রিচার্ড ডকিন্স এর দি সেলফিশ জীন: অষ্টম অধ্যায়, শেষ পর্ব

ছবি: শিল্পী আসমা সুলতানা)

রিচার্ড ডকিন্স এর দি সেলফিশ জীন: অষ্টম অধ্যায়, প্রথম পর্ব
রিচার্ড ডকিন্স এর দি সেলফিশ জীন: অষ্টম অধ্যায়, দ্বিতীয় পর্ব
রিচার্ড ডকিন্স এর দি সেলফিশ জীন: অষ্টম অধ্যায়, তৃতীয় পর্ব
রিচার্ড ডকিন্স এর দি সেলফিশ জীন: অষ্টম অধ্যায়, চতুর্থ পর্ব

 

ক্লাচের আকার সংক্রান্ত ল্যাক এর তত্ত্ব পিতামাতার দৃষ্টিভঙ্গী দিয়ে কোনটি সবচেয়ে উপযুক্ত সেটি বিবেচনা করে। আমি যদি কোন মা সোয়ালো হয়ে থাকি, আমার দৃষ্টিভঙ্গী থেকে সবচেয়ে উপযুক্ত ক্লাচ সাইজ হবে, ধরুন পাচ।কিন্তু আমি যদি শিশু সোয়ালো হয়ে থাকি,তাহলে আমার জন্য উপযুক্ত ক্লাচ সাইজ হবে আরো ছোট কোন সংখ্যা, শর্ত শুধু আমিও তাদের একজন হবো। পিতামাতার একটি নির্দিষ্ট পরিমান পিতামাতার বিনিয়োগ আছে, যা সে চায় তার পাচটি সন্তানের মধ্যে সমানভাবে বন্টন করতে, কিন্তু প্রতিটি শিশু তাদের নায্য প্রাপ্য এক পঞ্চমাংশভাবে আরো বেশী দাবী করে। কোকিলের ব্যতিক্রম, সে পুরোটা চায় না, কারন সে অন্য ভাইবোনদের সাথে জীনগতভাবে আত্মীয়তার সম্পর্ক বহন করে।কিন্তু সে এক পঞ্চমাংশ ভাগের বেশী পরিমানে চায়। সে এক চতুর্থাংশ ভাগ অনায়াসে নিশ্চিৎ করতে পারে, নীড় থেকে একটি ডিম ছুড়ে ফেলে দিয়ে। জীনের ভাষায় অনুবাদ করলে, একটি কোন জীন যা ভাতৃহত্যার জন্য দায়ী, কল্পনা করা সম্ভব যে জীন পুলে ছড়িয়ে পড়বে কারন এর ১০০ শতাংশ সম্ভাবনা আছে ভাতৃহত্যাকারী কোন প্রানী সদস্যর শরীরে থাকার। কিন্তু মাত্র ৫০ শতাংশ সম্ভাবনা আছে এই ভাতৃহত্যার শিকার কোন সদস্যর শরীরে থাকার।

এই তত্ত্বটির মুল বিরোধিতা হচ্ছে যে খুবই কঠিন বিশ্বাস করা যে কেউই এই অশুভ আচরণ দেখবেন না যদি এটি সত্যি ঘটে। আমার কাছে কোন বিশ্বাসযোগ্য ব্যাখ্যা নেই এর।বহু ধরনের সোয়ালো আছে সারা পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে।আমরা জানি যে সোয়ালোদের স্প্যানিশ গ্রুপ কিছু কিছু বিশেষ ক্ষেত্রে যেমন বৃটিশ সোয়ালোদের থেকে ভিন্ন।বৃটিশ সোয়ালোদের মত স্প্যানিশ সোয়ালোদের উপর একই মাত্রার নিবিড় কোন গবেষনা হয়নি এবং আমার মনে হয় এটি সম্ভাব্য যে ভাতৃহত্যা সেখানেও ঘটে কিন্তু বিষয়টি খেয়াল করা হয়নি।

