The Genius of Charles Darwin

The Genius of Charles Darwin is a three-part television documentary, written and presented by evolutionary biologist Richard Dawkins. It was first shown in August 2008 on Channel 4. It won Best TV Documentary Series 2008 at the British Broadcast Awards in January 2009.

Advertisements
The Genius of Charles Darwin

Darwin’s Secret Notebooks

After first Galapagos journey, Darwin wrote down his ideas in a series of notebooks which their content were kept hidden for years. Evolutionary biologist Armand Marie Leroi  reopens Darwin’s journals to retrace his adventure and to piece together the true story behind one of the most revolutionary scientific breakthrough of all time.

Darwin’s Secret Notebooks

চার্লস ডারউইন এবং একটি ধারনার বিজয়…. : দ্বিতীয় পর্ব (শেষাংশ)

John Collier’s 1883 portrait of Darwin (National Portrait Gallery, London)

লেখাটির মুল সুত্র: Carl Zimmer এর Evolution, the triumph of an idea র প্রথম দুটি অধ্যায়; এছাড়াও কিছু বাড়তি তথ্য এসেছে বিভিন্ন সুত্র থেকে:

চার্লস ডারউইন এবং একটি ধারনার বিজয়…. : প্রথম পর্ব (এক)
চার্লস ডারউইন এবং একটি ধারনার বিজয়…. : প্রথম পর্ব (দুই)
চার্লস ডারউইন এবং একটি ধারনার বিজয়…. : প্রথম পর্ব(তিন)
 চার্লস ডারউইন এবং একটি ধারনার বিজয়…. : দ্বিতীয় পর্ব(এক)
 চার্লস ডারউইন এবং একটি ধারনার বিজয়…. : দ্বিতীয় পর্ব(দুই)
 চার্লস ডারউইন এবং একটি ধারনার বিজয়…. : দ্বিতীয় পর্ব(তিন)
 চার্লস ডারউইন এবং একটি ধারনার বিজয়…. : দ্বিতীয় পর্ব(চার)
 চার্লস ডারউইন এবং একটি ধারনার বিজয়…. : দ্বিতীয় পর্ব(পাঁচ)

দ্বিতীয় পর্ব : যেন কোন হত্যার স্বীকারোক্তি করার মত 
দুই

 এভাবে দেখা জীবনকে দেখার মধ্যে আছে আরো বেশী আসাধারনত্ব আর মাহাত্ম্য

Origin of Species  বইটির মুল যে যুক্তি তর্কটি এসেছে সেটি বিবর্তিত হয়েছিলো ১৮৪৪ সালের ডারউইনের সেই আগের লেখাটির আদিরুপ থেকেই, তবে এখন এটির ব্যপ্তি আরো বর্ধিত হয়েছে যা পৃথিবীর সব জীবনের একটি সর্বব্যাপী ব্যাখ্যা; বহুদুরের সেই গালাপাগোস দ্বীপপুন্জ কিংবা প্রবাল প্রাচীরে ঘেরা সমুদ্রের সেই বিষন্ন গভীরতা থেকে কিন্তু ডারউইন তার প্রস্তাবিত তত্ত্বের পক্ষের যুক্তিগুলো শুরু করেননি; তার যুক্তিগুলোর সুচনা ভিত্তি ছিল খুব সাধারন কিছু অভিজ্ঞতা, স্বাচ্ছন্দ্যময় ইংলিশ জীবনযাত্রায়; তিনি অসংখ্য আকার আকৃতির প্রানী এবং উদ্ভিদের কথা দিয়ে শুরু করেছিলেন, যাদের বৈশিষ্টসুচক সেই বহু বিচিত্র রুপ গড়ে উঠেছে মানুষ ‍খামারী বা ব্রীডারদের হাতের ছোয়ায় ; যারা কবুতরের প্রজনন করান, তারা ফ্যানটেল জাতের কবুতরে লেজে সাধারন যতটুকু পালক থাকে তা বাড়িয়ে দিয়েছিলেন বহুগুনে, কিংবা জাকোবিন জাতের কবুতরে গলার পালককে রুপান্তরিত করেছিলেন একটি বেশ বড় একটি আচ্ছাদন বা হুডে; এই সব বৈশিষ্টগুলো প্রকৃতিতে যথেষ্ট কোন পাখিকে একটি একক প্রজাতি হিসাবে চিহ্নিত করার জন্য, অথচ ব্রীডাররা তাদের সৃষ্টি করেছেন মাত্র কয়েক প্রজন্মের ব্যবধানে;

ডারউইন তার সময়ের বিদ্যমান তথ্যে বন্দী ছিলেন, তিনি স্বীকার করে নিয়েছেন, আসলে কেউ বুঝতে পারেননি কিভাবে বংশগতি এই ব্রীডারদের এই অত্যাশ্চর্য বিচিত্র রুপের সৃষ্টি করতে অনুমতি দিচ্ছে;  ব্রীডাররা তাদের অভিজ্ঞতায় শুধু বুঝতে পারতেন এবং জানতেস কোন কোন বিভিন্ন বৈশিষ্টগুলোর প্রবণতা আছে একই সাথে বা এক গুচ্ছ হয়ে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে হস্তান্তরিত হবার ; নীল চোখের বিড়াল, যেমন অবশ্যই কানে শোনে না বা বধির হয়।

যদিও বংশগতি তখনও রহস্যময়, তারপরও এটা সবার কাছে স্পষ্ট ছিলো, পিতা মাতা এমন সন্তানের জন্ম দেন, তারা সাধারনত তাদের মতই হবার প্রবণতা থাকে, যদি প্রতিটি প্রজন্মই তার নিজস্ব কিছু না কিছু প্রকরন বা ভ্যারিয়েশন নিয়েই জন্ম গ্রহন করে;  আপনার যদি প্রকৃতিতে বা কোন বনে ফ্যানটেইল বা জাকোবিন জাতের কবুতর নজরে পড়ে, আপনি ভাবতেই পারেন যে তারা হয়তো ভিন্ন দুটি প্রজাতি, কিন্তু বিস্ময়করভাবে তারা একে অপরের সাথে প্রজননক্ষম এবং পরবর্তী প্রজন্মর জন্ম দিতে পারে; আসলেই ডারউইনই দেখিয়েছিলেন, প্রকৃতিতে বিভিন্ন প্রজাতি এবং নান প্রকারের মধ্যে পার্থক্য করা খুবই কঠিন; যেমন জীববিজ্ঞানীরা তর্ক করেন বেশ কিছু ধরনের ওক গাছ কি আসলে আদৌ একই প্রজাতির সদস্য কিনা;

ডারউইন প্রস্তাব করেন এই ভ্যারাইটি বা প্রকরণ গুলো নিয়ে উদ্ভুত সংশয়ের কারন, প্রজাতি হিসাবে এই সব বিভিন্ন প্রকারের প্রকরণের মধ্যে কিছু মৌলিক সদৃশ্যতা বিদ্যমান; এবং এর কারন হচ্ছে এই ভ্যারাইটি বা নানা প্রকারের সদস্যরা নিজেই ভবিষ্যত প্রজাতির শুরুর প্রাথমিক একটি অবস্থা যারা এখনও বৈশিষ্ট সুচক ভিন্ন প্রজাতিতে পুরোপুরি বিবর্তিত হয়নি ;   তাহলে  কিভাবে একটি এখনও পুরোপুরি হয়নি এমন কোন প্রজাতি, একটি বৈশিষ্টসুচক পুর্ণ প্রজাতিতে রুপান্তরিত হয়? এখানে ডারউইন মালথাসকে তার যুক্তিতে নিয়ে আসেন; এমনকি খুব ধীরে প্রজনন করা প্রজাতি যেমন মানুষ কিংবা কনডর রাও তাদের সংখ্যা দ্বিগুন করে ফেলতে পারে ২০ বা ৩০ বছরের ব্যবধানে; এবং কয়েক হাজার বছরে সারা পৃথিবী তারা পুর্ণ করতে পারে তাদের সদস্যে; কিন্তু  বৃক্ষ আর প্রানীরা নিয়মিত ভাবে মারা যাচ্ছে অকল্পনীয় বিশাল বড় একটি সংখ্যায়, ডারউইন তার নিজের অভিজ্ঞতা থেকেই জানান কিভাবে একবার এক বছরেই ডাউন হাউসের চারপাশে একবার তীব্র শীতে পাখির সংখ্যা কমে গিয়েছিল প্রায় ৮০ শতাংশ; আমাদের দৃষ্টির অন্তরালে প্রকৃতির শান্ত প্রতিচ্ছবির পেছনের লুকানো আছে বিশাল নিরন্তর ভাবে ঘটতে থাকা হত্যাযজ্ঞ; প্রজাতির কিছু সদস্য বেচে থাকে নানা চ্যালেন্জ মোকাবেলা করে, তার কিছু কারন হচ্ছে ভাগ্য, আর অন্যরা, যাদের কিছু বৈশিষ্টই হয়তো থাকে যা তাদের মৃত্যুর উচ্চ প্রবণতার কারন হয়ে দাড়ায়; যারা বেচে থাকে তারাই প্রজননক্ষম হবার সময় বং প্রজনন করার সুযোগ পায়, অন্যদিকে যারা ভালোভাবে খাপ খাইয়ে নিতে পারে না, তারা মারা যায়, তাদের প্রজননক্ষম হয়ে উঠে প্রজনন করার সম্ভাবনাও থাকে খুব কম;

Continue reading “চার্লস ডারউইন এবং একটি ধারনার বিজয়…. : দ্বিতীয় পর্ব (শেষাংশ)”

চার্লস ডারউইন এবং একটি ধারনার বিজয়…. : দ্বিতীয় পর্ব (শেষাংশ)

চার্লস ডারউইন এবং একটি ধারনার বিজয়…. : দ্বিতীয় পর্ব (পাঁচ)


ছবি:  চার্লস ডারউইনের On the Origin of Species  এর প্রথম সংস্করন।( সুত্র:  ইন্টারনেট), রাজকীয় সবুজ কাপড়ে ডারউইন যখন প্রথম বইটি দেখেছিলেন..সেই মুহুর্তের অনুভুতি লিখেছিলেন …এভাবে I am infinitely pleased ‍and proud at the appearance of my child. বিজ্ঞানের ইতিহাসের বোধহয় সবচেয়ে গুরুত্বপুর্ন বইটি হলো চার্লস ডারউইনের লেখা  On the Origin of Species বইটি; ১৮৫৯ সালে ২৪ নভেম্বর বইটি প্রকাশ করেছিলেন লন্ডনের প্রকাশক জন মারে। জীববিজ্ঞান সহ বিজ্ঞানের প্রায় সব শাখায়, প্রায় বছর আগে প্রকাশিত এ্ই বইটির প্রভাব বলার অপেক্ষা রাখেনা।

 

লেখাটির মুল সুত্র: Carl Zimmer এর Evolution, the triumph of an idea র প্রথম দুটি অধ্যায়; এছাড়াও কিছু বাড়তি তথ্য এসেছে বিভিন্ন সুত্র থেকে:

চার্লস ডারউইন এবং একটি ধারনার বিজয়…. : প্রথম পর্ব (এক)
চার্লস ডারউইন এবং একটি ধারনার বিজয়…. : প্রথম পর্ব (দুই)
চার্লস ডারউইন এবং একটি ধারনার বিজয়…. : প্রথম পর্ব(তিন)
 চার্লস ডারউইন এবং একটি ধারনার বিজয়…. : দ্বিতীয় পর্ব(এক)
 চার্লস ডারউইন এবং একটি ধারনার বিজয়…. : দ্বিতীয় পর্ব(দুই)
 চার্লস ডারউইন এবং একটি ধারনার বিজয়…. : দ্বিতীয় পর্ব(তিন)
 চার্লস ডারউইন এবং একটি ধারনার বিজয়…. : দ্বিতীয় পর্ব(চার)

দ্বিতীয় পর্ব : যেন কোন হত্যার স্বীকারোক্তি করার মত 
দুই

প্রাকৃতিক নির্বাচনের মোড়ক ‍উন্মোচন:

জোসেফ হুকার এর উত্থাপিত কিছু সন্দেহ নিয়ে ভাবতে শুরু করেন ডারউইন; ডারউইনের একটি দাবী ছিল, উদ্ভিদ এবং প্রানী যারা কোন দ্বীপে বসবাস করে, তারা সেখানেই সৃষ্ট হয়নি, তারা হচ্ছে আদিতে এখানে বসতি স্থাপনকারীদের পরিবর্তিত বংশধর; যদি তাই সত্যি হয়, তাহলে সেই দ্বীপে তাদের পৌছানোর জন্য  একটি উপায়ের প্রয়োজন আছে; হুকার একজন অভিজ্ঞ উদ্ভিদবিজ্ঞানী, তিনি জানেন বীজ বাতাসে বা পানিতে ভেসে বহু মাইল অতিক্রম করতে পারে, কিন্তু ডারউইন যে পরিমান দুরত্বের কথা বলেছেন, সে বিষয়ে তিনি সন্দিহান ছিলেন;

হুকারের সন্দেহ মোকাবেল করতে ডারউইন একটি চৌবাচ্চা ভর্তি লবন পানিতে বীজ ছড়িয়ে দেন, এবং পরে পরীক্ষা করে দেখেন যে চার মাস পরও বীজগুলো সক্রিয় থাকে এবং মাটিতে রোপন করলে তাদের অঙ্কুরোদগমও হয়; তিনি আবিষ্কার করেন পাখিরা তাদের পায়ের সাথে বীজ বহন করতে পারে এবং প্যাচাদের অন্ত্রনালীতে খাওয়া  বীজও সক্রিয় থাকতে পারে, তাদের মলের সাথে বেরিয়ে আসা বীজ সক্রিয় থাকে;


ছবি: জোসেফ ডাল্টন হুকার (Sir Joseph Dalton Hooker 1817 – 1911), বৃটেনের অন্যতম সেরা উদ্ভিদবিজ্ঞানী, যিনি ভৌগলিক উদ্ভিদবিদ্যার জনক ছিলেন; প্রাকৃতিক নির্বাচনের ধারনাটি প্রথম ডারউইন এমা এবং জোসেফ হুকারকে জানিয়েছিলেন; ডারউইনের ঘনিষ্ট বন্ধু হুকার কিউর রয়্যাল বোটানিক্যাল গারডেনস এর পরিচালক ছিলেন দীর্ঘ সময়কাল।

Continue reading “চার্লস ডারউইন এবং একটি ধারনার বিজয়…. : দ্বিতীয় পর্ব (পাঁচ)”

চার্লস ডারউইন এবং একটি ধারনার বিজয়…. : দ্বিতীয় পর্ব (পাঁচ)

চার্লস ডারউইন এবং একটি ধারনার বিজয়…. : দ্বিতীয় পর্ব (চার)


ছবি: চার্লস রবার্ট ডারউইন (১২ ফেব্রুয়ারী ১৮০৯ -১৯ এপ্রিল ১৮৮২)(ছবি সুত্র: Scientific American, January 2009)

লেখাটির মুল সুত্র: Carl Zimmer এর Evolution, the triumph of an idea র প্রথম দুটি অধ্যায়; এছাড়াও কিছু বাড়তি তথ্য এসেছে বিভিন্ন সুত্র থেকে:

চার্লস ডারউইন এবং একটি ধারনার বিজয়…. : প্রথম পর্ব (এক)
চার্লস ডারউইন এবং একটি ধারনার বিজয়…. : প্রথম পর্ব (দুই)
চার্লস ডারউইন এবং একটি ধারনার বিজয়…. : প্রথম পর্ব(তিন)
 চার্লস ডারউইন এবং একটি ধারনার বিজয়…. : দ্বিতীয় পর্ব(এক)
 চার্লস ডারউইন এবং একটি ধারনার বিজয়…. : দ্বিতীয় পর্ব(দুই)
 চার্লস ডারউইন এবং একটি ধারনার বিজয়…. : দ্বিতীয় পর্ব(তিন)

দ্বিতীয় পর্ব : যেন কোন হত্যার স্বীকারোক্তি করার মত 
দুই

আবারো আত্মগোপন:

তার গোপনীয়তার দুজন স্বাক্ষী সহ, ডারউইন ধীরে ধীরে যথেষ্ট পরিমান আত্মবিশ্বাস অর্জন করছিলেন তার প্রাকৃতিক নির্বাচনের মাধ্যমে বিবর্তনের ধারনাটি প্রকাশ করার জন্য; কিন্তু সেই আত্মবিশ্বাস পুরোটাই হারিয়ে গিয়েছিল এর একমাস পরে; ১৮৪৪ সালের অক্টোবর মাসে Vestiges of the Natural History of Creation নামের একটি বই ছাপাখানা থেকে হয়ে এসেছিল, যার লেখক একজন স্কটিশ সাংবাদিক, রবার্ট চেম্বারস, সেই মুহুর্তে যিনি বেনামে বা অজানা থাকতেই স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেছিলেন, এবং নিজের পরিচয় গোপন রাখার জন্য এতটাই চেষ্টা করেছিলেন, তার প্রকাশক কোথায় তাকে সন্মানী পাঠাবেন এমনকি সেই ঠিকানাটিও তিনি লুকিয়ে রেখেছিলেন, অবশ্য এত সতর্কতা অবলম্বন করে তিনি যে বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দিয়েছিলেন কোন সন্দেহ নেই তাতে;


ছবি: রবার্ট চেম্বারস (Robert Chambers, 1802 – 1871)  স্কটিশ ভুতত্ত্ববিদ, প্রকাশক; চেম্বারস ১৮৪৪ সালে  Vestiges of the Natural History of Creation বইটি প্রকাশ করেন; যদিও তিনি তার নামে এটি প্রকাশ করেননি, তার মৃত্যুর পরেই কেবল লেখকের মুল পরিচয়  জানা গিয়েছিল।  যদিও প্রস্তাবিত বিবর্তন প্রক্রিয়া সম্বন্ধে চেম্বারস এর যুক্তির দুর্বলতা ছিল তা সত্ত্বেও  বিতর্কিত বহুল পঠিত এই বইটি প্রথম বারের মত বিবর্তন বা ট্রান্সমিউটেশন আর সৃষ্টির সাথে প্রাকৃতিক বিজ্ঞানের যোগসুত্রের ধারনাটি সাধারন পাঠকদের কাছে পৌছে দিয়েছিল।

Continue reading “চার্লস ডারউইন এবং একটি ধারনার বিজয়…. : দ্বিতীয় পর্ব (চার)”

চার্লস ডারউইন এবং একটি ধারনার বিজয়…. : দ্বিতীয় পর্ব (চার)

চার্লস ডারউইন এবং একটি ধারনার বিজয়…. : দ্বিতীয় পর্ব (তিন)


5514
ছবি: চার্লস ডারউইন এবং এমা ওয়েজউড.. বার্ধক্যে; ডাউন হাউসে ডারউইন দম্পতির এই প্রতিকৃতিটি একেছেন অজানা একজন শিল্পী; ছবিটি আরো কিছু প্রতিকৃতির সাথে সংরক্ষিত আছে Bridgeman Art Library তে;

লেখাটির মুল সুত্র: Carl Zimmer এর Evolution, the triumph of an idea র প্রথম দুটি অধ্যায়; এছাড়াও কিছু বাড়তি তথ্য এসেছে বিভিন্ন সুত্র থেকে:

চার্লস ডারউইন এবং একটি ধারনার বিজয়…. : প্রথম পর্ব (এক)
চার্লস ডারউইন এবং একটি ধারনার বিজয়…. : প্রথম পর্ব (দুই)
চার্লস ডারউইন এবং একটি ধারনার বিজয়…. : প্রথম পর্ব (তিন)
 চার্লস ডারউইন এবং একটি ধারনার বিজয়…. : দ্বিতীয় পর্ব(এক)
 চার্লস ডারউইন এবং একটি ধারনার বিজয়…. : দ্বিতীয় পর্ব(দুই)

দ্বিতীয় পর্ব : যেন কোন হত্যার স্বীকারোক্তি করার মত 
দুই

এ যেন কোন হত্যার অপরাধ স্বীকার করার মত:

নোটবই এ নিজের বৈপ্লবিক আর হেরেসি বা বৈধর্মের মত ধারনাগুলো লিখে রাখার ফাকে ফাকে ডারউইন কিছুটা সময় নিয়েছিলেন তার জীবনসঙ্গীনি খোজার জন্য; তার বীগল যাত্রার বেশ আগে ডারউইন তার কৈশরে একজনের প্রেমে পড়েছিলেন, তার নাম ছিল ফ্যানি ওয়েন (ফ্যানি ওয়েন ডারউইনের স্কুলের সহপাঠী উইলিয়াম ওয়েন এর বোন); কিন্তু ডারউইনের সমুদ্রযাত্রার অল্প কিছুদিনের মধ্যে ফ্যানী অন্য একজনের বিয়ের প্রস্তাব গ্রহন করেন; ইংল্যান্ড এ ফিরে ডারউইন ভাবতে শুরু করেন, তার কি আদৌ বিয়ে করা উচিৎ হবে কিনা; নিয়মমানা বিজ্ঞানীদের মত তিনি একটি কাগজে বিয়ে করার পক্ষে বিপক্ষে একটি তালিকা তৈরী করেন,  উপরে বা দিকে বিয়ে করার সুবিধা ( বা টু ম্যারী), ডান দিকে অসুবিধা ( নট টু ম্যারী) এবং মাঝখানে লেখেন, দিস ইস দ্য কোয়েশ্চেন তালিকা সহ একটি ব্যালান্স শীট তৈরী করেন ডারউইন; এই তালিকায় দেখায় যায় ডারউইন বিয়ের বিপক্ষে যুক্তি হিসাবে লিখেছেন, একা থাকলে তিনি বিজ্ঞান নিয়ে গবেষনা করার বেশী সময় পাবেন, ক্লাবে পুরুষ সহকর্মীদের সাথে বেশী সময় আলোচনা করে কাটাতে পারবেন, এছাড়া সন্তান প্রতিপালন করার মত অর্থ সামর্থ্য তার নেই; অন্যদিকে বিয়ের স্বপক্ষে যুক্তি হলো, একজন স্ত্রী তার বৃদ্ধ বয়সে সারাক্ষন সঙ্গী হবে; এধরনের তালিকার নীচে সব যোগ বিয়োগ করে তিনি তার উপসংহারে পৌছান: বিয়ে –বিয়ে –বিয়ে অত: সিদ্ধ;

fanny-695837498
ছবি: ফ্যানি ওয়েন, ডারউইনের প্রথম ভালোবাসা, স্কুলের এক সহপাঠীর বোন, উচ্ছল, চঞ্চল ফ্যানি ডারউইনকে তার মা হারানোর শোক কাটিয়ে উঠতে সাহায্য করেছিলেন; ডারউইনের দীর্ঘ সমুদ্র যাত্রার সময় তিনি অন্য আরেকজনের বিয়ের প্রস্তাব গ্রহন করেন, সেকথা অবশ্য ডারউইনকে প্রথম জানিয়েছিলেন তিনি একটি চিঠিতে : “Believe me Charles that no change of name or condition can ever alter or diminish the feelings of sincere regard and affection I have for years had for you… ; ডারউইন পরবর্তীতে তারা মামাতো বোন এমাকে বিয়ে করেছিলেন ১৮৩৯ সালে।

Continue reading “চার্লস ডারউইন এবং একটি ধারনার বিজয়…. : দ্বিতীয় পর্ব (তিন)”

চার্লস ডারউইন এবং একটি ধারনার বিজয়…. : দ্বিতীয় পর্ব (তিন)

চার্লস ডারউইন এবং একটি ধারনার বিজয়…. : দ্বিতীয় পর্ব (দুই)

MEDIUM_12052_2008_49_Fig1_HTML (1)
ছবি: চার্লস ডারউইন এর ১৮৩৭ সালের নোট বুকে আকা প্রথম জীবন বৃক্ষর রেখাচিত্র, যা প্রতিটি জীব সম্পর্কযুক্ত  এবং ট্রান্সমিউটেশনের এই বিষয়টি নিয়ে তার ভাবনাকে ইঙ্গিত করেছিল; 

লেখাটির মুল সুত্র: Carl Zimmer এর Evolution, the triumph of an idea র প্রথম দুটি অধ্যায়; এছাড়াও কিছু বাড়তি তথ্য এসেছে বিভিন্ন সুত্র থেকে:

চার্লস ডারউইন এবং একটি ধারনার বিজয়…. : প্রথম পর্ব (এক)
চার্লস ডারউইন এবং একটি ধারনার বিজয়…. : প্রথম পর্ব (দুই)
চার্লস ডারউইন এবং একটি ধারনার বিজয়…. : প্রথম পর্ব (তিন)
 চার্লস ডারউইন এবং একটি ধারনার বিজয়…. : দ্বিতীয় পর্ব(এক)

দ্বিতীয় পর্ব : যেন কোন হত্যার স্বীকারোক্তি করার মত 
দুই

সংশয় এবং বৈধর্ম্য বা হেরেসি

বীগল ফিরে আসার পার চার মাস পর, ডারউইন তার সংগ্রহ করে ‍আনা জীবাশ্ম ও প্রানীদের নমুনাগুলোর বিষয়ে নানা বিশেষজ্ঞদের মতামত পেতে শুরু করেন; শুরুতেই তাদের বক্তব্যগুলো মুলত তাকে সংশয়াচ্ছন্ন করেছিল; ওয়েন তার জীবাশ্ম স্তন্যপায়ীর নমুনাগুলো পরীক্ষা করে প্রস্তাব করেন এগুলো দক্ষিন আমেরিকায় বসবাসকারী কিছু প্রানীরই দানবীয় সংস্করণ; ইদুর জাতীয় প্রানীর আকার প্রায় জলহস্তির মত আর পিপাড়াখেকো অ্যান্ড ইটার আকারে প্রায় ঘোড়ার সমতুল্য; কেন, ডার‌উইন ভাবতে শুরু করেন, একটি একই এলাকায় বসবাস কারী জীবিত প্রানীদের সাথে এইসব বিলুপ্ত প্রানীদের মধ্যে কেন এই যোগসুত্র বা  একটি সম্পর্ক; তাহলে কি হতে পারে সব জীবিত প্রানীরা বিলুপ্ত প্রানীদের থেকে আকারে পরিবর্তিত হয়ে উদ্ভব হয়েছে?

ডারউইন তার গালাপাগোস থেকে আনা পাখিগুলো দিয়েছিলেন ফ্লেমস গ্যুল্ডকে, যিনি ছিলেন বৃটেনের একজন প্রথম সারির পক্ষীবিশারদ, ডারউইন যখন তাদের সংগ্রহ করেছিলেন, তখন তাদের বিষয়ে তিনি আলাদা করে কিছু ভাবেননি; কিন্তু যখন গ্যুল্ডকে জুওলজিক্যাল সোসাইটির একটি সভায় কথা বলতে শোনেন তিনি, সঠিকভাবে নোট না নেয়ার বিষয়টি নিয়ে অনুশোচনায় ভুগেছিলেন তিনি; তাদের ঠোট দেখে ডারউইন এই পাখিদের শনাক্ত করেছিলেন ফিন্চ, রেন আর ব্ল্যাক বার্ড হিসাবে, কিন্তু গ্যুল্ড তার পরীক্ষার পর ঘোষনা দেন এগুলো সবই আসলে ফিন্চ; শুধু তাদের ঠোটগুলো কারো রেন দের মত , কারো ব্ল্যাক বার্ড দের মত দেখতে, যা তাদের কোন নির্দিষ্ট ধরনের খাওয়া খেতে সহায়তা করে;

এবং পরে ডারউইন গ্যুল্ড এর সাথে দেখা করতে যান, গ্যুল্ড তাকে দেখান যে তিনি আরো বড় কিছু ভুল করেছিলেন, ডারউইন ঠিক মতো উল্লেখ করেননি কোন দ্বীপ থেকে তাদের বেশীর ভাগ সংগ্রহ করেছিলেন, কারন তখন তার কাছে এটা গুরুত্বপুর্ণ মনে হয়নি; ঘটনাক্রমে তিনি শুধু নোট করেছিলেন, তিনটি মকিং বার্ড এসেছে তিনটি ভিন্ন দ্বীপ থেকে; এবং গ্যুল্ড তাকে দেখালেন, যে এই মকিংবার্ডগুলো আসলে তিনটি নতুন এবং ভিন্ন প্রজাতির সদস্য; ডারউইন অনুধাবন করতে পারলেন, নিশ্চয়ই কোন একটি ব্যাপার আছে;  তার ভাবনায় তখন প্রশ্ন এত কাছাকাছি একটি জায়গায় কেন তিনটি ভিন্ন প্রজাতির মকিং বার্ড থাকবে?


ছবি: ফিন্চ (চার্লস ডারউইনের 1839 Journal of Researches Into the Natural History and Geology of the Countries Visited During the Voyage of HMS Beagle Round the World, Under the Command of Captn. FitzRoy, R.N. থেকে) (সুত্র: নোভা)

Continue reading “চার্লস ডারউইন এবং একটি ধারনার বিজয়…. : দ্বিতীয় পর্ব (দুই)”

চার্লস ডারউইন এবং একটি ধারনার বিজয়…. : দ্বিতীয় পর্ব (দুই)