মানুষ, সব কিছুর মানদন্ড যে : দ্বিতীয় পর্ব

কেনেথ ক্লার্ক এর ‘সিভিলাইজেশন’ এর চতুর্থ অধ্যায় ম্যান দি মেজার অফ অল থিংস এর অনুবাদ প্রচেষ্টা..

(আসমা সুলতানা ও কাজী মাহবুব হাসান)

মানুষ, সব কিছুর মানদন্ড যে : প্রথম পর্ব
মানুষ, সব কিছুর মানদন্ড যে : দ্বিতীয় পর্ব

বতিচেল্লী, সেইন্ট অগাস্টিন

ফ্লোরেন্সে পঞ্চদশ শতাব্দীর প্রথম ত্রিশ বছর ছিল জ্ঞানার্জণের জন্য একটি বীরোচিত পর্ব, যখন নতুন নতুন গ্রন্থের সন্ধান মিলেছে এবং সম্পাদিত হয়েছিল বহু প্রাচীন গ্রন্থ, যখন বিদ্বানরা ছিলেন শিক্ষক, শাসক আর নৈতিকতার পথপ্রদর্শক। রেনেসাঁ পর্বে অসংখ্য চিত্র আছে যেখানে বিদ্বানরা তাদের অধ্যয়নের নিমগ্ন, সাধারণত বেশীর ভাগ ক্ষেত্রেই যার প্রতিনিধিত্ব করতো খ্রিস্টীয় চার্চের অন্যতম পিতাদের কোন একজন, জেরোম (১)  অথবা অগাস্টিন (২)। তাদের দেখে মনে হয় তাঁরা বেশ স্বাচ্ছন্দে বসে আসছেন আসবাবপত্রে সুসজ্জিত অধ্যয়ন কক্ষে, যেখানে তাকের উপর জড়ো হয়ে আছে তাদের বই, সেগুলোর পাঠ্যাংশ উন্মুক্ত হয়ে আছে তাদের সামনে। মহাবিশ্ব সম্বন্ধে তাদের গভীর ধ্যানে সহায়তা করছে স্বর্গীয় গোলক। বতিচেল্লীর (৩) সেইন্ট অগাষ্টিন এ যে তীব্র আবেগময় ব্যগ্রতা আমরা দেখি, কোন সন্দেহ নেই এটি নির্দেশিত ঈশ্বরের ধ্যানে। কিন্তু বিজ্ঞ কোন পন্ডিত ধ্রুপদী কোন গ্রন্থে সত্যের অনুসন্ধান করছেন এমন চিত্র তার তীব্রতায় এর চেয়ে কোন অংশেই কম ছিল না।

সান্দ্রো বতিচেল্লী

কসিমো দে মেডিচি

এই মহামুল্যবান গ্রন্থগুলোর রাখার জন্য জায়গা করার উদ্দেশ্যে – যাদের যে কোনটি হয়তো কোন না কোন নতুন উপলব্ধি আর সত্যের উদঘাটন করতে পারে, যা মানুষের চিন্তার গতিপথ পরিবর্তন করে দিতে পারে – কসিমো দে মেডিচি (৪) সান মারকো (৫)  গ্রন্থাগার প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। আমাদের কাছে দেখতে এটি দেখলে মনে হয় শান্তিপুর্ণ আর বিচ্ছিন্ন – কিন্তু প্রথম যে অধ্যয়ন পর্বটি সেখানে ঘটেছিল, তা জীবন থেকে কোনভাবে অবিচ্ছিন্ন ছিল না। এটি ক্যাভেন্ডিস ল্যাবরেটরির (৬)  একটি মানবতাবাদী রুপ। এই সব সুসমতাপূর্ণ ছাদের নীচে যে পান্ডুলিপিগুলো খোলা ও পড়া হয়েছিল তারা ইতিহাসের দিক পরিবর্তন করেছিল বিস্ফোরণের সাথে, পদার্থের নয় বরং মনের।