এখানে ভাতৃহ্ত্যা হাইপোথিসিস এর মত এরকম কোন অসম্ভাব্য ধারনা প্রস্তাব করার জন্য আমার কারন হচ্ছে যে আমি একটি সাধারন বিষয় সামনে আনতে চাই।সেটি হচ্ছে শিশু কোকিলদের নিষ্ঠুর ব্যবহার হচ্ছে চুড়ান্ত কোন উদহারন যা কোন পরিবারে অবশ্যই ঘটে থাকে।পুর্ণভাইরা একে অপরের আরো বেশী জীনগতভাবে ঘনিষ্ঠ, কোন কোকিল শিশু যতটা না তার পোষক পিতামাতার সন্তানদের সাথে ঘনিষ্ট। কিন্তু পার্থক্যটি হচ্ছে শুধুমাত্র মাত্রায়।এমনকি যদিও আমরা বিশ্বাস করতে পারিনা যে ভাতৃহত্যা বিবর্তিত হতে পারে, তবে প্রকৃতিতে অসংখ্য এর চেয়ে অপেক্ষাকৃত কম নিষ্ঠুর উদহারন আছে স্বার্থপরতার, যেখানে কোন শিশুর মুল্য পরিশোধ, তার ভাই বা বোনকে হারানোর রুপে, অনায়াসে ভারসাম্য হারায়, প্রতি দুজনে একজনের বেশী, তার নিজের প্রতি লাভ এর হিসাবে।এই সব ক্ষেত্রে, যেমন উইনিং সময়ের উদহারনে, আসলেই একটি সত্যিকারের সংঘর্ষ আছে পিতামাতা ও সন্তানের মধ্যে।

কে তাহলে সবচেয়ে সম্ভাব্য বিজয়ী এই প্রজন্ম যুদ্ধে? আর ডি আলেকজান্ডার (*) একটি চমৎকার প্রবন্ধ লিখেছিলেন, যেখানে তিনি প্রস্তাব করেন, এই প্রশ্নটির একটি সাধারন উত্তর আছে। তার মনে পিতামাতা সবসময় বিজয়ী হয়। এখন যদি এটাই ঘটে থাকে, তাহলে আপনি এই অধ্যায়টি পড়ে আপনার সময় নষ্ট করছেন।যদি আলেকজান্ডার সঠিক হন, কৌতুহলোদ্দীপক সব বিষয়গুলোর মুখোমুখি আমরা হবো। যেমন, পরার্থবাদী আচরণ এর বিবর্তন হতে পারে, জীনদের সুবিধা হবে সেই কারনে না বরং পুরোপুরি এর কারন তার পিতামাতার জীনদের স্বার্থে।পিতামাতার নানা কৌশল বা আর ডি আলেকজান্ডারের ভাষা প্যারেন্টাল ম্যানিপুলেশন, রুপান্তরিত হয় বিকল্প বিবর্তনীয় কারন পরার্থবাদী আচরণের জন্য, যা স্বতন্ত্র স্পষ্টভাবে কিন সিলেকশন থেকে।সেকারনে গুরুত্বপুর্ণ যে আমরা আলেকজান্ডার এর যুক্তিটি পরীক্ষা করে দেখবো এবং আমাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে বিশ্বাসের সাথে যে আমরা বুঝতে পেরেছি, তিনি কেন ভুল।এটা আসলেই করা সম্ভব গানিতীকভাবে, কিন্তু আমরা সুস্পষ্টভাবে কোন গানিতীক ব্যাখ্যা এড়িয়ে চলছি এই বই এ। সম্ভব কোন একটি সহজাত ধারনা দেয়া আলেকজান্ডার এর থিসিস এর কোথায় আসলে ভুল।

তার মুল জীন নির্ভর যুক্তিটি নিম্নলিখিত সংক্ষিপ্ত উদ্ধৃতির মধ্যে আমরা দেখতে পাবো: ধরুন কোন একটি তরুন ..তার নিজের সুবিধার স্বার্থে পিতামাতা বিতরন করা সম্পদের অসম বন্টনের জন্য কারন হয় এবং এভাবে মায়ের নিজের সার্বিক প্রজনন ক্ষমতা হ্রাস করবে। কোন একটি জীন যে এই নিয়মে কোন একক সদস্যর ফিটনেস এর উন্নতি করে যখন সে একটি শিশু, সে ব্যর্থ হয় তার তার ফিটনেস কমাতে যখন সে একজন প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষ, এমন কোন মিউট্যান্ট জীনে কোন একটি মিউট্যান্ট সদস্যর সন্তানের মধ্যে অনেক বেশী হারে উপস্থিত থাকবে।যে বিষয়টি আলেকজান্ডার এখানে তার বিবেচনায় এনেছেন তাহলো একটি নতুন মিউটেশন হওয়া জীন এই যুক্তির জন্য আবশ্যিক কোন মৌলিক বিষয় না। বরং আরো ভালো হয় কোন দুষ্প্রাপ্য জীনের কথা ভাবলে যা সে কোন পিতামাতার কাছ থেকে ‍উত্তরাধিকার সুত্রে পায়। ফিটনেস একটি বিশেষ কারিগরী অর্থ আছে প্রজনন সাফল্যর ব্যপারে।আলেকজান্ডার মুলত যা বলছেন তা হলো এটা, কোন একটি জীন যা কোন শিশুকে তার নায্য ভাগের চেয়ে বেশী পরিমান দখল করতে সাহায্য করেছে যখন সে শিশু ছিল, তার পিতার মাতার মোট প্রজনন সাফল্যর মুল পরিশোধের বিনিময়ে, আসলেই হয়তো তার টিকে থাকার সম্ভাবনাকে বাড়াবে। কিন্তু সেই এর জন্য শাস্তি পেতে পারে যখন সে নিজেই পিতামাতা হবে, কারন তার নিজের শিশু সেই একই স্বার্থপর জীন উত্তরাধিকার সুত্রে পাবার সম্ভাবনা থাকবে এবং সেটি তার নিজেরই প্রজনন সাফল্য হ্রাস করবে। সেই প্রানীটি নিজের অস্ত্রে নিজেই ঘায়েল হয়। সুতরাং জীনটি সফল হতে পারবে না এবং বাবামাই সবসময় জিতবে এই দ্বন্দ্বে।

