রিচার্ড ডকিন্স এর দি গ্রেটেষ্ট শো অন আর্থ : ষষ্ঠ অধ্যায় (শেষ পর্ব)

artist-impression-of-odontochelys-semitestacea

turtle-shell-evolution-1 turtle-shell-evolution-2ছবি: Odontochelys semistestacea  চীনে আবিষ্কৃত এই জীবাশ্মটি আপাতত খুজে পাওয়া সবচেয়ে প্রাচীনতম কচ্ছপের জীবাশ্ম। প্রায় ২২০ মিলিয়ন বছর প্রাচীন জীবাশ্মটি কিভাবে তাদের খোলশ বিবর্তন করেছিলে সেই রহস্যটি উন্মোচনে গুরুত্বপুর্ণ ভুমিকা পালন করেছে। এর আবিষ্কারের পর পরই বিতর্কটি সুচনা হয়, কিভাবে এদের খোলস বিবর্তিত হয়েছে। জীবাশ্মটির  আবিষ্কার মেরুদন্ড আর পাজরের এর সম্প্রসারণ হিসাবে খোলসের বিবর্তনের স্বপক্ষে বেশ শক্তিশালী প্রমানের যোগান দেয়। জীবাশ্মটির শরীরের নীচের দিকে আংশিক খোলস এবং উপরের খোলস এর অনুপস্থিতি চের খোলসটি যে আগে বিবর্তিত হয়ে সেই বিষয়টি প্রমানিত করেছে। িএছাড়া এটি বিবর্তিত হয়েছে সমুদ্রে বিশেষ করে নীচের দিক থেকে শিকারী প্রাণীর আক্রমন বিরোধী একটি বর্ম হিসাবে। কিন্তু তারা আবার যখন স্থলবাসী হয় তখন তাদের উপরের খোলসটি বিবর্তিত হয়, যা তাদের প্রতিরক্ষা বর্ম হিসাবে বিশেষ গুরুত্বপুর্ণ ভুমিকা রাখতে শুরু করে।

Manchurochelysliaoxiensis Placodonts

রিচার্ড ডকিন্স এর দি গ্রেটেষ্ট শো অন আর্থ :  ষষ্ঠ অধ্যায়  (শেষ পর্ব)
( অনুবাদ প্রচেষ্টা: কাজী মাহবুব হাসান)

The Greatest Show on Earth: The evidence for evolution by Richard Dawkins

 প্রথম অধ্যায়
দ্বিতীয় অধ্যায়
তৃতীয় অধ্যায় ( প্রথম পর্ব)  তৃতীয় অধ্যায় ( দ্বিতীয় পর্ব)তৃতীয় অধ্যায় ( শেষ পর্ব)
চতুর্থ অধ্যায় (প্রথম পর্ব) | চতুর্থ অধ্যায় (দ্বিতীয় পর্ব)
চতুর্থ অধ্যায় (তৃতীয় পর্ব) | চতুর্থ অধ্যায় ( শেষ পর্ব)
পঞ্চম অধ্যায়: প্রথম পর্ব | পঞ্চম অধ্যায়: দ্বিতীয় পর্ব |
পঞ্চম অধ্যায়: তৃতীয় পর্ব | পঞ্চম অধ্যায়: শেষ পর্ব |
ষষ্ঠ  অধ্যায়: প্রথম পর্বদ্বিতীয় পর্ব | তৃতীয় পর্ব | চতুর্থ পর্ব

 মিসিং লিঙ্ক ? ঠিক কি বোঝাতে চাইছেন আপনি ’মিসিং’ শব্দটি দিয়ে?

সমুদ্র থেকে আবার শুকনো মাটিতে ….

এবার আমি আরো একটি গ্রুপের প্রানীদের কথা আলোচনা করবো, যারা সমুদ্র থেকে আবার ফিরে গেছে শুকনো মাটিতে স্থলবাসী হবার জন্য আর এরা বিশেষভাবে একটি কৌতুহল্লোদ্দীপক উদহারণ কারন এদের কেউ কেউ আবার প্রক্রিয়ার প্রতিবর্তন করে পুনরায় পানি ছেড়ে ডাঙ্গায় ফিরে এসেছে দ্বিতীয়বারের মত; সী টার্টল (Sea turtle-সামুদ্রিক কচ্ছপ), একটি গুরুত্বপুর্ণ ক্ষেত্রে পুরোপুরি পানিতে ফিরে যায়নি তিমি বা ডুগংদের মত, কারন তারা এখনও সমুদ্রের  বেলা ভুমিতে ডিম পাড়ে। এবং সমুদ্রে প্রত্যাবর্তন করা সব মেরুদন্ডী প্রানীদের মত, টার্টলরা বাতাসে শ্বাস নেবার প্রক্রিয়াটা ত্যাগ করেনি। এবং এই বিশেষ ক্ষেত্রে এদের কেউ কেউ বেশ খানিকটা সামনে এগিয়ে গেছে তিমিদের চেয়ে। এই কচ্ছপগুলো পানি থেকে বাড়তি অক্সিজেন সংগ্রহ করতে পারে, তাদের শরীরের পেছনের এক জোড়া প্রকোষ্ঠ ব্যবহারের মাধ্যমে, যেখানে রক্ত চলাচল বেশ সমৃদ্ধ। একটি অষ্ট্রেলিয় রিভার টার্টল (যেভাবে কোন অষ্ট্রেলীয় কখনোই ইতস্তত বোধ করবেন না) আসলে তাদের সিংহভাগ অক্সিজেন পায় পায়ুপথের মাধ্যমে।

আরও গভীরে যাবার আগে,  আমি আবারো এড়াতে পারবো না সেই নামকরণের ক্লান্তিকর প্রক্রিয়ায় বিশেষ বিষয়টি, জর্জ বার্ণাড শ র একটি দু:খজনক পর্যবেক্ষনের সত্যতার প্রমান মেলে যেখানে: ইংল্যান্ড এবং আমেরিকা দুটি দেশ যাদের বিভাজিত করেছে একটি সাধারণ ভাষা। ব্রিটেনে টার্টল বাস করে সাগরে, টরটয়েস (Tortoise) বাস করে স্থলে এবং টেরাপিনস (Terrapin) বাস করে মিঠাপানি কিংবা নোনা পানিতে। আর আমেরিকায় এই সব প্রানী হচ্ছে টার্টল, তারা পানি কিংবা ডাঙ্গায় যেখানেই বাস করুক না কেন। ল্যান্ড টার্টল শুনলে আমার কাছে অদ্ভুত মনে হয়, কিন্তু কোন অ্যামেরিকান এর কাছে তা মনে হয়না। যাদের জন্য টরটয়েস হচ্ছে টার্টলদের সাবসেট, যারা ডাঙ্গায় বাস করে। কিছু আমেরিকাবাসীরা টরটয়েস শব্দটি ব্যবহার করে কঠোর ট্যাক্সোনোমিক অর্থে Testudinidae এর বর্ণনা করার জন্য, এটি সকল স্থলবাসী টরটয়েস দের বৈজ্ঞানিক নাম। ব্রিটেনে আমরা স্থলবাসী যেকোন chelonian কে টরটয়েস বলতে পছন্দ করি, তারা Testudinidae গণ র অন্তর্ভুক্তে হোক বা না হোক ( যেমনটি আমরা দেখবো, জীবাশ্ম টরটয়েসও আছে যারা স্থলে বাস করতো কিন্তু Testudinida পরিবারের সদস্য নয়);পরবর্তী আলোচনা যেটা হবে আমি সেখানে কোন ধরনের সংশয় এড়াতে চাচ্ছি, এবং ব্রিটেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের ( এবং অষ্ট্রেলিয়া, সেখানে আবার এই শব্দগুলোর ব্যবহার ভিন্ন) জন্য বিশেষ ছাড় দিয়ে। কিন্তু আসলেই কাজটি কঠিন। এই নামকরণ ব্যপারটি খুবই এলোমেলো, যদি হালকা ভাবে বলি।প্রাণীবিজ্ঞানীরা ব্যাবহার করেন chelonians শব্দটি, এই সব প্রানীদের বোঝানোর জণ্য, টার্টল, টরটয়েস এবং টেরাপিন, যে সংস্করণের  ইংলিশই আমরা ব্যবহার করি না কেন।

