এবারের বইমেলায় দুটি বই…

এবারের বই মেলায় দুটি বই প্রকাশিত হতে যাচ্ছে, প্রকাশ করছে অনার্য প্রকাশনী (স্টল নং ২৯৭-২৯৮);
এটাই বই প্রকাশনার জগতে আমার এবং আসমা সুলতানার প্রথম প্রবেশ..

প্রথম বইটি ওয়েজ অব সিইং , সত্তরের দশকে এটি লিখেছিলেন বৃটিশ শিল্প সমালোচক জন বার্জার, একই নামে তাঁর একটি যুগান্তকারী টিভি প্রামাণ্য অনুষ্ঠানের. ভিত্তি করে। এটি শিল্পী আসমা সুলতানা এবং আমার যৌথ অনুবাদ প্রচেষ্টা। শিল্পী রেনে ম্যাগরিট এর তৈলচিত্র দি হিউমান কন্ডিশন এর ভিত্তি করে বইটির প্রচ্ছদ পরিকল্পনা করেছেন শিল্পী আসমা সুলতানা। শিল্পকলার অনুরাগী এবং  দৈনন্দিন জীবনে শিল্পকলার প্রভাব কত সর্বব্যাপী হতে পারে, সেটি যারা জানতে আগ্রহী তাদেরকে এই বইটি হতাশ করবে না ।

WOS_book_2015_for_blog

দ্বিতীয় বইটি দি গড ডিল্যুশন, ২০০৬ সালে প্রকাশিত বিবর্তন জীববিজ্ঞানী রিচার্ড ডকিন্স এর এই বইটির বেশ কয়েকটি অধ্যায় আমি ধারাবাহিকভাবে অনুবাদ করেছিলাম এই ব্লগের জন্য, অনেকেই একারণে এই ব্লগটিতে এসেছেন, অবশেষে এবারের বইমেলায় এটি বই হিসাবে প্রকাশিত হতে যাচ্ছে। এটিরও প্রচ্ছদ পরিকল্পনা করেছেন আসমা সুলতানা তার নিজের একটি চিত্রকর্ম ‘মিরর’ ব্যবহার করে। রিচার্ড ডকিন্সের বাংলা ভাষাভাষী অনুরাগী এবং চিন্তা করতে আগ্রহী এমন পাঠকদের মন নাড়াতে আশাকরি বইটি অবদান রাখবে।

gd_2015feb

এবারের বইমেলায় দুটি বই…

রিচার্ড ডকিন্স এর দি গড ডিল্যুশন : অষ্টম অধ্যায় (শেষ পর্ব)

Good_vs_Evil_by_umerr2000
ছবি: Good Vs Evil; Umerr2000

রিচার্ড ডকিন্স এর দি গড ডিল্যুশন : অষ্টম অধ্যায় (শেষ পর্ব)

( অনুবাদ প্রচেষ্টা: কাজী মাহবুব হাসান)

The God Delusion by Richard Dawkins

প্রথম অধ্যায়
দ্বিতীয় অধ্যায়
তৃতীয় অধ্যায়
চতুর্থ অধ্যায় (প্রথম পর্ব) , চতুর্থ অধ্যায় ( দ্বিতীয় পর্ব) ,
চতুর্থ অধ্যায় ( তৃতীয় পর্ব ) , চতুর্থ অধ্যায় ( চতুর্থ পর্ব ) , চতুর্থ অধ্যায় ( শেষ পর্ব)
 পঞ্চম অধ্যায় (প্রথম পর্ব)পঞ্চম অধ্যায় ( দ্বিতীয় পর্ব) , পঞ্চম অধ্যায় (তৃতীয় পর্ব)
পঞ্চম অধ্যায় (চতুর্থ পর্ব) ,  পঞ্চম অধ্যায় (পঞ্চম পর্ব) ,পঞ্চম অধ্যায় (ষষ্ঠ পর্ব)
ষষ্ঠ অধ্যায় (প্রথম পর্ব) ; ষষ্ঠ অধ্যায় (দ্বিতীয় পর্ব)ষষ্ঠ অধ্যায় (শেষ পর্ব)
সপ্তম অধ্যায় (প্রথম পর্ব) ; সপ্তম অধ্যায় (দ্বিতীয় পর্ব) ; সপ্তম অধ্যায় (তৃতীয় পর্ব) ;
সপ্তম অধ্যায় (চতুর্থ পর্ব) ; সপ্তম অধ্যায় ( শেষ পর্ব)
অষ্টম অধ্যায় (প্রথম পর্ব) ; অষ্টম অধ্যায় (দ্বিতীয় পর্ব) ; অষ্টম অধ্যায় (তৃতীয় পর্ব) ;
অষ্টম অধ্যায় (চতুর্থ পর্ব) ; অষ্টম অধ্যায় (পঞ্চম পর্ব)

ধর্মের সমস্যাটা আসলে কি? ধর্ম কেন এত হিংস্র ?

 

 মধ্যপন্থী ধর্মবিশ্বাস কিভাবে ধর্মীয় উগ্রতাকে লালন করে;

নৈতিক অ্যাবসোল্যুটিজম বা চুড়ান্তবাদীতার অন্ধকার রুপটার উদহারন দেবার সময় আমি উল্লেখ করেছিলাম, যুক্তরাষ্ট্রের খৃষ্টানটা যারা গর্ভপাত ক্লিনিক উড়িয়ে দেয় বোমা মেরে এবং আফগানী তালিবান, যাদের নিষ্ঠুরতার বিবরণ বিশেষ করে নারীদের প্রতি, আমার পক্ষে বর্ণনা করা খুবই কষ্টের, এছাড়া আয়াতোল্লাহদের হাতে ইরান কিংবা সৌদ রাজকুমারের অধীনে সৌদি আরব, যেখানে মেয়ে গাড়ী চালাতে পারেনা, এবং পুরুষ কোন আত্মীয় ছাড়া তারা বাসার বাইরে যাওয়া মানে সমস্যায় পড়া ( কর্তৃপক্ষ দয়াপরবশ হয়ে এক্ষেত্রে বিশেষ ছাড় দিয়েছে, শিশু পুত্র সন্তান হলেও চলবে); জেন গুডউইন সৌদি আরব এবং বর্তমানে ক্ষমতা থাকা অন্যান্য ধর্ম নির্ভর একনায়ক রাষ্টকাঠামোয় নারীদের সাথে আচরণের ভয়াবহ চিত্র উন্মোচন করেছেন তার  Price of  Honour বইটিতে। জোহান হ্যারি লন্ডনের Independent পত্রিকায় সবচেয়ে প্রানচঞ্চল কলামিষ্ট  তার একটি প্রবন্ধের শিরোনামে লিখেছিলেন The best way to undermine the jihadists is to trigger a rebellion of Muslim women ( জিহাদীদের পরাস্ত করতে হলে মুসলিম নারীদের একটি অভ্যুত্থানের সুচনা করতে হবে:

বা খৃষ্টধর্মে ধমান্তরিত হয়ে; আমি উদ্ধৃতি দিতে পারি সেই সব ‘রাপচার’ প্রিয় যুক্তরাষ্ট্রের খৃষ্টানদের যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচীয় নীতির উপর যাদের শক্তিশালী প্রভাব সুস্পষ্ট, যা নিয়ন্ত্রন করছে বাইবেল এর উপরে তাদের বিশ্বাস যে প্যালেষ্টাইনের সব জমির উপর ইসরায়েলের ঐশ্বরিক অধিকার আছে। রাপচার খৃষ্টানদের কিছু অংশ আবার আরো খানিকটা এগিয়ে কামনা করছেন পারমানবিক যুদ্ধের, কারন তাদের অভিধানে এমন এটি হবেসেই আর্মাগেডডন, যা তাদের আজব বুক অব রিভিলেশনের অস্বস্তিকর জনপ্রিয় ব্যাখ্যা অনুযায়ী খৃষ্টেরর প্রত্যাবর্তন বা সেকেন্ড কামিংকে তরান্বিত করবে। এ বিষয়ে সাম হ্যারিস এর Letter to a Christian Nation এ তার একটি রোমহর্ষক মন্তব্যর  কোন পরিবর্ধন করা সম্ভব না আমার পক্ষে:

সুতরাং মোটেও অতিরন্জিত হবে না বলা যদি নিউ ইয়র্ক নগরী হঠাৎ করে প্রতিস্থাপিত হয় একটি আগুনের গোলকে, বেশ কিছু উল্লেখযোগ্য পরিমান যুক্তরাষ্ট্রের জনগন সেই বিস্ফোরন পরবর্তী সৃষ্টি হওয়া মার্শরুম মেঘে রুপালী আশার রেখা দেখতে পাবেন, কারন এটা তাদের বলা হয়েছে, সবচেয়ে উত্তম যে জিনিসটি ঘটার কথা, সেটি প্রত্যাসন্ন: খৃষ্টের প্রত্যাবর্তন। এই বিষয়টি খুব স্পষ্ট হওয়া উচিৎ যে, এধরনের কোন বিশ্বাস সামাজিক, অর্থনৈতিক পরিবেশগত বা ভুরাজনৈতিকভাবে কোন স্থিতিশীল পৃথিবী গড়তে আমাদের কোন সাহায্যই করবে না; কল্পনা করুন এর পরিনতি কি হতে পারে যদি যুক্তরাষ্ট্রের সরকার উল্লেখযোগ্য একটি অংশ সত্যিই  বিশ্বাস করে পৃথিবীর ধ্বংশ আসন্ন এবং পরিসমাপ্তি হবে গৌরবময়। শুধুমাত্র ধর্মীয় মতবাদের উপর ভিত্তি যুক্তরাষ্টের প্রায় অর্ধেক মানুষ আপাতদৃষ্টিতে এটা বিশ্বাস করছে এই বাস্তবতাটি বিবেচনা করা উচিৎ একটি নৈতিক এবং বুদ্ধিবৃত্তিক জরুরী অবস্থা হিসাবে।

Continue reading “রিচার্ড ডকিন্স এর দি গড ডিল্যুশন : অষ্টম অধ্যায় (শেষ পর্ব)”

রিচার্ড ডকিন্স এর দি গড ডিল্যুশন : অষ্টম অধ্যায় (শেষ পর্ব)

রিচার্ড ডকিন্স এর দি গড ডিল্যুশন : অষ্টম অধ্যায় (পঞ্চম পর্ব)

jk
ছবি: Jon Krause এর একটি ইলাসট্রেশন, 

রিচার্ড ডকিন্স এর দি গড ডিল্যুশন : অষ্টম অধ্যায় (পঞ্চম পর্ব)

( অনুবাদ প্রচেষ্টা: কাজী মাহবুব হাসান)

The God Delusion by Richard Dawkins

প্রথম অধ্যায়
দ্বিতীয় অধ্যায়
তৃতীয় অধ্যায়
চতুর্থ অধ্যায় (প্রথম পর্ব) , চতুর্থ অধ্যায় ( দ্বিতীয় পর্ব) ,
চতুর্থ অধ্যায় ( তৃতীয় পর্ব ) , চতুর্থ অধ্যায় ( চতুর্থ পর্ব ) , চতুর্থ অধ্যায় ( শেষ পর্ব)
 পঞ্চম অধ্যায় (প্রথম পর্ব)পঞ্চম অধ্যায় ( দ্বিতীয় পর্ব) , পঞ্চম অধ্যায় (তৃতীয় পর্ব)
পঞ্চম অধ্যায় (চতুর্থ পর্ব) ,  পঞ্চম অধ্যায় (পঞ্চম পর্ব) ,পঞ্চম অধ্যায় (ষষ্ঠ পর্ব)
ষষ্ঠ অধ্যায় (প্রথম পর্ব) ; ষষ্ঠ অধ্যায় (দ্বিতীয় পর্ব)ষষ্ঠ অধ্যায় (শেষ পর্ব)
সপ্তম অধ্যায় (প্রথম পর্ব) ; সপ্তম অধ্যায় (দ্বিতীয় পর্ব) ; সপ্তম অধ্যায় (তৃতীয় পর্ব) ;
সপ্তম অধ্যায় (চতুর্থ পর্ব) ; সপ্তম অধ্যায় ( শেষ পর্ব)
অষ্টম অধ্যায় (প্রথম পর্ব) ; অষ্টম অধ্যায় (দ্বিতীয় পর্ব) ; অষ্টম অধ্যায় (তৃতীয় পর্ব) ;
অষ্টম অধ্যায় (চতুর্থ পর্ব)

ধর্মের সমস্যাটা আসলে কি? ধর্ম কেন এত হিংস্র ?

দি গ্রেট বীটহোভেন ফ্যালাসী:

সাধারনত গর্ভপাত বিরোধীদের এই মৌখিক শব্দের দাবা খেলায় পরবর্তী পদক্ষেপ হচ্ছে খানিকটা এরকম: মুল বিষয়টি কিন্তু এই মহুর্তে মানুষের ভ্রুণ কোন কিছু অনুভব করতে পারে কি পারেনা, সেটি না, কথা হচ্ছে এর সেটি করার সম্ভাব্য ক্ষমতাটি। গর্ভপাতের ফলে এই ভ্রুণটি ভবিষ্যতে তার সম্ভাব্য একটি পুর্ণ মানব জীবন পাবার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হবে, এধারনাটি তাদের বাকস্বর্বস্ব যুক্তিকে নির্দেশিত করে যার চুড়ান্ত নির্বুদ্ধিতা এর অসততার অভিযোগের প্রত্যুত্তরে একমাত্র অজুহাত হতে পারে; আমি সেই প্রখ্যাত গ্রেট বিটহোভেন ফ্যালাসী বা ভ্রান্ত যুক্তির কথা বলছি। বেশ কয়েকটি সংস্করণ আছে এই ফ্যালাসিটির। পিটার এবং জীন মেদাওয়ার ( স্যার পিটার মেদাওয়ার ১৯৬০ সালে চিকিৎসা বিজ্ঞানে নোবেল পুরষ্কার জয় করেছিলেন) তাদের  The  Life Science এ নিম্নোক্ত সংস্করণটির সুত্র হিসাবে উল্লেখ করেছিলেন নরমান সেন্ট জন স্টেভাস ( এখন লর্ড সেন্ট জন) এর নাম;  যিনি একজন বৃটিশ সংসদ সদস্য, সুপরিচিত একজন রোমান ক্যাথলিক মুখপাত্র, তিনি আবার এটি সংগ্রহ করেছে মরিস বারিঙ (১৮৭৪-১৯৪৫) এর সংগ্রহ থেকে, একজন প্রখ্যাত ব্যক্তি যিনি রোমান ক্যাথলিকে ধর্মান্তরিত হয়েছিলেন এবং ক্যাথলিকদের অন্যতম শক্তিশালী সমর্থক জি কে চেষ্টারটন এবং হিলেয়ার বেলক এর নিকট সহযোগী। তিনি দুটি চিকিৎসকের মধ্যে একটি কাল্পনিক কথোপকথনের মাধ্যমে যুক্তিটি গড়ে তুলেছিলেন:

একটি গর্ভপাতের বিষয়ে আমি আপনার মতামত চাইছি;
বাবাটির সিফিলিস আছে, মায়ের আছে যক্ষা, যে চারটি সন্তান তাদের আছে ইতিমধ্যে তার প্রথমটি অন্ধ, দ্বিতীয়টি মারা গেছে,তৃতীয়টি মুক এবং বধির, চতুর্থটিরও যক্ষা আছে..
এই অবস্থায় আপনি হলে কি করতেন?
আমি গর্ভপাত করাতাম।
তাহলে তো আপনি বীটহোভেন কে হত্যা করবেন;

Continue reading “রিচার্ড ডকিন্স এর দি গড ডিল্যুশন : অষ্টম অধ্যায় (পঞ্চম পর্ব)”

রিচার্ড ডকিন্স এর দি গড ডিল্যুশন : অষ্টম অধ্যায় (পঞ্চম পর্ব)

রিচার্ড ডকিন্স এর দি গড ডিল্যুশন : অষ্টম অধ্যায় (চতুর্থ পর্ব)

jonkrausewomen (1)
ছবি: Jon Krause এর একটি ইলাসট্রেশন, Pro Choice:Reproductive rights

রিচার্ড ডকিন্স এর দি গড ডিল্যুশন : অষ্টম অধ্যায় (চতুর্থ পর্ব)
( অনুবাদ প্রচেষ্টা: কাজী মাহবুব হাসান)

The God Delusion by Richard Dawkins

প্রথম অধ্যায়
দ্বিতীয় অধ্যায়
তৃতীয় অধ্যায়
চতুর্থ অধ্যায় (প্রথম পর্ব) , চতুর্থ অধ্যায় ( দ্বিতীয় পর্ব) ,
চতুর্থ অধ্যায় ( তৃতীয় পর্ব ) , চতুর্থ অধ্যায় ( চতুর্থ পর্ব ) , চতুর্থ অধ্যায় ( শেষ পর্ব)
 পঞ্চম অধ্যায় (প্রথম পর্ব)পঞ্চম অধ্যায় ( দ্বিতীয় পর্ব) , পঞ্চম অধ্যায় (তৃতীয় পর্ব)
পঞ্চম অধ্যায় (চতুর্থ পর্ব) ,  পঞ্চম অধ্যায় (পঞ্চম পর্ব) ,পঞ্চম অধ্যায় (ষষ্ঠ পর্ব)
ষষ্ঠ অধ্যায় (প্রথম পর্ব) ; ষষ্ঠ অধ্যায় (দ্বিতীয় পর্ব)ষষ্ঠ অধ্যায় (শেষ পর্ব)
সপ্তম অধ্যায় (প্রথম পর্ব) ; সপ্তম অধ্যায় (দ্বিতীয় পর্ব) ; সপ্তম অধ্যায় (তৃতীয় পর্ব) ;
সপ্তম অধ্যায় (চতুর্থ পর্ব) ; সপ্তম অধ্যায় ( শেষ পর্ব)
অষ্টম অধ্যায় (প্রথম পর্ব) ; অষ্টম অধ্যায় (দ্বিতীয় পর্ব) ; অষ্টম অধ্যায় (তৃতীয় পর্ব)

ধর্মের সমস্যাটা আসলে কি? ধর্ম কেন এত হিংস্র ?

ধর্মবিশ্বাস এবং মানব জীবনের পবিত্রতা

মানব ভ্রুণ মানব জীবনেরই একটি উদহারণ। সুতরাং চুড়ান্তবাদী ধর্মীয় আলোকে গর্ভপাত হচ্ছে প্রশ্নাতীতভাবে গর্হিত একটি কাজ: পুরোদস্তুরভাবে একটি হত্যাকান্ড। আমি ঠিক নিশ্চিৎ না, বিষয়টি আমি কিভাবে ব্যাখ্যা করবো, আমার নিজস্ব এবং সংগৃহীত কিছু পর্যবেক্ষন হচ্ছে অনেকেই যারা ভ্রুণহত্যার বিরুদ্ধে তীব্রভাবে প্রতিবাদ করে থাকেন , সাধারনত দেখা যায় পুর্ণবয়স্ক কোন মানুষ হত্যা করার ব্যাপারে আবার তাদের উৎসাহের কোন ঘাটতি নেই। নিরপেক্ষভাবে বলতে হলে নিয়মানুযায়ী এটি রোমান ক্যাথলিকদের জন্য আবার প্রযোজ্য নয়, গর্ভপাতের বিরুদ্ধে সবচেয়ে যারা উচ্চকন্ঠ ও প্রতিবাদমুখর; নব্য গোড়া খৃষ্টান জর্জ ডাবলিউ বুশ যদিও আজকের সময়ে ধর্মীয় প্রভাবশালী অবস্থানের একটি বৈশিষ্টসুচক উদহারন; তিনি এবং তারা, মানব জীবন রক্ষা করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ যতক্ষন না পর্যন্ত এটি কোন ভ্রুণ ( বা দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত মৃত্যুর দ্বারপ্রান্তে এমন জীবন); এমন কি সেটা করার প্রচেষ্টায় তারা চিকিৎসা বিজ্ঞানের গবেষনাকে বাধা দিতেও সর্বদা প্রস্তুত, অন্যথায় যে গবেষনা হয়তো নিশ্চয়ই বহু মানুষের জীবন বাচাতে পারতো। মৃত্যুদন্ডের বিরুদ্ধে সুস্পষ্ট অবস্থানের কারন কারো কারো কাছে অবশ্যই মানব জীবনের প্রতি সন্মান। ১৯৭৬ সাল থেকে যখন যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রীম কোর্ট মৃত্যুদন্ডের উপর প্রদত্ত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নেয়, টেক্সাস মোট ৫০ টি রাজ্যের প্রদত্ত মোট মৃত্যুদন্ডের এক তৃতীয়াংশ কার্যকর করেছিল; এবং সেই রাজ্যের ইতিহাসে অন্য যে কোন গভর্ণরের চেয়ে জর্জ বুশই সবচেয়ে বেশী মৃতুদন্ডের আদেশে সই করেছিলেন, গড়ে প্রায় প্রতি ৯ দিনে ১ টি। হয়তো তিনি শুধু তার দ্বায়িত্ব পালন করেছিলেন, তার রাজ্যের আইন অনুযায়ী কাজ করেছিলেন? কিন্তু CNN এর সাংবাদিক টাকার কার্লসন এর সেই বিখ্যাত রিপোর্টের কি অর্থ করতে পারি তাহলে? কার্লসন, যিনি নিজে মৃত্যুদন্ডের সমর্থক, হতবাক হয়েছিলেন গভর্ণরের কাছে  মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত একজন নারী বন্দীর প্রান ভিক্ষা করার বুশের পরিহাসমুলক অনুকরণ করা দেখে। ‘দয়া করুন’ বুশ নাকি সুরে কেদে তার ঠোট মিথ্যা হতাশার কষ্টে সরু করে বলেন, ’আমাকে হত্যা করবেন না।’ হয়তো এই নারী খানিকটা বেশী সহমর্মিতা পেতেন যদি তিনি মনে করিয়ে দিতেন কোন না কোন একসময় তিনিও ভ্রুণ ছিলেন। ভ্রুণ নিয়ে ভাবনা আসলেই ধর্মবিশ্বাসী বহু মানুষের মনেই খুব অদ্ভুত প্রভাব ফেলে। কলকাতার মাদার তেরিজা শান্তির জন্য নোবেল পুরষ্কার গ্রহন করার সময় তার ভাষনে মন্তব্য করেন: ’শান্তির সবচেয়ে বড় বিনাশকারী হচ্ছে গর্ভপাত ‘ কি ? এরকম উদ্ভট চিন্তা করা কোন মহিলার অন্য যে কোন বিষয়ের মতামতকে গুরুত্বের সাথে নেয়া কি আদৌ সম্ভব, শান্তিতে নোবেল প্রাইজ পাবার মত কোন যোগ্যতা ‍তার আছে কিনা সেটা না হয় বাদই দিলাম? যদি  কারো পবিত্রভাবে ভন্ডামীপুর্ণ মাদার তেরিজার কথায় মন গলে যাবার সম্ভাবনা আছে, তাদের ক্রিষ্টোফার হিচেন্স এর The Missionary Position: Mother Teresa in Theory and Practice বইটি অবশ্যই পড়ে দেখা উচিৎ।

Continue reading “রিচার্ড ডকিন্স এর দি গড ডিল্যুশন : অষ্টম অধ্যায় (চতুর্থ পর্ব)”

রিচার্ড ডকিন্স এর দি গড ডিল্যুশন : অষ্টম অধ্যায় (চতুর্থ পর্ব)

রিচার্ড ডকিন্স এর দি গড ডিল্যুশন : অষ্টম অধ্যায় (তৃতীয় পর্ব)

alan-turing
ছবি: অ্যালান টিউরিং (Alan Mathison Turing,  23 June 1912 – 7 June 1954), ১৯৫৪ সালে বৃটিশ গনিতজ্ঞ অ্যালান ট্যুরিং, জন ভন নিউমান এর সাথে যিনি কম্পিউটারের জনক হিসাবে স্বীকৃতি পাওয়ার দাবী রাখেন, আত্মহত্যা করেছিলেন তার ব্যাক্তিগত জীবনে সমকামীতার জন্য অভিযুক্ত হবার পর। 

রিচার্ড ডকিন্স এর দি গড ডিল্যুশন : অষ্টম অধ্যায় (তৃতীয় পর্ব)
( অনুবাদ প্রচেষ্টা: কাজী মাহবুব হাসান)

The God Delusion by Richard Dawkins

প্রথম অধ্যায়
দ্বিতীয় অধ্যায়
তৃতীয় অধ্যায়
চতুর্থ অধ্যায় (প্রথম পর্ব) , চতুর্থ অধ্যায় ( দ্বিতীয় পর্ব) ,
চতুর্থ অধ্যায় ( তৃতীয় পর্ব ) , চতুর্থ অধ্যায় ( চতুর্থ পর্ব ) , চতুর্থ অধ্যায় ( শেষ পর্ব)
 পঞ্চম অধ্যায় (প্রথম পর্ব)পঞ্চম অধ্যায় ( দ্বিতীয় পর্ব) , পঞ্চম অধ্যায় (তৃতীয় পর্ব)
পঞ্চম অধ্যায় (চতুর্থ পর্ব) ,  পঞ্চম অধ্যায় (পঞ্চম পর্ব) ,পঞ্চম অধ্যায় (ষষ্ঠ পর্ব)
ষষ্ঠ অধ্যায় (প্রথম পর্ব) ; ষষ্ঠ অধ্যায় (দ্বিতীয় পর্ব)ষষ্ঠ অধ্যায় (শেষ পর্ব)
সপ্তম অধ্যায় (প্রথম পর্ব) ; সপ্তম অধ্যায় (দ্বিতীয় পর্ব) ; সপ্তম অধ্যায় (তৃতীয় পর্ব) ;
সপ্তম অধ্যায় (চতুর্থ পর্ব) ; সপ্তম অধ্যায় ( শেষ পর্ব)
অষ্টম অধ্যায় (প্রথম পর্ব) ; অষ্টম অধ্যায় (দ্বিতীয় পর্ব)

ধর্মের সমস্যাটা আসলে কি? ধর্ম কেন এত হিংস্র ?

ধর্মবিশ্বাস এবং সমকামীতা:

তালিবানদের অধীনে আফগানিস্থানে সমকামিতার আইনী শাস্তির বিধান ছিল মৃত্যুদন্ড, তা কার্যকর করার জন্য তাদের রুচি অনুযায়ী যে পদ্ধতি তারা অনুসরন করতো তা হলো অভিযুক্তকে কোন একটা পাচিলের  নীচে মাটিতে জীবন্ত কবর দিয়ে তার উপরে পাচিলটা ঠেলে ফেলে দেয়া। এই ‘অপরাধটি’ একান্তই ব্যক্তিগত একটি ব্যাপার, যা দুজন সম্মত প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে ঘটে যারা অন্য কারো কোন ক্ষতি করেনি, আমরা এখানে আবার দেখতে পাই ধর্মীয় চুড়ান্তবাদীতার একটি বৈশিষ্টসুচক উদহারণ। আমার নিজের দেশ ইংল্যান্ডও এক্ষেত্রে তাদের নাক উচু করার কোন অধিকার নেই। বিস্ময়করভাবে ১৯৬৭ সাল পর্যন্ত ব্যক্তিগত জীবনে সমকামীতাকে চিহ্নিত করা হতো শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসাবে। ১৯৫৪ সালে বৃটিশ গনিতজ্ঞ অ্যালান ট্যুরিং, জন ভন নিউমান এর সাথে যিনি কম্পিউটারের জনক হিসাবে স্বীকৃতি পাওয়ার দাবী রাখেন, আত্মহত্যা করেছিলেন তার ব্যাক্তিগত জীবনে সমকামীতার জন্য অভিযুক্ত হবার পর। স্বীকার করে নিচ্ছি যে ট্যুরিংকে কোন পাচীলের নীচে জীবন্ত কবর দিয়ে পাচিল চাপা দেয়া হয়নি ট্যাঙ্ক এর সাহায্যে। তবে তাকে দুটো বিকল্প দেয়া হয়েছিল, দুই বছরের কারাদন্ড (কল্পনা করা খুবই সহজ যে জেলখানায় অন্য কয়েদীরা তার সাথে কেমন ব্যবহার করতো) অথবা হরমোন ইনজেকশনের একটি কোর্স যাকে বলা যেতে পারে রাসায়নিক কাসট্রেশন এর সমান যা তার স্তনের আকারও বাড়াতো। তার সর্বশেষ এবং ব্যক্তিগত পছন্দ ছিল সায়ানাইড ইনজেক্ট করা একটি আপেল।

জার্মান সেনাবাহিনীর অত্যন্ত্য জটিল এনিগমা কোড এর রহস্য খুজে বের করার ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ভুমিকা পালনকারী এই বুদ্ধিজীবি, নাৎসীদের পরাজিত করার ক্ষেত্রে যিনি তর্কসাপেক্ষে আইসেন হাওয়ার এবং চার্চিলের চেয়ে বেশী অবদান রেখেছিলেন। ব্লেচলী পার্কে ট্যুরিং ও তার ‘আল্ট্রা’ সহকর্মীদের কল্যানে মিত্রবাহিনীর জেনারেলরা যারা যুদ্ধের মাঠে ছিলেন, তারা জার্মান পরিকল্পনার কথা জার্মান জেনারেলদের তা কার্যকর করার বহু আগে থেকে জানতে পেরেছিলেন তাদের পাঠানো সব এনিগমা কোডের বার্তার মর্মোদ্ধার করার মাধ্যমে। যুদ্ধের পর, ট্যুরিং এর দ্বায়িত্ব আর যখন অতি গোপনীয় ছিলনা, তাকে জাতির ত্রানকর্তা হিসাবে তাকে নাইটহুড দিয়ে সন্মানিত করার কথা উচিৎ ছিল। কিন্তু তার পরিবর্তে এই ভদ্র, অসাধারন প্রতিভাটিকে তার জাতি ধ্বংস করেছিল, একটা অপরাধের জন্য, যে তথাকথিত অপরাধ সংঘটিত হয়েছে ব্যাক্তিগতভাবে তার  একান্ত জীবনে, কারো কোন ক্ষতি যে অপরাধে ঘটেনি। আবারো সেই নির্ভুল বৈশিষ্টমুলক চিহ্ন ধর্মবিশ্বাস ভিত্তিক নৈতিকতাবাদের, যেখানে একজন ধর্মবাদী অতি উৎসাহে অন্য মানুষরা তাদের ব্যক্তিগত জীবনে কি করছে (এমন কি কি চিন্তা করছে) তার নজরদারী করতে বাড়তি আগ্রহ প্রদর্শন করে থাকে।

Continue reading “রিচার্ড ডকিন্স এর দি গড ডিল্যুশন : অষ্টম অধ্যায় (তৃতীয় পর্ব)”

রিচার্ড ডকিন্স এর দি গড ডিল্যুশন : অষ্টম অধ্যায় (তৃতীয় পর্ব)

রিচার্ড ডকিন্স এর দি গড ডিল্যুশন : অষ্টম অধ্যায় (দ্বিতীয় পর্ব)

veith15
ছবি: হাগিং বোম্ব ( ক্রেইগ ব্যারীর ( Kreig Barrie) একটি ইলাসট্রেশন)

রিচার্ড ডকিন্স এর দি গড ডিল্যুশন : অষ্টম অধ্যায় (দ্বিতীয় পর্ব)
( অনুবাদ প্রচেষ্টা: কাজী মাহবুব হাসান)

The God Delusion by Richard Dawkins

প্রথম অধ্যায়
দ্বিতীয় অধ্যায়
তৃতীয় অধ্যায়
চতুর্থ অধ্যায় (প্রথম পর্ব) , চতুর্থ অধ্যায় ( দ্বিতীয় পর্ব) ,
চতুর্থ অধ্যায় ( তৃতীয় পর্ব ) , চতুর্থ অধ্যায় ( চতুর্থ পর্ব ) , চতুর্থ অধ্যায় ( শেষ পর্ব)
 পঞ্চম অধ্যায় (প্রথম পর্ব)পঞ্চম অধ্যায় ( দ্বিতীয় পর্ব) , পঞ্চম অধ্যায় (তৃতীয় পর্ব)
পঞ্চম অধ্যায় (চতুর্থ পর্ব) ,  পঞ্চম অধ্যায় (পঞ্চম পর্ব) ,পঞ্চম অধ্যায় (ষষ্ঠ পর্ব)
ষষ্ঠ অধ্যায় (প্রথম পর্ব) ; ষষ্ঠ অধ্যায় (দ্বিতীয় পর্ব)ষষ্ঠ অধ্যায় (শেষ পর্ব)
সপ্তম অধ্যায় (প্রথম পর্ব) ; সপ্তম অধ্যায় (দ্বিতীয় পর্ব) ; সপ্তম অধ্যায় (তৃতীয় পর্ব) ;
সপ্তম অধ্যায় (চতুর্থ পর্ব) ; সপ্তম অধ্যায় ( শেষ পর্ব)
অষ্টম অধ্যায় (প্রথম পর্ব)

ধর্মের সমস্যাটা আসলে কি? ধর্ম কেন এত হিংস্র ?

 মোরাল অ্যাবসোল্যুটিজম** বা চুড়ান্তবাদীতার অন্ধকার রুপ:

আগের অধ্যায়ে ‍যখন সময়ের সাথে পরিবর্তিত হওয়া নৈতিকতার যুগধর্ম বা জাইটগাইষ্ট কে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করছিলাম, আমি উদারপন্থী, জ্ঞানালোকপ্রাপ্ত, সুশীল মানুষদের সর্বজনীন ঐকমতের একটি ধারনার কথা উল্লেখ করেছিলাম; আমি একটু বেশী মাত্রায় আশাবাদী ধারনা করেছিলাম যে ‘আমরা’ সবাই অন্তত মোটা দাগে সেই ঐকমতের সাথে সংহতি অনুভব করি, কেউ কেউ হয়তো অন্যদের চেয়ে বেশী এবং  আমি এই আমরা বলতে মনে করেছিলাম.. বেশীর ভাগ মানুষ যাদের এই বইটি পড়ার সম্ভাবনা আছে, ধর্ম সংক্রান্ত বিশ্বাসে তাদের যে অবস্থানই থাকুক না কেন। কিন্তু অবশ্যই একেবারে সবাই যে একমত তা কিন্তু না ( এবং সবাই যে আমার এই বইটি পড়ার ইচ্ছা পোষন করবেন তাও কিন্তু না); সুতরাং স্বীকার করতেই হবে স্বৈরাচারবাদ এখনও তার মৃত্যু থেকে অনেক দুরে। আসলেই, আজ এখনও বিশ্বজুড়ে এটি বিশাল সংখ্যক মানুষের মনে রাজত্ব করছে, সবচে বিপদজ্জনক ভাবে মুসলিম বিশ্বে এবং অংকুরিত হতে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের ধর্মতন্ত্রে ( কেভিন ফিলিপস এর American theocracy নামের বইটি দেখুন); প্রায় সবসময়ই এধরনের চুড়ান্তবাদীতা বা অ্যাবসোলিউটিজমের মুল উৎস হচ্ছে শক্তিশালী ধর্মীয় বিশ্বাস। এবং ধর্ম যে পৃথিবীতে একটি অশুভ শক্তি এমন প্রস্তাবের এটি মুলত প্রধান কারন।

ওল্ড টেষ্টামেন্টে সবচেয়ে নৃশংসতম শাস্তির বিধান রাখা হয়েছিল ব্লাসফেমী বা ধর্ম নিন্দার জন্য এবং এটি এখনও কিছু দেশে সক্রিয়। পাকিস্থানের পেনাল কোড এর ২৯৫-সি সেকশন এই ’অপরাধের’ জন্য মৃত্যুদন্ডের বিধান আছে। ২০০১ সালে ১৮ আগষ্ট, ডা: ইউনুস শেখ, একজন চিকিৎসক শিক্ষক ব্লাসফেমীর জন্য মৃত্যুদন্ডে দন্ডিত হয়েছিলেন। নির্দিষ্ট অপরাধটির জন্য এই আইনে তিনি অভিযুক্ত হয়েছিলেন সেটি হলো: তিনি তার শিক্ষার্থীদের নাকি বলেছিলেন ৪০ বছর বয়সে তার নিজের ধর্ম আবিষ্কারের পুর্বে নবী মোহাম্মদ মুসলিম ছিলেন না।  তার ১১ জন শিক্ষার্থী তার এই ধরনের কথা বলার অপরাধের জন্য কর্তৃপক্ষের কাছে তার নামে অভিযোগ করেছিল। পাকিস্থানে ব্লাসফেমী আইনটি সাধারনত: ব্যবহার করা হয় খৃষ্ট ধর্মাবলম্বীদের বিরুদ্ধে, যেমন অগাষ্টিন আশিক কিংরি মাসিহ, যাকে ফয়সালাবাদে ২০০০ সালে মৃত্যুদন্ড দেয়া হয়েছিল। একজন খৃষ্ট ধর্মাবলম্বী হিসাবে মাসিহ তার মুসলিম প্রেমিকাকে বিয়ে করার কোন অনুমতি ছিল না – অবিশ্বাস্যভাবে- পাকিস্থানী ( এর ইসলামী) আইন কোন মুসলিম রমনীকে কোন অমুসলিমকে বিয়ে করার অনুমতি দেয় না। সুতরাং তিনি ইসলাম ধর্মে ধর্মান্তরিত হবার চেষ্টা করেন এবং সেটা করতে গিয়ে তিনি অভিযুক্ত হন এই ধর্মগ্রহনের জন্য তার নিশ্চয়ই নীচ কোন উদ্দেশ্য আছে এমন একটি অভিযোগে। আমি যে রিপোর্ট পড়েছি সেটা থেকে স্পষ্ট নয় যে, এটাই কি তার মুল অপরাধ ছিল নাকি নবীর নিজের নৈতিকতা নিয়ে তার কোন মন্তব্য যা তিনি করেছিলেন বলেও তাকে অভিযুক্ত করা হয়েছিল। যাই হোক, অন্য যে কোন দেশে, যাদের আইন ধর্মীয় গোড়ামী মুক্ত, সেখানে এধরনের কোন অপরাধের শাস্তি হিসাবে মৃত্যুদন্ড কল্পনা করা অসম্ভব।

Continue reading “রিচার্ড ডকিন্স এর দি গড ডিল্যুশন : অষ্টম অধ্যায় (দ্বিতীয় পর্ব)”

রিচার্ড ডকিন্স এর দি গড ডিল্যুশন : অষ্টম অধ্যায় (দ্বিতীয় পর্ব)

রিচার্ড ডকিন্স এর দি গড ডিল্যুশন : অষ্টম অধ্যায় (প্রথম পর্ব)


final Apples illustration
ছবি: গ্রেগরী ফেরান্ড (Gregory Ferrand) এর একটি ইলাসট্রেশন : ছবিটি একেছিলেন  ইসরায়েলী লেখক সাভইয়ন লিবরেখট (Savyon Liebrecht)  এর নাটক
Apples from the Desert এর পোষ্টার হিসাবে (graphite and colored in Photoshop); ছবিটির মুল বক্তব্য পুরাতনদের বয়ে চলা অযৌক্তিক ট্রাডিশন আর বংশগত ঘৃণাকে পেছনে ফেলে নতুন করে জীবনের মুল্যকে অনুধাবন করে শান্তিকে আলিঙ্গন করার একটি স্বপ্ন।

রিচার্ড ডকিন্স এর দি গড ডিল্যুশন : অষ্টম অধ্যায় (প্রথম পর্ব)
( অনুবাদ প্রচেষ্টা: কাজী মাহবুব হাসান)

The God Delusion by Richard Dawkins

প্রথম অধ্যায়
দ্বিতীয় অধ্যায়
তৃতীয় অধ্যায়
চতুর্থ অধ্যায় (প্রথম পর্ব) , চতুর্থ অধ্যায় ( দ্বিতীয় পর্ব) ,
চতুর্থ অধ্যায় ( তৃতীয় পর্ব ) , চতুর্থ অধ্যায় ( চতুর্থ পর্ব ) , চতুর্থ অধ্যায় ( শেষ পর্ব)
 পঞ্চম অধ্যায় (প্রথম পর্ব)পঞ্চম অধ্যায় ( দ্বিতীয় পর্ব) , পঞ্চম অধ্যায় (তৃতীয় পর্ব)
পঞ্চম অধ্যায় (চতুর্থ পর্ব) ,  পঞ্চম অধ্যায় (পঞ্চম পর্ব) ,পঞ্চম অধ্যায় (ষষ্ঠ পর্ব)
ষষ্ঠ অধ্যায় (প্রথম পর্ব) ; ষষ্ঠ অধ্যায় (দ্বিতীয় পর্ব)ষষ্ঠ অধ্যায় (শেষ পর্ব)
সপ্তম অধ্যায় (প্রথম পর্ব) ; সপ্তম অধ্যায় (দ্বিতীয় পর্ব) ; সপ্তম অধ্যায় (তৃতীয় পর্ব) ;
সপ্তম অধ্যায় (চতুর্থ পর্ব) ; সপ্তম অধ্যায় ( শেষ পর্ব)

ধর্মের সমস্যাটা আসলে কি? ধর্ম কেন এত হিংস্র ?

ধর্ম আসলেই মানুষকে বিশ্বাস করাতে পেরেছে যে, একজন অদৃশ্য স্বত্তার অস্তিত্ব আছে – আকাশে যিনি বসবাস করেন –আপনি যা কিছু করছেন, প্রতিটি দিনের প্রতিটি মিনিটে, সব কিছুই তিনি দেখছেন। এবং এই অদৃশ্য স্বত্তার কাছে দশটি কর্মের একটি বিশেষ তালিকা আছে, যা তিনি চান আপনারা অবশ্যই সেসব কিছু যেন না করেন; এবং যদি আপনি সেই দশটি নিষেধাজ্ঞার কোন একটি অমান্য করেন, তাহলে তার বানানো একটি বিশেষ জায়গা আছে, গন গনে আগুন আর কালো ধোয়ায় পরিপুর্ণ, পুড়িয়ে যন্ত্রনা আর নির্যাতন করার একটি জায়গা; সেখানে তিনি আপনাকে পাঠাবেন থাকতে এবং যন্ত্রনা সহ্য করতে এবং পুড়তে এবং শ্বাসরুদ্ধ হয়ে মরার উপক্রম হতে এবং আপনি সেখানে অনন্তকালের জন্য নিরন্তর ভাবে যন্ত্রণায় চিৎকার করতে থাকবেন আর কেবল কাদতে থাকবেন… কিন্তু তিনি আপনাকে ভালোবাসেন: জর্জ কারলিন

_________________________________

বৈশিষ্টগত প্রকৃতির কারনেই কোন ধরনের মুখোমুখি দ্বন্দেই আমি তেমন সুবিধা করতে পারিনা। আর আসলেই আমি মনে করিনা শত্রুভাবাপন্ন হয়ে, কোন সত্য অনুসন্ধান করার প্রক্রিয়াটা আদৌ উপযোগী হতে পারে ; এবং আমি নিয়মিতভাবেই আনু্ষ্ঠানিক নানা বিতর্কে অংশ নেবার জন্য আমন্ত্রন প্রত্যাখ্যান করে থাকি; আমি একবার আমন্ত্রিত হয়েছিলাম তৎকালীন এডিনবরার ইয়র্ক এর আর্চ বিশপ এর সাথে একটি আনুষ্ঠানিক বিতর্কে। নিজেকে এর জন্য বেশ সন্মানিত মনে করেছিলাম, এবং আমন্ত্রনটি সাদরে গ্রহন করেছিলাম। সেই বিতর্কের পর বিশিষ্ট ধার্মিক পদার্থ বিজ্ঞানী রাসেল স্ট্যানার্ড তার Doing Away with God? বইটিতে Observer পত্রিকায় সেই বিষয়ে তার লেখা একটি চিঠি পুণ:মুদ্রন করেন:

 মহাশয়, অতিরিক্ত তৃপ্তিময় শিরোনাম ‘God comes a poor Second before the Majesty of Science’ এর অধীনে, আপনার বৈজ্ঞানিক সংবাদদাতা জানাচ্ছেন যে ( তাও আবার ইষ্টার রোববারের মত একটি দিনে) কিভাবে ধর্ম ও বিজ্ঞান বিষয়ক একটি বিতর্কে রিচার্ড ডকিন্স ইয়র্কের আর্চবিশপের উপর কিভাবে ‘গুরুতর বুদ্ধিবৃত্তিক আক্রমন’ করেছিলেন। আমাদের জানানো হয়েছে, ’কুৎসিৎ আত্মপ্রসাদের হাসি হাসা’ নাস্তিকরা’ এবং ’সিংহরা ১০ এবং খৃষ্টানরা শুন্য;’

ধার্মিক বিজ্ঞানী স্ট্যানার্ড এভাবেই Observer এর কাছে একটানা বয়ান দিতে থাকেন যে, কিভাবে সেই পত্রিকাটি তার সাথে আমার এবং বার্মিংহামের বিশপ ও বিখ্যাত কসমোলজিষ্ট স্যার হেরমান বন্ডির রয়্যাল সোসাইটিতে পরবর্তী একটি সাক্ষাৎকারের কথা উল্লেখ করতে ব্যর্থ হয়েছে, যে সাক্ষাৎকারটা কোন প্রতিদ্বন্দীতা মুলক বিতর্ক আকারে হয়নি, এবং তার ফলাফলে সেই আলোচনা অপেক্ষাকৃত বেশী গঠনমুলক হয়েছিল; আমি শুধু একমত হতে পারি, প্রতিদ্বন্দীতামুলক বিতর্কের ফরমাটের প্রতি তার স্পষ্ট নিন্দাজ্ঞাপনে জানানোর সাথে।

বিশেষ করে, আমার বই A Devil’s Chaplain এ যে কারনগুলো আমি উল্লেখ করেছিলাম, কিছু সব নির্দিষ্ট কারনেই আমি কোন সৃষ্টিবাদী বা ক্রিয়েশনিষ্টদের সাথে কোন বিতর্কে অংশগ্রহন করতে চাইনা; ((আমার আসলে সেই দু:সাহস নেই সে কারনগুলো উল্লেখ করে আমন্ত্রন প্রত্যাখান করার, অন্তত একটি কারন যা আমার সবচেয়ে প্রখ্যাত বৈজ্ঞানিক সহকর্মী ব্যবহার করেন সচরাচর, যখনই কোন সৃষ্টিবাদী তার সাথে কোন আনুষ্ঠানিক বিতর্ক আয়োজন করার চেষ্টা করে, ( আমি তার নাম বলবো না, তবে তার বাক্যটি অষ্ট্রেলীয় বাচনভঙ্গীতে পড়তে হবে): ‌ ”এটা তোমার জীবন বৃত্তান্তে বেশ ভালো দেখাবে, আমারটায় ততটা না।’))

Continue reading “রিচার্ড ডকিন্স এর দি গড ডিল্যুশন : অষ্টম অধ্যায় (প্রথম পর্ব)”

রিচার্ড ডকিন্স এর দি গড ডিল্যুশন : অষ্টম অধ্যায় (প্রথম পর্ব)