এই যুক্তি শোনার সাথেই সাথেই আমাদের সন্দেহের উদ্রেক হওয়া উচিৎ কারন এটির মুল ভিত্তি হচ্ছে জীনগত অসাম্যতার ধারনা, যা আসলেই অনুপস্থিত সেখানে। আলেকজান্ডার পিতামাতা আর সন্তান শব্দগুলো ব্যবহার করছেন যেন তাদের মধ্যে মৌলিক কোন জীনগত পার্থক্য আছে। যেমন আমরা দেখেছি, যদি পিতামাতা আর সন্তানদের মধ্যে ব্যবহারিক ক্ষেত্রে কিছু না কিছু পার্থক্য আছে, যেমন পিতামাতারা তাদের সন্তানের চেয়ে বয়সে বড় এবং সন্তানের জন্ম হয় পিতামাতা শরীর থেকেই, কিন্তু সেখানে আসলেই কোন মৌলিক জীনগত অসাম্যতা নেই। তাদের সম্পর্কর মাত্রা ৫০ শতাংশ, যেদিক থেকেই আপনি দেখুন না কেন। আমি যা বলতে চাইছি সেটির উদহারণ দিয়ে বোঝানোর জন্য আমি আবারো আলেকজান্ডারে শব্দাবলী পুণরাবৃত্তি করবো, কিন্তু পিতামাতা, তরুন সন্তান এবং অন্যান্য প্রযোজ্য শব্দ প্রতিবর্তন করে। ধরুন যে কোন একটি পিতামাতার একটি জীন আছে, যে জীনটি পিতামাতার উপকারিতা সমানভাবে তাদের সন্তানদের মধ্যে যেন বন্টন হয় সেটি নিশ্চিৎ করে। কোন জীন যা এই ভাবে কোন একটি একক সদস্যর ফিটনেস এর উন্নতি করে যখন এটি একটি পিতামাতা এবং এটি তার ফিটনেসকে হ্রাস করতে পারেনা যখন এটি একটি তরুন। সুতরাং আমরা আলেকজান্ডার এর বীপরিত কোন উপসংহারে পৌছাই, সেটি হচ্ছে যে কোন পিতামাতা/সন্তান দ্বন্দ্বে সন্তানরা অবশ্য জয় লাভ করে।

