বাস্তবতার জাদু : দ্বিতীয় অধ্যায়

13450772_295027890885438_5741499724979303664_n

দ্বিতীয় অধ্যায়: রিচার্ড ডকিন্সের দ্য ম্যাজিক অব রিয়েলিটি 

কে ছিল প্রথম মানুষ ?

এই বইয়ে বেশীর ভাগ অধ্যায়ের শিরোনামে একটি প্রশ্ন আছে। আমার উদ্দেশ্য হচ্ছে সেই প্রশ্নটির উত্তর দেয়া, অথবা, অন্ততপক্ষে সম্ভাব্য সবচেয়ে সেরা উত্তরটি দেবার চেষ্টা করা, যেটি হচ্ছে বিজ্ঞানের উত্তর। কিন্তু সাধারণ আমি শুরু করবো কিছু পৌরাণিক উত্তর দিয়ে কারণ তার বেশ কৌতুহলোদ্দীপক এবং বর্ণিল, এবং সত্যিকারের বাস্তব মানুষরা সেগুলো বিশ্বাস করেছিল, কিছু মানুষ এখনও তা করেন।

পৃথিবীর সব দেশের মানুষদেরই সৃষ্টি সংক্রান্ত পুরাণ কাহিনী আছে, তারা কোথা থেকে এসেছে সেটি ব্যাখ্যা দেবার জন্য। বহু গোত্র ভিত্তিক সৃষ্টি সংক্রান্ত পুরাণ মূলত একটি সুনির্দিষ্ট গোত্র সংশ্লিষ্ট – যেন অন্য কোনো গোত্র ধর্তব্যের মধ্যেই পড়েনা! একই ভাবে, বহু গোত্রের আইন আছে যে তারা মানব হত্যা করবে না – কিন্তু দেখা যায় এই মানব বলতে শুধুমাত্র আপনার নিজের গোত্রের অন্যদেরকেই বোঝায়। অন্য গোত্রের সদস্যদের হত্যা করলে কোনো সমস্যা নেই।

একটি বৈশিষ্ট্যসূচক সৃষ্টি পুরাণের কথা ধরুন, এটি তাসমানিয়ার আদিবাসীদের একটি গ্রুপের। মহাকাশে নক্ষত্রের মধ্যে একটি ভয়াবহ যুদ্ধে মইনি বলে একজন দেবতাকে পরাজিত করে প্রতিদ্বন্দী এক দেবতা যার নাম ড্রোমেরডিনার। মইনি নক্ষত্র থেকে ছিটকে তাসমানিয়ায় এসে পড়েন তার শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করার জন্য। তবে তিনি মারা যাবার আগে, তার চিরন্তিম শয্যার এই জায়গাটি আশীর্বাদপুষ্ট করতে তিনি একটি ইচ্ছা পোষণ করেছিলেন, এর পরিণতিতে সুতরাং, তিনি মানুষদের সৃষ্টি করেন। যেহেতু তিনি মারা যাচ্ছেন বলে তার এমন তাড়া ছিল, তিনি তার সৃষ্ট মানুষদের হাটু দিতে ভুলে গিয়েছিলেন ( কোনো সন্দেহ নেই নিজের সমস্যা তার মনোযোগ বিক্ষিপ্ত করেছিল), তিনি অন্যমনস্ক হয়ে তাদের ক্যাঙারুর মত লম্বা একটি লেজও দিয়েছিলেন, তার মানে তার ঠিক মত বসতে পারতোনা। এরপর তিনি মারা যান। মানুষরা লম্বা ক্যাঙারু লেজ আর কোনো হাটু না থাকার ব্যপারটি নিয়ে তাদের অসন্তোষ প্রকাশ করতে শুরু করে, এবং স্বর্গের উদ্দেশ্যে আর্তি জানায় তাদের সাহায্য করার জন্য।

Continue reading “বাস্তবতার জাদু : দ্বিতীয় অধ্যায়”

বাস্তবতার জাদু : দ্বিতীয় অধ্যায়

বাস্তবতার জাদু : প্রথম অধ্যায়

13220876_266553483732879_5795876853880578261_n

[ ভূমিকা : ২০১১ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর রিচার্ড ডকিন্স, শিল্পী ডেভ ম্যাককিনের অলঙ্করণসহ প্রকাশ করেছিলেন The Magic of Reality: How We Know What’s Really True; বইটি মূলত কিশোর আর অল্প বয়সী তরুণদের জন্য লেখা। বইটির হৃদয়স্পর্শী একটি অংশ হলো বইটি তিনি তার প্রিয় বাবা Clinton John Dawkins কে উৎসর্গ করেছিলেন। কৃষিবিজ্ঞানী বাবাই তার মনে প্রকৃতি আর বিজ্ঞানের প্রতি ভালোবাসার বীজটি বপন করেছিলেন পূর্ব আফ্রিকায় কাটানো তার শৈশবে। প্রাচীন মিসরীয়রা ভাবতো দেবী নুট (বা নিউথ) রোজ রাতে যখন সূর্যকে গিলে ফেলে তখন রাত হয়। ভাইকিংরা রঙধনুকে মনে করতো দেবতাদের বানানো সেতু যা দিয়ে তারা পৃথিবীতে নেমে আসে। এইসব কিছুতেই জাদুময়তা আছে, অপার্থিব বিস্ময়কর সব কাহিনী। কিন্তু আরো এক ধরনের জাদু আছে, আর সেই জাদুটি থাকে এই সব প্রশ্নগুলোর সত্যিকারের উত্তর আবিষ্কার করার আনন্দের মধ্যে। আর এটাই হচ্ছে বাস্তবতার জাদু – বিজ্ঞান। – কাজী মাহবুব হাসান ( পোষ্টে ব্যবহৃত অলঙ্করণগুলো মূল বই থেকে সংগ্রহ করা, যার শিল্পী ডেভ ম্যাককিন)]

রিচার্ড ডকিন্সের বাস্তবতার জাদু – প্রথম অধ্যায় 

বাস্তবতা কি ? জাদু কি ?

বাস্তবতা হচ্ছে সেই সবকিছু যার অস্তিত্ব আছে। বেশ সহজবোধ্য মনে হয় কথাটি, তাই না? আসলে বিষয়টি এত সহজবোধ্য নয়। বেশ কিছু সমস্যা আছে। ডায়নোসরদের ব্যাপারটি তাহলে কি, তাদের একসময় অস্তিত্ব ছিল কিন্তু এখন আর তো তাদের অস্তিত্ব নেই? আর নক্ষত্রগুলো, এত দূরে যাদের অবস্থান যে, যখন তাদের আলো আমাদের কাছে এসে পৌছায়, আর আমরা তাদের দেখতে পারি, তখন তাদের হয়তো আর কোনো অস্তিত্বই নেই ?

