য পণ্ডিতরা তাদের আরাধ্য ব্যক্তি হিসাবে দাবী করতে পারেন। কিন্তু এই বিশাল ব্যপ্তির প্রশংসা তাকে হয়তো অস্বস্তিতে ফেলতো। প্রতিষ্ঠান এবং প্রথাগত ধারণার যে কোনো রুপের আগ্রাসী সমালোচক এবং বাহুল্যবর্জিত কবিতার শৈলীতে সব অহংকারীদের দর্পচূর্ণকারী ছিলেন। ভারতীয় অতীতে তার মত এমন আর কোনো কণ্ঠ নেই:

মুখে আত্মতৃপ্ত হাসি নিয়ে
সদর্পে পদচারণা করে বেড়াচ্ছেন,
আপনি কি ভুলে গেছেন,
মায়ের জঠরে গুটিসুটি হয়ে
কাটানো সেই দশ মাসের কথা?
দাহ করলে আপনি ভস্মে পরিণত হবেন,
কবর হলে অসংখ্য কৃমির
ভোজের বিষয়ে পরিণত হবেন।
আপনার সুগঠিত শরীর শুধু কাদামাটি,
একটি ছিদ্রযুক্ত পাত্র,
নয়টি ছিদ্রসহ একটি জগ।
যেমন করে মৌমাছিরা মধু সংগ্রহ করে
আপনি সংগ্রহ করেন সম্পদ।
কিন্তু আপনার মৃত্যুর পর
এটাই অবশেষে বলা হবে:
‘এই লাশটা এখান থেকে সরাও,
দুর্গন্ধ বের হচ্ছে’ (১)।

Continue reading “কবির”

কবির

নৈনসুখ

20 nainsukh 01
(আত্মপ্রতিকৃতি, নৈনসুখ, ১৭৭০)

রাজহংসীকে দেখে অসাড় এক মালিক
নৈনসুখ (১৭১০-১৭৮৪)

(পরবর্তী প্রজেক্টের একটি অধ্যায়, পাহাড়ী রীতির মিনিয়েচার শিল্পী গুলেরের নৈনসুখকে নিয়ে কিছু কথা :
  কাজী মাহবুব হাসান  এবং আসমা সুলতানা)

শত শত ভারতীয় মিনিয়েচার চিত্রকর্ম দেখে একটি খেলা আপনি শুরু করতে পারেন, এর নাম দিতে পারেন, মোগল মিনিয়েচার বিংগো। সেখানে কি দাম্ভিক কোনো রাজকুমার আছে খুব ঋজু শিরদাড়াসহ? চেক। বিশাল তাবু বা বড় আকারের কোনো শিবির? চেক। সঙ্গীত আর বাদ্যশিল্পীরা? রাজসভায় জমায়েত সদস্যরা? চমৎকার বাগান? চেক, চেক, চেক। এইসব চিত্রকর্মগুলোর বেশীরভাগই নিখুঁত সুন্দর, দক্ষতা ও কারিগরী দিক থেকে, তবে সেগুলো নিয়ন্ত্রিত, এমনকি হিসাব নিকাশ করে উপস্থাপিত চিত্রকর্ম। আপনি অনুভব করতে শুরু করবেন এইসব চিত্রকর্মগুলো কোনো চিন্তাভাবনা না করেই আঁকা নিয়মমাফিক কাজ, এবং এই কাজগুলো যারা করার নির্দেশ দিয়েছেন তাদের প্রতি শিল্পীদের আনুগত্য এবং বশ্যতার বিষয়টিও আপনি অনুভব করতে পারবেন।

Continue reading “নৈনসুখ”

নৈনসুখ

কার্ল মার্ক্স : ব্যাখ্যা নয়, দরকার পৃথিবীটাকে বদলানো

1368_14_2013_Karl_Marx_Axel-Kohlhaas-21
Karl Marx, 2013, Ottmar Hörl

((দার্শনিক কাল মার্ক্স এর ২০০ তম জন্মবার্ষিকী স্মরণে দর্শনের সহজ পাঠ থেকে))