লাইব্রেরী অব সান মার্কো, ফ্লোরেন্স

কিন্তু যদিও গ্রীক এবং ল্যাটিন অধ্যয়ন ফ্লোরেন্সবাসীদের চিন্তা, শৈলী আর নৈতিক মুল্যবোধগুলোকে প্রভাবিত করেছিল, কিন্তু তাদের শিল্পকলার উপর এর প্রভাব তেমন সুদূর প্রসারী ছিলনা – মূলত সেগুলো সীমাবদ্ধ ছিল বিচ্ছিন্ন কিছু শিল্পকর্মের উদ্ধৃতিতে। এবং তাদের স্থাপত্যকলা, পাৎসি চ্যাপেল এর দিকে তাকালেই সেটা যে কেউই দেখতে পারবেন, তারা আদৌ কোন প্রাচীন স্থাপত্যশৈলীর প্রতিনিধিত্ব করছেনা। কোথা থেকে এই শৈলীটি এসেছিল, এই লঘু, মিতব্যায়ী অনাড়ম্বর স্থাপত্যশৈলীটি, যা এর আগে কিংবা পরেও কখনোই দেখা যায়নি? আমি মনে করি এটি আসলে একজন স্বতন্ত্র ব্যক্তির আবিষ্কার – ব্রুনেলেসকী (৭) । কিন্তু অবশ্যই, একটি স্থাপত্যশৈলী তার শিকড় প্রোথিত করতে পারেনা, যদি না সেটি সময়ের কিছু প্রয়োজন মেটতে না পারে। ব্রুনেলেসকোর সেই শৈলীটি স্বচ্ছ-মস্তিষ্কের উজ্জ্বল মনের মানুষদের চাহিদা সন্তুষ্ট করতে পেরেছিলে যারা ফ্লোরেন্স এর সমাজে আবির্ভুত হয়েছিলেন, যখন বাণিজ্য এবং ব্যাঙ্কিং- এর সবচেয়ে অনাড়ম্বর রুপে, শিথিল হতে শুরু করেছিল এবং জীবন – মানব ক্ষমতার পূর্ণ ব্যবহার – অর্থ উপার্জনের চেয়ে আরো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছিল।

ব্রুনেলেসকী

মানুষ কখনো কখনো হতাশা অনুভব করে যখন প্রথম বারের মত তারা রেনেসাঁর স্থাপত্যশৈলীর বিখ্যাত সুচনা পর্বের নিদর্শনগুলো দেখেন – পাৎসি চ্যাপেল (৮)  এবং সান লরেনজোর পুরোনো স্যাক্রিস্টি (৯)  – কারন তাদের দেখলে মনে হয় আকারে খুবই ছোট। বেশ, সেগুলো সেরকমই, রোমানেস্ক ও গথিক স্থাপত্যশৈলীর সুবিশাল স্মারকগুলোর পরে যদি তাদের দেখা হয়। এই নির্মানগুলো কোন চেষ্টাই করেনা আমাদের মুগ্ধ করতে, বা তাদের আকৃতি ও ওজনের মাধ্যমে আমাদের বোধকে নিষ্পেষিত করার চেষ্টা করেনা, যেমন ঈশ্বর-নির্দেশিত সব স্থাপত্য নিদর্শনগুলো সাধারণত যে কাজটি করে থাকে। সবকিছুই আমরা একটি পরিমিতবোধের সীমায় দেখতে পাই, যা কোন যুক্তিসঙ্গত মানুষের প্রয়োজনীয়তা অনুযায়ী নির্মিত। প্রতিটি স্বতন্ত্র ব্যাক্তিকে তার ক্ষমতা সম্পর্কে সচেতন আর পরিপূর্ণ নৈতিক এবং বুদ্ধিবৃত্তিক সত্ত্বায় পরিণত করে তোলাই ছিল তাদের উদ্দেশ্য। এসব কিছুই মানুষের মর্যাদার স্বীকৃতির স্বপক্ষে দৃঢ়োক্তি।

