দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ এর একটি রিভিউ

দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ এর একটি রিভিউ, প্রকাশিত হয়েছে দৈনিক যুগান্তরে, ২৮ ডিসেম্বর, ২০১৮
লেখক জাহেদ সারওয়ারকে অনেক ধন্যবাদ। 13_r3_c1

Advertisements
দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ এর একটি রিভিউ

ক্যাসপার ডেভিড ফ্রিয়েডরিখ: অসীমের সীমানা

গ্রেট থিংকার্স সিরিজ থেকে পরীক্ষামূলকভাবে: আসমা সুলতানা ও কাজী মাহবুব হাসান

Close your physical eye, so that you may see your picture first with the spiritual eye. Then bring what you saw in the dark to the light, so that it may have an effect on others, shining inwards from outside. A picture must not be invented, it must be felt.  C.D.Friedrich

Caspardavidfriedrich_self1-1(Self-portrait,1800)

অপ্রত্যাশিতভাবেই  গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর মধ্যে একটি যা শিল্পকলা আমাদের জন্যে করতে পারে, সেটি হচ্ছে আমাদের এটি শেখাতে পারে কিভাবে দুঃখ সহ্য করতে হয়। এটি সেটি করতে পারে সেই দৃশ্যগুলো আমাদের মনে জাগিয়ে ‍তুলে, যা অন্ধকার, বিষণ্ন, কষ্টকর, আর সংশয় আর বিচ্ছিন্নতায় আমরা হয়তো যে যন্ত্রণার অভিজ্ঞতায় আচ্ছন্ন হয়ে আছি সেটিকে স্বাভাবিকীকরণ ও মর্যাদা দান করে।, মাহাত্ম্য আর কারিগরী দক্ষতায় তারা উন্মোচন করে, দুঃখ মানবিক এই পরিস্থিতির আবশ্যিক একটি অংশ।

703px-Caspar_David_Friedrich_-_Wanderer_above_the_sea_of_fog-41Wanderer above the Sea of Fog (1818)

মহিমান্বিত দুঃখের একজন চিত্রকর ক্যাসপার ডেভিড ফ্রিয়েডরিখ ১৭৭৪ সালে বাল্টিক সাগরের তীরে উত্তর-জার্মানীর একটি প্রাচীন বাণিজ্যিক শহর, গ্রাইফসভাল্ডে জন্মগ্রহন করেছিলেন। খুবই সুন্দর একটি শহর, উত্তর জার্মানীর কঠোরতার মানদণ্ডে যা হতে পারে। এই জায়গাটি আগে পরিচিত ছিল সুইডিশ পোমেরানিয়া নামে।

Continue reading “ক্যাসপার ডেভিড ফ্রিয়েডরিখ: অসীমের সীমানা”

ক্যাসপার ডেভিড ফ্রিয়েডরিখ: অসীমের সীমানা

জেরি কয়েনের ‘হোয়াই ইভোল্যুশন ইজ ট্রু’ ইবুক

2018-11-17_21-33-19 (1)

জেরি কয়েনের হোয়াই ইভোল্যুশন ইজ ট্রু বইটির বাংলা অনুবাদ বিবর্তন কেন সত্য নামে অবশেষে সেইবই ইবুক অ্যাপ প্ল্যাটফর্মে হিসাবে প্রকাশিত হয়েছে।

 

বইটি প্রকাশ করার জন্যে ২০১৪ সাল থেকে চেষ্টা করছি। বেশ কয়েকজন প্রকাশকের সাথে যোগাযোগ করেছিলাম, সফল হয়নি (তাদের ইমেইলগুলো মনে রাথার মতই)। যারা প্রকাশ করবে বলেছিল, তারা আসলে এমনিই বলেছিল, মাঝখান থেকে বহু সময় নষ্ট হলো। অবশ্যই আমি এর মাঝে আরো কাজ করেছি, এই সুযোগে চেষ্টা করেছি, প্রায় পুরোটাই নতুন করে লিখতে। ২০১৫ সালের পাণ্ডুলিপিটি আমি উৎসর্গ করেছিলাম প্রয়াত অভিজিৎ রায়কে, ২০১৮ সালের ইবুকটিও তাঁর অমর স্মৃতির প্রতি উৎসর্গীকৃত। অধ্যাপক জেরি কয়েনের কাছ থেকেও অনুমতি নিয়েছিলাম, তবে অনলাইনে প্রকাশ করার ব্যপারে উনার এজেন্টের আপত্তি ছিল । কিন্তু যেহেতু আর কোনো উপায়ই নেই, তাই নিয়মটা ভাঙ্গতে হচ্ছে। জানিনা কবে এটি হার্ডকপি আকারে প্রকাশ করতে পারবো। সবার সহযোগিতা আশা করছি।

