ভালোবাসা, নিউরোবায়োলজী কি বলে….

শীর্ষ ছবি: গবেষনায় দেখা গেছে রোমান্টিক ভালোবাসা এবং মায়ের ভালোবাসা ব্রেনের বেশ কিছু একই অংশগুলোকে সক্রিয় করে; নিউরোবায়োলজিষ্টদের ধারনা মানুষের মধ্যে জুটি বাধা বা পেয়ার বন্ডিং সম্ভবত: বিবর্তিত হয়েছে মা এবং তার সন্তানের সম্পর্ক বা ম্যাটেরনাল বন্ডিং এর ব্রেন মেকানিজম বা স্নায়বিক প্রক্রিয়াটিকে সামান্য কিছু পরিবর্তনের মাধ্যমে। (ইলাসট্রেশন:  জি বেকার,  সুত্র: Love: Neuroscience reveals all. Nature. 457(8 January 2009)

There is always some madness in love. But there is always some reason in madness. Friedrich Nietzsche

মুল:  Semir Zeki,The neurobiology of love; Federation of European Biochemical Societies (FEBS) Letters 581 (2007) এবং  Larry J. Young : Love, Neuroscience reveals all. Nature, 457(8): January 2009;  এছাড়া ব্যবহৃত বাড়তি তথ্য সুত্র (ডায়াগ্রাম এবং কিছু বিশ্লেষণ): Andreas Bartels, Semir Zeki: The neural basis of romantic love (NeuroReport:2000;vol 11(17):3829, Andreas Bartels, Semir Zeki: The neural correlates of maternal and romantic love;NeuroImage; 2004(21):1155; Larry J Young, Zuoxin Wang, The neurobiology of pair bonding. Nature Neuroscience (2004): 7(10):1048 ;

ডঃ সেমির জেকি (Semir Zeki) যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি কলেজ অব লন্ডন এর নিউরোএসথেটিকস এর অধ্যাপক এবং ওয়েলকাম কগনিটিভ নিউরোলজী বিভাগের সহপ্রধান।প্রাইমেটদের ভিজুয়াল ব্রেনই মুলত তার গবেষনার বিষয়। কিন্তু তার গবেষনার ক্ষেত্র বিস্তৃত হয়েছে ব্রেনের সেই অংশগুলোকে খুজে বের করা, যারা আমাদের বিবর্তিত শ্রেষ্ঠতম অনুভুতিগুলোর নিউরোবায়োলজিক্যাল ভিত্তি:,যেমন:ভালোবাসা (রোমান্টিক এবং মায়ের);অসংখ্য গবেষনা পত্র ছাড়াও তিনি এ বিষয়গুলো নিয়ে মোট চারটি গ্রন্থের রচয়িতা:Splendours and Miseries of the Brain (2008), A Vision of the Brain (1993), Inner Vision: an exploration of art and the brain (1999); ২০০১ সাল থেকে তিনি সৃজনশীলতা এবং শিল্পকে বোঝার বা অ্যাপ্রিসিয়েট করার নান্দনিকতার স্নায়ুবৈজ্ঞানিক ভিত্তি খোজার গবেষনা শুরু করেন।এই লক্ষ্যে ক্যালিফোর্নিয়ার বার্কলেতে তিনি স্থাপন করেন Institute of Neuroesthetics। ডঃ ল্যারী জে.ইয়ং, যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টার এমোরী বিশ্ববিদ্যালয়ে Center for Behavioral Neuroscience এর প্রধান এবং Yerkes Primate Center  এর প্রধান গবেষক এছাড়া Emory University School of Medicine  সাইকিয়াট্রি বিভাগের অধ্যাপক।

ভূমিকার আগে: রোমান্টিক ভালোবাসা এবং মায়ের ভালোবাসা নিঃসন্দেহে অসাধারন সুখকর আর রিওয়ার্ডিং একটি অভিজ্ঞতা। এই দুটোই প্রজাতির ধারাবাহিকতা রক্ষা করার সাথে সংশ্লিষ্ট এবং সে কারনেই বিবর্তন প্রক্রিয়ায় অত্যন্ত গুরুত্বপুর্ণ কিছু  বায়োলজিক্যাল প্রক্রিয়ার সাথে এরা ঘনিষ্টভাবে জড়িত;  অথচ এই আচরনগুলোর স্নায়ুবৈজ্ঞানিক ভিত্তি সম্বন্ধে বিজ্ঞানীদের গবেষনা অপেক্ষাকৃত নবীন। বিশেষ করে প্রযুক্তিগত কিছু অগ্রগতি, যেমন: fMRI(ফাংশনাল ম্যাগনেটিক রেসোন্যান্স ইমেজিং) এ ক্ষেত্রে গবেষনার একটি নতুন সম্ভাবনার পথ খুলে দিয়েছিল ৯০ এর দশকের শুরুতে। নতুন এই ব্রেন ইমেজিং টেকনিকগুলো নিউরোবায়োলজিষ্টদের কোন সাবজেক্টিভ (ব্যাক্তি নির্ভর) অনুভুতির সরাসরি স্নায়বিক পরিবর্তনগুলো শনাক্ত করার সুযোগ তৈরী করে দিয়েছে, যেমন: রোমান্টিক এবং মায়ের ভালোবাসার ক্ষেত্রে। ৯০ দশকের শেষের দিকে ডঃ জেকি ও তার সহযোগীরা আমাদের ব্রেনে রোমান্টিক ভালোবাসার সাথে সংশ্লিষ্ট অঞ্চলগুলো খোজার চেষ্টা করেন। পরবর্তীতে তার গবেষনায়ে যুক্ত হয় সন্তানের প্রতি মার ভালোবাসার নিউরোবায়োলজিক্যাল ভিত্তি । দেখা যায় এই দুই ধরনের গভীর ভালোবাসার সম্পর্ক আমাদের ব্রেনের কিছু বিশেষ এলাকা স্বতন্ত্র ভাবে সক্রিয় বা অ্যাক্টিভেট করে। আবার ওভারল্যাপিংও হয়, যেমন ব্রেনের কিছু কিছু এলাকা এই দুই ভালোবাসার ক্ষেত্রেই সক্রিয় হয়ে ওঠে। বিশেষ করে যে এলাকা গুলো আমাদের ব্রেনের রিওয়ার্ড মেকানিজমের সাথে জড়িত। এখানে আমাদের ব্রেনের গুরুত্বপুর্ণ  দুটি রাসায়নিক পদার্থ বা নিউরো হরমোন অক্সিটোসিন এবং ভেসোপ্রেসিনের রিসেপ্টরের (রিসেপ্টর হলো কোষের ঝিল্লীতে থাকা একটি অনু, যার সাথে নির্দিষ্ট কোন রাসায়নিক অনু যুক্ত হতে পারে) বাহুল্যও থাকে এখানে। এই গবেষনার আরেকটি উল্লেখযোগ্য আবিষ্কার হলো যখন এই দুই ধরনের ভালোবাসা ব্রেনের কিছু অংশকে সক্রিয় করে, এরা তার সাথে ব্রেনের কিছু অংশকেও নিষ্ক্রিয় বা ডি অ্যাক্টিভেট করে: সেই অংশগুলো আমাদের নেতিবাচক আবেগের সাথে জড়িত, এছাড়াও আছে সামাজিক জাজমেন্ট এবং মেন্টালাইজিং ( অর্থাৎ অন্য মানুষদের ইনটেনশন বা উদ্দেশ্য এবং ইমোশন সম্বন্ধে আমাদের নিজেদের মেন্টাল অ্যাসেসমেন্ট) প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রনকারী কিছু অংশ। নিউরোবায়োলজিষ্টরা মনে করেন এই মানুষের সম্পর্ক বা অ্যাটাচমেন্টগুলো সৃষ্টিতে এধরনের একটা পুশ-পুল মেকানিজম কাজ করে, যে নেটওয়ার্কগুলো আমাদের ব্রেনে অন্যমানুষ সম্বন্ধে ক্রিটিক্যাল সামাজিক অ্যাসেসমেন্ট এবং নেগেটিভ ইমোশন সৃষ্টি করে, সেটাকে নিষ্ক্রিয় বা নিয়ন্ত্রনে এনে সামাজিক  দুরত্বকে অতিক্রম করতে সহায়তা করে, যা বিভিন্ন সদস্যদের মধ্যে তৈরী করে বন্ধন ব্রেনের রিওয়ার্ড সার্কিট্রিকে ব্যবহার করে। এই নিউরোবায়োলজিক্যাল প্রক্রিয়াগুলো ব্যাখ্যা করতে সক্ষম, কাউকে প্রেরণা দেবার ক্ষেত্রে বা তীব্র সুখের অনুভুতি দিতে ভালোবাসার অসীম শক্তিকে।

Continue reading “ভালোবাসা, নিউরোবায়োলজী কি বলে….”

Advertisements
ভালোবাসা, নিউরোবায়োলজী কি বলে….

আমাদের ভুলে যাওয়া বছরগুলো : শৈশবের স্মৃতিবিলোপের একটি বৈজ্ঞানিক ব্যবচ্ছেদ

(শীর্ষ ছবি: আয়নায় নিজেকে চিনতে পারার ক্ষমতা হচ্ছে আমাদের নিজস্বতা বা আমিত্ব সম্বন্ধে যে আমাদের ধারনা আছে তার একটি গুরুত্বপুর্ন লক্ষন। শৈশবের নিজস্ব কোন স্মৃতিকে দীর্ঘদিন মনের মধ্যে সংরক্ষন করার জন্য যা একান্ত প্রয়োজনীয় : ছবি; anders hviid/gallerystock/New Scientist)

(((নীচের এই লেখাটি নিউ সায়েন্টিষ্ট ম্যাগাজিনে (৩০ এপ্রিল,২০১১)প্রকাশিত Kirsten Weir এর Our Forgotten Years  প্রবন্ধটির একটি পরিবর্ধিত ভাবানুবাদ:কাজী মাহবুব হাসান. জুলাই ১৬,২০১১))))

ভুমিকার পরিবর্তে:

শুরুতেই একটা অনুরোধ করছি; দেখুনতো চেষ্টা করে, আপনার জীবনের ঠিক কতটা পুরানো স্মৃতি আপনি ‍মনে করতে  পারেন। পুরানো অর্থাৎ শৈশবের প্রথম কোন স্মৃতিটা আপনার মনে পড়ছে বা আপনি এখনো মনে করতে পারছেন? যদি মনে পড়ে এমন কোন পুরোনো স্মৃতি তাহলে এবার মনে করে দেখুনতো ঐ স্মৃতির ঘটনার সময় আপনার বয়সটা কত ছিল ।

Continue reading “আমাদের ভুলে যাওয়া বছরগুলো : শৈশবের স্মৃতিবিলোপের একটি বৈজ্ঞানিক ব্যবচ্ছেদ”

আমাদের ভুলে যাওয়া বছরগুলো : শৈশবের স্মৃতিবিলোপের একটি বৈজ্ঞানিক ব্যবচ্ছেদ