পাৎসি চ্যাপেল


ওল্ড স্যাক্রিস্টি অফ সান লরেঞ্জো

মানুষের মর্যাদা। আজ ঐসব শব্দগুলোর সমাপ্তি হয় আমাদের ঠোটেই। কিন্তু পঞ্চদশ-শতাব্দীর ফ্লোরেন্স এ তাদের অর্থ তখনও নবীন এবং সাহস আর প্রত্যাশায় প্রদীপ্ত একটি বিশ্বাস। গিয়ানজ্জো মানেত্তি (১০) , মানবতাবাদী একজন কাজের মানুষ, যিনি  রাজনীতির কুৎসিৎ দিকটি দেখেছিলেন, তাসত্ত্বেও একটি বই লিখেছিলেন ‘অন দি ডিগনিটি অ্যান্ড দি এক্সেলেন্স অফ ম্যান’ শিরোনামে। আর এটাই সেই মুল ধারনা যা ব্রুণেলেসেকী’র বন্ধুরা দৃশ্যমান করে তুলছিলেছিলেন। ওরসামিকেলে (১১)  ব্যবসায়ীদের চার্চে চারপাশ ঘিরে ভাস্কর্য ছিল সেইন্টদের: ডোনাটেলোর (১২)  সেইন্ট মার্ক (১৩)  যার সম্বন্ধে মাইকেলেনেঞ্জলো (১৪)  বলেছিলেন: এমন কোন সৎ মানুষের কোন কথা কারোর পক্ষেই অবিশ্বাস করা অসম্ভব।

ওরসামিকেলে

এবং সেই ১৪১৫ র সৈন্য, ডোনাটেলো’র সেইন্ট জর্জ (১৫) । তারা আদর্শ মানবতার প্রতিভু যা জীবনের সব আটপৌরে কর্মকান্ডের উপর নজর রাখছেন। মানুষের মর্যাদার সবচেয়ে মহত্তম প্রমানটি সৃষ্টি করেছিলেন এই একই গ্রুপের অন্য একজন সদস্য, মাসাচ্চিও (১৬) , কারমিনের (১৭)  চার্চে দেয়ালে তিনি ধারাবাহিকভাবে ফ্রেস্কো একেছিলেন। কি অসাধারন সেই চরিত্রগুলো: নৈতিকতায় আর বুদ্ধিবৃত্তিক স্তরে গুরুত্বপূর্ণ সব সব মানুষ , যারা সবচাইতে কম লঘুচিত্তের মানুষ, জ্যাঁ দ্য বেরীর (১৮)  উচ্ছল আনন্দময় সভাসদ থেকে যারা অসীম দুরত্বে অবস্থান করছেন – যার বয়স ছিল মাত্র ত্রিশ বছর বেশী। তাদের মধ্যে ছিল সেই সংযত প্রাণচাঞ্চল্য এবং আত্মবিশ্বাসের উপস্থিতি যা প্রায়শই সভ্যতার প্রতিষ্ঠাতা পুর্বসুরীদের মধ্যে আমরা দেখতে পাই- প্রথমেই যাদের কথা আমার মনে পড়ছে তারা হচ্ছে প্রথম চারটি রাজবংশের ইজিপশিয়ানরা (মিসরীয়)।

ডোনাটেলো

ডোনাটেলো, সেইন্ট জর্জ

মাসাচ্চিও, দি ট্রিবিউট মানি

কিন্তু এই মানুষগুলো খ্রিস্টীয় দয়াশীলতার ধারণায় আন্দোলিত হয়েছিল। যেমন করে সেইন্ট পিটার  গম্ভীরতার সাথে রাস্তায় প্রদক্ষিন করতেন, তাঁর ছায়া নিরাময় করতো অসুস্থদের। ভারসাম্যময় ফ্রেস্কোটিতে যেখানে পিটার (১৯) ও তার অনুসারীদের একটি দরিদ্র রমনীকে ভিক্ষা দেবার দৃশ্য চিত্রিত হয়েছে তা নিঃসন্দেহে চিত্রকর্মে অন্যতম সেরা ভাস্কর্যময় সৃষ্টি।

মাসাচ্চিও, The Distribution of Alms and Death of Ananias,

গ্রাভিটাস (২০), সেই নৈতিক আন্তরিকতার কঠোর পদানুসরণ অত্যন্ত ভারী, খুব সহজেই বিরক্তির কারণ হয় যদি এর সাথে বুদ্ধিমত্তার লঘু পদক্ষেপ না থাকে। পাৎসী চ্যাপেল এর কাছেই আছে সান্টা ক্রোসের (২১)  ক্লোয়স্টারগুলো (২২) , সেগুলোই তৈরী করেছিলেন ব্রুনেলেস্কী। আমি বলেছিলামে যে গথিক ক্যাথিড্রালগুলো হচ্ছে স্বর্গের আলোর উদ্দেশ্যে নিবেদিত স্তবগাথা। এই সব ক্লোয়েষ্টারগুলো আনন্দের সাথে মানব বুদ্ধিমত্তার আলোকে সন্মানিত করেছে এবং সেখানে বসে মানুষের উপর বিশ্বাস রাখার কাজটি সহজ বলে হিসাবে অনুভুত হয়েছে আমার। তাদের সেই গুণগুলো আছে যা কোন একটি গানিতীক তত্ত্বকে বিশেষভাবে বৈশিষ্টময় করে তোলে: স্পষ্টতা, অর্থনীতির মিতব্যয়ীতা,আভিজাত্য। এবং কোন সন্দেহ নেই যে রেনেসাঁর স্থাপত্যের সুচনাটির ভিত্তি ছিল গনিত, কিন্তু আপাতদৃষ্টিতে এটি ছিল অত্যন্ত বিশাল জটিলতার আর বিস্তারিত, যেমন শিক্ষা সংক্রান্ত দর্শন। রেনেসাঁর স্থপতিরা অনেক সরল জ্যামিতিক রুপ ব্যবহার করেছিলেন – বর্গাকার ক্ষেত্র, বৃত্ত, যে রুপগুলোকে তারা বিশ্বাস করতেন চুড়ান্ত নিখুতত্বর প্রতীক। সেই ধারনাকেও তারা প্রশ্রয় দিয়েছিলেন যে, এইসব রুপগুলো অবশ্যই প্রয়োগ করা যেতে পারে মানুষের শরীরেও: অর্থাৎ প্রতিটি শরীর, বলা যায় অন্যটির নিখুতত্বর পুর্ণ নিশ্চয়তা দিচ্ছে। এই ধারনাটির উৎস প্রাচীন স্থাপত্যকলার তাত্ত্বিক ভিটরুভিয়াস (২৩)  এবং সেকারনে মধ্যযুগীয় নির্মাতাদের কাছে পরিচিত ছিল  (ভিটরুভিয়াস এর একটি পান্ডুলিপি ক্লুনির (২৪) পাঠাগারে ছিল) কিন্তু তারা এটি ব্যাখ্যা করেছেন সম্পুর্ণ ভিন্নভাবে।


ব্রুণেলেসকি ক্লোয়েস্টার, সান্টা ক্রোসে

ভিটরুভিয়াস

বহু সংখ্যক ড্রইং আর এনগ্রেভিং আছে যারা এই প্রস্তাবটিকে প্রদর্শন করতে পারে, যার মধ্যে সবচেয়ে বিখ্যাতটি একেছিলেন লেওনার্দো দ্য ভিঞ্চি (২৫)। গানিতীক, আমার মনে হয়, এই আসলে একটি প্রতারণা, কিন্তু নন্দনতাত্তিক দৃষ্টিভঙ্গীতে এর কিছু অর্থ আছে কারন মানব শরীরে প্রতিসাম্যতা এবং কিছুটা পর্যায় অবধি এক অংশের অন্য

নোটস:

১ সেইন্ট জেরোম ( ৩৪৭-৪২০ খ্রিস্টাব্দ) ইতিহাসবিদ, ধর্মতাত্ত্বিক যাজক, যিনি ডক্টর অফ চার্চ হয়েছিলেন ( খ্রিস্টীয় চার্চে বিশেষভাবে সন্মানিত কোন ধর্মতাত্ত্বিক)
২ অগাস্টিন অফ হিপো ( সেইন্ট অগাস্টিন) (৩৫৪-৪৩০ খ্রিস্টাব্দ) খ্রিস্টধর্মের সূচনা পর্বের একজন প্রভাবশালী দার্শনিক, ধর্মতাত্ত্বিক, পশ্চিমা খ্রিস্টধর্ম ও পশ্চিমা দর্শনের উপর তাঁর রচনার গভীর প্রভাব আছে।
৩ আলেসান্দ্রো দি মারিয়ানো দি ভান্নি ফিলিপেপি ( সান্দ্রো বতিচেল্লী) (১৪৪৫-১৫১০) আদি রেনেসাঁ পর্বের ইতালীয় শিল্পী।
৪ কসিমো দি জিওভানি দে মেডিচি (১৩৮৯-১৪৬৪) রেনেসাঁ পর্বে বেশীর ভাগ সময় জুড়ে তিনি ফ্লোরেন্স এর শাসক ছিলেন। মেদিচি রাজনৈতিক বংশের প্রথম ব্যক্তি। ধনাঢ্য ব্যাঙ্কার, শিল্পকলার পৃষ্ঠপোষক।
৫ সান মারকো, ইতালীর ফ্লোরেন্স এ একটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের কমপ্লেক্স, এখানে একটি কনভেন্ট ও একটি চার্চ আছে। এটি বিখ্যাত তিনটি কারনে, এখানে দুজন বিখ্যাত ডমিনিকান যাজকের বসবাস ছিল, ফ্রা অ্যানজেলিকো, রেনেসাঁ পর্বের একজন চিত্রকর, এবং বিখ্যাত ধর্ম প্রচারক জিরোলামো সাভোনারোলা, এবং এর কনভেন্ট এ বহুগুরুত্বপূর্ণ পান্ডুলিপির সংগ্রহ ছিল, এই লাইব্রেরীটি স্থপতি ছিলেন মিকেলৎসো দি বার্থালোমিও মিকেলৎসী।
৬ ১৮৭৪ সালে স্থাপিত পদার্থ বিজ্ঞানের ল্যাবরেটরী, এটি কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে অবস্থিত। এটি নামকরণ করা হয়েছে বিজ্ঞানী ক্যাভেন্ডিসের নামে। এটি প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন জেমস ক্লার্ক ম্যাক্সওয়েল। ২০১১ সাল অবধি এখান থেকে মোট ২৯ জন নোবেল পুরষ্কার জিতেছিলেন।
৭  ফিলিপো ব্রুনেলেসকি (১৩৭৭-১৪৪৬) রেনেসাঁ পর্বের একজন স্থপতি, তিনি সবচেয়ে বিখ্যাত রৈখিক দর্শানুপাত বা লিনিয়ার পারর্সপেকটিভের আবিষ্কার ও ফ্লোরেন্স ক্যাথিড্রালে বিখ্যাত ডোম নির্মান। এছাড়াও তিনি ছিলেন গনিতজ্ঞ, ভাস্কর।
৮ পাৎসি চ্যাপেল (কাপেলা দেল পাৎসি) রেনেসাঁ স্থাপত্যের একটি মাস্টারপিস, এটির অবস্থান কেন্দ্রীয় ইতালীর ফ্লোরেন্স এ। যদিও ১৪২৯ সালে ধনবান পাৎসি পরিবারের আন্দ্রিয়া পাৎসি এটি নির্মানের জন্য অর্থ যোগাড় করেছিলেন, এটি শেষ হয় স্থপতি ফিলিপো ব্রুনেলেস্কির মৃত্যুরও দুদশক পরে ১৪৬০ এর দশকে।
