আইজাইয়া বার্লিনের স্বাধীনতা

Everything is what it is: liberty is liberty, not equality or fairness or justice or culture, or human happiness or a quiet conscience..

(গ্রেট থিংকার্স সিরিজ থেকে পরীক্ষামূলকভাবে কাজী মাহবুব হাসান)

Political theorist and historian of ideas Isaiah Berlin on Oct. 23, 1992. (Sophie Bassouls/Sygma via Getty Images)

বিংশ শতাব্দীর অন্যতম একজন সেরা রাজনৈতিক তাত্ত্বিক, কুটনীতিবিদ, ইতিহাসবিদ এবং দার্শনিক স্যার আইজাইয়া বার্লিন ১৯০৯ সালের ৬ জুন জন্মগ্রহন করেছিলে রিগা-লাটভিয়ায় (তখন সেটি রুশ সাম্রাজ্যের একটি অংশ ছিল) একটি বিত্তশালী রুশ- ইহুদী পরিবারে । তার পরিবারটি বাল্টিক অঞ্চলে একটি সমৃদ্ধ টিম্বার কোম্পানী নিয়ন্ত্রণ করতো। রুশ বিপ্লেবের পরে পরিবারটি ইংল্যান্ডে বসতি গড়েছিল। পরে তিনি অক্সফোর্ডে পড়াশুনা করেছিলেন। তাকে বলা হয় ইনটেলেকচুলায় হিস্টরী বা হিস্ট্রি অব আইডিয়া ক্ষেত্রটির জনক। যে ক্ষেত্রটির মূল বিষয়টি হচ্ছে, ধারণাগুলো একক বা বিচ্ছিন্নভাবে সৃষ্টি হয়না মানষ থেকে যারা এটি বিকশিত করেন এবং ব্যবহার করেন, আর সেকারণে কোনো একটি ধারণাকে শুধুমাত্র বিমূর্ত কোনো প্রস্তাব হিসাবে না ভেবে সেটিকে এর সংস্কৃতি, জীবন আর ঐতিহাসিক প্রাসঙ্গিকতায় বিচার করতে হবে। বার্লিন বিশেষভাবে পরিচিত ১৯৫৮ সালে অক্সফোর্ডে দেয়া একটি লেকচার, Two Concepts of Liberty, তিনি এখানে রাজনৈতিক দর্শনের ক্ষেত্রে অ্যানালাইটিক দর্শনের পদ্ধতি প্রয়োগ করেছিলেন। ভাষা দর্শনে তার দক্ষতাই তাকে প্ররোচিত করেছিল রাজনৈতিক শব্দগুলো সম্বন্ধে আমাদের বোঝাপড়ার সূক্ষ্ম বিষয়গুলো যাচাই করে দেখতে। সাধারণ রাজনৈতিক সংজ্ঞায় যে শব্দগুলোকে মনে হয় একটি একক ধারণা হিসাবে আসলে সেগুলো বহু ব্যবহারযোগ্য বহুত্ববাদ এবং সেই সাথে নানা অর্থ ধারণ করে। যেমন, তিনি প্রস্তাব করেছিলেন, দুটি ধারণা, নেগেটিভ ফ্রিডম বা কোনো ধরনের নিয়ন্ত্রণ বা হস্তক্ষেপ থেকে স্বাধীনতা, আর পজিটিভ ফ্রিডম, অথবা আত্ম-নিয়ন্ত্রণের স্বাধীনতা, যা জিজ্ঞাসা করে না যে আমরা কি থেকে স্বাধীন বরং আমরা কি করতে স্বাধীন। বার্লিন বলেন এ্‌ই দু্টি ভিন্ন ধারণা পরস্পরের সাথে সাংঘর্ষিক।

