রিচার্ড ডকিন্স এর দি গ্রেটেষ্ট শো অন আর্থ : চতুর্থ অধ্যায় (শেষ পর্ব)

ছবি:  উইলিয়ার্ড ফ্রাঙ্ক লিবি (Willard Frank Libby: (December 17, 1908 – September 8, 1980); উইলিয়াম ফ্রাঙ্ক লিবি যুক্তরাষ্টের একজন ভৌতরসায়নবিদ যিনি ১৯৪৯ সালে পোষ্ট ডক জেমস আর আরনল্ড এবং গ্রাজুয়েট ছাত্র আর্ণি অ্যান্ডারসন কে নিয়ে মাত্র ৫০০০ ডলার এর একটি রিসার্চ প্রজেক্টে প্রথম বারের মত রেডিও কার্বন ডেটিং প্রক্রিয়াটি আবিষ্কার করেন। বিজ্ঞানের এমন একটি আবিষ্কারের উদহারণ খুব কম আছে যা  তার আবিষ্কারের ক্ষেত্র ছাড়া বহুক্ষেত্রে যুগান্তকারী ভুমিকা রেখে যাচ্ছে। ১৯৬০ সালে লিবি রসায়নে নোবেল পুরষ্কার পান।


ছবি: কার্বন ১৪ সাইকেল

রিচার্ড ডকিন্স এর দি গ্রেটেষ্ট শো অন আর্থ :  চতুর্থ অধ্যায় (শেষ পর্ব)
( অনুবাদ প্রচেষ্টা: কাজী মাহবুব হাসান)

The Greatest Show on Earth: The evidence for evolution by Richard Dawkins

 প্রথম অধ্যায়
দ্বিতীয় অধ্যায়
তৃতীয় অধ্যায় ( প্রথম পর্ব)  তৃতীয় অধ্যায় ( দ্বিতীয় পর্ব)তৃতীয় অধ্যায় ( শেষ পর্ব)
চতুর্থ অধ্যায় (প্রথম পর্ব) | চতুর্থ অধ্যায় (দ্বিতীয় পর্ব) | চতুর্থ অধ্যায় (তৃতীয় পর্ব)

নীরবতা এবং মন্থর সময় ….

চতুর্থ অধ্যায়: শেষ পর্ব

কার্বন

সব মৌলগুলোর মধ্যে কার্বনকেই মনে করা হয় জীবনের জন্য অপরিহার্য – যা ছাড়া  যে কোন গ্রহে প্রাণের অস্তিত্ত্ব কল্পনা করা বেশ দুরুহ একটি কাজ। এর কারন হচ্ছে, কার্বনের অসাধারন একটি ক্ষমতা আছে চেইন বা দীর্ঘ বহু সংখ্যক অনুর শৃঙ্খল বা চক্র বা রিং তৈরী করার মাধ্যমে নানা জটিল সংগঠনের অনুসমষ্ঠী বা যৌগ তৈরী করার। আমাদের খাদ্যচক্রে এটি প্রবেশ করে সালোক সংশ্লেষনের মাধ্যমে, যে প্রক্রিয়ায় সকল সবুজ উদ্ভিদ বায়ুমন্ডল থেকে কার্বন ডাই অক্সাইড অনুকে সুর্যের আলোর শক্তিকে কাজে লাগিয়ে পানির অনুর সাথে যুক্ত করে শর্করা বা সুগার তৈরী করে। আমাদের শরীর এবং অন্যান্য সকল জীবিত প্রানীদের শরীরের সব কার্বন আসে বায়ুমন্ডলের কার্বন ডাই অক্সাইড থেকে, উদ্ভিদের মাধ্যমে। এবং এটি আবার নিরন্তর ভাবে বায়ুমন্ডলে আবার পুণঃ ব্যবহারের জন্য বা রিসাইকেল হয়ে বায়ুমন্ডলে ফিরে যায়: যখন আমরা প্রশ্বাস ফেলি, যখন বর্জ ত্যাগ করি এবং যখন আমরা মারা যাই।

Continue reading “রিচার্ড ডকিন্স এর দি গ্রেটেষ্ট শো অন আর্থ : চতুর্থ অধ্যায় (শেষ পর্ব)”