বইটি প্রকাশ করছে বাংলাদেশের অ্যাপ ভিত্তিক ইবুক প্রকাশনী প্রতিষ্ঠান:

সেই বই (www.sheiboi.com)

https://sheiboi.com/Pages/BookDetails.html?/Biborton-Keno-Sotya/2694
সেইবই অ্যাপটির ডাউনলোড লিংক:

গুগল প্লে ষ্টোর: https://play.google.com/store/apps/details?id=raven.reader

অ্যাপল অ্যাপ স্টোর: https://itunes.apple.com/us/app/sheiboi/id976937372?mt=8

জেরি কয়েনের ‘হোয়াই ইভোল্যুশন ইজ ট্রু’ ইবুক

এডওয়ার্ড হপার: নিঃসঙ্গ সূর্যমুখী

গ্রেট থিংকার্স প্রজেক্ট থেকে পরীক্ষামূলকভাবে – আসমা সুলতানা ও কাজী মাহবুব হাসান

If you could say it in words, there would be no reason to paint.  Edward Hopper

Self-portraits: Edward Hopper

এডওয়ার্ড হপার সেই সব বিষণ্ন দেখতে বহু চিত্রকর্মের চিত্রকর, যেগুলো আমাদের বিষণ্ন করে তোলেনা। এর পরিবর্তে , সেগুলো আমাদের নিঃসঙ্গতাকে শনাক্ত করতে আর মেনে নিতে সহায়তা করে যা প্রায়শই সব বিষণ্নতার হৃদয়ে লুকিয়ে থাকে।

automatAutomat (1927)

তার বিখ্যাত ‘অটোম্যাট’ চিত্রকর্মে, আমরা একটি রমণীকে একাকী বসে কফি পান করতে দেখি। স্পষ্টতই অনেক রাত, আর তার গরম কাপড়ের কোট, মাথার হ্যাট দেখে আমরা বলতে পারি বাইরে বেশ ঠাণ্ডাও। ঘরটিকে মনে হয় বেশ বড়, উজ্জ্বল আলোয় আলোকিত এবং সেখানে আর কাউকে আমাদের চোখে পড়েনা। অন্দরসজ্জাও খুবই ব্যবহারিক, রমনীটি দেখতে মনে হয় আত্ম-সচেতন, অপ্রতিভ, খানিকটা ভীত। হয়তো এভাবে বাইরে কোথায় একাকী বসে থাকতে সে অভ্যস্ত নয়। স্পষ্টতই যেন মনে হয় কোনো খারাপ কিছু ঘটেছে। সে দর্শককে আমন্ত্রণ জানায় তাকে নিয়ে কাহিনী কল্পনা করতে, বিশ্বাসঘাতকতা অথবা কোনো কিছু হারানোর। মনে হয় যেন সে চেষ্টা করছে তার হাত যেন না কাপে, যখন যে কফির কাপ তার ঠোঁটের কাছে নিয়ে আসছে। উত্তর আমেরিকার যে কোনো অন্ধকার বড় শহরের ফেব্রুয়ারীর রাত এগারোটার দৃশ্য হতে পারে এটি।

Continue reading “এডওয়ার্ড হপার: নিঃসঙ্গ সূর্যমুখী”

এডওয়ার্ড হপার: নিঃসঙ্গ সূর্যমুখী

সাই টম্বলি: সাংবেশিক আঁচড়ের বিমূর্ত ইশারা

গ্রেট থিংকার্স প্রজেক্ট থেকে পরীক্ষামূলকভাবে: আসমা সুলতানা ও কাজী মাহবুব হাসান

বিমূর্ত শিল্পকলা সম পরিমান বিরক্ত আর সংশয় উদ্রেক করা অব্যাহত রেখেছে। আপনি হয়তো জানেন বিমূর্ত শিল্পকলা কেমন: শূন্য সাদা একটি ক্যানভাস, ঠিক মাঝখানে গভীর কালো একটি , হলুদ পটভূমির উপর  বেগুনী রঙের একটি ছোপ, আটটি ইস্পাতের দণ্ড এলোমেলো স্তুপাকারে সাজানো, এর মানে কি হতে পারে ? কেউ কি ঠাট্টা করছে আমাদের সাথে? একটা শিশুও তো পারে …..

