রিচার্ড ডকিন্স এর দি গ্রেটেষ্ট শো অন আর্থ : চতুর্থ অধ্যায় (শেষ পর্ব)

ছবি:  উইলিয়ার্ড ফ্রাঙ্ক লিবি (Willard Frank Libby: (December 17, 1908 – September 8, 1980); উইলিয়াম ফ্রাঙ্ক লিবি যুক্তরাষ্টের একজন ভৌতরসায়নবিদ যিনি ১৯৪৯ সালে পোষ্ট ডক জেমস আর আরনল্ড এবং গ্রাজুয়েট ছাত্র আর্ণি অ্যান্ডারসন কে নিয়ে মাত্র ৫০০০ ডলার এর একটি রিসার্চ প্রজেক্টে প্রথম বারের মত রেডিও কার্বন ডেটিং প্রক্রিয়াটি আবিষ্কার করেন। বিজ্ঞানের এমন একটি আবিষ্কারের উদহারণ খুব কম আছে যা  তার আবিষ্কারের ক্ষেত্র ছাড়া বহুক্ষেত্রে যুগান্তকারী ভুমিকা রেখে যাচ্ছে। ১৯৬০ সালে লিবি রসায়নে নোবেল পুরষ্কার পান।


ছবি: কার্বন ১৪ সাইকেল

রিচার্ড ডকিন্স এর দি গ্রেটেষ্ট শো অন আর্থ :  চতুর্থ অধ্যায় (শেষ পর্ব)
( অনুবাদ প্রচেষ্টা: কাজী মাহবুব হাসান)

The Greatest Show on Earth: The evidence for evolution by Richard Dawkins

 প্রথম অধ্যায়
দ্বিতীয় অধ্যায়
তৃতীয় অধ্যায় ( প্রথম পর্ব)  তৃতীয় অধ্যায় ( দ্বিতীয় পর্ব)তৃতীয় অধ্যায় ( শেষ পর্ব)
চতুর্থ অধ্যায় (প্রথম পর্ব) | চতুর্থ অধ্যায় (দ্বিতীয় পর্ব) | চতুর্থ অধ্যায় (তৃতীয় পর্ব)

নীরবতা এবং মন্থর সময় ….

চতুর্থ অধ্যায়: শেষ পর্ব

কার্বন

সব মৌলগুলোর মধ্যে কার্বনকেই মনে করা হয় জীবনের জন্য অপরিহার্য – যা ছাড়া  যে কোন গ্রহে প্রাণের অস্তিত্ত্ব কল্পনা করা বেশ দুরুহ একটি কাজ। এর কারন হচ্ছে, কার্বনের অসাধারন একটি ক্ষমতা আছে চেইন বা দীর্ঘ বহু সংখ্যক অনুর শৃঙ্খল বা চক্র বা রিং তৈরী করার মাধ্যমে নানা জটিল সংগঠনের অনুসমষ্ঠী বা যৌগ তৈরী করার। আমাদের খাদ্যচক্রে এটি প্রবেশ করে সালোক সংশ্লেষনের মাধ্যমে, যে প্রক্রিয়ায় সকল সবুজ উদ্ভিদ বায়ুমন্ডল থেকে কার্বন ডাই অক্সাইড অনুকে সুর্যের আলোর শক্তিকে কাজে লাগিয়ে পানির অনুর সাথে যুক্ত করে শর্করা বা সুগার তৈরী করে। আমাদের শরীর এবং অন্যান্য সকল জীবিত প্রানীদের শরীরের সব কার্বন আসে বায়ুমন্ডলের কার্বন ডাই অক্সাইড থেকে, উদ্ভিদের মাধ্যমে। এবং এটি আবার নিরন্তর ভাবে বায়ুমন্ডলে আবার পুণঃ ব্যবহারের জন্য বা রিসাইকেল হয়ে বায়ুমন্ডলে ফিরে যায়: যখন আমরা প্রশ্বাস ফেলি, যখন বর্জ ত্যাগ করি এবং যখন আমরা মারা যাই।