রিচার্ড ডকিন্স এর দি গ্রেটেষ্ট শো অন আর্থ : চতুর্থ অধ্যায় (শেষ পর্ব)

রিচার্ড ডকিন্স এর দি গ্রেটেষ্ট শো অন আর্থ : চতুর্থ অধ্যায় (প্রথম পর্ব)

how_igneous_rocks_are_created
ছবি: আগ্নেয় শিলা সৃষ্টি হবার প্রক্রিয়া

igneous rocks

ছবি: কয়েক ধরণের আগ্নেয়শিলা: উপরে বাদিক থেকে: গ্রানাইট, ব্যাসল্ট, রায়োলাইট, অবসিডিয়ান, নীচে বাদিক থেকে: পরফাইরি, স্কোরিয়া,পিউমিক, পেগমাটাইট

13-05-2013 11-54-49 PM
ছবি: রক চক্র (Rock Cycle), জেমস হাটনের প্রথম প্রস্তাবিত রক সাইকেল, চক্রটিতে দেখাচ্ছে কিভাবে আগ্নেয়শিলা তৈরী হবার পর এটি ক্রমশ পাকৃতিক নানা শক্তিতে ক্ষয় হয়ে প্রথমে পাললিক বা সেডিমেন্টরী শিলা, এর পর মেটামরফিক শিলা হয়ে পুণরায় রুপান্তরিত হয় গলিত ম্যাগমায়;

14-05-2013 12-32-53 AMছবি: শিলা চক্র বা Rock cycle এর আরেকটি ছবি;

hi_Rock_cycle_bigছবি: ছবি: শিলা চক্র বা Rock cycle এর আরেকটি ছবি;

img005ছবি:  সেডিমন্টরী বা পাললিক শিলা তৈরী হবার প্রক্রিয়া

sandstone1
ছবি: কয়েক ধরনের সেডিমেন্টরী বা পাললিক শিলা; উপরে বা থেকে: স্যান্ড স্টোন, লাইম স্টোন, মাঝে বায়ে: শেল স্টোন, কনগ্লোমেরেট স্টোন;
নীচে বা েথেকে: জিপসাম, স্যান্ড স্টোনে একটি জীবাশ্ম উদ্ভিদ, প্রায় ৩০০ মিলিয়ন বছর আগে কার্বনিফেরাস পর্বের একটি উদ্ভিদের জীবাশ্ম, যার নাম হর্স টেইল বা Horsetail (genus: Equisetum), ভাস্কুলার এই উদ্ভিদটি সাধারনত কয়লার ডিপোসিটে পাওয়া যায়।

_________________________
রিচার্ড ডকিন্স এর দি গ্রেটেষ্ট শো অন আর্থ :  চতুর্থ অধ্যায় (প্রথম পর্ব)
( অনুবাদ প্রচেষ্টা: কাজী মাহবুব হাসান)

The Greatest Show on Earth: The evidence for evolution by Richard Dawkins

 প্রথম অধ্যায়
দ্বিতীয় অধ্যায়
তৃতীয় অধ্যায় ( প্রথম পর্ব)
তৃতীয় অধ্যায় ( দ্বিতীয় পর্ব)
তৃতীয় অধ্যায় ( শেষ পর্ব)

নীরবতা এবং মন্থর সময় ….

চতুর্থ অধ্যায়: প্রথম পর্ব: নীরবতা এবং মন্থর সময়

ইতিহাস-অস্বীকারকারীরা যারা বিবর্তনের সত্যতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন,তারা যদি জীববিজ্ঞানে অজ্ঞ হয়ে থাকেন, তাহলে যারা ভাবেন যে এই পৃথিবীর জন্ম হয়েছে দশ হাজার বছরেরও কম কোন সময়ে,তাদের আসলে শুধু অজ্ঞ বলার চেয়েও খারাপ কিছু বলা প্রয়োজন, তারা প্রায় বিকৃত পর্যায়ে বিভ্রান্ত। তারা শুধু জীববিজ্ঞানের প্রমানিত সত্যটাকেই সন্দেহ করছে না, বরং পদার্থবিদ্যা, ভুতত্ত্ববিদ্যা, কসমোলোজী, প্রত্নতত্ত্ববিদ্যা,ইতিহাস এবং রসায়নের সত্যকেও সন্দেহ করছে। এই অধ্যায়টির মুল বিষয় হলো, কেমন করে আমরা পাথর এবং এর মধ্যে প্রস্তরীভুত হয়ে থাকা কোন জীবাশ্মর বয়স জানতে পারি। কারন পাথরই প্রমান দেয় এই গ্রহে জীবন যে সময়ের মাত্রায় কাজ করে তা হাজার হাজার বছর না বরং হাজার কোটি বছরের হিসাবেই কেবল পরিমাপ করা সম্ভব।

