বাস্তবতার জাদু : তৃতীয় অধ্যায়

13567361_313356975719196_2705950465496234074_n

রিচার্ড ডকিন্স : দ্য ম্যাজিক অব রিয়েলিটি 

কেন এত বেশী বিচিত্র ধরনের জীব?

কোনো প্রাণি যেমন দেখতে, কেন তারা তেমন দেখতে হয় সেটি ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেছে নানা ধরনের পূরাণ কাহিনী – কিংবদন্তীর সেই গল্পগুলো ‘ব্যাখ্যা’ করেছে যেমন, কেন চিতাবাঘের গায়ে ফোটা ফোটা দাগ থাকে, কেন খরগোশের সাদা লেজ থাকে । কিন্তু খুব বেশী কোনো পূরাণ কাহিনী নেই যা কিনা পৃথিবীতে এই অসংখ্য ধরনের বৈচিত্রময় জীবদের অস্তিত্বের কারণের ব্যপারে কিছু ব্যাখ্যা দেবার চেষ্টা করেছে। টাওয়ার অব বাবেল এর সেই ইহুদী পুরাণ কাহিনীর সমতুল্য আমি কোনো কিছু পাইনি, যা বহু ধরনের বৈচিত্রময় ভাষার উপস্থিতি ‘ব্যাখ্যা’ করেছিল। বহু দিন আগে, এই কাহিনী অনুযায়ী, সারা পৃখিবীর মানুষ একই ভাষায় কথা বলতো। সুতরাং তারা ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করে অনেক উচু একটি টাওয়ার নির্মাণ করেছিল, তারা আশা করেছিল সেই টাওয়ারটি যেন আকাশ স্পর্শ করে। কিন্তু ঈশ্বর ব্যপারটি লক্ষ্য করেছিলেন, এবং সবাই যে অন্য সবাইকে বুঝতে সক্ষম হচ্ছে বিষয়টি তার বিশেষ পছন্দ হয়নি। কারণ মানুষরা যদি সবাই সবার ভাষা বোঝে আর একসাথে কাজ করে, এরপরে তাহলে তারা কি না করতে পারে? সুতরাং তিনি সিদ্ধান্ত নিলেন তাদের ভাষাগুলোকে ‘বিশৃঙ্খল আর তালগোল পাকিয়ে’ দেবেন, যেন তারা একে অপরের কথা বুঝতে না পারে। সুতরাং এই পূরাণ কাহিনীটি বলছে, কেন পৃথিবীতে এত ভিন্ন ভিন্ন ভাষা আমরা দেখতে পাই এবং কেন, যখন মানুষ অন্য গোত্র বা দেশের মানুষের সাথে কথা বলতে চায়, তাদের কথা শুনলে পরস্পরের কাছে মনে মনে হয় অর্থহীন বকবকানী। যথেষ্ট অদ্ভুত ব্যপার ইংরেজী ব্যবল ( যার অর্থ অসংলগ্ন বা অর্থহীন কথা বলা বা বকবক করা) আর টাওয়ার অব বাবেল এর মধ্যে কোনে শব্দের উৎপত্তিগত যোগসূত্রতা নেই।

আমি একই ধরনের পূরাণ খুজে পাবো বলে আশা করেছিলাম, যা কিনা পৃথিবীতে নানা ধরনের বৈচিত্রময় জীবদের উপস্থিতি ব্যাখ্যা করবে, কারণ প্রাণি ও ভাষা বিবর্তনের মধ্যে খানিকটা সদৃশ্যতা আছে, যেমনটি আমরা দেখবো। কিন্তু আপাতদৃষ্টিতে মনে হচ্ছে এমন কোনো পুরাণ নেই যা সুনির্দিষ্টভাবে বহু বিচিত্র প্রাণিদের অতি বিশাল সংখ্যাটি ব্যাখ্যা করেছে। এটি বেশ বিস্ময়কর, কারণ পরোক্ষ প্রমাণ আছে যে আদিবাসী মানুষরা সেই বাস্তব সত্যটি সম্বন্ধে সচেতন ছিল যে বহু ধরনের প্রাণি আছে। ১৯২০ এর দশকে, এখন অত্যন্ত বিখ্যাত জার্মান বিজ্ঞানী, আর্নস্ট মায়ার পাপুয়া নিউ গিনির হাইল্যাণ্ডে পাখিদের নিয়ে যুগান্তকারী একটি গবেষণা করেছিলেন। তিনি প্রায় ১৩৭ প্রজাতির বিবরণ লিপিবদ্ধ করেন, এবং এরপর তিনি আবিষ্কার করেন, অবশ্যই বিস্ময়ের সাথে, স্থানীয় পাপুয়া আদিবাসীদের কাছে এই ১৩৬ পাখির জন্য আলাদা আলাদা নাম আছে।

Continue reading “বাস্তবতার জাদু : তৃতীয় অধ্যায়”

বাস্তবতার জাদু : তৃতীয় অধ্যায়