র‍্যাচেল কার্সন – নীরব বসন্তের পাখি

Rachel Carson/photo: Irving Penn

”But man is a part of nature, and his war against nature is inevitably a war against himself”. ~ Rachel Carson

প্রকৃতির যত্ন নেয়া ও রক্ষণাবেক্ষণ করার বিষয়টির মধ্যে খুব বেশী প্রাকৃতিক কিছু নেই। সাধারণভাবে আমাদের স্বীকৃত তাড়নাটি হচ্ছে প্রকৃতিক জগতকে জয় ও বশীভূত করা: বনভূমির গাছ কেটে পরিষ্কার করা, প্রাণিদের শিকার করা, জলাভূমির পানি সেচ করে বের করে দেয়া, পৃথিবীর গভীরে যা কিছু খনিজ আছে সেগুলো বের করে আনা। বেশ দীর্ঘ একটি সময় ধরেই এই প্রবণতাকে বীরোচিত ও ঝুঁকিহীন একটি কর্মযজ্ঞ হিসাবেই দেখা হয়েছে, যার কিনা কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই – মানুষের এই প্রচেষ্টাগুলো খুব সামান্য মাত্রার যদি আপাতদৃষ্টিতে পৃথিবীর সীমাহীন প্রাচুর্যের সাথে তুলনা করা হয়। শুধুমাত্র খুব সাম্প্রতিক সময়েই আমরা অনুধাবন করতে সক্ষম হয়েছি – সমষ্ঠিগতভাবে – এর বেশ কিছু সম্পদকে নিঃশেষ করে দেবার মাধ্যমে আমরা আসলেই গ্রহটির ক্ষতি করছি । আমরা প্রকৃতির প্রতি ভিন্ন ধরনের অনুভূতি আর উদ্বেগ অনুভব করতে শিখেছি যখন সেই আবেগগুলোকে সঠিক পথ দেখানোর মত কেউ একজন আমাদের কাছেই ছিলেন : প্রজাপতির সৌন্দর্য আর জটিলতা, সমুদ্রের অসাধারণ শক্তি আর বিশুদ্ধতা, একটি ওক গাছের অর্থনীতি আর এর লাবণ্যের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে…।

পৃথিবীর সবচেয়ে সবচেয়ে বেশী বিধ্বংসী আর দূষণকারী দেশে একটি প্রজন্মের জন্যে সেই মানুষটি ছিলেন, র‍্যাচেল কার্সন। একজন বিজ্ঞানী এবং লেখক। প্রায় এককভাবেই, কার্সন তার দেশবাসীকে শিখিয়েছিলেন কিভাবে প্রকৃতিকে সন্মান করতে হয়, এবং তিনি তাদের বুঝতে সাহায্য করেছিলেন যে তারা অতীতের অন্য যে-কোনো সভ্যতার চেয়ে আরো অনেক বেশি দ্রুত গতিতে প্রকৃতিকে ধ্বংস করার প্রক্রিয়ায় আছেন, এবং তিনি তাদের সতর্ক করেছিলেন যে, যতটা দ্রুত সম্ভব, তারা যদি তাদের এই উদ্ধত নির্বিকার আচরণ পরির্ব্তন না করেন তাহলে তারা ভয়ঙ্কর বিপদে পড়বেন।
প্রথম দৃষ্টিতে কার্সনের কাজ দেখলে মনে হতে পারে খুব সাধারণ এবং কৃষিকাজের নতুন একটি পদ্ধতির বিপজ্জনক ঝুঁকিগুলো সংক্রান্ত জরুরী একটি সতর্ক সংকেত (বিশেষ করে বিষাক্ত রাসায়নিক পদার্থ সংক্রান্ত), কিন্তু তার লেখা প্রাকৃতিক ও পরিবেশগত বিপর্যয়ের আশঙ্কা নিয়ে শুষ্ক বাদানুবাদ আর তর্ক-বিতর্কের চেয়েও আরো অনেক বেশী কিছু ছিল।

কার্সন বুঝতে পেরেছিলেন – তার আগে ও পরের খুব অল্প কিছু পরিবেশ-বিশেষজ্ঞের মত – গণতান্ত্রিক ভোক্তা সমাজে কোনো প্রস্তাবনাগুলো দিয়ে কোনো গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব রাখতে হলে, তাকে তার দর্শকদের প্রথমে মুগ্ধ করতে হবে, তাদের শেখাতে হবে কিভাবে প্রকৃতিকে ভালোবাসতে হয়। তাদের ভোগবাদীতা আর লোভ পৃথিবীর কি ক্ষতি করছে, সেটি দেখিয়ে তাদের মধ্যে অপরাধবোধের জন্ম দেয়াই যথেষ্ট নয়, তাদের জীবনযাত্রায় কোনো পরিবর্তন আনার প্রক্রিয়ায় সফল হবার কোনো সুযোগ সৃষ্টি করতে হলে প্রথমেই তাকে যা করতে হবে, সেটি হলো তাদের মনে সমুদ্র, বনভূমি ও প্রেইরীর প্রতি ভালোবাসা সৃষ্টি করতে হবে। তার জীবনের প্রায় শেষের দিকে, কার্সন শিশুদের উদ্দেশ্য করেই প্রকৃতির নানা আলোকচিত্র ও অলঙ্করণসহ একটি বই লিখেছিলেন, বইটির নাম তিনি দিয়েছিলেন The Sense of Wonder এবং চেষ্টা করেছিলেন তাদের বাবা-মাদের পথ দেখাতে কিভাবে খুব অল্প বয়স থেকেই শিশুদের পৃথিবী ও এর বিস্ময়কর সৃষ্টিসম্ভারের কাছাকাছি নিয়ে যেতে হয়:

Continue reading “র‍্যাচেল কার্সন – নীরব বসন্তের পাখি”
র‍্যাচেল কার্সন – নীরব বসন্তের পাখি