Continue reading “রিচার্ড ডকিন্স এর দি গ্রেটেষ্ট শো অন আর্থ : চতুর্থ অধ্যায় (প্রথম পর্ব)”

রিচার্ড ডকিন্স এর দি গ্রেটেষ্ট শো অন আর্থ : চতুর্থ অধ্যায় (প্রথম পর্ব)

রিচার্ড ডকিন্স এর দি গ্রেটেষ্ট শো অন আর্থ : তৃতীয় অধ্যায় (শেষ পর্ব)


ছবি: বন্য সিলভার ফক্স, সাধারন রেড ফক্স এর একটি কালার ভ্যারিয়ান্ট


ছবি: মানুষের কৃত্রিম নির্বাচনের মাধ্যমে সৃষ্ট পোষ মানা সিলফার ফক্স, সিলেক্টিভ ব্রিডিং এর মাধ্যমে পরিবর্তিত বৈশিষ্ট্য

মাত্র কয়েক প্রজন্ম সিলেকটিভ ব্রিডিং এর মাধ্যমে পরিবর্তিত সিলভার ফক্স; পোষা আর বুনো সিলভার ফক্স এর মধ্যে পার্থক্যগুলো খেয়াল করুন; (নীচে বিষয়টি নিয়ে আরো আলোচনা আছে)

ছবি: চিহুয়াহুয়া (Chihuahua) এবং গ্রেট ডেন (Great Dane): দুজনেই চামড়ার নীচে আসলে নেকড়ে। মাত্র কয়েক শতাব্দীর কৃত্রিম নির্বাচন বা
সিলেকটিভ ব্রীডিং এর ফলে সৃষ্ট এই দুই জাতের কুকুরের ব্যাহ্যিক চেহারা দেখে তা কি অনুমান করা সম্ভব?

রিচার্ড ডকিন্স এর দি গ্রেটেষ্ট শো অন আর্থ :  তৃতীয় অধ্যায় (শেষ পর্ব)
( অনুবাদ প্রচেষ্টা: কাজী মাহবুব হাসান)

The Greatest Show on Earth: The evidence for evolution by Richard Dawkins

 প্রথম অধ্যায়
দ্বিতীয় অধ্যায়
তৃতীয় অধ্যায় ( প্রথম পর্ব)
তৃতীয় অধ্যায় ( দ্বিতীয় পর্ব)

 ম্যাক্রোইভোল্যুশনের দিকে মসৃন পথ …..

Continue reading “রিচার্ড ডকিন্স এর দি গ্রেটেষ্ট শো অন আর্থ : তৃতীয় অধ্যায় (শেষ পর্ব)”

রিচার্ড ডকিন্স এর দি গ্রেটেষ্ট শো অন আর্থ : তৃতীয় অধ্যায় (শেষ পর্ব)

রিচার্ড ডকিন্স এর দি গ্রেটেষ্ট শো অন আর্থ : তৃতীয় অধ্যায় (দ্বিতীয় পর্ব)