Continue reading


রিচার্ড ডকিন্স এর দি গ্রেটেষ্ট শো অন আর্থ : চতুর্থ অধ্যায় (তৃতীয় পর্ব)

0949569001246416251 (1)
ছবি: বায়ে: বারট্রাম বরডেন বোল্টউড (Bertram Borden Boltwood) , ডানে: আর্থার হোমস (Arthur Holmes),  রেডিওমেট্রিক ডেটিং ( রেডিওঅ্যাকটিভ ডেটিং ও বলা হয় মাঝে মাঝে) হচ্ছে যে কৌশল ব্যবহার করে বিজ্ঞানীরা কিছু জিনিস যেমন পাথর এর বয়স নিরুপন করেতে পারেন। এই কাজটি করা হয় পাথরের মধ্যে উপস্থিত প্রাকৃতিক ভাবে পাওয়া যায় এমন তেজষ্ক্রিয় আইসোটোপ ও তাদের ক্ষয় হবার পর যে মৌলটি সৃষ্টি হয় তার একটি তুলনামুলক অনুপাত ব্যবহার করে, যেখানে আমরা সেই তেজষ্ক্রিয় পদার্থটির ক্ষয় হবার হারটি আমাদের জানা। ১৯০৭ সালে রেডিওমেট্রিক ডেটিং প্রথম বৈজ্ঞানিকভাবে দেখাতে সক্ষম হয় পৃথিবী অনেক প্রাচীন ( সেই সময়ের হিসাব অনুযায়ী ২.২ বিলিয়ন বছর, যদিও আমরা আজ জানি পৃথিবী আসলে এর চেয়ে দ্বিগুন প্রাচীন); ১৯০২ সালে আর্ণেষ্ট রাদারফোর্ড এবং ফ্রেরেরিখ সডি প্রথম লক্ষ করেন কিছু রেডিওঅ্যাকটিভ বা তেজষ্ক্রিয় মৌল, যেমন ইউরেনিয়াম এবং থোরিয়াম একটি নির্দিষ্ট এবং পুর্বধারনা করা যায় এমন এটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়ায় ক্ষয় হয়ে ভিন্ন মৌলে রুপান্তরিত হয়; অনেকের কাছে এই তথ্যটি আলকেমীর মত মনে হলেও বারট্রাম বরডেন বোল্টউড (Bertram Borden Boltwood) নামের এক আমেরিকার রসায়নবিকে একটু বেশী কৌতুহলী করে তুলেছিল। তার নিজের এবিষয়ে গবেষনায় তিনি লক্ষ্য করেন ইউরেনিয়াম ও থোরিয়াম খনিজ আকরে সবসময়ই সীসা উপস্থিতি; ১৯০৭ সালে তিনি প্রস্তাব করলেন যে সীসা নিশ্চয়ই  ইউরেনিয়াম আর থোরিয়াম তেজস্ক্রিয় ক্ষয়ের মাধ্যমেই সৃষ্টি হয়েছে। যেহেতু তিনি জানতেন ইউরেনিয়ামের কি হারে ক্ষয় হয় যার একটি সুচক  হচ্ছে হাফ লাইফ, তিনি কোন ইউরেনিয়াম আকরে ইউরেনিয়াম আর সীসার অনুপাতকে একধরনের সময় নিরুপনের ঘড়ি হিসাবে ব্যবহার করেন, এবং তিনি তার গবেষনায় দেখেন ইউরেনিয়াম আকর এবং সেই সুত্রে আকরটি যেখানে পাওয়া যাচ্ছে ভুত্বক এর বয়স হচ্ছে প্রায় ২.২ বিলিয়ণ। সেই সময় এটি একটি নাটকীয়ভাবে বিশাল একটি সংখ্যা; এরপরে এই দৃশ্যে আসেন একজন বৃটিশ ভুতাত্ত্বিক আর্থার হোমস (Arthur Holmes), ছাত্র থাকা অবস্থায় তিনি বোল্টউড এর টেকনিককে আরো সুক্ষ করে ইউরেনিয়াম-সীসা রেডিওমেট্রিক ডেটিং এর মাধ্যমে সঠিকভাবে একটি ডেভোনিয়ান পর্বের পাথরের বয়স নির্ণয় করেন। এরপরে তিনি এই প্রক্রিয়াটিকে আরো সুক্ষ করে তোলেন, এজন্যই তাকে বলা হয় আধুনিক জিওক্রোনোলজীর জনক। পরবর্তীতে আইসোটোপের আবিষ্কার এবং আরো বেশ কয়েকজনের ( আলফ্রেড ও নাইয়ের) গবেষনায় পৃথিবীর বয়স চল্লিশের দশকেই স্থির হয় ৪.৫ বিলিয়নের কাছাকাছি। পাথরের বয়স নির্ণয়ের সেই প্রক্রিয়া এখন পরিচিত হোমস-হোটারমেন মডেল ( ফ্রিটজ হোটারম্যানস ও হোমস এর নামানুসারে); আর্থার হোমস এর আরেকটি মৌলিক অবদান হলো, তিনি প্রথম প্লেট টেকটোনিক এর মেকানিজম ব্যাখ্যা করেন, আলফ্রেড ওয়াগেনার (Alfred Wegener) এর প্রস্তাবিত যে তত্ত্বটি তখনও বিজ্ঞানীরা আমলে নেননি।