উত্তর-ইংল্যান্ডে ঊনবিংশ শতাব্দীতে বহু সুতার কল ছিল, তাদের দীর্ঘ চিমনি দিয়ে বেরিয়ে আসা কালো ধোয়ার কুণ্ডলী দূষিত করত পরিবেশ আর কালো ঝুল ঢেকে রাখত রাস্তসহ সবকিছুই। এই কারখানাগুলোর ভিতরে শ্রমিকরা: পুরুষ, নারী এবং শিশুরা দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করতে বাধ্য হতো। আর সেই সুতা বোনার যন্ত্রগুলোকে সচল রাখার জন্য কখনো তাদের কাজের সময় ছিল দিনে টানা ১৪ ঘণ্টা। পুরোপুরিভাবে হয়তো তাদের ক্রীতদাস বলা যাবে না, কারণ তারা কিছু বেতন পেত, খুবই সামান্য ছিল তার পরিমাণ, আর কাজের পরিবেশ ছিল বিপজ্জনক এবং কষ্টকর। সামান্য অমনোযোগ সেখানে প্রাণঘাতী কিংবা পঙ্গু করে দেবার মতো ভয়ংকর দুর্ঘটনার কারণ হতো প্রায়শই। এইসব পরিস্থিতিতে চিকিৎসা সেবাও ছিল ন্যূনতম। খুব সামান্যই তাদের সুযোগ ছিল ভাগ্য-পরিবর্তনের, যদি তারা কাজ না করে তাহলে অভুক্ত থাকতে হবে, যদি তারা কাজ ছেড়ে চলে যায়, আরেকটা কাজ পাবার সম্ভাবনাও ছিল খুবই কম। এই পরিবেশে যারা কাজ করত, তারা বেশিদিন বেঁচেও থাকত না, তাদের জীবনের এমন সময় ছিল খুব কম যা-কিনা তারা তাদের নিজেদের বলে দাবি করতে পারত।

কিন্তু একই সময় এইসব কারখানার মালিকরা ক্রমশ বিত্তশালী হয়ে উঠেছিল, শ্রমিকদের শোষণ তাদের সুযোগ করে দিয়েছিল পুঁজির বিশাল ভাণ্ডার গড়ে তোলার জন্য। তাদের লক্ষ্য ছিল একটাই, কীভাবে বেশি মুনাফা অর্জন করা যায়। তারা পুঁজির মালিক ছিলেন (যে পুঁজি তারা বিনিয়োগ করতে পারতেন আরো মুনাফা অর্জন করতে), তারা বহু দালান ও যন্ত্রের মালিক ছিলেন, মূলত তারা শ্রমিকদেরও মালিক ছিলেন, শ্রমিকদের বলতে গেলে কিছুই ছিল না, তাদের যা করার ছিল সেটি হচ্ছে তাদের শ্রম দেবার ক্ষমতাকে বিক্রি করে কারখানা-মালিককে আরো বেশি বিত্তবান হতে সাহায্য করা। তাদের শ্রমের মাধ্যমে তারা কারখানা-মালিকের ক্রয় করে আনা কাঁচামালে আরো মূল্য যোগ করত। তুলা যখন কারখানায় প্রবেশ করত তখন এর মূল্য যা থাকত, তা বহুগুণে বৃদ্ধি পেত যখন সেটি কারখানা ত্যাগ করত। কিন্তু এই বাড়তি মূল্যের প্রায় পুরোটাই পেতেন মালিকরা যখন তারা তাদের উৎপাদিত দ্রব্যটি বিক্রি করতেন বাজারে। আর মালিকরা শ্রমিকদের যতটা কম সম্ভব মজুরি দিতেন মুনাফার পরিমাণ বাড়াতে, কখনো শুধুমাত্র এমন পরিমাণ যেন কোনোভাবে তারা বেঁচে থাকে শুধুমাত্র শ্রম দেবার জন্যে। শ্রমিকদের কাজেরও কোনো নিরাপত্তা ছিল না, তারা যা চাইছে যদি এমন কোনো দাবি পূরণে মালিক অস্বীকার করত, তাদেরকে বরখাস্ত করা হতো, অনাহারে তারা মারা যেত, কারণ আর কোনো কাজও তারা খুঁজে পেত না।

যখন জার্মান দার্শনিক কার্ল মার্ক্স (১৮১৮-১৮৮৩), ১৮৩০-এর দশকে লেখা শুরু করেছিলেন, এটাই ছিল ভয়াবহ সেই পরিস্থিতি, শুধু ইংল্যান্ডেই না, পুরো ইউরোপ জুড়ে যা সৃষ্টি করেছিল শিল্প বিপ্লব, আর এই পরিস্থিতি তাকে ভীষণ ক্ষুব্ধ করেছিল। মার্ক্স ছিলেন সাম্যবাদী : তিনি মনে করতেন সব মানুষের সাথে সমানভাবেই আচরণ করা উচিত। কিন্তু পুঁজিবাদী সমাজে যাদের হাতে পুঁজি আছে, প্রায়শই উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত সম্পদ, তারা ক্রমশ সম্পদশালী হতে থাকে। অন্যদিকে যাদের শ্রম দেবার ক্ষমতা ছাড়া আর কিছুই নেই, তারা তাদের শ্রম বিক্রি করে মানবেতর জীবন কাটাতে বাধ্য হয় এবং শোষিত হয়। মার্ক্সের মতে পুরো মানব-ইতিহাসকেই ব্যাখ্যা করা যেতে পারে একটি শ্রেণীসংগ্রাম হিসাবে: বিত্তবান পুঁজিপতিশ্রেণী (বুর্জোয়া) এবং শ্রমিকশ্রেণী বা প্রলেতারিয়েত শ্রেণীর মধ্যে দ্বন্দ্ব। আর মানুষদের তাদের সম্ভাবনা-পূরণের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছে এই সম্পর্ক, আর এটি কাজকে পরিতৃপ্তি পাবার মতো কোনো কর্মকাণ্ড নয়, বরং যন্ত্রণাদায়ক আর কষ্টকর কোনো অভিজ্ঞতায় রূপান্তর করেছে।

