জেরী কয়েন এর হোয়াই ইভোল্যুশন ইজ ট্রু : তৃতীয় অধ্যায়( শেষ পর্ব)

ছবি: রেটিনা: আমাদের চোখের পেছনে স্নায়ুকোষ, ফটোরিসেপ্টর ও নানা সহযোগী কোষের একটি স্তর। এটি আলোক সংকেতকে স্নায়ুসংকেতে রুপান্তরিত করে অপটিক নার্ভের মাধ্যমে আমাদের ব্রেনে ভিজুয়াল ইনফরমেশন প্রেরণ করে, যা আমাদের দেখার অনুভুতি সৃষ্টি করে।  রঙ্গীন কোন দৃশ্য দেখাটা নির্ভর করে কোন ( CONE) নামের একধরনের ফটোরিসেপ্টরের উপরে, যারা কোনের মতোই দেখতে এবং আলোক সংবেদী বিশেষ পিগমেন্ট বহন করে, যা আলোর সংস্পর্শে আসলে সক্রিয় হয়ে ওঠে। অন্য যে ফটোরিসেপ্টরগুলো আমাদের কম আলোয় (যেমন রাতে) দেখতে সাহায্য করে তাদের নাম রড (ROD); এই রড এবং কোন কোষগুলো রেটিনার একদম পেছনের স্তরে, অন্য অনেক সহযোগী কোষের পিছনে অবস্থান করে যারা সবাই আমাদের দৃষ্টি ক্ষমতার জন্য দায়ী। (ছবিসুত্র ANDREW SWIFT (retina illustrations); Scientific American); মেরুদন্ডী প্রানীদের চোখের মধ্যে বিবর্তন যত অসাধারন সুক্ষতম বৈশিষ্টই যোগ করুক না কেন, এর বেশ কিছু বড় মাপের ডিজাইন সমস্যাও আছে; যেমন আমাদের চোখের রেটিনাটা আসলে উল্টোভাবে সাজানো, অর্থাৎ ভেতরের দিকটা বাইরে আর বাইরের দিকটা ভেতরে। সুতরাং আলোকে রেটিনার আলোক সংবেদী পিগমেন্টের কাছে পৌছাতে রেটিনার পুরো প্রস্থটা পাড়ি দিতে হয়, যে পথে আছে স্নায়ুকোষের অসংখ্য প্রসেস দিয়ে তৈরী জালিকা, মধ্যবর্তী বাইপোলার কোষের স্তর, এছাড়া কোষ দেহ; যারা আলোকে বিভিন্ন দিকে ছড়িয়ে দিয়ে তাদের পথে প্রতবিন্ধকতা তৈরী করে এবং ফলে ইমেজ বা ছবির গুনগত মানও কমে যায়। অসংখ্য রক্তনালীকাও থাকে রেটিনার ভেতরের স্তরে, যারা অনাকাঙ্খিত ছায়া ফেলে রেটিনার ফটোরিসেপ্টর স্তরের উপর। এছাড়ার রেটিনার একটা ব্লাইন্ড স্পটও আছে (যেখানে কোন ফটোরিসেপ্টর কোষ থাকেনা), রেটিনার উপরের স্তর দিয়ে  সাজানো বিস্তৃত নার্ভ ফাইবারগুলো এই ব্লাইন্ড স্পটে এসে একসাথে জড়ো হয়ে রেটিনার ভিতর দিয়ে একটি সুড়ঙ্গর মত পথ করে রেটিনা পেছন দিয়ে অপটিক নার্ভ হয়ে বের হয়ে যায়; এই ধরনের  ডিজাইন সমস্যার তালিকা আরো দীর্ঘ।

3_final
ছবি: বিবর্তনের চিহ্ন : মেরুদন্ডী প্রানীদের চোখ ভালো করলেই লক্ষ্য করা যায়, এটি আদৌ কোন ইন্টেলিজেন্ট ডিজাইনের নমুনা নয়, বরং এর মধ্যে অসংখ্য ক্রটি আছে, যা এর বিবর্তনের স্বাক্ষ্য বহন করে। এর কিছু ক্রটি আমাদের চোখের ইমেজ বা ছবি তৈরীর গুনগত মান কমিয়ে দেয়, যেমন তাদের মধ্যে আছে উল্টো করে সাজানো রেটিনা ( যার ভিতরের দিকটি বাইরে এবং  বাইরের দিকটি ভিতরে), এ কারনে আলো কে একেবারে পেছনের স্তরে অবস্থিত ফটোরিসেপ্টরে পৌছাতে নানা ধরনের কোষ দেহ আর স্নায়ু ফাইবারের জালিকার মধ্যে দিয়ে যেতে হয়(১); রেটিনার উপর রক্তনালীকারা রেটিনার উপর অনাকাঙ্খিত ছায়া ফেলে (৩);  সব স্নায়ু ফাইবারগুলো রেটিনা উপর দিয়ে এসে একজায়গায় জড়ো হয়ে রেটিনার মধ্য দিয়ে একটা ছিদ্র দিয়ে ঢুকে রেটিনার পিছনে অপটিক নার্ভ হিসাবে বের হয়ে যায়, এভাবে রেটিনার মধ্যে এটি একটি ব্লাইন্ড স্পট তৈরী করে (২); সুত্র:  Illustration by Don Foley / ‍Scientific American)

কিংবা এই লেখাটিও দেখতে পারেন : আমাদের প্রাচীন শরীর বা চোখের বিবর্তন

জেরী কয়েন এর হোয়াই ইভোল্যুশন ইজ ট্রু : তৃতীয় অধ্যায় (শেষ পর্ব)
(অনুবাদ প্রচেষ্টা: কাজী মাহবুব হাসান)
Why Evolution Is True: Jerry A. Coyne

প্রথম অধ্যায়
দ্বিতীয় অধ্যায় : প্রথম পর্ব ;  দ্বিতীয় পর্ব ; তৃতীয় পর্ব চতুর্থ পর্বশেষ পর্ব
তৃতীয় অধ্যায়: প্রথম পর্ব , দ্বিতীয় পর্ব , তৃতীয় পর্ব

অবশিষ্টাংশ: ভেস্টিজ, ভ্রূণ এবং খারাপ ডিজাইন

If a designer did  have discernible motives when creating species, one of them must surely have been to fool biologists by making organisms look as though they evolved. Jerry Coyne

খারাপ ডিজাইন

নানা কারনে ভুলে যাবার মত সিনেমা Man of the Year  এ কমেডিয়ান রবিন উইলিয়ামস অভিনয় করেছিলেন একজন টেলিভিশন টক শো উপস্থাপকের ভুমিকায়, যিনি অদ্ভুত সব ঘটনার মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন, তার নির্বাচন পুর্ববর্তী বিতর্কে, উইলিয়ামস এই চরিত্রটির কাছে জানতে চাওয়া হয় ইন্টেলিজেন্ট ডিজাইন সম্বন্ধে তার মতামত কি; তার উত্তর ছিল, ”সবাই বলছে ইন্টেলিজেন্ট ডিজাইন – আমাদের ইন্টেলিজেন্ট ডিজাইন নাকি অবশ্যই শেখাতে হবে- মানুষের শরীরের দিকে তাকিয়ে দেখুন, এটা টি কোন ইন্টেলিজেন্ট ডিজাইন হতে পারে?  আপনার বর্জ পদার্থ নিষ্কাষন করার প্ল্যান্ট আছে ঠিক আপনার বিনোদন কেন্দ্রর পাশে!”