(Rose Series)

আরো খানিকটা সহমর্মিতাপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি অবলম্বন করতে (যা উপযোগী আর পক্ষপাতহীন হবে) আমাদের প্রথম মূলনীতিতে ফিরে যেতে হবে এবং জিজ্ঞাসা করতে হবে:  কোনো কিছু আসলেই যেমন দেখতে সেটি সেভাবে না দেখানোর মধ্যে ভালো কি বিষয় থাকতে পারে? বিমূর্ত শিল্পকলার কেন্দ্রীয় উদ্দেশ্যটি হচ্ছে সব ধরনের প্রতিনিধিত্বকে পাশ কাটিয়ে সরাসরি আবেগের কাছে পৌছানো। সঙ্গীতের মত, বিমূর্ত শিল্পকলাকে সবচেয়ে ভালোভাবে ব্যাখ্যা করা যেতে পারে ইকোইং হিসাবে (অর্থাৎ মূল শব্দ শেষ হবার পর সেটির প্রতিধ্বনি) অথবা, আমাদের আভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি অথবা মেজাজের একটি রুপ দেয়া। কিছু কিছু বিষয় হয়তো আপেক্ষিকভাবে সহজবোধ্য, যেমন, প্রশান্তি অথবা ক্রোধ, অন্যগুলো ভাষায় সহজে সংজ্ঞায়িত করার অসম্ভব। সেকারণে এমন কিছু বলা খুব একটা সহায়ক নয়: এই পেইন্টিংটা তো কোনো কিছুর মত দেখতে না। সত্যি, এটি বাইরের পৃথিবীর কোনো কিছুর মত দেখতে নয় ঠিকই, কিন্তু তার কারণ অভ্যন্তরের জগতকে প্রতিনিধিত্ব করাই এটির মূল উদ্দেশ্য। বরং যে প্রশ্নটি আমাদের জিজ্ঞাসা করা উচিৎ হবে: এই পেইন্টিংটি দেখে ঠিক কেমন অনুভূতি হচ্ছে?  এটি কি আমার কোনো আবেগীয় অবস্থাকে জাগিয়ে তুলছে? মানব জাতির কোন আভ্যন্তরীণ দৃশ্যপটকে এখানে হাজির হবার জন্যে নির্দেশ দেয়া হয়েছে?

Continue reading “সাই টম্বলি: সাংবেশিক আঁচড়ের বিমূর্ত ইশারা”

সাই টম্বলি: সাংবেশিক আঁচড়ের বিমূর্ত ইশারা

অসকার নিয়েমায়ের: শ্রদ্ধাহীন বক্রতায় কংক্রীটের সাম্বা

( গ্রেট থিংকার্স প্রজেক্ট থেকে পরীক্ষামূলকভাবে : আসমা সুলতানা ও কাজী মাহবুব হাসান)

1_aqoN9Vo1nlZ5kv45_t5buQঅসকার নিয়েমায়ের

ভ্রমণের  হতাশাজনক দিকগুলোর একটি হচ্ছে ভিন্ন ভিন্ন বহু এলাকায় পৃথিবীকে দেখতে আসলে একই রকম মনে হয়। টোকিওর ডাউনটাউনের উচু ভবনগুলোকে থেকে ফ্রাঙ্কফুর্ট অথবা সিয়াটলের উঁচু ভবনগুলো থেকে আলাদা করা খুবই কঠিন। আর বিষয়টি কাকতলীয় নয়। আধুনিক স্থাপত্যকলার ভিত্তিতে আছে সেই ধারণাটি: সর্বত্র দালানগুলো যৌক্তিকভাবে একই রকম দেখতে হওয়া উচিৎ। আধুনিকতাবাদের সূচনাপর্বের গুরুত্বপূর্ণ দিশারীরা যেকোনো ধরনের আঞ্চলিকতাবাদের বিরুদ্ধে  তাদের তিক্ত বিরোধীতায় সবাই মূলত একতাবদ্ধ ছিলেন। তাদের দৃষ্টিতে যা প্রতিক্রিয়াশীললোকাচারে দূষিত, আর পুরোপুরিভাবেই সাদামাটা ছিল। যদি বাইসাইকেল, টেলিফোন, উড়োজাহাজ (নতুন যুগের অগ্রদূত সব) স্থানীয় কোনো শৈলীতে সংগঠিত করা না যায়, তাহলে দালানের ক্ষেত্রেই বা সেটি কেন করতে হবে? সুতরাং শ্যালে, উইগওয়াম আর গারগয়েল, সব কিছু নিপাত যাক। 