16-05-2013 11-07-38 PM

ছবি: ঘড়ির মত এই ডায়াগ্রামটি ভুতাত্ত্বিক সময় এবং পৃথিবীর ইতিহাসে ঘটা কিছু গুরুত্বপুর্ণ সময়কে নির্দেশ করছে। Hadean বা হেডিয়ার ইয়ন পৃথিবীতে জীবনের জীবাশ্ম আবিষ্কার হবার আগের সময়কে প্রতিনিধিত্ব করে। িএর উপরের সীমা এখন ধারনা করা হয় প্রায় ৪.০ Ga বা গিগাঅ্যানাম ( বা বিলিয়ন) আগে।

373px-Bust_of_William_Smith,_Oxford_University_Museum_of_Natural_History (1)ছবি: অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় ন্যাচারাল হিস্ট্রি মিউজিয়ামে  উইলিয়াম স্মিথ ( বায়ে) এবং জন ফিলিপস এর আবক্ষ মুর্তি; ১৭৮৭ সালে উইলিয়াম স্মিথ সমারসেট ইংল্যান্ডে এক ভুমি জরিপের কাজ পেয়েছিলেন, সেখানে একটি পুরোনো খনির ভিতরে ও এর আশে পাশে উন্মুক্ত হয়ে থাকা ভুত্বকের স্তরগুলো তার নজর কেড়েছিল, তিনি লক্ষ্য করেন এদের স্তরগুলো তিনি তাদের বৈশিষ্টসুচক কিছু প্রকৃতি দিয়ে আলাদা করা যাচ্ছে। একই রকম স্তরের বিন্যাস সেই জমির আশে পাশেও তিনি দেখেন। ভালো করে আরো পরীক্ষা করার পর তিনি বুঝতে পারেন যে প্রতিটি স্তর আসলে বিশেষ ধরনের শিলা দিয়ে তৈরী এবং তাদের প্রতিটি স্তরেই পাওয়া যাচ্ছে বৈশিষ্টসুচক কিছু জীবাশ্ম।তিনি দেখলেন জিগশ ধাধার মত কোন একটি স্তরের জীবাশ্ম দিয়ে অন্য কোথাও একই স্তরকে শনাক্ত করতে পারছেন। তার এই খুব সাধারণ একটি অর্ন্তদৃষ্টি উইলিয়াম স্মিথ এর তুলে দিয়েছিল পৃথিবী ভুতাত্ত্বিক মানচিত্রের চাবি: পাথর এবং জীবাশ্মরা স্তরে স্তরে বিন্যস্ত থাকে। উইলিয়াম স্মিথ একাই সারা বৃটেনের ভুতাত্ত্বিক মানচিত্রটি তৈরী করে ফেলেন। ভীষন কাজ পাগল সাংসারিক জীবনে অদক্ষ মানুষটা আবিষ্কারের নেশায় উত্তর প্রজন্মকে উপহার দিয়ে যান অসাধারন একটি আবিষ্কার। তার নিজের জীবন ভালো কাটেনি, দেনা শোধ না করতে পেরে তাকে জেল খাটতে হয়েছে, স্ত্রী মানসিক ভারসাম্য হারিয়েছেন; কোন প্রাতিষ্ঠানিক প্রতিষ্ঠানের সাথে যুক্ত না থাকা, পৃষ্ঠপোষকতার কোন নিশ্চয়তা ছাড়াই তিনি তার বিশাল কাজটি করে ফেলেছিলেন, তার সাথে ছিল তার ভাগ্নে জন ফিলিপস, বাবা মা হারা ফিলিপস এর অভিভাবক ছিলেন তিনি। ১৮১৫ সালে তার ম্যাপটি শেষ হলে স্পষ্টতই বোঝা যায় কি অসাধারন কাজটি তিনি করেছেন; কিন্তু দুর্ভাগ্য তখন লন্ডনের জিওলজিকাল সোসাইটির প্রধান ছিলেন জর্জ বেলাস গ্রীনফ, তিনি উইলিয়াম স্মিথকে কোন সমর্থন জানালেন না.. আর ম্যাপটি বিক্রি করে তার দেনা শোধ করারও সম্ভব হয়না। ১৮৩১ সালে অ্যাডাম সেজউইক ( ডারউইনের শিক্ষক) অবশেষে উইলিয়াম স্মিথকে তার প্রাপ্য স্বীকৃতি দেবার ব্যবস্থা করেন। তিনি প্রথম দেখিয়েছিলেন পাথরের সবচেয়ে নীচের স্তর থেকে কিভাবে জীবাশ্ম সবচেয়ে গভীর, অর্থাৎ নীচে থেকে ক্রমাগত উপরে বদলাতে থাকে, তিনি এটাও দেখান যে কিভাবে বিশেষ বৈশিষ্টসুচক জীবাশ্ম কে আমরা ব্যবহার করতে পারি ভুত্বকের স্তরকে যে কোন জায়গায়। আর সবচেয়ে বড় যে অবদান,সেটি হলো তার ভাগ্নে জন ফিলিপসকে শিখিয়ে ছিলেন কিভাবে ভুত্বকের স্তর আর জীবাশ্ম চিনতে হয়। জন ফিলিপস প্রথাবিরুদ্ধ ছিলেন না, তার ছিল অক্সফোর্ডের শিক্ষা..প্রাতিষ্ঠানিক সেই শক্তি নিয়ে তিনি মামার কাজটি শেষ করতে আত্মনিয়োগ করেন, ভুত্বকের যে স্তরগুলো মামা তাকে চিনিয়েছেন, তিনি এর অর্থ খোজার চেষ্টা করেন। তিনি প্রতিটি স্তরের জীবাশ্মদের তালিকা করেন, মামার ম্যাপটি নিয়ে তিনি প্রতিটি স্তরে পাওয়া জীবাশ্মদের বিন্যাসের একটি অর্থ খোজার চেষ্টা করেন। ফিলিপস ই প্রথম সময়ের তিনি এরা কে চিহ্নিত করেন, যেখানে প্রত্যেকটি এরার কিছু নিজস্ব জীবাশ্মর অস্তিত্ত্ব আছে। এই এরা গুলোর মধ্যে পার্থক্য চিহ্নিত হয়েছে সুস্পষ্ট বিভেদরেখায়, যেখানে একটি এরার জীবাশ্মগুলো অন্য একটি এরায় আর দেখা যায় না।যেখানে জায়গা করে নেয় নতুন সব প্রজাতি। এর উপর ভিত্তি করে তিনি প্রধান জিওলজিক্যাল এরার নাম দেন, ১৮৫৫ সালে তার একটি পেপারে তিনি এদের নাম উল্লেখ করেন: Paleozoic, Mesozoic, এবং Cenozoic ; বর্তমানে যে কোন মিউজিয়ামে গেলেই এর গুরুত্ব আপনি বুঝতে পারবেন।

ছবি: জিওলজিক্যাল টাইম স্কেল: উইলিয়াম স্মিথ এবং জন ‍ফিলিপস এর সাধে জর্জ কুভিয়ের,জ্যা দ’ওমালিয়াস দালোয় এবং আলেকজান্ডার ব্রোনিয়ার্ট উনিশ শতকের প্রথমাংশে ভুত্বকের স্তরকে সেখানে থাকা বৈশিষ্টসুচক জীবাশ্ম দিয়ে চিহ্নিত করেছিলেন, যা ভুতত্ত্ববিদদের সহায়তা করেছিল পৃথিবীর ইতিহাসকে শ্রেনীবিভক্ত করার জন্য সারা পৃথিবী জুড়ে ।পুরো প্রক্রিয়াটিতে প্রাধান্য বিস্তার করেছিল বৃটিশ ভুতত্ত্ববিদরা।ভুত্বকের স্তরের নামকরনে তার প্রমাণ আমরা দেখতে পাই, যেমন ক্যাম্ব্রিয়ান ( Cambrian: ওয়েলস এর ঐতিহ্যবাহী নাম), অরডোভিসিয়ার, সিলুরিয়ান, ওয়েলস এর প্রাচীন দুটি গোত্রদের নামের সাথে মিলিয়ে রাখা; ডেভোন এসেছে ইংলিশ কাউন্টি ডেভন থেকে। কার্বনিফেরাস নামটি কয়লার স্তর থেকে আসা, পার্মিয়ান নামটি এসেছে রুশ এলাকা পার্ম এর নামের সাথে যেখানে এই স্তরটি ব্যাখ্যা করেন স্কটিশ ভুতাত্ত্বিক রোডেরিক মার্চিসন ট্রায়াসিক নামটি এসেছে এর তিনটি স্তর থেকে, জুরা পর্বতের সামুদ্রিক লাইমস্টোন থেকে এসেছে জুরাসিক, ক্রিটাশিয়াস ( ক্রিটা মানে চক), ক্যালসিয়াম কার্বনেট এর স্তর থেকে এর নাম; জন ফিলিপস ( উপরে ) এই সব পর্বগুলো এরা এবং নানা সাবডিভিশনে ভাগ করেন, টারশিয়ারী এবং কোয়াটারনারী পর্ব ও ইপোক এ।তিনি প্রথম গ্লোবাল জিওলজিকাল টাইম স্কেল প্রকাশ করেন, প্রতিটি এরায় পাওয়া জীবাশ্মর বিন্যাস লক্ষ্য করে।

রিচার্ড ডকিন্স এর দি গ্রেটেষ্ট শো অন আর্থ :  চতুর্থ অধ্যায় (তৃতীয় পর্ব)
( অনুবাদ প্রচেষ্টা: কাজী মাহবুব হাসান)

The Greatest Show on Earth: The evidence for evolution by Richard Dawkins

 প্রথম অধ্যায়
দ্বিতীয় অধ্যায়
তৃতীয় অধ্যায় ( প্রথম পর্ব)
তৃতীয় অধ্যায় ( দ্বিতীয় পর্ব)
তৃতীয় অধ্যায় ( শেষ পর্ব)
চতুর্থ অধ্যায় (প্রথম পর্ব)
চতুর্থ অধ্যায় (দ্বিতীয় পর্ব)

নীরবতা এবং মন্থর সময় ….

