স্টয়িসিজমের সহজ পাঠ

স্টয়িসিজম, বলা হয় বাস্তবতায় যারা জীবন কাটাতে চান তাদের জন্যে দর্শনের একই শাখাটি সৃষ্টি করা হয়েছে। খ্রিষ্টপূর্ব তৃতীয় শতকে জিনো অব কিটিয়াম ( বর্তমান সাইপ্রাসের লারনাকা) স্টয়িসিজম দর্শনের ধারণাগুলোর সূচনা করেছিলেন। কিন্তু এর তিনজন বিখ্যাত অনুশীলনকারীর জন্যে এই দর্শনটি মূলত পরিচিত, এপিকটিটাস, সেনেকা এবং মার্কাস অরেলিয়াস। দর্শনটি দাবী করে যে ভার্চু বা সদগুণ (যেমন, প্রাজ্ঞতা) হচ্ছে সুখ এবং কথা নয় কাজ বা আচরণ সুবিবেচনার ভিত্তি হওয়া উচিত, বাহ্যিক কোনো ঘটনা আমরা নিয়ন্ত্রণ করতে পারি না, শুধুমাত্র সেই ঘটনার প্রতি প্রতিক্রিয়া আর আমাদের নিজেদের উপরে নিয়ন্ত্রণ আছে। দর্শনটির খুব অল্প কিছু কেন্দ্রীয় বার্তা ছিল। এটি চেষ্টা করে আমাদের স্মরণ করিয়ে দিতে ঠিক কতটা অনিশ্চিৎ এই জগতটি হতে পারে। আমাদের জীবনের এই মুহূর্ত কত সংক্ষিপ্ত হতে পারে। কিভাবে আমরা নিজেদের উপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে দৃঢ়, অবিচলিত ও শক্তিশালী হতে পারি। এবং পরিশেষে, যুক্তি নয়, বরং সচেতন চিন্তা ছাড়াই ইচ্ছানিরপেক্ষ ইন্দ্রিয়ের উপর আবেগতাড়িত নির্ভরশীলতাই আমাদের সব অসন্তুষ্টির উৎস।

পৃথিবী সম্বন্ধে জটিল কোনো তত্ত্ব দিতে ব্যস্ত নয় এই দর্শন, বরং এটি আমাদের সহায়তা করতে চায় কিভাবে আমরা ক্ষতিকর আবেগগুলো থেকে নিজেদের মূক্ত করতে পারি, আর আসলেই যে কাজটি করা যায় সেই কাজটি যেন করতে পারি। এটি অন্তহীন বিতর্ক নয় বরং কাজের উপর প্রতিষ্ঠিত। দর্শনটির তিনজন অগ্রদূত ছিলেন। মার্কাস অরেলিয়াস, রোম সম্রাট ছিলেন তিনি, তার সময়ে পৃথিবী সবচেয়ে ক্ষমতাধর একজন ব্যক্তি, যিনি প্রায় সারাটি জীবন সাম্রাজ্যের সীমান্তে যুদ্ধ করেছিলেন রোম কেন্দ্রিক সভ্যতাকে টিকিয়ে রাখতে, এবং তারপরও প্রতিদিন তিনি নিজের জন্যে ডায়েরী লিখেছেন, সংযম, সহমর্মিতা আর মানবতা ইত্যাদি নানা বিষয়ে। যা ছিল তার ধ্যান বা মেডিটেশন। এপিকটিটাস ছিলেন ক্রীতদাস, দাসত্বের ভয়াবহ অভিজ্ঞতা তার হয়েছিল, এবং তিনি তার নিজের একটি শিক্ষাকেন্দ্র খুলেছিলেন, যেখানে রোমের অনেক সেরা মন শিক্ষিত হয়েছিল এই দর্শনে। আর সেনেকা, প্রচুর চিঠিতে তিনি তার জীবনের দর্শন লিখে গেছেন, পরবর্তীতে রোম সম্রাট নিরোর নির্দেশে তাকে আত্মহত্যা করতে হয়েছিল।

কিন্তু এই পরিচিত তিনজন ছাড়াও এই দর্শন অনুশীলন করেছেন বহু রাজা, প্রেসিডেন্ট, শিল্পী, লেখক আর উদ্যোক্তারাও। বহু ঐতিহাসিক আর আধুনিক মানুষই তাদের জীবন দিয়ে প্রদর্শন করেছেন স্টয়িসিজম দর্শন কিভাবে জীবনে বাঁচার একটি উপায় হতে পারে। প্রাশিয়ার রাজা ফ্রেডেরিখ দ্য গ্রেট তার ঘোড়ার স্যাডেল-ব্যাগের মধ্যে এই দর্শনের বই রাখতেন, কারণ তিনি মনে করতেন, বিপদে এই বইগুলো তাকে বিভ্রান্ত হওয়া থেকে সুরক্ষা করবে। মনতাইন, রাজনীতিবিদ ও প্রাবন্ধিক দার্শনিক, সারাক্ষণ যেন দেখা যায় এভাবে তার চোখের সামনে এপিকটিটাসের একটি বাক্য খোদাই করে রেখেছিলেন। সতেরো বছরের জর্জ ওয়াশিংটনকে এই দর্শন সম্বন্ধে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন তার এক প্রতিবেশী, পরে ভ্যালি ফর্জে সেই ভয়ঙ্কর শীতে তিনি কাটোকে নিয়ে একটি নাটক পরিচালনা করেছিলেন তার সৈন্যদের অনুপ্রাণিত করতে। মারা যাবার সময় টমাস জেফারসনের বিছানার পাশেই ছিল সেনেকার একটি বই। অর্থনীতিবিদ অ্যাডাম স্মিথের বিশ্বের পারস্পরিক-নির্ভরশীল সংযোগ সংক্রান্ত তত্ত্বকে বিশেষভাবে অনুপ্রাণিত করেছিল এই দর্শন – যা তার এক স্কুল শিক্ষক তাকে পরিচয় করিয়েছিলেন, তার সেই শিক্ষকটি মার্কাস অরিলিয়াসের লেখা অনুবাদ করেছিলেন। রাজনৈতিক চিন্তাবিদ, জন স্টুয়ার্ট মিল, মার্কাস অরিলিয়াস আর স্টয়িসিজমের কথা উল্লেখ করেছিলেন তার ‘অন লিবার্টি’ বইটিতে, বলেছিলেন – প্রাচীন মনের এটি সর্বোচ্চ নৈতিক সৃষ্টি।

অন্য অনেক দর্শন ভাবনা থেকে স্টয়িসিজম ভিন্ন একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থে: এর উদ্দেশ্য হচ্ছে প্রায়োগিক, দৈনন্দিন দিনে যা ব্যবহার করা যাবে। এটি শুধুমাত্র বুদ্ধিবৃত্তিক অনুশীলন নয়। এটি একটি উপকরণ যা আমরা ব্যবহার করতে পারি আমাদের দক্ষতাকে আরো শাণিত করতে, যেন আমরা আরো উত্তম মানুষে পরিণত হই। এটি একটি জীবন দর্শন, দর্শনের ধারণাপুষ্ট একটি জীবনের প্রস্তুতি, যেখানে মনে সঠিক অবস্থা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই দর্শনের অনুসারীরা কিছু অনুশীলন করেন, আধ্যাত্মিক অনুশীলন, সেখান থেকে তারা মানসিক শক্তি সংগ্রহ করেন। এই অনুশীলনের একটি হচ্ছে স্টয়িক মেডিটেশন।

যেমন :

স্টয়িক মেডিটেশন ১ : নিয়ন্ত্রণ ও নির্বাচন

Continue reading “স্টয়িসিজমের সহজ পাঠ”
স্টয়িসিজমের সহজ পাঠ

র‍্যাচেল কার্সন – নীরব বসন্তের পাখি

”But man is a part of nature, and his war against nature is inevitably a war against himself”. ~ Rachel Carson

প্রকৃতির যত্ন নেয়া ও রক্ষণাবেক্ষণ করার বিষয়টির মধ্যে খুব বেশী প্রাকৃতিক কিছু নেই। সাধারণভাবে আমাদের স্বীকৃত তাড়নাটি হচ্ছে প্রকৃতিক জগতকে জয় ও বশীভূত করা: বনভূমির গাছ কেটে পরিষ্কার করা, প্রাণিদের শিকার করা, জলাভূমির পানি সেচ করে বের করে দেয়া, পৃথিবীর গভীরে যা কিছু খনিজ আছে সেগুলো বের করে আনা। বেশ দীর্ঘ একটি সময় ধরেই এই প্রবণতাকে বীরোচিত ও ঝুঁকিহীন একটি কর্মযজ্ঞ হিসাবেই দেখা হয়েছে, যার কিনা কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই – মানুষের এই প্রচেষ্টাগুলো খুব সামান্য মাত্রার যদি আপাতদৃষ্টিতে পৃথিবীর সীমাহীন প্রাচুর্যের সাথে তুলনা করা হয়। শুধুমাত্র খুব সাম্প্রতিক সময়েই আমরা অনুধাবন করতে সক্ষম হয়েছি – সমষ্ঠিগতভাবে – এর বেশ কিছু সম্পদকে নিঃশেষ করে দেবার মাধ্যমে আমরা আসলেই গ্রহটির ক্ষতি করছি । আমরা প্রকৃতির প্রতি ভিন্ন ধরনের অনুভূতি আর উদ্বেগ অনুভব করতে শিখেছি যখন সেই আবেগগুলোকে সঠিক পথ দেখানোর মত কেউ একজন আমাদের কাছেই ছিলেন : প্রজাপতির সৌন্দর্য আর জটিলতা, সমুদ্রের অসাধারণ শক্তি আর বিশুদ্ধতা, একটি ওক গাছের অর্থনীতি আর এর লাবণ্যের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে…।

পৃথিবীর সবচেয়ে সবচেয়ে বেশী বিধ্বংসী আর দূষণকারী দেশে একটি প্রজন্মের জন্যে সেই মানুষটি ছিলেন, র‍্যাচেল কার্সন। একজন বিজ্ঞানী এবং লেখক। প্রায় এককভাবেই, কার্সন তার দেশবাসীকে শিখিয়েছিলেন কিভাবে প্রকৃতিকে সন্মান করতে হয়, এবং তিনি তাদের বুঝতে সাহায্য করেছিলেন যে তারা অতীতের অন্য যে-কোনো সভ্যতার চেয়ে আরো অনেক বেশি দ্রুত গতিতে প্রকৃতিকে ধ্বংস করার প্রক্রিয়ায় আছেন, এবং তিনি তাদের সতর্ক করেছিলেন যে, যতটা দ্রুত সম্ভব, তারা যদি তাদের এই উদ্ধত নির্বিকার আচরণ পরির্ব্তন না করেন তাহলে তারা ভয়ঙ্কর বিপদে পড়বেন।
প্রথম দৃষ্টিতে কার্সনের কাজ দেখলে মনে হতে পারে খুব সাধারণ এবং কৃষিকাজের নতুন একটি পদ্ধতির বিপজ্জনক ঝুঁকিগুলো সংক্রান্ত জরুরী একটি সতর্ক সংকেত (বিশেষ করে বিষাক্ত রাসায়নিক পদার্থ সংক্রান্ত), কিন্তু তার লেখা প্রাকৃতিক ও পরিবেশগত বিপর্যয়ের আশঙ্কা নিয়ে শুষ্ক বাদানুবাদ আর তর্ক-বিতর্কের চেয়েও আরো অনেক বেশী কিছু ছিল।

কার্সন বুঝতে পেরেছিলেন – তার আগে ও পরের খুব অল্প কিছু পরিবেশ-বিশেষজ্ঞের মত – গণতান্ত্রিক ভোক্তা সমাজে কোনো প্রস্তাবনাগুলো দিয়ে কোনো গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব রাখতে হলে, তাকে তার দর্শকদের প্রথমে মুগ্ধ করতে হবে, তাদের শেখাতে হবে কিভাবে প্রকৃতিকে ভালোবাসতে হয়। তাদের ভোগবাদীতা আর লোভ পৃথিবীর কি ক্ষতি করছে, সেটি দেখিয়ে তাদের মধ্যে অপরাধবোধের জন্ম দেয়াই যথেষ্ট নয়, তাদের জীবনযাত্রায় কোনো পরিবর্তন আনার প্রক্রিয়ায় সফল হবার কোনো সুযোগ সৃষ্টি করতে হলে প্রথমেই তাকে যা করতে হবে, সেটি হলো তাদের মনে সমুদ্র, বনভূমি ও প্রেইরীর প্রতি ভালোবাসা সৃষ্টি করতে হবে। তার জীবনের প্রায় শেষের দিকে, কার্সন শিশুদের উদ্দেশ্য করেই প্রকৃতির নানা আলোকচিত্র ও অলঙ্করণসহ একটি বই লিখেছিলেন, বইটির নাম তিনি দিয়েছিলেন The Sense of Wonder এবং চেষ্টা করেছিলেন তাদের বাবা-মাদের পথ দেখাতে কিভাবে খুব অল্প বয়স থেকেই শিশুদের পৃথিবী ও এর বিস্ময়কর সৃষ্টিসম্ভারের কাছাকাছি নিয়ে যেতে হয়:

Continue reading “র‍্যাচেল কার্সন – নীরব বসন্তের পাখি”
র‍্যাচেল কার্সন – নীরব বসন্তের পাখি

রিচার্ড ডকিন্সের দ্য সেলফিশ জিন

দ্য সেলফিশ জিন

মূল: রিচার্ড ডকিন্স
অনুবাদ: কাজী মাহবুব হাসান

প্রকাশনা: উড়াল বুকস/ অগ্রদূত অ্যান্ড কোম্পানী

এপ্রিল ২০২১

www.rokomari.com/book/212653/the-selfish-gene

‘এই বইটিকে প্রায় এমনভাবে পড়া উচিত হবে যেন এটি কোনো বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনি। আমাদের কল্পনার প্রতি আবেদন সৃষ্টি করবে, এমনভাবেই বইটি পরিকল্পিত। কিন্তু এটি বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনি নয়, এটি বিজ্ঞান। বহু ব্যবহৃত কোনো শব্দ হোক বা না-হোক, ‘গল্পের চেয়েও বিস্ময়কর’শব্দটি সঠিকভাবেই প্রকাশ করে সত্য সম্বন্ধে আমি ঠিক কী অনুভব করি। আমরা হচ্ছি টিকে থাকার বা সারভাইভাল মেশিন—রোবোট বাহন, জিন নামে পরিচিত স্বার্থপর অণুটিকে সংরক্ষিত করার নির্দেশ অন্ধভাবেই অনুসরণ করতে যা প্রোগ্রাম করা আছে। যে সত্যটা আজও আমাকে বিস্ময়ে আপ্লুত করে। যদিও আমি বহু বছর ধরে এই সত্যটা জানি, কিন্তু কখনোই ধারণাটির সাথে পুরোপুরি অভ্যস্ত হতে পারিনি। আমার আশা, হয়তো অন্যদেরকেও বিস্মিত করার ক্ষেত্রে আমি কিছুটা সফল হব ।

ছবি কৃতজ্ঞতা: Rafee Shams

ছবি কৃতজ্ঞতা: Abdur Rahim

রিচার্ড ডকিন্সের দ্য সেলফিশ জিন

ডা. সমার এবং ভিটামিন এ

ডা. আলফ্রেড সমার আবিষ্কার করেছিলেন শরীরে ‘এ’ ভিটামিনের ঘাটতি শিশুদের মৃত্যু ও তাদের অসুস্থতার হার বৃদ্ধিতে নাটকীয় একটি প্রভাব রাখতে পারে। সমার তার গবেষণায় দেখিয়েছিলেন যদি শিশুদের, বিশেষ করে যারা উন্নয়নশীল দেশগুলোয় বাস করে, তাদের যদি বছরে দুইবার ভিটামিন ‘এ’ খাওয়ানো যায় তাহলে শিশু মৃত্যু এবং অন্ধত্বের হার ব্যাপকভাবেই কমানো যেতে পারে ( প্রায় ৩৪ শতাংশ)। ধারণা করা হয় সমারের এই আবিষ্কার এবং চিকিৎসা প্রায় ১২ মিলিয়ন শিশুকে অসময়ে মৃত্যুর হার থেকে বাঁচিয়েছে এবং এটি এখনও প্রতি বছরই বহু লক্ষ জীবন বাঁচানো অব্যাহত রেখেছে।


১৯৪২ সালের ২ অক্টোবর আলফ্রেড সমার নিউ ইয়র্কে জন্মগ্রহন করেছিলেন। ১৯৬৭ সালে হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুল থেকে তিনি চিকিৎসা বিজ্ঞানে স্নাতক হয়েছিলেন। ডাক্তারী পাশ করার পর দুই বছরের ইন্টার্নশীপ শেষে ১৯৬৯ সালে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোলের এপিডেমিক ইন্টেলিজেন্স সার্ভিসে যোগ দেন এবং কলেরা রিসার্চ ল্যাবরেটরীতে (তখন পূর্ব পাকিস্তান, বর্তমানে এটি আইসিডিআরবি) যোগ দিতে ঢাকায় এসেছিলেন। তার প্রথম রোগতাত্ত্বিক অনুসন্ধান ছিল ১৯৭০ সালের বাংলাদেশের সেই ভয়াবহ সাইক্লোন, যা সিকি মিলিয়ন মানুষকে এক রাতেই ভাসিয়ে নিয়ে গিয়েছিল। তিনি আমাদের স্বাধীনতারও মিত্র ছিলেন, ২০১৩ সালে তাকে Friends of Liberation War Honour প্রদান করেছিল বাংলাদেশ সরকার।


১৯৭২ সালে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে এসেছিলেন, রোগতত্ত্ব ছাড়াও তিনি চক্ষু বিশেষজ্ঞ হবার প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ শেষ করেন জন হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। এরপর ১৯৭৬ সালে জন হপকিন্সের উইলমার আই ইন্সস্টিটিউটে কাজ শুরু করেন। এখানে থাকতেই তিনি ভিটামিন ‘এ’ অভাবের কারণ এবং এর অভাবজনিত প্রভাবগুলো নিয়ে গবেষণা শুরু করেন।


১৯৭৬ সালে বিষয়টি আরো গভীরভাবে আর কাছ থেকে অনুসন্ধান করতে তিনি বাল্টিমোর থেকে ইন্দোনেশিয়ায় আসেন, ইন্দোনেশিয়ার পাডজাডজারান বিশ্ববিদ্যালয়ে চক্ষুরোগের অধ্যাপক হিসাবে কাজ করতে শুরু করেন। তার সহকর্মীরা তাকে সবাই বাল্টিমোর থেকে ইন্দোনেশিয়া যেতে নিষেধ করেছিলেন কারণ এমন কিছু তার পেশাগত জীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। তবে তিনি তাদের উপদেশ অগ্রাহ্য করেছিলেন। মানবতার জন্যে এই মুহূর্তটি ছিল খুব সৌভাগ্যের। এখানেই খুব শীঘ্রই তিনি আবিষ্কার করেন যে ভিটামিন ‘এ’ শিশুদের মধ্যে প্রতিষেধযোগ্য অন্ধত্বের প্রধান কারণ। এছাড়াও তিনি আবিষ্কার করেন যে ভিটামিন এ’র অভাব শিশু মৃত্যুর হার নাটকীয়ভাবে বাড়িয়ে দিতে পারে সংক্রামক ব্যধির বিরুদ্ধে শিশুদের রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দেবার মাধ্যমে। আর এই আবিষ্কারগুলোর পর তিনি বুঝতে পেরেছিলেন খুব সস্তায় এবং কার্যকরভাবে এই ভিটামিনটির ঘাটতি পূরণ সম্ভব হতে পারে বছরে দুইবার উচ্চমাত্রায় ভিটামিন ‘এ’ সাপ্লিমেন্ট মুখে খাওয়ানোর মাধ্যমে।

Continue reading “ডা. সমার এবং ভিটামিন এ”
ডা. সমার এবং ভিটামিন এ

উপসর্গ ছাড়াই SARS-CoV-2 সংক্রমণ ও বিস্তার

//উপসর্গ ছাড়াই SARS-CoV-2 সংক্রমণ ও বিস্তার:
উপসর্গহীন বিস্তার নীরবে এই ভাইরাসটি সংক্রমণ পরিচালনা করছে এবং অতিমারি থামাতে এটি শনাক্ত করা গুরুত্বপূর্ণ//


সিভিয়ার অ্যাকিউট রেসপিরেটরি সিনড্রোম করোনাভাইরাস ২ (SARS-CoV-2) বা কোভিড-১৯ (COVID-19) ভাইরাসটির সম্ভাব্য বেশ দীর্ঘ একটি সুপ্তাবস্থা বা ইনকিউবেশন পিরিয়ড আছে এবং সুযোগসন্ধানী সংক্রমণ হিসাবে এটি সেই মানুষগুলোর মধ্যে বিস্তার লাভ করে, যারা নিজেরাও জানেন না যে তারা সংক্রমিত হয়েছেন। উপসর্গহীন (অ্যাসিম্পটোমেটিক) কোভিড-১৯ আক্রান্তরা হচ্ছে তারা, যারা সংক্রমণ থাকাকালীন পর্বটিতে কোনো ধরনের উপসর্গ প্রদর্শন করেন না, অন্যদিকে প্রাকউপসর্গ (প্রিসিম্পটোমেটিক) প্রদর্শনকারী আক্রান্তরা সংক্রমণের শেষ পর্যায়ে উপসর্গ প্রদর্শন করেন – উভয় ধরনের আক্রান্তরাই এই সংক্রমণটি বিস্তারের গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি (১)। উপসর্গ ছাড়া সংক্রমণের বিস্তার বিশেষ ধরনের কিছু চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করে – যেমন একজন আক্রান্ত ব্যক্তি ঠিক কতদিন অবধি সংক্রমণটি ছড়াতে পারেন, অর্থাৎ তিনি ঠিক কখন থেকে সংক্রামক এবং কখন সংক্রামক নন, এবং সম্ভাব্য কতজনের মধ্য তিনি সংক্রমণটি বিস্তার করতে পারেন। এই অতিমারীর শুরুর দিকে অধিকাংশ সংক্রমণের কারণ ছিল সেই সব আক্রান্ত ব্যক্তিরা যাদের শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি, যা ইঙ্গিত করে সংক্রমণটির বিস্তারটি পরিচালিত করেছিল সেই সব আক্রান্তরা, যারা হয় উপসর্গহীন ছিলেন অথবা এতটাই মৃদু উপসর্গ প্রদর্শন করেছিলেন যে, এটিকে কোভিড-১৯ হিসাবে শনাক্ত করা হয়নি (২)। সংক্রমণ ছড়াতে সক্ষম এমন মানুষগুলো, যাদের কিনা পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব এমন কোনো উপসর্গ নেই, তারা এই সংক্রমণটি প্রতিরোধ করার প্রচেষ্টাকে দূর্বল করে দেয় প্রস্তাবিত বিধি নিষেধগুলো মেনে নেবার প্রবণতার ক্ষেত্রে শিথিলতা প্রদর্শন করার মাধ্যমে, যেমন মাস্ক পরা, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা, হাতের পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা, উপসর্গ আছে কিনা সেই সংক্রান্ত স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া অনুসরণ করা, এবং যখন সম্ভব ঘরে থাকা আবশ্যিকতা মানা। উপসর্গহীন আক্রান্তদের মধ্যে রোগ শনাক্ত করার পরীক্ষাগুলো পরিচালনা করার ক্ষেত্রে ব্যাপকমাত্রায় সীমিত উদ্যোগ কোভিড-১৯ মোকাবেলা এবং নিয়ন্ত্রণ করার কাজটিকে বেশ দুরূহ করে তুলেছে।


উপসর্গহীন এবং প্রাক-উপসর্গ সংক্রমণের প্রকোপ এবং বিস্তার করার ক্ষমতা মূল্যায়ন করার কাজটি বেশ কঠিন। অপর্যাপ্ত পরিমানে সার্ভেইলেন্সের আওতায় রোগটি শনাক্তকরণের পরীক্ষা ( উপসর্গ থাকুক বা না থাকুক এমন ব্যক্তিদের পরীক্ষা করে দেখা), এবং প্রাক-উপসর্গ প্রদর্শন করে এমন আক্রান্তরা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে প্রচেষ্টায় থাকা সংস্থাগুলোর নজরদারি থেকে হারিয়ে যায়। এবং সঠিকভাবে শনাক্ত করতে ব্যর্থ হওয়া মৃদু উপসর্গসহ এবং উপসর্গহীন আক্রান্ত ব্যক্তিদের প্রকৃত সংখ্যাটি গণনায় ঘাটতির সৃষ্টি হয় অথবা এই রোগীদের ভ্রান্তভাবে শ্রেণিবিন্যস্ত করা হয়। কমিউনিটি পর্যায়ে বিরতিহীন জরিপ পরিচালনা করা কার্যকরভাবে আক্রান্তদের সান্নিধ্যে যারা এসেছেন সেই মানুষগুলোকে চিহ্নিত করা (কনটাক্ট ট্রেসিং), এবং পরীক্ষা করে নিশ্চিত হওয়া ছাড়া ভাইরাস বহনকারী এইসব আক্রান্ত ব্যক্তিদে চিহ্নিত করা অসম্ভব একটি কাজ, যে জরিপের কাজটি ব্যাপকভাবেই চালু করার প্রয়োজন, যা এখনও শুরু হয়নি। নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্যে সাধারণ এবং অস্পষ্ট কিছু জনস্বাস্থ্য-ভিত্তিক উদ্যোগ এই উপসর্গহীন সংক্রমণ বিস্তারটি সত্যিকারভাবে মোকাবেলা করতে ব্যর্থ হয়েছে। সার্ভেইলেন্স বা জরিপ-ভিত্তিক পরীক্ষাগুলো মূলত নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীকে কেন্দ্র করে পরিচালিত হয়েছে – যেমন নার্সিং হোম বা দীর্ঘ মেয়াদী বিশেষ পরিচর্যা দরকার হয় এমন জনগোষ্ঠী। কিছু কিছু ক্ষেত্র, যেমন পেশাজীবি খেলোয়াড় এবং বিনোদন-মাধ্যম কর্মীদের উপর উপসর্গ নির্বিচারে পরীক্ষা পদ্ধতি স্থাপন করা হয়েছে, কিন্তু এই সব উপাত্তগুলো জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত নয়, এবং এই গোষ্ঠীগুলো আরো বৃহৎ সামাজিক জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্বশীলও নয়। সংক্রাম্যতা এবং ভাইরাল শেডিং -এর (ভাইরাসটি যখন আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরে সংখ্যাবৃদ্ধি করে পরিবেশে অবমুক্ত হয়) বিষয়টি এবং এছাড়া ‘সেকেন্ডারী ( সেই আক্রান্ত ব্যক্তিরা যারা এই সংক্রমণটি দ্বারা আক্রান্ত হন ‘প্রাইমারি’ আক্রান্তদের সংস্পর্শে আসার মাধ্যমে) আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে কত শতাংশ উপসর্গহীন এবং প্রাক-উপসর্গসহ আক্রান্তদের সংস্পর্শে আসার কারণে সংক্রমিত হয়েছেন সেটি অনুধাবন করা গুরুত্বপূর্ণ।


উপসর্গহীন আক্রান্তদের ব্যাপকতা কেমন সেটি সুনির্দিষ্টভাবে এখনও প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয়নি। প্রথম দিকের গবেষণাগুলো পর্যবেক্ষণ করেছিল, উপসর্গহীন আক্রান্তের পরিমান মোট সংক্রমণের ৩০ থেকে ৮০ শতাংশ হতে পারে (৩)। কিন্তু আরো সাম্প্রতিক উপাত্ত ইঙ্গিত করছে উপসর্গহীন আক্রান্তদের হার ১৭ থেকে ৩০ শতাংশের মধ্য অবস্থান করে (৪)। ২০২০ সালে এপ্রিল-জুলাই মাসে কমিউনিটি পর্যায়ে বাংলাদেশের যে জরিপটির তথ্য সংবাদমাধ্যমে এসেছিল (আইসিডিডিআরবি এবং আইইডিসাআর) সেখানে ১২০০০ নগরবাসীর মধ্যে ৯ শতাংশ করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত বলে জানানো হয়েছিল। এই জরিপটি তখন ইঙ্গিত দিয়েছিল উপসর্গ নেই এমন ব্যক্তিরাও সংক্রমণ বহন করছেন (যদিও সেই পরিসংখ্যানটি উল্লেখ করেনি এই ৯ শতাংশের মধ্য কতজন উপসর্গহীন বা তাদের পরবর্তীতে অনুসরণ করা হয়েছিল কিনা)। এধরনের গবেষণাগুলোর একটি সাম্প্রতিক পদ্ধতিগত পর্যালোচনা, যে গবেষণাগুলো SARSCoV-2 শনাক্ত করেছে কোয়ান্টিটিভ রিভার্স পরিমারেজ চেইন রিঅ্যাকশন ব্যবহার করে এবং উপসর্গের প্রকাশের জন্য পজিটিভদের অনুসরণ করেছে, (qRT-PCR, এই ভাইরাসটি শনাক্ত করতে ব্যবহৃত মানসম্মত একটি আণবিক পদ্ধতি), সেটি উপসর্গহীন সংক্রমণের হার ২০ শতাংশ বলে চিহ্নিত করেছিল, কিন্তু প্রাক-উপসর্গ সংক্রমণের হারটি নির্ধারণ করা সম্ভাবনা হয় এই গবেষণাগুলোর পারস্পরিক অসমসত্বতার কারণে (৪)। এই ধরনের গবেষণার একটি সীমাবদ্ধতা হচ্ছে উপসর্গহীনতা পরিস্থিতি কিভাবে পরিমাপ করা হচ্ছে এবং গবেষণাভুক্ত ব্যক্তিদের নির্বাচন করার ক্ষেত্রে একটি পক্ষপাতিত্ব বা সিলেকশন বায়াস। প্রায়শই বড় আকারের প্রাদুর্ভাবগুলো পরিচালিত হয় উপসর্গহীন অথবা প্রাক-উপসর্গ প্রদর্শনকারী আক্রান্তদের দ্বারা, সেগুলো সীমাবদ্ধ কোনো সুনির্দিষ্ট জনগোষ্ঠী বা পরিস্থিতিতে, দক্ষ নার্সিং পরিচর্যাসহ কোনো প্রতিষ্ঠান, যেমন নার্সিং হোম বা যেখানে রোগীদের দীর্ঘমেয়াদী সেবা দেয়া হয়, যেখানে এই জরিপগুলো পরিচালিত হয়েছিল (৫)। এই উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ চিকিৎসা সেবা সংক্রান্ত পরিবেশে, এটি বিস্ময়কর নয় যে উপসর্গহীন সংক্রমণের বিস্তার অন্য কোনো পরিবেশের (যেমন, রেস্টুরেন্ট, বা অফিস) চেয়ে বেশি মাত্রায় শনাক্ত হয়ে থাকে।

চিকিৎসাসেবা সংশ্লিষ্ট নয় এমন পরিস্থিতিগুলোয় পরীক্ষা করার সুযোগ যেমন সীমিত তেমনি প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্যকর্মীও অনুপস্থিত। উপসর্গহীন SARS-CoV-2 সংক্রমণগুলো ব্যাপকতা সম্বন্ধে আমাদের জ্ঞানের সীমাবদ্ধতা রোগনিয়ন্ত্রণ এবং প্রতিরোধ করার কৌশলগুলোকে স্বাভাবিকভাবেই কঠিন করে তোলে।উপসর্গহীন সংক্রমণের ব্যাপকতা মূল্যায়ন করা ছাড়াও, এ ধরনের আক্রান্তদের কাছে অন্য কারো সংক্রমিত হওয়ার ঝুঁকি (সেকেন্ডারি বিস্তার) নির্ধারণ করাও খুব গুরুত্বপূর্ণ। এদের সংস্পর্শে যারা এসেছেন তাদের খুঁজে বের করার বিষয়টি ( কনটাক্ট ট্রেসিং) নির্ভর করে আক্রান্ত ব্যক্তিদের শনাক্ত করার উপর, যা মূলত উপসর্গ আছে এমন ব্যক্তিদের পরীক্ষা করে দেখার সাথে সংশ্লিষ্ট। আর উপসর্গ-নির্ভর পরীক্ষার উপর ভরসা, বিশেষ করে অতিমারীর প্রাথমিক পর্যায়ে, কোভিড-১৯ কি ধরনের উপসর্গ সৃষ্টি করতে পারে তার একটি সার্বিক চিত্র সম্বন্ধে আমাদের সীমাবদ্ধ উপলব্ধিগুলোর কারণে আরো জটিলতর হয়ে উঠেছিল। সার্ভেইলেন্সের মাধ্যমে পরীক্ষা করে দেখার অনুপস্থিতি উপসর্গহীন আক্রান্তদের সেকেন্ডারি সংক্রমণের হার (একটি সুনির্দিষ্ট গোষ্ঠীতে একজন সংক্রমিত ব্যক্তির মাধ্যমে সৃষ্ট আক্রান্ত ব্যক্তিদের শতাংশ) নিয়ে যে কোনো বিশ্লেষণকে খুবই কঠিন করে তুলেছে। উপসর্গ প্রদর্শন করছে এমন কোভিড-১৯ আক্রান্তদের ক্ষেত্রে সংক্রাম্যতা শুরু হয় উপসর্গ শুরু হবার ২ দিন আগে থেকে এর পরবর্তী কিছু দিন, ভাইরাস শরীর থেকে পরিবেশ অবমুক্ত হবার পরিমান হ্রাস পায় অথবা অশনাক্তযোগ্য হয়ে যায় উপসর্গ শুরু হবার প্রথম সপ্তাহের মধ্যে (৫,৬)। উপসর্গহীন কোভিড-১৯ আক্রান্তদের ভাইরাস পরিবেশ ছড়িয়ে দেবার সময়ক্রমটি এখনও সম্পূর্ণভাবে বোঝা সম্ভব হয়নি। সংক্রমণের শুরুতে, কোনো ব্যক্তির একই ধরনে ভাইরাল লোড (ভাইরাসের পরিমান) থাকে, পরিশেষে উপসর্গ আর লক্ষণের যতই তীব্রতা সৃষ্টি হোক না কেন। কিন্তু উপসর্গহীন আক্রান্তদের শরীরে ভাইরাসের সংখ্যাবৃদ্ধির শীর্ষ সময়ে ভাইরাসের পরিমান অপেক্ষাকৃত কম থাকে এবং এদের শরীর বেশ দ্রুত ভাইরাস মুক্ত হতে পারে এবং এবং সেকারণে সংক্রমণ করার সময় পর্বটিও সংক্ষিপ্ত (৬)।


সংক্রমণটি বিস্তারে উপসর্গহীন সংক্রমণটির সত্যিকারের প্রভাব কি সেটি বেশ সংশয়পূর্ণ অনুভূত হতে পারে। উপসর্গহীন এবং প্রাক-উপসর্গ প্রদর্শনকারী আক্রান্ত ব্যক্তিরা যারা কারো ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শে এসেছিলেন কিন্তু ভাইরাসটি সংক্রমিত হয়নি এধরনের উপাত্ত খুব সীমিত। কিছু গবেষণা প্রদর্শন করেছে যে উপসর্গহীন আক্রান্তদের মধ্যে এই ভাইরাসটি তাদের সংস্পর্শে আসা কাউকে সংক্রমণ করার ক্ষেত্রে ৪২ শতাংশ সম্ভাবনা আছে এবং তারা বেশ কম সেকেন্ডারী সংক্রমণের হারও লক্ষ করেছেন। আবার অন্য কিছু গবেষণা উল্লেখ করেছে যে, একটি সংক্ষিপ্ত সংক্রাম্যতার পর্ব থাকা সত্ত্বেও একই ধরনের সংক্রমণের প্রবণতা লক্ষ করা যায় উপসর্গহীন অথবা প্রাক-উপসর্গ প্রদর্শনকারী কোভিড-১৯ আক্রান্তদের ক্ষেত্রে সংক্রমণের প্রথম দিনগুলোয় (৬)। প্রাক-উপসর্গ প্রদর্শনকারী আক্রান্তদের সংক্রমণের বিস্তার সংক্রান্ত গবেষণাগুলো প্রস্তাব করেছে উপসর্গহীন আক্রান্তদের চেয়ে তুলনামূলক উচ্চতর সেকেন্ডারি সংক্রমণের হার (৭)। উপরন্তু, সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের শনাক্ত করার বিশ্লেষণগুলো ইঙ্গিত দিয়েছে কমপক্ষে ৬৫ শতাংশ সংক্রমণ ঘটছে উপসর্গ প্রদর্শন করার আগেই (৮)। আরেকটি গবেষণা দেখিয়েছে মাত্র ১২.৬ শতাংশ সংক্রমণ ঘটেছে উপসর্গহীন আক্রান্তদের কাছ থেকে সংক্রমণ বিস্তারের মাধ্যমে (৯)। এই ভিন্নতাকে ব্যাখ্যা করা যেতে পারে বেশ কিছু বিষয় দিয়ে, যার মধ্যে আছে আক্রান্তদের ভ্রান্তভাবে শ্রেণিভুক্ত (অর্থাৎ তাদের সংক্রমণ নেই এমন বিবেচনা করা) করা – যাদের পরে আর অনুসরণ করা হয়নি (৪), কিন্তু অনেক আক্রান্তের ঘটনাই শনাক্ত করা হয়েছে বিশেষ পরিস্থিতির পরিণতি হিসাবে, যেমন, সুপারস্প্রেডিং ঘটনা ( সুপারস্রেডিং হচ্ছে এমন কিছু পরিস্থিতি যখন একটি সংক্রমণ স্বাভাবিক মাত্রার চেয়ে অনেক বেশি দ্রুত সংক্রমণ বিস্তার করে, আর একজন সুপারস্প্রেডার হচ্ছে সেই ব্যক্তি যার মাধ্যমে অন্যদের আক্রান্ত হবার ঝুঁকি অত্যন্ত বেশি।), যেমন কোনো ভ্রমণ-জাহাজে অথবা কোনো গোষ্ঠীগত কোনো অনুশীলনের ক্ষেত্রে, যদিও এগুলো ব্যপকভাবে অনুসন্ধান করা হয়েছে এবং এগুলো সাধারণ সংক্রমণের ঘটনাগুলোর প্রতিনিধিত্ব করে না।


উপসর্গহীন এবং প্রাক-উপসর্গ প্রদর্শন করে এমন আক্রান্তদের সংক্রমণ করার ক্ষমতা নির্ধারণ করা স্বাভাবিকভাবেই জটিল একটি কাজ। কিন্তু জ্ঞানের এই ঘাটতি আমাদের SARS-CoV-2 সংক্রমণটির বিস্তারে এদের ভূমিকার বিষয়টি স্বীকার করা থেকে বিচ্যুত না করাই উচিত। যাদের উপসর্গ আছে আপাতদৃষ্টিতে তাদের দ্বারা অন্যদের আক্রান্ত হবার হারের পরিমান অপেক্ষাকৃতভাবে বেশি, কিন্তু এই আক্রান্তদেরই পরীক্ষা করতে উপস্থিত হওয়া এবং পৃথক করার অনুশীলন করার সম্ভাবনা বেশি সুস্পষ্ট অসুস্থতার কারণে (১০)। জনস্বাস্থ্য এবং সংক্রমণ প্রতিরোধের চ্যালেঞ্জগুলো নির্ভর করে যারা উপসর্গ প্রদর্শন করে না তাদের স্বেচ্ছা কোয়ারান্টাইন এবং একগুচ্ছ পদক্ষেপ বাস্তবায়নের উপর, যেমন মাস্ক পরা, সামাজিক দূরত্ব, বায়ু-সঞ্চালন এবং হাতের পরিচ্ছন্নতা। তবে উপসর্গহীন ব্যক্তিরা সাধারণত জীবাণু সংক্রমণ করতে পারে এই জ্ঞানটির উপর গুরুত্ব না দিয়ে বরং সংক্রাম্যতার মাত্রার উপর গুরুত্বারোপ করার বিষয়টি উপসর্গহীন এবং প্রাক-উপসর্গ প্রদর্শনকারীরা জনস্থাস্থ্যের জন্য যে ঝুঁকি বহন করে, এবং বিরতিহীন সমাজস্তরে জরিপ এবং প্রতিরোধ কার্যক্রম পরিচালনার প্রয়োজনীয়তাটিকে খর্ব করে।


এর সম্পর্ক যুক্ত SARS-CoV ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব অবশেষে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়েছিল প্রচলিত রোগতাত্ত্বিক পদ্ধতিগুলো ব্যবহার করে, যেমন আক্রান্তদের পৃথক করা, তাদের সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের অনুসরণ করা এবং তাদের কোয়ারান্টাইনের রাখার মাধ্যমে। এগুলো কার্যকর ছিল কারণ সংক্রমণ ছড়াতে পারে এমন আক্রান্তদের খুব সহজেই শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছিল তাপমাত্র আর উপসর্গ শনাক্ত করার মাধ্যমে। SARSCoV এবং SARS-CoV-2 এর মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য হচ্ছে – কোভিড-১৯ এর ক্ষেত্রে শরীর থেকে ভাইরাসের বিস্তার ঘটে এমনকি যখন পর্যবেক্ষণযোগ্য উপসর্গ অনুপস্থিত। SARSCoV ভাইরাসের ব্যতিক্রম SARS-CoV-2 আক্রান্তদের ক্ষেত্রে ভাইরাসের পরিমান সবচেয়ে বেশি থাকে উপসর্গ শুরুর পর্যায়ে, এবং এরপর আরো এক সপ্তাহ ব্যাপী (৬)। যা ইঙ্গিত করে উপসর্গ শুরুর আগে থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমান ভাইরাস শরীর থেকে বেরিয়ে আসে। সেকারণে আক্রান্তরা সংক্রমণ ছড়াতে পারে অপেক্ষাকৃত একটি দীর্ঘ সময়ব্যাপী, এবং যখন তারা জানেন না যে তারা আক্রান্ত অথবা ভাইরাসটির সংক্রমণের শিকার হয়েছেন। সর্বনিম্ন কি পরিমান ভাইরাস দরকার একটি সংক্রমণের জন্য ( মিনিমাম ইনফেকশাস ডোজ) সেটিও আমাদের অজানা, এবং সম্ভবত ব্যক্তিবিশেষের সংক্রমণ এবং সেই রোগে তার আক্রান্ত হবার সম্ভাবনার উপর ভিত্তি করে এটি ভিন্নতা প্রদর্শন করে। যদি ভাইরাসের পরিমান হ্রাস পায় সংক্রমণকালী সময় অতিক্রান্ত হবার সাথে সাথে, ঠিক কোন বিন্দুতে কেউ সংক্রমণ ছড়ানো বন্ধ করে দেয় সেটিও অস্পষ্ট। কিন্তু সম্ভবত অধিকাংশ ক্ষেত্রে এটি ঘটে সংক্রমণের দশ দিনের মধ্যে, অবশ্যই আক্রান্ত ব্যক্তি উপসর্গমুক্ত হচ্ছে এমন শর্তসাপেক্ষে।


ভাইরাল লোড (ভাইরাসের পরিমান) পরিমাপের উপর ভিত্তি করে কোনো ব্যক্তির সংক্রমণ ছড়ানোর সম্ভাবনা কেমন এমন পরীক্ষার সীমিত সুস্পষ্টতা আছে। যদিও এমন মানুষ যারা কোভিড-১৯ থেকে পুরোপুরিভাবে আরোগ্য লাভ করেছেন তারা ভাইরাসের RNA শরীর থেকে পরিবেশে ছড়ানো অব্যাহত রাখতে পারেন এবং তাদের নমুনা qRTPCR পরীক্ষায় পজিটিভ হতে পারে, সংক্রমণ করতে পারে এমন কোনো পূর্ণাঙ্গ ভাইরাস পুনরুদ্ধার করার অনুপস্থিতিতেই (১,৫,৬, ১১-১৪), এবং এই কেসগুলো সংক্রমণের নতুন গুচ্ছের সাথে সংশ্লিষ্ট নয় (১২,১৩)। qRTPCR ভাইরসের RNA শনাক্ত করে কিন্তু সংক্রমণ করতে পারে এমন কোন ভাইরাসকে নয়। পিসিআর সাইকেলের থ্রেশহোল্ডকে ব্যবহার করা যেতে পারে নাকের থেকে নেয়া নমুনায় ভাইরাল লোড পরিমাপ করার জন্য, কিন্তু সেটি সবসময় শ্বাসনালীতে নিঃসৃত কণায় সংক্রামক ভাইরাসের ঝরে পড়ার পরিমানের সাথে সরাসরিভাবে সম্পর্কযুক্ত হয় না। এই কণাগুলো বিভিন্ন কারণে খুব বেশি মাত্রায় বিভিন্ন ধর্মী, যার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত যেমন, শ্বাসনালীর কোথা থেকে কোষগুলো সংক্রামক ভাইরাস নিঃসরণ করছে, শ্বাসপ্রশ্বাসের গতি, উপসর্গ, যেমন কাশি (১৫)। প্রশ্বাসের সাথে বেরিয়ে আসা সব কণাই সংক্রমণ সক্ষম ভাইরাস বহন করে না, বেরিয়ে আসার পর শ্বাসনালীর কণায় কি পরিমান সময় ভাইরাস সংক্রমণ সক্ষম থাকতে পারে সেটি নির্ভর করে পরিবেশগত পরিস্থিতিগুলোর উপর, যেমন তাপমাত্রা, আর্দ্রতা, এছাড়াও সংক্রমণ সক্ষম ভাইরাস কণার পরিমান যা নিঃসরিত হচ্ছে। যে পরীক্ষাগুলো সংক্রমণ সক্ষম ভাইরাস কণার পরিমান বা টাইটার পরিমাপ করে সেগুলোকে অবশ্যই বায়োসেফটি লেভেল থ্রি ব্যবস্থাসহ গবেষণাগারে করতে হয়, আর সে কারণে চিকিৎসা-সেবা দেবার হয় এমন কোনো পরিবেশে এমন কিছু নিয়মিতভাবে করা সম্ভব নয়। এছাড়া qRTPCR এবং দ্রুত করা সম্ভব এমন অ্যান্টিজেন টেস্টগুলো ঘন্টা আর মিনিটের মধ্যেই করা সম্ভব, আর সংক্রমণ সক্ষম ভাইরাসের টাইটার নির্ধারণ করতে সেই তুলনায় বেশ কিছু দিন সময় লাগে। qRTPCR পরীক্ষার মাধ্যমে নির্ধারিত ভাইরাল লোড সত্যিকারের সংক্রামক ভাইরাসে ঝরে পড়ার বড় জোর একটি স্থুল পরিমাপ হতে পারে, সুতরাং আরো বাড়তি গবেষণার প্রয়োজন উপসর্গহীন এবং প্রাক-উপসর্গ প্রদর্শন করে এমন আক্রান্তদের শরীরে ভাইরাল লোডের পরিমান প্রতিষ্ঠা করার জন্য (ছবি ১ দেখুন)।

[ছবি ১ : ভাইরাসের সংখ্যাবৃদ্ধি এবং উপসর্গের সূচনা: সংক্রমণ সক্ষম এমন SARS-CoV-2 ভাইরানের মাত্রা বা টাইটার এবং ভাইরাল RNA এর পরিমান প্রাক-উপসর্গ প্রদর্শনকারী (Pre) আক্রান্তদের তুলনায় উপসর্গহীন (A) আক্রান্তদের ক্ষেত্রে সাধারণত কম। সম্ভাব্য একটি সীমানা থাকার কথা যা অতিক্রম করে একজন ব্যক্তি সংক্রমণটি বিস্তার করার ঝুঁকি বহন করতে পারে, কিন্তু এই সীমানাটি কোথায় সেটি আমাদের জানা নেই। প্রাক-উপসর্গ প্রদর্শনকারী আক্রান্তদের ক্ষেত্রে এটি সাধারণত শুরু হয় যখন ভাইরাসের পরিমান বাড়তে থাকে, সুতরাং একটি সময় থাকে যখন আক্রান্ত ব্যক্তি কোনো উপসর্গ প্রদর্শন করেন না কিন্তু তিনি ভাইরাসটি সংক্রমণ বিস্তারে ভূমিকা পালন করতে পারেন। ]


উপসর্গের অনুপস্থিতিতে কিভাবে সংক্রমণ বিস্তার লাভ করে সেটির জৈববৈজ্ঞানিক ভিত্তি সুস্পষ্টভাবে এখনও বোঝা সম্ভব হয়নি, যদিও শ্বাসনালীতে সংক্রমণ করে এমন ভাইরাসগুলোর ক্ষেত্রে এই বৈশিষ্ট্যই খুব সাধারণ, যার মধ্যে অবশ্যই সাধারণ সর্দিজ্বরের ভাইরাস রাইনোভাইরাস এবং অন্য করোনাভাইরাসও অন্তর্ভুক্ত। সংস্পর্শ এবং নিঃশ্বাসের সাথে বিস্তার করার বিষয়টিকে প্রভাবিত করতে পারে সংক্রমণের প্রতি পোষকের প্রতিক্রিয়া প্রদর্শনের সময় এবং সেই প্রতিক্রিয়াটির মাত্রা। যা কোনো একটি জীবাণুর অসুস্থতা সৃষ্টি করার ক্ষমতার একটি নির্ধারক। বিলম্বিত অথবা কম মাত্রায় পোষকের ভাইরাস বিরোধী রোগ প্রতিরোধ প্রতিক্রিয়া কোভিড-১৯ সংক্রমণের তীব্রতার সাথে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কযুক্ত। যা পোষকের শরীরের প্রতিক্রয়া এবং উপসর্গ শুরু হবার মধ্যে একটি সম্পর্ক প্রস্তাব করে। এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত ইন্টারফেরন দিয়ে প্ররোচিত সাইটোকাইন প্রতিক্রয়ার দমিত রাখা, যা উপসর্গগুলোর সাথে সম্পর্কযুক্ত। শরীর থেকে পরিবেশের মধ্যে একটি উভয়মূখী প্রবেশদ্বার হিসাবে শ্বাসনালীর উপরের অংশটিকে নিয়মিতভাবেই বহু বাহ্যিক জীবাণুর মুখোমুখি হতে হয়। এভাবে, নাকের অভ্যন্তরীণ আবরণ বা মিউকোসাটি রোগপ্রতিরোধ তন্ত্রের একটি বিশেষ এলাকা, যেখানে ভাইরাস-বিরোধী প্রতিক্রিয়াগুলো বাহ্যিক কিছু বিষয় দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয় (যেমন, তাপমাত্রা এবং আর্দ্রতা) এবং সংক্রমণের প্রতি সেই পোষকের আক্রম্যতা ( মিউকাস, ভাইরাসটি জন্য সুনির্দিষ্ট রিসেপটরের পরিমান, সংক্রমণের প্রতি পোষকের প্রতিক্রিয়া)। এবং এটি হয়তো ব্যাখ্যা করতে পারে কেন উপসর্গহীন বিস্তার শ্বাসনালীর সংক্রমণ করে এমন ভাইরাসগুলোর একটি সাধারণ বৈশিষ্ট্য।


সংক্রমণ ছড়াতে এমন উপসর্গহীন বহু মানুষের উপস্থিতি এবং উপসর্গহীন ও প্রাক-উপসর্গে আক্রান্তদের শনাক্ত করার নিয়মসিদ্ধ কোনো সার্ভেইলেন্সের অনুপস্থিতিতে সামাজিক-পর্যায়ে সংক্রমণ বিস্তারের ঝুকি হ্রাস করা প্রচেষ্টাগুলো সর্বোচ্চমাত্রায় কার্যকর করে তোলা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সংক্রমণ বিস্তারের বিভিন্ন উপায়গুলো নিয়ে বিদ্যাতয়নিক বিতর্কগুলো সংক্রমণের ঝুঁকি হ্রাস করার বিষয়টি একাধিক উপায়ের একটি বিস্তৃতি নয় বরং দুটি উপায়ের যে-কোনো একটি হিসাবে উপস্থাপন করে, যা আসলেই নির্দেশনাগুলো তথ্যপুষ্ট না করে বরং সংশয় বৃদ্ধি করে। শুধুমাত্র হয় শ্বাস-প্রশ্বাস কিংবা সংস্পর্শের মাধ্যমে সংক্রমণের বিস্তারকে নিশানা করার বদলে সংক্রমণ প্রতিরোধের উপায়গুলোর উচিত ঝুঁকি হ্রাস করার পদ্ধতিগুলোর পুঞ্জীভূত হয়ে কার্যকরী হয়ে ওঠার বৈশিষ্ট্যটির উপর মনোনিবেশ করা, এবং সমাজস্তরে সংক্রমণ প্রতিরোধের উপায়গুলোর প্রয়োজনীয়তার উপর যথেষ্ট পরিমানে গুরুত্ব দেয়া, যার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত মাস্ক পরা, সামাজিক দূরত্ব এবং আবদ্ধ কোনো এলাকা পরিহার করা, বায়ুসঞ্চালন, হাতের পরিচ্ছন্নতা এবং জীবাণুমুক্তকরণ।


উপসর্গহীন সংক্রমণ বিস্তার SARS-CoV-2 অপ্রতিহত বিস্তারের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে, এবং সংক্রমণ প্রতিরোধের ক্ষেত্রে এটি একটি উল্লেখযোগ্য চ্যালেঞ্জ হিসাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। যদিও উপসর্গহীন আক্রান্তরা অপেক্ষাকৃত কম সময়ের জন্য সংক্রামক থাকেন এবং হয়তো এমনকি সংক্রমণ বিস্তারের ক্ষেত্রে অপেক্ষাকৃত কম ঝুঁকি বহন করেন, তারপরও তারা গুরুত্বপূর্ণভাবেই জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকি সরুপ – কারণ এই আক্রান্তরা সমাজেই অবস্থান করেন। বিষয়টি স্পষ্ট নয় কিভাবে ভ্যাক্সিন প্রদান কর্মসূচী উপসর্গহীন ব্যক্তির সংখ্যাকে প্রভাবিত করবে, যদি প্রাথমিক উপাত্তগুলো প্রস্তাব করছে যে গণ-ভ্যাক্সিনেশন কর্মসূচী সার্বিকভাবে সংক্রমণের হার কমাবে, এবং এভাবেই সংক্রমণের বিস্তার কমাবে। প্রাক-উপসর্গ প্রদর্শনকারীদের ক্ষেত্রে গবেষণা প্রদর্শন করেছে যে ভাইরাস ঝরে পড়ার হার সবচেয়ে বেশি উপসর্গ প্রদর্শনের ঠিক আগে থেকে উপসর্গ প্রদর্শন করার অল্প কিছু দিন অবধি, যে সময়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ নিশ্চিত করার জন্য যে, এই ব্যক্তিরা যারা অনুধাবন করেননি যে তারা ভাইরাসে সংক্রমিত হয়েছেন তাদের উচিত যথাসম্ভব ঘরে অবস্থান করা, এবং ঝুঁকি হ্রাস করার পদ্ধতি ব্যবহার করা যখন তার ঘরে বাইরে বের হন। যতক্ষণ না ব্যাপকভাবে একটি নিয়মসিদ্ধ সার্ভেইলেন্স কর্মসূচী গ্রহন করা না হচ্ছে এবং রোগতাত্ত্বিক পদ্ধতিগুলো যা কিনা আমাদের এই ধোঁয়াহীন আগুনটিকে নেভাতে সুযোগ করে দেবে, কোভিড-১৯ অতিমারী পুরোপুরিভাবে অবসান করাও সম্ভব হবে না।


(উপসর্গহীন SARS-CoV-2 সংক্রমণ বিস্তার)
(SARS-CoV-2 transmission without symptoms, Angela L. Rasmussen and Saskia V. Popescu, DOI: 10.1126/science.abf9569)

  1. D. P. Oran, E. J. Topol, Ann. Intern. Med. 173, 362 (2020).
  2. R. Li et al., Science 368, 489 (2020).
  3. W. Zhang et al., Emerg. Infect. Dis. 26, 1924 (2020).
  4. D. Buitrago-Garcia et al., PLOS Med. 17, e1003346 (2020).
  5. R. Wölfel et al., Nature 581, 465 (2020).
  6. M. Cevik et al., Lancet Microbe 2, e13 (2021).
  7. J. Y. Chun, G. Baek, Y. Kim, Int. J. Infect. Dis.99, 403 (2020).
  8. L. C. Tindale et al., eLife 9, e57149 (2020).
  9. Z. Du et al., Emerg. Infect. Dis. 26, 1341 (2020).
  10. X. Qiu et al., medRxiv 2020.09.01.20135194 (2020).
  11. M. M. Arons et al., N. Engl. J. Med. 382, 2081 (2020).
  12. Korean Disease Control and Prevention Agency; www.
    kdca.go.kr/board/board.es?mid=a30402000000
    (2020).
  13. J. Lu et al., EBioMedicine 59, 102960 (2020).
  14. J. Bullard et al., Clin. Infect. Dis. 71, 2663 (2020).
  15. P. Z. Chen et al., medRxiv 2020.10.13.20212233 (2020).
উপসর্গ ছাড়াই SARS-CoV-2 সংক্রমণ ও বিস্তার