Continue reading “অসকার নিয়েমায়ের: শ্রদ্ধাহীন বক্রতায় কংক্রীটের সাম্বা”

অসকার নিয়েমায়ের: শ্রদ্ধাহীন বক্রতায় কংক্রীটের সাম্বা

HIV/AIDS: ভাইরাস আর একটি মহামারীর গল্প


((***(ডিসেম্বর ১, বিশ্ব এইডস দিবস। বিশ্ব এইডস দিবসে এইচআইভি/এইডস মহামারীর ইতিহাস নিয়ে কিছু লিখতে বসে খানিকটা স্মৃতি চারণ করতে হচ্ছে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস শেষ করার পর মাত্র এক বছর আমি সত্যিকারভাবে ক্লিনিকাল প্র্যাকটিস করতে পেরেছি। নানা কারণে আমি বুঝতে পেরেছিলাম, রোগী দেখা ডাক্তার হয়তো আমার পক্ষে কখনোই হওয়া সম্ভব হবেনা। এবং খুব বড় মাত্রার একটি ভুল সিদ্ধান্ত আমি নিয়ে ফেলেছি। আর কোনো ডাক্তারের কথা আমি জানি না, সম্ভবত রোগীদের সাথে এই স্বল্প সময় কাটানোর কারণে (১৯৯৫-১৯৯৬) যে রোগীরা আমার ইন্টার্নীর সময় আমার তত্ত্বাবধানে থাকতে মারা গিয়েছিলেন তাদের সবার কথাই খুব স্পষ্টভাবে আমার মনে আছে। এরকম একজন, যাকে কালাজ্বর হিসাবে দীর্ঘদিন চিকিৎসা করার পর মারা যাবার সময় সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম অণুজীববিজ্ঞান বিশেষ করে ভাইরোলজী নিয়ে পড়াশুনা করবো, গবেষণা করবো (তখনও আমার পৃথিবীতে আদর্শবাদীতা ছিল)। তখন পিজি হাসপাতালে ভাইরোলজী বিষয়ে এম ফিল কোর্স চালু করছেন, সেই সময়কার বাংলাদেশের দুইজন বিখ্যাত ভাইরোলজিস্টের একজন, অধ্যাপক ডাঃ মো. নজরুল ইসলাম (অবশ্য অন্যজনের সাথে দীর্ঘদিন আইন লড়াই শেষ হবার পর, কারণ তার স্বামী সামরিক শাসকের আইনজীবি হওয়ায় আগে বাড়তি সুবিধা পেয়েছিলেন, অবশ্য তার যোগ্যতারও কোনো অভাবও ছিলনা)। তিনি তখন একই সাথে বাংলাদেশের এইচআইভি/এইডস প্রিভেনশন প্রকল্পের প্রধান, খুবই ব্যস্ত মানুষ, ছাত্রদের দেবার মত সময় কম, সারাক্ষণই ঘাড়ের উপর নিঃশ্বাস ফেলছে নানা আকারের এনজিওগুলো)।  ১৯৯৭/৯৮ সালে যখন কোন বিষয়ে থিসিস করবো বলে ভাবছি, ততদিনে বাংলাদেশ এই মহামারীর স্পর্শ পেয়েছে বেশ কয়েক বছর হয়েছে (১৯৮৯ সালে প্রথম শনাক্ত হয়েছিল)। ঐসময় কয়েক বছর প্রতি ডিসেম্বরে আমি ডিপার্টমেন্টে কনফার্ম হওয়া পজিটিভদের উপাত্তটি তৈরী করতাম, যা সরকারী বিবৃতিতে জায়গা পেতো। কিন্তু সেই সময় আরো একটি ঘটনা ঘটেছিল, বাংলাদেশে এইচ,আইভির প্রথম ঔষুধটি পরীক্ষামূলকভাবে চালু হয়, বিনামূল্য (কখনো এনজিও সহায়তায়, কখনো সরাসরি গ্ল্যাক্সো কোম্পানীর সহায়তায়), কিন্তু সমস্যা হচ্ছে এটি কাকে দেয়া হবে। ঔষুধটি অবশ্যই নিরাময় করবে না, তবে যাদের শরীরে রোগ প্রতিরোধকারী কোষের পরিমান একটি নির্দিষ্ট পরিমানে নীচে কমে যাবে, তারাই কেবল ঔষধটি পাবে, কিন্তু সমস্যা হচ্ছে সেই সময় দেশ এই কোষটির সংখ্যা পরিমাপ করার কোনো ব্যবস্থা ছিলনা। এর কিছুদিন আগেই বিভাগে একটি নতুন ফ্লোরোসেন্স মাইক্রোস্কোপ এসে হাজির হয়েছিল। আমার মনে হয়ে সেই মুহূর্তে বিভাগে মাত্র দুইজন পোস্ট-গ্রাজুয়েট, আমার অন্য সহপাঠী তখনও সিদ্ধান্ত নিতে পারেননি এই বিষয়টিতে পড়াশুনা আদৌ করবেন কিনা। সুতরাং ভাগ্যক্রমে আমার ডাক পড়েছিল বিভাগীয় প্রধানের রুমে, তিনি আমাকে জানালেন, কিছু রিএজেন্ট যোগাড় করা হয়েছে, মাইক্রোস্কোপ আছে, সুতরাং কোষটি সংখ্যা গণনা করার একটি পদ্ধতি দ্রুত বের করতে হবে। বেশ কিছুদিন সময় লেগেছিল, রিএজেন্ট আর মাইক্রোস্কেোপ সমন্বয় করে একটি প্রটোকোল উদ্ধার করতে, তখন ইন্টারনেট সহজলভ্য ছিলনা, নানা পেপার ঘেটে অবশেষে রুশ একটি গবেষণার প্রটোকল নিয়ে শুরু করেছিলাম, বেশ কিছু ড্রাই রান করার পর, সময় হলো আসল কাজ শুরু করার। আর ঠিক এই সময় আমি আবার বেশ কিছু এইচআইভি আক্রান্ত রোগীদের সাথে কাজ করতে শুরু করেছিলাম।

যাকে দিয়ে শুরু করেছিলাম আর তাকে দিয়ে এইচআইভি নিয়ে আমার সংক্ষিপ্ত জীবন শেষ হয়েছিল, হ্যাঁ ব্র্যাকেটের মতই। কারণ তারপর সরকারী নির্দেশে আমি তখন একটি উপজেলায় বদলী হয়েছি, কোনো উপায় নেই সেখানে এই কাজ করার, আর অনেক তদ্বির শেষে যখন ফিরে এসেছিলাম, ততদিনে অনেক দেরী হয়ে গেছে, এর পর আর বিখ্যাত ভাইরোলজিস্ট আর সেই বিভাগের ছায়া মাড়ানোর সুযোগ পাইনি। ইতিমধ্যে দেশের গৌরবের গবেষণা প্রতিষ্ঠান আইসিসিডিআরবি একটি যন্ত্র কিনে ফেলেছে, সুতরাং আমার সেই কাজও অর্থহীন। কপাল ভালো যে আমি আমার এম ফিল ডিগ্রীটা পেয়েছিলাম, নয়তো হাজার পচানবব্বই দিনের অক্লান্ত পরিশ্রম প্রায় অর্থহীন হতো। যে রোগীদের কথা এখনও মনে আছে তাদের দুজনের কথা প্রায়ই ভাবি, বিশেষ করে আসাদ (আসল নাম নয়, তবে সেই নামে সে নিজেকে ডাকতো), এখনো মনে পড়ে গ্রিন রোডে এক সন্ধ্যা বেলায় বেশ বড় একটি ঝড় আসার কিছুক্ষণ আগে দীর্ঘদেহী আসাদ তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছিল, স্যার, আমি আসাদ বলে। আসাদের সাথে পরের তিন বছর নিয়মিত যোগাযোগ ছিল, ওর বাসায় আমি খেয়েছি, বিবিসির এক সাংবাদিককেও নিয়ে গেছি, যিনি আমার বক্তব্যটুকু এডিট করে বাদও দিয়েছেন করেছেন। ঢাকা ছাড়তে হলো যখন তখন ফোনে কথা হয়েছে, তারপর ছয়মাস যোগাযোগ হয়নি,পরে আসাদের বড় ভাইয়ের ফোন পেয়েছি, আসাদ নেই। এভাবে এক ঈদের দিন নজরুলও মারা গিয়েছিল, আসাদের মত তার পরিবার ভাগ্য ছিলনা। আরো অনেকের সাথে পরিচিতি হয়েছে, যাদের অনেকেই বেঁচে আছেন, নানা এনজিওতে গুরুত্বপূর্ণ অ্যাক্টিভিস্ট হিসাবে সুনামের সাথে কাজ করছেন। এছাড়াও দেখেছি মধ্যপ্রাচ্য থেকে সর্বস্বান্ত হয়ে ফিরে আসা মানুষ, কেউ যেমন নিজের স্ত্রীকেও জানাতে পারেননি, কিংবা সংক্রামক ব্যধি হাসপাতালের সেই কূখ্যাত কক্ষটি যেখানে আটকে থাকা সেই বর্মী নাগরিক, দেয়ালে যে রং পেন্সিল তার মেয়ের ছবি এঁকে রেখেছিল। পাচারকারীদের হাত থেকে উদ্ধার পাওয়া সেই কিশোরী, যে বহু বার আত্মহত্যা করার চেষ্টা করেছে। কারো জীবনের খুব ব্যক্তিগত পর্যায়ে যুক্তও থাকতে হয়েছে, যেমন আলী ভাইয়ের এই ভাইরাস-আক্রান্ত পছন্দ ও বিয়ে করার সেই নাটকীয়তা (শুনেছি তাদের সুস্থ সন্তানও হয়েছে)। এইসব কিছুই এখন স্মৃতি। জানিনা কে কোথায় আছেন, আশাকরি তারা সবাই ভালো আছেন কারণ পরিস্থিতি এখন অনেক ভালো হবার কথা। আমি চেষ্টা করেছিলাম দ্বিতীয়বার এই বিষয়ে কাজ করার জন্যে, যখন মেলবোর্ন থেকে ফিরে আসি, কিন্তু আবারো ব্যর্থ হই। আমার পেশাগত জীবনের আসলেই এরপরে আর কোন অবস্থানে আর পৌছানো সম্ভব হয়নি। তবে প্রায়ই আমার এই সময়টার কথা মনে হয়। টেকনিশায়ান নজরুল ভাইয়ের কথা মনে পড়ে, অসাধারণ দক্ষতা ছিল তার, চিরকুমার এই মানুষটা আমাকে অনেক স্নেহ দিয়েছেন। তারসাথেও আর দেখা হয়নি, আজিজ সুপার মার্কেটে তার সাথে মাঝে মাঝে চা সিংগারা খাওয়া হতো, তখন তার ভারী ভারী কথাগুলো শুনতে বেশ লাগতো। শ্রদ্ধেয় অধ্যাপকের সাথেও আর কথা হয়নি এক শহরে থাকার পরও, আমার মনে হয় সেটাই ভালো হয়েছে কারণ, আমি তখন একটি স্বপ্নের পেছনে দৌড়েছিলাম, তখন আমি অন্য একজন মানুষ ছিলাম, আমি আর সেই মানুষটি নেই। সালমান রুশদী তার একটি উপন্যাসে লিখেছিলেন, আমাদের জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো আমাদের অনুপস্থিতিতে ঘটেই। হ্যাঁ, আমিও সেখানে আসলে অনুপস্থিত ছিলাম।**** কাজী মাহবুব হাসান))