কিছুক্ষণের মধ্যেই আমরা ডায়নোসর আর নক্ষত্রদের নিয়ে আলোচনা করবো। কিন্তু যাই হোক না কেন, কিভাবে আমরা জানি যে, কোনো কিছুর অস্তিত্ব আছে, এমনকি বর্তমানেও? বেশ, আমাদের পাঁচটি ইন্দ্রিয় – দৃষ্টি, ঘ্রাণ, স্পর্শ, শ্রবণ আর স্বাদ – তারা বেশ ভালোই দ্বায়িত্ব পালন করে বহু জিনিসের বাস্তব অস্তিত্ব আমাদের জন্য বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে: যেমন, কোনো পাথরের টুকরো কিংবা উট, নতুন কাটা ঘাস আর কেবলমাত্র বানানো কফি, শিরিস কাগজ আর মখমল, জলপ্রপাত এবং দরজার ঘন্টি, চিনি এবং লবন। কিন্তু আমরা কি শুধুমাত্র এমন কিছুকেই ‘বাস্তব’ বলবো, যদি সেগুলোকে আমরা আমাদের পঞ্চ ইন্দ্রিয়ের যে কোনো একটি দ্বারা প্রত্যক্ষভাবে শনাক্ত করতে পারি?

তাহলে দূরের ছায়াপথগুলোর ক্ষেত্রে কি হবে, খালি চোখে দেখার মত দূরত্বে যারা অবস্থান করে না? একটি ব্যাকটেরিয়ার ক্ষেত্রেই বা কি হবে, যা এতই ক্ষুদ্র যে শক্তিশালী অণুবীক্ষণ যন্ত্র ছাড়া যাদের দেখাই সম্ভব নয়? তাহলে আমাদের কি অবশ্যই বলতে হবে যে, তাদের কোনো অস্তিত্ব নেই কারণ আমরা তাদের দেখতে পাইনা? না, অবশ্যই আমরা আমাদের ইন্দ্রিয়কে শক্তিশালী করতে পারি বিশেষ যন্ত্র ব্যবহার করার মাধ্যমে: ছায়াপথ দেখার জন্য দূরবীক্ষণ যন্ত্র আর ব্যাকটেরিয়া দেখার অণুবীক্ষণ যন্ত্র। যেহেতু আমরা জানি ও বুঝি দূরবীক্ষণ যন্ত্র আর অণুবীক্ষণ যন্ত্র কিভাবে কাজ করে, আমরা তাদের ব্যবহার করতে পারি আমাদের ইন্দ্রিয়গুলোর সীমানা বৃদ্ধি করতে – এই ক্ষেত্রে – আমাদের দৃষ্টিশক্তি – এবং সেগুলো যা দেখতে আমাদের সক্ষম করে তোলে, তা ছায়াপথ আর ব্যকটেরিয়ার অস্তিত্ব আমাদের কাছে বিশ্বাসযোগ্য করে তোলে।

Continue reading “বাস্তবতার জাদু : প্রথম অধ্যায়”

বাস্তবতার জাদু : প্রথম অধ্যায়

এবারের বইমেলায় দুটি বই…

এবারের বই মেলায় দুটি বই প্রকাশিত হতে যাচ্ছে, প্রকাশ করছে অনার্য প্রকাশনী (স্টল নং ২৯৭-২৯৮);
এটাই বই প্রকাশনার জগতে আমার এবং আসমা সুলতানার প্রথম প্রবেশ..

প্রথম বইটি ওয়েজ অব সিইং , সত্তরের দশকে এটি লিখেছিলেন বৃটিশ শিল্প সমালোচক জন বার্জার, একই নামে তাঁর একটি যুগান্তকারী টিভি প্রামাণ্য অনুষ্ঠানের. ভিত্তি করে। এটি শিল্পী আসমা সুলতানা এবং আমার যৌথ অনুবাদ প্রচেষ্টা। শিল্পী রেনে ম্যাগরিট এর তৈলচিত্র দি হিউমান কন্ডিশন এর ভিত্তি করে বইটির প্রচ্ছদ পরিকল্পনা করেছেন শিল্পী আসমা সুলতানা। শিল্পকলার অনুরাগী এবং  দৈনন্দিন জীবনে শিল্পকলার প্রভাব কত সর্বব্যাপী হতে পারে, সেটি যারা জানতে আগ্রহী তাদেরকে এই বইটি হতাশ করবে না ।

WOS_book_2015_for_blog

দ্বিতীয় বইটি দি গড ডিল্যুশন, ২০০৬ সালে প্রকাশিত বিবর্তন জীববিজ্ঞানী রিচার্ড ডকিন্স এর এই বইটির বেশ কয়েকটি অধ্যায় আমি ধারাবাহিকভাবে অনুবাদ করেছিলাম এই ব্লগের জন্য, অনেকেই একারণে এই ব্লগটিতে এসেছেন, অবশেষে এবারের বইমেলায় এটি বই হিসাবে প্রকাশিত হতে যাচ্ছে। এটিরও প্রচ্ছদ পরিকল্পনা করেছেন আসমা সুলতানা তার নিজের একটি চিত্রকর্ম ‘মিরর’ ব্যবহার করে। রিচার্ড ডকিন্সের বাংলা ভাষাভাষী অনুরাগী এবং চিন্তা করতে আগ্রহী এমন পাঠকদের মন নাড়াতে আশাকরি বইটি অবদান রাখবে।

gd_2015feb

এবারের বইমেলায় দুটি বই…

রিচার্ড ডকিন্স এর দি সেলফিশ জীন: অষ্টম অধ্যায়, শেষ পর্ব

ছবি: শিল্পী আসমা সুলতানা)

রিচার্ড ডকিন্স এর দি সেলফিশ জীন: অষ্টম অধ্যায়, প্রথম পর্ব
রিচার্ড ডকিন্স এর দি সেলফিশ জীন: অষ্টম অধ্যায়, দ্বিতীয় পর্ব
রিচার্ড ডকিন্স এর দি সেলফিশ জীন: অষ্টম অধ্যায়, তৃতীয় পর্ব
রিচার্ড ডকিন্স এর দি সেলফিশ জীন: অষ্টম অধ্যায়, চতুর্থ পর্ব

 

ক্লাচের আকার সংক্রান্ত ল্যাক এর তত্ত্ব পিতামাতার দৃষ্টিভঙ্গী দিয়ে কোনটি সবচেয়ে উপযুক্ত সেটি বিবেচনা করে। আমি যদি কোন মা সোয়ালো হয়ে থাকি, আমার দৃষ্টিভঙ্গী থেকে সবচেয়ে উপযুক্ত ক্লাচ সাইজ হবে, ধরুন পাচ।কিন্তু আমি যদি শিশু সোয়ালো হয়ে থাকি,তাহলে আমার জন্য উপযুক্ত ক্লাচ সাইজ হবে আরো ছোট কোন সংখ্যা, শর্ত শুধু আমিও তাদের একজন হবো। পিতামাতার একটি নির্দিষ্ট পরিমান পিতামাতার বিনিয়োগ আছে, যা সে চায় তার পাচটি সন্তানের মধ্যে সমানভাবে বন্টন করতে, কিন্তু প্রতিটি শিশু তাদের নায্য প্রাপ্য এক পঞ্চমাংশভাবে আরো বেশী দাবী করে। কোকিলের ব্যতিক্রম, সে পুরোটা চায় না, কারন সে অন্য ভাইবোনদের সাথে জীনগতভাবে আত্মীয়তার সম্পর্ক বহন করে।কিন্তু সে এক পঞ্চমাংশ ভাগের বেশী পরিমানে চায়। সে এক চতুর্থাংশ ভাগ অনায়াসে নিশ্চিৎ করতে পারে, নীড় থেকে একটি ডিম ছুড়ে ফেলে দিয়ে। জীনের ভাষায় অনুবাদ করলে, একটি কোন জীন যা ভাতৃহত্যার জন্য দায়ী, কল্পনা করা সম্ভব যে জীন পুলে ছড়িয়ে পড়বে কারন এর ১০০ শতাংশ সম্ভাবনা আছে ভাতৃহত্যাকারী কোন প্রানী সদস্যর শরীরে থাকার। কিন্তু মাত্র ৫০ শতাংশ সম্ভাবনা আছে এই ভাতৃহত্যার শিকার কোন সদস্যর শরীরে থাকার।