Continue reading “রিচার্ড ডকিন্স এর দি গ্রেটেষ্ট শো অন আর্থ : ষষ্ঠ অধ্যায় (শেষ পর্ব)”

রিচার্ড ডকিন্স এর দি গ্রেটেষ্ট শো অন আর্থ : ষষ্ঠ অধ্যায় (শেষ পর্ব)

রিচার্ড ডকিন্স এর দি গ্রেটেষ্ট শো অন আর্থ : ষষ্ঠ অধ্যায় (চতুর্থ পর্ব)

whale_evo

ছবি:  তিমির বিবর্তন: প্রায় ৫০মিলিয়ন বছরের আগে িইকোসিন  ইপোকে বর্তমান স্পেন থেকে েইন্দোনেশিয়া পর্যন্ত বিস্তৃত একটি অপেক্ষাকৃত অগভীর সমুদ্র ছিল। এই সময়েই সিটাসিয়ানরা যেমন বর্তমান তিমির পুর্বসুরী প্রজাতিরা জলে প্রত্যাবর্তন করে। তখনও ভারত একটি দ্বীপ, ইউরেশিয়ার ভুখন্ডের সাথে যুক্ত হয়নি, তৈরী হয়নি হিমালয়, পাকিস্থান কেবল ভারতের একটি উপকুল অঞ্চল; আদি তিমিদের জীবাশ্মগুলোর অনেকগুলোই এখানেই সন্ধান পাওয়া গেছে। আদি তিমিদের তখন দেখলে বর্তমান বিশাল তিমিদের সাথে বাহ্যিক কোন মিল চোখে পড়তো না, তারা তাদের লেজ দিয়ে সাতার কাটতো না, পরিবর্তিত পা দিয়ে তারা সাতার কাটতে শিখেছিল এবং ক্রমেই তারা পেছনের পা হারায়, সামনের পা পরিনত হয় প্যাডেল, লেজ ফ্লুক বিবর্তন হয় সাতারের জন্য। এখনও তিমিরা তার বিবর্তনীয় অতীতের চিহ্ন বহন করছে। (ছবি সুত্র)

gingerich-earbonesছবি: পাকিস্থান ও মিশরে কিছু রহস্যময় প্রজাতির জীবাশ্ম আবিষ্কার করার আগ পর্যন্ত্য জীবাশ্মবিদ ফিলিপ গিঙরিচ (Philip Gingerich) এর তিমি র বিবর্তনে বিশেষ কোন আগ্রহই ছিল না; ১৯৭৮ সালে পাকিস্থানের উত্তরাঞ্চলে প্রথম ঘোড়ার সম্ভাব্য পুর্বসুরী প্রজাতির জীবাশ্ম খোজার সময় তার সহযোগীরা খুজে পান একটি নেকড়ে সদৃশ প্রানীর মাথার খুলি; পরে পুর্ণাঙ্গ জীবাশ্ম প্রজাতিটির নাম দেয়া হয়Pakicetus inachus — যার ব্রেইন এর আকৃতি এবং কানের বিশেষ গঠন দেখেই তিনি এর সাথে তিমির প্রথম যোগসুত্রটি করেন। পরে আরো কিছু জীবাশ্ম (যেমন মিশরের মরুভুমিতে পাওয়া  Bacilosaurus এবং পাকিস্থানে Rhodocetus  Maiacetus) এবং বিজ্ঞানের নানা শাখা থেকে সংগ্রহ করা প্রমান ও তার তিন দশকের গবেষনা প্রথম বারের মত সুস্পষ্টভাবে প্রমান করে প্রায় ৫০ মিলিয়ন বছর আগে েইকোসিন পর্বে স্থলবাসী স্তন্যপায়ী আর্টিওডাকটাইল বা Even-Toed Ungulates( বা ইভেন টোড: যাদের জোড় সংখ্যার পায়ের আঙ্গুল থাকে ও শরীরের ভার তাদের তৃতীয় এবং চতুর্থ পায়ের আঙ্গুল সমানভাবে বহন করে, আর আঙ্গুলেটস বলতে সেই সব প্রানী যা যাদের পায়ের আঙ্গুলের নোখে কেরাটিন এর শক্ত একটি অংশ থাকে, যাকে Hoof বা খুর বলা হয়, যেমন গরু, উট, শুকর ইত্যাদি , ঘোড়ারাও আঙ্গুলেট তবে তারা অড টোড বা তাদের বেজোড় সংখ্যক পায়ের আঙ্গুল থাকে, শরীরের ভার মুলত বহন করে তৃতীয় আঙ্গুলটি , এছাড়াও আর্টিওডাকটাইলদের বেশ কিছু  বৈশিষ্ট আছে) পুর্বসুরী থেকে Cetacean ( তিমি,ডলফিন ও পরপয়েস) বর্গের স্তন্যপায়ীরা বিবর্তিত হয়েছিল। আজকের সিটাসিয়ান যেমন তিমি রা সম্পুর্ণ জলজ প্রানী তবে আদি সিটাসিয়ানরা ছিল উভচরী; ভারত এবং পাকিস্থান থেকে পাওয়া জীবাশ্মগুলো ধারাবাহিক এই বিবর্তনের অন্তর্বতী কালীন সবগুলো পর্যায়কে বর্ণনা করতে সহায়তা করেছে, কিভাবে িএকটি স্থলবাসী প্রানী ক্রমান্বয়ে বিবর্তিত হয়ে তিমি ও সমগোত্রীয় জলজ প্রানীতে। (Photo: Eric Bronson, U-M Photo Services.)

রিচার্ড ডকিন্স এর দি গ্রেটেষ্ট শো অন আর্থ :  ষষ্ঠ অধ্যায়  (চতুর্থ পর্ব)
( অনুবাদ প্রচেষ্টা: কাজী মাহবুব হাসান)

The Greatest Show on Earth: The evidence for evolution by Richard Dawkins

 প্রথম অধ্যায়
দ্বিতীয় অধ্যায়
তৃতীয় অধ্যায় ( প্রথম পর্ব)  তৃতীয় অধ্যায় ( দ্বিতীয় পর্ব)তৃতীয় অধ্যায় ( শেষ পর্ব)
চতুর্থ অধ্যায় (প্রথম পর্ব) | চতুর্থ অধ্যায় (দ্বিতীয় পর্ব)
চতুর্থ অধ্যায় (তৃতীয় পর্ব) | চতুর্থ অধ্যায় ( শেষ পর্ব)
পঞ্চম অধ্যায়: প্রথম পর্ব | পঞ্চম অধ্যায়: দ্বিতীয় পর্ব |
পঞ্চম অধ্যায়: তৃতীয় পর্ব | পঞ্চম অধ্যায়: শেষ পর্ব |
ষষ্ঠ  অধ্যায়: প্রথম পর্বদ্বিতীয় পর্ব | তৃতীয় পর্ব

 মিসিং লিঙ্ক ? ঠিক কি বোঝাতে চাইছেন আপনি ’মিসিং’ শব্দটি দিয়ে?