ছবি এবং শুরুর কিছু কথা: উপরের ছবিগুলো ভালোভাবে খেয়াল করুন, ছবিগুলো জাপান এর সাগরে বসবাসকারী Heikea japonica নামের একটি ক্র্যাব বা কাকড়া প্রজাতির, এর খোলশ, যাকে ক্যারাপেস বলা হয়, সেটা খেয়াল করুন, ভালো করে লক্ষ্য করলে দেখতে পাবেন এদের খোলসে কাবুকি মুখোশ পরা ক্রদ্ধ সামুরাই যোদ্ধার মুখ, (প্রথম ছবিটির ইনসেটে পোষাকী সামুরাই যোদ্ধাদের কাবুকি মুখোশ এর সাথে মিলিয়ে দেখুন);  এই Heikea  জীনাসের নামকরণ করা হয়েছে অতীতের একটি সামুরাই গোত্র Heike থেকে; জাপানী লোককথায় এরা প্রতিনিধিত্ব করছে হাজার বছর আগে এক সমুদ্র যুদ্ধে মৃত হেইকে সামুরাইদের অশরীরি আত্মা, যারা এখন সাগর তলায় বেচে আছে  এই কাকড়াদের শরীরে; ১১৮৫ সালের ২৫ এপ্রিল,  ইতিহাসে একটি অন্যতম গুরুত্বপুর্ণ যুদ্ধ হয়েছিল জাপানের সমুদ্রসীমায়, ডানো-উরা র এই যুদ্ধ নির্ধারণ করেছিল পরবর্তী প্রায় ৭০০ বছর (১৮৬৮ সাল পর্যন্ত্য) কারা জাপান শাসন করবে; প্রথমবারের জাপানের ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়েছিল সামরিক একনায়করা, সামুরাই যোদ্ধারা, শোগুনরা, রাজতন্ত্র থেকে জাপান রুপান্তরিত হয় সামন্ততন্ত্রে; জাপানের  সংস্কৃতির এই নাটকীয় পরিবর্তন রচনা করেছিল ডানো উরার যুদ্ধ, আর সেকারনে একে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা লোককাহিনী এখনও টিকে আছে; হেইকে কাকড়ার নিয়ে কিংবদন্তী শুরু হয়েছিল এখান থেকেই;  এই যুদ্ধে মুখোমুখি হয়েছিল দুটি গোত্র, মিনামোটো (গেনজী) আর টাইরা(হেইকে), হেইকেদের সাথে ছিল তাদের বালক সম্রাট ও তার পরিবার, কিন্তু তাদের একজন গুরুত্বপুর্ণ জেনারেল বিশ্বাসঘাতকতা করে প্রতিপক্ষ গোত্র গেনজীদের চিনিয়ে দেয় সম্রাটকে বহন করা যুদ্ধজাহাজটি; পরাজয় অবশ্যম্ভাবী জেনে শিশু সম্রাট ও তার পিতামহী, পানিতে ঝাপিয়ে পড়ে আত্মহত্যা করেন, এবং পরাজয়ের অপমান এড়াতে তাদের অনুসরণ করে আত্মাহুতি দেয় অনুগত হেইকে সামুরাই যোদ্ধারা, ধারনা করা হয় সেই থেকে জনশ্রুতিতে প্রচলিত হেইকে সামুরাই আর রাজ পরিবারের অতৃপ্ত আত্মা সমুদ্রে তলদেশে ঘুরে বেড়াচ্ছে; এই জনশ্রুতি আরো জনপ্রিয়তা পায় যখন একটি বিশেষ প্রজাতির কাকড়ার খোলসে মানুষের মুখের অদ্ভুত স্পষ্ট প্রতিচ্ছবি দেখতে শুরু করে স্থানীয় জেলেরা; তবে কেউ জানে না কবে থেকে এই কল্পকথা শুরু হয়েছিল, ডানো উরার আগে থেকেই এই প্রজাতির কাকড়ার বাস জাপানের সমুদ্রে থাকাটা প্রায় নিশ্চিৎ, তাহলে? কিংবদন্তী