চতুর্থ অধ্যায়: তৃতীয় পর্ব

রেডিওঅ্যাকটিভ ঘড়ি:

এবার তেজষ্ক্রিয় বা রেডিওঅ্যাকটিভ ঘড়ির কথা আলোচনা করা যাক ; আমাদের বেছে নেবার মত বেশ অনেকগুলো এধরনের ঘড়ি আছে। এবং আমি যেমনটি বলেছিলাম, সৌভাগ্যক্রমে এরা শতাব্দী থেকে বহু মিলিয়ন বছর পর্যন্ত বিস্তৃত। প্রত্যেকটিরই একটি ভুল হবার সীমা আছে, সাধারণত যা ১ শতাংশ। সুতরাং আপনি যদি কোন পাথরের বয়স নির্ণয় করতে চান, যার বয়স হতে পারে শত মিলিয়ন বছর, আপনি নিশ্চয়ই ১ মিলিয়ন বছরের ভ্রান্তি সন্তুষ্ট হয়েই মেনে নেবেন। যদি দশ মিলিয়ণ বছরের কোন পাথরের বয়স নির্ণয় করতে চান, তাহলে কম বেশী লক্ষ বছরের ভ্রান্তি আপনাকে মেনে নিতে হবে।

কিভাবে তেজষ্ক্রিয় ঘড়ি কাজ করে সেটা বুঝতে তেজষ্ক্রিয় বা রেডিওঅ্যাকটিভ আইসোটোপ আসলে কি সেটি আগে জানতে হবে। প্রতিটি পদার্থ তৈরী হয় এলিমেন্ট বা মৌল দিয়ে, যারা সাধারণত রাসায়নিক সংযোগের মাধ্যমে অন্য মৌলের সাথে যুক্ত থাকে; প্রায় ১০০ টি মৌল আছে, অবশ্য সংখ্যাটা সামান্য কিছু বেশী হতে পারে যদি আপনি সেই মৌলগুলোকেও গণনা করেন যাদের শুধুমাত্র ল্যাবরেটরীতেই শনাক্ত করা গেছে, এবং কিছুটা কম হবে যদি শুধুমাত্র প্রকৃতিতে পাওয়া যায় এমন মৌলদের গণনা করেন।

Continue reading


রিচার্ড ডকিন্স এর দি গ্রেটেষ্ট শো অন আর্থ : চতুর্থ অধ্যায় (দ্বিতীয় পর্ব)

zuni douglas-fir pinaleno spruce small red oak small red pine
ছবি: গাছে কান্ডে বলয় বা রিং কিছু প্যাটার্ণ;  িএই রিং প্যাটার্ণগুলোর উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে Dendrochronology বা Tree Ring dating প্রক্রিয়া। িএটি একটি বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়া যা গাছের রিং প্যাটার্ণ বিশ্লেষন করার মাধ্যমে কোন কাঠের নমুনার বয়স নিরুপন করতে পারি। বেশ কয়েকটি ক্ষেত্রে এর ব্যবহার আছে, তার একটি হলো প্যালিওইকোলজী অতীতে পরিবেশ সম্বন্ধে ধারনা, প্রত্নতত্ববিদ্যা,যেখানে পুরোনো কোন বাড়ির বয়স নির্ণয়, এবং রেডিওকার্বন ডেটিং, যেখানে এটি ব্যবহার করা হয় রেডিওকার্বন ডেটিং ক্যালিব্রেট করার জন্য।

_________________________
রিচার্ড ডকিন্স এর দি গ্রেটেষ্ট শো অন আর্থ :  চতুর্থ অধ্যায় (দ্বিতীয় পর্ব)
( অনুবাদ প্রচেষ্টা: কাজী মাহবুব হাসান)

The Greatest Show on Earth: The evidence for evolution by Richard Dawkins

 প্রথম অধ্যায়
দ্বিতীয় অধ্যায়
তৃতীয় অধ্যায় ( প্রথম পর্ব)
তৃতীয় অধ্যায় ( দ্বিতীয় পর্ব)
তৃতীয় অধ্যায় ( শেষ পর্ব)
চতুর্থ অধ্যায় (প্রথম পর্ব)

নীরবতা এবং মন্থর সময় ….

চতুর্থ অধ্যায়: দ্বিতীয় পর্ব

গাছের কান্ডের বলয় বা ট্রি রিং

ট্রি রিং ঘড়ি ব্যবহার করা একটুকরো কাঠের বয়স নিরুপন করা যেতে পারে, যেমন ধরুন একটি টুডোর রাজবংশর (টুডোর বৃটিশ এক রাজ পরিবারের নাম, যারা ১৪৮৫ সাল থেকে ১৬০৩ ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত ছিল) শাসনামলে নির্মিত কোন বাড়ীর কাঠের একটি বীম, এই প্রক্রিয়ায় বিস্ময়করভাবে ‍নিকটবর্তী বছর অবধি নিঁখুতভাবে বয়স নিরুপন করা যেতে পারে। কিভাবে এটি সময় নিরুপন করে ? প্রথমে, যেমনটা বেশীর ভাগ মানুষই জানেন, কোন একটি নতুন কাটা গাছের বয়স নির্ণয় করা যায় এর কান্ডের মধ্যে সাজানো ট্রি রিং বা বলয় গুনে, ধারনা করে নেয়া হয় সবচেয়ে বাইরের দিকে থাকা রিংটি হলো সাম্প্রতিকতম, যা বর্তমান সময়কে প্রতিনিধিত্ব করছে।এই রিংগুলো বছরের ভিন্ন ভিন্ন ঋতুতে – গ্রীষ্ম ও শীত, শুষ্ক এবং বর্ষা মৌসুম – বৈষ্যম্যমুলক বৃদ্ধির হারকে প্রতিনিধিত্ব করে। রিং গুলো বিশেষভাবে স্পষ্ট হয় উচ্চতর অক্ষাংশে, যেখানে ঋতুগুলোর মধ্যে বৈষম্য প্রকট। সৌভাগ্যক্রমে, কোন গাছের বয়স মাপার জন্য আপনাকে আসলেই পুরো গাছ কেটে ফেলতে হবে না। আপনি চাইলে এর বৃদ্ধির রিং গুলো দেখতে পাবেন গাছের গুড়ি না কেটেই, শুধু এর কান্ডের মধ্যে একটি ছিদ্র করে আপনাকে প্রয়োজনীয় নমুনা কেটে বের করে আনতে হবে। কিন্তু শুধু রিং গুনে আপনি বলতে পারবেন না আপনার বাসার কাঠের বীম বা আপনার সংগৃহীত ভাইকিং জাহাজের মাস্তুল এর কাঠের টুকরাটি ঠিক কোন শতাব্দীতে একটি জীবিত গাছের অংশ ছিল। বহুদিন আগে মৃত কোন কাঠের যদি আপনি সঠিক বয়স নির্ণয় করতে চান তাহলে আপনাকে বাড়তি কিছু কৌশল অবলম্বন করতে হবে। শুধু রিং গুনলেই হবে না, এর মোটা আর সরু রিং গুলোর প্যাটার্ণ বা সজ্জাও ভালো করে লক্ষ্য করতে হবে।

Continue reading


রিচার্ড ডকিন্স এর দি গ্রেটেষ্ট শো অন আর্থ : চতুর্থ অধ্যায় (প্রথম পর্ব)

how_igneous_rocks_are_created
ছবি: আগ্নেয় শিলা সৃষ্টি হবার প্রক্রিয়া

igneous rocks

ছবি: কয়েক ধরণের আগ্নেয়শিলা: উপরে বাদিক থেকে: গ্রানাইট, ব্যাসল্ট, রায়োলাইট, অবসিডিয়ান, নীচে বাদিক থেকে: পরফাইরি, স্কোরিয়া,পিউমিক, পেগমাটাইট

13-05-2013 11-54-49 PM
ছবি: রক চক্র (Rock Cycle), জেমস হাটনের প্রথম প্রস্তাবিত রক সাইকেল, চক্রটিতে দেখাচ্ছে কিভাবে আগ্নেয়শিলা তৈরী হবার পর এটি ক্রমশ পাকৃতিক নানা শক্তিতে ক্ষয় হয়ে প্রথমে পাললিক বা সেডিমেন্টরী শিলা, এর পর মেটামরফিক শিলা হয়ে পুণরায় রুপান্তরিত হয় গলিত ম্যাগমায়;

