চার্লস ডারউইন এবং একটি ধারনার বিজয়…. : দ্বিতীয় পর্ব (দুই)

MEDIUM_12052_2008_49_Fig1_HTML (1)
ছবি: চার্লস ডারউইন এর ১৮৩৭ সালের নোট বুকে আকা প্রথম জীবন বৃক্ষর রেখাচিত্র, যা প্রতিটি জীব সম্পর্কযুক্ত  এবং ট্রান্সমিউটেশনের এই বিষয়টি নিয়ে তার ভাবনাকে ইঙ্গিত করেছিল; 

লেখাটির মুল সুত্র: Carl Zimmer এর Evolution, the triumph of an idea র প্রথম দুটি অধ্যায়; এছাড়াও কিছু বাড়তি তথ্য এসেছে বিভিন্ন সুত্র থেকে:

চার্লস ডারউইন এবং একটি ধারনার বিজয়…. : প্রথম পর্ব (এক)
চার্লস ডারউইন এবং একটি ধারনার বিজয়…. : প্রথম পর্ব (দুই)
চার্লস ডারউইন এবং একটি ধারনার বিজয়…. : প্রথম পর্ব (তিন)
 চার্লস ডারউইন এবং একটি ধারনার বিজয়…. : দ্বিতীয় পর্ব(এক)

দ্বিতীয় পর্ব : যেন কোন হত্যার স্বীকারোক্তি করার মত 
দুই

সংশয় এবং বৈধর্ম্য বা হেরেসি

বীগল ফিরে আসার পার চার মাস পর, ডারউইন তার সংগ্রহ করে ‍আনা জীবাশ্ম ও প্রানীদের নমুনাগুলোর বিষয়ে নানা বিশেষজ্ঞদের মতামত পেতে শুরু করেন; শুরুতেই তাদের বক্তব্যগুলো মুলত তাকে সংশয়াচ্ছন্ন করেছিল; ওয়েন তার জীবাশ্ম স্তন্যপায়ীর নমুনাগুলো পরীক্ষা করে প্রস্তাব করেন এগুলো দক্ষিন আমেরিকায় বসবাসকারী কিছু প্রানীরই দানবীয় সংস্করণ; ইদুর জাতীয় প্রানীর আকার প্রায় জলহস্তির মত আর পিপাড়াখেকো অ্যান্ড ইটার আকারে প্রায় ঘোড়ার সমতুল্য; কেন, ডার‌উইন ভাবতে শুরু করেন, একটি একই এলাকায় বসবাস কারী জীবিত প্রানীদের সাথে এইসব বিলুপ্ত প্রানীদের মধ্যে কেন এই যোগসুত্র বা  একটি সম্পর্ক; তাহলে কি হতে পারে সব জীবিত প্রানীরা বিলুপ্ত প্রানীদের থেকে আকারে পরিবর্তিত হয়ে উদ্ভব হয়েছে?

ডারউইন তার গালাপাগোস থেকে আনা পাখিগুলো দিয়েছিলেন ফ্লেমস গ্যুল্ডকে, যিনি ছিলেন বৃটেনের একজন প্রথম সারির পক্ষীবিশারদ, ডারউইন যখন তাদের সংগ্রহ করেছিলেন, তখন তাদের বিষয়ে তিনি আলাদা করে কিছু ভাবেননি; কিন্তু যখন গ্যুল্ডকে জুওলজিক্যাল সোসাইটির একটি সভায় কথা বলতে শোনেন তিনি, সঠিকভাবে নোট না নেয়ার বিষয়টি নিয়ে অনুশোচনায় ভুগেছিলেন তিনি; তাদের ঠোট দেখে ডারউইন এই পাখিদের শনাক্ত করেছিলেন ফিন্চ, রেন আর ব্ল্যাক বার্ড হিসাবে, কিন্তু গ্যুল্ড তার পরীক্ষার পর ঘোষনা দেন এগুলো সবই আসলে ফিন্চ; শুধু তাদের ঠোটগুলো কারো রেন দের মত , কারো ব্ল্যাক বার্ড দের মত দেখতে, যা তাদের কোন নির্দিষ্ট ধরনের খাওয়া খেতে সহায়তা করে;

এবং পরে ডারউইন গ্যুল্ড এর সাথে দেখা করতে যান, গ্যুল্ড তাকে দেখান যে তিনি আরো বড় কিছু ভুল করেছিলেন, ডারউইন ঠিক মতো উল্লেখ করেননি কোন দ্বীপ থেকে তাদের বেশীর ভাগ সংগ্রহ করেছিলেন, কারন তখন তার কাছে এটা গুরুত্বপুর্ণ মনে হয়নি; ঘটনাক্রমে তিনি শুধু নোট করেছিলেন, তিনটি মকিং বার্ড এসেছে তিনটি ভিন্ন দ্বীপ থেকে; এবং গ্যুল্ড তাকে দেখালেন, যে এই মকিংবার্ডগুলো আসলে তিনটি নতুন এবং ভিন্ন প্রজাতির সদস্য; ডারউইন অনুধাবন করতে পারলেন, নিশ্চয়ই কোন একটি ব্যাপার আছে;  তার ভাবনায় তখন প্রশ্ন এত কাছাকাছি একটি জায়গায় কেন তিনটি ভিন্ন প্রজাতির মকিং বার্ড থাকবে?


ছবি: ফিন্চ (চার্লস ডারউইনের 1839 Journal of Researches Into the Natural History and Geology of the Countries Visited During the Voyage of HMS Beagle Round the World, Under the Command of Captn. FitzRoy, R.N. থেকে) (সুত্র: নোভা)

Continue reading “চার্লস ডারউইন এবং একটি ধারনার বিজয়…. : দ্বিতীয় পর্ব (দুই)”

চার্লস ডারউইন এবং একটি ধারনার বিজয়…. : দ্বিতীয় পর্ব (দুই)

চার্লস ডারউইন এবং একটি ধারনার বিজয়…. : দ্বিতীয় পর্ব (এক)

Charles-Darwin-illustration
ছবি: Darwin and the variety of life that intrigued him (colour litho), Ned M. Seidler 

লেখাটির মুল সুত্র: Carl Zimmer এর Evolution, the triumph of an idea র প্রথম দুটি অধ্যায়; এছাড়াও কিছু বাড়তি তথ্য এসেছে বিভিন্ন সুত্র থেকে:

চার্লস ডারউইন এবং একটি ধারনার বিজয়…. : প্রথম পর্ব (এক)
চার্লস ডারউইন এবং একটি ধারনার বিজয়…. : প্রথম পর্ব (দুই)
চার্লস ডারউইন এবং একটি ধারনার বিজয়…. : প্রথম পর্ব (তিন)

দ্বিতীয় পর্ব : যেন কোন হত্যার স্বীকারোক্তি করার মত 
দুই

Origin of Species এর অরিজিন;

লন্ডনে, ডারউইন আবিষ্কার করলেন তার ভাই যথেষ্ট পরিমানে নিবেদিত কোন প্রকৃতি বিজ্ঞানী ছিলেন না; গবেষনার ল্যাবরেটরীর বাইরে ইরাসমাস বরং সাবলীল ছিলেন লন্ডনের নানা ডিনারের পার্টিতে, ভদ্রলোকদের ক্লাবে; তিনি ডারউইনকে তার সামাজিক বলয়ে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন, আর ডারউইনও তাদের সাথে ভালোভাবে মিশে যেতে পেরেছিলেন। কিন্তু ইরাসমাসের ব্যতিক্রম, ডারউইন অনেক বেশী পরিশ্রমী ছিলেন তার কাজে, তিনি ভুতত্ত্ববিদ্যা নিয়ে বেশ কিছু বৈজ্ঞানিক নিবন্ধ লিখেছিলেন, এছাড়া তার বীগল ভ্রমন নিয়ে একটি বইও তৈরী করে ফেলেন খুব দ্রুত; তার সংগ্রহ করে আনা নানা নমুনা বিশেষজ্ঞদের দিয়ে পরীক্ষা করানোর যাবতীয় ব্যবস্থা করেন -যেমন জীবাশ্ম, উদ্ভিদ, পাখি এবং ফ্ল্যাট ওয়ার্ম ইত্যাদি;

কয়েকমাসের মধ্যেই ডারউইন তার কঠোর পরিশ্রমের ফলও পেতে শুরু করেন, বৃটেনের সবচেয়ে প্রতিশ্রুতিশীল তরুন ভুতত্ত্ববিদ হিসাবে তার সুনাম ছড়াতে থাকে; কিন্তু একই সাথে তিনি একটি গোপন বিষয় তার নিজের মধ্যে লালন করাও শুরু করেছিলেন তখন, তার ব্যক্তিগত ছোট নোটবুকগুলোতে তিনি লিখতে শুরু করেন, না তার প্রিয় বিষয় ভুতত্ত্ব নিয়ে না, বরং জীববিজ্ঞান নিয়ে; তিনি চমকে দেবার মত মনোযোগ বিঘ্নকারী একটি সম্ভাবনা নিয়ে ভীষন আচ্ছন্ন ছিলেন খুবই ব্যক্তিগত ভাবে: হয়তো তার পিতামহ সঠিকই বলেছিলেন;

বৃটেনে তার অনুপস্থিতির পাচ বছরে জীববিজ্ঞানও বহু দুরে অগ্রসর হয়েছিল; নতুন প্রজাতির আবিষ্কার হয়েছে ধারাবাহিকভাবে এবং শ্রেনীবিণ্যাসের ‍প্রাচীন রীতিকে যা চ্যালেন্জ করেছে এবং মাইক্রোস্কোপের নীচে বিজ্ঞানীরা উদঘাটন করেছেন কিভাবে ডিম্বানু থেকে প্রানীর সৃষ্টি হয়; বৃটিশ প্রকৃতি বিজ্ঞানীরা আর প্যালীর  প্রতিটি আলাদা আলাদা ক্ষেত্রে ঈশ্বরের ডিজাইনকে প্রশস্তি করে যাওয়া যুক্তিতে আর সন্তুষ্ট ছিলেন না; কারন তাদেরকে এটি জীবন সংক্রান্ত  কোন গুরুত্বপুর্ণ প্রশ্নের উত্তর দিতে ব্যর্থ ছিল; যদি ঈশ্বর স্বর্গীয়ভাবে জীবনের পরিকল্পনা করে থাকেন, ঠিক কিভাবে তিনি কাজটি করেছিলেন, কিছু প্রজাতির মধ্যে সদৃশ্য আর অন্যদের সাথে তাদের বৈসাদৃশ্যর কারণটাই বা কি? সব প্রজাতি কি একই সাথে পৃথিবী সৃষ্টির প্রথম দিন থেকেই অস্তিত্বশীল ছিল? নাকি সময় অতিক্রান্ত হলে ধীরে ধীরে তাদের ঈশ্বর সৃষ্টি করেছিলেন?

বৃটিশ প্রকৃতি বিজ্ঞানীদের জন্য ঈশ্বর আর কোন মাইক্রোম্যানেজার ছিলেন না, বরং তার দ্বায়িত্ব ছিল প্রকৃতির নিয়ম সৃষ্টি করা এবং সেগুলোর সুচনা করে দেয়া, কোন ঈশ্বর যাকে প্রতিটি মুহুর্তে নাক গলাতে হয় তাকে, যে ঈশ্বর যিনি একেবারে শুরুতে সবকিছু নিখুতভাবে এবং নির্ভুলভাবে  সুচনা করে দিয়েছিলেন, তার চেয়ে মনে হয়েছে যথেষ্ট অযোগ্য; অনেক বৃটিশ প্রকৃতি বিজ্ঞানী মেনে নিয়েছিলেন যে এই গ্রহের ইতিহাসে জীবন পরিবর্তিত হয়েছে;