আবার ফিরতে হবে সমুদ্রে….

পানি থেকে স্থলে বসবাস শুরু করার সেই বিবর্তনীয় প্রক্রিয়ায় জীবনের প্রায় সবক্ষেত্রে বড় মাপের পুণ:পরিকল্পনার প্রয়োজন আছে। শ্বাস নেওয়া থেকে প্রজনন :  জীববিজ্ঞানের জগতে বিশাল বড় একটি অভিযান; তাস্বত্তেও, আপাতদৃষ্টিতে দেখে মনে হতে পারে প্রায় খামখেয়ালী কোন বিরুদ্ধাচারণ কিংবা বিকৃতি, অনেক বেশ সফল স্থলবাসী প্রানীও পরবর্তীতে উল্টোপথে যাত্রা করছে, তারা তাদের বহু কষ্টে পাওয়া স্থল নিবাসের নানা বৈশিষ্টগুলো পরিত্যাগ করে আবার পানিতে ফিরে গিয়েছিলো। সিল এবং সী লায়নরা গিয়েছে আংশিক পথ।তারা আমাদের দেখিয়েছে  এই দুইয়ের মধ্যে অন্তর্বর্তীকালীন প্রজাতিটি দেখতে কেমন ছিল, যখন তারা পুরোপুরি জলজ প্রানীতে রুপান্তরিত হয়েছে যেমন তিমি আর ডুগং রা। তিমিরা ( এবং ছোট তিমিরাও, যাদের আমরা ডলফিন বলি) এবং ডুগং রা ও তাদের নিকটবর্তী আত্মীয় প্রজাতি যেমন ম্যানিতি, পুরোপুরি ভাবে স্থলবাসী জীবন পরিত্যাগ করে আবার তাদের দুরবর্তী পুর্বসুরীদের সামুদ্রিক জীবন বেছে নিয়েছে। এমনকি তারা প্রজননের জন্য সমুদ্রের তীরেও আসেনা। যদিও তারা  এখনও বাতাসে নি:শ্বাস নেয়, পুরোপুরি ভাবে তাদের সামুদ্রিক পুর্বসুরীদের ফুলকার সমতুল্য কোন কিছু তারা আর বিবর্তিত করতে পারেনি। অন্য যে প্রানীরা যারা স্থল থেকে আবার পানি তে ফিরে গেছে, নিদেনপক্ষে কিছুটা সময়, তারা হচ্ছে পন্ড স্নেইল, ওয়াটার স্পাইডার, ওয়াটার বিটল, কুমির,ওটার, সামুদ্রিক সাপ, ওয়াটার শ্রিউ, গালাপাগোস দ্বীপের উড্ডয়ন অক্ষম করমোরান্ট, গালাপাগোস এর সামুদ্রিক ইগুয়ানা, ইয়াপোকস ( দক্ষিন আমেরিকার পানীবাসী মারসুপিয়াল), প্লাটিপাস, পেঙ্গুইন, কচ্ছপ।

Continue reading “রিচার্ড ডকিন্স এর দি গ্রেটেষ্ট শো অন আর্থ : ষষ্ঠ অধ্যায় (চতুর্থ পর্ব)”

রিচার্ড ডকিন্স এর দি গ্রেটেষ্ট শো অন আর্থ : ষষ্ঠ অধ্যায় (চতুর্থ পর্ব)

রিচার্ড ডকিন্স এর দি গ্রেটেষ্ট শো অন আর্থ : ষষ্ঠ অধ্যায় (তৃতীয় পর্ব)

060406.tiktaalik-3

060406.tiktaalik-1
ছবি: ২০০৪ সালে কানাডীয় আর্কটিক বা উত্তর মেরুর এলসমেয়ার দ্বীপে শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক নীল শুবিন ও তার সহযোগীরা খুজে পেয়েছিলে এই জীবাশ্ম প্রজাতিটিকে, এর নাম  Tiktaalik roseae, উপরের ছবিতে প্রজাতিটিকে মডেল হিসাবে দেখানো হয়েছে  ৩৭৫ মিলিয়ন বছর আগে তার প্রাকৃতিক পরিবেশে। টিকটালিক (টিকটালিক এর অর্থ ‘‘সুপেয় বা অলবনাক্ত পানির বড় মাছ’, স্থানীয় এলেসমেয়ার দ্বীপের আদিবাসীদের ইনুকটিটাট ভাষার একটি শব্দ) মাছ এবং প্রথম স্থলে বসবাসকারী মানুষসহ সকল স্থলচর মেরুদন্ডী প্রানীদের মধ্যে বিবর্তনীয় শুন্য স্থানটি পুরণ করেছে, সেকারনেই এটি মাছ এবং প্রথম স্থলবাসী মেরুদন্ডীদের মধ্যে এটি একটি মিসিং লিঙ্ক।৩৭৫ মিলিয়ন বছর প্রাচীন এই প্রানীটির ছিল কনুই কব্জিসহ পুর্ণ হাত, নমনীয় ও স্বাধীনভাবে নড়াচড়া করা যায় এমন একটি ঘাড় , যেহেতু পানির নীচে ছিল এদের বসবাস, তখনও ফুলকা ব্যবহার করে নিঃশ্বাস নিতে হত তাদের। মাঝের ছবিটি কার্ল ব্রুয়েল এর আকা টিকটালিকের একটি কাল্পনিক ছবি তার নিজস্ব পরিবেশে। নীচের ছবিটি দেখাচ্ছে জীবাশ্ম রেকর্ডে ৩৮০ মিলিয়ন বছর  আগের মাছ  এবং ৩৬০ মিলিয়ন বছর আগে, চারপেয়ে মেরুদন্ডী প্রানী যারা স্থলে বসবাস উপযোগী, এর মাঝখানে টিকটালিক, যার লোব বা শক্ত ফিনযুক্ত মাছের মতই ফিন ছিল, পানির নীচে শ্বাস নেবার জন্য ফুলকা ছিল, আশ বা স্কেল ছিল, এছাড়া চোয়ালের গঠনও ছিল আদিম, তবে পরবর্তীতে জীবাশ্ম রেকর্ডে আবির্ভুত হওয়া স্থলবাসী টেট্রাপডদের মতই এর ছিল স্বতন্ত্র ঘাড়, চ্যাপটা মাথা, কব্জি, ফুসফুস ব্যবহার করার জন্য বাইরের দিকে প্রসারমান পাজরের হাড় । (ছবি সুত্র); এবং সংশ্লিষ্ট একটি ভিডিও এখানে

coelacanth_unique_char SAIAB_Coelocanth_sml_680pxছবি:  Coelacanth সিলোকান্থ খুব দুর্লভ এই প্রানী প্রজাতিটি আকস্মিকভাবে আবিষ্কৃত হয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকায়। জীবন্ত জীবাশ্ম এই প্রজাতিটি এখনও বেচে আছে সেটাই জীববিজ্ঞানীরা প্রথম জানতে পারেন। দুটি প্রজাতি খুজে পাওয়া েগেছে  -West Indian Ocean coelacanth (Latimeria chalumnae) ও Indonesian coelacanth Latimeria menadoensis); এরা সবচেয়ে প্রাচীনতম Sarcopterygii (lobe-finned fish ও tetrapods) দের বংশধারার প্রতিনিধিত্ব করছে, যার মানে হচ্ছে এরা অন্যন্য রে ফিনড মাছ (ray-finned fishes) দের তুলনায় সরীসৃপ, স্তন্যপায়ীদের নিকটাত্মীয়। (http://vertebrates.si.edu/fishes/coelacanth/coelacanth_wider.html)