Continue reading “কার্ল মার্ক্স : ব্যাখ্যা নয়, দরকার পৃথিবীটাকে বদলানো”

কার্ল মার্ক্স : ব্যাখ্যা নয়, দরকার পৃথিবীটাকে বদলানো

এটাই আমি : অমৃতা শের-গিল

 

185N09318_7ZKB2 (2)

Self-portrait by Amrita Sher-Gil (1933)

 

অমৃতা শের-গিল : এটাই আমি
১৯১৩-১৯৪১

(সুনীল খিলনানীর একটি লেখা অবলম্বনে: কাজী মাহবুব হাসান এবং আসমা সুলতানা)

‘ঈশ্বর! এই যাত্রার চৌম্বকীয় আকর্ষণ থেকে অনুগ্রহ করে আমাকে রক্ষা করো’। (১) ( অমৃতা শের-গিল, ১৯৩৩)

ভ্যান গো থেকে ড্যাস স্নো, কোনো শিল্পীর অকালমৃত্যু তাকে ঘিরে বেশ লাভজনক একটি অলৌকিক আভা প্রদান করে, বিশেষ করে যদি মৃতদেহের ব্যক্তিত্ব ক্যানভাসগুলোর মতই অপ্রতিরোধ্য হয়ে থাকে। শিল্পী অমৃতা শের-গিল, বিংশ শতাব্দীর ভারতীয় শিল্পকলার প্রথম তারকা – খুবই আরাধ্য পণ্যদ্রব্যে রুপান্তরিত হয়েছিলেন, যখন মাত্র আঠাশ বছর বয়সে প্রথাবিরোধী একটি জীবন কাটানোর পর রহস্যময় একটি পরিস্থিতিতে তিনি মৃত্যুবরণ করেছিলেন।  শিল্পী এম এফ হুসেইন পরে যখন তার অবস্থানকে চিহ্নিত করেছিলেন ‌‌’ভারতীয় শিল্পকলার রাণী’ হিসাবে, তবে এই বিশেষণটি অবশ্যই সুনির্দিষ্টভাবে ধারমুক্ত ছিল না (২)। যখন বেঁচে ছিলেন, তার সমসাময়িক  পুরুষ শিল্পীরা প্রায়শই শের-গিলের মর্যাদা হানি করেছিলেন শুধুমাত্র একজন ‘উচ্চাকাঙ্খী প্ররোচনাদায়ী শিল্পী’ হিসাবে তাকে চিহ্নিত করার মাধ্যমে। সাংবাদিক ম্যালকম মাগেরিজ, যার সাথে শের-গিলের সংক্ষিপ্ত এবং তীব্র প্রেমের সম্পর্ক ছিল, মন্তব্য করেছিলেন, শের-গিল, ‌’বরং অতি আত্ম-সচেতন আত্মাম্ভরিতাপূর্ণভাবেই শৈল্পিক’ (৩)।  যে বাক্যটি শুনলে একটি প্রশ্নের কথা মনে হয়, একজন কর্মরত শিল্পী এরচেয়ে অন্যকিছু কি হতে পারে? আমার মনে হয়, তার মোহনীয়তা, এবং তার জীবনের দূঃখজনক পরিণতি শুধুমাত্রই একটি পাদটীকা – যদিও বেশ গুরুত্বপূর্ণ সেই পাদটিকাটি – সেই সত্যটির, তিনি আসলেই ছবি আঁকতে জানতেন, এবং আধুনিক ভারতের অমসৃন আর ক্রটিপূর্ণ সত্তার মহান একজন চিত্রকর ছিলেন।

Continue reading “এটাই আমি : অমৃতা শের-গিল”