14-05-2013 12-32-53 AMছবি: শিলা চক্র বা Rock cycle এর আরেকটি ছবি;

hi_Rock_cycle_bigছবি: ছবি: শিলা চক্র বা Rock cycle এর আরেকটি ছবি;

img005ছবি:  সেডিমন্টরী বা পাললিক শিলা তৈরী হবার প্রক্রিয়া

sandstone1
ছবি: কয়েক ধরনের সেডিমেন্টরী বা পাললিক শিলা; উপরে বা থেকে: স্যান্ড স্টোন, লাইম স্টোন, মাঝে বায়ে: শেল স্টোন, কনগ্লোমেরেট স্টোন;
নীচে বা েথেকে: জিপসাম, স্যান্ড স্টোনে একটি জীবাশ্ম উদ্ভিদ, প্রায় ৩০০ মিলিয়ন বছর আগে কার্বনিফেরাস পর্বের একটি উদ্ভিদের জীবাশ্ম, যার নাম হর্স টেইল বা Horsetail (genus: Equisetum), ভাস্কুলার এই উদ্ভিদটি সাধারনত কয়লার ডিপোসিটে পাওয়া যায়।

_________________________
রিচার্ড ডকিন্স এর দি গ্রেটেষ্ট শো অন আর্থ :  চতুর্থ অধ্যায় (প্রথম পর্ব)
( অনুবাদ প্রচেষ্টা: কাজী মাহবুব হাসান)

The Greatest Show on Earth: The evidence for evolution by Richard Dawkins

 প্রথম অধ্যায়
দ্বিতীয় অধ্যায়
তৃতীয় অধ্যায় ( প্রথম পর্ব)
তৃতীয় অধ্যায় ( দ্বিতীয় পর্ব)
তৃতীয় অধ্যায় ( শেষ পর্ব)

নীরবতা এবং মন্থর সময় ….

চতুর্থ অধ্যায়: প্রথম পর্ব: নীরবতা এবং মন্থর সময়

ইতিহাস-অস্বীকারকারীরা যারা বিবর্তনের সত্যতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন,তারা যদি জীববিজ্ঞানে অজ্ঞ হয়ে থাকেন, তাহলে যারা ভাবেন যে এই পৃথিবীর জন্ম হয়েছে দশ হাজার বছরেরও কম কোন সময়ে,তাদের আসলে শুধু অজ্ঞ বলার চেয়েও খারাপ কিছু বলা প্রয়োজন, তারা প্রায় বিকৃত পর্যায়ে বিভ্রান্ত। তারা শুধু জীববিজ্ঞানের প্রমানিত সত্যটাকেই সন্দেহ করছে না, বরং পদার্থবিদ্যা, ভুতত্ত্ববিদ্যা, কসমোলোজী, প্রত্নতত্ত্ববিদ্যা,ইতিহাস এবং রসায়নের সত্যকেও সন্দেহ করছে। এই অধ্যায়টির মুল বিষয় হলো, কেমন করে আমরা পাথর এবং এর মধ্যে প্রস্তরীভুত হয়ে থাকা কোন জীবাশ্মর বয়স জানতে পারি। কারন পাথরই প্রমান দেয় এই গ্রহে জীবন যে সময়ের মাত্রায় কাজ করে তা হাজার হাজার বছর না বরং হাজার কোটি বছরের হিসাবেই কেবল পরিমাপ করা সম্ভব।

Continue reading


FREE The BLOGGERS

06-04-2013 2-29-21 PM


আসুন প্রশ্ন করি সব অন্ধ বিশ্বাসকে

image08
ব্রাড হল্যান্ড এর একটি ইলাসট্রেশন থেকে সম্পাদিত


লোরকা’র একটি কবিতা…

a thousand kisses deep..

ড্রইং: কাগজে কালি এবং গ্রাফাইট; কাজী মাহবুব হাসান (২০১১)

Continue reading


Follow

Get every new post delivered to your Inbox.

Join 74 other followers