রিচার্ড ডকিন্স এর দি গ্রেটেষ্ট শো অন আর্থ :  ষষ্ঠ অধ্যায়  (তৃতীয় পর্ব)
( অনুবাদ প্রচেষ্টা: কাজী মাহবুব হাসান)

The Greatest Show on Earth: The evidence for evolution by Richard Dawkins

 প্রথম অধ্যায়
দ্বিতীয় অধ্যায়
তৃতীয় অধ্যায় ( প্রথম পর্ব)  তৃতীয় অধ্যায় ( দ্বিতীয় পর্ব)তৃতীয় অধ্যায় ( শেষ পর্ব)
চতুর্থ অধ্যায় (প্রথম পর্ব) | চতুর্থ অধ্যায় (দ্বিতীয় পর্ব)
চতুর্থ অধ্যায় (তৃতীয় পর্ব) | চতুর্থ অধ্যায় ( শেষ পর্ব)
পঞ্চম অধ্যায়: প্রথম পর্ব | পঞ্চম অধ্যায়: দ্বিতীয় পর্ব |
পঞ্চম অধ্যায়: তৃতীয় পর্ব | পঞ্চম অধ্যায়: শেষ পর্ব |
ষষ্ঠ  অধ্যায়: প্রথম পর্ব|দ্বিতীয় পর্ব

 মিসিং লিঙ্ক ? ঠিক কি বোঝাতে চাইছেন আপনি ’মিসিং’ শব্দটি দিয়ে?

সাগর পেছন ফেলে ….

রকেটে করে মহাশুন্যে প্রবেশ করার বিষয়টি ছাড়া, পানি ছেড়ে শুষ্ক ডাঙ্গায় পা রাখার জীবন বদলে দেয়া সাহসী পদক্ষেপেটির মত কিছু কল্পনা করা খুব কঠিন। জীবনের এই দুটি ক্ষেত্র, পানি এবং স্থলভুমি বহুভাবেই ভিন্নরুপী। কোন একটি থেকে অন্যটিতে যাত্রা বা পদক্ষেপ দাবী করে শরীরের প্রায় প্রতিটি অংশের বৈপ্লবিক কিছু পরিবর্তনের। ফুলকা বা জিল যা পানি থেকে অক্সিজেন আলাদা করার জন্য দক্ষ ছিল তারা ডাঙ্গায় বাতাসে কোন কাজ করতে পারে না আর পানিতে ফুসফুসের কোন উপযোগিতাও নেই। পানিতে যেভাবে চলাচল ছিল দ্রুত, দক্ষ আর সুন্দর সেই প্রক্রিয়া শুষ্ক মাটিতে সৃষ্টি করে নানা ধরনের সমস্যা, উভয় দিকেই। কোন সন্দেহ নেই, পানি ছাড়া মাছের মত বা ডুবন্ত মানুষের মত.. এই দুটোই বহু ব্যবহৃত প্রবাদ বাক্যে পরিণত হবার কারন কি হতে পারে। এবং অবাক হবার কারন নেই, জীবাশ্ম রেকর্ডের এই ক্ষেত্রে মিসিং লিংক এর ব্যাপারে বাড়তি উৎসাহ থাকাই স্বাভাবিক।

আপনি যদি যথেষ্ট অতীতে যেতে পারেন, সব কিছুই বাস করতো সমুদ্রে .. জলজ লবনাক্ত জীবনের সেই আলমা মাটের। বিবর্তনীয় ইতিহাসের বিভিন্ন পয়েন্টে, সাহসী কোন সদস্য বিভিন্ন প্রানী গ্রুপের, পানি ছেড়ে শুকনো মাটির দিকে অগ্রসর হয়েছিল, কখনো ধীরে ধীরে সবচেয়ে শুষ্ক মরুভুমিতে, তাদের সাথে তারা বয়ে নিয়ে এসেছিল তাদের নিজস্ব সমুদ্র, রক্ত আর কোষের অভ্যন্তরের তরল হিসাবে। সরীসৃপ ছাড়া, পাখি,স্তন্যপায়ী, কীটপতঙ্গ, আমাদের চারপাশে আমরা যা দেখি তারা ছাড়াও আরো অন্য গ্রুপের জীবরা যারা জীবনের এই জলজ জরায়ু থেকে শুকনো ডাঙ্গা অভিমুখে যাত্রা করতে পেরেছে সফলতার সাথে তাদের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত যেমন, স্করপিয়ন, শামুক, কিছু ক্রাষ্টাশিয়ান, যেমন উডলাইস, ল্যান্ড ক্র্যাবস, মিলিপেড,সেন্টিপেড, মাকড়শারা এবং তাদের আত্মীয়রা, এছাড়াও অন্ততপক্ষে তিনটি পর্বের ওয়ার্মরা। আমাদের উদ্ভিদদের কথাও মনে রাখতে হবে ব্যবহারযোগ্য কার্বনের একমাত্র সুত্র, যাদের আগেই স্থলে আগ্রাসন ছাড়া কোন প্রানীর পক্ষেই পানি ছেড়ে স্থলে আগ্রাসন এর কাজটি সম্ভব হতো না।

সৌভাগ্যক্রমে আমাদের এই মহাযাত্রাকালীন ট্রানজিশনাল স্টেজ, যেমন যখন মাছ স্থলে তার আগ্রাসন শুরু করেছিল, খুব চমৎকারভাবে জীবাশ্ম রেকর্ডে তা রক্ষিত আছে। এবং একই ভাবে আরো পরে ঘটা বীপরিতমুখী যাত্রা বা প্রত্যাবর্তন…. যখন তিমি আর ডুগংদের পুর্বসুরীরা তাদের কষ্ট করে অর্জন করা শুকনো স্থলে আবাস ছেড়ে আবারও পুর্বসুরীদের বাসভুমি সমুদ্রর দিকে ফিরে যায়, উভয় ক্ষেত্রে যে লিঙ্কগুলো যা এতদিন মিসিং ছিল তা এখন আর মিসিং নয়, বহু প্রমান্য জীবাশ্ম সেই সংখ্যায় অগনিত, এবং তারা এখন আমাদের মিউজিয়ামের শোভা বৃদ্ধি করছে।

Continue reading “রিচার্ড ডকিন্স এর দি গ্রেটেষ্ট শো অন আর্থ : ষষ্ঠ অধ্যায় (তৃতীয় পর্ব)”

রিচার্ড ডকিন্স এর দি গ্রেটেষ্ট শো অন আর্থ : ষষ্ঠ অধ্যায় (তৃতীয় পর্ব)

রিচার্ড ডকিন্স এর দি গ্রেটেষ্ট শো অন আর্থ : ষষ্ঠ অধ্যায় (দ্বিতীয় পর্ব)