অপেক্ষাকৃত সরল গ্রুপের প্রাণী এবং উদ্ভিদ বিলুপ্ত হয়েছে এবং তাদের জায়গা নিয়েছে জটিলতর গ্রুপ গুলো; কিন্তু তারা বিষয়টি দেখতেন একটি সুশৃঙ্খল, স্বর্গীয় নির্দেশনায় পরিচালিত একটি প্রক্রিয়া হিসাবে; কোন পার্থিব বিবর্তন না যা ল্যামার্ক প্রস্তাব করেছিলেন ১৮০০ সালে, ১৮৩০ এর দশকে আবারো প্রকৃতি বিজ্ঞানীদের  আরো একবার বড় ধাক্কা দিয়ে নাড়িয়ে দিয়েছিলেন, প্যারিসের ন্যাশনাল মিউজিয়ামের আরেক প্রানীবিজ্ঞানী এতিয়েন জিওফ্রে সঁতিলিয়ার (Etienne Geof roy Saint-Hilaire), একটি নতুন বিবর্তন তত্ত্ব প্রস্তাব করার মাধ্যমে;

Continue reading “চার্লস ডারউইন এবং একটি ধারনার বিজয়…. : দ্বিতীয় পর্ব (এক)”

চার্লস ডারউইন এবং একটি ধারনার বিজয়…. : দ্বিতীয় পর্ব (এক)

চার্লস ডারউইন এবং একটি ধারনার বিজয়…. : প্রথম পর্ব (তিন)


image-1ছবি: Darwin in the Galapagos Islands, শিল্পী John Harrold এর আঁকা;

লেখাটির মুল সুত্র: Carl Zimmer এর Evolution, the triumph of an idea র প্রথম দুটি অধ্যায়; এছাড়াও কিছু বাড়তি তথ্য এসেছে বিভিন্ন সুত্র থেকে:

চার্লস ডারউইন এবং একটি ধারনার বিজয়…. : প্রথম পর্ব (এক)
চার্লস ডারউইন এবং একটি ধারনার বিজয়…. : প্রথম পর্ব (দুই)

প্রথম পর্ব :
যে বিজয় এসেছে ধীরে, ডারউইন এবং ডারউইনবাদের উত্থান
এক:

একজন ভুতত্ত্ববিদের আত্মপ্রকাশ …

বীগলের সমুদ্রযাত্রার শুরুটা ভালোভাবে হয়নি, ১৮৩১ এর অক্টোবরে প্লীমথ বন্দরে এসেছিলেন ডারউইন জাহাজে চড়তে, কিন্তু বেশ কিছু সংস্কার মেরামত, কয়েকবার যাত্রা শুরুর প্রচেষ্টার পর অবশেষে ডিসেম্বর মাসের সাত তারিখের আগে বীগলের তার পাল খুলে দেয় একটি ঐতিহাসিক সমুদ্র যাত্রায়;  বন্দর ছাড়ার পর পরই ডারউইন  সি সিকনেসে কাবু হয়ে পড়েন, যা কিছু খাচ্ছিলেন , সবই তাকেই সমুদ্রের রেলিং এর উপর থেকে উগরে দিতে হয়েছে; যদিও ডারউইন পাচ বছর এই জাহাজেই ছিলেন, তারপরও সমুদ্রযাত্রায় পুরোপুরি ভাবে অভ্যস্ত হতে পারেননি কখনোই;

ডারউইন আবিষ্কার করলেন, ফিটজরয়কে সঙ্গ দেবার ব্যাপারটা খুব সহজ কাজ না, বিষয়টি বেশ কৌশলেরই মনে হয়েছে তার; ক্যাপ্টেন এর মেজাজ খুব রগচটা, এবং আগে থেকে আচ করার কোন উপায় নেই এবং তার অতিমাত্রায় শৃঙ্খলা ডার‌উইনকে হতবাক করেছিল; যেমন ক্রিসমাসের দিন কয়েকজন নাবিক মাতাল হয়েছিল, ফিটজরয় তাদের পরেরদিন সকালে চাবুক দিয়ে তাদের পেটানোর নির্দেশ দেন; প্রতিদিন  ফিটজরয় এর সাথে সকালের খাবার খেয়ে বের হলে, জুনিয়র অফিসাররা তার কাছে জানতে চাইতো, ”আজ কি বেশী কফি খাওয়া হয়েছে ?” এটি ছিল ক্যাপ্টেন এর মেজাজের অবস্থা বোঝার জন্য তাদের সাংকেতিক বার্তা; কিন্তু ডারউইন ফিটজয়ের শক্তিশালী ব্যক্তিত্ব, তার কর্মস্পৃহা, বিজ্ঞানের প্রতি তার আন্তরিকতা, এবং খৃষ্টধর্মের প্রতি নিষ্ঠাকেও শ্রদ্ধা করতেন; প্রতি রবিবার ক্যাপ্টের এর সার্মনের সময় তিনি উপস্থিত থাকতেন;

ডারউইন অধীর আগ্রহে অপেক্ষায় ছিলেন, কখন জাহাজের কোন একটি বন্দরে ভিড়বে, তিনি ডাঙ্গায় পা রাখবেন; কিন্তু বহু সপ্তাহ অপেক্ষা করতে হয়েছিল তাকে সে জন্য; ম্যাদেইরা তে স্রোত এর খারাপ ছিল যে ফিটজরয় সেখানে নোঙ্গর না করার সিদ্ধান্ত নেন, এবং এর পরের বন্দর, ক্যানারী দ্বীপে, কলেরা মহামারীর জন্য জাহাজ ভিড়িয়ে কোয়রানটাইনে আটকে থাকার জন্য আদৌ রাজী হলেন না ফিটজরয়;

Continue reading “চার্লস ডারউইন এবং একটি ধারনার বিজয়…. : প্রথম পর্ব (তিন)”

চার্লস ডারউইন এবং একটি ধারনার বিজয়…. : প্রথম পর্ব (তিন)

চার্লস ডারউইন এবং একটি ধারনার বিজয়…. : প্রথম পর্ব (দুই)

 charles-darwin
ইলাসট্রেশন: Kenn Brown, Mondolithic Studios;  Scientific American’s special issue on theory of evolution (January 2009)

