ইসলাম এবং সহিষ্ণুতার ভবিষ্যৎ: একটি সংলাপ – স্যাম হ্যারিস এবং মাজিদ নাওয়াজ

CYN8ZrzWAAAgdds

ইসলাম এবং সহিষ্ণুতার ভবিষ্যৎ: একটি সংলাপ – স্যাম হ্যারিস এবং মাজিদ নাওয়াজ (প্রথম পর্ব) 

হ্যারিস: মাজিদ, এই সংলাপে অংশ নিতে সময় দেবার জন্য তোমাকে অনেক ধন্যবাদ। আমি মনে করি, তুমি যে কাজটি করছো তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমি নিশ্চিৎ নই ইসলাম অথবা বিশ্বাসটির সংস্কারের ভবিষ্যৎ নিয়ে আমরা কতটা একমত হতে পারবো – এবং অবশ্যই প্রয়োজনীয় সেই সব ক্ষেত্রগুলো শনাক্ত করা যেখানে আমার মত ভিন্ন – কিন্তু আমি তোমাকে জানাতে চাই যে আমার প্রধান ‍উদ্দেশ্য হচ্ছে তোমাকে সমর্থন করা।
নাওয়াজ: তোমার সমর্থনের জন্য অনেক ধন্যবাদ, আসলেই আমি কৃতজ্ঞ। যেমন তুমি জানো, আমরা খুব নাজুক একটি বিষয় নিয়ে আলোচনা করছি, টান টান দড়ির উপর দিয়েই হাটছি আর চেষ্টা করছি আমাদের সাথে আরো অনেককেই নিয়ে আসতে যারা বহু ক্ষেত্রেই সামনের দিকে অগ্রসর হতে চায় না। অবশ্যই খুবই প্রয়োজন যে আমাদের এই সংলাপ হওয়া দরকার যতটা সম্ভব ততটাই দ্বায়িত্বশীল উপায়ে।
হ্যারিস: একমত তোমার সাথে। আমি শুরু করতে চাই আমাদের প্রথম দেখা হবার সেই মুহুর্তটার কথা মনে করে, কারণ আমার কাছে সেই মূহুর্তে মনে হচ্ছিল ‍তুমি টানটান দড়ির উপর দিয়েই হাটছো। বাস্তবিকভাবেই, আমাদের প্রথম সাক্ষাতটি বরং বেশ অমঙ্গলসূচক ছিল।
২০১০ এর অক্টোবরে, আমি Intelligence Squared বিতর্কের সময় উপস্থিত ছিলাম, যেখানে তুমি আমার বন্ধু আয়ান হারসি আলি আর ডগলাস মারের সাথে বীপরিত পক্ষে একটি বিতর্কে অংশ নিয়েছিলে। পরে আয়োজক, অংশগ্রহনকারী আর অতিথিদের জন্য আয়োজিত একটি পার্টিতে আমাদের দেখা হয়েছিল। সবাই বিতর্ক নিয়ে সংক্ষিপ্ত মন্তব্য করছিল এবং এভাবেই আলোচনা অব্যাহত ছিল এবং কোনো একটি মূহুর্তে আয়ান বলেছিল, ‘আমি জানতে চাই এই বিষয়ে স্যাম হারিসের কিছু বলার আছে কিনা’? যদিও সেই মুহুর্তে আমি ভদকা টনিক পান করে ফেলেছি বেশ খানিকটা। তাসত্ত্বেও আমি যা বলেছিলাম, কম বেশী হুবুহু আমার মনে আছে। আমি আমার মন্তব্যটি করেছিলাম সরাসরি তোমার প্রতি। আমাদের মধ্যে তখনও কোনো ধরনের প্রাথমিক আলাপ হয়নি। আমি মনে করিনা আমি কে সেই বিষয়ে তোমার কোনো ধারণাও ছিল।
আমি, মূলত, যা বলেছিলাম, সেটি হচ্ছে – মাজিদ আমার তোমার জন্য একটি প্রশ্ন আছে। আমার মনে হয়েছে তার কাজটি প্রায় অসম্ভব একটি কাজ এবং তারপরও অনেক কিছুই নির্ভর করছে তোমার কাজটি সুসম্পন্ন করার উপর। তুমি পৃথিবীকে বিশ্বাস করাতে চাইছো যে – বিশেষ করে মুসলিম বিশ্বকে – ইসলাম হচ্ছে শান্তির ধর্ম যা ছিনতাই করেছে চরমপন্থীরা। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে ইসলাম শান্তির ধর্ম নয় এবং এইসব তথাকথিত চরমপন্থীরা যা বাস্তবায়ন করতে চাইছে যা তর্কসাপেক্ষে এই ধর্মবিশ্বাসটির সত্যিকার মতবাদের সবচেয়ে সৎ একটি পঠন। সুতরাং আজ মঞ্চে তোমার রণকৌশল – ধর্মগ্রন্থের ব্যাখ্যা সংক্রান্ত যে দাবীগুলো তুমি করেছিলে এবং ঐতিহাসিক সেই প্রাসঙ্গিকতা যার দ্বারা কোরানের কিছু সুনির্দিষ্ট অনুচ্ছেদ অবশ্যই সবাইকে বুঝতে হবে – আপাতদৃষ্টিতে মনে হচ্ছে আন্তরিকতাশূন্য ও কপট।
