মরিস হিলেম্যান: পোপ অব দ্য ভ্যাক্সিন

মরিস (র‍্যালফ) হিলেম্যান: পোপ অব দ্য ভ্যাক্সিন

খুব সম্ভবত আপনি মরিস হিলেম্যানের নাম শোনেননি, তবে কোনো সন্দেহ নেই বিংশ শতাব্দীর বিজ্ঞানে অন্যতম সমীহ জাগানো এক ব্যক্তিত্ব ছিলেন তিনি। এককভাবে সবচেয়ে বেশী সংখ্যক মানুষের জীবন বাঁচানোর জন্যে নিয়তিমভাবেই তাকে চিহ্নিত করা হয়ে থাকে। বলা হয় ভ্যাক্সিন নিয়ে তার কাজের জন্যে ১০০ বছর আগে আমরা যে কয়দিন বাঁচতাম এখন তার চেয়ে অতিরিক্ত ৩০ বছর বেশী বেঁচে থাকতে পারছি।

ভ্যাক্সিন তৈরী ইতিহাসে শ্রেষ্ঠতম পেশাগত জীবনটি অর্জনে কোনো প্রতিবন্ধকতাই তাকে দমিয়ে রাখতে পারেনি। ((ভ্যাক্সিন মূলত কৃত্রিমভাবে দূর্বল অথবা মৃত জীবাণু বা জীবাণুর কোনো অংশ যা ব্যবহার করে আমাদের শরীরের রোগ-প্রতিরোধ তন্ত্রটি প্রস্তুত করে রাখা হয়, যখন সত্যিকারের জীবাণুর মুখোমুখি হয় আমাদের রোগ-প্রতিরোধ তন্ত্র যেন খুব দ্রুত এর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারে। যেমন, আমরা শিশুদের পোলিও ভ্যাক্সিন খাওয়াই যেন তারা পোলিওর ক্ষতিকর প্রভাব থেকে মুক্ত থাকতে পারে))। একটি সফল ভ্যাক্সিন তৈরী করা অবশ্যই বিশাল একটি কাজ, কিন্তু হিলেমানের জীবনে এই ধরনের আবিষ্কারের বাহুল্য ছিল। মরিস হিলেমান পেনসিলভেনিয়ার ওয়েস্ট পয়েন্টে  Merck Institute of Therapeutic Research এ কাজ করার সময় মানুষ এবং প্রাণীদের জন্যে তিনি মোট ৪০ টিরও বেশী ভ্যাক্সিন সৃষ্টি করেছিলেন, আর সেকারণে বিংশ শতাব্দীতে তিনি সবচেয়ে বেশী  উৎপাদনশীল ভ্যাক্সিন সৃষ্টিকর্তা ছিলেন।  যে ১৪ টি ভ্যাক্সিন যুক্তরাষ্ট্রে (এবং বিশ্বে) নিয়মিত দেয়া হয়, হিলেম্যান এর মধ্যে আটটি তৈরী করেছিলেন। তার সবচেয়ে প্রচলিত ভ্যাক্সিনটি হচ্ছে মিজলস, মামস অ্যান্ড রুবেলা ( MMR) ভ্যাক্সিন। হিলেম্যানের এই ভ্যাক্সিনগুলো বহু অসুখ প্রতিরোধ করেছে এবং একই সাথে বহু মিলিয়ন শিশু এবং গর্ভবতী নারীদের রুবেলা থেকে রক্ষা করেছিল। গর্ভকালীন সময়ে রুবেলা সংক্রমণ ভ্রূণে জন্মগত ক্রটির কারণ হয়। এবং তিনি প্রথম এমএমআর (MMR) – মাম্পস মিজেলস-রুবেলা এই তিন রোগের বিরুদ্ধে একটি টিকা দেবার মাধ্যমে দেয়া সম্ভব এমন ভ্যাক্সিনের ব্যবহারও প্রবর্তন করেছিলেন।

হিলেম্যান জন্মগ্রহন করেছিলেন ১৯১৯ সালের ৩০ আগষ্ট, মন্টানার মাইলস সিটিতে। এডিথ আর রবার্ট হিলেম্যানের আট শিশুর সর্বকনিষ্ঠ মরিস জন্মের সময়ই তার মা এবং যমজ বোনকে হারিয়েছিলেন। হিলেমানের বাবা তার সন্তানদের পার্শবর্তী খামারে তাদের এক আত্মীয়ের পরিবারে বসবাস করতে পাঠিয়ে দিয়েছিলেন। ত্রিশের দশকে মহা মন্দার সময় তিনি বড় হয়ে উঠেছিলেন মুরগী আর গবাদী পশু প্রতিপালন আর পারিবারিক ব্যবসা ঝাড়ু আর হর্সর‍্যাডিশ বানিয়ে।  আট বছর বয়সে ডিপথেরিয়ায় আক্রান্ত হয়ে তিনি প্রায় মরার উপক্রম হয়েছিলেন। ছাত্র জীবনে মরিস হিলেম্যানে বিজ্ঞানের প্রতি বিশেষ আগ্রহ ছিল, তিনি রেডিওতে বিজ্ঞানের অনুষ্ঠান আর পাঠ্যপুস্তক গুলো যা হাতে পেতেন তাই পড়তেন। স্থানীয় পাদ্রীর নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও তিনি ডারউইনের অন দি অরিজিন অব স্পিসিস পড়েছিলেন। ১৯৩৭ সালে হাইস্কুল শেষ করে স্থানীয় একটি মুদির দোকানে কাজ নিয়েছিলেন। পরে তিনি বলেছিলেন যদিও বিজ্ঞানে তার আগ্রহ ছিল কিন্তু তিনি তখনও বিশ্বাস করতে পারেননি কলেজে পড়ার মত পয়সা জোগাড় করতে পারবেন। তবে, ১৯৩৮ সালে তার বড় ভাই তাকে জানিয়েছিলেন মন্টানার বেশ কিছূ কলেজে স্কলারশীপের সুযোগ আছে এবং তাকে আবেদন করতে উৎসাহিত করেছিলেন। হিলেম্যান তাই করেছিলেন এবং মন্টানা স্টেট কলেজে পড়ার জন্যে পুরো স্কলারশীপ পেয়েছিলেন। সেখানে একই সাথে তিনি রসায়ন আর অণুজীববিজ্ঞান পড়েছিলেন। তার এক সহপাঠী স্মরণ করেছিলেন তিনি বিজ্ঞানে নিবেদিত প্রাণ ছিলেন এবং ছুটির দিনেও তাকে ল্যাবে পাওয়া যেত।

১৯৪১ সালে তার ক্লাসে প্রথম হয়ে শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুজীববিজ্ঞানে পিএইচডি করতে এসেছিলেন তিনি। ১৯৪৪ সালে তিনি তার ডক্টরেট ডিগ্রী পেয়েছিলেন একটি অণুজীবকে সঠিকভাবে চিহ্নিত করার মাধ্যমে, যা ক্ল্যামাইডিয়া নামের একটি যৌন রোগের কারণ ছিল। হিলেম্যানের গবেষণা এর আগের গবেষকদের ধারণাটি উল্টে দিয়েছিল ( যারা এটি ভাইরাস হিসাবে শনাক্ত করেছিলেন) ক্ল্যামাইডিয়াকে একটি ব্যাকটেরিয়া জনিত রোগ হিসাবে প্রমাণ করে। ছাত্রাবস্থায় করা এই গবেষণা ক্ল্যামাইডায় আক্রান্ত বহু মানুষের চিকিৎসায় অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারে পথ সুগম করেছিল। পিএইচডি পাবার পর অধ্যাপকরা সবাই তাকে কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণা অব্যহত রাখতে তাগিদ দিয়েছিলেন, তারা বলেছিলেন শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের এই ডিগ্রীটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে কাজের জন্যে উপযুক্ত নয়। কিন্তু হিলেম্যান বিশ্বাস করতেন যদি অ্যাকাডেমিয়ার বাইরে তিনি কাজ করেন তাহলে তার গবেষণা আর এর প্রয়োগের জন্যে কোনো সহায়তার অভাব হবেনা। আমরা ভাগ্যবান তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে নিজেকে আটকে রাখেননি। আর এই বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে কাজ করার কারণে তাকে পেশাগত জীবনে  বেশ কিছু স্বীকৃতি পাওয়া থেকে বঞ্চিত করেছিল।

১৯৪৪ সালে ভাইরাস নিয়ে গবেষণা এবং ভ্যাক্সিন তৈরীর প্রকল্পে তিনি স্কুইবে যোগ দেন। স্কুইবে কাজ শুরু করার প্রথম বছরেই তিনি মশাবাহিত একটি ভাইরাস-জনিত রোগ জাপানিজ এনকেফালাইটিসের বিরুদ্ধে তার প্রথম ভ্যাক্সিনটি তৈরী করেছিলেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় যে অসুখটি প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে যুদ্ধরত বহু আমেরিকান সৈন্যের মৃত্যুর কারণ হয়েছিল। এর পর ১৯৪৮ সালে সেনাবাহিনীর Walter Reed Army Institute of Research  তাকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দিয়ে স্কুইব থেকে নিয়ে এসেছিল, এখানে তিনি সম্পূর্ণ নতুন একটি ভাইরাস শনাক্ত করেন, অ্যাডিনোভাইরাস, ১৯৫৬ সালে এর একটি ভ্যাক্সিনও তিনি তৈরী করেছিলেন।

এখানে কাজ করার সময় তিনি লক্ষ করেছিলেন ইনফ্লুয়েন্জা ভাইরাসের প্রতি বছর খানিকটা বদলে যায়, আর এই বদলানোর পরিমান যখন কম তখনও আমাদের শরীর এটিকে চিনতে পারে আংশিকভাবে, কিন্তু যদি বড় ধরনের কোনো পরিবর্তন হয় আমাদের শরীর সেটি চিনতে পারে না, পরিণতি হয় মহামারী। হিলেম্যান তার এই তত্ত্বটি কাজে লাগাতে পেরেছিলেন খুব শীঘ্রই। ১৯৫৭ সালে হংকং এ যখন এভিয়ান ফ্লুর আবির্ভাব হয়েছিল যা প্রায় ২৫০,০০০ মানুষকে আক্রমণ করেছিল। হিলেম্যান ফ্লু ভাইরাসের ব্যপক পরিবর্তন হয়েছে বলে সন্দেহ করেছিলেন। তিনি বুঝতে পেরেছিলেন একটি মহামারী আসছে; হিলেমান ও তার সহকর্মীরা একজন রোগীর রক্ত থেকে ইনফ্লুয়েন্জা ভাইরাসটিকে টানা নয়দিন দৈনিক চৌদ্দ ঘন্টা পরিশ্রম করে শনাক্ত করেছিলেন, এবং দেখেছিলেন পৃথিবীর কোনো ফ্লু অ্যান্টিবডি ভাইরাসটিকে শনাক্ত করতে পারছেনা, তিনি বুঝতে পেরেছিলেন এটি যদি যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করে ভয়াবহ একটি পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে। তিনি ভ্যাক্সিন নির্মাতাদের রাজী করিয়েছিলেন এর জন্যে দ্রুত একটি ভ্যাক্সিন প্রস্তুত করতে, এমনকি ভাইরাসের স্টক স্যাম্পলটি তিনি দিয়েছিলেন; এবং ১৯৫৭ সালের সেপ্টেম্বরেই প্রায় ৪০ মিলিয়ন ফ্লু ভ্যাক্সিন প্রস্তুত ছিল। সেকারণেই হংকং ফ্লুর কারণে যুক্তরাষ্ট্রে মৃত্যুর সংখ্যা ছিল ৬৯০০০, এক মিলিয়ন নয়, যা ধারণা করা হয়েছিল।

১৯৫৭ সালে তিনি Merck Institute of Therapeutic Research এ যোগ দেন। তাকে মার্কে নিয়ে এসেছিল দূরদ্রষ্টা ভানেভার বুশ, কোম্পানির তৎকালীন চেয়ারম্যান। এখানে তিনি তার পুর্ণ শক্তি নিয়ে কাজ করেন। মার্কের বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহৃত পোলিও ভ্যাক্সিনটিকে আরো উন্নত করার কাজ করতে গিয়ে  ১৯৬০ সালে তিনি একটি ক্যান্সার করতে পারে এমন একটি ভাইরাস খুজে পান: SV40, যা পোলিও ভ্যাক্সিনের মধ্যে ছিল। এর পরেই ভ্যাক্সিন তৈরীতে গবেষকরা বানরের কোষ বাদ দিয়ে মানুষের কোষ ব্যবহার করতে শুরু করেছিলেন। ১৯৬২ সালে তিনি মিজলস বা হামের জন্যে ভ্যাক্সিন তৈরী করেন। এর এক বছর তিনি একটি রুবেলা ভাইরাস খুজে পান যার নাম বেনোয়া স্ট্রেইন, তিনি চেয়েছিলেন এটি দিয়ে রুবেলার ভ্যাক্সিন বানাতে, কিন্তু তিনি সেটি করতে পারেননি। ১৯৬৩ সালে মাম্পস ভ্যাক্সিন তৈরী কাজ শুরু করেন, ১৯৬৩ সালে তার নিজেরে মেয়ে জেরিল লিন যখন মাম্পসের আক্রান্ত হয়েছিল, সেই ভাইরাসটি তিনি ব্যবহার করেছিলেন মাম্পসের বিরুদ্ধে ভ্যাক্সিন তৈরী করেছিলেন। এই ভ্যাক্সিনটি তার বড় মেয়ের উপরে প্রথম পরীক্ষা করা হয়েছিল। ১৯৬৭ সালে এটি বাজারে আসে এবং ১৯৭২ সাল নাগাদ শুধুমাত্র যুক্তরাষ্ট্যে এর ১১ মিলিয়ন ডোজ বিতরণ করা হয়েছিল । এর মাঝে তিনি ১৯৬৭ সালে HPV-77 স্ট্রেইন ব্যবহার করে অবশেষে কার্যকরী একটি রুবেলা ভ্যাক্সিন তৈরী করেন। এর মাঝে মিজলস বা হামের টিকাকে আরো উন্নত করেন এবং ১৯৭১ সালে MMR ভ্যাক্সিন সৃষ্টি করেন। ১৯৭৯ সালে রুবেলার অন্য একটি স্ট্রেইন যোগ হয় এবং ভাইরাসটি আরো কার্যকরী হয়, ২০১৫ সাল নাগাদ যুক্তরাষ্ট্রে এই ভ্যাক্সিনটির মোট ৫০০ মিলিয়ন ডোজ বিতরণ হয়েছে। ১৯৭৪ সালে মেনিনজাইটিসের জন্যে একটি ভ্যাক্সিন তৈরী করেন তিনি, ১৯৭৭ সালে নিউমোনিয়া, ১৯৮১ সালে চিকেন পক্স,  ১৯৮১ সালে হেপাটাইটিস বি ভ্যাক্সিনও তিনি তৈরী করেছিলেন, ১৯৮৪ সালে অবসর নেবার পরও তাকে আবার ফিরিয়ে আনা হয়েছিল ম্যালেরিয়া টিউবারকিউলোসিসি আর এইচআইভি ভ্যাক্সিন ডেভোলপমেন্টে পরামর্শদাতা হিসাবে।

মনটানার একটি কৃষক পরিবারে তিনি বড় হয়েছিলেন, আর সেই সাধারণ কৃষক পরিবারের সেই দৃষ্টিভঙ্গি তিনি সারাজীবনই তার সাথে বহন করেছিলেন, মন্টানাকে তিনি বলেছিলেন তার বিজ্ঞান শিক্ষার একটি ক্রসিবল। মরিস বিশ্বাস করতেন খুব সরল এবং গভীর সত্যের কোনো পথ আছে, যে পথে বিজ্ঞান চর্চা এবং পরে ভ্যাক্সিন তৈরী করা সম্ভব হয়েছিল তার পক্ষে। যদিও এটি জটিল একটি কাজ কিন্তু তিনি সবসময়ই পরিচ্ছন্ন সেই পথটি খুজে পেয়েছিলেন। সহকর্মী বিজ্ঞানীরা তাকে বর্ণণা করেছেন একজন ‘অমায়িক বদমেজাজী’ হিসাবে। কারণ কখনোও তাকে সেই ভূমিকাটি নিতে হতো, হয়তো যার জন্যে কোনো পুরষ্কার থাকে না কিন্তু এটাই প্রয়োজন পড়ে যদি আপনি অন্য যে কোনো কারো চাইতে বেশী সংখ্যক ভ্যাক্সিন বানাতে চান। বিখ্যাত বেসবল খেলোয়াড় ‘ইয়োগী’ বেরার সাথে তুলনা করে বলা হয় তিনি খুব একগুয়ে ছিলেন; বিজ্ঞানী এবং মানবতাবাদী যিনি তার জীবন উৎসর্গ করেছিলেন অসুখ থেকে মানুষকে রক্ষা করতে। ২০০৫ সালে ক্যান্সারের সাথে পরাজিত হাবার আগে যদিও তিনি বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পুরষ্কার পেয়েছিলেন, কিন্তু এমনকি বিজ্ঞানীদের মধ্যেও তার অবদান প্রকৃতভাবে মূল্যায়ন হয়নি, তার কারণ তিনি মূলত নিজেকে  নিবেদন করেছিলেন প্রায়োগিক বিজ্ঞানে, মৌলিক গবেষণায় নয়। কিন্তু তারপরও মৌলিক বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে তার অবদান বিশাল। তিনিই প্রথম ব্যক্তি যিনি আবিষ্কার করেছিলেন রোগজীবাণুকে কিভাবে সেরোটাইপ করতে হয় (ক্ল্যামাইডিয়া); তিনি SV40 ভাইরাস আর অ্যাডিনোভাইরাস আবিষ্কার করেছিলেন। তিনি প্রথম ‘ইন্টারফেরোন’ বিশুদ্ধভাবে সংগ্রহ করেছিলেন এবং দেখিয়েছিলেন ভাইরাসের ডাবল-স্ট্যান্ড RNA এর উপস্থিতির প্রতিক্রিয়ায়  আক্রান্ত কোষ এটি তৈরী করে। এবং তিনি প্রথম ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসের ‘অ্যান্টিজেনিক শিফট’ প্রপঞ্চটি ব্যাখ্যা করেছিলেন, জিনগত পুনর্বিন্যাস যা মাঝে মাঝে নতুন বিশ্বব্যপী মহামারি করতে সক্ষম এমন ইনফ্লুয়েন্জা ভাইরাসের জন্ম দেয়।  বিজ্ঞানীদের অসমাপ্ত প্রজেক্ট যখন অন্য কেউ নিতে চাইতো না , তিনি সেটি উদ্ধার করে ঘুরিয়ে দিতেন, যেমন রোটা ভাইরাসের প্রকল্প। তার নিজের গবেষণা নিয়ে তার কোনো অহংকার ছিলনা। যেমন, যখন তিনি তার রুবেলা ভাইরাসের ভ্যাক্সিনের জন্যে ভালো ভাইরাসের সন্ধান পেয়েছিলেন, তিনি সরাসরি সেটাই ব্যবহার করেছিলেন। বাণিজ্যের চেয়ে তার কাছে গুণগত মান গুরুত্বপূর্ণ ছিল। ১৯৮১ সালে অনেক ঝুকি নিয়ে তিনি হেপাটাইটিস ভ্যাক্সিন বানানোর নমুনা সংগ্রহ করেছিলেন, যা ১৯৮১ সালে লাইসেন্স পেয়েছিল।

তার অসাধারণ অবদানগুলো মূলত এসেছে মার্ক রিসার্চ ল্যাব থেকে, যেখানে তিনি তার জীবনের ২৮ বছর কাটিয়েছিলেন। জীবনের শেষ মুহূর্ত অবধি তিনি ব্যস্ত জীবন কাটিয়েছিলেন। তিনি বলতেন, ‘আমি কি করেছি, এই পৃথিবীতে বেঁচে থাকা যুক্তিযুক্ত করার মত আমার অবদানটি কি? এটি একটা বড় চিন্তা, বিশেষ করে মন্টানা থেকে আসা কারোর জন্যে। আমি বলবো আমি আমার জীবন নিয়ে আমি সন্তুষ্ট। আমি আবার একই কাজ করবো, কারণ উপকারে আসতে পারার মধ্যে অনেক বেশী সুখ’। একটি হিসাব বলছে তার ভ্যাক্সিনগুলো প্রতি বছর আট মিলিয়ন জীবন বাঁচাচ্ছে।  তার জীবনে তিনি আসলেই বহু মিলিয়ন মানুষের জীবন রক্ষা করেছেন এবং এখনও করে চলছেন। ভ্যাক্সিনের জগতে জোনাস সল্ক বা অ্যালবার্ট সাবিন যেভাবে মনোযোগ দখল করে আছেন, তাদের মত মরিস হিলেম্যান পরিচিত নন। যদিও তার ৮ টি ভ্যাক্সিন নিয়মিত ব্যবহার করা হচ্ছে। স্ট্যানলী প্লটকিন যিনি হিলেমানের সহযোগী ছিলেন রুবেলা ভ্যাক্সিন তৈরী করার জন্যে, প্রস্তাব করেছিলেন তার এই অপরিচিতির কারণ তিনি কাজ করেছিলেন ফার্মা ইন্ডাস্ট্রির সাথে, বিশ্ববিদ্যালয়ে নয়।  পাস্তুর, সল্ক বা সাবিনের ব্যতিক্রম সাধারণ মানুষের চোখে সেই অবস্থানটি ছিল বাণিজ্যিক দোষে দুষ্ট। কিন্তু বিজ্ঞানীদের জন্যে যা গুরুত্বপূর্ণ সেটি হচ্ছে অন্য বিজ্ঞানীদের স্বীকৃতি। সেটি তিনি পেয়েছিলেন, তাকে বলা হতো ‘পোপ অব দ্য ভ্যাক্সিন’।  পল অফিট মরিস হিলেম্যানের একটি চমৎকার জীবনী লিখেছেন, ২০০৮ সালে Vaccinated:  One man’s quest to defeat the world’s deadly dieeases প্রকাশিত হয়েছে।

মরিস হিলেম্যান: পোপ অব দ্য ভ্যাক্সিন

বাস্তবতার জাদু

‘মহাশূন্য, সময় আর বিবর্তন বিষয়ে উদ্দীপ্ত করার মতো অসংখ্য ব্যাখ্যা সম্বলিত, হাস্যরস আর বুদ্ধিদীপ্ত চিন্তার পরীক্ষার নানা উদাহরণের সঠিক মিশ্রণে দ্য ম্যাজিক অব রিয়েলিটি বইটি প্রাকৃতিক প্রপঞ্চগুলোর বিস্ময়কর বিশাল একটি সম্ভারকে অনুসন্ধান করেছে। কোনোকিছু আসলে কী দিয়ে তৈরি? মহাবিশ্ব কত প্রাচীন? সুনামি কেন হয়? প্রথম পুরুষ অথবা নারী, কে ছিলেন? এটি সুখপাঠ্য, অসাধারণ একটি রহস্য গল্পের মতো, যা শুধুমাত্র বিজ্ঞানের পুঞ্জীভূত জ্ঞানের খনিতে এর উত্তরের যোগসূত্রগুলো অনুসন্ধানই করেনি, একজন বিজ্ঞানীর মতো ভাবতেও এটি এর পাঠককে প্রস্তুত করেছে।সব বয়সের পাঠকদের জন্যেই রিচার্ড ডকিন্স এই বইটিতে প্রাকৃতিক জগতের বিস্ময়গুলোকে ব্যাখ্যা করেছেন অননুকরণীয় স্পষ্টতা আর সমৃদ্ধতায়, যা ভবিষ্যৎ বহু প্রজন্মকে জ্ঞানের আলোয় আলোকিত এবং তথ্যাভিজ্ঞ করা অব্যাহত রাখবে।

www.rokomari.com/book/195415

প্রকাশনায়: অগ্রদূত অ্যান্ড কোম্পানি
(https://www.facebook.com/AgrodootAndCompany/)

বাস্তবতার জাদু

প্রকাশিত কিছু বই

83401998_2801718833196797_9186337573243453440_n

দিব্য প্রকাশ প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত কয়েকটি অনুবাদ:

# সভ্যতা: একটি ব্যক্তিগত দৃষ্টিভঙ্গি
(মূল: কেনেথ ক্লার্ক; অনুবাদ: আসমা সুলতানা ও কাজী মাহবুব হাসান)
(বিষয়:শিল্পকলার ইতিহাস)
# দেখার দৃষ্টিভঙ্গি
(মূল: কেনেথ ক্লার্ক; অনুবাদ: আসমা সুলতানা ও কাজী মাহবুব হাসান)
(বিষয়:শিল্পকলার ইতিহাস ও সমালোচনা)
# পৃথিবীর সংক্ষিপ্ত ইতিহাস
(মূল: ই এই গমব্রিখ, অনুবাদ: আসমা সুলতানা ও কাজী মাহবুব হাসান)
(বিষয়:শিল্পকলার ইতিহাস, ইতিহাস)
# দর্শনের সহজপাঠ
(মূল: নাইজেল ওরবার্টন ও অন্যরা, অনুবাদ: কাজী মাহবুব হাসান)
(বিষয়:পশ্চিমা দর্শনের ইতিহাস ও দার্শনিকদের সংক্ষিপ্ত জীবনী)
# প্রতিমূর্তি: ৫০ টি জীবনে ভারতের ইতিহাস
(মূল: সুনীল খিলনানি, অনুবাদ: কাজী মাহবুব হাসান)
(বিষয়:সংক্ষিপ্ত ৫০ জীবনীর মাধ্যমে ভারতে ইতিহাস)
# দ্য গ্রেটেষ্ট শো অন আর্থ
(মূল: রিচার্ড ডকিন্স, অনুবাদ: কাজী মাহবুব হাসান)
(বিষয়: বিবর্তন জীববিজ্ঞান, বিজ্ঞানের দর্শন)
# ধর্মের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস
(মূল: রিচার্ড হলোওয়ে, অনুবাদ: কাজী মাহবুব হাসান)
(বিষয়: ইতিহাস ও দর্শন)
# অর্থনীতির সংক্ষিপ্ত ইতিহাস
(মূল: নাইল কিশটাইনি, অনুবাদ: কাজী মাহবুব হাসান)
(বিষয়: ইতিহাস ও দর্শন)
****************************************
প্রকাশনী : দিব্য প্রকাশ
স্টল নাম্বার ৬৭৮-৬৮১
সংগ্রহ করতে চাইলে যোগাযোগ করুন–
সোহরাব (০১৭১১৯৫২৮১০) অথবা সাজু (০১৭১১০৩৩১৯৩)।

85144698_10159342521883136_2827849872625893376_n

অগ্রদূত অ্যান্ড প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত একটি অনুবাদ

# দ্য ম্যাজিক অব রিয়েলিটি
(মূল: রিচার্ড ডকিন্স, অনুবাদ: কাজী মাহবুব হাসান)
(বিষয়: বিজ্ঞানের দর্শন, বিজ্ঞান)

87499388_485420522336128_6052967800471814144_n

 

প্রকাশিত কিছু বই

আজিমভ: যুক্তি আর আশাবাদে ভবিষ্যতের সমীকরণ

isaac-asimov
“Your assumptions are your windows on the world. Scrub them off every once in a while, or the light won’t come in.” – Isaac Asimov

(লেখাটির একটি সম্পাদিত রুপ বণিক বার্তার সাপ্তাহিক প্রকাশনা সিল্করুটের ‘আইজাক আজিমভের ১০০’ সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছিল)

আসিমভ নয়, আজিমভ। আজিমভ পরিবার ১৯২৩ সালে যখন সোভিয়েত রাশিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্রে এসেছিল, তাদের পদবী ইংরেজী হরফে লিখতে গিয়ে আইজাকের পিতা জুডা আজিমভ ‘এস’ ব্যব্হার করেছিলেন এই বিশ্বাসে যে, এই ‘এস’টির উচ্চারণ জার্মান ‘এস’ অর্থাৎ ‘জি’ এর মতই হবে। বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনির স্বর্ণযুগের ‘বিগ থ্রি’ লেখকদের একজন আইজাক আজিমভ, তার কাহিনিতে বৈজ্ঞানিক তথ্যের নির্ভুলতা আর যুক্তিকে (‘হার্ড’ সায়েন্স ফিকশন) মূলত গুরুত্ব দিয়েছিলেন। প্রথম স্ত্রী গারট্রুড একবার আজিমভকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, ‘জীবনের শেষে কি বলবে, যদি তুমি একশ বই লেখো আর জীবনকে উপভোগ করতেই ব্যর্থ হও’? ‘শুধুমাত্র একশটি?’, তিনি উত্তর দিয়েছিলেন। ১৯৬৯ সালে প্রকাশিত ‘ওপাস ১০০’ – তার শততম বইটিতে তিনি এই ঘটনাটির কথা লিখেছিলেন। জীবদ্দশায় তিনি পাঁচ শতাধিক বই লিখেছিলেন অথবা সম্পাদনা করেছিলেন।

Continue reading “আজিমভ: যুক্তি আর আশাবাদে ভবিষ্যতের সমীকরণ”

আজিমভ: যুক্তি আর আশাবাদে ভবিষ্যতের সমীকরণ

দ্য সেলফিশ জিন ইবুক

বিল হ্যামিলটন, জন মেনার্ড স্মিথ, রোনাল্ড ফিশার, রবার্ট ট্রিভার্স, জর্জ কার্লোস উইলিয়ামস এবং নিজের ধারণাগুলোর অসাধারণ একটি সংশ্লেষণ করে রিচার্ড ডকিন্স তার দ্য সেলফিশ জিন বইটি লিখেছিলেন ১৯৭৬ সালে। বইটির জিন-কেন্দ্রিক বিবর্তনের ধারণাটি অবশেষে প্রাকৃতিক নির্বাচনের কাজ করার একক হিসাবে জিনের ভূমিকাটিকে প্রতিষ্ঠা করেছিল। এবং একই সাথে এটি ব্যাখ্যা করেছিল কেন এই স্বার্থপর জিনই পারস্পরিক পরার্থবাদিতাকে ব্যাখ্যা করতে পারে। ২০১৭ সালে রয়্যাল সোসাইটি এটিকে সর্বকালের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিজ্ঞানের একটি বই হিসাবে চিহ্নিত করেছে। চার দশক পরে অবশেষে বইটির পূর্ণাঙ্গ বাংলা অনুবাদ প্রকাশ (যদিও ইবুক আকারে) করা সম্ভব হলো। ২০১৬ সালে প্রকাশিত ‘৪০ তম প্রকাশনা বার্ষিকী’ সংস্করণ অনুসরণ করে এটি অনুবাদ করা হয়েছে। এখানে যুক্ত হয়েছে একটি বাড়তি এপিলোগ ছাড়াও অসংখ্য টীকা। এটি অনুবাদ করেছেন কাজী মাহবুব হাসান। বইটি ইবুক আকারে প্রকাশ করেছে Sheiboi । দেশ ও দেশের বাইরে যে কেউই বইটি নাম মাত্র একটি মূল্যে সংগ্রহ করতে পারবেন সেইবুক অ্যাপ ব্যবহার করে। সুপ্রজ্ঞা অনুবাদ উদ্যোগকে এভাবে আরো গুরুত্বপূর্ণ কালজয়ী বিজ্ঞানের বই অনুবাদ করতে সহায়তা করুন। (সুপ্রজ্ঞা অনুবাদ উদ্যোগ)