Continue reading “জেরী কয়েন এর হোয়াই ইভোল্যুশন ইজ ট্রু : তৃতীয় অধ্যায়( শেষ পর্ব)”

জেরী কয়েন এর হোয়াই ইভোল্যুশন ইজ ট্রু : তৃতীয় অধ্যায়( শেষ পর্ব)

জেরী কয়েন এর হোয়াই ইভোল্যুশন ইজ ট্রু : তৃতীয় অধ্যায়( তৃতীয় পর্ব)

ছবি: মানব ভ্রুণ এবং হাঙ্গর ভ্রুণ ( সুত্র : নোভা/পিবিএস। ভ্রুণের ছবির ইলাস্ট্রেশন কাল্লিওপি মনোইয়োস,Your Inner Fish: A Journey Into the 3.5 Billion-Year History of the Human Body (Pantheon Books 2008) বই থেকে নেয়া); বড় করে দেখার জন্য এখানে ক্লিক করুন ;


ছবি: আমাদের শরীরে বিবর্তনের অনেক চিহ্নের একটি;  শুক্রনালীর এই বাকা পথ বেছে নেবার ইতিহাস পুরুষদের যৌনগ্রন্থির বৃদ্ধি আর ক্রমবিকাশের সাথে সম্পৃক্ত। হাঙ্গর,মাছ এবং অন্যান্য অস্থিবিশিষ্ট প্রানীদের মতই মানুষেরও যৌনগ্রন্থির বৃদ্ধি আর ক্রমবিকাশ ঘটে। গোনাড বা যৌনগ্রন্থি :পুরুষদের অণ্ডকোষ এবং মহিলাদের ডিম্বাশয়,উভয় ক্ষেত্রেই ভ্রুণাবস্থায় তাদের অবস্থান থাকে শরীরের উপরের অংশে, যকৃত বা লিভারের কাছাকাছি, কারণ যে সকল কোষ সমুহের পারস্পরিক অবস্থান এবং সহযোগিতা থেকে এসব গ্রন্থির সৃষ্টি হয়, তাদের অবস্থান সম্ভবত এখানে বলে ধারনা করা হয়। পুর্নবয়স্ক হাঙ্গর বা মাছের যৌনগ্রন্থি সাধারনত: শরীরের উপরিভাগে যকৃতের কাছাকাছি থাকে এবং তারা তাদের এই আদি অবস্থানেই থাকে কারণ তাদের শুক্রাণু শরীরের অভ্যন্তরেই ক্রমবিকাশ এবং পূর্ণতা লাভ করতে পারে। 
আমাদের মত স্তন্যপায়ী প্রানীদের ক্ষেত্রে ব্যাপারটা একটু ভিন্ন। পুরুষ ভ্রুন যখন বেড়ে উঠতে থাকে, তাদের যৌনগ্রন্থিও ধীরে ধীরে নীচে নামতে থাকে, স্ত্রী ভ্রুনদের ক্ষেত্রে এই নেমে আসাটা শরীরের ভিতরে নীচে অবস্থিত জরায়ু এবং ফেলোপিয়ান টিউবের কাছে এসে থেমে যায়, যা নিশ্চিৎ করে ডিম্বানুকে যেন জরায়ু গহবরে নিষিক্ত হবার জন্য বেশী দুরত্ব অতিক্রম না করতে হয়। পুরুষদের ক্ষেত্রে আরো নীচের দিকে নেমে আসে অন্ডকোষ, একেবারে স্ক্রোটাম বা অন্ডকোষের থলিতে, যা দেহের সামনে ঝুলে থাকে। কার্য্যক্ষম শুক্রানু তৈরী করার জন্য এই নেমে আসার বিষয়টা অত্যন্ত্য গুরুত্বপুর্ণ। এর একটা সম্ভাব্য কারণ হিসাবে মনে করা হয় যে, স্তন্যপায়ীরা উষ্ণ রক্ত বিশিষ্ট এবং শুক্রানুর সংখ্যা ও এর গুনগত মান দুটোই নির্ভর করে আমাদের মুল শরীরের ভেতরের তাপমাত্রা অপেক্ষা কম কোন তাপমাত্রা বিশিষ্ট কোন স্থানে ক্রমবিকশিত হওয়ার উপর। সেকারনেই স্তন্যপায়ীদের অন্ডকোষ, শরীরের ভিতরের উষ্ণতা থেকে অপেক্ষাকৃত কম উষ্ণ শরীরের বাইরের অন্ডকোষের থলিতে অবস্থান করে, এই থলিটি তাপমাত্রা বাড়া কমার সাথে ওঠানামা (থলির গায়ের পেশীর সংকোচন এবং প্রসারনের মাধ্যমে) করে শুক্রানুর সুষ্ঠু বৃদ্ধিকে ‍নিশ্চিৎ করে। বড় করে দেখার জন্য এখানে ক্লিক করুন;

কিংবা এই লেখাটিও দেখতে পারেন : আমাদের প্রাচীন শরীর

জেরী কয়েন এর হোয়াই ইভোল্যুশন ইজ ট্রু : তৃতীয় অধ্যায় (তৃতীয় পর্ব)
(অনুবাদ প্রচেষ্টা: কাজী মাহবুব হাসান)
Why Evolution Is True: Jerry A. Coyne

প্রথম অধ্যায়
দ্বিতীয় অধ্যায় : প্রথম পর্ব ;  দ্বিতীয় পর্ব ; তৃতীয় পর্ব চতুর্থ পর্বশেষ পর্ব
তৃতীয় অধ্যায়: প্রথম পর্ব , দ্বিতীয় পর্ব

