চার্লস ডারউইন এবং একটি ধারনার বিজয়…. : প্রথম পর্ব (তিন)


image-1ছবি: Darwin in the Galapagos Islands, শিল্পী John Harrold এর আঁকা;

লেখাটির মুল সুত্র: Carl Zimmer এর Evolution, the triumph of an idea র প্রথম দুটি অধ্যায়; এছাড়াও কিছু বাড়তি তথ্য এসেছে বিভিন্ন সুত্র থেকে:

চার্লস ডারউইন এবং একটি ধারনার বিজয়…. : প্রথম পর্ব (এক)
চার্লস ডারউইন এবং একটি ধারনার বিজয়…. : প্রথম পর্ব (দুই)

প্রথম পর্ব :
যে বিজয় এসেছে ধীরে, ডারউইন এবং ডারউইনবাদের উত্থান
এক:

একজন ভুতত্ত্ববিদের আত্মপ্রকাশ …

বীগলের সমুদ্রযাত্রার শুরুটা ভালোভাবে হয়নি, ১৮৩১ এর অক্টোবরে প্লীমথ বন্দরে এসেছিলেন ডারউইন জাহাজে চড়তে, কিন্তু বেশ কিছু সংস্কার মেরামত, কয়েকবার যাত্রা শুরুর প্রচেষ্টার পর অবশেষে ডিসেম্বর মাসের সাত তারিখের আগে বীগলের তার পাল খুলে দেয় একটি ঐতিহাসিক সমুদ্র যাত্রায়;  বন্দর ছাড়ার পর পরই ডারউইন  সি সিকনেসে কাবু হয়ে পড়েন, যা কিছু খাচ্ছিলেন , সবই তাকেই সমুদ্রের রেলিং এর উপর থেকে উগরে দিতে হয়েছে; যদিও ডারউইন পাচ বছর এই জাহাজেই ছিলেন, তারপরও সমুদ্রযাত্রায় পুরোপুরি ভাবে অভ্যস্ত হতে পারেননি কখনোই;

ডারউইন আবিষ্কার করলেন, ফিটজরয়কে সঙ্গ দেবার ব্যাপারটা খুব সহজ কাজ না, বিষয়টি বেশ কৌশলেরই মনে হয়েছে তার; ক্যাপ্টেন এর মেজাজ খুব রগচটা, এবং আগে থেকে আচ করার কোন উপায় নেই এবং তার অতিমাত্রায় শৃঙ্খলা ডার‌উইনকে হতবাক করেছিল; যেমন ক্রিসমাসের দিন কয়েকজন নাবিক মাতাল হয়েছিল, ফিটজরয় তাদের পরেরদিন সকালে চাবুক দিয়ে তাদের পেটানোর নির্দেশ দেন; প্রতিদিন  ফিটজরয় এর সাথে সকালের খাবার খেয়ে বের হলে, জুনিয়র অফিসাররা তার কাছে জানতে চাইতো, ”আজ কি বেশী কফি খাওয়া হয়েছে ?” এটি ছিল ক্যাপ্টেন এর মেজাজের অবস্থা বোঝার জন্য তাদের সাংকেতিক বার্তা; কিন্তু ডারউইন ফিটজয়ের শক্তিশালী ব্যক্তিত্ব, তার কর্মস্পৃহা, বিজ্ঞানের প্রতি তার আন্তরিকতা, এবং খৃষ্টধর্মের প্রতি নিষ্ঠাকেও শ্রদ্ধা করতেন; প্রতি রবিবার ক্যাপ্টের এর সার্মনের সময় তিনি উপস্থিত থাকতেন;

ডারউইন অধীর আগ্রহে অপেক্ষায় ছিলেন, কখন জাহাজের কোন একটি বন্দরে ভিড়বে, তিনি ডাঙ্গায় পা রাখবেন; কিন্তু বহু সপ্তাহ অপেক্ষা করতে হয়েছিল তাকে সে জন্য; ম্যাদেইরা তে স্রোত এর খারাপ ছিল যে ফিটজরয় সেখানে নোঙ্গর না করার সিদ্ধান্ত নেন, এবং এর পরের বন্দর, ক্যানারী দ্বীপে, কলেরা মহামারীর জন্য জাহাজ ভিড়িয়ে কোয়রানটাইনে আটকে থাকার জন্য আদৌ রাজী হলেন না ফিটজরয়;

Continue reading “চার্লস ডারউইন এবং একটি ধারনার বিজয়…. : প্রথম পর্ব (তিন)”

চার্লস ডারউইন এবং একটি ধারনার বিজয়…. : প্রথম পর্ব (তিন)

চার্লস ডারউইন এবং একটি ধারনার বিজয়…. : প্রথম পর্ব (দুই)

 charles-darwin
ইলাসট্রেশন: Kenn Brown, Mondolithic Studios;  Scientific American’s special issue on theory of evolution (January 2009)

লেখাটির মুল সুত্র: Carl Zimmer এর Evolution, the triumph of an idea র প্রথম দুটি অধ্যায়; এছাড়াও কিছু বাড়তি তথ্য এসেছে বিভিন্ন সুত্র থেকে:
প্রথম পর্বের প্রথম অংশর লিঙ্ক নীচে

চার্লস ডারউইন এবং একটি ধারনার বিজয়…. : প্রথম পর্ব (এক)

প্রথম পর্ব :
যে বিজয় এসেছে ধীরে, ডারউইন এবং ডারউইনবাদের উত্থান

এক:

পৃথিবীর গড়ে ওঠা…

অক্টোবর ১৮৩১ সালে যখন ডারউইন প্লীমথ পৌছেছিলেন তার ট্রাঙ্ক ভর্তি বই আর বৈজ্ঞানিক সরন্জাম নিয়ে, তিনি পৃথিবী এবং জীব জগত সম্বন্ধে তৎকালীন ধারনাকে সাথে নিয়ে এসেছিলেন; কেমব্রিজে তার শিক্ষকরা শিখিয়েছিলেন, পৃথিবী সম্বন্ধে জানার মাধ্যমেই আমরা ঈশ্বরের ইচ্ছার কথা জানতে পারি;  কিন্তু তা সত্ত্বেও  বৃটিশ বিজ্ঞানীরা যতই আবিষ্কার করতে লাগলেন, ততই  বাইবেলকে নির্ভুল একটি গাইড হিসাবে বিশ্বাস করাও কঠিন হয়ে উঠতে শুরু করেছিল;

বৃটিশ ভুতত্ত্ববিদরা যেমন, আর মেনে নিতে রাজী ছিলেন না যে, পৃথিবী মাত্র কয়েক হাজার বছর প্রাচীন; কোন এক সময় হয়তো যথেষ্ট ছিল বাইবেল এর কথা আক্ষরিক অর্থে মেনে নেয়া, যেমন মানবজাতির সৃষ্টি হয়েছে  মহাবিশ্ব সৃষ্টির প্রথম সপ্তাহে; ১৬৫৮ সালে জেমস আশার, আরমাঘ এর আর্চ বিশপ বাইবেল এবং কিছু ঐহিহাসিক রেকর্ড ঘেটে গ্রহর বয়স নির্দিষ্ট করেন;


ছবি: জেমস আশার (James Ussher: 1581 –1656); আয়ারল্যান্ডের এই আর্চ বিশপ পৃথিবীর বয়স মেপেছিলেন, তার মতে ৪০০৪ খৃষ্টপুর্বাব্দে ২২ অক্টোবর ঈশ্বর পৃথিবী সৃষ্টি করেছিলেন; বিস্ময়কর হলে সত্য এখনও অনেকে ইয়ং আর্থ ক্রিয়েশনিষ্ট আছেন, যারা জেনেসিসে বর্ণিত সময়কাল অনুযায়ী পৃথিবীর বয়স মনে করেন মাত্র কয়েক হাজার বছর;

Continue reading “চার্লস ডারউইন এবং একটি ধারনার বিজয়…. : প্রথম পর্ব (দুই)”

চার্লস ডারউইন এবং একটি ধারনার বিজয়…. : প্রথম পর্ব (দুই)

চার্লস ডারউইন এবং একটি ধারনার বিজয়…. : প্রথম পর্ব (এক)

17702_604221712936593_1500690192_n

ভুমিকা: ১২ ফেব্রুয়ারী চার্লস ডারউইনের জন্মদিন; ১৮০৯ সালে ইংল্যান্ডে এই দিনে তিনি জন্মগ্রহন করেছিলেন; দিনটি আন্তর্জাতিক ডারউইন দিবসও;  বিজ্ঞান এবং যুক্তির আলোয় কুসংস্কারমুক্ত জীবন উদযাপনের দিন হিসাবে চার্লস ডারউইনের জন্মদিন, ১২ ফেব্রুয়ারীকে বেছে নেয়া হয়েছিল নব্বই দশকের শুরুতে, আন্তর্জাতিক ডারউইন দিবস হিসাবে। ১২ ফেব্রুয়ারী,  ২০১৩ বিশ্ব ডারউইন দিবস এ ডারউইনের প্রতি সন্মান জানিয়ে আমার এই প্রয়াস। মানব সভ্যতার ইতিহাসে সম্ভবত সবচেয়ে শক্তিশালী আর বৈপ্লবিক ধারনাটির জন্ম দিয়েছিলেন প্রতিভাবান বৃটিশ প্রকৃতি বিজ্ঞানী চার্লস ডারউইন: প্রাকৃতিক নির্বাচনের মাধ্যমে বিবর্তন। জীববিজ্ঞান তো বটেই বিজ্ঞানের নানা শাখায় এর প্রভাব সুদুরপ্রসারী। ১৮৫৯ সালে প্রকাশিত তার মাষ্টারপিস On the Origin of Species বইটি, পৃথিবী এবং তার মধ্যে আমাদের নিজেদের অবস্থান সম্বন্ধে, আমাদের দৃষ্টিভঙ্গীটাকে চিরকালের মত বদলে দিয়েছে; খুব সরল এই ধারনার মাধ্যমে, ডারউইন পেরেছিলেন জীবের সকল জটিলতা আর বৈচিত্রের সাধারন একটি ব্যাখ্যা দিতে। গত দেড় শতাব্দী ধরে বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখা তার এই ধারনাটির স্বপক্ষে প্রমান জুগিয়েছে, যা এখনও অব্যাহত আছে। বিবর্তন তত্ত্বের বিরোধীতার কারন কখনোই এর প্রমানের স্বল্পতা নয়, বরং এর সম্বন্ধে অজ্ঞতা। নীচের লেখাটি কিছুটা সংক্ষিপ্ত আকারে ডারউইনের জীবনে সেই গুরুত্বপুর্ণ সময়ে কাহিনী; লেখাটির মুল সুত্র: Carl Zimmer এর Evolution, the triumph of an idea র প্রথম দুটি অধ্যায়; এছাড়াও কিছু বাড়তি তথ্য এসেছে বিভিন্ন সুত্র থেকে:

Ignorance more frequently begets confidence than does knowledge: it is those who know little, and not those who know much, who so positively assert that this or that problem will never be solved by science. Charles Darwin

False facts are highly injurious to the progress of science, for they often endure long; but false views, if supported by some evidence, do little harm, for every one takes a salutary pleasure in proving their falseness. Charles Darwin

 

প্রথম পর্ব :
যে বিজয় এসেছে ধীরে, ডারউইন এবং ডারউইনবাদের উত্থান

এক:

ডারউইন এবং দ্য বীগল

১৮৩১ সাল, অক্টোবরের শেষ সপ্তাহ।

ইংল্যান্ডের প্লীমথ (Plymouth) বন্দরে দাড়িয়ে আছে নব্বই ফুট দীর্ঘ কোষ্টার এইচ এম এস বীগল (HMS Beagle); উই ঢিবির উইপোকার মত এদিক ওদিক ছুটে বেড়াচ্ছে ব্যস্ত খালাসী আর নাবিকরা, যতটুকু করা সম্ভব,ততটুকুই বোঝাই করা হচ্ছে জাহাজটিকে; কারন বীগল প্রস্তুত হচ্ছে  সারা পৃথিবী প্রদক্ষিন করার সমুদ্রযাত্রার উদ্দেশ্যে, যা স্থায়ী হতে পারে প্রায় পাচ বছর। জাহাজের হোল্ড বা খোলের মধ্যে তারা ঠেসে রাখছে আটা আর রাম এ ভরা পিপাগুলো, আর জাহাজের ডেক জুড়ে নানা আকারের কাঠের বাক্স, যাদের ভিতরে করাতের কাঠের গুড়ার উপর বসানো পরীক্ষামুলক বেশ কিছু ঘড়ি; বীগলের এই সমুদ্র যাত্রার মুল কারনটি ছিল বৈজ্ঞানিক, বৃটিশ নৌবাহিনীর জন্য এই ঘড়িগুলো বিশেষভাবে পরীক্ষা করবে সার্ভেয়াররা, যাদের সমুদ্রযাত্রার জন্য সুক্ষ সময়ের পরিমাপ বিশেষভাবে গুরুত্বপুর্ণ; এছাড়াও বীগলের আরেকটি কাজ হচ্ছে বিস্তারিতভাবে মানচিত্র তৈরী করা; নানা ধরনের নেভিগেশন চার্ট গুলোর রাখার জন্য কেবিনগুলোয় বিশেষ মেহগনী সিন্দুকও তৈরী করা হয়েছে; জাহাজের ১০টি লোহার কামান সরিয়ে তামার কামান বসানো হয়েছে, যেন তারা বীগলের কম্পাসের সাথে সামান্যতম কোন সমস্যা না করে;

Continue reading “চার্লস ডারউইন এবং একটি ধারনার বিজয়…. : প্রথম পর্ব (এক)”

চার্লস ডারউইন এবং একটি ধারনার বিজয়…. : প্রথম পর্ব (এক)

কুকুর, গরু এবং বাধাকপি


শীর্ষ ছবি: চিহুয়াহুয়া (Chihuahua) এবং গ্রেট ডেন (Great Dane): দুজনেই চামড়ার নীচে আসলে নেকড়ে। মাত্র কয়েক শতাব্দীর কৃত্রিম নির্বাচন বা সিলেকটিভ ব্রীডিং এর ফলে সৃষ্ট এই দুই জাতের কুকুরের ব্যাহ্যিক চেহারা দেখে তা কি অনুমান করা সম্ভব?

ভুমিকা: লেখাটি  রিচার্ড ডকিন্স ( Richard Dawkins) এর দি গ্রেটেষ্ট শো অন আর্থ  (The Greatest Show on Earth: The evidence for Evolution) এর দ্বিতীয় অধ্যায় Dogs, Cows and Cabbages র একটি অনুবাদ প্রচেষ্টা।
_____________________________________ 

দ্বিতীয় অধ্যায়: কুকুর, গরু এবং বাধাকপি

একজন ডারউইনের কেন এই দৃশ্যে উপস্থিত হতে এত দীর্ঘ সময় লেগেছিল? আসলেই কি প্রলম্বিত করেছিল মানবজাতির বিবর্তনের এ‌ই সুস্পষ্ট সহজবোধ্য ধারনাটিতে পৌছাতে ; যে ধারনাটি দৃশ্যতই মনে হয় যে এর প্রায় দুই শতাব্দী আগে আমাদেরকে উপহার দেয়া নিউটনের গানিতীক ধারনাটির বা এমনকি দুই হাজার বছর আগে আর্কিমিডিসের এর ধারনাটির চেয়েও অনেক বেশী সহজবোধ্য-? এই প্রশ্নের জবাব হিসাবে বেশ কিছু উত্তরও প্রস্তাব করা হয়েছে ইতিমধ্যে। যে অকল্পনীয় পরিমান সময়ের প্রয়োজন এই বিশাল পরিবর্তনের জন্য সেটা অনুভব করে হয়ত আমাদের মন সচেতনভাবেই শঙ্কা বোধ করেছে কিংবা আমরা আজ যাকে ভুতাত্ত্বিক গভীর সময় বা জিওলজিকাল ডিপ টাইম বলছি এবং যে ব্যক্তিটি সেই সময়টা বুঝতে চাইছেন, তার জীবনকালের দৈর্ঘ্যর সাথে এটির অসামন্জষ্যতা হয়ত  সেই সুবিশাল সময়টার ব্যাপ্তি বোঝার জন্য প্রতিবন্ধকতার কারন হয়েছিল। হয়ত বা এর কারন হতে পারে, ধর্মীয় দীক্ষা, যা আমাদের পিছু টেনে ধরেছিল। অথবা এর কারন হতে পারে, জীবিত অঙ্গ, যেমন চোখের অসাধারন এবং অন্যকিছু ভাবার জন্য নিরুৎসাহিত করার মত যার জটিলতা,যেন এটি কোন এক  মাষ্টার প্রকৌশলীর করা বিশেষ ডিজাইন বা পরিকল্পনার ছলনাময়ী মায়ার নানা চিহ্ন বহন করছে। সম্ভবত এই সব কিছু্‌ই কোন না কোন ভুমিকা পালন করেছে এই সহজ সত্যটাকে আমাদের এত দেরী করে বুঝতে। কিন্তু আর্ণস্ট মেয়ার (Ernst Mayr), নিও-ডারউইনিয়ান সিনথেসিসের বিখ্যাত গ্রান্ড ওল্ড ম্যান, যিনি ২০০৫ সালে ১০০ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেছিলেন, বারবার একটি ভিন্ন সন্দেহর কথাই উচ্চারণ করেছিলেন। মায়ারের দৃষ্টিতে মুল অপরাধী প্রাচীন দার্শনিক একটি মতবাদ-যার আধুনিক নাম- এসেন্শিয়ালিজম (Essentialism),বিবর্তনের আবিষ্কারকে আটকে রেখেছিল প্লেটো মৃত হাত ( এটা অবশ্য মায়ার এর বাক্য না, তবে তার ধারনাটিকে এটি প্রকাশ করে)।

প্লেটোর মৃত হাত:

Continue reading “কুকুর, গরু এবং বাধাকপি”

কুকুর, গরু এবং বাধাকপি

১২ ফেব্রুয়ারী: আন্তর্জাতিক ডারউইন দিবস ২০১৩

I have at least, as I hope, done good service in aiding to overthrow the dogma of separate creations.
— Charles DarwinDescent of Man page 61

il_570xN.415322584_kbzr
চার্লস রবার্ট ডারউইন
(১২ ফেব্রুয়ারী ১৮০৯ -১৯ এপ্রিল ১৮৮২)
(ছবি সুত্র:  Joanna Barnum; http://joannabarnum.com/charles-darwin-ii/)

আন্তর্জাতিক ডারউইন দিবস  এবং  http://darwinday.org/

আমার ব্লগে বিবর্তন বিষয়ক কিছু লেখার লিঙ্ক:

মহান মনিষীরা একই ভাবে চিন্তা করেন: কেমন করে ‍আলফ্রেড ওয়ালেস ডারউইনের মত একই রকম বৈপ্লবিক অন্তদৃষ্টি অনুভব করেছিলেন
বিবর্তন জীববিজ্ঞানে দশটি উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি
আমাদের এই প্রাচীন শরীর
আমাদের পারিবারিক বৃক্ষ
ডারউইনের কিছু ভবিষ্যদ্বানী
নৈতিকতার স্নায়ুবৈজ্ঞানিক উৎসের সন্ধানে
চোখের বিবর্তন
প্রাইমেটদের কালার ভিশনের বিবর্তন
অ্যাটেনবরো’র মাদার ফিশ: যৌন সঙ্গম ও আভ্যন্তরীন নিষিক্তকরণ প্রক্রিয়ার বিবর্তনের উষালগ্ন
প্রানীজগতে সমলিঙ্গ যৌন আচরণ এবং বিবর্তন
ভালোবাসা, নিউরোবায়োলজী কি বলে….
একটি অসাধারন বই এর ছোট কাহিনী
ইউজেন দুবোয়া এবং জাভা ম্যান
শুধু এক শতাংশ: আমাদের অতীতের ভবিষ্যৎ
রিচার্ড ডকিন্সের দি গ্রেটেষ্ট শো অন আর্থ:
  প্রথম অধ্যায় ; দ্বিতীয় অধ্যায়, তৃতীয় অধ্যায়
জেরী কয়েন এর হোয়াই ইভোল্যুশন ইজ ট্রু: প্রথম অধ্যায় ; দ্বিতীয় অধ্যায়, তৃতীয় অধ্যায়
তুমি কি আমার মা? 

কিছু ভিডিও লিঙ্ক:

Continue reading “১২ ফেব্রুয়ারী: আন্তর্জাতিক ডারউইন দিবস ২০১৩”

১২ ফেব্রুয়ারী: আন্তর্জাতিক ডারউইন দিবস ২০১৩

রিচার্ড ডকিন্স এর দি গ্রেটেষ্ট শো অন আর্থ : একটি অনুবাদ প্রচেষ্টা

রিচার্ড ডকিন্স এর দি গ্রেটেষ্ট শো অন আর্থ : বিবর্তনের স্বপক্ষে প্রমান

অনুবাদ প্রচেষ্টা: কাজী মাহবুব হাসান


শীর্ষ ছবি কিংবা প্রচ্ছদ : আসমা সুলতানা

প্রথম অধ্যায়: প্রথম পর্ব দ্বিতীয় পর্ব | তৃতীয় পর্বশেষ পর্ব
দ্বিতীয় অধ্যায়: প্রথম পর্ব

রিচার্ড ডকিন্স এর দি গ্রেটেষ্ট শো অন আর্থ : একটি অনুবাদ প্রচেষ্টা

একটি অসাধারন বইয়ের ছোট কাহিনী

শীর্ষছবি: চার্লস ডারউইনের On the Origin of Species  এর প্রথম সংস্করণ।( সুত্র:  ইন্টারনেট)

I am infinitely pleased & proud at the appearance of my child. Charles Darwin
(When Darwin first saw the finished volume, bound in green cloth) 

বিজ্ঞানের ইতিহাসের বোধহয় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বইটি হলো চার্লস ডারউইনের লেখা  On the Origin of Species বইটি; ১৮৫৯ সালে ২৪ নভেম্বর বইটি প্রকাশ করেছিলেন লন্ডনের প্রকাশক জন মারে। নীচের লেখাটি  এই বইটির প্রকাশের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস নিয়ে। জীববিজ্ঞানসহ বিজ্ঞানের প্রায় সব শাখায়, ১৫২ বছর আগে প্রকাশিত এই বইটির প্রভাব বলার অপেক্ষা রাখেনা।

Continue reading “একটি অসাধারন বইয়ের ছোট কাহিনী”

একটি অসাধারন বইয়ের ছোট কাহিনী

ডারউইনের কিছু ভবিষ্যদ্বাণী

A mind that is stretched by a new experience can never go back to its old dimensions. Oliver Wendell Holmes


শীর্ষ ছবি : ১৮৫৫ সালে চার্লস রবার্ট ডারউইন (১২ ফেব্রুয়ারী ১৮০৯ -১৯ এপ্রিল ১৮৮২) ( উইকিমিডিয়া)

(লেখকের কথা: পিটার টাইসন এর Darwin’s predictions অবলম্বনে লেখা)

ভুমিকা:

তাঁর সময়ের তুলনায় চার্লস ডারউইন অনেক এগিয়ে ছিলেন, শুধুমাত্র এই কথাটা বললে তাঁর প্রতি খুব একটা সুবিচার করা হবে না। বিবর্তনবাদের এই জনকের অনেক অনুমানই ১৮৮২ সালে তার মৃত্যুর অনেক বছর পর এবং কোন কোন ক্ষেত্রে  সম্প্রতি, প্রমানিত হয়েছে আর বিজ্ঞানীরা তাঁর ধারনাগুলোর স্বপক্ষে খুজে  পেয়েছেন পর্যাপ্ত পরিমান সব স্বাক্ষ্যপ্রমান। বর্তমানে প্রাপ্ত সকল প্রমান – যা সুষ্পষ্টভাবে তার প্রস্তাবিত প্রাকৃতিক নির্বাচনের মাধ্যমে বিবর্তন প্রক্রিয়া এবং তাঁর আরো কিছু অনুমানকেই সমর্থন করে – এসেছে বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখা থেকে, যেমন জীবাশ্মবিদ্যা,ভুতত্ত্ব, জৈবরসায়ন, জীনতত্ত্ব, অনুজীববিজ্ঞান এবং অতি সম্প্রতি ইভোলুশনারী ডেভোলপমেন্টাল বায়োলজী বা ‘ইভো ডেভো’, ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের জীববিজ্ঞানী কেনেথ মিলার’এর মতে ‘আমরা কোথা থেকে এসেছি এই প্রশ্নের একটি সাধারন উত্তর দেবার জন্য এতোগুলো ক্ষেত্র থেকে আসা প্রমানগুলো যে একটি সিদ্ধান্তে পৌছাতে পারছে, এই বিষয়টাইতো অত্যন্ত শক্তিশালী। একারনেই বিবর্তন তত্ত্বের স্বপক্ষে বৈজ্ঞানিক প্রমানের পরিমান অনেক বেশী।’

Continue reading “ডারউইনের কিছু ভবিষ্যদ্বাণী”

ডারউইনের কিছু ভবিষ্যদ্বাণী

বিবর্তন জীববিজ্ঞানে দশটি উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি


(লেখকের  কথা : কার্ল জিমার ( Carl Zimmer) এর “Ten great advances of evolution” অবলম্বনে )

ডারউইনের যুগান্তকারী ‘অরিজিন অব স্পিসিস’ প্রকাশনার ১৫০ বছর পূর্তি উদযাপন উপলক্ষ্যে এখানে বিবর্তনীয় জীববিজ্ঞানে গত কয়েক দশকের উল্লেখযোগ্য কিছু অগ্রগতির একটি তালিকার উল্লেখ করা হলো -অবশ্যই তালিকাটি কোনভাবেই সম্পুর্ন নয় । এই অগ্রগতির তালিকায় শুধুমাত্র কোন বিশেষ ধরনের প্রজাতির উদ্ভব সম্বন্ধে আমাদের বোঝার ক্ষেত্রে কোন ইতিবাচক পরিবর্তনের কারনই অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি, এই তালিকায় অর্ন্তভুক্ত আছে মুল বিবর্তনের প্রক্রিয়া সম্বন্ধে আমাদের অর্ন্তদৃষ্টির কিছু মৌলিক অগ্রগতি। কোন কোন ক্ষেত্রে এইসব অর্ন্তদৃষ্টিগুলো ডারউইনকেই বিস্ময়ের আনন্দময় ধাক্কা দিতে পারতো।


ছবি ১: কার্ল জিমারের মতে গত দশকের বিবর্তন গবেষনায় ১০ টি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি (ফটো ক্রেডিট: আর্থ (নাসা); টেক্সট (ডাবলিউ জি বি এইচ এডুকেশন ফাউন্ডেশন)

Continue reading “বিবর্তন জীববিজ্ঞানে দশটি উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি”

বিবর্তন জীববিজ্ঞানে দশটি উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি

মহান মনিষীরা একই ভাবে চিন্তা করেন: কেমন করে ‍আলফ্রেড ওয়ালেস ডারউইনের মত একই রকম বৈপ্লবিক অন্তদৃষ্টি অনুভব করেছিলেন।


শীর্ষ ছবি: রয়্যাল সোসাইটির ৩৫০ তম বার্ষির্কীতে প্রকাশিত একটি স্ট্যাম্পে আলফ্রেড রাসেল ওয়ালেস।(সুত্র:  রয়াল সোসাইটির ওয়েব পেজ)

‘All truth is easy to understand once they are discovered; the point is to discover them.’ Galileo Galilei 

( ৮ জানুয়ারী আলফ্রেড রাসেল ওয়ালেস এর জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে লেখাটি রি পোষ্ট করলাম। ব্লগ জগতে ঢোকার পর এটা আমার প্রথম লেখা ছিল)

লেখকের নোট:  মুলতঃ শন বি ক্যারল (Sean B Carroll) এর Great Minds Think Alike: How Alfred Wallace came to share Darwin’s revolutionary insights অবলম্বনে এটি লেখা । লেখাটির একটি সম্পাদিত ভার্সন,২০১১ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারী মুক্তমনা ব্লগে প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল। এই ভার্সনটি আরেকটু পরিবর্ধিত করা হয়েছে শন বি ক্যারল এর Remarkable Creatures: Epic Adventures In The Search For The Origins of Species এর তৃতীয় অধ্যায় Drawing the lines between Monkeys and Kangaroos অবলম্বনে।

সমান্তরাল পথে:

গত দুইশত বছরে, সাধারন আর বিশেষায়িত,দুই ধরনের প্রানীর প্রজাতির উৎপত্তির কারন অনুসন্ধান অনুপ্রাণিত করেছে অনেকগুলো অসাধারন অভিযান। পুরো ২০০৯ সাল জুড়ে, চার্লস ডারউইনের দুইশততম জন্মবার্ষিকীতে,সারা পৃথিবী শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেছে আমাদের সবচেয়ে মহান প্রকৃতিবিজ্ঞানী আর সুদূরপ্রসারী এক বৈজ্ঞানিক বিপ্লবের নেতার অবদান।

ডারউইনের বিখ্যাত সমুদ্রযাত্রা আর তার গবেষনা অতি সুপরিচিত, আর তা অত্যন্ত সঙ্গত কারনে। পরিচিত হওয়াটাই উচিৎ।কিন্তু বিবর্তন তত্ত্বের সূচনা, শুরুর দিকে এর ক্রমবিকাশ আর গ্রহনযোগ্যতার জন্য আমরা কিন্তু আলফ্রেড রাসেল ওয়ালেস এর কাছেও অনেকাংশে ঋণী। আরো অনেকবেশী কঠিন ‍অবস্থার মধ্য দিয়ে যিনি দুটি সুদীর্ঘ সমুদ্রযাত্রা করেছিলেন এবং স্বতন্ত্রভাবে প্রজাতির উৎপত্তি সম্বন্ধে ডারউইনের মত একই ধরনের ‍উপসংহারে পৌছে ছিলেন।

Continue reading “মহান মনিষীরা একই ভাবে চিন্তা করেন: কেমন করে ‍আলফ্রেড ওয়ালেস ডারউইনের মত একই রকম বৈপ্লবিক অন্তদৃষ্টি অনুভব করেছিলেন।”

মহান মনিষীরা একই ভাবে চিন্তা করেন: কেমন করে ‍আলফ্রেড ওয়ালেস ডারউইনের মত একই রকম বৈপ্লবিক অন্তদৃষ্টি অনুভব করেছিলেন।