লেখাটির মুল সুত্র: Carl Zimmer এর Evolution, the triumph of an idea র প্রথম দুটি অধ্যায়; এছাড়াও কিছু বাড়তি তথ্য এসেছে বিভিন্ন সুত্র থেকে:
প্রথম পর্বের প্রথম অংশর লিঙ্ক নীচে

চার্লস ডারউইন এবং একটি ধারনার বিজয়…. : প্রথম পর্ব (এক)

প্রথম পর্ব :
যে বিজয় এসেছে ধীরে, ডারউইন এবং ডারউইনবাদের উত্থান

এক:

পৃথিবীর গড়ে ওঠা…

অক্টোবর ১৮৩১ সালে যখন ডারউইন প্লীমথ পৌছেছিলেন তার ট্রাঙ্ক ভর্তি বই আর বৈজ্ঞানিক সরন্জাম নিয়ে, তিনি পৃথিবী এবং জীব জগত সম্বন্ধে তৎকালীন ধারনাকে সাথে নিয়ে এসেছিলেন; কেমব্রিজে তার শিক্ষকরা শিখিয়েছিলেন, পৃথিবী সম্বন্ধে জানার মাধ্যমেই আমরা ঈশ্বরের ইচ্ছার কথা জানতে পারি;  কিন্তু তা সত্ত্বেও  বৃটিশ বিজ্ঞানীরা যতই আবিষ্কার করতে লাগলেন, ততই  বাইবেলকে নির্ভুল একটি গাইড হিসাবে বিশ্বাস করাও কঠিন হয়ে উঠতে শুরু করেছিল;

বৃটিশ ভুতত্ত্ববিদরা যেমন, আর মেনে নিতে রাজী ছিলেন না যে, পৃথিবী মাত্র কয়েক হাজার বছর প্রাচীন; কোন এক সময় হয়তো যথেষ্ট ছিল বাইবেল এর কথা আক্ষরিক অর্থে মেনে নেয়া, যেমন মানবজাতির সৃষ্টি হয়েছে  মহাবিশ্ব সৃষ্টির প্রথম সপ্তাহে; ১৬৫৮ সালে জেমস আশার, আরমাঘ এর আর্চ বিশপ বাইবেল এবং কিছু ঐহিহাসিক রেকর্ড ঘেটে গ্রহর বয়স নির্দিষ্ট করেন;


ছবি: জেমস আশার (James Ussher: 1581 –1656); আয়ারল্যান্ডের এই আর্চ বিশপ পৃথিবীর বয়স মেপেছিলেন, তার মতে ৪০০৪ খৃষ্টপুর্বাব্দে ২২ অক্টোবর ঈশ্বর পৃথিবী সৃষ্টি করেছিলেন; বিস্ময়কর হলে সত্য এখনও অনেকে ইয়ং আর্থ ক্রিয়েশনিষ্ট আছেন, যারা জেনেসিসে বর্ণিত সময়কাল অনুযায়ী পৃথিবীর বয়স মনে করেন মাত্র কয়েক হাজার বছর;

Continue reading “চার্লস ডারউইন এবং একটি ধারনার বিজয়…. : প্রথম পর্ব (দুই)”

চার্লস ডারউইন এবং একটি ধারনার বিজয়…. : প্রথম পর্ব (দুই)

চার্লস ডারউইন এবং একটি ধারনার বিজয়…. : প্রথম পর্ব (এক)

17702_604221712936593_1500690192_n

ভুমিকা: ১২ ফেব্রুয়ারী চার্লস ডারউইনের জন্মদিন; ১৮০৯ সালে ইংল্যান্ডে এই দিনে তিনি জন্মগ্রহন করেছিলেন; দিনটি আন্তর্জাতিক ডারউইন দিবসও;  বিজ্ঞান এবং যুক্তির আলোয় কুসংস্কারমুক্ত জীবন উদযাপনের দিন হিসাবে চার্লস ডারউইনের জন্মদিন, ১২ ফেব্রুয়ারীকে বেছে নেয়া হয়েছিল নব্বই দশকের শুরুতে, আন্তর্জাতিক ডারউইন দিবস হিসাবে। ১২ ফেব্রুয়ারী,  ২০১৩ বিশ্ব ডারউইন দিবস এ ডারউইনের প্রতি সন্মান জানিয়ে আমার এই প্রয়াস। মানব সভ্যতার ইতিহাসে সম্ভবত সবচেয়ে শক্তিশালী আর বৈপ্লবিক ধারনাটির জন্ম দিয়েছিলেন প্রতিভাবান বৃটিশ প্রকৃতি বিজ্ঞানী চার্লস ডারউইন: প্রাকৃতিক নির্বাচনের মাধ্যমে বিবর্তন। জীববিজ্ঞান তো বটেই বিজ্ঞানের নানা শাখায় এর প্রভাব সুদুরপ্রসারী। ১৮৫৯ সালে প্রকাশিত তার মাষ্টারপিস On the Origin of Species বইটি, পৃথিবী এবং তার মধ্যে আমাদের নিজেদের অবস্থান সম্বন্ধে, আমাদের দৃষ্টিভঙ্গীটাকে চিরকালের মত বদলে দিয়েছে; খুব সরল এই ধারনার মাধ্যমে, ডারউইন পেরেছিলেন জীবের সকল জটিলতা আর বৈচিত্রের সাধারন একটি ব্যাখ্যা দিতে। গত দেড় শতাব্দী ধরে বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখা তার এই ধারনাটির স্বপক্ষে প্রমান জুগিয়েছে, যা এখনও অব্যাহত আছে। বিবর্তন তত্ত্বের বিরোধীতার কারন কখনোই এর প্রমানের স্বল্পতা নয়, বরং এর সম্বন্ধে অজ্ঞতা। নীচের লেখাটি কিছুটা সংক্ষিপ্ত আকারে ডারউইনের জীবনে সেই গুরুত্বপুর্ণ সময়ে কাহিনী; লেখাটির মুল সুত্র: Carl Zimmer এর Evolution, the triumph of an idea র প্রথম দুটি অধ্যায়; এছাড়াও কিছু বাড়তি তথ্য এসেছে বিভিন্ন সুত্র থেকে:

Ignorance more frequently begets confidence than does knowledge: it is those who know little, and not those who know much, who so positively assert that this or that problem will never be solved by science. Charles Darwin

False facts are highly injurious to the progress of science, for they often endure long; but false views, if supported by some evidence, do little harm, for every one takes a salutary pleasure in proving their falseness. Charles Darwin

 

প্রথম পর্ব :
যে বিজয় এসেছে ধীরে, ডারউইন এবং ডারউইনবাদের উত্থান

এক:

ডারউইন এবং দ্য বীগল

১৮৩১ সাল, অক্টোবরের শেষ সপ্তাহ।

ইংল্যান্ডের প্লীমথ (Plymouth) বন্দরে দাড়িয়ে আছে নব্বই ফুট দীর্ঘ কোষ্টার এইচ এম এস বীগল (HMS Beagle); উই ঢিবির উইপোকার মত এদিক ওদিক ছুটে বেড়াচ্ছে ব্যস্ত খালাসী আর নাবিকরা, যতটুকু করা সম্ভব,ততটুকুই বোঝাই করা হচ্ছে জাহাজটিকে; কারন বীগল প্রস্তুত হচ্ছে  সারা পৃথিবী প্রদক্ষিন করার সমুদ্রযাত্রার উদ্দেশ্যে, যা স্থায়ী হতে পারে প্রায় পাচ বছর। জাহাজের হোল্ড বা খোলের মধ্যে তারা ঠেসে রাখছে আটা আর রাম এ ভরা পিপাগুলো, আর জাহাজের ডেক জুড়ে নানা আকারের কাঠের বাক্স, যাদের ভিতরে করাতের কাঠের গুড়ার উপর বসানো পরীক্ষামুলক বেশ কিছু ঘড়ি; বীগলের এই সমুদ্র যাত্রার মুল কারনটি ছিল বৈজ্ঞানিক, বৃটিশ নৌবাহিনীর জন্য এই ঘড়িগুলো বিশেষভাবে পরীক্ষা করবে সার্ভেয়াররা, যাদের সমুদ্রযাত্রার জন্য সুক্ষ সময়ের পরিমাপ বিশেষভাবে গুরুত্বপুর্ণ; এছাড়াও বীগলের আরেকটি কাজ হচ্ছে বিস্তারিতভাবে মানচিত্র তৈরী করা; নানা ধরনের নেভিগেশন চার্ট গুলোর রাখার জন্য কেবিনগুলোয় বিশেষ মেহগনী সিন্দুকও তৈরী করা হয়েছে; জাহাজের ১০টি লোহার কামান সরিয়ে তামার কামান বসানো হয়েছে, যেন তারা বীগলের কম্পাসের সাথে সামান্যতম কোন সমস্যা না করে;

Continue reading “চার্লস ডারউইন এবং একটি ধারনার বিজয়…. : প্রথম পর্ব (এক)”

চার্লস ডারউইন এবং একটি ধারনার বিজয়…. : প্রথম পর্ব (এক)

লরেন্স ক্রাউস এর এ ইউনিভার্স ফ্রম নাথিং : প্রথম অধ্যায়


শীর্ষ ছবি: অ্যান্ড্রোমিডা গ্যালাক্সী (M31); আমাদের মিল্কী ওয়ে গ্যালাক্সীর কাছে অবস্থিত সবচেয়ে মেজর গ্যালাক্সী। মিল্কী ওয়ের মতই এটি একটি স্পাইরাল গ্যালাক্সী, যা পৃথিবী থেকে প্রায় ২.৬ মিলিয়ন আলোক বর্ষ দুরে অবস্থিত। (ছবিসুত্র)

One of the most poetic facts I know about the universe is that essentially every atom in your body was once inside a star that exploded. Moreover, the atoms in your left hand probably came from a different star than did those in your right. We are all, literally, star children, and our bodies made of stardust. Lawrence Krauss

ভুমিকা: লেখাটি কানাডীয় আমেরিকান তাত্ত্বিক পদার্থ বিজ্ঞানী লরেন্স ক্রাউস (Lawrence Krauss) এর A Universe from Nothing: Why There is Something Rather Than Nothing এর প্রথম অধ্যায় A Cosmic Mystery Story: Beginnings এর অনুবাদ প্রচেষ্টা। বর্তমানে তিনি অ্যারিজোনা স্টেট  ইউনিভার্সিটির পদার্থবিদ্যার অধ্যাপক এবং Origins Project এর পরিচালক। 

_____________________________

এ ইউনিভার্স ফ্রম নাথিং:প্রথম অধ্যায় (একটি মহাজাগতিক রহস্য কাহিনী: সুচনালগ্ন)

যাত্রা শুরুর সাথে প্রথম যে রহস্যটি যুক্ত থাকে, তা হলো: যাত্রা শুরুর সেই বিন্দুতে ভ্রমনকারী প্রথমে কেমন করে পৌছে ছিলেন। (লুই বোগান, জার্নি অ্যারাউন্ড মাই রুম)