স্বাধীনতা খুবই শক্তিশালী একটি শব্দ। আমরা প্রায় সবাই ইতিবাচকভাবে এই শব্দটির প্রতি আমাদের প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করি, এবং এই স্বাধীনতার পতাকাতলে বিপ্লবের সূচনা হয়ছে, বহু যুদ্ধ লড়া হয়েছে, নিরন্তর এটি নিয়ে রাজনৈতিক প্রচারণা চলেছে, কিন্তু স্বাধীনতা শব্দটি দিয়ে আসলেই আমরা কি বোঝাতে চাই? আর একটি বাস্তবতা হচ্ছে সব ধরনের রাজনীতিবিদদের আমরা যখন স্বাধীনতায় বিশ্বাস করেন বলে দাবী করতে শুনি, সেটি স্পষ্টতই ইঙ্গিত করে যে, আসলে যখন আমরা এই বিষয়টি কথা বলি, সবার মনে আসলে এটি সম্বন্ধে সবসময় একই ধরনের ধারণার উপস্থিতি থাকে না। তাহলে কি বিভিন্ন ধরনের স্বাধীনতা হতে পারে? আর যদি তাই হয়, এই ভিন্ন ধরনের স্বাধীনতাগুলো কি পারস্পরিক সংঘর্ষে জড়াতে পারে? এক ধরনের স্বাধীনতার সমর্থন কি অন্য ধরনের স্বাধীনতাকে সীমিত করতে পারে? এমনকি মানুষকে স্বাধীনতার নামে তাহলে কোনো কিছু করতে বাধ্যও করা যেতে পারে?

বিংশ শতাব্দীর রুশ-ইংলিশ রাজনৈতিক দার্শনিক আইজা্ইয়া বার্লিন (১৯০৯-১৯৯৭) ভেবেছিলেন এই সব প্রশ্নের উত্তর হচ্ছে, ‘হ্যাঁ’। ১৯৫৮ সালে ‘টু কনসেপ্ট অব লিবার্টি’ (১৯৫৮) শীর্ষক তার একটি প্রবন্ধে দুই ধরনের স্বাধীনতার মধ্যে তিনি পার্থক্য করেছিলেন ( ফ্রিডম ,এখানে যেটি আমি স্বাধীনতা হিসাবে উল্লেখ করছি অথবা ‘লিবার্টি’, দুটো শব্দই তিনি পরস্পর পরিবর্তনীয় হিসাবে ব্যবহার করেছিলেন), যাদের তিনি নাম দিয়েছিলেন নেগেটিভ ফ্রিডম আর পজিটিভ ফ্রিডম ( নেগেটিভ স্বাধীনতা আর পজিটিভ স্বাধীনতা)। নেগেটিভ ফ্রিডম বা স্বাধীনতা হচ্ছে অনাহূত বা অন্যদের অনাকাঙ্খিত হস্তক্ষেপ থেকে স্বাধীনতা। আপনি নেগেটিভভাবে স্বাধীন সেই পর্যায় অবধি, যতদূর অবধি অন্য কেউ ব(বা অন্যরা) আপনি কি করতে পারবেন সেখানে কোনো সীমাবদ্ধ আরোপ করছে না। যদি অন্যরা কিছু করতে আপনাকে বাধা দেয়, প্রত্যক্ষভাবে তারা যা করে তার মাধ্যমে অথবা পরোক্ষভাবে সেই সামাজিক আর অর্থনৈতিক বন্দোবস্তকে সমর্থন করে যা আপনার জন্যে প্রতিকূল। তাহলে যে পর্যায় অবধি অন্যরা তাদের স্বাধীনতাকে সীমিত করে, বার্লিন জোর দিয়েছিলেন, শুধুমাত্র অন্য মানুষ যে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে সেটাই কারো স্বাধীনতার সীমাবদ্ধতা। প্রাকৃতিক কোনো কারণ কিন্তু এখানে বিবেচ্য নয়। আমি নিজে চাইলে শূন্যে ভাসতে হতে পারবোনা, সেটি ভৌত সীমাবদ্ধতা কিন্তু এটি আমার স্বাধীনতার জন্যে প্রতিবন্ধকতা নয়।

কার্যত সবাই একমত যে নেগেটিভ স্বাধীনতার উপর খানিকটা সীমাবদ্ধতা আমাদের অবশ্যই মেনে নিতে হবে, যদি আমরা কোনো বিশৃঙ্খলা এড়াতে চাই। সব রাষ্ট্রেরই প্রয়োজন যেন তাদের নাগরিকরা আইন ও নিয়ম অনুসরণ করে, যা পরিকল্পিত হয়েছে যেন সবাই সমাজে একসাথে বসবাস করতে পারে এবং সমাজ মসৃণভাবে পরিচালিত হয়। আমরা আমাদের স্বাধীনতার উপর এইসব সীমাবদ্ধতাকে মেনে নেই অন্য সুবিধাগুলোর একটি ‘বিনিময়-মূল্য’ হিসাবে, যেমন, শান্তি, নিরাপত্তা, সমৃদ্ধি ইত্যাদি। একই সাথে আমরা অনেকেই দাবী করি প্রতিটি মানুষের জীবনে কিছু কিছু এলাকা আছে যেখানে কারো (সমাজ কিংবা রাষ্ট্রের) নিয়ন্ত্রণ থাকা উচিত নয়, যেখানে প্রত্যেকেরই যথেষ্ট পরিমান, যদি পূর্ণ নাও হয়. স্বাধীনতা থাকা উচিত। রাজনৈতিক দর্শনের গুরুত্বপূর্ণ বিতর্কের একটি বিষয় মূলত এই ব্যক্তিগত নেগেটিভ স্বাধীনতার ক্ষেত্রে সীমানা কি হওয়া উচিত সেটি নিয়ে। যেমন, রাষ্ট্র কি এমন কোনো নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে পারে, কোন বইটি আমরা পড়তে পারবো আর কোনটি পারবো না অথবা আমাদের যৌনজীবন কেমন হওয়া উচিত ইত্যাদি বিষয়ে?
যখন নেগেটিভ স্বাধীনতা হচ্ছে অন্যদের নিয়ন্ত্রণ থেকে মুক্ত থাকার স্বাধীনতা, তখন পজিটিভ স্বাধীনতা হচ্ছে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করার স্বাধীনতা। পজিটিভলি স্বাধীন হওয়া মানে নিজের ”মনিব” হওয়া, যৌক্তিকভাবে আচরণ করা এবং নিজের স্বার্থের কথা বিবেচনা করে নির্বাচন ও সিদ্ধান্তের ব্যপারে দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেয়া। এটি মনে হতে পারে নেগেটিভ স্বাধীনতার বিপরীত কোনো কিছু, আমি নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করি সেই মাত্রায় যেন অন্য কেউ আমাকে নিয়ন্ত্রণ করতে না পারে। তবে, পজিটিভ আর নেগেটিভ স্বাধীনতার মধ্যে একটি ফাটল বের করা যেতে পারে, যেমন, একজন ব্যক্তির হয়তো আত্মনিয়ন্ত্রণ ক্ষমতার অভাব আছে এমন কি যখন তাকে অন্য কেউ নিয়ন্ত্রণ করছে না। ভাবুন, যেমন, একজন মাদকাসক্ত যে তার আসক্তি ছাড়তে পারছে না, যা তাকে ক্রমশ মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে। সে অবশ্যই পজিটিভভাবে স্বাধীন নয় ( অর্থাৎ তার আচরণ যৌক্তিক নয়, তার নিজের ভালোর জন্যে যা করা উচিত সেটি কিন্তু সে করছে না) এমনকি যদিও তার নেগেটিভ স্বাধীনতা সীমাবদ্ধ হচ্ছে না ( কেউ তাকে মাদক নিতে বাধ্য করছে না)। এইসব পরিস্থিতিতে, বার্লিন লিখেছিলেন, খুব স্বাভাবিক কোনো কিছুর দুটি সত্তা ( সেলফ) আছে এমন কিছু ভাবা, একটি নীচু সত্তা, যা অযৌক্তিক,আবেগপ্রবৃত্ত এবং আরেকটি উচ্চ সত্তা, যা যৌক্তিক এবং দূরদর্শী।

আর প্রস্তাবনাটি হচ্ছে যে একজন ব্যক্তি পজিটিভভাবে স্বাধীন শুধুমাত্র যখন তার উচ্চ সত্তাটি প্রাধান্য বিস্তার করে। যদি এটি সঠিক হয়, তাহলে আমরা হয়তো কোনো একজন ব্যক্তিকে আরো স্বাধীন করে তুলতে পারবো তার উপর চাপ প্রয়োগ করে। আমরা যদি কোনো মাদকাসক্তকে মাদক নেয়া থেকে দূরে রাখতে পারি, আমরা হয়তো তার উচ্চতর সত্তাকে সহায়তা করতে পারি তার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেবার জন্যে। তার নেগেটিভ স্বাধীনতাকে সীমিত করে, আমরা তার পজিটিভ স্বাধীনতাকে বাড়াতে পারি। আর এখানে কিন্তু খুব সহজে একটি বিষয় অনুধাবন করতে পারি, এই ধরনের দৃষ্টিভঙ্গীকে খুব সহজেই অপব্যবহার করা যেতে পারে নানা ধরনের ক্ষতিকর, বিভ্রান্তিমূলক হস্তক্ষেপ আর পদক্ষেপ নেবার মাধ্যমে। বার্লিন যুক্তি দিয়েছিলেন, পজিটিভ আর নেগেটিভ স্বাধীনতার মধ্যবর্তী শূন্যস্থানটি, এবং এটি অপব্যবহারের ঝুকি আরো বেড়ে যায় যদি আমরা উচ্চ সত্তাকে কোনো একটি সামাজিক গোষ্ঠীর পরিচয় হিসাবে স্বীকৃতি দেই (একটি গোত্র, বর্ণ, একটি চার্চ, একটি রাষ্ট্র)। কারণ তাহলে হয়তো আমরা সেই উপসংহারে পৌছাবো যে প্রতিটি ব্যাক্তি স্বাধীন যখন একটি গোষ্ঠী একক ব্যক্তির কামনাকে দমন করে রাখে ( যা উদ্ভুত হয় নীচু, অসামাজিক সত্তা থেকে), এবং এটি এর ইচ্ছা তাদের উপর চাপিয়ে দেয়। আর এই দিক পরিবর্তনের যে বিষয়টি বার্লিনকে বিশেষভাবে চিন্তিত করেছিল সেটি হচ্ছে এটি একক ব্যক্তির উপর নির্যাতন বা জোরপূর্বক কিছু করতে বাধ্য করার বিষয়টিকে যুক্তিযুক্ত করে, আর সেটি শুধুমাত্র সামাজিক সুবিধা নিশ্চিত করার একটি উপায় হিসাবে নয়, যেমন, নিরাপত্তা আর সহযোগিতা, বরং সেই ব্যক্তিদের নিজেদের স্বাধীন করার একটি উপায় হিসাবে।

এই জোর করার বিষয়টি আসলেই জোর করার মত কোনো বিষয় হিসাবে দেখা হয়না, বরং দেখা হয় মুক্ত করা হচ্ছে এমন একটি হস্তক্ষেপ হিসাবে এবং এর বিরুদ্ধে কোনো প্রতিবাদকে বাতিল করে দেয়া হয় নীচু সত্তার একটি অভিব্যক্তি হিসাবে, যেমন, মাদকের জন্যে আসক্তির তীব্র তৃষ্ণা। বার্লিন এটিকে বলেছিলেন, ”মনস্ট্রাস ইমপারসোনেশন” ( ভয়ঙ্কর ছদ্মবেশিতা) । ক্ষমতায় যারা থাকেন তাদের যা সুযোগ দেয়, মানুষ এবং সমাজের সত্যিকার ইচ্ছাগুলো অবজ্ঞা করতে, তাদের উপর জোর খাটাতে, নির্যাতন করতে তাদের ‘আসল’ সত্তার নামে এবং সেটি পক্ষ হয়ে। জর্জ অরওয়েলের উপন্যাস নাইনটিন এইটি ফোরের (১৯৪৯) কথা হয়তো এটি স্মরণ করিয়ে দেবে, যা দেখিয়েছিল কিভাবে একটি স্ট্যালিনবাদী রাজনৈতিক দল, সত্য সম্বন্ধে এর নিজস্ব ধারণা ব্যক্তির উপর চাপিয়ে দেয়, দলের নেতাকে ভালোবাসতে তাকে স্বাধীন করার মাধ্যমে)। নাৎসি জার্মানীর এবং স্ট্যালিনবাদী রাশিয়ার কতৃত্ববাদী সরকারগুলো কিভাবে স্বাধীনতার ধারণাকে অপব্যবহার করেছিল সেই বিষয়ে বার্লিন ভেবেছিলেন । আর তিনি সঠিক ছিলেন এধরনের চিন্তা করার প্রক্রিয়াগুলোর বিপদ সবার নজরে এনে।

কিন্তু এর মানে এই না পজিটিভ স্বাধীনতার প্রবর্ধন সবসময়ই ভুল। বার্লিন নিজেও এমন কোনো দাবী করেননি, এবং তিনি লক্ষ করেছিলেন যে নেগেটিভ স্বাধীনতাকেও ঠিক একইভাবে অপব্যবহার করা যেতে পারে। কিছু মানুষের হয়তো আসলে সাহায্য লাগতে পারে বুঝতে, তাদের নিজেদের জন্যে কোনটি ভালো পদক্ষেপ এবং কিভাবে তারা তাদের পূর্ণ সম্ভাবনা কাজে লাগতে পারবেন। এবং আমরা এমনকি বিশ্বাসও করতে পারি যে, তাদের সেটি করতে সহায়তা করা রাষ্ট্রেরও একটি দায়িত্ব হতে পারে। আর আসলেই, বাধ্যতামূলক শিক্ষার নেপথ্যে এটাই প্রধান যুক্তি। আমাদের অবশ্যই দরকার আছে যে শিশুরা স্কুলে যাবে ( তাদের নেগেটিভ স্বাধীনতাকে যা খুব কঠেোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করে) কারণ আমরা বিশ্বাস করি স্কুলে যাওয়ার বিষয়টি আসলেই তাদের নিজেদের জন্যেই প্রয়োজনীয়। শিশুরা নিজেরা যা ইচ্ছা তাই করতে পারবে এমন একটি কোনো পরিস্থিতিতে ছেড়ে দেয়া, তর্কসাপেক্ষ, অবহেলা আর নির্যাতনের সমতুল্য। প্রাপ্ত বয়স্কদের ক্ষেত্রেও, এমনকি যুক্তি দেয়া যায় যে, এর নাগরিকদের একটি সমৃদ্ধ আর পরিপূর্ণ জীবন কাটাতে সহায়তা করা রাষ্ট্রের একটি দায়িত্ব। আর এই ধরনের সহায়তা বিশেষভাবে জরুরী মুক্তবাজার অর্থনীতির সমাজগুলোয়,যেখানে, বিজ্ঞাপনদাতারা বিরতিহীনভাবে নীচু সত্তার চাহিদা মেটাতে আমাদের প্রলোভিত করে যাচ্ছে)। এছাড়াও হতে পারে যে কিছু মানুষ তাদের জীবনের অর্থ আর লক্ষ্য খুজে পায় আরো ব্যপক কোনো সামাজিক ও রাজনৈতিক আন্দোলনের সাথে একাত্মতা ঘোষণা করে, যেমন, নারীবাদ, আর তাদের সেটি করতে সহায়তা করে আমরা তাদের নিজেদের মুক্ত করতে সহায়তা করি।

অবশ্যই এইসব আরো বহু প্রশ্নের জন্ম দেয়। আমাদের বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থা আসলেই কাজ করে শিশুদের স্বার্থ নিশ্চিত করতে অথবা একটি তাদের গড়ে পিটে এমন একটি রুপে তৈরী করে, যা সামাজিক আর অর্থনৈতিকভাবে উপযোগী। কে তাহলে সিদ্ধান্ত নেবে কোনটি সমৃদ্ধ আর পরিপূর্ণ জীবন? কিভাবে কোনো রাষ্ট্র বৈধ উপায়ে অন্য মানুষদের সহায়তা করতে পারে ভালো একটি জীবন কাটাতে? আসলেই কি জোর করে কোনো কিছু করতে বাধ্য করা গ্রহনযোগ্য হতে পারে কোনো সময়? এইসব প্রশ্নগুলো আসলেই আমরা কোন ধরনের সমাজে বাস করতে চাই সেই বিষয়ে, এবং কোনো সহজ উত্তরও নেই এই প্রশ্নগুলোর। কিন্তু নেগেটিভ আর পজিটিভ স্বাধীনতার মধ্যে পার্থক্য কি, এটি বুঝতে দেবার মাধ্যমে বার্লিন আমাদের একটি শক্তিশালী উপায় দিয়ে গেছেন এই বিষয়গুলো নিয়ে ভাবার জন্যে।

আইজাইয়া বার্লিনের স্বাধীনতা

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  পরিবর্তন )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  পরিবর্তন )

Connecting to %s