এই কক্ষে সবাই চিহ্নিত করেছে যে, তোমার কাজটি পৃথিবীতে সবচেয়ে কঠিনতম একটি কাজ এবং প্রত্যেকেই কৃতজ্ঞ যে কাজটি তুমি করছো। কাউকে না কাউকে ইসলামকে সংষ্কার করতে হবে ভিতর থেকে এবং স্পষ্টতই এই কাজটি করবে না কোনো ধর্মত্যাগী কেউ যেমন আয়ান ( আয়ান হারসি আলী) অথবা বিধর্মী অবিশ্বাসী কেই যেমন ডগলাস (ডগলাম মারে) কিংবা আমি (স্যাম হারিস)। কিন্তু সংস্কারের এই পথটি ছলনার বলেই মনে হচ্ছে। তুমি মনে হচ্ছে বাধিত হচ্ছো ভান করতে যে এই মতবাদটি আসলেই যা তা নয় বরং অন্য কিছু – যেমন, তোমাকে অবশ্যই ভান করতে হবে যে জিহাদ মানে একটি আভ্যন্তরীন আধ্যাত্মিক যুদ্ধ। অথচ এটি মূলত ধর্মের জন্য যুদ্ধ করার একটি মতবাদ। আমি জানতে চাই, আসলেই বাস্তবিকভাবে বিষয়টিকে তুমি এভাবে দেখছো কিনা। সামনে আগানোর পথ কি তাহলে নির্দিষ্ট কিছু বিষয়কে যথেষ্ট পরিমান দীর্ঘ সময় ধরে দৃঢ়তার সাথে সত্য বলে ভান করা, যেন সেগুলোকে ‘সত্যি’ বানানো যায়?
আমার উচিৎ পুনরাবৃত্তি করা যে তোমার সাথে এই কথোপথনটি আংশিকভাবে জনসমক্ষে ঘটুক সেটা আমি চাইছিলাম। আমাদের কথাবার্তা রেকর্ড করা হয়নি ঠিকই, আমি যতদূর জানি, কিন্তু তারপরও সেখানে প্রায় পচাত্তর জন্য দর্শক উপস্থিত ছিলেন আমাদের কথোপকথন শোনার জন্য। আমি ভাবছিলাম, তোমার কি মনে আছে আমার বলা সেই কথাগুলো কিংবা ‍তুমি কি মনে করতো পারো কি না সেই সময়ে দেয়া তোমার উত্তরটা।
নাওয়াজ: হ্যা, আমার মনে আছে সেটা, আমি খুশি হয়েছি যে তুমি আমাকে এটি মনে করিয়ে দিয়েছো। তোমার সাথে আমি কোনো সংযোগ করতে পারিনি। এছাড়াও আমি কৃতজ্ঞ যে তুমি বিষয়টি উল্লেখ করেছো, যদিও আমাদের কথোপকথন সম্প্রচারিত হচ্ছে না, সেখানে অনেকেই উপস্থিত ছিলেন। আমার কাছে, বাইরের সবার মতই, সেই ঘরের ভিতর উপস্থিত শ্রোতারা যেন আমি যা বলছি সেগুলোকে কেবল কথার কথা হিসাবে গ্রহন না করেন সেই বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিল। বাস্তবিকভাবে, আমার বার্তা দিয়ে মুসলিম-সংখ্যালঘু সমাজগুলোকে প্রভাবিত করার আকাঙ্খা, মুসলিম-সংখ্যাগরিষ্ঠ সমাজগুলোকে প্রভাবিত করার আকাঙ্খার মতই একই রকম শক্তিশালী। আমি যা করার চেষ্টা করছি তার একটি অংশ হচ্ছে একই মনোভাব পোষণ করেন এমন মানুষগুলোর মধ্যে একটি জোট তৈরী করা। এ জন্য তাদের সবাইকে মুসলিম কিংবা অমুসলিম হতে হবে এমন কোনো প্রয়োজন নেই। এর ব্যতিক্রম, আমাদের যা একীভূত করতে পারে সেটি হচ্ছে এক সেট ধর্ম-নিরপেক্ষ মুল্যবোধ। মানব সর্বজনীনতা,গণতান্ত্রিক, এবং সেক্যুলার (শব্দটি ব্রিটেন ও আমেরিকায় যেভাবে ব্যবহৃত হয় সেই অর্থে) মুল্যবোধগুলোর উপর দৃষ্টি নিবন্ধ করার মাধ্যমে আমরা কিছু সাধারণ ঐক্যমতে পৌছাতে পারি। আর অবশ্যই যেটা দরকার সেটা হলো সব ধরনের দর্শকদের এই বার্তাটি শোনা প্রয়োজন, এমনকি সেদিন সেই কক্ষেও এটা সত্য, সেকারণে বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেই দর্শকদের যদি আমি হারাই সেটি আমার সেই শঙ্কাকেই বাস্তবায়ন করবে: বিতর্কের মেরুকরণ হবে দুটি গোষ্ঠীর মধ্যে – যারা দাবী করেন যে ইসলাম হচ্ছে যুদ্ধের ধর্ম এবং সেকারণে এর জন্য যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার জন্য অগ্রসর হচ্ছেন এবং যারা দাবী করছেন ইসলাম হচ্ছে যুদ্ধের ধর্ম এবং যে কারণে তারা এ বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য প্রস্তুত হচ্ছেন। আর সেটি সহজে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে না এমন একটি পরিস্থিতি হবে।
এখন নির্দিষ্টভাবে তোমার প্রশ্নের উত্তরের ক্ষেত্রে আসি, সেদিন আমি যেভাবে উত্তর দিয়েছিলাম, তার কারণ আমি অনুভব করেছিলাম যে তুমি হয়তো ইঙ্গিত করছো যে, আমি হয়তো কোনো ছলনার আশ্রয় নিচ্ছি ইসলামকে শান্তির ধর্ম হিসাবে দাবীর করার ক্ষেত্রে। আমি যদি সঠিকভাবে মনে করতে পারি, তুমি বলেছিলে, বাইরে জন সমক্ষে হয়তো ব্যপারটা বোধগম্য, কিন্তু এখানে, এই কক্ষে, তুমি কি শুধুমাত্র আমাদের সাথে কিছুটা সৎ হতে পারো না?
হ্যারিস: হ্যা, আমি ঠিক এটাই বলেছিলাম।
নাওয়াজ: হ্যা, ‘তুমি কি শুধু এখানে আমাদের সাথে সৎ হতে পারোনা ?’ ইঙ্গিত দিয়েছিল আমি বাইরে ওখানে সৎ নই। আমার সৎ দৃষ্টিভঙ্গী হচ্ছে ইসলাম যুদ্ধের ধর্ম যেমন নয় তেমনি শান্তির ধর্মও নয় – এটি একটি ধর্ম। এর পবিত্র ধর্মগ্রন্থ, অন্য ধর্মগুলোর পবিত্র ধর্মগ্রন্থের মতই, বেশ কিছু অনুচ্ছেদ ধারণ করে যা বহু মানুষই বিবেচনায় অত্যন্ত বেশী মাত্রায় সমস্যাপূর্ণ। একইভাবে সব ধর্মগ্রন্থেই সেই সব অনুচ্ছেদ আছে যেগুলো নির্দোষ। ধর্ম সহজাতভাবে তার নিজের হয়ে কথা বলতে পারেনা, কোন বইই, কোনো লেখারই নিজস্ব কন্ঠস্বর নেই। আমার ‍দৃষ্টিভঙ্গি এটাই, সেটা আমি শেকসপিয়ার অথবা ধর্ম গ্রন্থ, যাই ব্যাখ্যা করিনা কেন, উভয়ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।
সুতরাং আমি কোনো অসততা করিনি সেদিন বলে যে, ইসলাম হচ্ছে শান্তির ধর্ম। পরবর্তীতে অবশ্য আমার সুযোগ হয়েছিল বিষয়টি রিচমণ্ড ফোরামে আরো সুস্পষ্ট করার জন্য , যেখানে আয়ান আর আমি এই বিষয়টি নিয়ে আবার আলোচনা করেছিলাম। ধর্মগ্রন্থের অস্তিত্ব আছে, মানুষ এটি ব্যাখ্যা করে। ইন্টেলিজেন্স স্কোয়ার্ড ফোরামে, বিতর্ক অনুষ্ঠানে এক পক্ষের নিজেকে আটকে রাখার অস্বাভাবিক সীমাবদ্ধতায়,আমি দাবী করেছিলাম, ইসলাম শান্তির ধর্ম শুধুমাত্র এর কারণ সুবিশাল পরিমান সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিমরা মনে করেন না এটি একটি যুদ্ধের ধর্ম। যদি এমন কোনো দাবী করা হয় যে ইসলাম শুধুমাত্র তাই হবে যা এর অনুসারীর ব্যাখ্যা করবে, তাহলে বর্তমানে এটি শান্তির ধর্ম। (১)
জিহাদী মতবাদের বিরুদ্ধে নীরব সংখ্যাগরিষ্ঠকে উদ্দ্বীপ্ত ও সংগঠন করা আমাদের চ্যালেঞ্জের অংশ, যেন এটি সন্ত্রাসী মতবাদকে চ্যালেঞ্জ করা শুরু করে, যা ইতিমধ্যেই জনপ্রিয় করেছে সংগঠিত সংখ্যালঘিষ্ঠরা যারা বর্তমানে সব আলোচনাতেই প্রাধান্য বিস্তার করে আছে। আমি আসলে এটাই যুক্তি দিয়ে বোঝাতে চাইছিলাম ইন্টেলিজেন্স স্কোয়্যার্ড বিতর্কে, কিন্তু বিতর্কের এই প্রস্তাবনা আমাকে বাধ্য করেছিল একটি পক্ষ নেবার জন্য: যুদ্ধ অথবা শান্তি। আমি শান্তি বেছে নিয়েছিলাম।
হ্যারিস: আমি বুঝতে পেরেছি। সেই মূহুর্তটি মনে করার ক্ষেত্রে আমার আগ্রহ কিন্তু মূল ‍উত্তরের জন্য তোমাকে আমার কাছে জবাবদিহি করানো না – এবং হতে পারে যে তোমার চিন্তাও কিছুটা বিবর্তিত হয়েছে। কিন্তু আমাদের কথোপকথন সেদিন খুব স্পষ্টভাবেই থমকে গিয়েছিল। আমি মনে করতে পারছিনা কিভাবে আমরা এর সমাধান করেছিলাম।
নাওয়াজ (হাসি): আমি মনে করতে পারছি না যে আমরা সমাধান করেছিলাম।
হ্যারিস: বেশ, তাহলে আমাদের প্রথম সাক্ষাৎকারে যতটুক প্রয়োজন ছিল তার চেয়ে বেশী পরিমান আশাবাদীতার সাথে নাহয় আমরা শুরু করি, কারণ আমাদের অনেক বিষয় নিয়ে কথা বলতে হবে। তবে, মুল প্রসঙ্গে প্রবেশ করার আগে আমি মনে করি তোমার বিস্ময়কর অতীতের কিছু বিষয় ব্যাখ্যা করে তোমার শুরু করা উচিৎ। হয়তো তুমি আমাদের পাঠকদের জানাতে পারে, কেন আমরা যে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করতে যাচ্ছি সেই বিষয়ে অনেক কিছু জানার মত একটি অবস্থানে তুমি আছো।