অবশিষ্টাংশ: ভেস্টিজ, ভ্রূণ এবং খারাপ ডিজাইন

ভ্রুণের প্যালিম্পসেস্ট

ডারউইনের সময়ের অনেক আগে থেকেই জীববিজ্ঞানীরা ব্যস্ত ছিলেন ভ্রুনতত্ত্ব বা এমব্রায়োলজী ( কেমন করে প্রানীরা ভ্রুণ থেকে ক্রমবিকশিত হয়) এবং তুলনামুলক অ্যানাটমী ( বিভিন্ন প্রানীদের গঠনগত সাদৃশ্য এবং বৈসাদৃশ্য নিয়ে আলোচনা) নিয়ে গবেষনায়। তাদের সম্মিলিত কাজ বহু অদ্ভুত বৈশিষ্টর সন্ধান পেয়েছিল, সেই সময় যার কোন অর্থ তারা বুঝতে পারেন নি। যেমন, সব মেরুদন্ডী প্রানী তাদের ভ্রুণ ক্রমবিকাশ শুরু করে একই প্রক্রিয়ায়, যা দেখতে অনেকটা মাছের ভ্রুণের মত। এই ভ্রুণতাত্ত্বিক বিকাশ প্রক্রিয় যতই অগ্রসর হয়, বিভিন্ন প্রজাতির বৈশিষ্টসুচক নানা রুপ প্রকাশ পেতে শুরু করে-কিন্তু অদ্ভুত সব উপায়ে। কিছু রক্তনালী, স্নায়ু এবং অঙ্গ যা সব প্রজাতির ভ্রুণে থাকে সেগুলো হঠাৎ করে অপসৃত হতে শুরু করে এবং বাকীগুলো অদ্ভুত সব আকাবাকা পথ নিতে দেখা যায় এবং অবশেষে এই ভ্রুততাত্ত্বিক বিকাশ প্রক্রিয়ার নৃত্য সমাপ্ত হয় বিভিন্ন পুর্ণবয়স্ক প্রানী, যেমন মাছ, সরীসৃপ, পাখি, উভচরী এবং স্তন্যপায়ী রুপ ধারন করার মাধ্যমে। যখন তাদের সবার ভ্রুনতাত্ত্বিক বিকাশ শুরু হয়েছে তারা দেখতে অনেক বেশী ‍পরস্পর সদৃশ ছিল। ডারউইন একটি কাহিনীটির বর্ণনা দিয়েছিলেন কিভাবে বিখ্যাত জার্মান ভ্রুণতত্ত্ববিদ কার্ল আর্ণষ্ট ভন বায়ের ধাধার মধ্যে পড়ে গিয়েছিলেন মেরুদন্ডী প্রাণীদের ভ্রুণদের পারস্পরিক সাদৃশ্যতা লক্ষ্য করে। ভন বায়ের ডারউইনকে লিখেছিলেন:

Continue reading “জেরী কয়েন এর হোয়াই ইভোল্যুশন ইজ ট্রু : তৃতীয় অধ্যায়( তৃতীয় পর্ব)”

জেরী কয়েন এর হোয়াই ইভোল্যুশন ইজ ট্রু : তৃতীয় অধ্যায়( তৃতীয় পর্ব)

জেরী কয়েন এর হোয়াই ইভোল্যুশন ইজ ট্রু : তৃতীয় অধ্যায়( দ্বিতীয় পর্ব)


ছবি: প্লাটিপাস (Ornithorhynchus anatinus); হাসের মত ঠোট, মোটা চ্যাপ্টা লেজ, পুরুষদের পেছনের পায়ে বিষ মাখানো কাটার  মত স্পার এবং স্ত্রী প্লাটিপাসদের ডিম পাড়ার ক্ষমতা সহ অষ্ট্রেলিয়ার প্লাটিপাস বহু ভাবে অদ্ভুত বিচিত্র একটি প্রানী। যদি কোন প্রানীকে অবুদ্ধিমত্তাপুর্ণ উপায়ে পরিকল্পনা বা সৃষ্টিকর্তার নিজের খামখেয়ালী মজার উপাদান হিসাবে সৃষ্টি করেছেন বলে মনে করা হয়ে থাকে –সন্দেহ নেই সেটা হবে প্লাটিপাস। কিন্তু প্লাটিপাসের একটি অদ্ভুত বৈশিষ্ট আছে: অন্য সব মেরুদন্ডী প্রানীদের যেমন থলির মত পাকস্থলী থাকে, যেখানে খাদ্য পরিপাকের জন্য পক্রিয়াকরন হয় বিভিন্ন এনজাইমের দ্বারা -, এদের তা থাকে না। প্লাটিপাসের পাকস্থলী হচ্ছে তাদের খাদ্যনালীর একটি হালকা স্ফীতকায় অংশ যা  সরাসরি অন্ত্রের সাথে সংযুক্ত। এই পাকস্থলীতে মেরুদন্ডী প্রানীদের মত এনজাইম তৈরীর কোন গ্রন্থি থাকে না। আমরা এখনও নিশ্চিৎ না কেন বিবর্তন তাদের এই পাকস্থলীটিকে অপসারন করেছে –হয়তো প্লাটিপাসের খাদ্য মুলত নরম শরীরের পোকামাকড় যাদের হজম করার জন্য বেশী প্রক্রিয়াকরণ করার প্রয়োজন নেই। কিন্তু আমরা জানি প্লাটিপাস বিবর্তিত হয়েছে পাকস্থলী আছে এমন পুর্বসুরী প্রানীদের থেকে; এর একটি কারন হলো প্লাটিপাসের জীনোমে দুটি সিউডোজীনের অস্তিত্ব আছে, যারা হজমে ব্যবহৃত হবার এনজাইম তৈরী করে, যেহেতু তাদের প্রয়োজন নেই আর তারা মিউটেশনের মাধ্যমে নিষ্ক্রিয় হয়ে আছে, কিন্তু এখনও তারা এই অদ্ভুত প্রানীটির বিবর্তনের চিহ্ন বহন করে চলেছে।

জেরী কয়েন এর হোয়াই ইভোল্যুশন ইজ ট্রু : তৃতীয় অধ্যায় (দ্বিতীয় পর্ব)
(অনুবাদ প্রচেষ্টা: কাজী মাহবুব হাসান)
Why Evolution Is True: Jerry A. Coyne

প্রথম অধ্যায়
দ্বিতীয় অধ্যায় : প্রথম পর্ব ;  দ্বিতীয় পর্ব ; তৃতীয় পর্ব চতুর্থ পর্বশেষ পর্ব
তৃতীয় অধ্যায়: প্রথম পর্ব