স্পষ্টতই বেশ কিছু বিষয় এখানে ভুল। দুটো যুক্তিই অতি সরলীকরণ করে এখানে উপস্থাপন করা হয়েছে। আমার এই উল্টো করে সাজানো উদ্ধৃতি আলেকজান্ডারের বীপরিত কোন বিষয়কে প্রমান করছে না বরং শুধুমাত্র দেখাচ্ছে যে আপনি তর্ক করতে পারবেন না কৃত্রিম কোন অপ্রতিসম উপায়ে। আলেকজান্ডারের যুক্তি ও এবং আর এর প্রতিবর্তন দুটোই ভুল করেছে কোন একটি একক সদস্যর দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে পুরো ব্যাপার দেখে – আলেকজান্ডার এর ক্ষেত্রে, পিতামাতা, আমার ক্ষেত্রে তাদের সন্তান। আমি বিশ্বাস করি এই ধরনের ভুল খুব সহজেই করা সম্ভব যখন আমরা এখানে ফিটনেস এর মত কোন কারিগরী বিশেষ অর্থবাচক কোন শব্দ ব্যবহার করি। একারনে আমি এই বইতে শব্দটি ব্যবহার করা থেকে বিরত থেকেছি। বিবর্তনের ক্ষেত্রে আসলেই শুধুমাত্র এটি সত্ত্বা থাকে যার দৃষ্টিভঙ্গী গুরুত্বপুর্ণ, আর সেই সত্ত্বাটি হচ্ছে স্বার্থপর জীন। তরুন প্রানীদের শরীরে জীনরা নির্বাচিত হতে তাদের পিতামাতার শরীরকে বোকা বানানোর দক্ষতার উপর ভিত্তি করে; পিতামাতার শরীরে জীনরা নির্বাচিত হবে তাদের তরুন সন্তানদের বোকা বানানোর মাধ্যমে। সেই বাস্তব সত্যটিতে কোন ধাধা নেই যে সেই একই জীন ধারাক্রমে কোন তরুন শরীরে বাস করে এবং এরপর একটি পিতামাতার শরীরে বাস করে। জীনরা নির্বাচিত হয় তাদের হাতে থাকা ক্ষমতা সঠিক সদ্ব্যবহার করার যোগ্যতার উপর ভিত্তি করে: তারা তাদের বাস্তব সুযোগগুলোর ব্যবহার করে তাদের স্বার্থে। যখন কোন জীন কোন একটি তরুন শরীরে বাস করে তার ব্যবহারিক সুযোগ ভিন্ন হবে যখন এটি পিতামাতার শরীরে বাস করে। সেকারনে এর সবচেয়ে উপযুক্ত নীতিমালা ভিন্ন হবে জীবনের ইতিহাসের দুটি পর্বে। কোন কারন নেই মনে করা যেমন আলেকজান্ডার করেছেন, এবং পরের উপযুক্ত নীতিমালার আবশ্যিকভাবে এর আগের নিয়মকে বাতিল করে দেয় নতুন নিয়ম আরোপ করে।

আলেকজান্ডার এর যুক্তির বিরুদ্ধে প্রস্তাব দাড় করানোর আরেকটি উপায় আছে। তিনি অনুক্তভাবে ভেবে নিয়েছেন যে একটি মিথ্যা অসাম্যতা পিতামাতা/সন্তানের সম্পর্কে থাকে যেমন একদিকে এবং অন্যদিকে ভাই/বোন সম্পর্ক। আপনি মনে করতে পারবেন যে ট্রিভারস এর মতে, কোন একটি স্বার্থপর শিশুর তার নায্যভাবে প্রাপ্য ভাগের বেশী কিছু কেড়ে নেবার মুল্য, এবং কোন একটি নির্দিষ্ট সীমা অবধি সে শুধু কেড়ে নেবার চেষ্টা করে তার কারন হচ্ছে, তার ভাই বোনদের ক্ষতি হবার সম্ভাবনা যারা প্রত্যেকে তার অর্ধেক জীন বহন করে। কিন্তু ভাইরা এবং বোনরা হচ্ছে শুধুমাত্র বিশেষ ধরনের আত্মীয় যাদের ৫০ শতাংশ আত্মীয়তা থাকে। কোন স্বার্থপর সন্তানের নিজের ভবিষ্যত সন্তান কম বা বেশী মুল্যবান নয় তার নিজের ভাই এবং বোনদের তুলনায়।সুতরাং আপনার নিজের নায্যভাগের চেয়ে বেশী দখল করে নেবার মোট মুল্য পরিমাপ করার উচিৎ শুধুমাত্র তার হারানো ভাইবোনদের দিয়ে না বরং তার হারানো ভবিষ্যত সন্তানদের পরিমাপেও কারন তাদের নিজেদের মধ্যে স্বার্থপরতা। আপনার নিজের সন্তানের মধ্যে শৈশবের স্বার্থপরতা বিস্তার লাভ করার অসুবিধা নিয়ে আলেকজান্ডার এর যুক্তি, যার মাধ্যমে আপনার নিজের দীর্ঘমেয়াদী প্রজনন সাফল্যর ঘাটতি হবে, খুব ভালোভাবে গৃহী হয়েছে, কিন্তু এর শুধুমাত্র যা বোঝায় তা হলো আমাদের অবশ্যই যোগ করতে হবে সমীকরণের মুল্য পরিশোধ সংক্রান্ত দিকে।কোন একক সদস্য তারপরও ভালো করবে স্বার্থপর হয়ে যতক্ষন না তার জন্য মোট সুবিধা অন্তত তার আপন স্বজনের পরিশোধিত মুল্যের অর্ধেক।কিন্তু নিকটাত্মীয় বলতে শুধুমাত্র ভাইবোন না বরং কারো নিজের ভবিষ্যত সন্তানদের কথাও ভাবতে হবে।কোন একক সদস্যর উচিৎ হবে তার নিজের কল্যানটি তার ভাই এর কল্যানের চেয়ে দ্বিগুন মুল্যবান হিসাবে পরিগনিত করা, এবং এটাই মুল প্রাকধারনা যা কিনা ট্রিভারস করেছিলেন।কিন্তু একই সাথে সে তার নিজেকে দ্বিগুন মুল্যবান ভাববে তার নিজের ভবিষ্যত সন্তানদের তুলনায়ও।আলেকজান্ডারের উপসংহারটি যে, আসলেই অন্তর্নিহিত কিছু সুবিধা আছে পিতামাতার দিকে স্বার্থের সংঘাতে, সেটি আসলে ঠিক নয়।

তার মৌলক জীন সংক্রান্ত যুক্তি ছাড়াও, আলেকজান্ডার আরো বেশ কিছু ব্যবহারিকভাবে গুরুত্বপুর্ণ যুক্তি আছে, যার সুচনা হয়েছে পিতামাতা/শিশুর অনস্বীকার্যভাবে অপ্রতিসম সম্পর্কের মধ্যে। পিতামাতা হচ্ছে সক্রিয় সহযোগী, যে আসলেই মুল কাজগুলো করে যেমন খাদ্য সংগ্রহ এবং এটি সেকারনে এমন একটি অবস্থানে আছে যা কিনা সবকিছু নিয়ন্ত্রন করতে পারে।যদি পিতামাতা সিদ্ধান্ত নেয় সে সেই কষ্টটি আর করবে না, শিশুর আসলে তখন সে ব্যাপারে কিছু করার থাকে না, কারন এটি আকারে ছোট, এবং কোন প্রত্যুত্তর দেবার মত ক্ষমতা নেই তার।সুতরাং পিতামামা হচ্ছে এমন একটি অবস্থানে আসীন যেখানে সে তার নিজের ইচ্ছা চাপিয়ে দিতে পারে, শিশুটির নিজের চাহিদা যাই থাকুক না কেন।এই যুক্তি অবশ্যই ভুল নয়, কারন এখানে অসাম্যতা যা এটি প্রস্তাব করছে তা আসলেই সত্যিকার। পিতামাতারা আসলে আকারে বড়,শক্তিশারী এবং শিশু সন্তানদের তুলনায় ব্যবহারিক অনেক জ্ঞান রাখে।মনে হতে পারে আসলেই তাদের হাতে সব ভালো তাশগুলো আছে। কিন্তু শিশু সন্তানদেরও হাতেও কিছু শক্তিশালী অস্ত্র আছে। যেমন, কোন পিতামাতার জন্য গুরুত্বপুর্ণ জানা যে তার প্রতিটি সন্তান কে কতটা ক্ষুধার্ত, সুতরাং সে যেন সর্বোত্তম উপায়ে তাদের মধ্যে খাদ্য বিতরণ করতে পারে।তারা অবশ্যই তাদের সবার জন্য সমানভাবে খাদ্য রেশন করে বিলি করতে পারে, কিন্তু সম্ভাব্য সর্বোত্তম কোন পরিস্থিতিতে এটি তেমন দক্ষ হবে না সেই পদ্ধতির তুলনায়, যেখানে যারা আসলেই ভালোভাবে ব্যবহার করতে পারে তাদের খানিকটা যদি দেয়া হয়।যে পদ্ধতির মাধ্যমে প্রতিটি শিশু তাদের বাবামা কে বলে কতটা ক্ষুধার্ত সে, আসলে পিতামাতার জন্য সবচেয়ে উপযোগী পদ্ধতি হবে। এবং যেমনটি আমরা দেখেছি,এই ধরনের সিস্টেম বিবর্তিতও হয়েছে। কিন্তু তরুন শিশুরা মিথ্যা করার বলার জন্য সবচেয়ে ভালো অবস্থানে থাকে কারন তারা জানে আসলেই ঠিক কতটা ক্ষুধার্ত তারা, যখন পিতামাতা শুধুমাত্র অনুমান করতে পারে তারা সত্যি কথা বলছে কি বলছে না। পিতামাতার পক্ষে অসম্ভব ছোট কোন মিথ্যা কথা শনাক্ত করা। যদিও তারা বড়সড় মিথ্যা ঠিকই শনাক্ত করতে পারে।তারপরও, কোন পিতামাতার জন্য সুবিধা হচ্ছে জানা যখন একটি শিশু তৃপ্ত এবং এটিও ভালো বিষয় কোন শিশুর জন্য তার পিতামাতাকে জানানো যে যখন সে তৃপ্ত আর আনন্দিত।গরগর শব্দ করা বা হাসা এধরনের সংকেতগুলো হয়তো একারনেই নির্বাচিত হয়েছে কারন সেগুলো পিতামাকে বুঝতে সাহায্য করে তাদের কোন কাজটি তাদের সন্তানের জন্য সবচেয়ে সুবিধাজনক। কোন শিশুর হাসি মুখ বা সে যদি বিড়াল হয় তার বাচ্চাদের গরগর শব্দ মায়ের জন্য সন্তোষজনক একই ভাবে কোন গোলকধাধার মধ্যে থাকা ইদুরের পেটে খাদ্য যেমন তৃপ্তিদায়ক। কিন্তু একবার যখন এটি সত্যিতে রুপান্তরিত হয় যে কোন মিষ্টি হাসি বা উচ্চ স্বরে ডাকা সন্তোষজনক, তখন শিশুটি তার সেই অবস্থানে উপনীত হয়, যেখান থেকে সে তার পিতামাতার আচরনকে প্রভাবিত করতে পারে, এবং পিতামাতার বিনিয়োগের তার নায্যভাবে প্রাপ্য ভাগের চেয়ে বেশী সে অর্জন করে।

তারপরও, কোন সাধারন উত্তর নেই সেই প্রশ্নটির, কে আসলে প্রজন্মের মধ্যে এই দ্বন্দ্বে জয়লাভ করে।পরিশেষে যা উদ্ভব হয় তা হলো, কোন একটি আদর্শ পরিস্থিতি যা কিনা কোন শিশু কামনা করে এবং পিতামাতা যে আদর্শ পরিস্থিতি কামনা করে তার মধ্যে একটি সমঝোতা।এটি সেই যুদ্ধের সাথে তুলনাযোগ্য, যে যুদ্ধ হচ্ছে কোকিল ও তার পোষক পিতামাতার মধ্যে।অবশ্যই কোন হিংস্র যুদ্ধ না নিশ্চয়ই, কারন শত্রুদের একটি সাধারন জীনগত স্বার্থ আছে – তারা শুধু শক্র একটি নির্দিষ্ট সীমা অবধি বা কোন সংবেদনশীল সময়েই সীমাবদ্ধ। তবে, কোকিলদের ব্যবহৃত বহু প্রতারণা আর স্বার্থপরভাবে কোন কিছু নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করার কৌশল হয়তো ব্যবহার করতে পারে পিতামাতা নিজেদের সন্তান, যদিও পিতামাতার নিজেদের সন্তান পুরোপুরি স্বার্থপর হবার আগেই থেমে যাবে, যে চুড়ান্ত স্বার্থপরতা প্রত্যাশা করা যেতে পারে কোকিলদের মধ্যে।

এই অধ্যায় এর এর পরেরটা, যেখানে আমরা সঙ্গীদের মধ্যে দ্বন্দ নিয়ে আলোচনা করবো, মনে হতে পারে ভয়াবহ হতাশাবাদী এবং মনে হতে পারে এমনকি মানব বাবা মার জন্য রীতিমত যন্ত্রণাদায়ক, যেহেতু তারা তাদের সন্তানদের প্রতি এবং একে অপরের সাথে খুব বেশীভাবে নিবেদিতপ্রাণ।আবারো আমি বিশেষভাবে উল্লেখ করছি, আমি কিন্তু কোন সচেতন উদ্দেশ্য নিয়ে কথা বলছি না। কেউই প্রস্তাব করছে না যে শিশুরা সুপরিকল্পিতভাবে এবং সচেতনভাবই তাদের পিতামাতাকে প্রতারণা করে কারন তাদের মধ্যে ধারন করা স্বার্থপর জীন। এবং আমি অবশ্যই পুণরাবৃত্তি করতে চাই যখন আমি কিছু বলি যেমন, কোন একটি শিশুর উচিৎ না প্রতারণা করার কোন সুযোগ হারানো .. মিথ্যা বলা, ছলনা করা, নিজের স্বার্থে কোন কিছু ব্যবহার করা..; আমি উচিৎ শব্দটা ব্যবহার করছি বিশেষ অর্থে। আমি এই ধরনের কোন আচরনের স্বপক্ষে কোন সাফাই গাইছি না এগুলো নৈতিক বা কাঙ্খিত কোন আচরণ হিসাবে।আমি শুধুমাত্র বলছি যে প্রাকৃতিক নির্বাচন সেই সব শিশুদের পক্ষে আনুকুল্যতা প্রদর্শন করে যারা এইভাবে আচরণ করে। এবং সেটাই সুতরাং যখন আমরা বন্য প্রানী জনগোষ্ঠীদের দিকে তাকাই, আমরা প্রত্যাশা করতে পারি পরিবারদের মধ্যে প্রতারণা আর স্বার্থপরতা দেখার।শিশুর প্রতারণা করা উচিৎ হবে এই বাক্যটির অর্থ যে জীন যা কোন শিশুকে দিয়ে প্রতারণা করায় তাদের বাড়তি সুবিধা আছে জীন পুলে।যদি কোন মানবিক নৈতিকতা আমাদের এখানে থেকে বের করে আনতে হয়, সেটি হবে আমাদের অবশ্যই আমাদের শিশুদের পরার্থবাদীতা শেখাতে হবে, কারন আমরা এটিকে তাদের জৈববৈজ্ঞানিক প্রকৃতির অংশ হিসাবে প্রত্যাশা করতে পারিনা।

