দর্শনের সহজ পাঠ : ডায়োজেনিস

ডায়োজেনিস – প্রাচীন সিনিক দর্শন
(আমি সিনিকের অনুবাদ করছি না কারণ হতাশাবাদ শব্দটি সিনিক দার্শনিকদের প্রতি সুবিচার করতে পারবে না)

LUKEORAM_Diogenes_and_Alexander_GandolfiWEB-1024x826(Diogenes and Alexander Master study of the the original by Gaetano Gandolfi, 1792)

১৯৬৭ সালে ডিজনীর অ্যানিমেটেড ফিল্ম ‘দ্য জাঙ্গল বুক’ এ ভালুক বালু গানে গানে একটি দার্শনিক ম্যানিফেস্টো ঘোষণা করেছিলো – শুধুমাত্র অবশ্য প্রয়োজনীয় কিছুর উপর সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করে, বালু দর্শকদের ভুলে যেতে বলেছিল সব চিন্তা আর কষ্ট।বালু তাদের শুধুমাত্র অবশ্য প্রয়োজনীয় জিনিস নিয়ে জীবন কাটাতে বলেছিল, কারণ বালু সবাই প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, প্রকৃতি মায়ের রেসিপিগুলোই জীবনের অবশ্য প্রয়োজনীয় জিনিসগুলোকে বের করে আনে। অবশ্যই বালু কোনো দর্শন পড়েনি, তার জীবনের সাধারণ দৃষ্টিভঙ্গি সেখানে আমরা যেমন দেখি, আর যদি সে দর্শন পড়তো তাহলে, অবশ্যই সে তার দর্শনের সাথে মিল পেতো ডায়োজেনিস অব সিনোপে’র দর্শনের।

ডায়োজিনিস ভালুক ছিলেন না যদিও – তিনি ছিলেন কুকুর ( হ্যা তাকে সে নামে ডাকা হতো)। কুকুরের গ্রীক শব্দ kuon, আর ডায়োজিনিস ও তার সেই দর্শনের অনুসারী দার্শনিকদের বলা হতো, সিনিক, Cynics, নামটি এসেছে এই প্রাণিটির সন্মানে, মনে রাখা দরকার যে, গ্রীক বিশ্বে তেমন পছন্দের কোনো প্রাণি ছিল না কুকুররা ( প্রাচীন গ্রীক ভাষায় kynikos যার অর্থ কুকুর সদৃশ)। অবশ্য তাদের এই নামে ডাকার আরেকটি কারণ মনে করা হয় প্রথম সিনিক দার্শনিক অ্যান্টিসথেনিস ( Antisthenes) এথেন্সে যে জিমনেশিয়ামে পড়াতেন, তার নাম ছিল Cynosarges, যে নামটি অর্থ place of the white dog; এছাড়াও নিশ্চিৎভাবে বলা যায় যে, প্রথম সিনিকদের অপমান সূচক অর্থে কুকুর বলা হতো, কারণ তারা তাদের মতে নির্লজ্জভাবেই সামাজিক সব রীতিনীতি অস্বীকার করতেন, এবং রাস্তায় বসবাস করতেন বলে।

Continue reading “দর্শনের সহজ পাঠ : ডায়োজেনিস”

দর্শনের সহজ পাঠ : ডায়োজেনিস