চার্লস ডারউইন এবং একটি ধারনার বিজয়…. : দ্বিতীয় পর্ব (চার)


ছবি: চার্লস রবার্ট ডারউইন (১২ ফেব্রুয়ারী ১৮০৯ -১৯ এপ্রিল ১৮৮২)(ছবি সুত্র: Scientific American, January 2009)

লেখাটির মুল সুত্র: Carl Zimmer এর Evolution, the triumph of an idea র প্রথম দুটি অধ্যায়; এছাড়াও কিছু বাড়তি তথ্য এসেছে বিভিন্ন সুত্র থেকে:

চার্লস ডারউইন এবং একটি ধারনার বিজয়…. : প্রথম পর্ব (এক)
চার্লস ডারউইন এবং একটি ধারনার বিজয়…. : প্রথম পর্ব (দুই)
চার্লস ডারউইন এবং একটি ধারনার বিজয়…. : প্রথম পর্ব(তিন)
 চার্লস ডারউইন এবং একটি ধারনার বিজয়…. : দ্বিতীয় পর্ব(এক)
 চার্লস ডারউইন এবং একটি ধারনার বিজয়…. : দ্বিতীয় পর্ব(দুই)
 চার্লস ডারউইন এবং একটি ধারনার বিজয়…. : দ্বিতীয় পর্ব(তিন)

দ্বিতীয় পর্ব : যেন কোন হত্যার স্বীকারোক্তি করার মত 
দুই

আবারো আত্মগোপন:

তার গোপনীয়তার দুজন স্বাক্ষী সহ, ডারউইন ধীরে ধীরে যথেষ্ট পরিমান আত্মবিশ্বাস অর্জন করছিলেন তার প্রাকৃতিক নির্বাচনের মাধ্যমে বিবর্তনের ধারনাটি প্রকাশ করার জন্য; কিন্তু সেই আত্মবিশ্বাস পুরোটাই হারিয়ে গিয়েছিল এর একমাস পরে; ১৮৪৪ সালের অক্টোবর মাসে Vestiges of the Natural History of Creation নামের একটি বই ছাপাখানা থেকে হয়ে এসেছিল, যার লেখক একজন স্কটিশ সাংবাদিক, রবার্ট চেম্বারস, সেই মুহুর্তে যিনি বেনামে বা অজানা থাকতেই স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেছিলেন, এবং নিজের পরিচয় গোপন রাখার জন্য এতটাই চেষ্টা করেছিলেন, তার প্রকাশক কোথায় তাকে সন্মানী পাঠাবেন এমনকি সেই ঠিকানাটিও তিনি লুকিয়ে রেখেছিলেন, অবশ্য এত সতর্কতা অবলম্বন করে তিনি যে বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দিয়েছিলেন কোন সন্দেহ নেই তাতে;


ছবি: রবার্ট চেম্বারস (Robert Chambers, 1802 – 1871)  স্কটিশ ভুতত্ত্ববিদ, প্রকাশক; চেম্বারস ১৮৪৪ সালে  Vestiges of the Natural History of Creation বইটি প্রকাশ করেন; যদিও তিনি তার নামে এটি প্রকাশ করেননি, তার মৃত্যুর পরেই কেবল লেখকের মুল পরিচয়  জানা গিয়েছিল।  যদিও প্রস্তাবিত বিবর্তন প্রক্রিয়া সম্বন্ধে চেম্বারস এর যুক্তির দুর্বলতা ছিল তা সত্ত্বেও  বিতর্কিত বহুল পঠিত এই বইটি প্রথম বারের মত বিবর্তন বা ট্রান্সমিউটেশন আর সৃষ্টির সাথে প্রাকৃতিক বিজ্ঞানের যোগসুত্রের ধারনাটি সাধারন পাঠকদের কাছে পৌছে দিয়েছিল।

Continue reading “চার্লস ডারউইন এবং একটি ধারনার বিজয়…. : দ্বিতীয় পর্ব (চার)”

চার্লস ডারউইন এবং একটি ধারনার বিজয়…. : দ্বিতীয় পর্ব (চার)

চার্লস ডারউইন এবং একটি ধারনার বিজয়…. : দ্বিতীয় পর্ব (তিন)


5514
ছবি: চার্লস ডারউইন এবং এমা ওয়েজউড.. বার্ধক্যে; ডাউন হাউসে ডারউইন দম্পতির এই প্রতিকৃতিটি একেছেন অজানা একজন শিল্পী; ছবিটি আরো কিছু প্রতিকৃতির সাথে সংরক্ষিত আছে Bridgeman Art Library তে;

লেখাটির মুল সুত্র: Carl Zimmer এর Evolution, the triumph of an idea র প্রথম দুটি অধ্যায়; এছাড়াও কিছু বাড়তি তথ্য এসেছে বিভিন্ন সুত্র থেকে:

চার্লস ডারউইন এবং একটি ধারনার বিজয়…. : প্রথম পর্ব (এক)
চার্লস ডারউইন এবং একটি ধারনার বিজয়…. : প্রথম পর্ব (দুই)
চার্লস ডারউইন এবং একটি ধারনার বিজয়…. : প্রথম পর্ব (তিন)
 চার্লস ডারউইন এবং একটি ধারনার বিজয়…. : দ্বিতীয় পর্ব(এক)
 চার্লস ডারউইন এবং একটি ধারনার বিজয়…. : দ্বিতীয় পর্ব(দুই)

দ্বিতীয় পর্ব : যেন কোন হত্যার স্বীকারোক্তি করার মত 
দুই

এ যেন কোন হত্যার অপরাধ স্বীকার করার মত:

নোটবই এ নিজের বৈপ্লবিক আর হেরেসি বা বৈধর্মের মত ধারনাগুলো লিখে রাখার ফাকে ফাকে ডারউইন কিছুটা সময় নিয়েছিলেন তার জীবনসঙ্গীনি খোজার জন্য; তার বীগল যাত্রার বেশ আগে ডারউইন তার কৈশরে একজনের প্রেমে পড়েছিলেন, তার নাম ছিল ফ্যানি ওয়েন (ফ্যানি ওয়েন ডারউইনের স্কুলের সহপাঠী উইলিয়াম ওয়েন এর বোন); কিন্তু ডারউইনের সমুদ্রযাত্রার অল্প কিছুদিনের মধ্যে ফ্যানী অন্য একজনের বিয়ের প্রস্তাব গ্রহন করেন; ইংল্যান্ড এ ফিরে ডারউইন ভাবতে শুরু করেন, তার কি আদৌ বিয়ে করা উচিৎ হবে কিনা; নিয়মমানা বিজ্ঞানীদের মত তিনি একটি কাগজে বিয়ে করার পক্ষে বিপক্ষে একটি তালিকা তৈরী করেন,  উপরে বা দিকে বিয়ে করার সুবিধা ( বা টু ম্যারী), ডান দিকে অসুবিধা ( নট টু ম্যারী) এবং মাঝখানে লেখেন, দিস ইস দ্য কোয়েশ্চেন তালিকা সহ একটি ব্যালান্স শীট তৈরী করেন ডারউইন; এই তালিকায় দেখায় যায় ডারউইন বিয়ের বিপক্ষে যুক্তি হিসাবে লিখেছেন, একা থাকলে তিনি বিজ্ঞান নিয়ে গবেষনা করার বেশী সময় পাবেন, ক্লাবে পুরুষ সহকর্মীদের সাথে বেশী সময় আলোচনা করে কাটাতে পারবেন, এছাড়া সন্তান প্রতিপালন করার মত অর্থ সামর্থ্য তার নেই; অন্যদিকে বিয়ের স্বপক্ষে যুক্তি হলো, একজন স্ত্রী তার বৃদ্ধ বয়সে সারাক্ষন সঙ্গী হবে; এধরনের তালিকার নীচে সব যোগ বিয়োগ করে তিনি তার উপসংহারে পৌছান: বিয়ে –বিয়ে –বিয়ে অত: সিদ্ধ;

fanny-695837498
ছবি: ফ্যানি ওয়েন, ডারউইনের প্রথম ভালোবাসা, স্কুলের এক সহপাঠীর বোন, উচ্ছল, চঞ্চল ফ্যানি ডারউইনকে তার মা হারানোর শোক কাটিয়ে উঠতে সাহায্য করেছিলেন; ডারউইনের দীর্ঘ সমুদ্র যাত্রার সময় তিনি অন্য আরেকজনের বিয়ের প্রস্তাব গ্রহন করেন, সেকথা অবশ্য ডারউইনকে প্রথম জানিয়েছিলেন তিনি একটি চিঠিতে : “Believe me Charles that no change of name or condition can ever alter or diminish the feelings of sincere regard and affection I have for years had for you… ; ডারউইন পরবর্তীতে তারা মামাতো বোন এমাকে বিয়ে করেছিলেন ১৮৩৯ সালে।

Continue reading “চার্লস ডারউইন এবং একটি ধারনার বিজয়…. : দ্বিতীয় পর্ব (তিন)”

চার্লস ডারউইন এবং একটি ধারনার বিজয়…. : দ্বিতীয় পর্ব (তিন)

চার্লস ডারউইন এবং একটি ধারনার বিজয়…. : দ্বিতীয় পর্ব (দুই)

MEDIUM_12052_2008_49_Fig1_HTML (1)
ছবি: চার্লস ডারউইন এর ১৮৩৭ সালের নোট বুকে আকা প্রথম জীবন বৃক্ষর রেখাচিত্র, যা প্রতিটি জীব সম্পর্কযুক্ত  এবং ট্রান্সমিউটেশনের এই বিষয়টি নিয়ে তার ভাবনাকে ইঙ্গিত করেছিল; 

লেখাটির মুল সুত্র: Carl Zimmer এর Evolution, the triumph of an idea র প্রথম দুটি অধ্যায়; এছাড়াও কিছু বাড়তি তথ্য এসেছে বিভিন্ন সুত্র থেকে:

চার্লস ডারউইন এবং একটি ধারনার বিজয়…. : প্রথম পর্ব (এক)
চার্লস ডারউইন এবং একটি ধারনার বিজয়…. : প্রথম পর্ব (দুই)
চার্লস ডারউইন এবং একটি ধারনার বিজয়…. : প্রথম পর্ব (তিন)
 চার্লস ডারউইন এবং একটি ধারনার বিজয়…. : দ্বিতীয় পর্ব(এক)

দ্বিতীয় পর্ব : যেন কোন হত্যার স্বীকারোক্তি করার মত 
দুই

সংশয় এবং বৈধর্ম্য বা হেরেসি

বীগল ফিরে আসার পার চার মাস পর, ডারউইন তার সংগ্রহ করে ‍আনা জীবাশ্ম ও প্রানীদের নমুনাগুলোর বিষয়ে নানা বিশেষজ্ঞদের মতামত পেতে শুরু করেন; শুরুতেই তাদের বক্তব্যগুলো মুলত তাকে সংশয়াচ্ছন্ন করেছিল; ওয়েন তার জীবাশ্ম স্তন্যপায়ীর নমুনাগুলো পরীক্ষা করে প্রস্তাব করেন এগুলো দক্ষিন আমেরিকায় বসবাসকারী কিছু প্রানীরই দানবীয় সংস্করণ; ইদুর জাতীয় প্রানীর আকার প্রায় জলহস্তির মত আর পিপাড়াখেকো অ্যান্ড ইটার আকারে প্রায় ঘোড়ার সমতুল্য; কেন, ডার‌উইন ভাবতে শুরু করেন, একটি একই এলাকায় বসবাস কারী জীবিত প্রানীদের সাথে এইসব বিলুপ্ত প্রানীদের মধ্যে কেন এই যোগসুত্র বা  একটি সম্পর্ক; তাহলে কি হতে পারে সব জীবিত প্রানীরা বিলুপ্ত প্রানীদের থেকে আকারে পরিবর্তিত হয়ে উদ্ভব হয়েছে?

ডারউইন তার গালাপাগোস থেকে আনা পাখিগুলো দিয়েছিলেন ফ্লেমস গ্যুল্ডকে, যিনি ছিলেন বৃটেনের একজন প্রথম সারির পক্ষীবিশারদ, ডারউইন যখন তাদের সংগ্রহ করেছিলেন, তখন তাদের বিষয়ে তিনি আলাদা করে কিছু ভাবেননি; কিন্তু যখন গ্যুল্ডকে জুওলজিক্যাল সোসাইটির একটি সভায় কথা বলতে শোনেন তিনি, সঠিকভাবে নোট না নেয়ার বিষয়টি নিয়ে অনুশোচনায় ভুগেছিলেন তিনি; তাদের ঠোট দেখে ডারউইন এই পাখিদের শনাক্ত করেছিলেন ফিন্চ, রেন আর ব্ল্যাক বার্ড হিসাবে, কিন্তু গ্যুল্ড তার পরীক্ষার পর ঘোষনা দেন এগুলো সবই আসলে ফিন্চ; শুধু তাদের ঠোটগুলো কারো রেন দের মত , কারো ব্ল্যাক বার্ড দের মত দেখতে, যা তাদের কোন নির্দিষ্ট ধরনের খাওয়া খেতে সহায়তা করে;

এবং পরে ডারউইন গ্যুল্ড এর সাথে দেখা করতে যান, গ্যুল্ড তাকে দেখান যে তিনি আরো বড় কিছু ভুল করেছিলেন, ডারউইন ঠিক মতো উল্লেখ করেননি কোন দ্বীপ থেকে তাদের বেশীর ভাগ সংগ্রহ করেছিলেন, কারন তখন তার কাছে এটা গুরুত্বপুর্ণ মনে হয়নি; ঘটনাক্রমে তিনি শুধু নোট করেছিলেন, তিনটি মকিং বার্ড এসেছে তিনটি ভিন্ন দ্বীপ থেকে; এবং গ্যুল্ড তাকে দেখালেন, যে এই মকিংবার্ডগুলো আসলে তিনটি নতুন এবং ভিন্ন প্রজাতির সদস্য; ডারউইন অনুধাবন করতে পারলেন, নিশ্চয়ই কোন একটি ব্যাপার আছে;  তার ভাবনায় তখন প্রশ্ন এত কাছাকাছি একটি জায়গায় কেন তিনটি ভিন্ন প্রজাতির মকিং বার্ড থাকবে?


ছবি: ফিন্চ (চার্লস ডারউইনের 1839 Journal of Researches Into the Natural History and Geology of the Countries Visited During the Voyage of HMS Beagle Round the World, Under the Command of Captn. FitzRoy, R.N. থেকে) (সুত্র: নোভা)

Continue reading “চার্লস ডারউইন এবং একটি ধারনার বিজয়…. : দ্বিতীয় পর্ব (দুই)”

চার্লস ডারউইন এবং একটি ধারনার বিজয়…. : দ্বিতীয় পর্ব (দুই)

চার্লস ডারউইন এবং একটি ধারনার বিজয়…. : দ্বিতীয় পর্ব (এক)

Charles-Darwin-illustration
ছবি: Darwin and the variety of life that intrigued him (colour litho), Ned M. Seidler 

লেখাটির মুল সুত্র: Carl Zimmer এর Evolution, the triumph of an idea র প্রথম দুটি অধ্যায়; এছাড়াও কিছু বাড়তি তথ্য এসেছে বিভিন্ন সুত্র থেকে:

চার্লস ডারউইন এবং একটি ধারনার বিজয়…. : প্রথম পর্ব (এক)
চার্লস ডারউইন এবং একটি ধারনার বিজয়…. : প্রথম পর্ব (দুই)
চার্লস ডারউইন এবং একটি ধারনার বিজয়…. : প্রথম পর্ব (তিন)

দ্বিতীয় পর্ব : যেন কোন হত্যার স্বীকারোক্তি করার মত 
দুই

Origin of Species এর অরিজিন;

লন্ডনে, ডারউইন আবিষ্কার করলেন তার ভাই যথেষ্ট পরিমানে নিবেদিত কোন প্রকৃতি বিজ্ঞানী ছিলেন না; গবেষনার ল্যাবরেটরীর বাইরে ইরাসমাস বরং সাবলীল ছিলেন লন্ডনের নানা ডিনারের পার্টিতে, ভদ্রলোকদের ক্লাবে; তিনি ডারউইনকে তার সামাজিক বলয়ে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন, আর ডারউইনও তাদের সাথে ভালোভাবে মিশে যেতে পেরেছিলেন। কিন্তু ইরাসমাসের ব্যতিক্রম, ডারউইন অনেক বেশী পরিশ্রমী ছিলেন তার কাজে, তিনি ভুতত্ত্ববিদ্যা নিয়ে বেশ কিছু বৈজ্ঞানিক নিবন্ধ লিখেছিলেন, এছাড়া তার বীগল ভ্রমন নিয়ে একটি বইও তৈরী করে ফেলেন খুব দ্রুত; তার সংগ্রহ করে আনা নানা নমুনা বিশেষজ্ঞদের দিয়ে পরীক্ষা করানোর যাবতীয় ব্যবস্থা করেন -যেমন জীবাশ্ম, উদ্ভিদ, পাখি এবং ফ্ল্যাট ওয়ার্ম ইত্যাদি;

কয়েকমাসের মধ্যেই ডারউইন তার কঠোর পরিশ্রমের ফলও পেতে শুরু করেন, বৃটেনের সবচেয়ে প্রতিশ্রুতিশীল তরুন ভুতত্ত্ববিদ হিসাবে তার সুনাম ছড়াতে থাকে; কিন্তু একই সাথে তিনি একটি গোপন বিষয় তার নিজের মধ্যে লালন করাও শুরু করেছিলেন তখন, তার ব্যক্তিগত ছোট নোটবুকগুলোতে তিনি লিখতে শুরু করেন, না তার প্রিয় বিষয় ভুতত্ত্ব নিয়ে না, বরং জীববিজ্ঞান নিয়ে; তিনি চমকে দেবার মত মনোযোগ বিঘ্নকারী একটি সম্ভাবনা নিয়ে ভীষন আচ্ছন্ন ছিলেন খুবই ব্যক্তিগত ভাবে: হয়তো তার পিতামহ সঠিকই বলেছিলেন;

বৃটেনে তার অনুপস্থিতির পাচ বছরে জীববিজ্ঞানও বহু দুরে অগ্রসর হয়েছিল; নতুন প্রজাতির আবিষ্কার হয়েছে ধারাবাহিকভাবে এবং শ্রেনীবিণ্যাসের ‍প্রাচীন রীতিকে যা চ্যালেন্জ করেছে এবং মাইক্রোস্কোপের নীচে বিজ্ঞানীরা উদঘাটন করেছেন কিভাবে ডিম্বানু থেকে প্রানীর সৃষ্টি হয়; বৃটিশ প্রকৃতি বিজ্ঞানীরা আর প্যালীর  প্রতিটি আলাদা আলাদা ক্ষেত্রে ঈশ্বরের ডিজাইনকে প্রশস্তি করে যাওয়া যুক্তিতে আর সন্তুষ্ট ছিলেন না; কারন তাদেরকে এটি জীবন সংক্রান্ত  কোন গুরুত্বপুর্ণ প্রশ্নের উত্তর দিতে ব্যর্থ ছিল; যদি ঈশ্বর স্বর্গীয়ভাবে জীবনের পরিকল্পনা করে থাকেন, ঠিক কিভাবে তিনি কাজটি করেছিলেন, কিছু প্রজাতির মধ্যে সদৃশ্য আর অন্যদের সাথে তাদের বৈসাদৃশ্যর কারণটাই বা কি? সব প্রজাতি কি একই সাথে পৃথিবী সৃষ্টির প্রথম দিন থেকেই অস্তিত্বশীল ছিল? নাকি সময় অতিক্রান্ত হলে ধীরে ধীরে তাদের ঈশ্বর সৃষ্টি করেছিলেন?

বৃটিশ প্রকৃতি বিজ্ঞানীদের জন্য ঈশ্বর আর কোন মাইক্রোম্যানেজার ছিলেন না, বরং তার দ্বায়িত্ব ছিল প্রকৃতির নিয়ম সৃষ্টি করা এবং সেগুলোর সুচনা করে দেয়া, কোন ঈশ্বর যাকে প্রতিটি মুহুর্তে নাক গলাতে হয় তাকে, যে ঈশ্বর যিনি একেবারে শুরুতে সবকিছু নিখুতভাবে এবং নির্ভুলভাবে  সুচনা করে দিয়েছিলেন, তার চেয়ে মনে হয়েছে যথেষ্ট অযোগ্য; অনেক বৃটিশ প্রকৃতি বিজ্ঞানী মেনে নিয়েছিলেন যে এই গ্রহের ইতিহাসে জীবন পরিবর্তিত হয়েছে;

অপেক্ষাকৃত সরল গ্রুপের প্রাণী এবং উদ্ভিদ বিলুপ্ত হয়েছে এবং তাদের জায়গা নিয়েছে জটিলতর গ্রুপ গুলো; কিন্তু তারা বিষয়টি দেখতেন একটি সুশৃঙ্খল, স্বর্গীয় নির্দেশনায় পরিচালিত একটি প্রক্রিয়া হিসাবে; কোন পার্থিব বিবর্তন না যা ল্যামার্ক প্রস্তাব করেছিলেন ১৮০০ সালে, ১৮৩০ এর দশকে আবারো প্রকৃতি বিজ্ঞানীদের  আরো একবার বড় ধাক্কা দিয়ে নাড়িয়ে দিয়েছিলেন, প্যারিসের ন্যাশনাল মিউজিয়ামের আরেক প্রানীবিজ্ঞানী এতিয়েন জিওফ্রে সঁতিলিয়ার (Etienne Geof roy Saint-Hilaire), একটি নতুন বিবর্তন তত্ত্ব প্রস্তাব করার মাধ্যমে;

Continue reading “চার্লস ডারউইন এবং একটি ধারনার বিজয়…. : দ্বিতীয় পর্ব (এক)”

চার্লস ডারউইন এবং একটি ধারনার বিজয়…. : দ্বিতীয় পর্ব (এক)

চার্লস ডারউইন এবং একটি ধারনার বিজয়…. : প্রথম পর্ব (তিন)


image-1ছবি: Darwin in the Galapagos Islands, শিল্পী John Harrold এর আঁকা;

লেখাটির মুল সুত্র: Carl Zimmer এর Evolution, the triumph of an idea র প্রথম দুটি অধ্যায়; এছাড়াও কিছু বাড়তি তথ্য এসেছে বিভিন্ন সুত্র থেকে:

চার্লস ডারউইন এবং একটি ধারনার বিজয়…. : প্রথম পর্ব (এক)
চার্লস ডারউইন এবং একটি ধারনার বিজয়…. : প্রথম পর্ব (দুই)

প্রথম পর্ব :
যে বিজয় এসেছে ধীরে, ডারউইন এবং ডারউইনবাদের উত্থান
এক:

একজন ভুতত্ত্ববিদের আত্মপ্রকাশ …

বীগলের সমুদ্রযাত্রার শুরুটা ভালোভাবে হয়নি, ১৮৩১ এর অক্টোবরে প্লীমথ বন্দরে এসেছিলেন ডারউইন জাহাজে চড়তে, কিন্তু বেশ কিছু সংস্কার মেরামত, কয়েকবার যাত্রা শুরুর প্রচেষ্টার পর অবশেষে ডিসেম্বর মাসের সাত তারিখের আগে বীগলের তার পাল খুলে দেয় একটি ঐতিহাসিক সমুদ্র যাত্রায়;  বন্দর ছাড়ার পর পরই ডারউইন  সি সিকনেসে কাবু হয়ে পড়েন, যা কিছু খাচ্ছিলেন , সবই তাকেই সমুদ্রের রেলিং এর উপর থেকে উগরে দিতে হয়েছে; যদিও ডারউইন পাচ বছর এই জাহাজেই ছিলেন, তারপরও সমুদ্রযাত্রায় পুরোপুরি ভাবে অভ্যস্ত হতে পারেননি কখনোই;