সেই রাত ছিল অন্ধকার আর ঝঞ্ঝাবিক্ষুদ্ধ।

______

১৯১৬ সালের শুরুর দিকে; আলবার্ট আইনস্টাইন তার জীবনের সেরা কাজটি কেবল শেষ করেছেন, নতুন একটি থিওরী অব গ্র্যাভিটি বা মধ্যাকর্ষন তত্ত্বর ধারনাতে পৌছানোর জন্য তার এক দশকের সুতীব্র বুদ্ধিবৃত্তিক সংগ্রামের ফসল, যার নাম দিয়েছিলেন, জেনারেল থিওরী অব রিলেটিভিটি বা আপেক্ষিকতার সাধারন তত্ত্ব। অবশ্য এটি শুধুমাত্র একটি নতুন থিওরী অব গ্র্যাভিটি বা মধ্যাকর্ষন তত্ত্বই ছিল না, এছাড়া এটি ছিল মহাশুন্য এবং সময়ের বা টাইম এবং স্পেস এরও একটি নতুন তত্ত্ব। এবং এটাই ছিল প্রথম কোন বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব, যা, মহাবিশ্বে একটি বস্তু কেমন করে তার অবস্থান পরিবর্তন করছে, সেটাকেই শুধুমাত্র ব্যাখ্যা করেনি, এই মহাবিশ্ব কেমন করে বিবর্তিত হতে পারে তারও একটি ব্যাখ্যা দিয়েছিল।

তবে, সেই সময়ের প্রেক্ষাপটে শুধু ছোট একটা সমস্যা ছিল। যখন প্রথম আইনস্টাইন পুরো মহাবিশ্বকে সার্বিকভাবে ব্যাখ্যা করতে তার তত্ত্বটিকে প্রয়োগ করতে শুরু করেছিলেন, তখন একটা বিষয় স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল যে, তত্ত্বটি সেই সময়ের ধারনায় আপাতদৃষ্টিতে যে মহাবিশ্বে আমরা বাস করছি, সেটি ব্যাখ্যা করতে পারছে না।

বর্তমানে, প্রায় একশ বছর পর, কারো পক্ষে সম্পুর্নভাবে মুল্যায়ণ করা কিন্তু খুবই কষ্টসাধ্য, একটি মানুষের জীবনকালের সংক্ষিপ্ত ব্যপ্তিতে, এই মহাবিশ্ব সম্বন্ধে আমাদের ধারনা কি সুবিশাল পরিমানে পরিবর্তিত হয়েছে। ১৯১৭ সালের বৈজ্ঞানিক সমাজের ধারনায় এই মহাবিশ্ব ছিল স্থির এবং চিরন্তন অপরিবর্তনশীল, যা তৈরী করেছে শুধুমাত্র একটি ছায়াপথ বা গ্যালাক্সী, আমাদের মিল্কি ওয়ে; যাকে ঘিরে আছে সুবিশাল, অসীম, অন্ধকার এবং সম্পুর্ন মহাশুন্যতা। কারন এটুকুই কেবল, আপনি অনুমান করতে পারবেন খালি চোখে বা কোন ছোট টেলিস্কোপ ব্যবহার করে আকাশের দিকে তাকিয়ে এবং সেই সময় এছাড়া অন্য কিছু সন্দেহ করার অবকাশও ছিল কম।
Continue reading “লরেন্স ক্রাউস এর এ ইউনিভার্স ফ্রম নাথিং : প্রথম অধ্যায়”

লরেন্স ক্রাউস এর এ ইউনিভার্স ফ্রম নাথিং : প্রথম অধ্যায়

ইউজেন দুবোয়া এবং জাভা ম্যান


শীর্ষ ছবি: ১৯০২ সালে মারি ইউজেন ফ্রাসোয়াঁ থমাস দুবোয়া ( ২৮ জানুয়ারী ১৮৫৮ – ১৬ ডিসেম্বর ১৯৪০) | ছবিসুত্র

No discovery was ever made without a bold guess. Isaac Newton

We live by admiration, love and hope. Wordsworth
(সেপ্টেম্বর ১৮৯৩ সালে শুরু করা দুবোয়ার ব্যবহৃত ফিল্ড নোটবুকের উপরে লেখা ছিল ওয়ার্ডসওয়ার্থের এই পংক্তিটি) 

Where, then, must we look for primaeval Man? ……. In still older strata do the fossilized bones of an ape more anthropoid, or a Man more pithecoid, than any yet known await the researches of some unborn paleontologist?  Thomas Henry HuxleyOn some Fossil Remains of Man’ (1863). 

The question of questions for manking-the problem which underlies all other, and more deeply interested than any others is the ascertainment of place with man occupies in nature and his relations to univers of things.  Thomas Henry Huxley ( Evidence as to Man’s place in nature, 1863)