৯ ফ্লোরেন্সের ব্যাসিলিকা দি সান লরেনজো’র অভ্যন্তরে অবস্থিত ব্রুনেলেসকীর পরিকল্পিত ওল্ড স্যাক্রিস্টি রেনেসাঁ স্থাপত্যের অন্যতম নিদর্শন। স্যাক্রিস্টিতে মূলত খ্রিস্টীয় ধর্মীয় আচারের জন্য ব্যবহৃত কাপড় রাখা হয়, এই সাক্রিস্টি মেদিচি পরিবারের সমাধি হিসাবেও ব্যবহৃত হয়েছে।
১০ গিয়ানজ্জো মানেত্তি (১৩৯৬-১৪৫৯) ইতালীয় রেনেসাঁর একজন ব্যক্তিত্ব, রাজনীতিবিদ,লেখক, কুটনৈতিক।
১১ ওরসামিকেল  বা কিচেন গার্ডেন অফ সেইন্ট মাইকেল,  ফ্লোরেন্স এর একটি চার্চ।
১২  ডোনাটো দি নিকোলো দি বেত্তো বারদি (১৩৮৬-১৪৬৬) , ডোনাটেলো নামেই সুপরিচিত, রেনেসাঁ পর্বের ভাস্কর, বিশেষভাবে খ্যাত বাস-রিলিফ এর জন্য ( অগভীর রিলিফ ভাস্কর্য)
১৩  সেইন্ট মার্ক ( মার্ক দি ইভানজেলিষ্ট) (গসপেল মার্ক এর রচয়িতা, চার্চ অব আলেক্সজান্দ্রিয়ার প্রতিষ্ঠাতা, প্রথম শতাব্দী কোন এক সময় তার জন্ম হয়েছিল, ৬৮ খ্রিস্টাব্দকে তার মৃত্যুর বছর মনে করা হয়।
১৪  মাইকেলেনেঞ্জলো লোদেভিচো বুওনারোত্তি সিমেনী (১৪৭৫-১৫৬৪) উত্তর রেনেসাঁ পর্বের ভাস্কর,স্থপতি, শিল্পী, প্রকৌশলী, পশ্চিমা শিল্পকলার উপর তার প্রভাব অপরিসীম।
১৫  সেইন্ট জর্জ (২৭৫/২৮০ -৩০৩ খ্রিস্টাব্দ), একজন খ্রিস্টীয় সেইন্ট, তিনি রোমান সেনাবাহিনীর সদস্য ছিলেন। মধ্যযুগে ক্রসেডাররা তার কাহিনী ইউরোপে নিয়ে এসেছিল, সেইন্টদের জীবনকাহিনী নিয়ে রচিত সেই সময়কার গোল্ডেন লিজেন্ড এ তার সাথে একটি ড্রাগনের যুদ্ধের কিংবদন্তী আছে।
১৬ মাসাচ্চিও (১৪০১-১৪২৮) ( তমাসো দি সের জিওভানি দি সিমোনে) ইতালী রেনেসাঁ পর্বের অন্যতম সেরা চিত্রকর। মাত্র ২৬ বছর বয়সে মারা যান তিনি। তিনি প্রথম তার কাজে লিনিয়ার পারর্সপেকটিভ এবং ভ্যানিশিং পয়েন্ট ব্যবহার করেছিলেন।
১৭  সানতা মারিয়া দেল কারমিন, ফ্লোরেন্স এর একটি চার্চ, এখানে ক্যাপেল ডেই ব্রানকাচ্চি অবস্থিত, যেখানে বেশ কিছু ফ্রেস্কো আছে মাসাচ্চিও’র  আদি রেনেসাঁ পর্বে সিস্টিন চ্যাপেল বলে এটি পরিচিত।
১৮  জ্যাঁ দ্য বেরী ( জন দি ম্যাগনিফিসেন্ট) (১৩৪০-১৪১৬) বেরী ওভারাইন, পোয়াটিয়ের্স এবং মঁপন্সিয়ের এর ডিউক ছিলেন; শিল্পকলার পৃষ্ঠপোষক। তিনি সুপরিচিত তার সংগ্রহে থাকা ইল্যুমিনেটেড ম্যান্সক্রিপ্ট বা অলঙ্কৃত পান্ডুলিপি গুলোর জন্য।
১৯ সেইন্ট পিটার ( সাইমন পিটার), নিউ টেস্টামেন্ট এর বর্ণনা অনুসারে যীশু খ্রিস্টের ১২ জন শিষ্যের একজন (মৃত্যু ৬৪ খ্রিস্টাব্দ), খ্রিস্টীয় চার্চের সূচনা পর্বের একজন নেতা, ক্যাথলিক চার্চ তাঁকে প্রথম পোপ হিসাবে গন্য করেন, যাকে নির্বাচিত করেছিলেন যীশু খ্রিস্ট। তাকে মৃত্যুদন্ড দিয়েছিলো রোমান স¤্রাট নিরো অসাষ্টাস সিজার। তার দেহবশেষ রক্ষিত আছে ভ্যাটিকানে সেইন্ট পিটার ব্যাসিলিকার অভ্যন্তরে একটি ছোট চ্যাপেল, ক্লেমেন্টাইন চার্চে।
২০ গ্রাভিটাস, রোমানদের বর্ণিত ভার্চু বা সদগুনাবলীর ( পিয়েটাস,ডিগনিটাস,ভার্চুস) একটি। বিভিন্ন ভাবে এটি অনুদিত হতে পারে, গম্ভীরতা,আত্মমর্যাদা, ব্যাক্তিত্বের একটি বিশেষ গভীরতা। ক্লোয়েস্টার হচ্ছে যার পাশে ঢাকা পথ বা খোলা গ্যালারী দিয়ে ঘেরা কোন একটি উন্মুক্ত জায়গা।
২১  ব্যাসিলিকা অফ সান্টা ক্রোসে, ফ্লোরেন্সের একটি চার্চ, ১২৯৪ সালে এটি নির্মান শুরু হয়েছিলো, এটি বিখ্যাত আরো একটি কারনে, এখানে সমাধি আছে বিখ্যাত কিছু ইতালীয় প্রতিভাবানদের, যেমন মাইকেলেঞ্জেলো,রসিনি, গ্যালিলেও, মেকিয়াভেলী। একারনে এর নাম টেম্পল অব দি ইতালীয়ান গ্লোরিস।
২২ ক্লোয়েস্টার হচ্ছে যার পাশে ঢাকা পথ বা খোলা গ্যালারী দিয়ে ঘেরা কোন একটি উন্মুক্ত জায়গা। ব্যাসিলিকা দি সান্তা ক্রোসে মোট তিনটি ক্লোয়েস্টার আছে, যা পরিকল্পনা করেছিলেন ব্রুনেলেস্কি।
২৩  মার্কাস ভিটরুভিয়াস পোলিও (৮০/৭০ -১৫ খ্রিস্টপূর্বাব্দ) ভিটরুভিয়াস নামে পরিচিত, রোমন লেখক, স্থপতি, প্রকৌশলী ছিলেন খ্রিস্টপূর্ব প্রথম শতাব্দীদে, তিনি সুপরিচিত তার বহু খন্ডের দে আর্কিটেকটুরা গ্রন্থটির জন্য।
২৪  ফ্রান্সের সাওন-এ-লোয়ার এ অবস্থিত বেনেডিকাটাইন মোনাস্ট্রি বা সন্ন্যাস আশ্রম।
২৫  লেওনার্দো ডি সের পিয়েরো দা ভিঞ্চি (১৪৫২-১৫১৯) ইতালীয় পলিম্যাথ, ভাস্কর,স্থপতি,চিত্রকর, গনিতজ্ঞ, আবিষ্কারক, প্রকৌশলী, অ্যানাটমিস্ট, ভূতাত্ত্বিক, উদ্ভিদবিদ, লেখক ও ম্যাপনির্মাতা।

(((((((((((((((((চলবে)))))))))))))))))))))))

Advertisements
মানুষ, সব কিছুর মানদন্ড যে : দ্বিতীয় পর্ব

One thought on “মানুষ, সব কিছুর মানদন্ড যে : দ্বিতীয় পর্ব

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s