ডারউইন আবিষ্কার করলেন, ফিটজরয়কে সঙ্গ দেবার ব্যাপারটা খুব সহজ কাজ না, বিষয়টি বেশ কৌশলেরই মনে হয়েছে তার; ক্যাপ্টেন এর মেজাজ খুব রগচটা, এবং আগে থেকে আচ করার কোন উপায় নেই এবং তার অতিমাত্রায় শৃঙ্খলা ডার‌উইনকে হতবাক করেছিল; যেমন ক্রিসমাসের দিন কয়েকজন নাবিক মাতাল হয়েছিল, ফিটজরয় তাদের পরেরদিন সকালে চাবুক দিয়ে তাদের পেটানোর নির্দেশ দেন; প্রতিদিন  ফিটজরয় এর সাথে সকালের খাবার খেয়ে বের হলে, জুনিয়র অফিসাররা তার কাছে জানতে চাইতো, ”আজ কি বেশী কফি খাওয়া হয়েছে ?” এটি ছিল ক্যাপ্টেন এর মেজাজের অবস্থা বোঝার জন্য তাদের সাংকেতিক বার্তা; কিন্তু ডারউইন ফিটজয়ের শক্তিশালী ব্যক্তিত্ব, তার কর্মস্পৃহা, বিজ্ঞানের প্রতি তার আন্তরিকতা, এবং খৃষ্টধর্মের প্রতি নিষ্ঠাকেও শ্রদ্ধা করতেন; প্রতি রবিবার ক্যাপ্টের এর সার্মনের সময় তিনি উপস্থিত থাকতেন;

ডারউইন অধীর আগ্রহে অপেক্ষায় ছিলেন, কখন জাহাজের কোন একটি বন্দরে ভিড়বে, তিনি ডাঙ্গায় পা রাখবেন; কিন্তু বহু সপ্তাহ অপেক্ষা করতে হয়েছিল তাকে সে জন্য; ম্যাদেইরা তে স্রোত এর খারাপ ছিল যে ফিটজরয় সেখানে নোঙ্গর না করার সিদ্ধান্ত নেন, এবং এর পরের বন্দর, ক্যানারী দ্বীপে, কলেরা মহামারীর জন্য জাহাজ ভিড়িয়ে কোয়রানটাইনে আটকে থাকার জন্য আদৌ রাজী হলেন না ফিটজরয়;

Continue reading “চার্লস ডারউইন এবং একটি ধারনার বিজয়…. : প্রথম পর্ব (তিন)”

চার্লস ডারউইন এবং একটি ধারনার বিজয়…. : প্রথম পর্ব (তিন)

চার্লস ডারউইন এবং একটি ধারনার বিজয়…. : প্রথম পর্ব (দুই)

 charles-darwin
ইলাসট্রেশন: Kenn Brown, Mondolithic Studios;  Scientific American’s special issue on theory of evolution (January 2009)

লেখাটির মুল সুত্র: Carl Zimmer এর Evolution, the triumph of an idea র প্রথম দুটি অধ্যায়; এছাড়াও কিছু বাড়তি তথ্য এসেছে বিভিন্ন সুত্র থেকে:
প্রথম পর্বের প্রথম অংশর লিঙ্ক নীচে

চার্লস ডারউইন এবং একটি ধারনার বিজয়…. : প্রথম পর্ব (এক)

প্রথম পর্ব :
যে বিজয় এসেছে ধীরে, ডারউইন এবং ডারউইনবাদের উত্থান

এক:

পৃথিবীর গড়ে ওঠা…

অক্টোবর ১৮৩১ সালে যখন ডারউইন প্লীমথ পৌছেছিলেন তার ট্রাঙ্ক ভর্তি বই আর বৈজ্ঞানিক সরন্জাম নিয়ে, তিনি পৃথিবী এবং জীব জগত সম্বন্ধে তৎকালীন ধারনাকে সাথে নিয়ে এসেছিলেন; কেমব্রিজে তার শিক্ষকরা শিখিয়েছিলেন, পৃথিবী সম্বন্ধে জানার মাধ্যমেই আমরা ঈশ্বরের ইচ্ছার কথা জানতে পারি;  কিন্তু তা সত্ত্বেও  বৃটিশ বিজ্ঞানীরা যতই আবিষ্কার করতে লাগলেন, ততই  বাইবেলকে নির্ভুল একটি গাইড হিসাবে বিশ্বাস করাও কঠিন হয়ে উঠতে শুরু করেছিল;

বৃটিশ ভুতত্ত্ববিদরা যেমন, আর মেনে নিতে রাজী ছিলেন না যে, পৃথিবী মাত্র কয়েক হাজার বছর প্রাচীন; কোন এক সময় হয়তো যথেষ্ট ছিল বাইবেল এর কথা আক্ষরিক অর্থে মেনে নেয়া, যেমন মানবজাতির সৃষ্টি হয়েছে  মহাবিশ্ব সৃষ্টির প্রথম সপ্তাহে; ১৬৫৮ সালে জেমস আশার, আরমাঘ এর আর্চ বিশপ বাইবেল এবং কিছু ঐহিহাসিক রেকর্ড ঘেটে গ্রহর বয়স নির্দিষ্ট করেন;


ছবি: জেমস আশার (James Ussher: 1581 –1656); আয়ারল্যান্ডের এই আর্চ বিশপ পৃথিবীর বয়স মেপেছিলেন, তার মতে ৪০০৪ খৃষ্টপুর্বাব্দে ২২ অক্টোবর ঈশ্বর পৃথিবী সৃষ্টি করেছিলেন; বিস্ময়কর হলে সত্য এখনও অনেকে ইয়ং আর্থ ক্রিয়েশনিষ্ট আছেন, যারা জেনেসিসে বর্ণিত সময়কাল অনুযায়ী পৃথিবীর বয়স মনে করেন মাত্র কয়েক হাজার বছর;

Continue reading “চার্লস ডারউইন এবং একটি ধারনার বিজয়…. : প্রথম পর্ব (দুই)”

চার্লস ডারউইন এবং একটি ধারনার বিজয়…. : প্রথম পর্ব (দুই)

চার্লস ডারউইন এবং একটি ধারনার বিজয়…. : প্রথম পর্ব (এক)

17702_604221712936593_1500690192_n

ভুমিকা: ১২ ফেব্রুয়ারী চার্লস ডারউইনের জন্মদিন; ১৮০৯ সালে ইংল্যান্ডে এই দিনে তিনি জন্মগ্রহন করেছিলেন; দিনটি আন্তর্জাতিক ডারউইন দিবসও;  বিজ্ঞান এবং যুক্তির আলোয় কুসংস্কারমুক্ত জীবন উদযাপনের দিন হিসাবে চার্লস ডারউইনের জন্মদিন, ১২ ফেব্রুয়ারীকে বেছে নেয়া হয়েছিল নব্বই দশকের শুরুতে, আন্তর্জাতিক ডারউইন দিবস হিসাবে। ১২ ফেব্রুয়ারী,  ২০১৩ বিশ্ব ডারউইন দিবস এ ডারউইনের প্রতি সন্মান জানিয়ে আমার এই প্রয়াস। মানব সভ্যতার ইতিহাসে সম্ভবত সবচেয়ে শক্তিশালী আর বৈপ্লবিক ধারনাটির জন্ম দিয়েছিলেন প্রতিভাবান বৃটিশ প্রকৃতি বিজ্ঞানী চার্লস ডারউইন: প্রাকৃতিক নির্বাচনের মাধ্যমে বিবর্তন। জীববিজ্ঞান তো বটেই বিজ্ঞানের নানা শাখায় এর প্রভাব সুদুরপ্রসারী। ১৮৫৯ সালে প্রকাশিত তার মাষ্টারপিস On the Origin of Species বইটি, পৃথিবী এবং তার মধ্যে আমাদের নিজেদের অবস্থান সম্বন্ধে, আমাদের দৃষ্টিভঙ্গীটাকে চিরকালের মত বদলে দিয়েছে; খুব সরল এই ধারনার মাধ্যমে, ডারউইন পেরেছিলেন জীবের সকল জটিলতা আর বৈচিত্রের সাধারন একটি ব্যাখ্যা দিতে। গত দেড় শতাব্দী ধরে বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখা তার এই ধারনাটির স্বপক্ষে প্রমান জুগিয়েছে, যা এখনও অব্যাহত আছে। বিবর্তন তত্ত্বের বিরোধীতার কারন কখনোই এর প্রমানের স্বল্পতা নয়, বরং এর সম্বন্ধে অজ্ঞতা। নীচের লেখাটি কিছুটা সংক্ষিপ্ত আকারে ডারউইনের জীবনে সেই গুরুত্বপুর্ণ সময়ে কাহিনী; লেখাটির মুল সুত্র: Carl Zimmer এর Evolution, the triumph of an idea র প্রথম দুটি অধ্যায়; এছাড়াও কিছু বাড়তি তথ্য এসেছে বিভিন্ন সুত্র থেকে:

Ignorance more frequently begets confidence than does knowledge: it is those who know little, and not those who know much, who so positively assert that this or that problem will never be solved by science. Charles Darwin

False facts are highly injurious to the progress of science, for they often endure long; but false views, if supported by some evidence, do little harm, for every one takes a salutary pleasure in proving their falseness. Charles Darwin

 

প্রথম পর্ব :
যে বিজয় এসেছে ধীরে, ডারউইন এবং ডারউইনবাদের উত্থান

এক:

ডারউইন এবং দ্য বীগল

১৮৩১ সাল, অক্টোবরের শেষ সপ্তাহ।

ইংল্যান্ডের প্লীমথ (Plymouth) বন্দরে দাড়িয়ে আছে নব্বই ফুট দীর্ঘ কোষ্টার এইচ এম এস বীগল (HMS Beagle); উই ঢিবির উইপোকার মত এদিক ওদিক ছুটে বেড়াচ্ছে ব্যস্ত খালাসী আর নাবিকরা, যতটুকু করা সম্ভব,ততটুকুই বোঝাই করা হচ্ছে জাহাজটিকে; কারন বীগল প্রস্তুত হচ্ছে  সারা পৃথিবী প্রদক্ষিন করার সমুদ্রযাত্রার উদ্দেশ্যে, যা স্থায়ী হতে পারে প্রায় পাচ বছর। জাহাজের হোল্ড বা খোলের মধ্যে তারা ঠেসে রাখছে আটা আর রাম এ ভরা পিপাগুলো, আর জাহাজের ডেক জুড়ে নানা আকারের কাঠের বাক্স, যাদের ভিতরে করাতের কাঠের গুড়ার উপর বসানো পরীক্ষামুলক বেশ কিছু ঘড়ি; বীগলের এই সমুদ্র যাত্রার মুল কারনটি ছিল বৈজ্ঞানিক, বৃটিশ নৌবাহিনীর জন্য এই ঘড়িগুলো বিশেষভাবে পরীক্ষা করবে সার্ভেয়াররা, যাদের সমুদ্রযাত্রার জন্য সুক্ষ সময়ের পরিমাপ বিশেষভাবে গুরুত্বপুর্ণ; এছাড়াও বীগলের আরেকটি কাজ হচ্ছে বিস্তারিতভাবে মানচিত্র তৈরী করা; নানা ধরনের নেভিগেশন চার্ট গুলোর রাখার জন্য কেবিনগুলোয় বিশেষ মেহগনী সিন্দুকও তৈরী করা হয়েছে; জাহাজের ১০টি লোহার কামান সরিয়ে তামার কামান বসানো হয়েছে, যেন তারা বীগলের কম্পাসের সাথে সামান্যতম কোন সমস্যা না করে;

Continue reading “চার্লস ডারউইন এবং একটি ধারনার বিজয়…. : প্রথম পর্ব (এক)”

চার্লস ডারউইন এবং একটি ধারনার বিজয়…. : প্রথম পর্ব (এক)

বিবর্তন কী?


শীর্ষ ছবি: চার্লস রবার্ট ডারউইন (১২ ফেব্রুয়ারী ১৮০৯ -১৯ এপ্রিল ১৮৮২)(ছবি সুত্র: Scientific American, January 2009)

*** এই লেখাটির হঠাৎ করে ভিউ বাড়ার কারণে পাঠকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। এটি বেশ আগের একটি অসম্পাদিত একটি লেখা। এটি মূলত জেরি কয়েনের হোয়াই ইভোল্যুশন ইজ ট্রু বইটির প্রথম অধ্যায়। এই অধ্যায়টি সম্পাদিত রুপ পাওয়া যাবে বিবর্তন কেন সত্য বইটিতে। যে বইটি  জেরি কয়েনের হোয়াই ইভোল্যুশন ইজ ট্রু বইটির অনুবাদ। বইটি সেই বই অ্যাপে ইবুক হিসাবে প্রকাশিত হয়েছে।*****************

বিস্তারিত তথ্যের জন্য দেখুন:

https://sheiboi.com/Book/BookDetails?bookId=2694

2019-01-26_19-10-03

Authors of the highest eminence seem to be fully satisfied with the view that each species has been independently created. To my mind it accords better with what we know of the laws impressed on matter by the Creator, that the production and extinction of the past and present inhabitants of the world should have been due to secondary causes, like those determining the birth and death of the individual. When I view all beings not as special creations, but as the lineal descendants of some few beings which lived long before the first bed of the Silurian system was deposited, they seem to me to become ennobled. Charles Darwin ( On The Origin of Species; Chapter 14: Recapitulation and Conclusion)

A curious aspect of the theory of evolution is that everybody thinks he understands it. Jacques Monod

শুরুর কথা:  মানব সভ্যতার ইতিহাসে সম্ভবত সবচেয়ে শক্তিশালী আর বৈপ্লবিক ধারনাটির জন্ম দিয়েছিলেন প্রতিভাবান বৃটিশ প্রকৃতি বিজ্ঞানী চার্লস ডারউইন: প্রাকৃতিক নির্বাচনের মাধ্যমে বিবর্তন। জীববিজ্ঞান তো বটেই বিজ্ঞানের নানা শাখায় এর প্রভাব সুদুরপ্রসারী। ১৮৫৯ সালে প্রকাশিত তার মাষ্টারপিস On the Origin of Species বইটি, পৃথিবী এবং তার মধ্যে আমাদের নিজেদের অবস্থান সম্বন্ধে, আমাদের দৃষ্টিভঙ্গীটাকে চিরকালের মত বদলে দিয়েছে; খুব সরল এই ধারনার মাধ্যমে, ডারউইন পেরেছিলেন জীবের সকল জটিলতা আর বৈচিত্রের সাধারন একটি ব্যাখ্যা দিতে। গত দেড় শতাব্দী ধরে বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখা তার এই ধারনাটির স্বপক্ষে প্রমান জুগিয়েছে, যা এখনও অব্যাহত আছে। বিবর্তন তত্ত্বের বিরোধীতার কারন কখনোই এর প্রমানের স্বল্পতা নয়, বরং এর সম্বন্ধে অজ্ঞতা। বিজ্ঞান এবং যুক্তির আলোয় কুসংস্কারমুক্ত জীবন উদযাপনের দিন হিসাবে চার্লস ডারউইনের জন্মদিন, ১২ ফেব্রুয়ারীকে বেছে নেয়া হয়েছিল নব্বই দশকের শুরুতে, আন্তর্জাতিক ডারউইন দিবস হিসাবে। ১২ ফেব্রুয়ারী, বিশ্ব ডারউইন দিবস  ডারউইনের প্রতি সন্মান জানিয়ে আমার এই প্রয়াস। এটি মুলত শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জেরি কয়েন  ( Jerry A. Coyne) এর Why Evolution is true  বইটির প্রথম অধ্যায় What is Evolution? এর একটি অনুবাদ প্রচেষ্টা। ডারউইনের অসাধারন ধারনাটি, বিবর্তন তত্ত্বটির মুলনীতিগুলোই সংক্ষেপে ব্যাখ্যা করা হয়েছে এই লেখাটিতে। পুরো বইটি অনুবাদ অবশ্য অব্যাহত থাকবে, সেজন্য যারা আগ্রহী তাদের হয়ত ভবিষ্যতে আবার এই ব্লগে ফিরে আসতে হবে। আসুন আমরা চেষ্টা করি ক্রমশ বাড়তে থাকা অন্ধ কুপমন্ডুকতার ব্যতিক্রম হবার জন্য।

Continue reading “বিবর্তন কী?”

বিবর্তন কী?

রিচার্ড ডকিন্স এর দি গ্রেটেষ্ট শো অন আর্থ : একটি অনুবাদ প্রচেষ্টা

রিচার্ড ডকিন্স এর দি গ্রেটেষ্ট শো অন আর্থ : বিবর্তনের স্বপক্ষে প্রমান

অনুবাদ প্রচেষ্টা: কাজী মাহবুব হাসান


শীর্ষ ছবি কিংবা প্রচ্ছদ : আসমা সুলতানা

প্রথম অধ্যায়: প্রথম পর্ব দ্বিতীয় পর্ব | তৃতীয় পর্বশেষ পর্ব
দ্বিতীয় অধ্যায়: প্রথম পর্ব

রিচার্ড ডকিন্স এর দি গ্রেটেষ্ট শো অন আর্থ : একটি অনুবাদ প্রচেষ্টা

ভালোবাসা, নিউরোবায়োলজী কি বলে….

