মৃত্যুর আয়নায় জীবনের নক্ষত্র

2017-03-11_18-02-49

আবুল আলা আল-মারি ছিলেন ৯৭৩ খ্রিস্টাব্দে সিরিয়ায় জন্ম নেয়া একজন আরব দার্শনিক ও কবি। কর্ম জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সময় তিনি সেই সময়ের পৃথিবীর সেরা শহর বাগদাদে কাটিয়েছিলেন। অত্যন্ত জনপ্রিয় হওয়া সত্ত্বেও তিনি কখনোই তাঁর কোনো লেখা অর্থের মূল্যে বিক্রি করতে রাজী হননি। ১০১০ এ তিনি আবার সিরিয়ায় ফিরে এসেছিলেন। নৈরাশ্যবাদী মুক্তচিন্তার যুক্তিবাদী দার্শনিক হিসাবে পরিচিত আল-মারি নিজেকে দুই জগতের বন্দী হিসাবে চিহ্নিত করেছিলেন… তার শারীরিক প্রতিবন্ধকতা- অন্ধত্ব এবং তার একাকীত্বের জগত।

চার বছর বয়সে গুটি বসন্তের কারণে তিনি তার দৃষ্টি শক্তি হারিয়েছিলেন। তবে জ্ঞানার্জনের ক্ষেত্রে তার অন্ধত্ব কোনো বড় বাধা হয়ে দাড়ায়নি। আল-মারি মূলত বিতর্কিত ছিলেন তার যুক্তিবাদী দর্শনের কারণে। তিনি ধর্মের মতবাদ নির্ভর ভাবজড়তা আর ইসলামকে অস্বীকার করেছিলেন – ইসলামের কিছু কেন্দ্রীয় মতবাদ যেমন হজ্জ্ব, মৃত্যু পরবর্তী জীবনকে তিনি সমালোচনা করেছিলেন। তার শ্লেষাত্মক মন্তব্য অন্যান্য ধর্মগুলোকেও রেহাই দেয়নি। তিনি সামাজিক ন্যায়বিচারের কথা বলতেন, কঠোরভাবে নিরামিশাষী ছিলেন, কারণ জবাই করে হত্যা করা কোন মাংস তিনি খাদ্য হিসাবে গ্রহন করতে অস্বীকার করেছিলেন। নৈরাশ্যবাদী হিসাবে তাকে যে বিষয়টি সুস্পষ্টভাবে চিহ্নিত করেছিল, সেটি হলো তার অ্যান্টি-ন্যাটালিস্ট দৃষ্টিভঙ্গী, তিনি প্রস্তাব করেছিলেন জীবনের যন্ত্রণা থেকে মুক্তি দেবার জন্য কোনো শিশুরই জন্ম দেয়া অন্যায়। তার তিনটি প্রকাশনা খুবই জনপ্রিয় হয়েছিল তার সময়েই “The Tinder Spark”, “Unnecessary Necessity”, এবং “The Epistle of Forgiveness”;

Continue reading “মৃত্যুর আয়নায় জীবনের নক্ষত্র”

মৃত্যুর আয়নায় জীবনের নক্ষত্র