#দ্য_সেলফিশ_জিন #বিবর্তন #রিচার্ড_ডকিন্স #অনুবাদ #বিজ্ঞান #কাজী_মাহবুব_হাসান

রিচার্ড ডকিন্স : দ্য সেলফিশ জিন
অনুবাদ: কাজী মাহবুব হাসান
ইবুক প্রকাশক: সেই বই
সুপ্রজ্ঞা অনুবাদ উদ্যোগ

https://sheiboi.com/Book/BookDetails?bookId=2804

91298737_3609181449155962_1021014361637912576_n
দ্য সেলফিশ জিন ইবুক

প্রকাশিত কিছু অনুবাদ

ইবুক হিসাবে Sheiboi অ্যাপে এখন পাওয়া যাচ্ছে বিজ্ঞানের দর্শন, ইতিহাস আর বিবর্তন নিয়ে চারটি গুরুত্বপূর্ণ বইয়ের অনুবাদ:

রিচার্ড ডকিন্স:
দ্য সেলফিশ জিন
দ্য গড ডিল্যুশন
দ্য ম্যাজিক অব রিয়েলিটি (বাস্তবতার জাদু)

জেরি কয়েন:
হোয়াই ইভোল্যুশন ইজ ট্রু ( বিবর্তন কেন সত্য)

অনুবাদ: কাজী মাহবুব হাসান

#দ্য_সেলফিশ_জিন #বিবর্তন #রিচার্ড_ডকিন্স #অনুবাদ #বিজ্ঞান #দ্য_গড_ডিল্যুশন #দ্য_ম্যাজিক_অব_রিয়েলিটি #জেরি_কয়েন #বিজ্ঞান_দর্শন #বিজ্ঞান_ইতিহাস #কাজী_মাহবুব_হাসান

সেইবই অ্যাপ থেকে ডাউনলোড করতে সেইবই অ্যাপ এ লগ ইন করুন, এরপর অ্যাপ এর “Recent release” ট্যাব অথবা “Book store” ট্যাবে গিয়ে ডাউনলোড করুন।

*সেইবই অ্যাপটির ডাউনলোড লিংক:

গুগল প্লে স্টোর – https://play.google.com/store/apps/details?id=raven.reader

অ্যাপল অ্যাপ স্টোর https://itunes.apple.com/us/app/sheiboi/id976937372?mt=8

 

52532773_2490295164377935_5147229459115409408_o
প্রকাশিত কিছু অনুবাদ

ইয়োহানেস ভারমিয়ের: নিরাভিমান সৌন্দর্য দেখার চোখ..

( গ্রেট থিংকার্স সিরিজ থেকে পরীক্ষামূলকভাবে: আসমা সুলতানা ও কাজী মাহবুব হাসান)

girl-with-a-pearl-earring-5(Girl with a Pearl Earring c. 1665)

মিথ্যা গ্ল্যামার বা চাকচিক্যপূর্ণ মোহিনী সৌন্দর্যে সম্পৃক্ত একটি পৃথিবীতে আমরা বাস করি। বাস্তবিকভাবে, সমস্যাটির মূল কিন্তু গ্ল্যামারে নয়, বরং সেই সব বিষয়গুলোতে, যেগুলোকে গ্ল্যামারাস বলে বিবেচনা করবো বলে আমরা সামষ্টিকভাবে ঐক্যমতে পৌছেছি। অবশ্যই  এই গ্ল্যামারের পুরো ধারণাটিকে আমাদের জীবন থেকে নিশ্চিহ্ন করার মধ্যে কোনো অগ্রগতি হবে না। এর পরিবর্তে বরং আমাদের যা করা প্রয়োজন সেটি হচ্ছে আমাদের প্রশংসা আর উত্তজেনাগুলো আরো প্রজ্ঞার সাথে সেই সব জিনিসগুলোর প্রতি নির্দেশিত করা, যেগুলো আসলেই মর্যাদা পাবার যোগ্যতা রাখে।

শিল্পীরা মৌলিক যে কাজটি আমাদের জন্যে করতে পারেন, সেটি হচ্ছে এই গ্ল্যামারের স্পটলাইটি সবচেয়ে সেরা, – ও সবচেয়ে সহায়ক দিকে – ঘুরিয়ে দিতে পারেন। তারা সেই জিনিসগুলো শনাক্ত করতে পারেন, আমাদের যা উপেক্ষা করার প্রবণতা আছে, কিন্তু আদর্শিকভাবেই আমাদের যা অনেক বেশী গুরুত্ব দেয়া উচিৎ। এবং যে পেলবতা, সৌন্দর্য আর প্রজ্ঞার সাহায্যে তারা সেইসব জিনিসগুলো আঁকেন, আমরাও সেই জিনিসগুলোর সত্যিকার মূল্য অনুধাবন করতে শিখি।

Continue reading “ইয়োহানেস ভারমিয়ের: নিরাভিমান সৌন্দর্য দেখার চোখ..”

ইয়োহানেস ভারমিয়ের: নিরাভিমান সৌন্দর্য দেখার চোখ..