অবশিষ্টাংশ: ভেস্টিজ, ভ্রূণ এবং খারাপ ডিজাইন

অ্যাটাভিজম (Atavisms) বা
বেশ কয়েক প্রজন্মর মধ্যে দেখা যায় নি এমন কোন একটি বৈশিষ্ট্যর পুনরাবির্ভাব

মাঝে মাঝে প্রজাতির কোন একজন সদস্যর আবির্ভাব ঘটে কিছু অস্বাভাবিক বা ব্যতিক্রমী বৈশিষ্ট নিয়ে যা দেখলে মনে হয় পুর্বসুরীদের কোন বৈশিষ্টের পুনরাবির্ভাব ঘটেছে। যেমন কোন সময় একটি ঘোড়ার জন্ম হতে পারে বাড়তি পায়ের আঙ্গুল সহ  বা লেজ সহ কোন মানুষের বাচ্চা। এই মাঝে মাঝে পুর্বপুরুষের কোন বৈশিষ্টর প্রায় অবশিষ্টাংশ বা রেমন্যান্ট হিসাবে প্রকাশ পাওয়াকে বলে অ্যাটাভিজমস; শব্দটির উৎপত্তি ল্যাটিন অ্যাটাভাস বা পুর্বপুরুষ।কোন ভেস্টিজিয়াল বৈশিষ্ট থেকে তারা আলাদা কারন তাদের দেখা যায় কদাচিৎ, প্রজাতির সব সদস্যদের মধ্যে না।

সত্যিকারের অ্যাটাভিজম হতে হলে পুনরাবির্ভাব হওয়া বৈশিষ্টগুলোকে অবশ্যই পুরুসুরী বা অ্যানসেস্ট্রাল বৈশিষ্ট হতে হবে এবং সেটিকে বেশ সদৃশ্যতাও বহন করতে হবে প্রাচীন বৈশিষ্টটির। তারা কেবল কোন বিকট অস্বাভাবিক কোন বৈশিষ্ট না ; যেমন, কোন একজন মানুষ একটি বাড়তি পা সহ জন্ম নিতে পারে, তবে এটি কোন অ্যাটাভিজম নয় কারন আমাদের কোন উত্তরসুরীরই পাচটি হাত পা বা লিম্ব ছিল না; সবচেয়ে বিখ্যাত প্রকৃত অ্যাটাভিজম সম্ভবত তিমি মাছের পা। আমরা ইতিমধ্যেই জেনেছি, কিছু তিমির প্রজাতি তাদের শরীরে ভেস্টিজিয়াল অঙ্গ হিসাবে পেলভিস (শ্রোনীচক্র) এবং পেছনের পায়ের কিছু হাড় বহন করে কিন্তু প্রতি ৫০০ তিমির ১ টি কিন্তু আসলেই জন্ম নেয় পেছনের পা সহ যা তাদের শরীরের বাইরে বের হয়ে থাকে। এই পা গুলোর পায়ের অন্য সব বৈশিষ্টই থাকে এবং অনেকগুলোই স্পষ্টভাবে স্থলবাসী স্তন্যপায়ীদের প্রধান প্রধান পায়ের হাড়গুলো বিদ্যমান থাকে – ফিমার, টিবিয়া এবং ফিবুলা, কারো পায়ের নীচের অংশ এবং আঙ্গুলও থাকে!

Continue reading “জেরী কয়েন এর হোয়াই ইভোল্যুশন ইজ ট্রু : তৃতীয় অধ্যায়( দ্বিতীয় পর্ব)”

জেরী কয়েন এর হোয়াই ইভোল্যুশন ইজ ট্রু : তৃতীয় অধ্যায়( দ্বিতীয় পর্ব)

যে ইতিহাস লেখা আছে পাথরে: শেষ পর্ব

শীর্ষ ছবি ১: পাকিস্থান ও মিশরে কিছু রহস্যময় প্রজাতির জীবাশ্ম আবিষ্কার করার আগ পর্যন্ত্য জীবাশ্মবিদ ফিলিপ গিঙরিচ (Philip Gingerich) এর তিমি র বিবর্তনে বিশেষ কোন আগ্রহই ছিল না; ১৯৭৮ সালে পাকিস্থানের উত্তরাঞ্চলে প্রথম ঘোড়ার সম্ভাব্য পুর্বসুরী প্রজাতির জীবাশ্ম খোজার সময় তার সহযোগীরা খুজে পান একটি নেকড়ে সদৃশ প্রানীর মাথার খুলি; পরে পুর্ণাঙ্গ জীবাশ্ম প্রজাতিটির নাম দেয়া হয় Pakicetus inachus যার ব্রেইন এর আকৃতি এবং কানের বিশেষ গঠন দেখেই তিনি এর সাথে তিমির প্রথম যোগসুত্রটি করেন। পরে আরো কিছু জীবাশ্ম (যেমন মিশরের মরুভুমিতে পাওয়া  Bacilosaurus এবং পাকিস্থানে Rhodocetus Maiacetus) এবং বিজ্ঞানের নানা শাখা থেকে সংগ্রহ করা প্রমান ও তার তিন দশকের গবেষনা প্রথম বারের মত সুস্পষ্টভাবে প্রমান করে প্রায় ৫০ মিলিয়ন বছর আগে েইকোসিন পর্বে স্থলবাসী স্তন্যপায়ী আর্টিওডাকটাইল বা Even-Toed Ungulates ( বা ইভেন টোড: যাদের জোড় সংখ্যার পায়ের আঙ্গুল থাকে ও শরীরের ভার তাদের তৃতীয় এবং চতুর্থ পায়ের আঙ্গুল সমানভাবে বহন করে, আর আঙ্গুলেটস বলতে সেই সব প্রানী যা যাদের পায়ের আঙ্গুলের নোখে কেরাটিন এর শক্ত একটি অংশ থাকে, যাকে Hoof বা খুর বলা হয়, যেমন গরু, উট, শুকর ইত্যাদি , ঘোড়ারাও আঙ্গুলেট তবে তারা অড টোড বা তাদের বেজোড় সংখ্যক পায়ের আঙ্গুল থাকে, শরীরের ভার মুলত বহন করে তৃতীয় আঙ্গুলটি , এছাড়াও আর্টিওডাকটাইলদের বেশ কিছু  বৈশিষ্ট আছে) পুর্বসুরী থেকে Cetacean ( তিমি,ডলফিন ও পরপয়েস) বর্গের স্তন্যপায়ীরা বিবর্তিত হয়েছিল। আজকের সিটাসিয়ান যেমন তিমি রা সম্পুর্ণ জলজ প্রানী তবে আদি সিটাসিয়ানরা ছিল উভচরী; ভারত এবং পাকিস্থান থেকে পাওয়া জীবাশ্মগুলো ধারাবাহিক এই বিবর্তনের অন্তর্বতী কালীন সবগুলো পর্যায়কে বর্ণনা করতে সহায়তা করেছে, কিভাবে িএকটি স্থলবাসী প্রানী ক্রমান্বয়ে বিবর্তিত হয়ে তিমি ও সমগোত্রীয় জলজ প্রানীতে। (Photo: Eric Bronson, U-M Photo Services.)

শীর্ষ ছবি ২: সিটাসিয়ান (Cetacean) দের বিবর্তনের দুটি গুরুত্বপুর্ণ জীবাশ্ম খুজে পাওয়ার টিমটির নেতৃত্ব দেন জে জি এম থেউইসেন; উপরের ছবিটিতে পাকিস্থান থেকে খুজে পাওয়া ১৯৯২ সালের একটি ট্রানজিশনাল তিমি র জীবাশ্ম Ambulocetus natans , যা  স্থলবাসী আদি সিটাসিয়ানদের সাথে সম্পুর্ণ জলজ সিটাসিয়ানদের একটি যোগসুত্র; (মধ্য ইকোসিন পর্বে ,প্রায় ৪৮ -৫০ মিলিয়ন বছর আগে এরা বেচে ছিল,এদের পেছনের কর্মক্ষম পা ছিল ও তারা হাটতে পারতো এবং সাতারও কাটতে পারতো। জলবাসী হওয়া সত্ত্বেও এটা ডাঙ্গায় তাদের জীবনের একটি যোগসুত্র রক্ষা করতো) নীচের ছবিতে থেউইসেন এর খুজে পাওয়া আরেকটি গুরুত্বপর্ণ ফসিল, যাকে বলা যেতে পারে মিসিং লিঙ্ক, Indohyus ; সিটাসিয়ানদের প্রাচীনতম (“৪৮ মিলিয়ন বছর আগে) পুর্বসুরী প্রানী; আদি সিটাসিয়ান ( যেমন Pakicetus) দেরএকটি আত্মীয় গ্রুপ যা পুর্ববর্তী আর্টিওডাকটাইলদের থেকে আদি সিটাসিয়ানদের বিবর্তনের বিষয়টি ব্যাখ্যা করে। পরবর্তী ১০ মিলিয়ন বছরে মুলত স্থলবাসী স্তন্যপায়ীদের থেকে পুরোপুরি পানিতে বসবাসের উপযোগী হয়ে বিবর্তিত হয়  সিটাসিয়ানরা; কাশ্মিরের সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে ভারতীয় ভুতত্ববিদ এ রঙ্গা রাও এর সংগ্রহ করা পাথর থেকে থেউইসেন টীম উদ্ধার করেন এই প্রজাতির জীবাশ্মটিকে। Indohyus কে মিসিং লিঙ্ক বলতে নারাজ যারা যেমন ফিলিপ জিনজারিচ, তাদের মতে এই মিসিং লিঙ্কটি ৫৬ মিলিয়ন বছর আগে বিলুপ্ত হওয়া মেসোনাইকিয়া পরিবার, যেমন তার টীমের খুজে পাওয়া একটি জীবাশ্ম প্রজাতি Sinonyx  (ছবি:ইন্টারনেট);

শীর্ষ ছবি ৩: Indohyus ;  শিল্পীর চোখে; (ছবি সুত্র)

শীর্ষ ছবি ৪: শিল্পী কার্ল ব্রুয়েল এর আকা Ambulocetus natans ( যার নামের অর্থ হাটতে ও সাতার কাটতে পারে  এমন একটি তিমি) (ছবি সুত্র)

তিমি র বিবর্তন নিয়ে একটি ভিডিও : 

শীর্ষ ছবি ৫:  তিমির বিবর্তন: প্রায় ৫০মিলিয়ন বছরের আগে িইকোসিন  ইপোকে বর্তমান স্পেন থেকে েইন্দোনেশিয়া পর্যন্ত বিস্তৃত একটি অপেক্ষাকৃত অগভীর সমুদ্র ছিল। এই সময়েই সিটাসিয়ানরা যেমন বর্তমান তিমির পুর্বসুরী প্রজাতিরা জলে প্রত্যাবর্তন করে। তখনও ভারত একটি দ্বীপ, ইউরেশিয়ার ভুখন্ডের সাথে যুক্ত হয়নি, তৈরী হয়নি হিমালয়, পাকিস্থান কেবল ভারতের একটি উপকুল অঞ্চল; আদি তিমিদের জীবাশ্মগুলোর অনেকগুলোই এখানেই সন্ধান পাওয়া গেছে। আদি তিমিদের তখন দেখলে বর্তমান বিশাল তিমিদের সাথে বাহ্যিক কোন মিল চোখে পড়তো না, তারা তাদের লেজ দিয়ে সাতার কাটতো না, পরিবর্তিত পা দিয়ে তারা সাতার কাটতে শিখেছিল এবং ক্রমেই তারা পেছনের পা হারায়, সামনের পা পরিনত হয় প্যাডেল, লেজ ফ্লুক বিবর্তন হয় সাতারের জন্য। এখনও তিমিরা তার বিবর্তনীয় অতীতের চিহ্ন বহন করছে। (ছবি সুত্র)

________________________

(এটি মুলত শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবর্তন জীনতত্ত্বর অধ্যাপক জেরি কয়েন  ( Jerry A. Coyne) এর Why Evolution is true  বইটির দ্বিতীয় অধ্যায় Written in the Rocks এর একটি অনুবাদ প্রচেষ্টা; বইটির প্রথম অধ্যায় What is Evolution? এর অনুবাদ বিবর্তন কি? আছে এখানে))

 

যে ইতিহাস লেখা আছে পাথরে : প্রথম পর্ব
যে ইতিহাস লেখা আছে পাথরে : দ্বিতীয় পর্ব
যে ইতিহাস লেখা আছে পাথরে : তৃতীয় পর্ব
যে ইতিহাস লেখা আছে পাথরে : চতুর্থ পর্ব

যে ইতিহাস লেখা আছে পাথরে :
((((শেষ পর্ব))))

জলে প্রত্যাবর্তন : তিমি’র বিবর্তন

ডুয়ান গিশ, যুক্তরাষ্ট্রের একজন সৃষ্টিবাদী, যিনি বিবর্তন  তত্ত্বকে আক্রমন করে দেয়া তার জনপ্রিয় এবং প্রানবন্ত ( যদিও অত্যন্ত ভ্রান্ত ধারনা প্রসুত) বক্তৃতাগুলোর জন্য খুবই পরিচিত ।আমি তার একটি অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলাম একবার, যখন গিশ তিমি , গরুদের সাথে সম্পর্ক আছে এমন স্থলবাসী প্রানী থেকে বিবর্তিত হয়েছে জীববিজ্ঞানীদের প্রমান করা এই তত্ত্বটিকে নিয়ে উপহাস করছিলেন। কিন্তু কিভাবে? তিনি জানতে চেয়েছিলেন, এধরনের বিবর্তনীয় পরিবর্তন বা ট্রানজিশন আসলে হওয়া সম্ভব, কারন এর অন্তবর্তীকালীন সব প্রজাতিগুলো জলে কিংবা স্থলে কোথাও তো ভালো ভাবে অভিযোজিত বা খাপ খাওয়াতে পারার তো কথা না, সুতরাং প্রাকৃতিক নির্বাচন এ ধরনের কোন কিছুই সৃষ্টি করতে পারে না (এটি পাখিদের বিবর্তনের বিরুদ্ধে সেই অর্ধেক ডানা’র যুক্তির মত) ?  তার বক্তব্য আরো ভালো করে বোঝানোর জন্য গিশ একটি মারমেইড বা মৎসকুমারীর মত একটি বিচিত্র প্রানীর কার্টুন করে আকা একটি স্লাইড প্রদর্শন করেন, যার সামনের অংশ ছোপ ছোপ দাগ ওয়ালা একটি গরু আর পেছনের অংশ মাছ ; স্পষ্টতই মনে হচ্ছে প্রানীটি তার বিবর্তনীয় নিয়তি নিয়ে হতভম্ব,অভিযোজনে সুস্পষ্টভাবেই  ব্যর্থ  এই প্রানীটি কোন সাগরের পানির প্রান্তে দাড়িয়ে আছে, আর তার মাথার উপর বড় করে আকা একটি প্রশ্নবোধক চিহ্ন ।কার্টুনটি তার প্রকৃত উদ্দেশ্য পুরনে সফল হয়েছিল: দর্শকদের মধ্যে তাৎক্ষনিক হাসির রোল পড়ে গেল, তারা ভাবলেন, কত বড় নির্বোধ  হতে পারে এই বিবর্তনবাদীরা?

Continue reading “যে ইতিহাস লেখা আছে পাথরে: শেষ পর্ব”

যে ইতিহাস লেখা আছে পাথরে: শেষ পর্ব

যে ইতিহাস লেখা আছে পাথরে: চতুর্থ পর্ব


শীর্ষছবি ১:  কোন জীবাশ্মকে যদি সেলিব্রিটির মর্যাদা দেয়ার কথা ভাবা হয় তবে তার প্রথম দাবীদার অনায়াসে হতে পারে Archaeopteryx lithographica (উপরের ছবিটি আর্কিওপটেরিক্স এর বার্লিন স্পেসিমেন) জীবাশ্ম রেকর্ডে আপাতত খুজে পাওয়া এটি আদিমতম পাখি (তবে তার সেই অবস্থান এখন চ্যালেন্জ এর মুখে); ১৮৬১ সালে জার্মানীর শনহোফেন লাইমস্টোন কোয়ারীতে খুজে পাওয়া আর্কিওপটেরিক্স আকারে প্রায় ১.৬ ফুট মত লম্বা হত।  জীবাশ্মটির বয়স প্রায় ১৫০ মিলিয়ন বছর, জুরাসিক পর্বের ঠিক শেষ দিকে; পাখির মত পালক সহ ডানা অথচ ডায়নোসরের মত দাতযুক্ত চোয়াল, দীর্ঘ লেজ প্রথম ইঙ্গিত দিয়েছিল পাখিরা ডায়নোসরদের থেকে বিবর্তিত হয়েছে। যদিও সেই সময়ের বিজ্ঞানীরা প্রস্তুত ছিলেন না সেই যোগাযোগটি প্রতিষ্ঠা করার জন্য। তবে সেই ১৮৭০ সালে টমাস হাক্সলি, প্রথম এর পাখি আর ডায়নোসরের মধ্যে যোগসুত্রটি িউল্লেখ করেন, পরে ৭০ এর দশকে, প্রায় ১০০ বছর পর আবার বিষয়টি আলোচনায় নিয়ে আসেন ইয়েল বিশ্বাবদ্যালয়ের জন এইচ ওস্ট্রম। সেই বিতর্কটি অমীমাংসিত থেকে নব্বই এর দশকের মাঝামাঝি অবধি, এরপর চীনে জীবাশ্মবিদরা একের পর এক অসাধারন সব জীবাশ্ম খুজে বের করেন, যা পরবর্তীতে আরো দৃঢ়ভাবে প্রমান করে স্থলবাসী,ক্ষিপ্রগতির, মাংশাসী থেরোপড ডায়নোসরদেরই বংশধর আজকের পাখিরা। তবে এটাও প্রমান হয়, পাখিদের বিশেষ বৈশিষ্টগুলোও আসলে পাখিদের বিবর্তনের অনেক আগে বিবর্তিত হয়েছিল থেরোপড ডায়নোসরদের মধ্যে। আর পাখিদের বিবর্তনের সাথে তাদের উড়বার ক্ষমতার বিবর্তন ঘটেছিল তারও পরে।  (ছবিসুত্র:  উইকিপেডিয়া);


শীর্ষ ছবি ২: ২০১১ সালে চীনে খুজে পাওয়া জীবাশ্ম  Xiaotingia zhengi  প্রায় ১৫৫ মিলিয়ন বছর আগে; আর্কিওপটেরিক্স এর মত এর কিছু বৈশিষ্ট আছে আবার পালকযুক্ত অন্য ডায়নোসরদের সাথে  এর বেশ মিল আছে। এটি আবিষ্কারের পুর্বে প্রথমদিককার পাখি হিসাবে আর্কিওপটেরিক্স এর অবস্থানটি খানিকটা নড়বড়ে হয়ে গিয়েছে। কারন সিস্টেম্যাটিক্স এ  আর্কিওপটেরিক্স এর অবস্থান ছিল প্রাচীন তম পাখি সদৃশ অ্যাভিয়ালান হিসাবে ( যদিও আর্কিওপটেরিক্স কিংবা িএটি সরাসরি পাখিদের পুর্বসুরী প্রানী হয়, তবে এরা ট্রানজিশনাল প্রজাতির চমৎকার উদহারণ), এটির ডাটা যোগ হবার পর এর অবস্থান পাখিদের থেকে খানিকটা দুরে  Deinonychosaurs দিকে নিয়ে এসেছে আর সেই সাথে এটিও আর্কিওপটেরিক্সকেও বের করে এনেছে তাদের গ্রুপে। (সুত্র : Nature);


শীর্ষ ছবি ৩: ১৯৯৫/৯৬ সালে চীনে খুজে পাওয়া Sinosauropteryx ( যার অর্থ Chinese reptilian wing বা চীনা সরীসৃপের ডানা কিংবা পালক) একটি জীবাশ্ম; এটাই প্রথম পাখি ও তাদের নিকট প্রজাতিগুলো বা Avialae গোষ্ঠীর বাইরে খুজে পাওয়া প্রজাতি, যাদের পালক বা এর আদি একটি সংস্করণ ছিল। এটি প্রমান করেছিল, পাখিদের বিবর্তনের পুর্বেই পাখিদের বেশ কিছু বৈশিষ্ট ও আচরন থেরোপড ডাইনোসরদের প্রজাতিদের মধ্যে বিবর্তিত হয়েছিল। (উইকিপেডিয়া)
______________________

(এটি মুলত শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবর্তন জীনতত্ত্বর অধ্যাপক জেরি কয়েন  ( Jerry A. Coyne) এর Why Evolution is true  বইটির দ্বিতীয় অধ্যায় Written in the Rocks এর একটি অনুবাদ প্রচেষ্টা; বইটির প্রথম অধ্যায় What is Evolution? এর অনুবাদ বিবর্তন কি? আছে এখানে))

There is no reasonable doubt, however, that all groups of birds, living and extinct, are descended from small, meat-eating theropod dinosaurs, as Huxley’s work intimated more than a century ago. In fact, living birds are nothing less than small, feathered, short-tailed theropod dinosaurs. (K. Padian and Luis  M. Chiappe)

যে ইতিহাস লেখা আছে পাথরে : প্রথম পর্ব
যে ইতিহাস লেখা আছে পাথরে : দ্বিতীয় পর্ব
যে ইতিহাস লেখা আছে পাথরে : তৃতীয় পর্ব

যে ইতিহাস লেখা আছে পাথরে :
((((চতুর্থ পর্ব))))

ডায়নোসরদের আকাশ জয় : পাখিদের উদ্ভব

অর্ধেকটা ডানা কিইবা কাজ করতে পারে? সেই ডারউইনের সময় থেকে এই প্রশ্নটি বার বার উত্থাপিত হয়েছে, বিবর্তন এবং প্রাকৃতিক নির্বাচন বিষয়টির দিকে সন্দেহর প্রশ্ন ছুড়ে দিতে।জীববিজ্ঞানীরা আমাদের বলছেন যে, আদি সরীসৃপ থেকে বিবর্তিত হয়েছে পাখীরা, কিন্তু কিভাবে আকাশে ওড়ার ক্ষমতা বিবর্তিত হয়েছে স্থলবাসী একটি প্রানী থেকে? সৃষ্টিবাদীরার যুক্তি দেখান যে, প্রাকৃতিক নির্বাচন এই ধরনের ট্রানজিশনকে ব্যাখ্যা করতে পারেনা।কারন প্রাকৃতিক নির্বাচন যদি কাজ করে তাহলে তার জন্য প্রয়োজন অন্তর্বর্তীকালীন কিছু পর্যায়, যখন এই প্রানী শুধু মাত্র আংশিক ডানা থাকার কথা, যা সেই প্রানীটিকে বিশেষ নির্বাচনী সুবিধা দেবার বদলে বরং বড় এতটি প্রতিবন্ধকতার বোঝা চাপিয়ে দেবার কথা। কিন্তু আপনি যদি একটু চিন্তা করেন বিষয়টি নিয়ে, তাহলে কিন্তু কঠিন হবে না উড্ডয়নের নানা অন্তর্বতীকালীন ধাপগুলোর কথা কল্পনা করা, যে ধাপগুলো এর ধারনকারী প্রানীদের কিছুটা হলেও উপকৃত করেছে।

Continue reading “যে ইতিহাস লেখা আছে পাথরে: চতুর্থ পর্ব”

যে ইতিহাস লেখা আছে পাথরে: চতুর্থ পর্ব

যে ইতিহাস লেখা আছে পাথরে: তৃতীয় পর্ব

শীর্ষ ছবি: উপরে: ২০০৪ সালে কানাডীয় আর্কটিক বা উত্তর মেরুর এলসমেয়ার দ্বীপে শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক নীল শুবিন ও তার সহযোগীরা খুজে পেয়েছিলে এই জীবাশ্ম প্রজাতিটিকে, এর নাম  Tiktaalik roseae, উপরের ছবিতে প্রজাতিটিকে মডেল হিসাবে দেখানো হয়েছে  ৩৭৫ মিলিয়ন বছর আগে তার প্রাকৃতিক পরিবেশে। টিকটালিক (টিকটালিক এর অর্থ ‘‘সুপেয় বা অলবনাক্ত পানির বড় মাছ’, স্থানীয় এলেসমেয়ার দ্বীপের আদিবাসীদের ইনুকটিটাট ভাষার একটি শব্দ) মাছ এবং প্রথম স্থলে বসবাসকারী মানুষসহ সকল স্থলচর মেরুদন্ডী প্রানীদের মধ্যে বিবর্তনীয় শুন্য স্থানটি পুরণ করেছে, সেকারনেই এটি মাছ এবং প্রথম স্থলবাসী মেরুদন্ডীদের মধ্যে এটি একটি মিসিং লিঙ্ক।৩৭৫ মিলিয়ন বছর প্রাচীন এই প্রানীটির ছিল কনুই কব্জিসহ পুর্ণ হাত, নমনীয় ও স্বাধীনভাবে নড়াচড়া করা যায় এমন একটি ঘাড় , যেহেতু পানির নীচে ছিল এদের বসবাস, তখনও ফুলকা ব্যবহার করে নিঃশ্বাস নিতে হত তাদের। মাঝের ছবিটি কার্ল ব্রুয়েল এর আকা টিকটালিকের একটি কাল্পনিক ছবি তার নিজস্ব পরিবেশে। নীচের ছবিটি দেখাচ্ছে জীবাশ্ম রেকর্ডে ৩৮০ মিলিয়ন বছর  আগের মাছ  এবং ৩৬০ মিলিয়ন বছর আগে, চারপেয়ে মেরুদন্ডী প্রানী যারা স্থলে বসবাস উপযোগী, এর মাঝখানে টিকটালিক, যার লোব বা শক্ত ফিনযুক্ত মাছের মতই ফিন ছিল, পানির নীচে শ্বাস নেবার জন্য ফুলকা ছিল, আশ বা স্কেল ছিল, এছাড়া চোয়ালের গঠনও ছিল আদিম, তবে পরবর্তীতে জীবাশ্ম রেকর্ডে আবির্ভুত হওয়া স্থলবাসী টেট্রাপডদের মতই এর ছিল স্বতন্ত্র ঘাড়, চ্যাপটা মাথা, কব্জি, ফুসফুস ব্যবহার করার জন্য বাইরের দিকে প্রসারমান পাজরের হাড় । (ছবি সুত্র); এবং সংশ্লিষ্ট একটি ভিডিও এখানে

(এটি মুলত শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবর্তন জীনতত্ত্বর অধ্যাপক জেরি কয়েন  ( Jerry A. Coyne) এর Why Evolution is true  বইটির দ্বিতীয় অধ্যায় Written in the Rocks এর একটি অনুবাদ প্রচেষ্টা; বইটির প্রথম অধ্যায় What is Evolution? এর অনুবাদ বিবর্তন কি? আছে এখানে))

The best road maps to human bodies lie in the bodies of other animals. The simplest way to teach students the nerves in the human head is to show them the state of affairs in sharks. The easiest road map to their limbs lies in fish. Reptiles are a real help with the structure of the brain. The reason is that the bodies of these creatures are often simpler versions of ours. Neil H. Shubin (in the preface of his book Your Inner Fish: A Journey Into the 3.5-Billion-Year History of the Human Body )

যে ইতিহাস লেখা আছে পাথরে : প্রথম পর্ব
যে ইতিহাস লেখা আছে পাথরে : দ্বিতীয় পর্ব

যে ইতিহাস লেখা আছে পাথরে :
((((তৃতীয় পর্ব))))

স্থল অভিমুখে : মাছ থেকে উভচর প্রানী

বিবর্তন জীববিজ্ঞানের সত্য প্রমানিত হওয়া সবচেয়ে সেরা ভবিষদ্বানীটি হলো ২০০৪ সালে খুজে পাওয়া মাছ এবং উভচরী প্রানীদের মধ্যবর্তী ট্রানজিশনাল জীবাশ্মটি। এই জীবাশ্ম প্রজাতিটির নাম Tiktaalik roseae, কিভাবে মেরুদন্ডী প্রানীরা পানি থেকে স্থলের অধিবাসী হয়েছিল এটি সে সম্বন্ধে অনেক তথ্য প্রদান করেছে। এর আবিষ্কার বিবর্তন তত্ত্বের একটি অসাধারণ বিজয়।

Continue reading “যে ইতিহাস লেখা আছে পাথরে: তৃতীয় পর্ব”

যে ইতিহাস লেখা আছে পাথরে: তৃতীয় পর্ব

যে ইতিহাস লেখা আছে পাথরে: দ্বিতীয় পর্ব


শীর্ষ ছবি: ১৯০৯ সালে স্মিথসোনিয়ান ইনস্টিটিউটের পরিচালক ডেরেক ডি ওয়ালকট কানাডার ব্রিটিশ কলম্বিয়ায় বার্জেস শেল (Burgess Shale) খুজে পেয়েছিলেন প্রথম। প্রায় অর্ধ বিলিয়ন বছর প্রাচীন এই শিলাস্তরে খুজে পাওয়া গেছে অসংখ্য বিচিত্র প্রজাতির জীবাশ্ম।বার্জেস শেল এর জীবাশ্মগুলোর অন্যতম বৈশিষ্ট হলো, জীবাশ্মগুলোর নরম শরীরের অংশগুলোও সংরক্ষিত হয়েছে প্রায় সম্পুর্ণভাবে, এছাড়া এদের গঠনগত জটিলতা প্রমান করেছে এরাই প্রি ক্যামব্রিয়ান সরল জীবন থেকে  জটিল জীবনের বিবর্তনের একটি অসাধারন স্ন্যাপশট;  এদের অনেকেই পরবর্তীতে নানা গ্রুপের প্রানীদের পুর্বসুরী হিসাবে চিহ্নিত হয়েছে। উপরে দুটি বার্জেস শেল এর জীবাশ্মর উদহারন: প্রথমটি Marrella splendens, ২০ মিমি দীর্ঘ (অ্যান্টেনা বাদে) এই জীবাশ্মটির অ্যান্টেনা এবং অন্যান্য উপাঙ্গও চমৎকারভাবে সংরক্ষিত হয়েছে জীবাশ্মটিতে; নীচে এর একটি সম্ভাব্য থ্রি ডি মডেল। পরেরটি Anomalocaris canadensis এর,  প্রায় ২২২ মিমি, ক্যামব্রিয়ান পর্বের সবচেয়ে বড় শিকারী প্রজাতি বা প্রিডেটর, যার চোখ, লোব, পেছনের পাখার মত উপাঙ্গ সংরক্ষিত হয়েছে জীবাশ্মটিকে, নীচে সম্ভাব্য একটি মডেল (ছবি সুত্র:
Royal Ontario Museum, Toronto)

(এটি মুলত শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবর্তন জীনতত্ত্বর অধ্যাপক জেরি কয়েন  ( Jerry A. Coyne) এর Why Evolution is true  বইটির দ্বিতীয় অধ্যায় Written in the Rocks এর একটি অনুবাদ প্রচেষ্টা; বইটির প্রথম অধ্যায় What is Evolution? এর অনুবাদ বিবর্তন কি? আছে এখানে))

Creationist are deeply enamoured of the fossil record, because they have been taught (by each other) to repeat, over and over, the mantra that it is full of ‘gaps’: ‘Show me your “intermediates”!’ They fondly (very fondly) imagine that these ‘gaps’ are an embarrassment to evolutionists. Actually, we are lucky to have any fossils at all, let alone the massive numbers that we now do have to document evolutionary history – large numbers of which, by any standards, constitute beautiful ‘intermediates’. (ed.) We don’t need fossils in order to demonstrate that evolution is a fact. The evidence for evolution would be entirely secure, even if not a single corpse had ever fossilized. It is a bonus that we do actually have rich seams of fossils to mine, and more are discovered every day. The fossil evidence for evolution in many major animal groups is wonderfully strong. Nevertheless there are, of course, gaps, and creationists love them obsessively. Richard Dawkins ( The Greatest Show on Earth)

Continue reading “যে ইতিহাস লেখা আছে পাথরে: দ্বিতীয় পর্ব”

যে ইতিহাস লেখা আছে পাথরে: দ্বিতীয় পর্ব