চরমপন্হার শিকড়গুলো:


নাওয়াজ:
আমার কাহিনীর একটি সম্পুর্ন সংস্করণ পাওয়া যাবে আমার আত্মজীবনী,  Radical বইটিতে কিন্তু আমি এখানে সংক্ষিপ্তাকারে বিষয়টি উল্লেখ করছি। আমার জন্ম ও বেড়ে ওঠা যুক্তরাজ্যের এসেক্সে, এবং আমি বেড়ে উঠেছি সেই পরিবেশে যাকে আমি ইঙ্গিত করেছিলাম যুক্তরাজ্যের বর্ণবাদের সেই খারাপ পুরোনো দিনগুলো হিসাবে। যে ঘটনাটি যুক্তরাজ্যে বর্ণ সম্পর্কের দিক পরিবর্তন করেছিল, সেটি হলো স্টিফেন লরেন্স এর হ্ত্যাকাণ্ড। যার কারণে একটি সরকারী তদন্ত হয়েছিল, যার পরিণতি ছিল বিখ্যাত ম্যাকফারসন রিপোর্ট (২)। এই রিপোর্টটাই প্রাতিষ্ঠানিক বর্ণবিদ্বেষ শব্দটি প্রথম উদ্ভাবন করেছিল এবং উপসংহারে পৌছেছিল যে যুক্তরাজ্যে পুলিশ বাহিনীর মধ্যে এর অস্তিত্বকে। এটি খুবই গুরুতর একটি অভিযোগ ছিল।
সম্মিলিত সচেতনতায় সেই পরিবর্তন হবার সামান্য কিছু সময় আগেই আমি প্রাপ্তবয়স্ক হয়েছিলাম। আমি এই প্রাতিষ্ঠানিক বর্ণবিদ্বেষে শিকার হয়েছি বেশ কয়েকবার এবং এর ফলশ্রুতিতে অবিশ্বাস্যভাবে মূলধারার সমাজের প্রতি আমার মোহমুক্তি ঘটেছিল। বেশ কয়েকবার আমাকে ভুল করে গ্রেফতার করা হয়েছিল। এই বৈষম্যমূলক আচরণ যখন আমাদের তরুণ জীবনে ঘটছিল তখনই আমরা স্বাক্ষী হয়েছিলাম ইউরোপ মহাদেশে বসনিয়ার গণহত্যার।
স্বাভাবিকভাবে, আমার প্রজন্ম অসন্তুষ্ট, হতাশ ও নিজেদের সমাজ বিচ্ছিন্ন অনুভব করছিল। সেই গুরুতর আত্ম-পরিচয়ের এই সংকটকালীন পরিস্থিতিতে অনুপ্রবেশ করেছিল ইসলামবাদী আদর্শপুষ্ট একটি গোষ্ঠী, যাদের সাথে আমি একপর্যায়ে যোগ দিয়েছিলাম। এই গ্রুপটি, হিজব উৎ তাহরির, কিছুটা বৈপ্লবিক প্রকৃতির, সারা পৃথিবী জুড়ে যারা এখনও সক্রিয় আছে এবং পশ্চিমে আইনসিদ্ধ গোষ্ঠী। ১৯৫৩ সালে জেরুজালেমে ইসরায়েল প্রতিষ্ঠা হবার পর অতীতের একটি মুসলিম পরিচয় সংকটের ক্রান্তি লগ্নে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। হিজব উৎ তাহরির হচ্ছে প্রথম ইসলামবাদী গ্রুপ যারা প্রথম একটি ধর্মভিত্তিক খেলাফত বা ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করার ধারণাটিকে জনপ্রিয় করেছিল। সন্ত্রাসবাদের পরিবর্তে, এর সদস্যরা নতুন সদস্য সংগ্রহ আর মুসলিম জনমতকে জয় করার কৌশল গ্রহন করে মুসলিম প্রধান দেশগুলোয়, যেমন মিসর,তুরস্ক এবং পাকিস্তানে সামরিক অভ্যুত্থানের প্ররোচণা ও উস্কানী দেবার চুড়ান্ত ‍উদ্দেশ্য সফলে।
আমি এই সংস্থায় যোগ দিয়েছিলাম গভীরভাবে ক্ষুদ্ধ, হয়তো মানসিক ও শারীরিকভাবে আঘাতপ্রাপ্ত ষোল বছরের তরুণ হিসাবে যে কিনা হিংস্র বর্ণবিদ্বেষের শিকার হয়েছিল। তবে, আমার সেই সব ক্ষুদ্ধ অভিযোগ অসন্তোষ দীর্ঘদিন ধরেই থমকে ছিল সেই আদর্শবাদী মতবাদের কারণে যা আমি আমার আদর্শ হিসাব গ্রহন করেছিলাম। আমি আমার এই শব্দগুলো খুব সতর্কতা আর পরিকল্পিতভাবে ব্যবহার করছি। ক্ষোভ – অভিযোগ, প্রকৃত কিংবা কল্পিত এককভাবে যথেষ্ট না কাউকে আমূল সংস্কারবাদী বা র‌্যাডিকাল হিসাবে রুপান্তরের