এই গল্পটি খানিকটা সত্যি,কিছুটা পুরান, কিছুটা অশরীরি আত্মার কাহিনী, তবে বৈজ্ঞানিক সমাজে দীর্ঘদিন ধরে এটি বিতর্কের কেন্দ্রে, ঠিক কিভাবে প্রাকৃতিক নির্বাচন এখানে কাজ করেছে সে বিষয়ে নানা মত আছে; পঞ্চাশের দশকে বিখ্যাত জীববিজ্ঞানী স্যার জুলিয়ান হাক্সলী এই অদ্ভুত সদৃশ্যতাকে আকস্মিক দৈবক্রমে ঘটা একটি ঘটনা বলে মানতে চাননি কারন সদৃশ্যতার মাত্রা অনেক বেশী, কৃত্রিম এবং প্রাকৃতিক নির্বাচনের একটি মিশ্রন প্রস্তাব করেছিলেন তিনি, বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় নিয়ে আসেন কার্ল সেগান তার কসমস প্রামান্য চিত্রটিতে; হাক্সলি/সেগান তত্ত্বটি বেশ জনপ্রিয়তা পায়, তাদের তত্ত্বটি বলছে, বহু দিন আগে স্থানীয় জেলেরা হয়তো এই প্রজাতির কাকড়ার খোলসে মানুষের মুখের প্রতিচ্ছবি দেখতে পায় (আমাদের মস্তিষ্কের প্রতিসাম্য কোন কিছুর মধ্যে মানুষের মুখচ্ছবি দেখার প্রবনতা আছে); কুসংস্কারাচ্ছন্ন জেলেরা যারা হেইকে সামুরাই দের লোককথা জানতো তারা এই কাকড়াগুলোকে না খেয়ে পানিতে ছুড়ে ফেলে দেয়া ‍শুরু করেছিলো এগুলোকে সামুরাইদের অতৃপ্ত আত্মার বাহনকারী হিসাবে চিহ্নিত করে, আর এভাবেই তারা একটি বিবর্তনীয় প্রক্রিয়া নিজেদের অজান্তে শুরু করেছিল, ধীরে ধীরে মানুষের মুখচ্ছবির সাথে সদৃশ্য থাকা কাকড়া গুলো বিশেষ সুবিধা প্রাপ্ত হয়েছিল, বেচে থাকা এবং প্রজননের ক্ষেত্রে, এই কৃত্রিম নির্বাচন কাকড়াদের বহুপ্রজন্মের ব্যবধানে খোলশ শুধুমাত্র মানুষের মুখ নয়, আরো নির্দিষ্টভাবে সামুরাই যোদ্ধার ক্রুদ্ধ মুখচ্ছবি সদৃশ হয়;  তবে বিষয়টি নিয়ে যুক্তিসঙ্গত সংশয় প্রকাশ করেছেন বহু জীববিজ্ঞানী;সংশয়বাদীরা বলছেন, আমাদের প্রাকৃতিক নির্বাচনের আওতার বাইরে আসার কোন দরকার নেই, প্রতিসম শরীরের এই কাকড়াটির খোলসের দাগ আসলে তার মাংশপেশীর সংযোগস্থল, তার শরীরের নানা প্রকোষ্ঠকে প্রতিনিধিত্ব করে, এই সদৃশ্যটা আকস্মিক, আর সেখানে সামুরাই যোদ্ধার মুখ দেখা সম্ভবত প্যারেডলিয়া র উদহারন (প্যারেডলিয়া, আমাদের মস্তিষ্কের প্রবনতা, অনেক কিছুর মধ্যে মানুষের মুখ বা আকৃতি দেখা); এছাড়া আরো কয়েকটি প্রজাতির কাকড়া আছে যাদের খোলশে মানুষের মুখের প্রতিচ্ছবি চাইলে দেখা যাবে (যেমন Dorippidae), মানুষের কৃত্রিম নির্বাচনের কোন প্রভাবই নেই যাদের উপরে ;  এছাড়া আকারে খুব ছোট এই কাকড়াগুলো তেমন খাদ্য উপযোগীও নয় (এ বিষয়ে আরো আলোচনা আছে নীচে)