ছবি: কোন জীবাশ্মকে যদি সেলিব্রিটির মর্যাদা দেয়ার কথা ভাবা হয় তবে তার প্রথম দাবীদার অনায়াসে হতে পারে Archaeopteryx lithographica (উপরের ছবিটি আর্কিওপটেরিক্স এর বার্লিন স্পেসিমেন) জীবাশ্ম রেকর্ডে আপাতত খুজে পাওয়া এটি আদিমতম পাখি (তবে তার সেই অবস্থান এখন চ্যালেন্জ এর মুখে); ১৮৬১ সালে জার্মানীর শনহোফেন লাইমস্টোন কোয়ারীতে খুজে পাওয়া আর্কিওপটেরিক্স আকারে প্রায় ১.৬ ফুট মত লম্বা হত।  জীবাশ্মটির বয়স প্রায় ১৫০ মিলিয়ন বছর, জুরাসিক পর্বের ঠিক শেষ দিকে; পাখির মত পালক সহ ডানা অথচ ডায়নোসরের মত দাতযুক্ত চোয়াল, দীর্ঘ লেজ প্রথম ইঙ্গিত দিয়েছিল পাখিরা ডায়নোসরদের থেকে বিবর্তিত হয়েছে। যদিও সেই সময়ের বিজ্ঞানীরা প্রস্তুত ছিলেন না সেই যোগাযোগটি প্রতিষ্ঠা করার জন্য। তবে সেই ১৮৭০ সালে টমাস হাক্সলি, প্রথম এর পাখি আর ডায়নোসরের মধ্যে যোগসুত্রটি িউল্লেখ করেন, পরে ৭০ এর দশকে, প্রায় ১০০ বছর পর আবার বিষয়টি আলোচনায় নিয়ে আসেন ইয়েল বিশ্বাবদ্যালয়ের জন এইচ ওস্ট্রম। সেই বিতর্কটি অমীমাংসিত থেকে নব্বই এর দশকের মাঝামাঝি অবধি, এরপর চীনে জীবাশ্মবিদরা একের পর এক অসাধারন সব জীবাশ্ম খুজে বের করেন, যা পরবর্তীতে আরো দৃঢ়ভাবে প্রমান করে স্থলবাসী,ক্ষিপ্রগতির, মাংশাসী থেরোপড ডায়নোসরদেরই বংশধর আজকের পাখিরা। তবে এটাও প্রমান হয়, পাখিদের বিশেষ বৈশিষ্টগুলোও আসলে পাখিদের বিবর্তনের অনেক আগে বিবর্তিত হয়েছিল থেরোপড ডায়নোসরদের মধ্যে। আর পাখিদের বিবর্তনের সাথে তাদের উড়বার ক্ষমতার বিবর্তন ঘটেছিল তারও পরে।  (ছবিসুত্র:  উইকিপেডিয়া);

i-8352ab5f48430584ce06b635ed73bd3d-xiaotingiaছবি: ২০১১ সালে চীনে খুজে পাওয়া জীবাশ্ম  Xiaotingia zhengi  প্রায় ১৫৫ মিলিয়ন বছর আগে; আর্কিওপটেরিক্স এর মত এর কিছু বৈশিষ্ট আছে আবার পালকযুক্ত অন্য ডায়নোসরদের সাথে  এর বেশ মিল আছে। এটি আবিষ্কারের পুর্বে প্রথমদিককার পাখি হিসাবে আর্কিওপটেরিক্স এর অবস্থানটি খানিকটা নড়বড়ে হয়ে গিয়েছে। কারন সিস্টেম্যাটিক্স এ  আর্কিওপটেরিক্স এর অবস্থান ছিল প্রাচীন তম পাখি সদৃশ অ্যাভিয়ালান হিসাবে ( যদিও আর্কিওপটেরিক্স কিংবা িএটি সরাসরি পাখিদের পুর্বসুরী প্রানী হয়, তবে এরা ট্রানজিশনাল প্রজাতির চমৎকার উদহারণ), এটির ডাটা যোগ হবার পর এর অবস্থান পাখিদের থেকে খানিকটা দুরে  Deinonychosaurs দিকে নিয়ে এসেছে আর সেই সাথে এটিও আর্কিওপটেরিক্সকেও বের করে এনেছে তাদের গ্রুপে। (সুত্র : Nature);

800px-sinosauropteryxfossil
ছবি: ১৯৯৫/৯৬ সালে চীনে খুজে পাওয়া Sinosauropteryx ( যার অর্থ Chinese reptilian wing বা চীনা সরীসৃপের ডানা কিংবা পালক) একটি জীবাশ্ম; এটাই প্রথম পাখি ও তাদের নিকট প্রজাতিগুলো বা Avialae গোষ্ঠীর বাইরে খুজে পাওয়া প্রজাতি, যাদের পালক বা এর আদি একটি সংস্করণ ছিল। এটি প্রমান করেছিল, পাখিদের বিবর্তনের পুর্বেই পাখিদের বেশ কিছু বৈশিষ্ট ও আচরন থেরোপড ডাইনোসরদের প্রজাতিদের মধ্যে বিবর্তিত হয়েছিল। (উইকিপেডিয়া)

রিচার্ড ডকিন্স এর দি গ্রেটেষ্ট শো অন আর্থ :  ষষ্ঠ অধ্যায়  দ্বিতীয় পর্ব)
( অনুবাদ প্রচেষ্টা: কাজী মাহবুব হাসান)

The Greatest Show on Earth: The evidence for evolution by Richard Dawkins

 প্রথম অধ্যায়
দ্বিতীয় অধ্যায়
তৃতীয় অধ্যায় ( প্রথম পর্ব)  তৃতীয় অধ্যায় ( দ্বিতীয় পর্ব)তৃতীয় অধ্যায় ( শেষ পর্ব)
চতুর্থ অধ্যায় (প্রথম পর্ব) | চতুর্থ অধ্যায় (দ্বিতীয় পর্ব)
চতুর্থ অধ্যায় (তৃতীয় পর্ব) | চতুর্থ অধ্যায় ( শেষ পর্ব)
পঞ্চম অধ্যায়: প্রথম পর্ব | পঞ্চম অধ্যায়: দ্বিতীয় পর্ব |
পঞ্চম অধ্যায়: তৃতীয় পর্ব | পঞ্চম অধ্যায়: শেষ পর্ব |
ষষ্ঠ  অধ্যায়: প্রথম পর্ব|

 মিসিং লিঙ্ক ? ঠিক কি বোঝাতে চাইছেন আপনি ’মিসিং’ শব্দটি দিয়ে?

আমি বিবর্তনে বিশ্বাস করবো যখন কোন বানর মানুষের বাচ্চা প্রসব করবে:

আরো একবার, মানুষরা কোন বানর থেকে বিবর্তিত হয়নি, বানরদের সাথে দুর অতীতে আমরা একটি সাধারণ পুর্বসুরী প্রানী শেয়ার করেছিলাম মাত্র; ঘটনাচক্রে, এই সাধারণ পুর্বসুরী প্রাণীটি মানুষের চেয়ে বরং বানরদের মতই বেশী দেখতে হবার সম্ভাবনা।আমরা হয়তো তাকে বানরই বলতাম যদি আমাদের দেখা হতো প্রায় ২৫ মিলিয়ন বছর আগে। যদিও মানুষরা বিবর্তিত হয়েছে এমন একটি পুর্বসুরী প্রজাতি থেকে যাদের আমরা যুক্তিসঙ্গতভাবেই বানর বলতে পারি  কিন্তু কোন প্রানী রাতারাতি নতুন কোন প্রজাতির প্রানী প্রসব করতে পারেনা, অন্ততপক্ষে বিশেষ করে বানর আর মানুষের মত ভিন্ন ভিন্ন কোন প্রাণীতো না, এমনকি কোন শিম্পান্জি থেকেও তা সম্ভব না। বিবর্তন তা বলে না। বিবর্তন শুধু একটি ধীর প্রক্রিয়াই শুধু না, বাস্তবিকভাবে, এটাকে অবশ্যই ধীর হতে হবে যদি এটি কোন ধরনের ব্যাখ্যা  দিতে চায়। কোন একটি প্রজন্মে বিশাল একটি লাফ, যেমন কোন একটি বানরের মানব সন্তান এর জন্ম দেবার ব্যপারটা স্বর্গীয় সৃষ্টির মত অসম্ভাব্য একটি ব্যাপার এবং সেই একই কারণে বাদ দেয়া যেতে পারে : কারণটি পরিসংখ্যানগতভাবে অত্যন্ত অসম্ভব একটি ব্যপার। খুবই ভালো হতো যারা বিবর্তন বিরোধী তারা যদি খানিকটা সময় নিয়ে তারা যা বিরোধিতা করছে তার সামান্য কিছু মুল বক্তব্যটা বোঝার চেষ্টা করতেন।

Continue reading “রিচার্ড ডকিন্স এর দি গ্রেটেষ্ট শো অন আর্থ : ষষ্ঠ অধ্যায় (দ্বিতীয় পর্ব)”

রিচার্ড ডকিন্স এর দি গ্রেটেষ্ট শো অন আর্থ : ষষ্ঠ অধ্যায় (দ্বিতীয় পর্ব)

রিচার্ড ডকিন্স এর দি গ্রেটেষ্ট শো অন আর্থ : ষষ্ঠ অধ্যায় (প্রথম পর্ব)

Pseudobiceros-gloriosus3
ছবি: Turbellarians বা ফ্লাট ওয়ার্ম; ওয়ার্ম (Worm) বা কেচোদের এই বিশাল পর্ব বা ফাইলামটির মধ্যে আছে পরজীবি ফ্লুক (fluke) আর টেপ ওয়ার্ম (tape worm) বা ফিতা কৃমিরাও, চিকিৎবিজ্ঞানে তারা গুরুত্বপুর্ণ একটি বিষয় স্বভাবত কারনেই। উপরের ছবিটি এদের একটি স্বাধীনভাবে বাচতে সক্ষম বা পরজীবি নয় এমন গ্রুপ, টারবেলারিয়ান ওয়ার্ম দের( Turbellarian) ছবি। এদের প্রায় ৪০০০ প্রজাতি আছে।  সব স্তন্যপায়ী প্রজাতি একসাথে করলে সেই সংখ্যা তার প্রায় সমান হয়। এদের কোন কোন টারবেলারিয়ান আসলে দারুন সুদর্শন, যেমন উপরের দুটি প্রজাতি। পানিতে এবং স্থলে দুটি জায়গায় তাদের দেখা যায় সাধারণত। খুব সম্ভবত বহু দীর্ঘ ধরেই তাদের ব্যপকভাবে উপস্থিতি । সে কারনে আপনি হয়তো আশা করবেন, আমরা তাদের বেশ জীবাশ্ম পাবো, সমৃদ্ধ হবে তাদের জীবাশ্ম ভান্ডার। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে, সেখানে প্রায় কিছুই নেই। অল্প কিছু অস্পষ্ট জীবাশ্ম নমুনা ছাড়া একটাও ফ্লাট ওয়ার্ম এর জীবাশ্ম আমরা খুজে পাইনি। আপনি যদি ওয়ার্ম দের বিবর্তন এর কথা ভাবেন, প্লাটিহেলমিনথেস রা ওয়ার্মদের বিবর্তনের ক্ষেত্রে অনেক অগ্রবর্তী একটি অবস্থা যখন এটি প্রথম বারের মত আবির্ভুত হয়। মনে হতে পারে তাদের কে যেন এখানে হঠাৎ করে প্রতিস্থাপিত করেছে কোন বিবর্তনীয় ইতিহাস ছাড়াই। কিন্তু এই ক্ষেত্রে তাদের একেবারে প্রথমবারের মত আবির্ভুত হয় ক্যামব্রিয়ান পর্বে না বরং আজকেই। আপনি কি বুঝতে পারছেন এর অর্থ কি, বা অন্ততপক্ষে কোন সৃষ্টিবাদীর কাছে এর কি হওয়া উচিৎ। সৃষ্টিবাদীরা বিশ্বাস করে যে এই ফ্ল্যাট ওয়ার্মরা অন্য সব প্রানীদের সাথে সেই একই সপ্তাহে সৃষ্টি করা হয়েছিল। এবং মধ্যবর্তী অগনিত শতাব্দী ধরে যখন সব হাড়যুক্ত আর খোলস যুক্ত প্রানীরা তাদের জীবাশ্ম তৈরী করেছিল হাজারে হাজারে, ফ্ল্যাট ওয়ার্মও নিশ্চয়ই সেই সময় তাদের সাথে বসবাস করতো, তবে তারা তাদের উপস্থিতির কোন চিহ্ন রাখেনি পাথরে। তাহলে কি, এমন বিশেষত্ব আছে যে প্রানীরা জীবাশ্ম তৈরী করতে পারে তাদের জীবাশ্ম রেকর্ডে শুন্যস্থানগুলোয়, বিশেষ করে যখন ফ্ল্যাট ওয়ার্ম এর অতীত ইতিহাস জুড়ে আছে এমন বড় একটি শুন্যস্থান।  সৃষ্টিবাদীদের নিজস্ব ব্যাখ্যা অনুযায়ী, যদি ফ্ল্যাট ওয়ার্মরা সেই একই পরিমান সময় ধরেই বেচে ছিল? যদি ক্যামব্রিয়ান পর্বের আগের শুন্যস্থানকে যদি ব্যবহার করা হয় প্রমান হিসাবে যে বেশীর ভাগ প্রানীরা ক্যামব্রিয়রান পর্বেই যেন আবির্ভুত হয়েছে হঠাৎ করে, তখন ঠিক সেই একই যুক্তি ব্যবহার করতে হবে প্রমান করতে যে এই মাত্র গতকালই ফ্ল্যাট ওয়ার্মদের সৃষ্টি করা হয়েছে। অথচ এটাই সৃষ্টিবাদীদের বিশ্বাসের সাথে সংঘর্ষ সৃষ্টি করে, কারন তারা বিশ্বাস করে এই ফ্ল্যাট ওয়ার্মদেরও বাকী সব প্রানীদের মত ঈশ্বর তার সেই বিশেষ একটি সৃজনশীল সপ্তাহে সৃষ্টি করেছিলেন। আপনি তো আপনার খেয়ালখুশী মত কোন যুক্তি দিতে পারেন না। আর এই যুক্তিটি এক ধাক্কায় জীবাশ্ম রেকর্ডে প্রি ক্যামব্রিয়ান শুন্যস্থান নিয়ে সৃষ্টিবাদীদের বিবর্তনের বিরুদ্ধে সাজানো কেসের ভিত্তিকেই দুর্বল করে দেয়। (ছবি সুত্র: http://www.starfish.ch/c-invertebrates/flatworms.html)

রিচার্ড ডকিন্স এর দি গ্রেটেষ্ট শো অন আর্থ :  ষষ্ঠ অধ্যায় (প্রথম পর্ব)
( অনুবাদ প্রচেষ্টা: কাজী মাহবুব হাসান)

The Greatest Show on Earth: The evidence for evolution by Richard Dawkins

 প্রথম অধ্যায়
দ্বিতীয় অধ্যায়
তৃতীয় অধ্যায় ( প্রথম পর্ব)  তৃতীয় অধ্যায় ( দ্বিতীয় পর্ব)তৃতীয় অধ্যায় ( শেষ পর্ব)
চতুর্থ অধ্যায় (প্রথম পর্ব) | চতুর্থ অধ্যায় (দ্বিতীয় পর্ব)
চতুর্থ অধ্যায় (তৃতীয় পর্ব) | চতুর্থ অধ্যায় ( শেষ পর্ব)
পঞ্চম অধ্যায়: প্রথম পর্ব | পঞ্চম অধ্যায়: দ্বিতীয় পর্ব |
পঞ্চম অধ্যায়: তৃতীয় পর্ব | পঞ্চম অধ্যায়: শেষ পর্ব

 মিসিং লিঙ্ক ? ঠিক কি বোঝাতে চাইছেন আপনি ’মিসিং’ শব্দটি দিয়ে?

ক্রিয়েশনিষ্ট বা সৃষ্টিবাদীদের জীবাশ্ম রেকর্ড বিষয়টির প্রতি একধরনের গভীর ভালোবাসা আছে, কারন তাদের একটি মন্ত্র শেখানো হয়েছে ( এবং এক অপরকেও তারা তা শেখায়), যা তারা পুনরাবৃত্তি করে বার বার, সেই মন্ত্রটি হচ্ছে, জীবাশ্ম রেকর্ডে বহু শুন্য স্থান আছে, যেমন তাদের প্রশ্ন, ‘কোথায় আমাকে দেখান আপনারা, অন্তবর্তীকালীন বা  ইন্টারমিডিয়েট কোন প্রজাতির উদহারণ।’ তাদের খুব পছন্দ (আসলেই খুবই পছন্দ) কল্পনা করা যে, এই শুন্যস্থানগুলো নিয়ে কোন প্রশ্ন নিশ্চয়ই বিবর্তনবাদীদের বিব্রতকর কোন পরিস্থিতিতে ফেলো দেবে। আর আসলেই আমরা যারা বিবর্তনবাদ নিয়ে কথা বলি, তারা জানেন যে, আমরা যে কোন জীবাশ্ম খুজে পেয়েছি সেটাই তো খুব ভাগ্যের ব্যাপার – কিন্তু  ইতিমধ্যে যে বিশাল জীবাশ্মর সম্ভার আমরা খুজে পেয়েছি বিবর্তনের ইতিহাসকে লিপিবদ্ধ করার জন্য – তাদের মধ্যে বহু প্রজাতির জীবাশ্ম আছে, যা যে কোন মানদন্ডতেই চমৎকার উদহারণ হতে পারে ইন্টাররমিডিয়েট বা অন্তর্বতীকালীন কোন জীবাশ্ম প্রজাতির। আমি অধ্যায় ৯ ও ১০ এ প্রয়োজনীয় যুক্তি দেবো, কেন আমাদের আসলেই কোন জীবাশ্মর দরকার নেই, বিবর্তন যে সত্যি সেটা প্রদর্শন করার জন্য। বিবর্তনের পক্ষে সকল প্রমানই পুরোপুরিভাবে নিরাপদ, এমন কি যদি একটি প্রজাতির প্রানীর মৃতদেহ কোনদিনও জীবাশ্মীভুত না হতো। আসলেই জীবাশ্ম আমাদের জন্য বাড়তি একটা বোনাসের মত, আসলেই আমাদের হাতে আছে নানা জীবাশ্মর সমৃদ্ধ খনি, যাদের প্রতিদিনই আমরা খুজে পাচ্ছি। বহু বড় গ্রুপের প্রানীদের বিবর্তনেন স্বপক্ষে জীবাশ্ম প্রমান অত্যন্ত চমৎকারভাবে শক্তিশালী। তাস্বত্ত্বেও কিছু শুন্যস্থান আছে, যা সৃষ্টিবাদীরা ভালোবাসে তীব্রভাবে।

Continue reading “রিচার্ড ডকিন্স এর দি গ্রেটেষ্ট শো অন আর্থ : ষষ্ঠ অধ্যায় (প্রথম পর্ব)”

রিচার্ড ডকিন্স এর দি গ্রেটেষ্ট শো অন আর্থ : ষষ্ঠ অধ্যায় (প্রথম পর্ব)

রিচার্ড ডকিন্স এর দি গ্রেটেষ্ট শো অন আর্থ : পঞ্চম অধ্যায় (শেষ পর্ব)

Lingula_anatina_6
 

800px-LingulaanatinaAA
ছবি: Lingula anatina

রিচার্ড ডকিন্স এর দি গ্রেটেষ্ট শো অন আর্থ :  পঞ্চম অধ্যায় (শেষ পর্ব) 
( অনুবাদ প্রচেষ্টা: কাজী মাহবুব হাসান)

The Greatest Show on Earth: The evidence for evolution by Richard Dawkins

 প্রথম অধ্যায়
দ্বিতীয় অধ্যায়
তৃতীয় অধ্যায় ( প্রথম পর্ব)  তৃতীয় অধ্যায় ( দ্বিতীয় পর্ব)তৃতীয় অধ্যায় ( শেষ পর্ব)
চতুর্থ অধ্যায় (প্রথম পর্ব) | চতুর্থ অধ্যায় (দ্বিতীয় পর্ব)
চতুর্থ অধ্যায় (তৃতীয় পর্ব) | চতুর্থ অধ্যায় ( শেষ পর্ব)
পঞ্চম অধ্যায়: প্রথম পর্ব | পঞ্চম অধ্যায়: দ্বিতীয় পর্ব |
পঞ্চম অধ্যায়: তৃতীয় পর্ব

লিঙ্গুলা

আমার প্রিয় জীবন্ত জীবাশ্ম হচ্ছে ব্রাকিপড লিঙ্গুলা। একটি ব্রাকিপড কি সেটা জানার আবশ্যকিতা নেই এই মুহুর্তে আপনাদের। তবে তারা অবশ্যই খাবারের মেন্যুর মুল আইটেম হত, যদি গ্রেট পারমিয়ান বিলুপ্তি ,প্রায় ১ বিলিয়ন বছর আগে যা ঘটেছিল, (সবচেয়ে ভয়ঙ্কর বিলুপ্তি এই পৃথিবীরি ইতিহাসে) সেই সময় সিফুড রেষ্টুরেন্টের  ব্যাপক প্রচলন থাকতো। হালকা ভাবে দেখলে যে কেউই সংশয়াচ্ছন্ন হয়ে পড়বে এটিকে বাইভালভ মোলাস্ক হিসাবে কল্পনা করে – মাসেল বা তাদের মত কিছু ভাববেন। কিন্তু তারা আসলে খুবই আলাদা। দুটো শেল বা খোলস আছে উপর আর নীচ, অপরদিকে মাসেল এর খোলস হচ্ছে ডানে আর বামে। বিবর্তনীয় ইতিহাসে বাইভালভ আর ব্রাকিপড রা হচ্ছে যেমন স্টিফেন জে গুল্ড স্মরণীয়ভাবে বলেছিলেন, Ships that pass in the night অর্থাৎ দুজন যাদের কিছুক্ষনের জন্য দেখা হয়েছিল, তারপর যে যার পথে চলে গেছে; কিছু  ব্রাকিপড  ‘the Great Dying’ ( অবারো গুল্ড এর শব্দ) বা মহাবিলুপ্তি র পরও বেচে ছিল, এবং আধুনিক লিঙ্গুলা ( উপরে ছবি ) জীবাশ্ম Lingulella, সাথে এত বেশী মিল, যে জীবাশ্মটিকে  একই জেনেরিক নাম দেয়া হয়েছিল Lingula;  এই বিশেষ নমুনাটি Lingulella ওরডোভিসিয়ান পর্বে, প্রায় ৪৫০ মিলিয়ন বছর প্রাচীন। কিন্তু এমন জীবাশ্মও আছে যাদের মুলত নাম দেয়া হয়েছিল Lingula  কিন্তু তারা এখন পরিচিত Lingulella  নামে, প্রায় অর্ধ বিলিয়ন বছর, ক্যামব্রিয়ান পর্ব পর্যন্ত বিস্তৃত। আমার স্বীকার করে নেয়া উচিৎ জীবাশ্ম কোন  শেল খুব বেশী কোন তথ্য দেয়না। কোন কোন প্রানী বিজ্ঞানীরা  সম্পুর্ণভাবে অপরিবর্তত জীবন্ত ফসিল হিসাবে এর  দাবী নিয়ে সংশয় পোষন করেন।


med_gallery_77_673_179221
ছবি: লিঙ্গুলা জীবাশ্ম

lingula-jur-evolution_53349_1
ছবি: Well-preserved, 500 million year old specimens found in China 

বিবর্তন সংক্রান্ত বিতর্কে বহু সমস্যা সৃষ্টি হতে দেখি আমরা শুধুমাত্র  প্রাণীরা অবিবেচকের মত ভিন্ন ভিন্ন মাত্রায় বিবর্তিত হবার কারনে, এমন কি বলা যায় বিবর্তিত না হবার জন্য যথেষ্ট অবিবেচনার পরিচয় দেয় যখন। যদি কোন প্রাকৃতিক নিয়ম থাকতো যা নির্দেশ করতো বিবর্তনীয় পরিবর্তনের পরিমান অবশ্যই সব সময় অতিবাহিত সময়ের সমানুপাতিক হবে এবং পারস্পরিক সদৃশ্যতার মাত্রা বংশগত সম্পর্কের বিষয়টিকে সততার সাথে প্রতিনিধিত্ব করবে। বাস্তব পৃথিবীতে, যদিও, আমাদের সন্তুষ্ট থাকতে হয়, বিবর্তনীয় পরিবর্তনে দ্রুতগতিময় প্রাণী, যেমন পাখি রা, যারা তাদের সরীসৃপ অতীতকে ফেলে এসেছে মেসোজোয়িক ধুলায় – আমাদের বুঝতে সাহায্য করে আমাদের দৃষ্টিতে কেন তাদের অবস্থানটি অনন্য এবং ঘটনাচক্রে তাদের প্রতিবেশীরা, বিবর্তন বৃক্ষে যাদের অবস্থান তাদের নিকটবর্তী তারাই ধ্বংশ হয়েছে মহাজাগতিক ধ্বংসলীলায়। আবার চুড়ান্তভাবে অন্যদিকে আমরা পাই, জীবন্ত জীবাশ্ম, যেমন লিঙ্গুলা যারা চরম কিছু ক্ষেত্রে এতটাই সামান্য বদলেছে যে তারা হয়তো এখনও তাদের দুর অতীতের পুর্বসুরীদের সাথে প্রজনন করতে পারবে, যদি কোন ঘটকালী করার টাইম মেশিন তাদের মধ্যে সংযোগ করে দিতে পারে।

 __________________________পঞ্চম অধ্যায় সমাপ্ত

রিচার্ড ডকিন্স এর দি গ্রেটেষ্ট শো অন আর্থ : পঞ্চম অধ্যায় (শেষ পর্ব)

রিচার্ড ডকিন্স এর দি গ্রেটেষ্ট শো অন আর্থ : পঞ্চম অধ্যায় (তৃতীয় পর্ব)

12
ছবি: জন এন্ডলার এর গাপ্পি এক্সপেরিমেন্ট

0506guppies_b (1)
ছবি: Guppies are small tropical fish native to Trinidad and other areas of the Caribbean. They are characterized by sexual dimorphism in size and color patterns. The color pattern variation of the males (left and right columns) is mostly genetic variation, not environmental. New data indicates that rare-colored males not only attract females (center column), they are also more likely to survive predation.

রিচার্ড ডকিন্স এর দি গ্রেটেষ্ট শো অন আর্থ :  পঞ্চম অধ্যায় (তৃতীয় পর্ব) 
( অনুবাদ প্রচেষ্টা: কাজী মাহবুব হাসান)

The Greatest Show on Earth: The evidence for evolution by Richard Dawkins

 প্রথম অধ্যায়
দ্বিতীয় অধ্যায়
তৃতীয় অধ্যায় ( প্রথম পর্ব)  তৃতীয় অধ্যায় ( দ্বিতীয় পর্ব)তৃতীয় অধ্যায় ( শেষ পর্ব)
চতুর্থ অধ্যায় (প্রথম পর্ব) | চতুর্থ অধ্যায় (দ্বিতীয় পর্ব) | চতুর্থ অধ্যায় (তৃতীয় পর্ব) | চতুর্থ অধ্যায় ( শেষ পর্ব)
পঞ্চম অধ্যায়: প্রথম পর্ব ; দ্বিতীয় পর্ব;

 গাপ্পি..

আমার সহকর্মী ড: জন এন্ডলার, সম্প্রতি যিনি উত্তর আমেরিকা থেকে এক্সেটার বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দিয়েছেন, তিনিই আমাকে পরবর্তীতে বর্ণিত বিস্ময়কর এবং একই সাথে হতাশারে এই গল্পটি বলেছিলেন। তিনি একবার যুক্তরাষ্ট্রের আভ্যন্তরীন বিমানযাত্রার  যাত্রী হিসাবে ভ্রমন করছিলেন, তার পাশের সীটে বসা একজন যাত্রী তার সাথে আলাপ শুরু করেছিলেন তিনি কি করেন তা  জানতে চেয়ে; এন্ডলার এর উত্তরে তাকে জানান তিনি জীববিজ্ঞানের একজন অধ্যাপক, ত্রিনিদাদে বন্য পরিবেশে গাপ্পি মাছদের নিয়ে গবেষনা করেন। মানুষটি ক্রমশই বেশ উৎসাহী হয়ে উঠতে থাকেন তার গবেষনাটি নিয়ে, এবং অনেক কিছু জানতে চান সে বিষয়ে। এই গবেষনার মুলে যে তত্ত্বটি আছে সেটা সম্বন্ধে যেন বিশেষ কৌতুহলী হয়ে উঠলেন তার সহযাত্রী। তিনি এই তত্ত্বটি কি এবং কে আবিষ্কার করেছেন জানতে চান, এন্ডলার এর পর তার সেই বোমাটি ফোটালেন যা তিনি সঠিকভাবে আগেই বুঝতে পেরেছিলেন বেশ ধাক্কা দেবে তার প্রশ্নকর্তাকে  তার উত্তরটি দিয়ে: একে বলে ডারউইনের প্রাকৃতিক নির্বাচনের মাধ্যমে বিবর্তন তত্ত্ব। সাথে সাথে সেই লোকটি সমস্ত আচরণই বদলে যায়, তার মুখ লাল হয়ে উঠলো, হঠাৎ করেই তিনি মুখ ঘুরিয়ে নিলেন, আর কোন কথা বলতে অস্বীকৃতি জানিয়ে এর  কিছুক্ষন আগ অবধি আন্তরিক আলোচনাটি শেষ করে দিলেন। শুধু আন্তরিক বললে ভুল হবে, ড: এন্ডলার এর আমাকে লিখেছিলেন, লোকটি এর আগ পর্যন্ত আমাকে সব অসাধারন প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করছিলেন। মনে হচ্ছিল ভদ্রলোক বেশ আগ্রহের সাথে এবং বুদ্ধিমত্তার সাথে তার যুক্তি বুঝতে পারছেন। আসলেই দু:খজনক।

Continue reading “রিচার্ড ডকিন্স এর দি গ্রেটেষ্ট শো অন আর্থ : পঞ্চম অধ্যায় (তৃতীয় পর্ব)”

রিচার্ড ডকিন্স এর দি গ্রেটেষ্ট শো অন আর্থ : পঞ্চম অধ্যায় (তৃতীয় পর্ব)