এই তত্ত্বটির মুল বিরোধিতা হচ্ছে যে খুবই কঠিন বিশ্বাস করা যে কেউই এই অশুভ আচরণ দেখবেন না যদি এটি সত্যি ঘটে। আমার কাছে কোন বিশ্বাসযোগ্য ব্যাখ্যা নেই এর।বহু ধরনের সোয়ালো আছে সারা পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে।আমরা জানি যে সোয়ালোদের স্প্যানিশ গ্রুপ কিছু কিছু বিশেষ ক্ষেত্রে যেমন বৃটিশ সোয়ালোদের থেকে ভিন্ন।বৃটিশ সোয়ালোদের মত স্প্যানিশ সোয়ালোদের উপর একই মাত্রার নিবিড় কোন গবেষনা হয়নি এবং আমার মনে হয় এটি সম্ভাব্য যে ভাতৃহত্যা সেখানেও ঘটে কিন্তু বিষয়টি খেয়াল করা হয়নি।

Continue reading “রিচার্ড ডকিন্স এর দি সেলফিশ জীন: অষ্টম অধ্যায়, শেষ পর্ব”

রিচার্ড ডকিন্স এর দি সেলফিশ জীন: অষ্টম অধ্যায়, শেষ পর্ব

রিচার্ড ডকিন্স এর দি সেলফিশ জীন: অষ্টম অধ্যায়, চতুর্থ পর্ব


(ছবি: শিল্পী আসমা সুলতানা)

রিচার্ড ডকিন্স এর দি সেলফিশ জীন: অষ্টম অধ্যায়, প্রথম পর্ব
রিচার্ড ডকিন্স এর দি সেলফিশ জীন: অষ্টম অধ্যায়, দ্বিতীয় পর্ব
রিচার্ড ডকিন্স এর দি সেলফিশ জীন: অষ্টম অধ্যায়, তৃতীয় পর্ব

 

প্রজন্মের যুদ্ধ

কোন একটি একক প্রানীকে একক সারভাইভাল মেশিন হিসাবে রুপকটা যদি ব্যবহার করি, যেখানে সারভাইভাল মেশিন এমনভাবে আচরন করে যেন এর একটি উদ্দেশ্য আছে জীনদের সুরক্ষা করার জন্য, আমরা কোন পিতামাতা ও সন্তানদের মধ্যে সংঘর্ষটি নিয়ে কথা বলতে পারি, প্রজন্মদের মধ্যে কোন একটি দ্বন্দ। এই যুদ্ধটা সুক্ষ্ম ধরনের, এবং কোন ধরনের প্রচলিত নিয়ম দ্বারা এটি আবদ্ধ নয় কোন দিকেই। একটি শিশু কোন সুযোগই নষ্ট করবে না প্রতারিত করার জন্য। সে যতনা তারও বেশী সে নিজেকে ক্ষুধার্ত হিসাবে ভান করবে, হয়তো তার যা বয়স তার চেয়েও ছোট সাজার ভান করবে। এটি অনেক ছোট আর দুর্বল তার পিতামাতাকে শারীরিকভাবে চাপ প্রয়োগ করার জন্য, কিন্তু তার হাতে আছে এমন সব মনোজাগতিক অস্ত্র সে ব্যবহার করবে: মিথ্যা বলা, প্রতারণা করা, নিজের স্বার্থে ব্যবহার করা, ঠিক সে পয়েন্ট অবধি, যখন সে তার আত্মীয়দের শাস্তি দিচ্ছে তাদের মধ্যে জীনগত সম্পর্ক যতটুকু অনুমতি দেয় তারচেয়ে বেশী। পিতামাতা, আবার অন্যদিকে, অবশ্যই সতর্ক হতে হবে প্রতারণা আর ছলনাগুলোর প্রতি এবং অবশ্য চেষ্টা করবে যেন বোকা না বনে যায় সহজে। এটি মনে হতে পারে একটি সহজ কাজ। যদি পিতামাতা জানে যে এর সন্তান এর মিথ্যা বলার সম্ভাবনা আছে সে আসলে কতটা ক্ষুধার্ত সে বিষয়ে, সে হয়তো এমন কোন কৌশল প্রয়োগ করতে পারে, যে একটি নির্দিষ্ট পরিমানই খাওয়াবে তার বেশী নয়, এমনকি যদিও শিশুটি চিৎকার করে যেতে থাকে। এর একটি সমস্যা হচ্ছে যে শিশুটি হয়তো মিথ্যা কিছু বলছে না, এবং যদি এটি মারা যায় না খেতে পাবার কারনে তাহলে বাবা মা এর কিছু মুল্যবান জীন হারাবে।