 

টিকা:

(*) আলেকজান্ডার উদারতা সাথে তার অবস্থানের ভ্রান্তি মেনে নিয়েছেন, তার ১৯৮০ সালের Darwinism and Human Affairs এর বইটিতে ( পৃষ্ঠা ৩৯), যে তার আসলে ভুল হয়েছে অবশ্যম্ভাবীভাবে মৌলিক ডারউইনীয় ধারনা থেকে আসে বলে পিতামাতা/সন্তান দ্বন্দে পিতামাতার জয় হয় এমন যুক্তি প্রস্তাব করে।আমার এখন মনে হয় যে তার থিসিস, যে পিতামাতারা একটি অসম সুবিধা পায় তাদের সন্তানদের উপর, প্রজন্মের মধ্যকার দ্বন্দে – যাকে শক্তিশালী করা যেতে পারে একটি ভিন্ন ধরনের যুক্তি ব্যবহার করে, যা আমি শিখেছি এরিক চার্ণভ এর কাজ থেকে। চার্ণভ সামাজিক কীট পতঙ্গ নিয়ে লিখেছিলেন, বিশেষ করে প্রজনন অক্ষম অনুর্বর শ্রেনীর উৎপত্তি সম্বন্ধে।কিন্তু তার যুক্তি আরো সাধারনভাব অনেক ক্ষেত্রেই প্রয়োগ করা যায়। এবং আমি সাধারনভাবেই সেটি ব্যাখ্যা করবো। কোন একটি একগামী প্রজাতির- ইনসেক্ট হতে হবে এমন কোন কথা নেই – কোন একটি তরুন স্ত্রী সদস্যর কথা ভাবুন, যে প্রাপ্তবয়স্ক হবার দ্বারপ্রান্তে দাড়িয়ে আছে। তার উভয়সঙ্কটময় পরিস্থিতি হচ্ছে, সে কি তার গ্রুপ ত্যাগ করবে আর চেষ্টা করবে নিজেই প্রজনন শুরু করার নাকি তার পিতামাতার নীড়ে থাকবে তার ছোট ভাই বোনদের প্রতিপালন করতে সাহায্য করার জন্য। তার প্রজাতির প্রজনন আচরণের জন্য, সে আত্মবিশ্বাসী হতে পারে তার মা আরও বহুদিন ধরে তার জন্য ভাই বোনের জন্ম দিতে থাকবে। হ্যামিলটনের যুক্তি অনুযায়ী, তার এই সব ভাইবোনরা তার কাছে জীনগতভাবে একই রকম মুল্যবার তার নিজের সন্তান যতটা মুল্যবান হবে ততটাই। জীনগত সম্পর্ক আমরা যতটুকু বিবেচনা করি, সেখানে এই তরুন সদস্য এই দুইটি পন্থার প্রতি নির্বিকার হবার কথা। বা সে আদৌ চিন্তিত না যে যাবে নাকি থাকবে। কিন্তু তার পিতামাতা কিন্তু কোনভাবেই নির্বিকার নয়, সে কি করবে সে বিষয়ে। তার বৃদ্ধ মার দৃষ্টিভঙ্গী দিয়ে বিষয়টি দেখার চেষ্টা করুন, সেখানে তার বাছাই করতে হবে নাতি নাতনী অথবা সন্তানদের মধ্যে। নতুন সন্তানরা তার কাছে দ্বিগুন মুল্যবান জীনগতভাবে যদি বলা হয়, তার নতুন নাতি নাতনীদের তুলনায়। আমরা যদি পিতামাতা ও সন্তানদের দ্বন্দের কথা বলি, বিশেষকরে সন্তানরা চলে যাবে নাকি নীড়ে থেকে যাবে প্রতিপালনে সহায়তা করার জন্য। চার্ণভ এর মুল বক্তব্য হচ্ছে এই দ্বন্দ্ব খুব সহজ একটি জয় পিতামাতার জন্য খুব ভালো কারনে যে শুধুমাত্র পিতামাতাই এটাকে দ্বন্দ হিসাবে দেখে। এটা অনেকটা দুজন অ্যাথলেটদের মধ্যে দৌড়ের মত, যেখানে একজনকে ১০০০ পাউন্ড দেবার প্রস্তাব দেয়া হয় সে যদি জেতে, অন্যদিকে তার বিরোধীকে আশ্বাস দেয়া হয়েছে তাকে ১০০০ পাউন্ড দেওয়া হবে সে হারুক কিংবা জিতুক। আমাদের প্রত্যাশা করা উচিৎ প্রথম দৌড়বিদটি অনেক বেশী চেষ্টা করবে জেতার জন্য এবং সেটাই, যদি দুজনেই অন্যসব দিক থেকে সমপরিমান যোগ্য হয়ে থাকে, তাকে সম্ভবত বিজয়ী করবে। আসলেই চার্ণভ এর বক্তব্যটি আরো অনেক শক্তিশালী এখানে যে তুলনামুলক উদহারনটি প্রস্তাব করা হয়েছে তার চেয়ে কারন সর্বস্ব দিয়ে দৌড়ানোর মুল্য তেমন বেশী কিছু না যা বহু মানুষকে উৎসাহিত করতে পারে, তারা আর্থিকভাবে তার জন্য পুরষ্কার পাক কিংবা না পাক। ডারউইনী বিবর্তনী খেলায় এধরনে অলিম্পিক আদর্শ বেশী মাত্রায় বিলাসিতা: কোন একটি দিকে প্রচেষ্ঠা সবসময় পুরষ্কৃত হয় অন্য কোন হারানো কোন প্রচেষ্টার মুল্য হিসাবে। যেঙন, আপনি যত বেশী প্রচেষ্টা যে কোন একটি কোন প্রতিযোগিতায়, ততই সম্ভাবনা কম আপনার ভবিষ্যতের কোন প্রতিযোগিতা জেতার জন্য কারন চুড়ান্ত ক্লান্তি।