শীর্ষ ছবি: গবেষণায় দেখা গেছে রোমান্টিক ভালোবাসা এবং মায়ের ভালোবাসা ব্রেনের বেশ কিছু একই অংশগুলোকে সক্রিয় করে; নিউরোবায়োলজিষ্টদের ধারনা মানুষের মধ্যে জুটি বাধা বা পেয়ার বন্ডিং  মা এবং তার সন্তানের সম্পর্ক বা ম্যাটেরনাল বন্ডিং এর ব্রেন মেকানিজম বা স্নায়বিক প্রক্রিয়াটিকে সামান্য কিছু পরিবর্তনের মাধ্যমে সম্ভবত বিবর্তিত হয়েছে। (ইলাসট্রেশন:  জি বেকার,  সুত্র: Love: Neuroscience reveals all. Nature. 457(8 January 2009)

There is always some madness in love. But there is always some reason in madness. Friedrich Nietzsche

মুল:  Semir Zeki,The neurobiology of love; Federation of European Biochemical Societies (FEBS) Letters 581 (2007) এবং  Larry J. Young : Love, Neuroscience reveals all. Nature, 457(8): January 2009;  এছাড়া ব্যবহৃত বাড়তি তথ্য সুত্র (ডায়াগ্রাম এবং কিছু বিশ্লেষণ): Andreas Bartels, Semir Zeki: The neural basis of romantic love (NeuroReport:2000;vol 11(17):3829, Andreas Bartels, Semir Zeki: The neural correlates of maternal and romantic love;NeuroImage; 2004(21):1155; Larry J Young, Zuoxin Wang, The neurobiology of pair bonding. Nature Neuroscience (2004): 7(10):1048 ;

ভূমিকার আগে: রোমান্টিক ভালোবাসা এবং মায়ের ভালোবাসা নিঃসন্দেহে অসাধারন সুখকর আর রিওয়ার্ডিং একটি অভিজ্ঞতা। এই দুটোই প্রজাতির ধারাবাহিকতা রক্ষা করার সাথে সংশ্লিষ্ট এবং সে কারনেই বিবর্তন প্রক্রিয়ায় অত্যন্ত গুরুত্বপুর্ণ কিছু  বায়োলজিক্যাল প্রক্রিয়ার সাথে এরা ঘনিষ্টভাবে জড়িত;  অথচ এই আচরনগুলোর স্নায়ুবৈজ্ঞানিক ভিত্তি সম্বন্ধে বিজ্ঞানীদের গবেষনা অপেক্ষাকৃত নবীন। বিশেষ করে প্রযুক্তিগত কিছু অগ্রগতি, যেমন: fMRI(ফাংশনাল ম্যাগনেটিক রেসোন্যান্স ইমেজিং) এ ক্ষেত্রে গবেষনার একটি নতুন সম্ভাবনার পথ খুলে দিয়েছিল ৯০ এর দশকের শুরুতে। নতুন এই ব্রেন ইমেজিং টেকনিকগুলো নিউরোবায়োলজিষ্টদের কোন সাবজেক্টিভ (ব্যাক্তি নির্ভর) অনুভুতির সরাসরি স্নায়বিক পরিবর্তনগুলো শনাক্ত করার সুযোগ তৈরী করে দিয়েছে, যেমন: রোমান্টিক এবং মায়ের ভালোবাসার ক্ষেত্রে। ৯০ দশকের শেষের দিকে ডঃ জেকি ও তার সহযোগীরা আমাদের ব্রেনে রোমান্টিক ভালোবাসার সাথে সংশ্লিষ্ট অঞ্চলগুলো খোজার চেষ্টা করেন। পরবর্তীতে তার গবেষনায়ে যুক্ত হয় সন্তানের প্রতি মার ভালোবাসার নিউরোবায়োলজিক্যাল ভিত্তি । দেখা যায় এই দুই ধরনের গভীর ভালোবাসার সম্পর্ক আমাদের ব্রেনের কিছু বিশেষ এলাকা স্বতন্ত্র ভাবে সক্রিয় বা অ্যাক্টিভেট করে। আবার ওভারল্যাপিংও হয়, যেমন ব্রেনের কিছু কিছু এলাকা এই দুই ভালোবাসার ক্ষেত্রেই সক্রিয় হয়ে ওঠে। বিশেষ করে যে এলাকা গুলো আমাদের ব্রেনের রিওয়ার্ড মেকানিজমের সাথে জড়িত। এখানে আমাদের ব্রেনের গুরুত্বপুর্ণ  দুটি রাসায়নিক পদার্থ বা নিউরো হরমোন অক্সিটোসিন এবং ভেসোপ্রেসিনের রিসেপ্টরের (রিসেপ্টর হলো কোষের ঝিল্লীতে থাকা একটি অনু, যার সাথে নির্দিষ্ট কোন রাসায়নিক অনু যুক্ত হতে পারে) বাহুল্যও থাকে এখানে। এই গবেষনার আরেকটি উল্লেখযোগ্য আবিষ্কার হলো যখন এই দুই ধরনের ভালোবাসা ব্রেনের কিছু অংশকে সক্রিয় করে, এরা তার সাথে ব্রেনের কিছু অংশকেও নিষ্ক্রিয় বা ডি অ্যাক্টিভেট করে: সেই অংশগুলো আমাদের নেতিবাচক আবেগের সাথে জড়িত, এছাড়াও আছে সামাজিক জাজমেন্ট এবং মেন্টালাইজিং ( অর্থাৎ অন্য মানুষদের ইনটেনশন বা উদ্দেশ্য এবং ইমোশন সম্বন্ধে আমাদের নিজেদের মেন্টাল অ্যাসেসমেন্ট) প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রনকারী কিছু অংশ। নিউরোবায়োলজিষ্টরা মনে করেন এই মানুষের সম্পর্ক বা অ্যাটাচমেন্টগুলো সৃষ্টিতে এধরনের একটা পুশ-পুল মেকানিজম কাজ করে, যে নেটওয়ার্কগুলো আমাদের ব্রেনে অন্যমানুষ সম্বন্ধে ক্রিটিক্যাল সামাজিক অ্যাসেসমেন্ট এবং নেগেটিভ ইমোশন সৃষ্টি করে, সেটাকে নিষ্ক্রিয় বা নিয়ন্ত্রনে এনে সামাজিক  দুরত্বকে অতিক্রম করতে সহায়তা করে, যা বিভিন্ন সদস্যদের মধ্যে তৈরী করে বন্ধন ব্রেনের রিওয়ার্ড সার্কিট্রিকে ব্যবহার করে। এই নিউরোবায়োলজিক্যাল প্রক্রিয়াগুলো ব্যাখ্যা করতে সক্ষম, কাউকে প্রেরণা দেবার ক্ষেত্রে বা তীব্র সুখের অনুভুতি দিতে ভালোবাসার অসীম শক্তিকে।

Continue reading “ভালোবাসা, নিউরোবায়োলজী কি বলে….”

ভালোবাসা, নিউরোবায়োলজী কি বলে….