বুনো পাখিরা মারা যেতে পারে মাত্র কয়েকঘন্টা না খেয়ে থাকলে। এ জাহাভী (আমোৎস জাহাভী : ইসরাইলের বিবর্তন জীববিজ্ঞানী)  প্রস্তাব করেছেন যে একটি সুনির্দিষ্ট নিষ্ঠুর শিশুদের ব্ল্যাকমেইল এর: শিশুরা এমনভাব চিৎকার করে যেমন এটি নীড়ের দিকে ইচ্ছা করে শিকারী প্রানীদের দৃষ্টি আকর্ষন করে। শিশুটি যেন বলছে, শিয়াল, শিয়াল, আসলে আমাকে শিকার করো। আর যে একটি মাত্র উপায়ে পিতামাতা তাকে চুপ করাতে পারে তাহলো একে খাওয়ানো। সুতরাং শিশু তার নায্যভাবে যতটুকু খাদ্য পাবার কথা ছিল তারচেয়ে বেশী পায়, তবে তার ঝুকি বাড়িয়ে সেই মুল্য পরিশোধ করতে হয়েছে। এই নিষ্ঠুর কৌশলের নীতি একই রকম সেই হাইজাকারের মত, যে কিনা কোন উড়েোজাহাজ উড়িয়ে দেবার জন্য হুমকি দিচ্ছে তার নিজেকে সহ, যদি না তাকে মুক্তিপন দেয়া না হয়। আমি সন্দিহান এটি আদৌ কখনো বিবর্তনের সুবিধা পেতে পারে কিনা, শুধু এই কারন না যে তারা ‍খুবই নিষ্ঠুর বরং আমার সন্দেহ ব্ল্যাকমেইল করা কোন সন্তানের কি আসলেই কোন উপকার হয়। কারন তার হারাবার বহু কিছু আছে যদি আসলেই কোন শিকারী প্রানী আক্রমন করে। বিষয়টি স্পষ্ট যখন একটি মাত্র বাচ্চা থাকে, যে বিষয়টি নিয়ে জাহাভী নিজে গবেষনা করেছেন। তার মা তার জন্য ইতিমধ্যে যত কিছু বিনিয়োগ করুক না কেন, তার নিজের জীবনের মুল্য তারপরও তার বেশী দেয়া উচিৎ, তার মা যতটা মুল্য দেয় তারচেয়ে বেশী, কারন তার মা শুধু তার অর্ধেক পরিমান জীন বহন করে। উপরন্তু, এই কৌশলটি কোন সুফল দেবে না এমনকি যদি ব্ল্যাকমেইলার হয়ে থাকে সেই ক্লাচের সবচেয়ে ঝুকিপুর্ণ শিশু, তারা সবাই একই নীড়ের বাসিন্দা, যেহেতু ব্ল্যাক মেইলার এর ৫০ শতাংশ জীন এর বাজি আছে তার প্রতিটি হুমকির মুখে থাকা ভাই বোনদের উপর যেমন ১০০ শতাংশ বাজী তার নিজের ধারন করা জীন এর সাথে। আমি মনে করি তত্ত্বটি হয়তো ভাবা যেতে পারে কাজ করে যদি মুল শিকারী প্রানীর এমন কোন প্রবণতা থাকে যে পাখির নীড়ের সবচেয়ে বড় বাচ্চাটিকে প্রথম ধরে নিয়ে যায়। তাহলে হয়তো আকারে ছোট শিশুদের জন্য লাভজনক হবে কোন শিকারী প্রানীকে ডাকাকে হুমকি হিসাবে ব্যবহার করার জন্য, কারন এটি তাকে অতিরিক্ত বেশী কোন ঝুকির মধ্যে ফেলবে না। এটি তুলনা করা যেতে পারে, আপনার ভাই এর মাথায় পিস্তল ঠেকানোর মত, নিজেকে বোমা মেরে উড়িয়ে দেবার হুমকি দেবার বদলে। আরো সম্ভাব্য এই ব্ল্যাকমেইল করার কৌশল হয়তো কোন শিশু কোকিলের স্বার্থ রক্ষা করে।

Continue reading “রিচার্ড ডকিন্স এর দি সেলফিশ জীন: অষ্টম অধ্যায়, চতুর্থ পর্ব”

রিচার্ড ডকিন্স এর দি সেলফিশ জীন: অষ্টম অধ্যায়, চতুর্থ পর্ব

রিচার্ড ডকিন্স এর দি সেলফিশ জীন: অষ্টম অধ্যায়, তৃতীয় পর্ব

sfg
(ছবি: শিল্পী আসমা সুলতানা)

রিচার্ড ডকিন্স এর দি সেলফিশ জীন: অষ্টম অধ্যায়, প্রথম পর্ব
রিচার্ড ডকিন্স এর দি সেলফিশ জীন: অষ্টম অধ্যায়, দ্বিতীয় পর্ব

প্রজন্মের যুদ্ধ

এই মুহুর্তটি মনে হয় উত্তম আরো একটি বিস্মকর প্রপঞ্চর বিষয়টি উল্লেখ করার জন্য, যা পরিচিত রজোনিবৃত্তি বা মেনোপজ নামে । মেনোপজ হচ্ছে মধ্য বয়সে, বরং হঠাৎ করে মানব নারীর প্রজনন উর্বরতার সমাপ্তি।আমাদের প্রাচীন উত্তরসুরীদের মধ্যে মেনোপজ তেমন সচরাচর দেখা যেত না, কারন বহু নারী সেই সময় অবধি বেচে থাকতেন না। কিন্তু তারপরও হঠাৎ করে নারীর জীবনের এই পরিবর্তন আর পুরুষের উর্বরতার ক্ষেত্রে ধীর পরিবর্তন ইঙ্গিত করে, মেনোপজ প্রক্রিয়াটিতে কোন কিছু আছে যাকে আমরা বলতে পারবো জীনগত ভাবে পুর্বপরিকল্পিত – বা বলা যায় একটি অভিযোজন। বরং বেশ কঠিন এটি ব্যাখ্যা করা। প্রথমে দৃষ্টিতে আমরা আশা করি যে কোন নারী তার মুত্যুর আগ অবধি সন্তান ধারন করা অব্যাহত রাখবে, এমনকি বয়স বাড়ার সাথে সাথে তার জন্ম দেয়া কোন বাচ্চা যে বাচবে সেই সম্ভাবনাটাও কমতে থাকে। নি্শ্চয়ই মনে হতে পারে কাজটি করার প্রচেষ্টা অবশ্যই লাভজনক, তাই না ? কিন্তু আমরা অবশ্যই মনে রাখবো সে তার নাতি নাতনীদেরও জীনগতভাবে আত্মীয়, যদিও তার সন্তানদের সাথে যতটা, তার অর্ধেক মাত্রায়।

Continue reading “রিচার্ড ডকিন্স এর দি সেলফিশ জীন: অষ্টম অধ্যায়, তৃতীয় পর্ব”

রিচার্ড ডকিন্স এর দি সেলফিশ জীন: অষ্টম অধ্যায়, তৃতীয় পর্ব

রিচার্ড ডকিন্স এর দি সেলফিশ জীন: অষ্টম অধ্যায়, দ্বিতীয় পর্ব

রিচার্ড ডকিন্স এর দি সেলফিশ জীন: অষ্টম অধ্যায়, প্রথম পর্ব
রিচার্ড ডকিন্স এর দি সেলফিশ জীন: অষ্টম অধ্যায়, দ্বিতীয় পর্ব

প্রজন্মের যুদ্ধ

পিতামাতার বিনিয়োগ সম্পুর্ণভাবে কোন একটি আদর্শ পরিমাপ না, কারন এটি বাড়তি গুরুত্বারোপ করে শতাংশর গুরুত্বের উপর, জেনেটিক সম্পর্কের বীপরিতে। আদর্শ পরিস্থিতিতে আমাদের উচিৎ হবে সাধারনীকৃত altruism investment বা পরার্থবাদীতার বিনিয়োগ পরিমাপটি ব্যবহার করার জন্য। সদস্য ‘ক’ হয়তো বলা যেতে পারে ‘খ’ এর উপর বিনিয়োগ করেছে, যখন ‘ক’, ‘খ’ এর টিকে থাকার সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেয়, তার নিজের এবং অন্যদের প্রতি একই ভাবে বিনিয়োগ করার ক্ষেত্রে ক এর যোগ্যতার মুল্যর বিনিময়ে। সব মুল্য পরিশোধ সঠিক আত্মীয়তার পরিমাপে ওজন করা। এভাবে কোন পিতামাতার কোন একটি শিশুর প্রতি বিনিয়োগ আদর্শগত ভাবে পরিমাপ করতে হবে শুধূ মাত্র তাদের অন্য সন্তানদের প্রত্যাশিত আয়ুষ্কার হ্রাস করার অর্থেই না, বরং সেই হিসাবে আছে ভাইপো, ভাইঝি, সে নিজেও ইত্যাদি। অনেক ক্ষেত্রে যদি এটি মুল বিষয়টি এড়িয়ে চলা, কথার মার প্যাচে, এবং ট্রিভার্স এর পরিমাপ ব্যবহারিক ক্ষেত্রে ব্যবহার করার অনেক সুফল আছে। এখন যে কোন একটি নির্দিষ্ট প্রাপ্তবয়স্ক সদস্য,তার সারা জীবনে, এটি নির্দিষ্ট মোট পরিমান পিতামাতার বিনিয়োগ থাকে যা সে তার সন্তানদের জন্য বিনিয়োগ করতে পারে ( এবং অন্যান্য আত্মীয়ওরাও এবং সে নিজে, তবে খুব সরল কারনে আমরা শুধুমাত্র সন্তানদের কথাই বিবেচনা করবো এখানে); এটি প্রতিনিধিত্ব করে সর্বমোট পরিমান খাদ্য যে জড়ো করতে পারে বা তৈরী করতে পারে তার সারাজীবনের শ্রমের বিনিময়ে, সেই সব ঝুকিগুলো যা সে প্রস্তুত নেবার জন্য এবং সব শক্তি আর পরিশ্রম যা সে ব্যবহার করতে পারে তার শিশুদের কল্যানে।

