ইয়োহানেস ভারমিয়ের: নিরাভিমান সৌন্দর্য দেখার চোখ..

( গ্রেট থিংকার্স সিরিজ থেকে পরীক্ষামূলকভাবে: আসমা সুলতানা ও কাজী মাহবুব হাসান)

girl-with-a-pearl-earring-5(Girl with a Pearl Earring c. 1665)

মিথ্যা গ্ল্যামার বা চাকচিক্যপূর্ণ মোহিনী সৌন্দর্যে সম্পৃক্ত একটি পৃথিবীতে আমরা বাস করি। বাস্তবিকভাবে, সমস্যাটির মূল কিন্তু গ্ল্যামারে নয়, বরং সেই সব বিষয়গুলোতে, যেগুলোকে গ্ল্যামারাস বলে বিবেচনা করবো বলে আমরা সামষ্টিকভাবে ঐক্যমতে পৌছেছি। অবশ্যই  এই গ্ল্যামারের পুরো ধারণাটিকে আমাদের জীবন থেকে নিশ্চিহ্ন করার মধ্যে কোনো অগ্রগতি হবে না। এর পরিবর্তে বরং আমাদের যা করা প্রয়োজন সেটি হচ্ছে আমাদের প্রশংসা আর উত্তজেনাগুলো আরো প্রজ্ঞার সাথে সেই সব জিনিসগুলোর প্রতি নির্দেশিত করা, যেগুলো আসলেই মর্যাদা পাবার যোগ্যতা রাখে।

শিল্পীরা মৌলিক যে কাজটি আমাদের জন্যে করতে পারেন, সেটি হচ্ছে এই গ্ল্যামারের স্পটলাইটি সবচেয়ে সেরা, – ও সবচেয়ে সহায়ক দিকে – ঘুরিয়ে দিতে পারেন। তারা সেই জিনিসগুলো শনাক্ত করতে পারেন, আমাদের যা উপেক্ষা করার প্রবণতা আছে, কিন্তু আদর্শিকভাবেই আমাদের যা অনেক বেশী গুরুত্ব দেয়া উচিৎ। এবং যে পেলবতা, সৌন্দর্য আর প্রজ্ঞার সাহায্যে তারা সেইসব জিনিসগুলো আঁকেন, আমরাও সেই জিনিসগুলোর সত্যিকার মূল্য অনুধাবন করতে শিখি।

800px-johannes_vermeer_-_het_melkmeisje_-_google_art_project(The Milkmaid, c. 1657–1658)

পরিচারিকা রমণী- রুটি আর দুধ – ১৬৫০ এর শেষার্ধে চিত্রকর্মের বিষয় হিসাবে বিশেষভাবে আকর্ষণীয় কোনো কিছু ছিলনা, যখন ইয়োহানেস ভারমিয়ের তার বিখ্যাত ‘মিল্কমেইড’ এঁকেছিলেন। তিনি এমন কোনো মডেল খোঁজার চেষ্টা করেননি, যে কিনা ইতিমধ্যে বিশেষভাবে খ্যাতিমান। এর পরিবর্তে তিনি তার সময় কাটিয়েছিলেন খুব সতর্কভাবে একটি দৃশ্যের দিকে তাকিয়ে, যে দৃশ্যটি তিনি আসলেই ভালোবেসে ছিলেন, কিন্তু সেই একই দৃশ্য সেই সময়ে অধিকাংশ মানুষের বিবেচনায় ছিল বিরক্তিকর এবং এক মুহূর্তের জন্যেও বিবেচনাযোগ্য নয়।

ভারমিয়ের পরিচারিকা রমণীর পাত্রে দুধ ঢালার এই দৃশ্যটিকে এমন ভাবে দেখেছিলেন যে তিনি অনুভব করেছিলেন এটি আরো দীর্ঘ গভীর চিন্তা আর প্রশস্তি পাবার যোগ্য। তিনি ভেবেছিলেন যে আসলেই গুরুত্বপূর্ণ কিছু সেখানে ঘটছে। পার্থিব হিসাব নিকাশে খুব সাধারণ নিরভিমান একটি পরিস্থিতি। যে কক্ষটিতে দৃশ্যটি ঘটছে সেটিও কোনোভাবে অভিজাত নয়, খুবই সাদামাটা। কিন্তু যে যত্নের সাথে রমণীটি সেই কাজটি করছিলেন সেটি খুব সুন্দর। ভারমিয়েরকে মুগ্ধ করেছিল সেই ধারণাটি, হয়তো আমাদের সত্যিকারের প্রয়োজনগুলো খুব সামান্যই হতে পারে। দুধ আর রুটি আসলেই খুবই তৃপ্তিকর। জানালা দিয়ে ঘর আসা আলোটিও সুন্দর। নিরাভরণ একটি সাদা দেয়ালও চিত্তাকর্ষক হতে পারে।

ভারমিয়ের যা কিছু আঁকতেন সেটির মর্যাদা বাড়িয়ে এই গ্ল্যামারটিকে পুনর্বন্টন করেছিলেন। তিনি চেষ্টা করেছিলেন যেন আমরাও ঠিক সেভাবেই অনুভব করি। মিল্কমেইড হচ্ছে গার্হস্ব্য সুখের একধরনের প্রচারণা ( অথবা একটি বিজ্ঞাপন)।

 

 

ভারমিয়ের জন্ম গ্রহন করেছিলেন ১৬৩২ সালে, ছোট কিন্তু সুন্দর শহর ডেলফ্‌ট এ। যেখানে তার বাবা মোটামুটি সফল একজন শিল্পকলা-ব্যবসায়ী কাম সরাইওয়ালা বা ইনকিপার ছিলেন। জীবনের প্রায় পুরোটা সময় ভারমিয়ের এই শহরেই কাটিয়েছিলেন। ২১ বছর বয়সে তার বিয়ে হবার পর ডেলফ্‌ট থেকে তিনি কখনোই আর বাইরে বের হননি। এমনকি তার নিজের প্রিয় বাড়ি থেকে তিনি কদাচিৎ বের হয়েছেন। তিনি ও তার স্ত্রী ক্যাথারিনার মোট দশটি সন্তান হয়েছিল ( এবং আরো বেশী সংখ্যক গর্ভধারণ)। তিনি তার বহু চিত্রকর্মই এঁকেছিলেন দোতালার সামনের ঘরগুলোয়। ভারমিয়ের খুব ধীরে ছবি আঁকতেন, এবং, বাস্তবিকভাবে শুধু চিত্রকরই নন, , বাবার সরাইখানা পরিচালনা এবং শিল্পকর্ম বেচাকেনার মাধ্যমে তিনি তাদের পারিবারিক ব্যবসাও অব্যাহত রেখেছিলেন, এক পর্যায়ে স্থানীয় শিল্পীদের বাণিজ্যিক সংঘটন বা গিল্ডের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন। সমসাময়িক মানদণ্ডে তার পেশাগত জীবন অবশ্যই সফল ছিলনা। তার জীবদ্দশায় বিশেষ করে তিনি সুপরিচিত ছিলেন না, এছাড়া বেশী অর্থ তিনি উপার্জনও করতে পারেননি।

বাস্তবিকভাবে তিনি (সেই সময়ের হল্যান্ডে) নতুন, গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠা ‘মধ্যবিত্ত’ শ্রেণীর একজন দৃষ্টান্তমূলক সদস্য ছিলেন। ভারমিয়ের যখন তার কৈশোরে, তখন হল্যান্ড ( অথবা কার্যত দ্য সেভেন প্রভিন্সেস) স্বাধীন রাষ্ট্র হিসাবে আত্মপ্রকাশ করেছিল, পৃথিবীর প্রথম ‘বুর্জোয়া প্রজাতন্ত্র’। যা চারপাশে ঘিরে থাকা আধা-সামন্তবাদী অভিজাত শ্রেণীর কতৃত্বাধীন রাজ্যগুলো থেকে বৈশিষ্ট্যসূচকভাবে ভিন্ন ছিল। হল্যান্ড প্রথমবারের মত সেই সব মানুষগুলোকে সন্মান, মর্যাদা আর রাজনৈতিক শক্তি দিয়েছিল, যারা সমাজের শীর্ষ স্থানীয় শ্রেণীগুলোর সদস্য ছিলনা: ব্যবসায়ী, প্রশাসক, সফল শিল্পী-কারিগর আর উদ্যোক্তা। পৃথিবীর এটাই প্রথম দেশ যা শনাক্তযোগ্যভাবেই আধুনিক হিসাবে চিহ্নিত করা সম্ভব ছিল।

খ্রিস্টীয় ধর্মতত্ত্বের একটি অসাধারণ অন্তর্জ্ঞান – অবশেষে যা এটিকে একে ঘিরে থাকা ধর্মতত্ত্ব থেকে বিয়োজনযোগ্য – সেটি হচ্ছে প্রত্যেকেরই অন্তর্জগৎ গুরুত্বপূর্ণ, এমনকি যদিও বাইরে থেকে তাদের দেখতে আপাতদৃষ্টিতে স্বতন্ত্র কিছু মনে নাও হতে পারে। (আধ্যাত্মিক দৃষ্টিকোণ থেকে) একজন শিক্ষানবীশ দর্জির অনুভূতি আর ভাবনা, একজন সম্রাট অথবা একজন সেনাপতির অনুভূতি আর ভাবনার মতই মূল্যবান হতে পারে।

the-girl-with-a-pearl-earring(Girl with a Pearl Earring c. 1665)

ভারমিয়ের তার ‘দ্য গার্ল উইথ এ পার্ল ইয়াররিং’ এঁকেছিলেন ঠিক একই ধরনের গুরুত্ব দিয়ে। বাইরের পৃথিবীর দৃষ্টিতে এই রমনীটি কোনো বিখ্যাত বা গুরুত্বপূর্ণ কেউ নন, তিনি বিত্তশালীও নন। যে কানের দুলটি তিনি পরে আছেন, সেটি সুন্দর, আর সেই সময়ের ফ্যাশনসচেতন বিশ্বে এই কানের দুলটি তুচ্ছ একটি অলংকারমাত্র। কিন্তু হয়তো এটাই তার সম্বলে থাকা সবচেয়ে মূল্যবান একটি দ্রব্য। কিন্তু ন্যায়বিচারে কোনো প্রয়োজনীয়তা নেই তার, সে নিপীড়িত কেউ নয় অথবা সারা পৃথিবী তার সাথে নির্দয় আচরণ করেনি, সে খুবই সাধারণ ( অন্য কোনো ভালো শব্দে না পেয়ে)। কিন্তু অবশ্যই তারপরও সে (বাকী সবার মতই) আদৌও গড়পড়তা সাধারণ কেউ নয়। সে স্বতন্ত্রভাবে, রহস্যময়তার সাথে এবং গভীরভাবে তার নিজস্ব একটি সত্তা, সে নিজেই।

johannes_vermeer_-_gezicht_op_huizen_in_delft,_bekend_als_'het_straatje'_-_google_art_project(The Little Street, c. 1657–58)

যে চিত্রকর্মটি খুব চমৎকারভাবে ভারমিয়েরের দর্শনকে সারসংক্ষেপ করে, ‘দ্য লিটল স্ট্রিট’, যা এখন পৃথিবীর অন্যতম বিখ্যাত চিত্রকর্মগুলোর একটি। আমস্টারডামের রাইখ মিউজিয়ামে এর একটি গর্বিত বিশেষ স্থান আছে, এর বীমার পরিমান অর্ধ বিলিয়ন ইউরো, এবং এটি অসংখ্য গবেষণামূলক প্রবন্ধের একটি বিষয়।

কিন্তু তারপরও চিত্রকর্মটি বেশ অদ্ভুতভাবে, এবং সুনির্দিষ্টভাবে, এর মর্যাদার সাথে অসঙ্গতিপূর্ণ । কারণ সবকিছুর উপরে, এটি আমাদের প্রদর্শন করছে যে, আটপৌরে সাধারণও খুব বিশেষ কিছু হতে পারে। ছবিটি বলছে যে, এই সাধারণ কিন্তু সুন্দর বাড়ির পরিচর্যা, উঠান ও প্রাঙ্গন পরিষ্কার করা, শিশুদের দেখাশুনা করা, কাপড়ের রিফুকর্ম করা, এবং কোনো হতাশা ছাড়াই, বিশ্বস্ততার সাথে এইসব কিছুই করা হচ্ছে জীবনের আসল কর্তব্য।

এটি অ্যান্টি-হিরোইক বা বীরোচিত-বিরোধী একটি চিত্রকর্ম: গ্ল্যামারের মিথ্যা ইমেজের বিরুদ্ধে একটি অস্ত্র। এটি মেনে নিতে অস্বীকার করে যে, সাহসিকতাপূর্ণ বিস্ময়কর কোনো কিছু সম্পাদনে অথবা কোনো সামাজিক মর্যাদা অর্জনের উপর আসল গ্ল্যামার নির্ভর করে। এটি যুক্তি দেয়, সাধারণ দ্বায়িত্বগুলো পালন করা, যা আমাদের সবার কাছে প্রত্যাশিত, যথেষ্ট। চিত্রকর্মটি আপনাকে খানিকটা এর মত হতে অনুরোধ করে: যে দৃষ্টিভঙ্গিটি এটি ভালোবাসে সেটি গ্রহন করতে আর সেটি আপনার জীবনে প্রয়োগ করতে তাগিদ দেয়।

ভালো, সুশীল সমাজের যদি কোনো ভিত্তিমূলক সনদ থেকে থাকে, এই ছোট চিত্রকর্মটি সেটি হতে পারে। সুখকে বোঝার পার্থিব সব প্রচেষ্টায় এটি মৌলিক একটি অবদান।

ভারমিয়ের  বেশী দিন বাঁচেননি, জীবনের চল্লিশের দশকের প্রারম্ভেই তিনি মারা যান, ১৬৭৫ সালে।

কিন্তু তিনি খুব গরুত্বপূর্ণ একটি বার্তা – বিশেষভাবে অত্যন্ত সুস্থ – ধারণা তার কাজে সঞ্চারিত করেছিলেন: আমাদের জন্যে গুরুত্বপূর্ণ অনেককিছুই আসলে উত্তেজনাপূর্ণ, জরুরী, নাটকীয়, অপরিহার্য অথবা বিশেষ কিছু নয়। জীবনের অধিকাংশ সময় অতিক্রান্ত হয় সেই জিনিসগুলোর পরিচর্যায়, যা আটপৌরে, সাধারণ, নিরভিমান, এবং (সততার সাথে বললে) খানিকটা একঘেয়ে। গড়পড়তা, দৈনন্দিন সাধারণ বিষয়গুলো মূল্যায়ন করার দৃষ্টিভঙ্গি যেন আমরা অর্জন করতে পারি, আমাদের সংস্কৃতির সেদিকে মনোযোগ দেয়া উচিৎ।

800px-vermeer-view-of-delft(View of Delft ca. 1660–1661)

যখন ভারমির তার প্রিয় শহরের ছবি একেছিলেন তিনি কোনো বিশেষ দিন বেছে নেননি: সেদিন আকাশ যেমন মেঘলা ছিলনা তেমনি বিশেষ র‍ৌদ্রকরোজ্জ্বলও ছিলনা। কিছুই সেখানে ঘটছিল না। কোনো সেলেব্রিটিও সেখানে ছিলনা। কিন্তু তারপরও তিনি আমাদের শিখিয়েছিলেন, এইসব কিছুই আসলেই খুব অসাধারণ।

শান্ত আর অন্তর্বীক্ষণপ্রবণ এই শিল্পী যে একজন বিরল প্রতিভা সেটি শনাক্ত করতে শত বছর অতিক্রান্ত হতে হয়েছিল । আজ তাকে এতটাই সন্মান করা হয় যে বুঝতে কষ্ট হয়ে আসলেই একসময় তিনি কতটা অপরিচিত ছিলেন। এমন কিছু বলা অবশ্যই ঠিক নয় যে তিনি বিস্মরিত হয়েছেন, যা ইঙ্গিত করে তিন তার জীবদ্দশায় বিখ্যাত ছিলেন। তিনি অবশ্যই তা ছিলেন না। ভারমিয়ের সপ্তদশ শতকের ডাচ শিল্পীদের মধ্যে একজন ছিলেন, যারা পারিশ্রমিকের বিনিময়ে ছবি আঁকতেন। তিনি রেমব্রান্টের মত তারকা ছিলেন না। কিন্তু তার নিজেকে আর তার শিল্পকলা নিয়ে গভীরভাবে ভাবতেন, অনুনকরণীয় একাগ্রচিত্তা সেখানে ছিল। তার নিজের প্রতি তথ্য-নির্দেশকারী ‘দি আর্ট অব পেইন্টিং’ সুস্পষ্টভাবেই সেটি প্রদর্শন করছে। সারাজীবনই তিনি ডেলফট এ কাটিয়েছেন, মাত্র ৩৫ টি চিত্রকর্ম সমাপ্ত করেছিলেন, ১৬৭৫ সালে পরিবারকে আর্থিক সংকটে রেখে তিনি মারা যান। তার শিল্পকর্মের পলায়নপরতা আর সূক্ষ্মতা সেই সময়ের বর্ণ্যাঢ্য  বারোক শৈলীর বিপরীত একটি রুপ ছিল। তার চিত্রকর্মের আদর্শ প্রচলিত হয়েছিল পরবর্তী রোমান্টিক যুগে।

