বাস্তবতার জাদু : তৃতীয় অধ্যায়

13567361_313356975719196_2705950465496234074_n

রিচার্ড ডকিন্স : দ্য ম্যাজিক অব রিয়েলিটি 

কেন এত বেশী বিচিত্র ধরনের জীব?

কোনো প্রাণি যেমন দেখতে, কেন তারা তেমন দেখতে হয় সেটি ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেছে নানা ধরনের পূরাণ কাহিনী – কিংবদন্তীর সেই গল্পগুলো ‘ব্যাখ্যা’ করেছে যেমন, কেন চিতাবাঘের গায়ে ফোটা ফোটা দাগ থাকে, কেন খরগোশের সাদা লেজ থাকে । কিন্তু খুব বেশী কোনো পূরাণ কাহিনী নেই যা কিনা পৃথিবীতে এই অসংখ্য ধরনের বৈচিত্রময় জীবদের অস্তিত্বের কারণের ব্যপারে কিছু ব্যাখ্যা দেবার চেষ্টা করেছে। টাওয়ার অব বাবেল এর সেই ইহুদী পুরাণ কাহিনীর সমতুল্য আমি কোনো কিছু পাইনি, যা বহু ধরনের বৈচিত্রময় ভাষার উপস্থিতি ‘ব্যাখ্যা’ করেছিল। বহু দিন আগে, এই কাহিনী অনুযায়ী, সারা পৃখিবীর মানুষ একই ভাষায় কথা বলতো। সুতরাং তারা ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করে অনেক উচু একটি টাওয়ার নির্মাণ করেছিল, তারা আশা করেছিল সেই টাওয়ারটি যেন আকাশ স্পর্শ করে। কিন্তু ঈশ্বর ব্যপারটি লক্ষ্য করেছিলেন, এবং সবাই যে অন্য সবাইকে বুঝতে সক্ষম হচ্ছে বিষয়টি তার বিশেষ পছন্দ হয়নি। কারণ মানুষরা যদি সবাই সবার ভাষা বোঝে আর একসাথে কাজ করে, এরপরে তাহলে তারা কি না করতে পারে? সুতরাং তিনি সিদ্ধান্ত নিলেন তাদের ভাষাগুলোকে ‘বিশৃঙ্খল আর তালগোল পাকিয়ে’ দেবেন, যেন তারা একে অপরের কথা বুঝতে না পারে। সুতরাং এই পূরাণ কাহিনীটি বলছে, কেন পৃথিবীতে এত ভিন্ন ভিন্ন ভাষা আমরা দেখতে পাই এবং কেন, যখন মানুষ অন্য গোত্র বা দেশের মানুষের সাথে কথা বলতে চায়, তাদের কথা শুনলে পরস্পরের কাছে মনে মনে হয় অর্থহীন বকবকানী। যথেষ্ট অদ্ভুত ব্যপার ইংরেজী ব্যবল ( যার অর্থ অসংলগ্ন বা অর্থহীন কথা বলা বা বকবক করা) আর টাওয়ার অব বাবেল এর মধ্যে কোনে শব্দের উৎপত্তিগত যোগসূত্রতা নেই।

আমি একই ধরনের পূরাণ খুজে পাবো বলে আশা করেছিলাম, যা কিনা পৃথিবীতে নানা ধরনের বৈচিত্রময় জীবদের উপস্থিতি ব্যাখ্যা করবে, কারণ প্রাণি ও ভাষা বিবর্তনের মধ্যে খানিকটা সদৃশ্যতা আছে, যেমনটি আমরা দেখবো। কিন্তু আপাতদৃষ্টিতে মনে হচ্ছে এমন কোনো পুরাণ নেই যা সুনির্দিষ্টভাবে বহু বিচিত্র প্রাণিদের অতি বিশাল সংখ্যাটি ব্যাখ্যা করেছে। এটি বেশ বিস্ময়কর, কারণ পরোক্ষ প্রমাণ আছে যে আদিবাসী মানুষরা সেই বাস্তব সত্যটি সম্বন্ধে সচেতন ছিল যে বহু ধরনের প্রাণি আছে। ১৯২০ এর দশকে, এখন অত্যন্ত বিখ্যাত জার্মান বিজ্ঞানী, আর্নস্ট মায়ার পাপুয়া নিউ গিনির হাইল্যাণ্ডে পাখিদের নিয়ে যুগান্তকারী একটি গবেষণা করেছিলেন। তিনি প্রায় ১৩৭ প্রজাতির বিবরণ লিপিবদ্ধ করেন, এবং এরপর তিনি আবিষ্কার করেন, অবশ্যই বিস্ময়ের সাথে, স্থানীয় পাপুয়া আদিবাসীদের কাছে এই ১৩৬ পাখির জন্য আলাদা আলাদা নাম আছে।

Continue reading “বাস্তবতার জাদু : তৃতীয় অধ্যায়”

বাস্তবতার জাদু : তৃতীয় অধ্যায়

বাস্তবতার জাদু : দ্বিতীয় অধ্যায়

13450772_295027890885438_5741499724979303664_n

দ্বিতীয় অধ্যায়: রিচার্ড ডকিন্সের দ্য ম্যাজিক অব রিয়েলিটি 

কে ছিল প্রথম মানুষ ?

এই বইয়ে বেশীর ভাগ অধ্যায়ের শিরোনামে একটি প্রশ্ন আছে। আমার উদ্দেশ্য হচ্ছে সেই প্রশ্নটির উত্তর দেয়া, অথবা, অন্ততপক্ষে সম্ভাব্য সবচেয়ে সেরা উত্তরটি দেবার চেষ্টা করা, যেটি হচ্ছে বিজ্ঞানের উত্তর। কিন্তু সাধারণ আমি শুরু করবো কিছু পৌরাণিক উত্তর দিয়ে কারণ তার বেশ কৌতুহলোদ্দীপক এবং বর্ণিল, এবং সত্যিকারের বাস্তব মানুষরা সেগুলো বিশ্বাস করেছিল, কিছু মানুষ এখনও তা করেন।

পৃথিবীর সব দেশের মানুষদেরই সৃষ্টি সংক্রান্ত পুরাণ কাহিনী আছে, তারা কোথা থেকে এসেছে সেটি ব্যাখ্যা দেবার জন্য। বহু গোত্র ভিত্তিক সৃষ্টি সংক্রান্ত পুরাণ মূলত একটি সুনির্দিষ্ট গোত্র সংশ্লিষ্ট – যেন অন্য কোনো গোত্র ধর্তব্যের মধ্যেই পড়েনা! একই ভাবে, বহু গোত্রের আইন আছে যে তারা মানব হত্যা করবে না – কিন্তু দেখা যায় এই মানব বলতে শুধুমাত্র আপনার নিজের গোত্রের অন্যদেরকেই বোঝায়। অন্য গোত্রের সদস্যদের হত্যা করলে কোনো সমস্যা নেই।

একটি বৈশিষ্ট্যসূচক সৃষ্টি পুরাণের কথা ধরুন, এটি তাসমানিয়ার আদিবাসীদের একটি গ্রুপের। মহাকাশে নক্ষত্রের মধ্যে একটি ভয়াবহ যুদ্ধে মইনি বলে একজন দেবতাকে পরাজিত করে প্রতিদ্বন্দী এক দেবতা যার নাম ড্রোমেরডিনার। মইনি নক্ষত্র থেকে ছিটকে তাসমানিয়ায় এসে পড়েন তার শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করার জন্য। তবে তিনি মারা যাবার আগে, তার চিরন্তিম শয্যার এই জায়গাটি আশীর্বাদপুষ্ট করতে তিনি একটি ইচ্ছা পোষণ করেছিলেন, এর পরিণতিতে সুতরাং, তিনি মানুষদের সৃষ্টি করেন। যেহেতু তিনি মারা যাচ্ছেন বলে তার এমন তাড়া ছিল, তিনি তার সৃষ্ট মানুষদের হাটু দিতে ভুলে গিয়েছিলেন ( কোনো সন্দেহ নেই নিজের সমস্যা তার মনোযোগ বিক্ষিপ্ত করেছিল), তিনি অন্যমনস্ক হয়ে তাদের ক্যাঙারুর মত লম্বা একটি লেজও দিয়েছিলেন, তার মানে তার ঠিক মত বসতে পারতোনা। এরপর তিনি মারা যান। মানুষরা লম্বা ক্যাঙারু লেজ আর কোনো হাটু না থাকার ব্যপারটি নিয়ে তাদের অসন্তোষ প্রকাশ করতে শুরু করে, এবং স্বর্গের উদ্দেশ্যে আর্তি জানায় তাদের সাহায্য করার জন্য।

Continue reading “বাস্তবতার জাদু : দ্বিতীয় অধ্যায়”

বাস্তবতার জাদু : দ্বিতীয় অধ্যায়

বাস্তবতার জাদু : প্রথম অধ্যায়

13220876_266553483732879_5795876853880578261_n

[ ভূমিকা : ২০১১ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর রিচার্ড ডকিন্স, শিল্পী ডেভ ম্যাককিনের অলঙ্করণসহ প্রকাশ করেছিলেন The Magic of Reality: How We Know What’s Really True; বইটি মূলত কিশোর আর অল্প বয়সী তরুণদের জন্য লেখা। বইটির হৃদয়স্পর্শী একটি অংশ হলো বইটি তিনি তার প্রিয় বাবা Clinton John Dawkins কে উৎসর্গ করেছিলেন। কৃষিবিজ্ঞানী বাবাই তার মনে প্রকৃতি আর বিজ্ঞানের প্রতি ভালোবাসার বীজটি বপন করেছিলেন পূর্ব আফ্রিকায় কাটানো তার শৈশবে। প্রাচীন মিসরীয়রা ভাবতো দেবী নুট (বা নিউথ) রোজ রাতে যখন সূর্যকে গিলে ফেলে তখন রাত হয়। ভাইকিংরা রঙধনুকে মনে করতো দেবতাদের বানানো সেতু যা দিয়ে তারা পৃথিবীতে নেমে আসে। এইসব কিছুতেই জাদুময়তা আছে, অপার্থিব বিস্ময়কর সব কাহিনী। কিন্তু আরো এক ধরনের জাদু আছে, আর সেই জাদুটি থাকে এই সব প্রশ্নগুলোর সত্যিকারের উত্তর আবিষ্কার করার আনন্দের মধ্যে। আর এটাই হচ্ছে বাস্তবতার জাদু – বিজ্ঞান। – কাজী মাহবুব হাসান ( পোষ্টে ব্যবহৃত অলঙ্করণগুলো মূল বই থেকে সংগ্রহ করা, যার শিল্পী ডেভ ম্যাককিন)]

রিচার্ড ডকিন্সের বাস্তবতার জাদু – প্রথম অধ্যায় 

বাস্তবতা কি ? জাদু কি ?

বাস্তবতা হচ্ছে সেই সবকিছু যার অস্তিত্ব আছে। বেশ সহজবোধ্য মনে হয় কথাটি, তাই না? আসলে বিষয়টি এত সহজবোধ্য নয়। বেশ কিছু সমস্যা আছে। ডায়নোসরদের ব্যাপারটি তাহলে কি, তাদের একসময় অস্তিত্ব ছিল কিন্তু এখন আর তো তাদের অস্তিত্ব নেই? আর নক্ষত্রগুলো, এত দূরে যাদের অবস্থান যে, যখন তাদের আলো আমাদের কাছে এসে পৌছায়, আর আমরা তাদের দেখতে পারি, তখন তাদের হয়তো আর কোনো অস্তিত্বই নেই ?

কিছুক্ষণের মধ্যেই আমরা ডায়নোসর আর নক্ষত্রদের নিয়ে আলোচনা করবো। কিন্তু যাই হোক না কেন, কিভাবে আমরা জানি যে, কোনো কিছুর অস্তিত্ব আছে, এমনকি বর্তমানেও? বেশ, আমাদের পাঁচটি ইন্দ্রিয় – দৃষ্টি, ঘ্রাণ, স্পর্শ, শ্রবণ আর স্বাদ – তারা বেশ ভালোই দ্বায়িত্ব পালন করে বহু জিনিসের বাস্তব অস্তিত্ব আমাদের জন্য বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে: যেমন, কোনো পাথরের টুকরো কিংবা উট, নতুন কাটা ঘাস আর কেবলমাত্র বানানো কফি, শিরিস কাগজ আর মখমল, জলপ্রপাত এবং দরজার ঘন্টি, চিনি এবং লবন। কিন্তু আমরা কি শুধুমাত্র এমন কিছুকেই ‘বাস্তব’ বলবো, যদি সেগুলোকে আমরা আমাদের পঞ্চ ইন্দ্রিয়ের যে কোনো একটি দ্বারা প্রত্যক্ষভাবে শনাক্ত করতে পারি?

তাহলে দূরের ছায়াপথগুলোর ক্ষেত্রে কি হবে, খালি চোখে দেখার মত দূরত্বে যারা অবস্থান করে না? একটি ব্যাকটেরিয়ার ক্ষেত্রেই বা কি হবে, যা এতই ক্ষুদ্র যে শক্তিশালী অণুবীক্ষণ যন্ত্র ছাড়া যাদের দেখাই সম্ভব নয়? তাহলে আমাদের কি অবশ্যই বলতে হবে যে, তাদের কোনো অস্তিত্ব নেই কারণ আমরা তাদের দেখতে পাইনা? না, অবশ্যই আমরা আমাদের ইন্দ্রিয়কে শক্তিশালী করতে পারি বিশেষ যন্ত্র ব্যবহার করার মাধ্যমে: ছায়াপথ দেখার জন্য দূরবীক্ষণ যন্ত্র আর ব্যাকটেরিয়া দেখার অণুবীক্ষণ যন্ত্র। যেহেতু আমরা জানি ও বুঝি দূরবীক্ষণ যন্ত্র আর অণুবীক্ষণ যন্ত্র কিভাবে কাজ করে, আমরা তাদের ব্যবহার করতে পারি আমাদের ইন্দ্রিয়গুলোর সীমানা বৃদ্ধি করতে – এই ক্ষেত্রে – আমাদের দৃষ্টিশক্তি – এবং সেগুলো যা দেখতে আমাদের সক্ষম করে তোলে, তা ছায়াপথ আর ব্যকটেরিয়ার অস্তিত্ব আমাদের কাছে বিশ্বাসযোগ্য করে তোলে।

Continue reading “বাস্তবতার জাদু : প্রথম অধ্যায়”

বাস্তবতার জাদু : প্রথম অধ্যায়

এবারের বইমেলায় দুটি বই…

এবারের বই মেলায় দুটি বই প্রকাশিত হতে যাচ্ছে, প্রকাশ করছে অনার্য প্রকাশনী (স্টল নং ২৯৭-২৯৮);
এটাই বই প্রকাশনার জগতে আমার এবং আসমা সুলতানার প্রথম প্রবেশ..

প্রথম বইটি ওয়েজ অব সিইং , সত্তরের দশকে এটি লিখেছিলেন বৃটিশ শিল্প সমালোচক জন বার্জার, একই নামে তাঁর একটি যুগান্তকারী টিভি প্রামাণ্য অনুষ্ঠানের. ভিত্তি করে। এটি শিল্পী আসমা সুলতানা এবং আমার যৌথ অনুবাদ প্রচেষ্টা। শিল্পী রেনে ম্যাগরিট এর তৈলচিত্র দি হিউমান কন্ডিশন এর ভিত্তি করে বইটির প্রচ্ছদ পরিকল্পনা করেছেন শিল্পী আসমা সুলতানা। শিল্পকলার অনুরাগী এবং  দৈনন্দিন জীবনে শিল্পকলার প্রভাব কত সর্বব্যাপী হতে পারে, সেটি যারা জানতে আগ্রহী তাদেরকে এই বইটি হতাশ করবে না ।

WOS_book_2015_for_blog

দ্বিতীয় বইটি দি গড ডিল্যুশন, ২০০৬ সালে প্রকাশিত বিবর্তন জীববিজ্ঞানী রিচার্ড ডকিন্স এর এই বইটির বেশ কয়েকটি অধ্যায় আমি ধারাবাহিকভাবে অনুবাদ করেছিলাম এই ব্লগের জন্য, অনেকেই একারণে এই ব্লগটিতে এসেছেন, অবশেষে এবারের বইমেলায় এটি বই হিসাবে প্রকাশিত হতে যাচ্ছে। এটিরও প্রচ্ছদ পরিকল্পনা করেছেন আসমা সুলতানা তার নিজের একটি চিত্রকর্ম ‘মিরর’ ব্যবহার করে। রিচার্ড ডকিন্সের বাংলা ভাষাভাষী অনুরাগী এবং চিন্তা করতে আগ্রহী এমন পাঠকদের মন নাড়াতে আশাকরি বইটি অবদান রাখবে।

gd_2015feb

এবারের বইমেলায় দুটি বই…

রিচার্ড ডকিন্স এর দি সেলফিশ জীন: অষ্টম অধ্যায়, শেষ পর্ব

ছবি: শিল্পী আসমা সুলতানা)

রিচার্ড ডকিন্স এর দি সেলফিশ জীন: অষ্টম অধ্যায়, প্রথম পর্ব
রিচার্ড ডকিন্স এর দি সেলফিশ জীন: অষ্টম অধ্যায়, দ্বিতীয় পর্ব
রিচার্ড ডকিন্স এর দি সেলফিশ জীন: অষ্টম অধ্যায়, তৃতীয় পর্ব
রিচার্ড ডকিন্স এর দি সেলফিশ জীন: অষ্টম অধ্যায়, চতুর্থ পর্ব

 

ক্লাচের আকার সংক্রান্ত ল্যাক এর তত্ত্ব পিতামাতার দৃষ্টিভঙ্গী দিয়ে কোনটি সবচেয়ে উপযুক্ত সেটি বিবেচনা করে। আমি যদি কোন মা সোয়ালো হয়ে থাকি, আমার দৃষ্টিভঙ্গী থেকে সবচেয়ে উপযুক্ত ক্লাচ সাইজ হবে, ধরুন পাচ।কিন্তু আমি যদি শিশু সোয়ালো হয়ে থাকি,তাহলে আমার জন্য উপযুক্ত ক্লাচ সাইজ হবে আরো ছোট কোন সংখ্যা, শর্ত শুধু আমিও তাদের একজন হবো। পিতামাতার একটি নির্দিষ্ট পরিমান পিতামাতার বিনিয়োগ আছে, যা সে চায় তার পাচটি সন্তানের মধ্যে সমানভাবে বন্টন করতে, কিন্তু প্রতিটি শিশু তাদের নায্য প্রাপ্য এক পঞ্চমাংশভাবে আরো বেশী দাবী করে। কোকিলের ব্যতিক্রম, সে পুরোটা চায় না, কারন সে অন্য ভাইবোনদের সাথে জীনগতভাবে আত্মীয়তার সম্পর্ক বহন করে।কিন্তু সে এক পঞ্চমাংশ ভাগের বেশী পরিমানে চায়। সে এক চতুর্থাংশ ভাগ অনায়াসে নিশ্চিৎ করতে পারে, নীড় থেকে একটি ডিম ছুড়ে ফেলে দিয়ে। জীনের ভাষায় অনুবাদ করলে, একটি কোন জীন যা ভাতৃহত্যার জন্য দায়ী, কল্পনা করা সম্ভব যে জীন পুলে ছড়িয়ে পড়বে কারন এর ১০০ শতাংশ সম্ভাবনা আছে ভাতৃহত্যাকারী কোন প্রানী সদস্যর শরীরে থাকার। কিন্তু মাত্র ৫০ শতাংশ সম্ভাবনা আছে এই ভাতৃহত্যার শিকার কোন সদস্যর শরীরে থাকার।

এই তত্ত্বটির মুল বিরোধিতা হচ্ছে যে খুবই কঠিন বিশ্বাস করা যে কেউই এই অশুভ আচরণ দেখবেন না যদি এটি সত্যি ঘটে। আমার কাছে কোন বিশ্বাসযোগ্য ব্যাখ্যা নেই এর।বহু ধরনের সোয়ালো আছে সারা পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে।আমরা জানি যে সোয়ালোদের স্প্যানিশ গ্রুপ কিছু কিছু বিশেষ ক্ষেত্রে যেমন বৃটিশ সোয়ালোদের থেকে ভিন্ন।বৃটিশ সোয়ালোদের মত স্প্যানিশ সোয়ালোদের উপর একই মাত্রার নিবিড় কোন গবেষনা হয়নি এবং আমার মনে হয় এটি সম্ভাব্য যে ভাতৃহত্যা সেখানেও ঘটে কিন্তু বিষয়টি খেয়াল করা হয়নি।

Continue reading “রিচার্ড ডকিন্স এর দি সেলফিশ জীন: অষ্টম অধ্যায়, শেষ পর্ব”

রিচার্ড ডকিন্স এর দি সেলফিশ জীন: অষ্টম অধ্যায়, শেষ পর্ব

রিচার্ড ডকিন্স এর দি সেলফিশ জীন: অষ্টম অধ্যায়, চতুর্থ পর্ব


(ছবি: শিল্পী আসমা সুলতানা)

রিচার্ড ডকিন্স এর দি সেলফিশ জীন: অষ্টম অধ্যায়, প্রথম পর্ব
রিচার্ড ডকিন্স এর দি সেলফিশ জীন: অষ্টম অধ্যায়, দ্বিতীয় পর্ব
রিচার্ড ডকিন্স এর দি সেলফিশ জীন: অষ্টম অধ্যায়, তৃতীয় পর্ব

 

প্রজন্মের যুদ্ধ

কোন একটি একক প্রানীকে একক সারভাইভাল মেশিন হিসাবে রুপকটা যদি ব্যবহার করি, যেখানে সারভাইভাল মেশিন এমনভাবে আচরন করে যেন এর একটি উদ্দেশ্য আছে জীনদের সুরক্ষা করার জন্য, আমরা কোন পিতামাতা ও সন্তানদের মধ্যে সংঘর্ষটি নিয়ে কথা বলতে পারি, প্রজন্মদের মধ্যে কোন একটি দ্বন্দ। এই যুদ্ধটা সুক্ষ্ম ধরনের, এবং কোন ধরনের প্রচলিত নিয়ম দ্বারা এটি আবদ্ধ নয় কোন দিকেই। একটি শিশু কোন সুযোগই নষ্ট করবে না প্রতারিত করার জন্য। সে যতনা তারও বেশী সে নিজেকে ক্ষুধার্ত হিসাবে ভান করবে, হয়তো তার যা বয়স তার চেয়েও ছোট সাজার ভান করবে। এটি অনেক ছোট আর দুর্বল তার পিতামাতাকে শারীরিকভাবে চাপ প্রয়োগ করার জন্য, কিন্তু তার হাতে আছে এমন সব মনোজাগতিক অস্ত্র সে ব্যবহার করবে: মিথ্যা বলা, প্রতারণা করা, নিজের স্বার্থে ব্যবহার করা, ঠিক সে পয়েন্ট অবধি, যখন সে তার আত্মীয়দের শাস্তি দিচ্ছে তাদের মধ্যে জীনগত সম্পর্ক যতটুকু অনুমতি দেয় তারচেয়ে বেশী। পিতামাতা, আবার অন্যদিকে, অবশ্যই সতর্ক হতে হবে প্রতারণা আর ছলনাগুলোর প্রতি এবং অবশ্য চেষ্টা করবে যেন বোকা না বনে যায় সহজে। এটি মনে হতে পারে একটি সহজ কাজ। যদি পিতামাতা জানে যে এর সন্তান এর মিথ্যা বলার সম্ভাবনা আছে সে আসলে কতটা ক্ষুধার্ত সে বিষয়ে, সে হয়তো এমন কোন কৌশল প্রয়োগ করতে পারে, যে একটি নির্দিষ্ট পরিমানই খাওয়াবে তার বেশী নয়, এমনকি যদিও শিশুটি চিৎকার করে যেতে থাকে। এর একটি সমস্যা হচ্ছে যে শিশুটি হয়তো মিথ্যা কিছু বলছে না, এবং যদি এটি মারা যায় না খেতে পাবার কারনে তাহলে বাবা মা এর কিছু মুল্যবান জীন হারাবে।

বুনো পাখিরা মারা যেতে পারে মাত্র কয়েকঘন্টা না খেয়ে থাকলে। এ জাহাভী (আমোৎস জাহাভী : ইসরাইলের বিবর্তন জীববিজ্ঞানী)  প্রস্তাব করেছেন যে একটি সুনির্দিষ্ট নিষ্ঠুর শিশুদের ব্ল্যাকমেইল এর: শিশুরা এমনভাব চিৎকার করে যেমন এটি নীড়ের দিকে ইচ্ছা করে শিকারী প্রানীদের দৃষ্টি আকর্ষন করে। শিশুটি যেন বলছে, শিয়াল, শিয়াল, আসলে আমাকে শিকার করো। আর যে একটি মাত্র উপায়ে পিতামাতা তাকে চুপ করাতে পারে তাহলো একে খাওয়ানো। সুতরাং শিশু তার নায্যভাবে যতটুকু খাদ্য পাবার কথা ছিল তারচেয়ে বেশী পায়, তবে তার ঝুকি বাড়িয়ে সেই মুল্য পরিশোধ করতে হয়েছে। এই নিষ্ঠুর কৌশলের নীতি একই রকম সেই হাইজাকারের মত, যে কিনা কোন উড়েোজাহাজ উড়িয়ে দেবার জন্য হুমকি দিচ্ছে তার নিজেকে সহ, যদি না তাকে মুক্তিপন দেয়া না হয়। আমি সন্দিহান এটি আদৌ কখনো বিবর্তনের সুবিধা পেতে পারে কিনা, শুধু এই কারন না যে তারা ‍খুবই নিষ্ঠুর বরং আমার সন্দেহ ব্ল্যাকমেইল করা কোন সন্তানের কি আসলেই কোন উপকার হয়। কারন তার হারাবার বহু কিছু আছে যদি আসলেই কোন শিকারী প্রানী আক্রমন করে। বিষয়টি স্পষ্ট যখন একটি মাত্র বাচ্চা থাকে, যে বিষয়টি নিয়ে জাহাভী নিজে গবেষনা করেছেন। তার মা তার জন্য ইতিমধ্যে যত কিছু বিনিয়োগ করুক না কেন, তার নিজের জীবনের মুল্য তারপরও তার বেশী দেয়া উচিৎ, তার মা যতটা মুল্য দেয় তারচেয়ে বেশী, কারন তার মা শুধু তার অর্ধেক পরিমান জীন বহন করে। উপরন্তু, এই কৌশলটি কোন সুফল দেবে না এমনকি যদি ব্ল্যাকমেইলার হয়ে থাকে সেই ক্লাচের সবচেয়ে ঝুকিপুর্ণ শিশু, তারা সবাই একই নীড়ের বাসিন্দা, যেহেতু ব্ল্যাক মেইলার এর ৫০ শতাংশ জীন এর বাজি আছে তার প্রতিটি হুমকির মুখে থাকা ভাই বোনদের উপর যেমন ১০০ শতাংশ বাজী তার নিজের ধারন করা জীন এর সাথে। আমি মনে করি তত্ত্বটি হয়তো ভাবা যেতে পারে কাজ করে যদি মুল শিকারী প্রানীর এমন কোন প্রবণতা থাকে যে পাখির নীড়ের সবচেয়ে বড় বাচ্চাটিকে প্রথম ধরে নিয়ে যায়। তাহলে হয়তো আকারে ছোট শিশুদের জন্য লাভজনক হবে কোন শিকারী প্রানীকে ডাকাকে হুমকি হিসাবে ব্যবহার করার জন্য, কারন এটি তাকে অতিরিক্ত বেশী কোন ঝুকির মধ্যে ফেলবে না। এটি তুলনা করা যেতে পারে, আপনার ভাই এর মাথায় পিস্তল ঠেকানোর মত, নিজেকে বোমা মেরে উড়িয়ে দেবার হুমকি দেবার বদলে। আরো সম্ভাব্য এই ব্ল্যাকমেইল করার কৌশল হয়তো কোন শিশু কোকিলের স্বার্থ রক্ষা করে।

Continue reading “রিচার্ড ডকিন্স এর দি সেলফিশ জীন: অষ্টম অধ্যায়, চতুর্থ পর্ব”

রিচার্ড ডকিন্স এর দি সেলফিশ জীন: অষ্টম অধ্যায়, চতুর্থ পর্ব

রিচার্ড ডকিন্স এর দি সেলফিশ জীন: অষ্টম অধ্যায়, তৃতীয় পর্ব

sfg
(ছবি: শিল্পী আসমা সুলতানা)

রিচার্ড ডকিন্স এর দি সেলফিশ জীন: অষ্টম অধ্যায়, প্রথম পর্ব
রিচার্ড ডকিন্স এর দি সেলফিশ জীন: অষ্টম অধ্যায়, দ্বিতীয় পর্ব

প্রজন্মের যুদ্ধ

এই মুহুর্তটি মনে হয় উত্তম আরো একটি বিস্মকর প্রপঞ্চর বিষয়টি উল্লেখ করার জন্য, যা পরিচিত রজোনিবৃত্তি বা মেনোপজ নামে । মেনোপজ হচ্ছে মধ্য বয়সে, বরং হঠাৎ করে মানব নারীর প্রজনন উর্বরতার সমাপ্তি।আমাদের প্রাচীন উত্তরসুরীদের মধ্যে মেনোপজ তেমন সচরাচর দেখা যেত না, কারন বহু নারী সেই সময় অবধি বেচে থাকতেন না। কিন্তু তারপরও হঠাৎ করে নারীর জীবনের এই পরিবর্তন আর পুরুষের উর্বরতার ক্ষেত্রে ধীর পরিবর্তন ইঙ্গিত করে, মেনোপজ প্রক্রিয়াটিতে কোন কিছু আছে যাকে আমরা বলতে পারবো জীনগত ভাবে পুর্বপরিকল্পিত – বা বলা যায় একটি অভিযোজন। বরং বেশ কঠিন এটি ব্যাখ্যা করা। প্রথমে দৃষ্টিতে আমরা আশা করি যে কোন নারী তার মুত্যুর আগ অবধি সন্তান ধারন করা অব্যাহত রাখবে, এমনকি বয়স বাড়ার সাথে সাথে তার জন্ম দেয়া কোন বাচ্চা যে বাচবে সেই সম্ভাবনাটাও কমতে থাকে। নি্শ্চয়ই মনে হতে পারে কাজটি করার প্রচেষ্টা অবশ্যই লাভজনক, তাই না ? কিন্তু আমরা অবশ্যই মনে রাখবো সে তার নাতি নাতনীদেরও জীনগতভাবে আত্মীয়, যদিও তার সন্তানদের সাথে যতটা, তার অর্ধেক মাত্রায়।

Continue reading “রিচার্ড ডকিন্স এর দি সেলফিশ জীন: অষ্টম অধ্যায়, তৃতীয় পর্ব”

রিচার্ড ডকিন্স এর দি সেলফিশ জীন: অষ্টম অধ্যায়, তৃতীয় পর্ব