জন্য। এটি সত্যের অর্ধেক। আমার অর্থটি সংক্ষিপ্ত করা যেতে পারে এভাবে: যখন পশ্চিমে আমরা ব্যর্থ হয়েছিলাম বসনিয়ার গণহত্যায় প্রতিহত করার জন্য, কিছু মুসলিম আমূল সংস্কারবাদী পথ বেঁছে নিয়েছিল, যখন আমরা আফগানিস্থানে হস্তক্ষেপ করেছিলাম, আরো মসুলিম র‌্যাডিক্যালে রুপান্তরিত হয়, যখন আমরা সিরিয়াতে হস্তক্ষেপ করতে ব্যর্থ হয়েছি আরো অনেক বেশী মুসলিম আমূল সংস্কারপন্হীতে পরিণত হয়েছে। ক্ষুদ্ধ অসন্তোষের উপর ভিত্তি করা এই কাহিনীসূত্র যা আন্তর্জাতিক পররাষ্ট্র নীতির উপর দায়ভার চাপিয়ে দিচ্ছে তা আসলে কাহিনীর অর্ধেক মাত্র। সুতরাং র‌্যাডিকালাইজেশন বা আমূল সংস্কারবাদী হবার কারণ হিসাবে এটি অপর্যাপ্ত ব্যাখ্যা।
হ্যারিস: পশ্চিমা হস্তক্ষেপ আর মসুলিমদের তার বিরুদ্ধে ক্ষুদ্ধ অভিযোগের বিষয়টি খুবই সমস্যার – আমি বিশ্বাস করি আলোচনায় আমরা আবার বিষয়টিতে ফিরে আসবো পরে। কিন্তু আমার কাছে বসনিয়ায় পশ্চিমা হস্তক্ষেপটিকে স্বতন্ত্র এবং মূসলিমদের দৃষ্টিভঙ্গী থেকে বিশেষভাবে নির্দোষ করেছে করেছে দুটি বিষয়। আমরা কোনো মুসলিম দেশকে আগ্রাসন করিনি কাজটি করতে গিয়ে, এবং এই পদক্ষেপের সাথে যুক্ত ছিল অ-মুসলিমদের উপর বোমা বর্ষণ। সাম্প্রতিক সংঘর্ষগুলোর ক্ষেত্রে যেমনটি আমরা দেখেছি, যদি দুটি অথবা এর যেকোনো একটি শর্ত পরিবর্তিত হয়, একটি বিশাল সংখ্যক মুসলিম জনগোষ্ঠী এই ধরনের হস্তক্ষেপটি দেখবে তাদের পবিত্র ভূমিকে অপবিত্রকরণ বা অধর্মাচারণ হিসাবে – পশ্চিমা শক্তির নিশানা ঘটনাচক্রে যতই অশুভ অথবা ধর্মনিরপেক্ষই হোক না কেন। সাদ্দাম হুসেইন একটি নিখুঁত উদহারণ: সাদ্দাম ছিলো বিশ্বজনীনভাবে ঘৃণ্য ধর্মনিরপেক্ষ একনায়ক শোষক। কিন্তু যেই মুহুর্তে অমুসলিম রাষ্ট্রদের একটি জোট তাকে আক্রমন করে, প্রায় পুরো মুসলিম বিশ্ব বিশেষভাবে ক্ষুদ্ধ হয়েছিল যে, মসুলমানদের দেশে আগ্রাসন করেছে অবিশ্বাসী অমুসলিমরা।অবশ্যই ইরাকে যুদ্ধ বিরোধিতা করার অনেক খুবই সুস্থ্য কারণ আছে, এটি তার মধ্যে পড়ে না। ধর্মের একটি সমস্যা হচ্ছে যে এটি গ্রুপ-আভ্যন্তরীন আনুগত্য আর গ্রুপ-বহির্ভূত শত্রুতা সৃষ্টি করে, এমনকি যখন কারো নিজের গ্রুপের সদস্যরাই সাইকোপ্যাথের মত আচরণ করে। আমি যোগ করতে চাই যে, যখন আমরা অবশেষে বসনিয়ায় হস্তক্ষেপ করেছিলাম, বিশুদ্ধভাবে মানবিকতার কারণে, এর জন্য কিন্তু আমরা বেশী প্রশংসা পাইনি।
নাওয়াজ: নিঃসন্দেহে। আমি বিষয়টি উল্লেখ করেছি কারণ যেখানে এই ক্ষোভ আর অসন্তোষগুলো প্রাসঙ্গিক তরুণ, সহজেই মন পরিবর্তন করা সম্ভব এমন ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে যারা একটি গভীরভাবে আত্মপরিচয় সংকটের অভিজ্ঞতা অনুভব করেছিল কোনো আকর্ষনীয়, প্রভাব সৃষ্টি করতে পারে এমন সদস্য সংগ্রাহকদের কাছ থেকে আদর্শগত মতবাদ গ্রহন করার জন্য। একবার যখন এই মতবাদ গৃহীত হয়, এটি ধারণকারী বিশ্বদৃষ্টিভঙ্গীকে সুনির্দিষ্ট করে দেয় সেই কাঠামোর মধ্যে, সেই লেন্সগুলো বাছাই করে দেয় যার মধ্য দিয়ে তারা অন্যদের বুঝতে শেখে। যে বাহনটি ব্যবহার করা হয় অন্যদের দলে ভেড়াতে, এটাই সেই ভাষায় পরিণত হয় যা দিয়ে আমরা কথা বলি। খুব জরুরী বোঝা এই বিষয়টি কারণ এই ক্ষোভ, অসন্তোষের অস্তিত্ব সবসময়ই থাকবে। সময়ের সূচনা থেকেই সেগুলো ছিল,এবং সময়ের শেষ অবধি তা থাকবে।
অন্যান্য সমাজের ও ধর্মের মানুষরাও এই সব অসন্তোষ ধারণ করেন, কিন্তু এই সুনির্দিষ্ট আদর্শবাদী প্রপঞ্চের উত্থান হয় শুধুমাত্র কিছু বিশেষ প্রাসঙ্গিক ক্ষেত্রে। যেমন, মানুষ অনেক সময় দরিদ্রতা অথবা শিক্ষার অভাবকে দায়ী করেন এই র‌্যাডিকালাইজেশনের জন্য। অন্যদিকে কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বহু দিন থেকেই জানেন যে অসামঞ্জষ্যপূর্ণ সংখ্যক সন্ত্রাসীরাই উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত। (৩) সুতরাং ষোল বছর বয়সে আমি একটি আদর্শগত দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহন করে নিয়েছিলাম, আমার অসন্তোষ এর বোধটাকে অনুভূতিশূন্য করেছিল এবং এটিকে রুপান্তর করেছিল একটি মতবাদে। এরপর হিজব উৎ তাহরিরের হয়ে আমি ব্যপকভাবে নতুন সদস্য সংগ্রহ করেছিলাম। ধর্মভিত্তিক খেলাফল প্রতিষ্ঠা করার ধারণাকে প্রবর্ধন করার জন্য আমিও আমার নায্য ভাগের জন্য দ্বায় স্বীকার করছি।
হ্যারিস: তুমি এই ধারণাগুলো যুক্তরাজ্যে জনপ্রিয় করার চেষ্টা করেছিলে না বিশ্বব্যপী?
নাওয়াজ: বিশ্বব্যপী। এই গোষ্ঠীটি জেরুজালেম থেকে ছড়িয়ে পড়ে জর্দানে, জর্দান থেকে সিরিয়া ও ইরাক এবং একসময় মিসরে। এরপর মধ্যপাচ্য থেকে এটি পশ্চিমে ছড়িয়ে পড়ে, এবং পশ্চিম থেকে জার্মান মুসলিমদের মাধ্যমে তুরস্কে, ফরাসী মুসলিমদের মাধ্যমে উত্তর আফ্রিকা, ভারত,পাকিস্তান ও বাংলাদেশী বংশোদ্ভুত ব্রিটিশ মুসলিমদের মাধ্যমে দক্ষিণ এশিয়ায়। আমি সদস্য সংগ্রাহক হয়েছিলাম আন্তর্জাতিক পর্যায়ে। বৈপ্লবিক ইসলামবাদকে আমি রপ্তানী করেছিলাম ব্রিটেইন থেকে পাকিস্তান, ডেনমার্ক এবং পরিশেষে মিশরে।
১৯৯৯ সালে, ইউনিভার্সিটি অব লণ্ডনের স্কুল অব অরিয়েন্টাল ও আফ্রিকান স্টাডিজ (SOAS) এ আমার আইন ও আরবী ভাষার ডিগ্রীর মাঝামাঝি পর্যায়ে, আমি এক বছর ছুটি নেই এবং পাকিস্তানে গিয়েছিলাম হিজব উৎ তাহরিরের নির্দেশে এর পাকিস্তানী শাখাটি সহ প্রতিষ্ঠা করার জন্য। পাকিস্তান তখন এর এক বছর আগে কেবলই এর প্রথম পারমাণবিক বোমা পরীক্ষামূলক বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে, এবং দলটির আন্তর্জাতিক নেতারা একটি পারমাণবিক শক্তিসহ খিলাফতের স্বপ্ন দেখছে তখন।
যেখানেই আমরা এই গোষ্ঠীর ভিত্তি স্থাপন করেছি, আমি বিশেষভাবে নিশানা করেছি সেনাবাহিনীর অফিসারদের দলে ভেড়ানোর জন্য, যেন আমরা সুযোগমত সামরিক ক্যু উসকে দিতে পারি। ২০০০ সালে, পাকিস্তান থেকে আমার ফেরার পর, আমি ব্যক্তিগতভাবে দ্বায়িত্বপ্রাপ্ত ছিলাম পাকিস্তানী ক্যাডেটদের সাথে সম্পর্ক স্থাপন করার জন্য যারা ব্রিটেনের স্যাণ্ডহার্ষ্ট রয়্যাল মিলিটারী অ্যাকাডেমীতে পড়তে আসতো। তারপর থেকে পাকিস্তান স্বাক্ষী হয়েছে বহু অসফল ক্যু প্রচেষ্টার যা প্ররোচিত করেছে আমার প্রাক্তন সংস্থাটি, তাদের কিছু হয়তো সংবাদপত্রে প্রকাশিত হয়েছে। (৪)
ততদিনে আমি আবার আমার পড়াশুনা শুরু করি লণ্ডনে, কিন্তু আমি প্রতি সপ্তাহ শেষে নিয়মিত তখন ডেনমার্কে যাতায়াত করছি আমার গ্রুপের ডেনিশ-পাকিস্তানি শাখা প্রতিষ্ঠা করার জন্য। ২০০১ এ, আমার পড়াশুনার কারণে, আরবী ভাষা শেখার বছর হিসাবে মিসরে যেতে হয়। আমি ৯/১১ আক্রমনের ঠিক একদিন আগে সেখানে পৌছাই। তখনও পুরোপুরিভাবে সেই আক্রমনগুলোর গুরুত্ব আমি বুঝতে পারিনি, আমি সারা মিশর জুড়ে সদস্য সংগ্রহ অভিযান অব্যহত রাখি আমার গ্রুপের জন্য। ২০০২ এর এপ্রিলে, মিসরীয় রাষ্ট্রীয় পুলিশ আলেক্সান্দ্রিয়ায় আমার ঘরে তল্লাশী অভিযান চালায়। আমার চোখ বাধা হয়েছিল, পেছনে হাতকড়া পরিয়ে আমাকে কায়রো তাদের হেড কোয়ার্টারে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে আমি স্বাক্ষী ছিলা, বহু বন্দীদের উপর বিদ্যুত ব্যবহার করে নির্যাতন করার ঘটনার সাথে। আমার বয়স তখন চব্বিশ।
এরপর আমাকে পাঁচ বছরের জন্য রাজনৈতিক বন্দী হিসাবে মিশরে মার্জা তোরা জেলখানা কমপ্লেক্স এ সাজা খাটার জন্য পাঠানো হয়। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল তখন সাহসী পদক্ষেপ নিয়েছিল আমাকে বিবেকের বন্দী হিসাবে গ্রহন করে আমার মুক্তির জন্য চেষ্টা শুরু করতে। যদিও আমরা যা বিশ্বাস করি তার সাথে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল একমত ছিল না, তাদের ‍দৃষ্টিভঙ্গী ছিল আমরা মিশরে কোনো সুনির্দিষ্ট অপরাধ করিনি, সেটি সত্যি ছিল – এছাড়া ব্রিটেনে আমার গ্রুপ ছিল বৈধ, যেখানে আমি এর সদস্য হয়েছিলাম। এবং এই মিশরের জেলখানায়, যেখানে বহু প্রকারের ইসলামবাদীদের উপস্থিতি ছিল – মিশরের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট আনোয়ার সাদাতে হত্যাকারী থেকে এখন বন্দী মিশরের মুসলিম ব্রাদারহুডের বিশ্ব নেতা মোহাম্মদ বাদেই – নানা মতের ইসলামবাদীদের সংস্পর্শে এসেই আমি সত্যিকারভাবে আমার গ্রহন করা সেই মতবাদটিকে আমি বিশ্লেষণ করতে শুরু করেছিলাম, যা ষোল বছর বয়সে তীব্র উৎসাহের সাথে আমি গ্রহন করেছিলাম।
অন্যান্য বন্দীদের সাথে আমার দীর্ঘ সংশোধনবাদী কথোপকথন ও অ্যামনেস্টির বিশেষ সহায়তার মিশ্রনে আমি আমার দীর্ঘ যাত্রা শুরু করি একটি উদারনৈতিক, মানবাধিকার ভিত্তিক ধর্মনিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গির দিকে। ২০০৬ সালে, আমাকে জেলখানা থেকে মুক্তি দেয়া হয় আমি লণ্ডনে ফিরে আসি। ২০০৮ সালে পলিটিকাল থিওরীতে আমি আমার স্নাতকোত্তর ডিগ্রী সমাপ্ত করি লণ্ডন স্কুল অব ইকোনোমিক্স থেকে, এরপর আমি সহ প্রতিষ্ঠা করি ও সভাপতির দ্বায়িত্ব নেই কুইলিয়াম ( Quilliam) ফাউণ্ডেশনের, পৃথিবীর প্রথম জঙ্গীবাদ বিরোধী প্রতিষ্ঠান।

(((( চলবে))))

 

টীকা:

[১] যদিও বেশীর ভাগ মুসলিম ( অথবা সম্পুর্ণভাবে) কি ভাবছেন, সেটাই যদি ইসলাম হয়, তাহলে মসুলমানদের জনমত বিবেচনা করা গুরুত্বপূর্ণ। ২০১৩ সালের একটি পিউ (PEW) জরিপ চালানো হয়েছিল ১১ টি মুসলিম সংখ্যগরিষ্ঠ দেশে। জরিপটি দেখিয়েছে ইসলাম সুরক্ষার নামে আত্মঘাতী বোমা হামলা দ্বারা বেসামরিক মানুষ হতাহত করার প্রতি সমর্থন সাম্প্রতিক বছরগুলোয় কমে গেছে। তাসত্ত্বেও এখনও আমাদের চিন্তিত করে, বেশ কিছু মানুষের সমর্থন যারা এখনও মনে করেন বেসামরিক জনগোষ্ঠীর প্রতি এই ধরনের আক্রমন ‘প্রায়শই’ অথবা ‘মাঝে মাঝে’ যুক্তিযুক্ত : মিসর (২৫%), ইন্দোনেশিয়া (৬%), জর্ডান (১২%),লেবানন (৩৩%), মালায়শেয়া (২৭%), নাইজেরিয়া (৮%), পাকিস্তান (৩%), প্যালেস্টাইন টেরিটরিস (৬২%), সেনেগাল (১৮%), তিউনিসিয়া (১২%), তুরস্ক (১৬%)। সারা পৃথিবীতে ১.৬ বিলিয়ন মুসলিমদের বসবাস, এমনকি যদি ১০% তাদের ধর্মবিশ্বাসের সমর্থনে বেসামরিক মানুষের উপর আত্মঘাতী হামলা সমর্থন করে, তাহলে প্রায় ১৬০ মিলিয়ন মুসলিম সন্ত্রাসের সমর্থক (www.pewglobal.org)
[২] ফেব্রুয়ারী ১৯৯৯ এ Macpherson report টি প্রকাশিত হয়েছিল, স্টিফেন লরেন্স নামের এক কৃষ্ণাঙ্গ তরুণ বর্ণবিদ্বেষ দ্বারা প্ররোচিত কুখ্যাত হত্যাকাণ্ডের পর। অনেকেই মনে করেন ব্রিটিশ আন্ত বর্ণ সম্পর্কের ক্ষেত্রে এটি একটি যুগান্তকারী মূহুর্ত। রিপোর্টটি তীব্র সমালোচনামূলক পর্যালোচনা করেছিল মেট্রোপলিটান পুলিশ বাহিনী ও সাধারণ পুলিশ পক্রিয়ার মধ্যে বিদ্যমান প্রাতিষ্ঠানিক বর্ণবিদ্বেষকে। প্রায় ৭০ টি প্রস্তাবনা করেছিল রিপোর্টটি, বিশেষ করে বর্ণবাদের বিরুদ্ধে ‍পুলিশের দৃষ্টিভঙ্গী বদলাতে, এটি একই সাথে গুরুত্বারোপ করেছিল কৃষ্ণাঙ্গ ও এশিয় পুলিশ অফিসারদের সংখ্যা দ্রুত বাড়ানোর জন্য। দেখুন: http://news.bbc.co.uk/news/vote2001/hi/english/main_issues/ sections/facts/ newsid_1190000/1190971.stm.
[৩] মার্ক সেজম্যান এর সাজাপ্রাপ্ত জিহাদীদের নিয়ে লেখা বই Leaderless Jihad দেখুন – Philadelphia: University of Pennsylvania Press, 2008)
[৪] ২০০৩ এর আগষ্ট মাসে পাকিস্তানী সেনাবাহিনী বেশ কিছু সামরিক বাহিনীর অফিসারদের গ্রেফতার করা সংবাদ ঘোষণা করেছিল, যারা জঙ্গী সংগঠনগুলো প্রতি সমর্থনকারী। যারা গ্রেফতার হয়েছিল তারা হিজব উৎ তাহরিরের সদস্য ছিলেন, যা সেনাবাহিনীর মধ্যে অনুপ্রবেশ করতে সক্ষম হয়েছিল। ২০০০ সালে লণ্ডনে, এদের কিছু সদস্যকে এই সংস্থায় যুক্ত করার জন্য আমি ব্যক্তিগতভাবে সাহায্য করেছিলাম। ২০০৬ সালে লণ্ডনে, মিসরের কারাগার থেকে মুক্ত হবার পর, আমার সাথে দেখা হয়েছিল বৃটিশ পাকিস্তানী হিজব উৎ তাহরির এর সদস্য ওমর খানের সাথে। যে পাকিস্তান ভিত্তিক সামরিক সেল এর মূল নেতা ছিলেন। তিনি আমাকে নিশ্চিৎ করেছিল যাদের সাথে আমার আগে যোগাযোগ ছিল, তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে এবং জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়েছে তার সাথেই এবং যদিও তাকে ব্রিটেনে ফেরত পাঠানো হয়েছে ঠিকই তবে বাকীরা এখনও বন্দী।সেই সময় হিজব উৎ তাহরির পাকিস্তানে বৈধ ছিল। ( দেখুন:http://www.telegraph.co.uk/news/worldnews/ asia/pakistan/1440284/Pakistan-army-officers-arrested-in-terror-swoop.html.) । এবং আবারো মার্চ ২০১২, পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী বিগ্রেডিয়ার আলী খানের নেতৃত্বে একটি সামরিক অভ্যুত্থান পণ্ড করে দেবার কথা ঘোষনা করে, যার সাথে হিজব উৎ তাহরির এর সংশ্লিষ্টতা আছে ( দেখুন: http://www.nytimes.com/…/hizb-ut-tahrir-threatens-pakistan-…)

 

 

 

Advertisements
ইসলাম এবং সহিষ্ণুতার ভবিষ্যৎ: একটি সংলাপ – স্যাম হ্যারিস এবং মাজিদ নাওয়াজ

2 thoughts on “ইসলাম এবং সহিষ্ণুতার ভবিষ্যৎ: একটি সংলাপ – স্যাম হ্যারিস এবং মাজিদ নাওয়াজ

    1. 🙂 আমার বই কেউ প্রকাশ করতে চায়না, যারা করে তারা যা বইয়ের অবস্থা করে রেখেছে বানানে, তাই জানি না..কবে কিভাবে করবো দ্বিতীয় পর্ব এখানে আছে
      https://www.facebook.com/%E0%A6%9C%E0%A7%80%E0%A6%AC%E0%A6%A8%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%A6%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%B6%E0%A6%A8-942628132439219/

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s