প্রাইমেটদের কালার ভিশনের বিবর্তন:


শীর্ষছবি: শিম্পান্জ্ঞিরাও মানুষের মত নানা ধরনের রঙ্গের পার্থক্য করতে পারে,যা অন্য অনেক স্তন্যপায়ীরা দেখতে পায়না। কান্দিনিস্কির এই পেইন্টিংটাতে কোন একজন দর্শক প্রথমত যা দেখেন সেটি এই ক্যানভাসে ব্যবহৃত নানা ধরনের পেইন্টের রঙ্গের বৈশিষ্ট,ছবিতে পড়া আলোর উজ্জ্বলতার প্রকৃতি এবং যিনি দেখছেন তার কালার ভিশন সিস্টেমের একটি প্রতিফলন:ছবি সুত্র: GEOFFREY CLEMENTS /BOB ELSDALE/LUCY READING-IKKANDA/Scientific American, April 2009)

We have seen that parts many times repeated are eminently liable to vary in number and structure; consequently it is quite probable that natural selection, during the long continued course of modification, should have seized on  a certain number of primordially similar elements, many  times repeated, and have adapted them to diverse purposes.  Charles Darwin (1859: On the Origin of Species)

মুল:  Gerald H. Jacobs   এবং Jeremy Nathans এর Evolution of primate color visions (Scientific American, April 2009) অবলম্বনে। ডঃ জেরাল্ড এইচ. জ্যাকবস  সান্টা বারবারার ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়ার নিউরোসায়েন্স এবং সাইকোলজীর অধ্যাপক। দীর্ঘদিন ধরে তিনি আমাদের দৃষ্টি ক্ষমতা, ভিজুয়াল সিস্টেম এবং রঙ্গ এর অনুভুতি বোঝার প্রক্রিয়া নিয়ে গবেষনা করছেন। তিনিই প্রথম নিউ ওয়ার্ল্ড প্রাইমেটদের মধ্যে কেমন করে ট্রাইক্রোমাসি বা তিন রঙ্গ নির্ভর কালার ভিশনের  উদ্ভব হলো তার একটি জেনেটিক মেকানিজমটির ব্যাখ্যা করেন। ডঃ জেরেমি নাথানস, জন হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের নিউরোসায়েন্স ও অপথ্যালমোলজী এবং মলিক্যুলার বায়োলজী ও জেনেটিকস এর অধ্যাপক, মুলত তিনি কাজ করেন মানুষের চোখের ভিজুয়াল পিগমেন্টের জিন, তার ডিএনএ ও এর কোড কৃত প্রোটিন এর সিকোয়েন্স নিয়ে। আমাদের ভিজুয়্যাল পিগমেন্টের জিনটি তিনিই প্রথম শনাক্ত করেছিলেন।

 শুরুর কিছু কথা: রঙহীন কোন পৃথিবী কল্পনা করাটা আমাদের জন্য প্রায় অসম্ভব কারন কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া আমাদের প্রায় সবার চোখে এই পৃথিবী অগনিত রঙে সাজানো। কিন্তু এই পৃথিবীকে অসংখ্য রঙে সাজানো দেখতে পাবার ক্ষমতা আছে কেবল প্রাইমেট পরিবারে কয়টি সদস্যদের, যাদের মধ্যে আছি আমরাও। এই বিশেষ ক্ষমতাটি কালার ভিশন নামে পরিচিত।  আলোর ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক স্পেকট্রামের ছোট একটি অংশ আমাদের চোখ শনাক্ত করতে পারে ( প্রায় ৩০৯ ন্যানোমিটার থেকে প্রায় ৭৫০ ন্যানোমিটার তরঙ্গ দৈর্ঘ); যাকে বলা হয় ভিজুয়াল স্পেক্ট্রাম। ভিজুয়াল স্পেকট্রামের আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ অনুযায়ী রেটিনার ফটোরিসেপ্টর কোন (Cone) কোষগুলোর কোষঝিল্লিতে থাকা তিন ধরনের ভিজুয়াল পিগমেন্টকে সক্রিয় হয় এবং যা সূচনা করে বহুধাপ বিশিষ্ট একটি প্রক্রিয়া। যার ফলাফলে চোখের অপটিক নার্ভ এর মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ভিজুয়াল সংকেত পৌছে যায় আমাদের ব্রেনে।এই তিন ফটোপিগমেন্টের আলো শোষন করার ক্ষমতা অনুযায়ী তিনটি মুল রঙ: নীল,সবুজ, লাল  এবং তাদের সীমাহীন কম্বিনেশন আমাদের ব্রেনে অগনিত রঙের অনুভুতির জন্ম দেয়। মানুষ ও বেশ কিছু প্রাইমেটদের এই কালার ভিশন, নন-প্রাইমেট স্তন্যপায়ীদের কালার ভিশন অপেক্ষা বেশ ভিন্ন। প্রাইমেটদের এই কালার ভিশনকে বলা হয় ট্রাইক্রোম্যাসি ( Trichromacy: Tri = তিন, chroma= রঙ); কারন রেটিনার কোন কোষে থাকা তিনটি ভিন্ন ধরনের ফটোপিগমেন্টের (যারা ভিজুয়াল স্পেক্ট্রামের নির্দিষ্ট রেন্জের তরঙ্গ দৈর্ঘ শোষন করতে পারে) উপর তা নির্ভর করে। বিজ্ঞানীরা কয়েক দশক ধরে এই পিগমেন্টগুলোকে এনকোডকারী জিনগুলো নিয়ে গবেষনা করে আসছেন, এবং তাদের গবেষনায় বেশ কিছু গুরুত্বপুর্ণ ধারনা পাওয়া গেছে, যেমন: কেমন করে নন-প্রাইমেট স্তন্যপায়ীদের দুইটি ফটোপিগমেন্ট নির্ভর কালার ভিশন (ডাইক্রোম্যাটিক) থেকে প্রাইমেটদের ট্রাইক্রোম্যাটিক ভিশন বিবর্তিত হয়েছে। জেরাল্ড এইচ. জ্যাকবস এবং  জেরেমি নাথানস তাদের এই প্রবন্ধটিতে কালার ভিশনের বিবর্তন, তাদের জেনেটিক উৎপত্তির ব্যাখা সংক্রান্ত তাদের নিজেদের এবং  সমকালীন নানা গবেষনার কথা তুলে ধরেছেন। এই প্রবন্ধটি তারা শেষ করেছেন তাদের একটি যৌথ গবেষনা দিয়ে, যেখানে একটি ল্যাবরেটরি ইদুরের জিনোমে মানুষের ফটো পিগমেন্ট জিন যুক্ত করে তারা দেখেছেন স্তন্যপায়ী প্রানীদের ব্রেন কত সহজে নতুন সেন্সরী সংকেত ব্যবহারে অপ্রত্যাশিত নমনীয়তা বা প্লাস্টিসিটি প্রদর্শন করতে পারে। মুল লেখাটির ভাষাগত বেশ কিছু পরিবর্তন করা হয়েছে, তারপরও এই লেখাটিতে অনেক শব্দই রুপান্তর করা হয়নি, যেমন কালার ভিশন, ফটোপিগমেন্ট ইত্যাদি। এ কারনে আশা করছি যারা আগ্রহী তারা মন্তব্যের ঘরে প্রশ্নগুলো রেখে যাবেন।

Continue reading “প্রাইমেটদের কালার ভিশনের বিবর্তন:”

প্রাইমেটদের কালার ভিশনের বিবর্তন: