জেরি কয়েনের হোয়াই ইভোল্যুশন ইজ ট্রু

মূল: জেরি অ্যালেন কয়েন
অনুবাদ: কাজী মাহবুব হাসান

প্রকাশনা: উড়াল বুকস/ অগ্রদূত অ্যান্ড কোম্পানী

মার্চ ২০২১

অর্ডার করতে নিচের লিঙ্কে ক্লিক করুন অথবা কল করুন 16297
https://www.rokomari.com/book/204435/why-evolution-is-true
পাওয়া যাবে, অমর একুশে বইমেলা স্টল নম্বর : ৪৪১-৪৪২-এ

জেরি কয়েনের হোয়াই ইভোল্যুশন ইজ ট্রু

রিচার্ড ডকিন্সের দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ

মূল: The Greatest Show on Earth – Richard Dawkins
অনুবাদ: কাজী মাহবুব হাসান
প্রচ্ছদ : আসমা সুলতানা
প্রকাশক: দিব্য প্রকাশ, ২০১৯
(অমর একুশে বইমেলা ২০২১ এ দিব্যপ্রকাশের স্টল নং ২৭৩-৭৬ টি এস সির গেইটের দিকে)

রিচার্ড ডকিন্সের দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ

রিচার্ড ডকিন্সের দ্য সেলফিশ জিন

দ্য সেলফিশ জিন
মূল : রিচার্ড ডকিন্স
অনুবাদ : কাজী মাহবুব হাসান
প্রচ্ছদ : আসমা সুলতানা

প্রকাশনা:
Agrodoot & Company
+880 1752-176671
agrodootbd@gmail.com

একুশে বই মেলায় স্টল নম্বর : ৪৪১-৪৪২, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান।

রিচার্ড ডকিন্সের দ্য সেলফিশ জিন

বিল ব্রাইসনের দ্য বডি

মূল: The Body: A Guide for Occupants – Bill Bryson
অনুবাদ: কাজী মাহবুব হাসান
প্রচ্ছদ : আসমা সুলতানা
প্রকাশক: দিব্য প্রকাশ, ২০২১
(অমর একুশে বইমেলা ২০২১ এ দিব্যপ্রকাশের স্টল নং ২৭৩-৭৬ টি এস সির গেইটের দিকে)

ভূমিকার পরিবর্তে..

You don’t need a science degree to understand about science. You just need to think about it.’ Bill Bryson

এ বইটি শরীর নামে বিস্ময়কর জিনিসটির একটি সংক্ষিপ্ত নির্দেশিকা। এটি বিল ব্রাইসনে ‘দ্য বডি: এ গাইড ফর দ্য অকুপ্যান্টস (ডবলডে, ২০১৯) বইটির একটি অনুবাদ প্রচেষ্টা। এই বইটি হাতে তুলে নিয়ে যখন আপনি এই ভূমিকার কয়েকটি শব্দ পড়বেন, হয়তো অনুভব নাও করতে পারেন, আপনার শরীরটি তখন খুবই ব্যস্ত। আপনার ফুসফুস কয়েক মুহূর্তের মধ্যে ৩০০ সেক্সটিলিয়ন অক্সিজেন অণু শ্বাস প্রশ্বাসের সাথে ব্যবহার করবে। আপনার হাড়ের মজ্জা ২০০ মিলিয়ন নতুন লোহিত রক্ত কণিকা তৈরী করে ফেলবে। যে হাতটি এই বইটি ধরে আছে সেটি প্রকৃতির অসাধারণ একটি সৃষ্টি, যা নিয়ন্ত্রণ করছে কনুইয়ের নীচে থাকা একগুচ্ছ মাংসপেশী, চোখের প্রতিটি পলক আপনার চোখকে রক্ষা করছে, আপনার মস্তিষ্ক আপনার ইন্দ্রিয় দিয়ে প্রবেশ করা তথ্যগুলো ব্যবহার করে একটি বাস্তবতার সৃষ্টি করছে, আপনার হৃৎপিণ্ড আপনার অজান্তেই স্পন্দিত হচ্ছে। শরীর প্রতিবাদ না করলে প্রায়শই এই রক্ত-মাংসের বিস্ময়কর যন্ত্রটির দিকে আমরা নজরই দেই না। এই বইটি তাই আপনাকে বিস্মিত করবে, শরীরের প্রতি যত্নশীল হতে অনুপ্রাণিত করবে, কারণ এটাই আমাদের অস্তিত্বের অবিচ্ছেদ্য অংশ, এখানেই আমাদের মূল বসবাস।

সন্দেহ নেই যে শরীর সুপরিকল্পিত কোনো যন্ত্র নয়, কারণ দীর্ঘ বিবর্তনীয় ঐতিহ্য এটি ধারণ করে আছে। অবশ্যই অনায়াসে এ যন্ত্রটি সমস্যা তৈরি করতে পারে, আমাদের আধুনিক জীবন আর বিবর্তনীয় অতীতের অসামঞ্জস্যতার বহু অসুখের কারণ হিসাবে অনায়াসেই ব্যাখ্যা করা যেতে পারে। কিন্তু এই পারস্পরিক নির্ভরশীল প্রায় ৩৭.২ ট্রিলিয়ন কোষগুচ্ছ যা আমাদের একেবারেই নিজস্ব সম্পদ, সেটি সার্বিকভাবেই বিস্ময়কর একটি কাঠামো। আর আমরা যারা এটি সারক্ষণ ব্যবহার করছি সে বিষয়ে তাদের ন্যুনতম কিছু জানাও দরকার। বিল ব্রাইসন, যিনি ইতিপূর্বে বিজ্ঞান ও ইতিহাস নিয়ে অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি নির্দেশিকা ‘এ শর্ট হিস্ট্রি অব এভরিথিং’ লিখেছিলেন, তিনি এবার দৃষ্টি দিয়েছেন আমাদের শরীরের দিকে।

বইটির প্রতি অধ্যায় আমাদের শরীরের একেকটি অংশকে নিয়ে। ইতিহাস, জীবনী, ব্যক্তিগত কাহিনি, বিশেষজ্ঞদের সাক্ষাৎকার, শব্দের উৎস সম্বন্ধে জ্ঞান ইত্যাদির একত্র বুননে সৃষ্টি অধ্যায়গুলোকে করা হয়েছে। আর এর পরিণতি তথ্যবহুল, সহজপাঠ্য, কখনো চমকে দেয়ার মত তথ্যসহ একটি বই, যা পাঠককে হতাশ না করার সম্ভাবনা বেশি। এই বইটির মধ্যে আমরা কিছু অজানা অপরিচিত বীরোচিত ব্যক্তির দেখা পাবো, বহু বিচিত্র উপায়ে যাদের অবদান আমাদের জীবনকে সমৃদ্ধ করেছে, অথচ তাদের অনেকের নামই আমরা জানিনা, অথচ তাদের অবদানের কারণে তারা এক একটি স্মারকস্তম্ভ পাবার যোগ্যতা রাখেন। এছাড়াও জানবো চিকিৎসা বিজ্ঞানের গতিধারা বদলে দেয়া ক্ষুদ্র কিছু আবিষ্কার, যেগুলোর যুগান্তকারী ভূমিকা মূল্যায়ন করা কেবল আমাদের মত উত্তর প্রজন্মের পক্ষেই সম্ভব হয়েছে।

বইটি একই সাথে স্বাস্থ্য সংক্রান্ত বেশ কিছু ভূল ধারণা চিহ্নিত করে তাদের প্রকৃত রুপটিকে স্পষ্ট করেছে, কিছু ক্ষেত্রে আমাদের চারপাশে সেই মিথগুলোকে আবর্তিত হতে থাকা সামাজিক বাণিজ্যিক বাস্তবতা যেভাবে বিভ্রমের পর্দা টেনে রেখেছে সেখানেও তিনি আলো ফেলবার চেষ্টা করছেন, হয়তো এই বইটির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হতে পারে সেটি। খুব দ্রুত যদি সেখানে আমরা কোনো পরিবর্তন না আনতে পারি ব্রাইসন আমাদের এই বইয়ের পাতায় একটি সম্ভাব্য ভবিষ্যতের ব্যপারে সতর্ক করেও দিয়েছেন। ক্রমশ অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী হয়ে ওঠা ব্যকটেরিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার মত অস্ত্রভাণ্ডার আমাদের প্রায় শেষ, বিশ্বব্যপী ৭০০০০০ মানুষের মৃত্যুর কারণ হয়ে ওঠা এই ভয়ঙ্কর অণুজীবগুলোর সাথে অস্ত্রপ্রতিযোগিতা আমরা ভয়ানকভাবেই পিছিয়ে পড়ছি। আর পরিস্থিতি যদি এমনই হয়ে থাকে,  মানুষের বিস্ময়কর হাত আর মস্তিষ্ক যে সভ্যতা গড়ে তুলেছে সেটির অস্তিত্ব নিয়েই সংকট তৈরি হবে। আমাদের এই শরীর যেন এর অসাধারণ আর স্বীকৃতি না পাওয়া ক্লান্তিকর বিরতিহীন কাজগুলো  অব্যহত রাখতে পারে, সেজন্য অনেক কিছুই আমাদের পরিবর্তন করতে হবে।

বইটি আমাদের এই বিরতিহীন ব্যবহার করা শরীর সম্বন্ধে বিস্ময়কর কিছু তথ্যও দেবে। যে তরুণাস্থি আপনার হাড়ের সন্ধিগুলোর মধ্যে অবস্থান করছে, সেগুলো কাচের চেয়েও মসৃণ, যাদের ফ্রিকশন কোএফিসিয়েন্ট বরফের চেয়ে পাঁচগুণ কম। যত বেশী ব্যয়াম আপনি করবেন আপনার হাড় ততই একটি হরমোন তৈরী করবে, যা আপনার বার্ধক্যগ্রস্ত হবার প্রক্রিয়াটিকে সীমিত রেখে মেজাজ, প্রজনন-উর্বরতা আর স্মৃতিশক্তিকে বাড়াবে, এছাড়া বিষন্নতা আর স্মৃতিভ্রংসতা থেকে রক্ষা করবে। আপনার জিহবায় স্বাদ কোরকগুলো আমাদের শরীরে ইনসুলিন নিঃসরণের সূচনা করে, খাদ্য এমনকি গলার দিকে পাঠানোর আগেই আপনার শরীর খাদ্যের জন্য প্রস্তুত হচ্ছে। সব মিলিয়ে আমাদের তৈরী করেছে সাত বিলিয়ন বিলিয়ন বিলিয়ন পরমাণু, আর যে মৌলগুলো ব্যবহৃত হয়েছে সেটি কিনতে আপনার খরচ হবে প্রায় ৯৬,৫৪৬.৭৯ পাউন্ড। ৬০ জন মানুষের নাভি নিয়ে একটি গবেষণায় ২৩৬৮ প্রজাতির ব্যাকটেরিয়া আবিষ্কৃত হয়েছে, যার ১৪৫৮ টি ছিল বিজ্ঞানের কাছে অজানা। সারা জীবনে আপনার হৃৎপিণ্ড যে পরিমান কাজ করে সেটি এক টন ওজনকে ১৫০ মাইল উপরে তোলার সমতূল্য। বুকের দুধ খাওয়ানো মা তাদের স্তনবৃন্ত দিয়ে তার শিশুর মুখের লালায় ব্যকটেরিয়া যাচাই করে দেখতে পারেন, যা তার দুধের অ্যান্টিবডির পরিমান সমন্বয় করে দেয়। আপনার শরীরে যত ডিএনএ অণু আছে সেগুলো একটির পর একটি যুক্ত করলে সেটি ১০ বিলিয়ন মাইল দীর্ঘ হবে, আর সেটি প্লুটোর কক্ষপথ ছাড়িয়ে যাবে, যেভাবে বিল ব্রাইসন এখানে মন্তব্য করেছিলেন, চিন্তা করে দেখুন, যথেষ্ট পরিমানে ‘আপনি’ আছেন এই সৌর জগত ছাড়িয়ে যাবার জন্য, আপনি খুব আক্ষরিকার্থই মহজাগতিক।

আমাদের শরীরের বিস্ময়ই শুধু নয় ব্রাইসন এর মেয়াদকালের দিকেও আমাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। পুরো বিংশ শতাব্দী জুড়ে আমাদের আয়ু যতটুকু দীর্ঘ হয়েছে, সেটি এর আগের দীর্ঘ আট হাজার বছরের অর্জনকেও অতিক্রমন করেছে। ভবিষ্যতের সুস্বাস্থ্যের জন্যে আমাদের জীবনের প্রথম এক হাজার দিন নানা কারণেই খুবই গুরুত্বপূর্ণ। জরায়ুতে থাকাকালীন এবং জন্ম পরবর্তী সময়ে নানা ধরনের চাপ আপনাকে রুগ্ন স্বাস্থ্যের অধিকারী করে তুলতে পারে। জাংক ফুড আর নিষ্ক্রিয় জীবনাচরণ মানে আমাদের সন্তানরা তাদের পিতামাতাদের জন্যে সল্পায়ু হবার সম্ভাবনা ধারণ করছে। আসলেই আমরা খেয়েই অকালমৃত্যুর দিকে এখন অগ্রসর হচ্ছি, এবং একই সাথে এমন সন্তানের জন্ম দিচ্ছি যেন তারা আমাদের সাথেই কবরে ঝাপিয়ে পড়তে পারে। আর এটি যতটা না চিকিৎসাবিজ্ঞানের সমস্যা তার চেয়ে বেশী রাজনৈতিক একটি সমস্যা। গ্লাসগো শহরের পূর্বপ্রান্তের বাস করে এমন কারো গড় আয়ু ৫৪ বছর, যা যুক্তরাজ্যের গড় আয়ুর ২৫ বছর কম, আর এই পরিসংখ্যানগুলো উন্নত করতে চিকিৎসা বিজ্ঞান নয় সরকারী উদ্যোগের দরকার। বহু দেশের পরিসংখ্যানই আর্থ-সামাজিক বাস্তবতার সাথে স্বাস্থ্যের নিয়ামকগুলোর সম্পর্কগুলো সম্বন্ধে আমাদের এমনই তথ্য দেয়।

নিউ ইয়র্কের হারলেমে ৩০ বছরের কোনো কৃষ্ণাঙ্গ  পুরুষ সমবয়সী কোনো বাংলাদেশীর চেয়ে সংক্ষিপ্ত আয়ু হবার সম্ভাবনা বেশি, আর এর কারণ মাদক, সহিংসত নয় বরং স্ট্রোক, ডায়াবেটিস আর হৃদরোগের বাড়তি ঝুঁকি। এখানেই তিনি উল্লেখ করেন যে এমনকি ধনী যুক্তরাষ্ট্রবাসীরা ( যাদের আচরণ আমরা প্রায়শই অনুকরণ করছি)  মধ্যম আয়ের ইউরোপিয়দের চেয়ে অল্প বয়সে মারা যান, খাদ্যাভ্যাস, স্থুলতা এবং বর্তমান যুক্তরাষ্ট্রের অদ্ভুত, অতিব্যয়বহুল, অসমতাপূর্ণ স্বাস্থ্য সেবার কারণে। এখানে কী আমরা কোনো সমান্তরাল উদাহরণ দেখতে পাচ্ছি। হল্যান্ড আর সুইডেনের গড়পড়তা মানুষ সপ্তাহে যে পরিমান ক্যালোরি গ্রহন করেন, যুক্তরাষ্ট্রের মানুষরা গড়ে তার চেয়ে দুটি পুরো চিজ কেক সমপরিমান বেশী ক্যালোরি গ্রহন করে থাকেন। যে কোনো দেশের তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রবাসীরা পরস্পরদের গুলি করে, মদ্যপান করে গাড়ি চাড়ায়, এবং ইটালিয়ানদের ছাড়া আর যে কারো চেয়ে কম নিয়মিত সিটবেল্ট বাধে। ইনসুলিন ওষুধটির পেটেন্ট এর আবিষ্কারকরা মানবতা কল্যাণে বিনামূল্যে দান করেছিল, বর্তমানে ইউরোপের চেয়ে ছয়গুণ বেশি দামে এটি যুক্তরাষ্ট্রবাসীদের ক্রয় করতে হয়। যুক্তরাষ্ট্রে যত ডাক্তার আছে, স্বাস্থ্যসেবায় তার চেয়ে দ্বিগুণ সংখ্যক অর্থনৈতিক প্রশাসক আছে, স্বাস্থ্য সেবায় সর্বোচ্চ ব্যয় করেও বেশীর ভাগ সূচকে একটি অনেক দেশ থেকেই বহু পিছিয়ে আছে। আমরা কী এই উদাহরণগুলো থেকে কোনো শিক্ষা নিতে পারি। সামাজিক রাজনৈতিক বলয়ে দেশের ভবিষ্যতের লক্ষ্যে নেয়া গুরুত্বপূর্ণ নীতিগুলোকে প্রভাবিত করার মত তথ্যপুষ্ট ধারণা  আমরা সাধারণ মানুষরা কি পেতে পারি। হয়তো পারি, আর এই বইটি সেটি পেতে সহায়তা করবে।

এই বইটি যারা ডাক্তার নয় তাদের জন্য অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ চিকিৎসাবিজ্ঞান সম্বন্ধে এটি গুরুত্বপূর্ণ কিছু অন্তর্দৃষ্টি দেবে, বিশেষ করে অতিচিকিৎসা সংক্রান্ত ব্যপারগুলোর প্রতি। এখানেই আমরা উপাত্ত পাই দীর্ঘমেয়াদী সুসম্পর্কগুলো জীবন দীর্ঘ করে, আসলেই আমাদের ইতিবাচক সামাজিক আর আবেগীয় জীবন ‘ডিএনএ’কে সুরক্ষা করে। ডায়াবেটিস আক্রান্ত রোগীদের উপর করা গবেষণা দেখেছিল যে ডাক্তারকে তার রোগীরা সবচেয়ে বেশী সহমর্মিতাপূর্ণ হিসাবে চিহ্নিত করেছেন, তাদের মধ্যে জটিলতার পরিমান ৪০ শতাংশ কম। আমরা কী চিকিৎসক-রোগীর মধ্যকার সহমর্মিতাপূর্ণ সম্পর্ককে আরো বেশি গুরুত্ব দেবার কথা ভাবছি? আর কীভাবেই বা সেটি সম্ভব। এই আলোচনাগুলোয় প্রবেশ করতে আগের আমাদের অসুস্থতার সাথে আমাদের সম্পর্ক – এই শরীর সম্বন্ধে আমাদের জানতে হবে।

কোনো সন্দহ নেই এই বইটি আপনাকে স্মরণ করিয়ে দেবে, আপনি আসলেই একটি চলমান, চিন্তারত বিস্ময়ের একটি ক্যাটালগ, আর আমরা কীভাবে আমাদের এই অস্তিত্বের অসাধারণত্বকে উদযাপন করতে পারি? বেশ, অধিকাংশের জন্য সে কাজটি হচ্ছে সর্বনিম্ন মাত্রায় ব্যয়াম এবং বেশী মাত্রায় খাদ্যগ্রহন।  কিন্তু এই বইয়ে  ব্রাইসনের বিশ্বকোষীয় মাত্রায় পাঠ, চিকিৎসা বিজ্ঞানের সেরা বিজ্ঞানীদের পরামর্শ থেকে চূড়ান্ত একটি উপসংহারে আমরা কিন্তু পৌঁছাতে পারি, যা জীবনের সবচেয়ে সেরা ব্যবস্থাপত্র হতে পারে: খানিকটা কম খান, খানিকটা বেশী সক্রিয় হয়ে উঠুন।

লেখক পরিচিতি

উইলিয়ম ‘বিল’  ব্রাইসন ( জন্ম ডিসেম্বর ৮, ১৯৫১) যুক্তরাষ্ট্র আইওয়া ডে মোয়ানসে জন্ম গ্রহন করেন। ড্রেক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় তিনি তার শিক্ষাজীবন অসমাপ্ত রেখে ভ্রমণে বের হয়েছিলেন। তার সেই অভিজ্ঞতাগুলো নিয়ে লেখা ভ্রমণের বইগুলোর জন্য তিনি সুপরিচিত, যেমন ‘নাইদার হেয়ার নর দেয়ার: ট্রাভেলস ইন ইউরোপ, এ ওয়াক ইন দ্য উডস, নোটস ফ্রম এ স্মল আইল্যান্ড, আই অ্যাম এ স্ট্রেঞ্জার হেয়ার মাইসেফ, ইন এ সানবার্নড কান্ট্রি। ১৯৯৫ সালে ইংল্যান্ডকে নেয়া লেখা ‘নোটস ফ্রম এ স্মল আইল্যান্ড’ এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট টেলিভিশন প্রোগ্রামটি তাকে খ্যাতি দিয়েছিল। ব্রাইসন বিশেষভাবে সুপরিচিত হয়েছিলেন ২০০৩ সালে তার লেখা খুব জনপ্রিয় ‘এ শর্ট হিস্টরি অব এভিরিথিং’ বইটির জন্য, এটি শুধু বিজ্ঞানের বর্তমান পরিস্থিতি ও ইতিহাস নিয়েই আলোচনা করেনি, বিজ্ঞানের সাধারণ এবং কখনো কৌতুকপূর্ণ সূচনার বর্ণনাও দিয়েছিল। ব্রাইসন ইংরেজী ভাষার ইতিহাস নিয়েও বই লিখেছেন। ২০০৫ থেকে ২০১১ সাল অবধি তিনি ডারহাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। এছাড়াও তিনি রয়্যাল সোসাইটি অব লন্ডন, রয়্যাল সোসাইটি অব কেমিস্ট্রির একজন সন্মানিত ফেলো। তার সর্বশেষ ‘দ্য বডি: এ গাইড ফর অকুপ্যান্টস’ বইটি ২০১৯ সালে প্রকাশিত হয়েছে। বইটি ২০২০ সালে রয়্যাল সোসাইটির বছর সেরা বিজ্ঞান বইয়ে সংক্ষিপ্ত তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।

বিল ব্রাইসনের দ্য বডি