বাস্তবতার জাদু : দ্বিতীয় অধ্যায়

13450772_295027890885438_5741499724979303664_n

দ্বিতীয় অধ্যায়: রিচার্ড ডকিন্সের দ্য ম্যাজিক অব রিয়েলিটি 

কে ছিল প্রথম মানুষ ?

এই বইয়ে বেশীর ভাগ অধ্যায়ের শিরোনামে একটি প্রশ্ন আছে। আমার উদ্দেশ্য হচ্ছে সেই প্রশ্নটির উত্তর দেয়া, অথবা, অন্ততপক্ষে সম্ভাব্য সবচেয়ে সেরা উত্তরটি দেবার চেষ্টা করা, যেটি হচ্ছে বিজ্ঞানের উত্তর। কিন্তু সাধারণ আমি শুরু করবো কিছু পৌরাণিক উত্তর দিয়ে কারণ তার বেশ কৌতুহলোদ্দীপক এবং বর্ণিল, এবং সত্যিকারের বাস্তব মানুষরা সেগুলো বিশ্বাস করেছিল, কিছু মানুষ এখনও তা করেন।

পৃথিবীর সব দেশের মানুষদেরই সৃষ্টি সংক্রান্ত পুরাণ কাহিনী আছে, তারা কোথা থেকে এসেছে সেটি ব্যাখ্যা দেবার জন্য। বহু গোত্র ভিত্তিক সৃষ্টি সংক্রান্ত পুরাণ মূলত একটি সুনির্দিষ্ট গোত্র সংশ্লিষ্ট – যেন অন্য কোনো গোত্র ধর্তব্যের মধ্যেই পড়েনা! একই ভাবে, বহু গোত্রের আইন আছে যে তারা মানব হত্যা করবে না – কিন্তু দেখা যায় এই মানব বলতে শুধুমাত্র আপনার নিজের গোত্রের অন্যদেরকেই বোঝায়। অন্য গোত্রের সদস্যদের হত্যা করলে কোনো সমস্যা নেই।

একটি বৈশিষ্ট্যসূচক সৃষ্টি পুরাণের কথা ধরুন, এটি তাসমানিয়ার আদিবাসীদের একটি গ্রুপের। মহাকাশে নক্ষত্রের মধ্যে একটি ভয়াবহ যুদ্ধে মইনি বলে একজন দেবতাকে পরাজিত করে প্রতিদ্বন্দী এক দেবতা যার নাম ড্রোমেরডিনার। মইনি নক্ষত্র থেকে ছিটকে তাসমানিয়ায় এসে পড়েন তার শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করার জন্য। তবে তিনি মারা যাবার আগে, তার চিরন্তিম শয্যার এই জায়গাটি আশীর্বাদপুষ্ট করতে তিনি একটি ইচ্ছা পোষণ করেছিলেন, এর পরিণতিতে সুতরাং, তিনি মানুষদের সৃষ্টি করেন। যেহেতু তিনি মারা যাচ্ছেন বলে তার এমন তাড়া ছিল, তিনি তার সৃষ্ট মানুষদের হাটু দিতে ভুলে গিয়েছিলেন ( কোনো সন্দেহ নেই নিজের সমস্যা তার মনোযোগ বিক্ষিপ্ত করেছিল), তিনি অন্যমনস্ক হয়ে তাদের ক্যাঙারুর মত লম্বা একটি লেজও দিয়েছিলেন, তার মানে তার ঠিক মত বসতে পারতোনা। এরপর তিনি মারা যান। মানুষরা লম্বা ক্যাঙারু লেজ আর কোনো হাটু না থাকার ব্যপারটি নিয়ে তাদের অসন্তোষ প্রকাশ করতে শুরু করে, এবং স্বর্গের উদ্দেশ্যে আর্তি জানায় তাদের সাহায্য করার জন্য।

Continue reading “বাস্তবতার জাদু : দ্বিতীয় অধ্যায়”

বাস্তবতার জাদু : দ্বিতীয় অধ্যায়