 
রিচার্ড ডকিন্স এর দি গ্রেটেষ্ট শো অন আর্থ :  তৃতীয় অধ্যায় ( দ্বিতীয় পর্ব)
( অনুবাদ প্রচেষ্টা: কাজী মাহবুব হাসান)

The Greatest Show on Earth: The evidence for evolution by Richard Dawkins

 প্রথম অধ্যায়
দ্বিতীয় অধ্যায়
তৃতীয় অধ্যায় ( প্রথম পর্ব)

 ম্যাক্রোইভোল্যুশনের দিকে মসৃন পথ …..

____________

 তুমি আমার প্রাকৃতিক নির্বাচন ..

মানুষ নয় এমন চোখের সিলেকটিভ ব্রিডিং বা বাছাইকৃত প্রজননের আর কি কোন উদহারন আছে? অবশ্যই আছে; চিন্তা করে দেখুন স্ত্রী বা হেন ফিজান্টদের (Pheasant)বর্ণহীন, ক্যামোফ্লেজ করা পালকের কথা,একই প্রজাতির পুরষ সদস্যদের বর্ণময় সুন্দর পালকগুচ্ছর সাথে সেটি তুলনা করে দেখুন (ছবি); আমার মনে হয়না সন্দেহর কোন অবকাশ আছে, যদি শুধু নিজের জন্যই তাদের বেচে থাকাটাই মুখ্য হতো, পুরুষ সোনালী ফিজান্টরা (Golden Pheasant) তাদের প্রজাতির বিপরীত লিঙ্গর সদস্যদের মতই বর্ণহীন পালক বেছে নিতে চাইতো বা যখন তারা ছোট ছিল তখন যেমন পালক ছিল, তারই একটি সাদামাটা প্রাপ্তবয়স্ক সংস্করণ হলেও তাদের চলতো;  স্ত্রী এবং শিশু বা চিক ফিজান্টরা অবশ্যই ‍তাদের পালকের বর্ণ ও বিন্যাসে অবশ্যই খুব ভালোভাবে ক্যামোফ্লেজকৃত এবং পুরুষ ফিজান্টদের ক্ষেত্রেও সেটাই তারা চাইতো শুধুমাত্র যদি তাদের ব্যক্তিগত বেচে থাকাটাই একমাত্র উদ্দেশ্য হত; এবং একই ভাবে বিষয়টি সত্য হতো অন্য প্রকার ফিজান্টদের মধ্যে, যেমন লেডি অ্যামহার্ষ্ট (Lady Amherst’s) এবং সুপরিচিত রিং নেকড ফিজান্ট (ring-necked); পুরুষ ফিজান্টরা দৃষ্টি আকর্ষন করার মতই চোখ ধাধানো এবং যে কারনে শিকারী প্রানীদের কাছে বিপজ্জনকভাবে আকৃষ্ট, কিন্তু প্রতিটি প্রজাতিতে তা ঘটে খুবই ভিন্ন ভিন্নভাবে; কিন্তু দেখা যাচ্ছে সব প্রজাতির স্ত্রী সদস্যদের রঙ মলিন এবং ক্যামেফ্লেজকৃত, আর প্রতিটি প্রজাতিতে প্রা্য় একই রকম ঘটছে; কি হচ্ছে তাহলে এখানে, এর অর্থটাই বা কি?

Continue reading “রিচার্ড ডকিন্স এর দি গ্রেটেষ্ট শো অন আর্থ : তৃতীয় অধ্যায় (দ্বিতীয় পর্ব)”

রিচার্ড ডকিন্স এর দি গ্রেটেষ্ট শো অন আর্থ : তৃতীয় অধ্যায় (দ্বিতীয় পর্ব)

শধুই কি একটা তত্ত্ব?


শীর্ষ ছবি:  Charnia masoni  র ফসিলের সাথে  বৃটিশ ভুতাত্ত্বিক রজার ম্যাসন। যুক্তরাজ্যের  লীষ্টারে Charnwood forest এ ১৬ বছর বয়সী স্কুল ছাত্র রজার ম্যাসন ১৯৫৭ সালে এই গুরুত্বপুর্ণ ফসিলটি খুজে পান। যুক্তরাজ্যে পাওয়া প্রথম প্রি ক্যামব্রিয়ান ফসিল ( ৫৮০ মিলিয়ন বছর আগের একটি লাইফফর্ম), এটি নি:সন্দেহে  প্রথমবারের মত  প্রমান করে ক্যামব্রিয়ান পিরিওডের আগে বহুকোষী এবং জটিল প্রকৃতির জীবনের অস্তিত্ব ছিল। প্রি ক্যামব্রিয়ান এই ভুতাত্ত্বিক সময়কে এখন বলা হয় Ediacaran পিরিওড ( ৬৩৫ থেকে ৫৪২ মিলিয়ন বছর আগের সময়কাল; দক্ষিন অষ্টেলিয়ার ইডিআকারান হিলস এর নামে এই পর্বটির নামকরন করা হয়েছে)। Charnia এই পর্বে অন্যতম একটি জিনাস।


ভুমিকা:
 লেখাটি  রিচার্ড ডকিন্স ( Richard Dawkins) এর দি গ্রেটেষ্ট শো অন আর্থ  The Greatest Show on Earth: The evidence for Evolution এর প্রথম অধ্যায় Only a Theory র একটি অনুবাদ প্রচেষ্টা। এটি এই ব্লগে আলাদা পেজ হিসাবে ইতিপুর্বে চার খন্ডে প্রকাশিত হয়েছে।  এখানে  একটি স্বতন্ত্র পোষ্ট হিসাবে আবার যোগ করলাম কয়েকজন শুভানুধ্যায়ী পাঠকদের অনুরোধে। পুরো বইটা ধারাবাহিক ভাবে আমি অনুবাদ করে যাবার চেষ্টা করবো, ইতিমধ্যে দ্বিতীয় অধ্যায়টি  আলাদা পোষ্ট হিসাবে যোগ করা হয়েছে। লেখাটির মুল প্রেরণা ছিল এবারের ডারউইন দিবস।
________________________________________

কল্পনা করুন, আপনি রোমের ইতিহাস এবং ল্যাটিন ভাষার একজন শিক্ষক;  আর আপনি প্রাচীন সেই পৃথিবী,ওভিড এর ‍শোকগাথা আর হোরাসের স্তুতিগাথা, সিসেরোর বক্তৃতার সেই পেশীবহুল ল্যাটিন ব্যকরণ, পিউনিক যুদ্ধের কৌশলগত খুটিনাটি, জুলিয়াস সিজারের সামরিক নেতৃত্ব এবং পরবর্তী সম্রাটদের মাত্রাহীন ইন্দ্রিয়পরায়নতা -ইত্যাদি বিষয়ে আপনার তীব্র ‍উৎসাহ সবার সাথে ভাগ করে নেয়ার জন্য খুবই আগ্রহী । ‍স্পষ্টতই এটা অনেক বড় একটা দ্বায়িত্ব, যার জন্য সময়, ‍ একাগ্রতা আর আত্মত্যাগের প্রয়োজন। তারপরও ‍আপনি লক্ষ্য করলেন, আপনার ‍সেই মুল্যবান সময় সারাক্ষনই আক্রান্ত হচ্ছে ‍ এবং আপনার ক্লাসের মনোযোগ বিক্ষিপ্ত করছে  ক্রমাগত চিৎকার করা এক মুর্খের বা ইগনোরেমাস-এর দল ( ল্যাটিন বিশেষজ্ঞ হিসাবে আপনি ভালো জানবেন, ‘ইগনোরামি’ বলার চেয়ে  ‘ইগনোরেমাস’ বলাটাই উত্তম হবে);  যাদের আছে শক্তশালী রাজনৈতিক সমর্থন, বিশেষ করে অর্থানুকল্য;যারা বিরামহীনভাবে ছোটাছুটি করে ‍আপনার দুর্ভাগা শিক্ষার্থীদের প্ররোচিত করে বোঝনোর চেষ্টা করে যাচ্ছে যে, রোমানদের কোনদিনও অস্তিত্বই ছিলনা, রোমান সাম্রাজ্যও কোনদিনও ছিল না। সমস্ত পৃথিবীটারই সৃষ্টি হয়েছে মানুষের স্মরণকালের সামান্য কিছু সময় আগে। স্প্যানিশ,ইটালিয়ান,ফরাসী, পর্তুগীজ, কাতালান, ওক্সিটান, রোমানশ: এই সব ভাষা আর তাদের সংশ্লিষ্ট সকল উপভাষাগুলো স্বতঃস্ফূর্ত এবং আলাদা আলাদা সৃষ্টি হয়েছে কোন পুর্বসুরী, অর্থাৎ ল্যাটিন ভাষা ছাড়াই। ক্লাসিকের একজন বিশিষ্ট পন্ডিত আর শিক্ষকতার মহান পেশার প্রতি আপনি পূর্ন মনোযোগ দেবার পরিবর্তে আপনি আপনার সময় আর শক্তিকে ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছেন, রোমের যে অস্তিত্ব ছিল -এই প্রস্তাবটি রক্ষা করার স্বপক্ষে যুদ্ধ করতে: অজ্ঞতা আর অন্ধ সংস্কারের এই প্রদর্শনী- যা হয়তো আপনাকে ব্যাথিত করতো, যদিনা আপনি এর বিরুদ্ধে সংগ্রামে ব্যস্ত না থাকতেন।

যদি ‍আমার এই ল্যাটিন শিক্ষকের কল্পকাহিনী বেশী বাড়াবাড়ি মনে হয়, তাহলে আরেকটু বাস্তবসম্মত উদহারণ দেই: ধরুন আপনি আরো সাম্প্রতিক কালের ইতিহাসের একজন শিক্ষক; এবং বিংশ শতাব্দীর ইউরোপ বিষয়ে আপনার ক্লাস বয়কট করা হয়েছে, ‍উত্যক্ত করে বা কোন না কোনভাবে ব্যহত করছে হলোকষ্ট-অস্বীকারকারীরা যারা সুসংগঠিত, অর্থনৈতিক সাহায্যপুষ্ট, রাজনৈতিক পেশীসম্পন্ন। আমার কাল্পনিক রোম-অস্বীকারকারীর  অস্তিত্ব না থাকুক, হলোকষ্ট-অস্বীকারকারীরা আসলেই আছেন। তারা অত্যন্ত সরব, খুবই হালকাভাবে যুক্তিগ্রাহ্য, আপাতদৃষ্টিতে নিজেদের জ্ঞানী হিসাবে উপস্থাপন করতে সুদক্ষ। তাদের প্রতি সমর্থন আছে, অন্ততঃ বর্তমানে একটি শক্তিশালী দেশের রাষ্ট্রপ্রধানেরও; এছাড়াও আছেন, অন্ততঃ  রোমান ক্যাথলিক চার্চের একজন বিশপ। এখন কল্পনা করুন, ইউরোপীয় ইতিহাসের শিক্ষক হিসাবে আপনাকে সারাক্ষনই মুখোমুখি হতে হচ্ছে একটি উগ্র আক্রমনাত্মক দাবীর : ‘বিতর্কিত মতবাদটাকেও পড়াতে হবে’, এবং ‘একই পরিমান সময়’, দিতে হবে ‘বিকল্প মতবাদ’ পড়াতে যা কিনা দাবী করে হলোকষ্ট কখনোই হয়নি, এটা কিছু ইহুদীবাদীদের আবিষ্কার’; কিছু মৌসুমী আপেক্ষিকতাবাদী বুদ্ধিজীবিরা এর সাথে গলা মিলিয়ে দাবী করছেন, কোন কিছুই তো চরম সত্য না। হলোকষ্ট ঘটেছে ‍কি ঘটেনি তা নির্ভ‍র করবে ব্যাক্তিগত বিশ্বাসের উপর; সব মতবাদই সমানভাবে বৈধ, সমানভাবে ‘শ্রদ্ধা’ করা উচিৎ।

Continue reading “শধুই কি একটা তত্ত্ব?”

শধুই কি একটা তত্ত্ব?

রিচার্ড ডকিন্স এর দি গ্রেটেষ্ট শো অন আর্থ : একটি অনুবাদ প্রচেষ্টা

রিচার্ড ডকিন্স এর দি গ্রেটেষ্ট শো অন আর্থ : বিবর্তনের স্বপক্ষে প্রমান

অনুবাদ প্রচেষ্টা: কাজী মাহবুব হাসান


শীর্ষ ছবি কিংবা প্রচ্ছদ : আসমা সুলতানা

প্রথম অধ্যায়: প্রথম পর্ব দ্বিতীয় পর্ব | তৃতীয় পর্বশেষ পর্ব
দ্বিতীয় অধ্যায়: প্রথম পর্ব

রিচার্ড ডকিন্স এর দি গ্রেটেষ্ট শো অন আর্থ : একটি অনুবাদ প্রচেষ্টা