এটাই আমি : অমৃতা শের-গিল

মোনা লিসার হাসির নেপথ্যে বিজ্ঞান

Asma Sultana

খুব সম্প্রতি ওয়াল্টার আইজাকসনের লেখা লিওনার্দো দা ভিঞ্চিকে নিয়ে জীবনীটি (Leonardo da Vinci, Walter Isaacson) পড়ে শেষ করলাম। অসাধারণ এই বইটি নানা কারণেই ব্যতিক্রম। এটি মূলত কৌতুহলী লিওনার্দোর জীবনকে অনুসন্ধান করেছে তার টিকে থাকা প্রায় ৭০০০ এর বেশী নোটবুকের পাতা থেকে। শিল্পী লিওনার্দোকে যারা চেনেন, তাদের জন্যে যেমন অনেক বিস্ময় আছে  তেমনি যারা বিজ্ঞানী, প্রকৌশলী লিওনার্দোকে জানতে চান তারাও বিস্মিত হবেন, অসাধারণ এই কৌতুহলী মানুষটির জীবন কাহিনী পড়ে। নীচের লেখাটি ওয়াল্টার আইজাকসনের একটি লেখার ভাষান্তর।

আসমা সুলতানা, কাজী মাহবুব হাসান

লিওনার্দো দা ভিঞ্চি সবকিছু নিয়েই প্রশ্ন করতে, চিন্তা করতে, আর জানতে ভালোবাসতেন, বিশ্বাস করতেন, ‘কোনো কিছু জানা বা শেখা কখনোই মনকে নিঃশেষ করতে পারে না’। তিনি ভাবতে পছন্দ করতেন যে তিনি যতটা দক্ষ শিল্পী, ততটাই দক্ষ প্রকৌশলী। অবশ্য বাস্তবতা আসলে ভিন্ন কথা বলে;  ‘কেউই’ যতটা দক্ষ  শিল্পী, ততটাই দক্ষ প্রকৌশলী হতে পারেন না। তবে জ্ঞানের বিচিত্র ক্ষেত্রগুলোর মধ্যে যোগসূত্র সৃষ্টি করার তীব্র  কৌতুহলই মূলত তাঁর সৃজনশীলতার ভিত্তি ছিল। একই…

View original post 2,838 more words

মোনা লিসার হাসির নেপথ্যে বিজ্ঞান

মার্টিন লুথার কিং জুনিয়রের অহিংসা দর্শন

Supermoon(Photo Credit: (NASA/Aubrey Gemignani)

যদিও ডঃ মার্টিন লুথার কিং জুনিয়র ( জানুয়ারী ১৫,১৯২৯-এপ্রিল ৪,১৯৬৮) তাঁর লেখা ও অসাধারণ বক্তৃতাগুলোয় সামাজিক নৈতিকতা আর নিউ টেস্টামেন্ট নির্ভর ভালোবাসার উপর অনেকাংশে নির্ভর করেছিলেন, কিন্তু প্রাচ্যের আধ্যাত্মিক দর্শন, মহাত্মা গান্ধীর রাজনৈতিক দর্শন, পৃথিবীর সমস্ত জীবের মধ্যে বিদ্যমান আন্তঃসম্পর্ক বিষয়ক বৌদ্ধ দর্শন এবং প্রাচীন গ্রিক দর্শন তাঁকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছিল। তাঁর অমর দর্শনের মূলে ছিল ধর্ম নিরপেক্ষতা, এবং তাঁর দর্শন একগুচ্ছ নৈতিক, আধ্যাত্মিক , সামাজিক ও নাগরিক দ্বায়িত্বকে সমর্থন করেছিল আমাদের একক ও সমষ্ঠীগত মানবতাবোধকে আরো বেশী দৃঢ়তর করে তোলার জন্য। আর এই ধারণাগুলো তিনি সুস্পষ্টভাবে প্রকাশ করেছিলেন ১৯৫৮ সালে প্রকাশিত ‘এন এক্সপেরিমেন্ট ইন লাভ’ শীর্ষক  একটি অসাধারণ প্রবন্ধে। এখানেই তিনি চেষ্টা করেছিলেন বিভিন্ন উৎস থেকে আসা আধ্যাত্মিক ধারণাগুলোকে সমন্বয় করে সেগুলোকে ধর্মনিরপেক্ষ একটি মূলনীতিতে রুপান্তর করার জন্য। যেখানে তিনি ছয়টি আবশ্যিক মূলনীতিকে বিশ্লেষণ করেছিলেন, যা ছিল তাঁর অহিংসা দর্শনের মূল ভিত্তি। এখানেই তিনি অহিংস প্রতিরোধ নিয়ে কিছু প্রচলিত ভ্রান্ত ধারণাকে শনাক্ত করেছিলেন, এবং প্রদর্শন করেছিলেন কিভাবে এই মূলনীতিগুলোকে ব্যবহার করা সম্ভব হতে পারে কোনো সফল অহিংস প্রতিরোধ আন্দোলনে।

Continue reading “মার্টিন লুথার কিং জুনিয়রের অহিংসা দর্শন”

মার্টিন লুথার কিং জুনিয়রের অহিংসা দর্শন