 

ভিন্ন ভিন্ন প্রজাতির জন্য এই শর্তগুলোও ভিন্ন হবে, সুতরাং আমরা সবসময় আগে থকে ডারউইনী খেলার ফলাফল সম্বন্ধে ধারনা করতে পারিনা। যাইহোক না কেন, যদি আমরা বিবেচনা করি শুধুমাত্র জীনগত আত্মীয়তার নিকট সম্পর্কগুলো এবং মনে করে নেই একটি একগামী প্রজনন পদ্ধতি ( যেন কন্যারা নিশ্চিৎ হতে পারে তার ভাইবোনরা তার আপন ভাইবোন), আমরা প্রত্যাশা করতে পারি যে বৃদ্ধ সমা তার তরুন পুর্ণবয়স্ক কন্যাকে নিজের স্বার্থসিদ্ধির জন্য ব্যবহার করে থাকার জন্য প্ররোচিত করে এবং ভাইবোনদের প্রতিপালনে সহায়তা করার জন্য। এখানে মায়ের স্বার্থই সবচেয়ে বেশী, সব লাভ তারই হবার কথা, অন্যদিকে তার কন্যার জন্য কোন প্ররোচনা থাকবে না তার মায়ের এই উদ্দেশ্যপুরণকে প্রতিরোধ করার জণ্য কারন সে জীনগতভাবে নির্বিকার তার হাতে থাকা সবগুলো বিকল্প পরিস্থিতিগুলোর প্রতি। আবারো, এটা গুরুত্বপুর্ণ যে বিষয়টির উপর জোর করতে হবে সেটি হচ্ছে, অন্য সব কিছু যদি একই থাকে ধরনের একটি যুক্তি। এমনকি যদিও অন্য সব কিছু কখনো এক হয় না সাধারনত, চার্ণভ এর যুক্তি তারপরও আলেকজান্ডার বা অন্য যে কোন কারোর জন্য উপযোগী গতে পারে যারা প্যারেন্টাল ম্যানিপুলেশন তত্ত্বর পক্ষে কথা বলছেন। তবে যাই হোক না কেন আলেকজান্ডার এর প্রায়োগিক যুক্তিগুলো যা প্রত্যাশা করে পিতামাতার বিজয় – কারন পিতামাতা আকারে বড়,শক্তিশালী এবং ইত্যাদি – যুক্তিসঙ্গতভাবে বিবেচনাযোগ্য।

 

((( অষ্টম অধ্যায় সমাপ্ত)))

Advertisements
রিচার্ড ডকিন্স এর দি সেলফিশ জীন: অষ্টম অধ্যায়, শেষ পর্ব

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s