আমার কিছু কথা: পৃথিবীর সবচেয়ে গুরুত্বপুর্ন মানব জীবাশ্মটি আবিষ্কার করেছিলেন ডাচ চিকিৎসক ই্উজেন দুবোয়া;মানব বিবর্তনের ধারাবাহিতায় তার আবিষ্কৃত সেই জাভা ম্যান আজ পরিচিত Homo erectus প্রজাতি হিসাবে।  দুবোয়াই প্রথম বিজ্ঞানী যিনি শুধুমাত্র এই জীবাশ্মটির সন্ধানে তার নিরাপদ জীবন ছেড়ে পাড়ি দিয়েছিলেন সুদুর ডাচ ইষ্ট ইন্ডিজে, প্রায় অসম্ভব একটা অভিযানে। উদ্দেশ্য ছিল তিনি ডারউইনের মিসিং লিঙ্ক্ খুজে বের করবেন, যা প্রমান করবে মানুষ এবং এইপদের মধ্যবর্তী একটা ট্রানজিশন্যাল অবস্থাকে। বলাবাহুল্য তিনি তার বাজীতে জিতেছিলেন, কিন্তু বিনিময়ে তাকে হারাতে হয়েছে অনেক কিছুই। সব ত্যাগের বিনিময়ে যখন তিনি ইউরোপ পৌছালেন, প্রশংসা আর সন্মানের বদলে তার ভাগ্যে জুটেছিল সন্দেহ, বিতর্ক আর সমালোচনা। উনবিংশ শতাব্দীর শেষ দশকে তার এই অসাধারন আবিষ্কারের জন্য আসলে প্রস্তুত ছিল না কেউই, বিস্মিত এবং হতবাক সংখ্যাগরিষ্ঠ বৈজ্ঞানিক সমাজ তাই এর বীপরিত অবস্থানই বেছে নিয়েছিল নিরাপদ মনে করে। তার জীবাশ্ম অ্যানালাইসিসের টেকনিক, যা কিনা আজ প্রতিষ্ঠিত, তখন কারো জানাই ছিলনা। তার উপসংহার এতো বেশী সুস্পষ্ট ছিল, সন্দেহপ্রবন বিজ্ঞানবিশ্ব তা সহজে গ্রহন করতে পারেনি। দুবোয়াও অবশ্য হাল ছাড়েননি। দেশের মাটিতে পা দিয়ে প্রায় মৃত্যু পর্যন্ত  যুদ্ধ করে গেছেন তার জীবাশ্মর গুরুত্বটিকে প্রতিষ্ঠিত করতে। তাকে এই সংগ্রামের মুল্য দিতে হয়েছে অনেক, তার স্ত্রী, সন্তানের ভালোবাসা, তার বন্ধুদের বিশ্বাস, সহকর্মীদের শ্রদ্ধা। তিনি মারা যান একাকী, অনেক তিক্ততা আর কাউকে না বোঝাতে পারার যন্ত্রনা নিয়ে। দুবোয়াই শুরু করেছিলেন মানুষের বিবর্তন আর উৎপত্তির সন্ধানে আমাদের দীর্ঘ যাত্রাটি, যা আজ অকল্পনীয়ভাবে সমৃদ্ধ বিজ্ঞানের নানা শাখার ইন্টারঅ্যাকশনে। ১৯৬০ এর দশক শুরু হবার আগেই দুবোয়া অবদান সুপ্রতিষ্ঠিত হয়ে গেছে আর কোন সন্দেহ ছাড়াই। নতুন প্রজন্মর প্যালিওঅ্যানথ্রোপোলজিষ্টরা জানেন দুবোয়া ছিলেন তাদের অগ্রপথিক। তাঁকে স্মরণ করে আমার এই লেখাটির মুল সুত্র ইউজেন দুবোয়ার নাটকীয় জীবন নিয়ে প্যাট শিপম্যানের অসাধারন জীবনীগাথা The man who found the missing link: Eugene Dubois and his lifelong quest to prove Darwin right এবং শন বি ক্যারলের  Remarkable creatures: Epic adventures in search for the origins of species, এছাড়া ইন্টারনেট তো বটেই।

Continue reading “ইউজেন দুবোয়া এবং জাভা ম্যান”

ইউজেন দুবোয়া এবং জাভা ম্যান

রবার্ট কখ এর ব্যাসিলাই

 


শীর্ষ ছবি: হাইনরিশ হেরমান রবার্ট কখ ( ১১ ডিসেম্বর, ১৮৪৩ – ২৭ মে, ১৯১০) | ছবি সুত্র

If my efforts have led to greater success than usual, this is due, I believe, to the fact that during my wanderings in the field of medicine, I have strayed onto paths where the gold was still lying by the wayside. It takes a little luck to be able to distinguish gold from dross, but that is all.  Robert Koch (1908)

Continue reading “রবার্ট কখ এর ব্যাসিলাই”

রবার্ট কখ এর ব্যাসিলাই

লাভোরাঁ’র হিমঅ্যামিবোমা


শীর্ষছবি: আমাদের রক্তের লোহিত রক্ত কনিকার (লাল) মধ্যে ম্যালেরিয়ার পরজীবি Plasmodium falciparum (হাই পাওয়ার ম্যাগনিফিকেশনে); যে ছয়টি ম্যালেরিয়ার পরজীবি মানুষের ম্যালারিয়ার কারন তার মধ্যে এটি সবচেয়ে ভয়ানক।  লোহিত রক্ত কনিকার মধ্যে ঢুকে এরা হিমোগ্লোবিনকে খাদ্য হিসাবে গ্রহন করে এবং বংশবৃদ্ধি করে।একসময় কোয়ের পর্দা ছিড়ে বের হয়ে আসে অন্য লোহিত রক্ত কনিকাকে আক্রমন করতে। (ছবি: Lennart Nilsson/ National Geographics)

“…With tears and toiling breath,
I find thy cunning seeds,
O million-murdering Death.”
(fragment of poem by Ronald Ross, written in August 1897, following his discovery of malaria parasites in anopheline mosquitoes fed on malaria-infected patients)

 His writings are a model of clarity and completeness: every sentence is precise and unambiguous. His manner was like his writing – to the point, exact and decisive. He was regarded with affection and admiration by all who came into contact with him. Ronald Ross  in Laveran’s obituary (1923).

আমার কিছু কথা: যারা বিজ্ঞানের ইতিহাস ভালোবাসেন, তারা হয়তো আমার মতই কোন কিছুর সম্বন্ধে পড়তে গেলে, তার ইতিহাসটা জানতে তীব্র একটা আগ্রহ বোধ করেন। ম্যালেরিয়ার রোগের কারন যে পরজীবি, সেটির সম্বন্ধে আমি প্রথম পড়ি মেডিকেল কলেজে তৃতীয় বর্ষে, এরপর যখন চিকিৎসা অনুজীব বিজ্ঞানে পড়েছি তখন আরো একবার। সহস্র বছর ধরে মানুষের পরিচিত এই রোগটির জীবানু যিনি খুজে পেয়েছিলেন তার সম্বন্ধে জানার একটা বাড়তি কৌতুহল ছিল। ছাত্র ছাত্রীদের মাইক্রোবায়োলজী টিউটোরিয়ালে বিশেষ করে ম্যালেরিয়ার পরীক্ষা নেবার সময় আমি মাঝে মাঝেই জানতে চাইতাম, তারা কি জানে ম্যালেরিয়ার এই পরজীবিটাকে কে প্রথম খুজে পেয়েছিলেন; অবশ্য এই প্রশ্নের উত্তর তাদের না জানলেও কোন ক্ষতি নেই; আমার ব্যক্তিগত ইন্টারেষ্ট থেকেই শুধু বলতাম। তবে ম্যালেরিয়ার একটা আবিষ্কার মোটামুটি সবারই পরিচিত, সেটা হলো স্যার রোনাল্ড রস এর, যিনি ম্যালেরিয়ার জীবানুর বিস্তারের সাথে মশার সম্পর্কটি খুজে বের করেছিলেন। কিন্তু রসের আবিষ্কারের প্রায় দুই দশক আগেই কিন্তু এই পরজীবি প্রোটোজোয়াটা আবিষ্কার করেছিলেন ফরাসী চিকিৎসক শার্লে লুই আলফোঁস লাভোরাঁ, আর এই আবিষ্কারের সাথেই প্যারাসাইটোলোজীর একটা বড় অংশ প্রোটোজুয়োলজীর বিশাল ক্ষেত্রটি উন্মোচিত হয়। ক্যারিয়ারের শুরুতে এত বড় আবিষ্কার করার পরও, তাকে এটি প্রতিষ্ঠিত করতে সংগ্রাম করতে হয়েছে বহুদিন, এমনকি নিজের দেয়া প্রথম নামটাও প্রতিষ্ঠা করতে পারেননি নানা কারনে। ধীরে ধীরে স্বীকৃতি পেলেও বহুদিন  ছিলেন গবেষনা থেকে দুরে। অভিমান করে সামরিক বাহিনীর চাকরী ছাড়ার পর পরই, সেই প্রথম আবিষ্কারের প্রায় ২৭ বছর পর মনের মত করে স্বাধীনভাবে গবেষনা করার সুযোগ পেয়েছিলেন, সেই সময়টাতে তিনি আরো কিছু পরজীবি প্রোটোজোয়া নিয়ে অসাধারন কিছু কাজ করেন। তার কাজের সুফল আমরা এখনো পাচ্ছি। ব্যক্তিজীবনে ভীষন নীতিবান এই দেশপ্রেমী মানুষটি নোবেল পুরষ্কারের প্রায় পুরো টাকা খরচ করেছিলেন পাস্তুর ইনস্টিটিউটের একটি ট্রপিক্যাল মেডিসিনের ল্যাবরেটরী বানাতে।  নীচের লেখাটায় আমি ম্যালেরিয়ার  ইতিহাসের কিছু মাইলস্টোনও ছোবার চেষ্টা করেছি আলাফোঁস লাভোরাঁর জীবনের প্রেক্ষাপটে।

Continue reading “লাভোরাঁ’র হিমঅ্যামিবোমা”

লাভোরাঁ’র হিমঅ্যামিবোমা

রঙ্গীন ফটোগ্রাফীর ১৫০ বছর:

শীর্ষ ছবি: ১৯১৫ সালের আশেপাশে অটোক্রোমে তোলা ওয়াটার লিলির ফটোগ্রাফ। (সুত্র: Water lilly. Autochrome, circa 1915. ©George Eastman House / Joseph Anderson / The Image Works, http://theimageworks.info/pub/autochrome/ gallery/images/prevs/prev30.jpg)

প্রথম ক্লিক !!: ইমেজ সেন্সর আর বেয়ার ফিল্টারের আবিষ্কারের মধ্য দিয়ে ডিজিট্যাল ফটোগ্রাফির জন্ম হয় ৮০’র দশকে। ডিজিট্যাল ক্যামেরার উপস্থিতি এখন সর্বত্র। কিন্তু ছবি তোলার এই সহজ উপায়টি আসার আগে, কোন একটি মুহুর্তকে ফটোগ্রাফে বন্দী করে রাখার জন্য আমাদের প্রচেষ্টার ইতিহাস কিন্তু প্রায় দেডশ বছরেরও বেশী। সেই ইতিহাসের কিছু মাইলস্টোন নিয়ে লেখার চেষ্টা করেছি নিচে। শেষ মাইলস্টোনটি জর্জ ইষ্টম্যানের রোলড ফিল্ম আর পোর্টেবল কোডাক ক্যামেরা। ১৮৫৪ সালে ১২ জুলাই তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক এর ওয়াটারভিলে জন্ম গ্রহন করেন। জীবনের সব প্রতিকুলতাকে জয় করে তিনি একজন আবিষ্কারক ও সফল ব্যবসায়ী হতে পেরেছিলেন।  আমি আমার এই সামান্য লেখাটি  ফটোগ্রাফির সেই অগ্রদুত,আবিষ্কারক এবং ফিলানথ্রপিষ্ট জর্জ ইষ্টম্যান এর স্মৃতির প্রতি উৎসর্গ করছি :

ভূমিকা:

১৮৬১ সালে রয়্যাল ইনস্টিটিউশনের একটি লেকচারের সময় স্কটিশ পদার্থবিদ জেমস ক্লার্ক ম্যাক্সওয়েল তিনটি প্রধান রঙ্গের সন্নিবেশ আর বিভাজন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে রঙ্গীন ছবি তোলার জন্য তার তত্ত্বটি আবিষ্কারের ঘোষনা দেন। সেই সময় থেকেই যে মুলনীতি পরবর্তীকালে প্রায় সব ধরনের ফটোকেমিক্যাল আর ইলেক্ট্রনিক পদ্ধতিতে রঙ্গীন ছবি তোলার মুল ভিত্তিতে পরিনত হয়। এই আবিষ্কারের ১৫০ বছর পুর্তিতে গত ২৭ শে মে নিউ সায়েন্টিষ্ট পত্রিকা তাদের ওয়েবসাইটে যে সব অসাধারন বিজ্ঞানী আর গবেষকদের প্রচেষ্টার কারনে রঙ্গিন ফটোগ্রাফী সম্ভব হয়েছে, তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে একটি স্লাইড শো প্রকাশ করে। আমার লেখাটি সেই স্লাইডগুলো বেশ খানিকটা পরিবর্ধন আরো তথ্য সন্নিবিষ্ট করে।

আসুন রঙ্গীন ফটোগ্রাফের সেই ইতিহাসের কিছু মাইল ফলক ছুয়ে আসি।

Continue reading “রঙ্গীন ফটোগ্রাফীর ১৫০ বছর:”

রঙ্গীন ফটোগ্রাফীর ১৫০ বছর: