ক্যাসপার ডেভিড ফ্রিয়েডরিখ: অসীমের সীমানা

গ্রেট থিংকার্স সিরিজ থেকে পরীক্ষামূলকভাবে: আসমা সুলতানা ও কাজী মাহবুব হাসান

Close your physical eye, so that you may see your picture first with the spiritual eye. Then bring what you saw in the dark to the light, so that it may have an effect on others, shining inwards from outside. A picture must not be invented, it must be felt.  C.D.Friedrich

Caspardavidfriedrich_self1-1(Self-portrait,1800)

অপ্রত্যাশিতভাবেই  গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর মধ্যে একটি যা শিল্পকলা আমাদের জন্যে করতে পারে, সেটি হচ্ছে আমাদের এটি শেখাতে পারে কিভাবে দুঃখ সহ্য করতে হয়। এটি সেটি করতে পারে সেই দৃশ্যগুলো আমাদের মনে জাগিয়ে ‍তুলে, যা অন্ধকার, বিষণ্ন, কষ্টকর, আর সংশয় আর বিচ্ছিন্নতায় আমরা হয়তো যে যন্ত্রণার অভিজ্ঞতায় আচ্ছন্ন হয়ে আছি সেটিকে স্বাভাবিকীকরণ ও মর্যাদা দান করে।, মাহাত্ম্য আর কারিগরী দক্ষতায় তারা উন্মোচন করে, দুঃখ মানবিক এই পরিস্থিতির আবশ্যিক একটি অংশ।

703px-Caspar_David_Friedrich_-_Wanderer_above_the_sea_of_fog-41Wanderer above the Sea of Fog (1818)

মহিমান্বিত দুঃখের একজন চিত্রকর ক্যাসপার ডেভিড ফ্রিয়েডরিখ ১৭৭৪ সালে বাল্টিক সাগরের তীরে উত্তর-জার্মানীর একটি প্রাচীন বাণিজ্যিক শহর, গ্রাইফসভাল্ডে জন্মগ্রহন করেছিলেন। খুবই সুন্দর একটি শহর, উত্তর জার্মানীর কঠোরতার মানদণ্ডে যা হতে পারে। এই জায়গাটি আগে পরিচিত ছিল সুইডিশ পোমেরানিয়া নামে।

Continue reading “ক্যাসপার ডেভিড ফ্রিয়েডরিখ: অসীমের সীমানা”

ক্যাসপার ডেভিড ফ্রিয়েডরিখ: অসীমের সীমানা

এডওয়ার্ড হপার: নিঃসঙ্গ সূর্যমুখী

গ্রেট থিংকার্স প্রজেক্ট থেকে পরীক্ষামূলকভাবে – আসমা সুলতানা ও কাজী মাহবুব হাসান

If you could say it in words, there would be no reason to paint.  Edward Hopper

Self-portraits: Edward Hopper

এডওয়ার্ড হপার সেই সব বিষণ্ন দেখতে বহু চিত্রকর্মের চিত্রকর, যেগুলো আমাদের বিষণ্ন করে তোলেনা। এর পরিবর্তে , সেগুলো আমাদের নিঃসঙ্গতাকে শনাক্ত করতে আর মেনে নিতে সহায়তা করে যা প্রায়শই সব বিষণ্নতার হৃদয়ে লুকিয়ে থাকে।

automatAutomat (1927)

তার বিখ্যাত ‘অটোম্যাট’ চিত্রকর্মে, আমরা একটি রমণীকে একাকী বসে কফি পান করতে দেখি। স্পষ্টতই অনেক রাত, আর তার গরম কাপড়ের কোট, মাথার হ্যাট দেখে আমরা বলতে পারি বাইরে বেশ ঠাণ্ডাও। ঘরটিকে মনে হয় বেশ বড়, উজ্জ্বল আলোয় আলোকিত এবং সেখানে আর কাউকে আমাদের চোখে পড়েনা। অন্দরসজ্জাও খুবই ব্যবহারিক, রমনীটি দেখতে মনে হয় আত্ম-সচেতন, অপ্রতিভ, খানিকটা ভীত। হয়তো এভাবে বাইরে কোথায় একাকী বসে থাকতে সে অভ্যস্ত নয়। স্পষ্টতই যেন মনে হয় কোনো খারাপ কিছু ঘটেছে। সে দর্শককে আমন্ত্রণ জানায় তাকে নিয়ে কাহিনী কল্পনা করতে, বিশ্বাসঘাতকতা অথবা কোনো কিছু হারানোর। মনে হয় যেন সে চেষ্টা করছে তার হাত যেন না কাপে, যখন যে কফির কাপ তার ঠোঁটের কাছে নিয়ে আসছে। উত্তর আমেরিকার যে কোনো অন্ধকার বড় শহরের ফেব্রুয়ারীর রাত এগারোটার দৃশ্য হতে পারে এটি।

Continue reading “এডওয়ার্ড হপার: নিঃসঙ্গ সূর্যমুখী”

এডওয়ার্ড হপার: নিঃসঙ্গ সূর্যমুখী

সাই টম্বলি: সাংবেশিক আঁচড়ের বিমূর্ত ইশারা

গ্রেট থিংকার্স প্রজেক্ট থেকে পরীক্ষামূলকভাবে: আসমা সুলতানা ও কাজী মাহবুব হাসান

বিমূর্ত শিল্পকলা সম পরিমান বিরক্ত আর সংশয় উদ্রেক করা অব্যাহত রেখেছে। আপনি হয়তো জানেন বিমূর্ত শিল্পকলা কেমন: শূন্য সাদা একটি ক্যানভাস, ঠিক মাঝখানে গভীর কালো একটি , হলুদ পটভূমির উপর  বেগুনী রঙের একটি ছোপ, আটটি ইস্পাতের দণ্ড এলোমেলো স্তুপাকারে সাজানো, এর মানে কি হতে পারে ? কেউ কি ঠাট্টা করছে আমাদের সাথে? একটা শিশুও তো পারে …..

(Rose Series)

আরো খানিকটা সহমর্মিতাপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি অবলম্বন করতে (যা উপযোগী আর পক্ষপাতহীন হবে) আমাদের প্রথম মূলনীতিতে ফিরে যেতে হবে এবং জিজ্ঞাসা করতে হবে:  কোনো কিছু আসলেই যেমন দেখতে সেটি সেভাবে না দেখানোর মধ্যে ভালো কি বিষয় থাকতে পারে? বিমূর্ত শিল্পকলার কেন্দ্রীয় উদ্দেশ্যটি হচ্ছে সব ধরনের প্রতিনিধিত্বকে পাশ কাটিয়ে সরাসরি আবেগের কাছে পৌছানো। সঙ্গীতের মত, বিমূর্ত শিল্পকলাকে সবচেয়ে ভালোভাবে ব্যাখ্যা করা যেতে পারে ইকোইং হিসাবে (অর্থাৎ মূল শব্দ শেষ হবার পর সেটির প্রতিধ্বনি) অথবা, আমাদের আভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি অথবা মেজাজের একটি রুপ দেয়া। কিছু কিছু বিষয় হয়তো আপেক্ষিকভাবে সহজবোধ্য, যেমন, প্রশান্তি অথবা ক্রোধ, অন্যগুলো ভাষায় সহজে সংজ্ঞায়িত করার অসম্ভব। সেকারণে এমন কিছু বলা খুব একটা সহায়ক নয়: এই পেইন্টিংটা তো কোনো কিছুর মত দেখতে না। সত্যি, এটি বাইরের পৃথিবীর কোনো কিছুর মত দেখতে নয় ঠিকই, কিন্তু তার কারণ অভ্যন্তরের জগতকে প্রতিনিধিত্ব করাই এটির মূল উদ্দেশ্য। বরং যে প্রশ্নটি আমাদের জিজ্ঞাসা করা উচিৎ হবে: এই পেইন্টিংটি দেখে ঠিক কেমন অনুভূতি হচ্ছে?  এটি কি আমার কোনো আবেগীয় অবস্থাকে জাগিয়ে তুলছে? মানব জাতির কোন আভ্যন্তরীণ দৃশ্যপটকে এখানে হাজির হবার জন্যে নির্দেশ দেয়া হয়েছে?

Continue reading “সাই টম্বলি: সাংবেশিক আঁচড়ের বিমূর্ত ইশারা”

সাই টম্বলি: সাংবেশিক আঁচড়ের বিমূর্ত ইশারা

এটাই আমি : অমৃতা শের-গিল

 

185N09318_7ZKB2 (2)

Self-portrait by Amrita Sher-Gil (1933)

 

অমৃতা শের-গিল : এটাই আমি
১৯১৩-১৯৪১

(সুনীল খিলনানীর একটি লেখা অবলম্বনে: কাজী মাহবুব হাসান এবং আসমা সুলতানা)

‘ঈশ্বর! এই যাত্রার চৌম্বকীয় আকর্ষণ থেকে অনুগ্রহ করে আমাকে রক্ষা করো’। (১) ( অমৃতা শের-গিল, ১৯৩৩)

ভ্যান গো থেকে ড্যাস স্নো, কোনো শিল্পীর অকালমৃত্যু তাকে ঘিরে বেশ লাভজনক একটি অলৌকিক আভা প্রদান করে, বিশেষ করে যদি মৃতদেহের ব্যক্তিত্ব ক্যানভাসগুলোর মতই অপ্রতিরোধ্য হয়ে থাকে। শিল্পী অমৃতা শের-গিল, বিংশ শতাব্দীর ভারতীয় শিল্পকলার প্রথম তারকা – খুবই আরাধ্য পণ্যদ্রব্যে রুপান্তরিত হয়েছিলেন, যখন মাত্র আঠাশ বছর বয়সে প্রথাবিরোধী একটি জীবন কাটানোর পর রহস্যময় একটি পরিস্থিতিতে তিনি মৃত্যুবরণ করেছিলেন।  শিল্পী এম এফ হুসেইন পরে যখন তার অবস্থানকে চিহ্নিত করেছিলেন ‌‌’ভারতীয় শিল্পকলার রাণী’ হিসাবে, তবে এই বিশেষণটি অবশ্যই সুনির্দিষ্টভাবে ধারমুক্ত ছিল না (২)। যখন বেঁচে ছিলেন, তার সমসাময়িক  পুরুষ শিল্পীরা প্রায়শই শের-গিলের মর্যাদা হানি করেছিলেন শুধুমাত্র একজন ‘উচ্চাকাঙ্খী প্ররোচনাদায়ী শিল্পী’ হিসাবে তাকে চিহ্নিত করার মাধ্যমে। সাংবাদিক ম্যালকম মাগেরিজ, যার সাথে শের-গিলের সংক্ষিপ্ত এবং তীব্র প্রেমের সম্পর্ক ছিল, মন্তব্য করেছিলেন, শের-গিল, ‌’বরং অতি আত্ম-সচেতন আত্মাম্ভরিতাপূর্ণভাবেই শৈল্পিক’ (৩)।  যে বাক্যটি শুনলে একটি প্রশ্নের কথা মনে হয়, একজন কর্মরত শিল্পী এরচেয়ে অন্যকিছু কি হতে পারে? আমার মনে হয়, তার মোহনীয়তা, এবং তার জীবনের দূঃখজনক পরিণতি শুধুমাত্রই একটি পাদটীকা – যদিও বেশ গুরুত্বপূর্ণ সেই পাদটিকাটি – সেই সত্যটির, তিনি আসলেই ছবি আঁকতে জানতেন, এবং আধুনিক ভারতের অমসৃন আর ক্রটিপূর্ণ সত্তার মহান একজন চিত্রকর ছিলেন।

Continue reading “এটাই আমি : অমৃতা শের-গিল”

এটাই আমি : অমৃতা শের-গিল