ভারমিয়েরকে মনে হতে পারে অন্য একজন জনরা শিল্পীদের মত, প্রাত্যহিক জীবনের চিত্র আকা নিরভিমান শিল্পী, কিন্তু তিনি কিভাবে এত বিখ্যাত হয়ে উঠেছিলেন আধুনিক যুগে যে ১৯৩০ সালে হান্স ভান মিয়েরগেরেন তার একটি চিত্রকর্ম নকল করে শিল্পকলার জগতে অন্যতম কুখ্যাত জালিয়াতির ঘটনাটি ঘটিয়েছিলেন। ফরাসী আভঁ-গার্ড শিল্পীরাই তাকে উনবিংশ শতকে বিস্মরণ থেকে উদ্ধার করেছিলেন। তার চিত্রকর্ম ‘উওমেন ইন ব্লু রিডিং এ লেটার’ অথবা ‘দ্য লিটল স্ট্রিটের’ সাথে ধরুন, এডওয়ার্ড মানে’র ‘এ বার অ্যাট দ্য ফোলি- বেজেরে’ (১৮৮২) অথবা পিসারোর ‘দ্য বুলেভার্ড মঁমার্ট অ্যাট নাইট’ (১৮৯৭) তুলনা করুন, বুঝতে সহজ হবে প্যারিসীয় বোহেমিয়া তার শিল্পকলার সহজাত দর্শকদের খুঁজে পেয়েছিল। ফ্রান্সের আধুনিকতাবাদী শুরু পর্বের শিল্পীরা সাধারণ পরিবেশে সাধারণ মানুষের প্রতি সংবেদনশীল দৃষ্টি নিয়ে তাকিয়েছিলেন। ভারমিয়েরের ‘উওমেন রিডিং এ লেটার’, যার বিষয় আমরা শুধু অনুমান করতে পারি, সেই একই অন্তর্বীক্ষণ ধারণ করে যার আমরা লক্ষ করেছি ডেগার ‘দ্য অ্যবসিন্থ ডিংকারের’ বিষণ্নতার গভীরতায়।

এই সব শিল্পীরাই সম্ভবত ভারমিয়ের কাজ সম্বন্ধে জানতেন এবং মুগ্ধ হয়েছিলেন, যার কারণ একজন বৈপ্লবিক শিল্প-সমালোচক থোরে-বুরগার, ১৮৪৮ সালের বিপ্লবের একজন সৈনিক, যিনি এই ডাচ মাস্টারসহ সমসাময়িক ডেলাক্রোয়া আর অঙগ্রেকে সমর্থন করেছিলেন। ভারমিয়ের এর পুনরাবিষ্কার আধুনিক ফরাসী শিল্পকলার একটি অংশ,  সপ্তদশ শতকের ডাচ শিল্পীদের মত যারা প্রাত্যহিক জীবনের নানা জিনিসকে ক্যানভাসে তুলে এনেছিলেন, মানের যুগেও শিল্পীরা সেই কাজটি করেছিল, যা কিছু বাস্তব আর নিরহঙ্কারী, তারা সেটি আঁকতে চেয়েছিলেন। মানে এবং লাতুর এমনকি ২০০ বছর আগের ডাচ শিল্পীদের মত সংবেদনশীল ফুলের চিত্রকর্মও একেছিলেন।  ভারমিয়ের শুধু মহান শিল্পীই নন, তিনি একজন মহান আধুনিক শিল্পীও।

Advertisements
ইয়োহানেস ভারমিয়ের: নিরাভিমান সৌন্দর্য দেখার চোখ..

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  পরিবর্তন )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  পরিবর্তন )

Connecting to %s