Continue reading “রিচার্ড ডকিন্স এর দি সেলফিশ জীন: অষ্টম অধ্যায়, দ্বিতীয় পর্ব”

রিচার্ড ডকিন্স এর দি সেলফিশ জীন: অষ্টম অধ্যায়, দ্বিতীয় পর্ব

রিচার্ড ডকিন্স এর দি গ্রেটেষ্ট শো অন আর্থ : ষষ্ঠ অধ্যায় (শেষ পর্ব)

artist-impression-of-odontochelys-semitestacea

turtle-shell-evolution-1 turtle-shell-evolution-2ছবি: Odontochelys semistestacea  চীনে আবিষ্কৃত এই জীবাশ্মটি আপাতত খুজে পাওয়া সবচেয়ে প্রাচীনতম কচ্ছপের জীবাশ্ম। প্রায় ২২০ মিলিয়ন বছর প্রাচীন জীবাশ্মটি কিভাবে তাদের খোলশ বিবর্তন করেছিলে সেই রহস্যটি উন্মোচনে গুরুত্বপুর্ণ ভুমিকা পালন করেছে। এর আবিষ্কারের পর পরই বিতর্কটি সুচনা হয়, কিভাবে এদের খোলস বিবর্তিত হয়েছে। জীবাশ্মটির  আবিষ্কার মেরুদন্ড আর পাজরের এর সম্প্রসারণ হিসাবে খোলসের বিবর্তনের স্বপক্ষে বেশ শক্তিশালী প্রমানের যোগান দেয়। জীবাশ্মটির শরীরের নীচের দিকে আংশিক খোলস এবং উপরের খোলস এর অনুপস্থিতি চের খোলসটি যে আগে বিবর্তিত হয়ে সেই বিষয়টি প্রমানিত করেছে। িএছাড়া এটি বিবর্তিত হয়েছে সমুদ্রে বিশেষ করে নীচের দিক থেকে শিকারী প্রাণীর আক্রমন বিরোধী একটি বর্ম হিসাবে। কিন্তু তারা আবার যখন স্থলবাসী হয় তখন তাদের উপরের খোলসটি বিবর্তিত হয়, যা তাদের প্রতিরক্ষা বর্ম হিসাবে বিশেষ গুরুত্বপুর্ণ ভুমিকা রাখতে শুরু করে।

Manchurochelysliaoxiensis Placodonts

রিচার্ড ডকিন্স এর দি গ্রেটেষ্ট শো অন আর্থ :  ষষ্ঠ অধ্যায়  (শেষ পর্ব)
( অনুবাদ প্রচেষ্টা: কাজী মাহবুব হাসান)

The Greatest Show on Earth: The evidence for evolution by Richard Dawkins

 প্রথম অধ্যায়
দ্বিতীয় অধ্যায়
তৃতীয় অধ্যায় ( প্রথম পর্ব)  তৃতীয় অধ্যায় ( দ্বিতীয় পর্ব)তৃতীয় অধ্যায় ( শেষ পর্ব)
চতুর্থ অধ্যায় (প্রথম পর্ব) | চতুর্থ অধ্যায় (দ্বিতীয় পর্ব)
চতুর্থ অধ্যায় (তৃতীয় পর্ব) | চতুর্থ অধ্যায় ( শেষ পর্ব)
পঞ্চম অধ্যায়: প্রথম পর্ব | পঞ্চম অধ্যায়: দ্বিতীয় পর্ব |
পঞ্চম অধ্যায়: তৃতীয় পর্ব | পঞ্চম অধ্যায়: শেষ পর্ব |
ষষ্ঠ  অধ্যায়: প্রথম পর্বদ্বিতীয় পর্ব | তৃতীয় পর্ব | চতুর্থ পর্ব

 মিসিং লিঙ্ক ? ঠিক কি বোঝাতে চাইছেন আপনি ’মিসিং’ শব্দটি দিয়ে?

সমুদ্র থেকে আবার শুকনো মাটিতে ….

এবার আমি আরো একটি গ্রুপের প্রানীদের কথা আলোচনা করবো, যারা সমুদ্র থেকে আবার ফিরে গেছে শুকনো মাটিতে স্থলবাসী হবার জন্য আর এরা বিশেষভাবে একটি কৌতুহল্লোদ্দীপক উদহারণ কারন এদের কেউ কেউ আবার প্রক্রিয়ার প্রতিবর্তন করে পুনরায় পানি ছেড়ে ডাঙ্গায় ফিরে এসেছে দ্বিতীয়বারের মত; সী টার্টল (Sea turtle-সামুদ্রিক কচ্ছপ), একটি গুরুত্বপুর্ণ ক্ষেত্রে পুরোপুরি পানিতে ফিরে যায়নি তিমি বা ডুগংদের মত, কারন তারা এখনও সমুদ্রের  বেলা ভুমিতে ডিম পাড়ে। এবং সমুদ্রে প্রত্যাবর্তন করা সব মেরুদন্ডী প্রানীদের মত, টার্টলরা বাতাসে শ্বাস নেবার প্রক্রিয়াটা ত্যাগ করেনি। এবং এই বিশেষ ক্ষেত্রে এদের কেউ কেউ বেশ খানিকটা সামনে এগিয়ে গেছে তিমিদের চেয়ে। এই কচ্ছপগুলো পানি থেকে বাড়তি অক্সিজেন সংগ্রহ করতে পারে, তাদের শরীরের পেছনের এক জোড়া প্রকোষ্ঠ ব্যবহারের মাধ্যমে, যেখানে রক্ত চলাচল বেশ সমৃদ্ধ। একটি অষ্ট্রেলিয় রিভার টার্টল (যেভাবে কোন অষ্ট্রেলীয় কখনোই ইতস্তত বোধ করবেন না) আসলে তাদের সিংহভাগ অক্সিজেন পায় পায়ুপথের মাধ্যমে।

আরও গভীরে যাবার আগে,  আমি আবারো এড়াতে পারবো না সেই নামকরণের ক্লান্তিকর প্রক্রিয়ায় বিশেষ বিষয়টি, জর্জ বার্ণাড শ র একটি দু:খজনক পর্যবেক্ষনের সত্যতার প্রমান মেলে যেখানে: ইংল্যান্ড এবং আমেরিকা দুটি দেশ যাদের বিভাজিত করেছে একটি সাধারণ ভাষা। ব্রিটেনে টার্টল বাস করে সাগরে, টরটয়েস (Tortoise) বাস করে স্থলে এবং টেরাপিনস (Terrapin) বাস করে মিঠাপানি কিংবা নোনা পানিতে। আর আমেরিকায় এই সব প্রানী হচ্ছে টার্টল, তারা পানি কিংবা ডাঙ্গায় যেখানেই বাস করুক না কেন। ল্যান্ড টার্টল শুনলে আমার কাছে অদ্ভুত মনে হয়, কিন্তু কোন অ্যামেরিকান এর কাছে তা মনে হয়না। যাদের জন্য টরটয়েস হচ্ছে টার্টলদের সাবসেট, যারা ডাঙ্গায় বাস করে। কিছু আমেরিকাবাসীরা টরটয়েস শব্দটি ব্যবহার করে কঠোর ট্যাক্সোনোমিক অর্থে Testudinidae এর বর্ণনা করার জন্য, এটি সকল স্থলবাসী টরটয়েস দের বৈজ্ঞানিক নাম। ব্রিটেনে আমরা স্থলবাসী যেকোন chelonian কে টরটয়েস বলতে পছন্দ করি, তারা Testudinidae গণ র অন্তর্ভুক্তে হোক বা না হোক ( যেমনটি আমরা দেখবো, জীবাশ্ম টরটয়েসও আছে যারা স্থলে বাস করতো কিন্তু Testudinida পরিবারের সদস্য নয়);পরবর্তী আলোচনা যেটা হবে আমি সেখানে কোন ধরনের সংশয় এড়াতে চাচ্ছি, এবং ব্রিটেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের ( এবং অষ্ট্রেলিয়া, সেখানে আবার এই শব্দগুলোর ব্যবহার ভিন্ন) জন্য বিশেষ ছাড় দিয়ে। কিন্তু আসলেই কাজটি কঠিন। এই নামকরণ ব্যপারটি খুবই এলোমেলো, যদি হালকা ভাবে বলি।প্রাণীবিজ্ঞানীরা ব্যাবহার করেন chelonians শব্দটি, এই সব প্রানীদের বোঝানোর জণ্য, টার্টল, টরটয়েস এবং টেরাপিন, যে সংস্করণের  ইংলিশই আমরা ব্যবহার করি না কেন।

Continue reading “রিচার্ড ডকিন্স এর দি গ্রেটেষ্ট শো অন আর্থ : ষষ্ঠ অধ্যায় (শেষ পর্ব)”

রিচার্ড ডকিন্স এর দি গ্রেটেষ্ট শো অন আর্থ : ষষ্ঠ অধ্যায় (শেষ পর্ব)

রিচার্ড ডকিন্স এর দি গ্রেটেষ্ট শো অন আর্থ : ষষ্ঠ অধ্যায় (চতুর্থ পর্ব)

whale_evo

ছবি:  তিমির বিবর্তন: প্রায় ৫০মিলিয়ন বছরের আগে িইকোসিন  ইপোকে বর্তমান স্পেন থেকে েইন্দোনেশিয়া পর্যন্ত বিস্তৃত একটি অপেক্ষাকৃত অগভীর সমুদ্র ছিল। এই সময়েই সিটাসিয়ানরা যেমন বর্তমান তিমির পুর্বসুরী প্রজাতিরা জলে প্রত্যাবর্তন করে। তখনও ভারত একটি দ্বীপ, ইউরেশিয়ার ভুখন্ডের সাথে যুক্ত হয়নি, তৈরী হয়নি হিমালয়, পাকিস্থান কেবল ভারতের একটি উপকুল অঞ্চল; আদি তিমিদের জীবাশ্মগুলোর অনেকগুলোই এখানেই সন্ধান পাওয়া গেছে। আদি তিমিদের তখন দেখলে বর্তমান বিশাল তিমিদের সাথে বাহ্যিক কোন মিল চোখে পড়তো না, তারা তাদের লেজ দিয়ে সাতার কাটতো না, পরিবর্তিত পা দিয়ে তারা সাতার কাটতে শিখেছিল এবং ক্রমেই তারা পেছনের পা হারায়, সামনের পা পরিনত হয় প্যাডেল, লেজ ফ্লুক বিবর্তন হয় সাতারের জন্য। এখনও তিমিরা তার বিবর্তনীয় অতীতের চিহ্ন বহন করছে। (ছবি সুত্র)

gingerich-earbonesছবি: পাকিস্থান ও মিশরে কিছু রহস্যময় প্রজাতির জীবাশ্ম আবিষ্কার করার আগ পর্যন্ত্য জীবাশ্মবিদ ফিলিপ গিঙরিচ (Philip Gingerich) এর তিমি র বিবর্তনে বিশেষ কোন আগ্রহই ছিল না; ১৯৭৮ সালে পাকিস্থানের উত্তরাঞ্চলে প্রথম ঘোড়ার সম্ভাব্য পুর্বসুরী প্রজাতির জীবাশ্ম খোজার সময় তার সহযোগীরা খুজে পান একটি নেকড়ে সদৃশ প্রানীর মাথার খুলি; পরে পুর্ণাঙ্গ জীবাশ্ম প্রজাতিটির নাম দেয়া হয়Pakicetus inachus — যার ব্রেইন এর আকৃতি এবং কানের বিশেষ গঠন দেখেই তিনি এর সাথে তিমির প্রথম যোগসুত্রটি করেন। পরে আরো কিছু জীবাশ্ম (যেমন মিশরের মরুভুমিতে পাওয়া  Bacilosaurus এবং পাকিস্থানে Rhodocetus  Maiacetus) এবং বিজ্ঞানের নানা শাখা থেকে সংগ্রহ করা প্রমান ও তার তিন দশকের গবেষনা প্রথম বারের মত সুস্পষ্টভাবে প্রমান করে প্রায় ৫০ মিলিয়ন বছর আগে েইকোসিন পর্বে স্থলবাসী স্তন্যপায়ী আর্টিওডাকটাইল বা Even-Toed Ungulates( বা ইভেন টোড: যাদের জোড় সংখ্যার পায়ের আঙ্গুল থাকে ও শরীরের ভার তাদের তৃতীয় এবং চতুর্থ পায়ের আঙ্গুল সমানভাবে বহন করে, আর আঙ্গুলেটস বলতে সেই সব প্রানী যা যাদের পায়ের আঙ্গুলের নোখে কেরাটিন এর শক্ত একটি অংশ থাকে, যাকে Hoof বা খুর বলা হয়, যেমন গরু, উট, শুকর ইত্যাদি , ঘোড়ারাও আঙ্গুলেট তবে তারা অড টোড বা তাদের বেজোড় সংখ্যক পায়ের আঙ্গুল থাকে, শরীরের ভার মুলত বহন করে তৃতীয় আঙ্গুলটি , এছাড়াও আর্টিওডাকটাইলদের বেশ কিছু  বৈশিষ্ট আছে) পুর্বসুরী থেকে Cetacean ( তিমি,ডলফিন ও পরপয়েস) বর্গের স্তন্যপায়ীরা বিবর্তিত হয়েছিল। আজকের সিটাসিয়ান যেমন তিমি রা সম্পুর্ণ জলজ প্রানী তবে আদি সিটাসিয়ানরা ছিল উভচরী; ভারত এবং পাকিস্থান থেকে পাওয়া জীবাশ্মগুলো ধারাবাহিক এই বিবর্তনের অন্তর্বতী কালীন সবগুলো পর্যায়কে বর্ণনা করতে সহায়তা করেছে, কিভাবে িএকটি স্থলবাসী প্রানী ক্রমান্বয়ে বিবর্তিত হয়ে তিমি ও সমগোত্রীয় জলজ প্রানীতে। (Photo: Eric Bronson, U-M Photo Services.)

রিচার্ড ডকিন্স এর দি গ্রেটেষ্ট শো অন আর্থ :  ষষ্ঠ অধ্যায়  (চতুর্থ পর্ব)
( অনুবাদ প্রচেষ্টা: কাজী মাহবুব হাসান)

The Greatest Show on Earth: The evidence for evolution by Richard Dawkins

 মিসিং লিঙ্ক ? ঠিক কি বোঝাতে চাইছেন আপনি ’মিসিং’ শব্দটি দিয়ে?

আবার ফিরতে হবে সমুদ্রে….

পানি থেকে স্থলে বসবাস শুরু করার সেই বিবর্তনীয় প্রক্রিয়ায় জীবনের প্রায় সবক্ষেত্রে বড় মাপের পুণ:পরিকল্পনার প্রয়োজন আছে। শ্বাস নেওয়া থেকে প্রজনন :  জীববিজ্ঞানের জগতে বিশাল বড় একটি অভিযান; তাস্বত্তেও, আপাতদৃষ্টিতে দেখে মনে হতে পারে প্রায় খামখেয়ালী কোন বিরুদ্ধাচারণ কিংবা বিকৃতি, অনেক বেশ সফল স্থলবাসী প্রানীও পরবর্তীতে উল্টোপথে যাত্রা করছে, তারা তাদের বহু কষ্টে পাওয়া স্থল নিবাসের নানা বৈশিষ্টগুলো পরিত্যাগ করে আবার পানিতে ফিরে গিয়েছিলো। সিল এবং সী লায়নরা গিয়েছে আংশিক পথ।তারা আমাদের দেখিয়েছে  এই দুইয়ের মধ্যে অন্তর্বর্তীকালীন প্রজাতিটি দেখতে কেমন ছিল, যখন তারা পুরোপুরি জলজ প্রানীতে রুপান্তরিত হয়েছে যেমন তিমি আর ডুগং রা। তিমিরা ( এবং ছোট তিমিরাও, যাদের আমরা ডলফিন বলি) এবং ডুগং রা ও তাদের নিকটবর্তী আত্মীয় প্রজাতি যেমন ম্যানিতি, পুরোপুরি ভাবে স্থলবাসী জীবন পরিত্যাগ করে আবার তাদের দুরবর্তী পুর্বসুরীদের সামুদ্রিক জীবন বেছে নিয়েছে। এমনকি তারা প্রজননের জন্য সমুদ্রের তীরেও আসেনা। যদিও তারা  এখনও বাতাসে নি:শ্বাস নেয়, পুরোপুরি ভাবে তাদের সামুদ্রিক পুর্বসুরীদের ফুলকার সমতুল্য কোন কিছু তারা আর বিবর্তিত করতে পারেনি। অন্য যে প্রানীরা যারা স্থল থেকে আবার পানি তে ফিরে গেছে, নিদেনপক্ষে কিছুটা সময়, তারা হচ্ছে পন্ড স্নেইল, ওয়াটার স্পাইডার, ওয়াটার বিটল, কুমির,ওটার, সামুদ্রিক সাপ, ওয়াটার শ্রিউ, গালাপাগোস দ্বীপের উড্ডয়ন অক্ষম করমোরান্ট, গালাপাগোস এর সামুদ্রিক ইগুয়ানা, ইয়াপোকস ( দক্ষিন আমেরিকার পানীবাসী মারসুপিয়াল), প্লাটিপাস, পেঙ্গুইন, কচ্ছপ।

Continue reading “রিচার্ড ডকিন্স এর দি গ্রেটেষ্ট শো অন আর্থ : ষষ্ঠ অধ্যায় (চতুর্থ পর্ব)”

রিচার্ড ডকিন্স এর দি গ্রেটেষ্ট শো অন আর্থ : ষষ্ঠ অধ্যায় (চতুর্থ পর্ব)

রিচার্ড ডকিন্স এর দি গ্রেটেষ্ট শো অন আর্থ : ষষ্ঠ অধ্যায় (দ্বিতীয় পর্ব)

ছবি: কোন জীবাশ্মকে যদি সেলিব্রিটির মর্যাদা দেয়ার কথা ভাবা হয় তবে তার প্রথম দাবীদার অনায়াসে হতে পারে Archaeopteryx lithographica (উপরের ছবিটি আর্কিওপটেরিক্স এর বার্লিন স্পেসিমেন) জীবাশ্ম রেকর্ডে আপাতত খুজে পাওয়া এটি আদিমতম পাখি (তবে তার সেই অবস্থান এখন চ্যালেন্জ এর মুখে); ১৮৬১ সালে জার্মানীর শনহোফেন লাইমস্টোন কোয়ারীতে খুজে পাওয়া আর্কিওপটেরিক্স আকারে প্রায় ১.৬ ফুট মত লম্বা হত।  জীবাশ্মটির বয়স প্রায় ১৫০ মিলিয়ন বছর, জুরাসিক পর্বের ঠিক শেষ দিকে; পাখির মত পালক সহ ডানা অথচ ডায়নোসরের মত দাতযুক্ত চোয়াল, দীর্ঘ লেজ প্রথম ইঙ্গিত দিয়েছিল পাখিরা ডায়নোসরদের থেকে বিবর্তিত হয়েছে। যদিও সেই সময়ের বিজ্ঞানীরা প্রস্তুত ছিলেন না সেই যোগাযোগটি প্রতিষ্ঠা করার জন্য। তবে সেই ১৮৭০ সালে টমাস হাক্সলি, প্রথম এর পাখি আর ডায়নোসরের মধ্যে যোগসুত্রটি িউল্লেখ করেন, পরে ৭০ এর দশকে, প্রায় ১০০ বছর পর আবার বিষয়টি আলোচনায় নিয়ে আসেন ইয়েল বিশ্বাবদ্যালয়ের জন এইচ ওস্ট্রম। সেই বিতর্কটি অমীমাংসিত থেকে নব্বই এর দশকের মাঝামাঝি অবধি, এরপর চীনে জীবাশ্মবিদরা একের পর এক অসাধারন সব জীবাশ্ম খুজে বের করেন, যা পরবর্তীতে আরো দৃঢ়ভাবে প্রমান করে স্থলবাসী,ক্ষিপ্রগতির, মাংশাসী থেরোপড ডায়নোসরদেরই বংশধর আজকের পাখিরা। তবে এটাও প্রমান হয়, পাখিদের বিশেষ বৈশিষ্টগুলোও আসলে পাখিদের বিবর্তনের অনেক আগে বিবর্তিত হয়েছিল থেরোপড ডায়নোসরদের মধ্যে। আর পাখিদের বিবর্তনের সাথে তাদের উড়বার ক্ষমতার বিবর্তন ঘটেছিল তারও পরে।  (ছবিসুত্র:  উইকিপেডিয়া);