এইচ আই ভি এবং এইডস : একটি ভাইরাস এবং একটি মহামারীর গল্প:

ঠিক কিভাবে এইচআইভি ভাইরাসটির উৎপত্তি হয়েছিল এই বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক হয়েছে বহুদিন। ভাইরাসটি শনাক্ত করার পর পরই বেশ কিছু প্রতিযোগী তত্ত্ব এই বিতর্কের মূল কারণ। আশির দশকের মাঝামাঝি সময় থেকে যখন জেনেটিক সিকোয়েন্স টেকনিকটি বেশ প্রচলিত হতে শুরু করে,তখন বিজ্ঞানীরা ধীরে ধীরে বুঝতে শুরু করেন কেমন করে এই ভাইরাসটি তার বর্তমান রুপ পেয়েছে এবং বিংশ শতাব্দীর শেষ ভাগের সবচেয়ে আলোচিত এবং ব্যতিক্রমধর্মী একটি মহামারীর কারণ হিসাবে পৃথিবী ব্যাপী বিস্তৃত হয়েছে ।

HIV-1 ইলেক্ট্রন মাইক্রোস্কোপ

Continue reading “HIV/AIDS: ভাইরাস আর একটি মহামারীর গল্প”

HIV/AIDS: ভাইরাস আর একটি মহামারীর গল্প