i-8352ab5f48430584ce06b635ed73bd3d-xiaotingiaছবি: ২০১১ সালে চীনে খুজে পাওয়া জীবাশ্ম  Xiaotingia zhengi  প্রায় ১৫৫ মিলিয়ন বছর আগে; আর্কিওপটেরিক্স এর মত এর কিছু বৈশিষ্ট আছে আবার পালকযুক্ত অন্য ডায়নোসরদের সাথে  এর বেশ মিল আছে। এটি আবিষ্কারের পুর্বে প্রথমদিককার পাখি হিসাবে আর্কিওপটেরিক্স এর অবস্থানটি খানিকটা নড়বড়ে হয়ে গিয়েছে। কারন সিস্টেম্যাটিক্স এ  আর্কিওপটেরিক্স এর অবস্থান ছিল প্রাচীন তম পাখি সদৃশ অ্যাভিয়ালান হিসাবে ( যদিও আর্কিওপটেরিক্স কিংবা িএটি সরাসরি পাখিদের পুর্বসুরী প্রানী হয়, তবে এরা ট্রানজিশনাল প্রজাতির চমৎকার উদহারণ), এটির ডাটা যোগ হবার পর এর অবস্থান পাখিদের থেকে খানিকটা দুরে  Deinonychosaurs দিকে নিয়ে এসেছে আর সেই সাথে এটিও আর্কিওপটেরিক্সকেও বের করে এনেছে তাদের গ্রুপে। (সুত্র : Nature);

800px-sinosauropteryxfossil
ছবি: ১৯৯৫/৯৬ সালে চীনে খুজে পাওয়া Sinosauropteryx ( যার অর্থ Chinese reptilian wing বা চীনা সরীসৃপের ডানা কিংবা পালক) একটি জীবাশ্ম; এটাই প্রথম পাখি ও তাদের নিকট প্রজাতিগুলো বা Avialae গোষ্ঠীর বাইরে খুজে পাওয়া প্রজাতি, যাদের পালক বা এর আদি একটি সংস্করণ ছিল। এটি প্রমান করেছিল, পাখিদের বিবর্তনের পুর্বেই পাখিদের বেশ কিছু বৈশিষ্ট ও আচরন থেরোপড ডাইনোসরদের প্রজাতিদের মধ্যে বিবর্তিত হয়েছিল। (উইকিপেডিয়া)

রিচার্ড ডকিন্স এর দি গ্রেটেষ্ট শো অন আর্থ :  ষষ্ঠ অধ্যায়  দ্বিতীয় পর্ব)
( অনুবাদ প্রচেষ্টা: কাজী মাহবুব হাসান)

The Greatest Show on Earth: The evidence for evolution by Richard Dawkins

 প্রথম অধ্যায়
দ্বিতীয় অধ্যায়
তৃতীয় অধ্যায় ( প্রথম পর্ব)  তৃতীয় অধ্যায় ( দ্বিতীয় পর্ব)তৃতীয় অধ্যায় ( শেষ পর্ব)
চতুর্থ অধ্যায় (প্রথম পর্ব) | চতুর্থ অধ্যায় (দ্বিতীয় পর্ব)
চতুর্থ অধ্যায় (তৃতীয় পর্ব) | চতুর্থ অধ্যায় ( শেষ পর্ব)
পঞ্চম অধ্যায়: প্রথম পর্ব | পঞ্চম অধ্যায়: দ্বিতীয় পর্ব |
পঞ্চম অধ্যায়: তৃতীয় পর্ব | পঞ্চম অধ্যায়: শেষ পর্ব |
ষষ্ঠ  অধ্যায়: প্রথম পর্ব|

 মিসিং লিঙ্ক ? ঠিক কি বোঝাতে চাইছেন আপনি ’মিসিং’ শব্দটি দিয়ে?

আমি বিবর্তনে বিশ্বাস করবো যখন কোন বানর মানুষের বাচ্চা প্রসব করবে:

আরো একবার, মানুষরা কোন বানর থেকে বিবর্তিত হয়নি, বানরদের সাথে দুর অতীতে আমরা একটি সাধারণ পুর্বসুরী প্রানী শেয়ার করেছিলাম মাত্র; ঘটনাচক্রে, এই সাধারণ পুর্বসুরী প্রাণীটি মানুষের চেয়ে বরং বানরদের মতই বেশী দেখতে হবার সম্ভাবনা।আমরা হয়তো তাকে বানরই বলতাম যদি আমাদের দেখা হতো প্রায় ২৫ মিলিয়ন বছর আগে। যদিও মানুষরা বিবর্তিত হয়েছে এমন একটি পুর্বসুরী প্রজাতি থেকে যাদের আমরা যুক্তিসঙ্গতভাবেই বানর বলতে পারি  কিন্তু কোন প্রানী রাতারাতি নতুন কোন প্রজাতির প্রানী প্রসব করতে পারেনা, অন্ততপক্ষে বিশেষ করে বানর আর মানুষের মত ভিন্ন ভিন্ন কোন প্রাণীতো না, এমনকি কোন শিম্পান্জি থেকেও তা সম্ভব না। বিবর্তন তা বলে না। বিবর্তন শুধু একটি ধীর প্রক্রিয়াই শুধু না, বাস্তবিকভাবে, এটাকে অবশ্যই ধীর হতে হবে যদি এটি কোন ধরনের ব্যাখ্যা  দিতে চায়। কোন একটি প্রজন্মে বিশাল একটি লাফ, যেমন কোন একটি বানরের মানব সন্তান এর জন্ম দেবার ব্যপারটা স্বর্গীয় সৃষ্টির মত অসম্ভাব্য একটি ব্যাপার এবং সেই একই কারণে বাদ দেয়া যেতে পারে : কারণটি পরিসংখ্যানগতভাবে অত্যন্ত অসম্ভব একটি ব্যপার। খুবই ভালো হতো যারা বিবর্তন বিরোধী তারা যদি খানিকটা সময় নিয়ে তারা যা বিরোধিতা করছে তার সামান্য কিছু মুল বক্তব্যটা বোঝার চেষ্টা করতেন।

Continue reading “রিচার্ড ডকিন্স এর দি গ্রেটেষ্ট শো অন আর্থ : ষষ্ঠ অধ্যায় (দ্বিতীয় পর্ব)”

রিচার্ড ডকিন্স এর দি গ্রেটেষ্ট শো অন আর্থ : ষষ্ঠ অধ্যায় (দ্বিতীয় পর্ব)