রিচার্ড ডকিন্স এর দি সেলফিশ জীন: অষ্টম অধ্যায়, তৃতীয় পর্ব

sfg
(ছবি: শিল্পী আসমা সুলতানা)

রিচার্ড ডকিন্স এর দি সেলফিশ জীন: অষ্টম অধ্যায়, প্রথম পর্ব
রিচার্ড ডকিন্স এর দি সেলফিশ জীন: অষ্টম অধ্যায়, দ্বিতীয় পর্ব

প্রজন্মের যুদ্ধ

এই মুহুর্তটি মনে হয় উত্তম আরো একটি বিস্মকর প্রপঞ্চর বিষয়টি উল্লেখ করার জন্য, যা পরিচিত রজোনিবৃত্তি বা মেনোপজ নামে । মেনোপজ হচ্ছে মধ্য বয়সে, বরং হঠাৎ করে মানব নারীর প্রজনন উর্বরতার সমাপ্তি।আমাদের প্রাচীন উত্তরসুরীদের মধ্যে মেনোপজ তেমন সচরাচর দেখা যেত না, কারন বহু নারী সেই সময় অবধি বেচে থাকতেন না। কিন্তু তারপরও হঠাৎ করে নারীর জীবনের এই পরিবর্তন আর পুরুষের উর্বরতার ক্ষেত্রে ধীর পরিবর্তন ইঙ্গিত করে, মেনোপজ প্রক্রিয়াটিতে কোন কিছু আছে যাকে আমরা বলতে পারবো জীনগত ভাবে পুর্বপরিকল্পিত – বা বলা যায় একটি অভিযোজন। বরং বেশ কঠিন এটি ব্যাখ্যা করা। প্রথমে দৃষ্টিতে আমরা আশা করি যে কোন নারী তার মুত্যুর আগ অবধি সন্তান ধারন করা অব্যাহত রাখবে, এমনকি বয়স বাড়ার সাথে সাথে তার জন্ম দেয়া কোন বাচ্চা যে বাচবে সেই সম্ভাবনাটাও কমতে থাকে। নি্শ্চয়ই মনে হতে পারে কাজটি করার প্রচেষ্টা অবশ্যই লাভজনক, তাই না ? কিন্তু আমরা অবশ্যই মনে রাখবো সে তার নাতি নাতনীদেরও জীনগতভাবে আত্মীয়, যদিও তার সন্তানদের সাথে যতটা, তার অর্ধেক মাত্রায়।

বেশ কিছু বিচিত্র কারনে, হয়তো যা সংশ্লিষ্ট মেদাওয়ার এর বৃদ্ধ হবার তত্ত্বটির সাথে (পৃষ্ঠা ৪০), নারীরা তাদের প্রাকৃতিক অবস্থায় ধীরে ধীরে সন্তান প্রতিপালনে অদক্ষ হয়ে ওঠে বয়স বাড়ার সাথে সাথে। সেকারনে কোন একটি বয়স্ক মায়ের শিশুর প্রত্যাশিত জীবনের আয়ুষ্কাল, কোন একটি তরুন মায়ের জন্ম দেয়া সন্তানের প্রত্যাশিত আয়ুষ্কালের বেশ কম।এর অর্থ হচ্ছে যদি কোন নারী একটি শিশুর জন্ম দেয় এবং একই দিনে তার একটি নাতিরও জন্ম হয়, তার নাতি তার সন্তানের চেয়ে বেশী দিন বাচবে এমন প্রত্যাশা করা যায়। যখন কোন নারী এমন একটি বয়সে পৌছায় যখন তার প্রতিটি জন্ম দেয়া শিশুর প্রাপ্তবয়স্ক বয়সে পৌছাবার গড় সম্ভাবনা সেই একই বয়সের তার নাতি নাতনীর পুর্ণবয়স্ক হবার সম্ভাবনার অর্ধেকেরও কম হয়, কোন জীন যা কিনা নাতি নাতনীর জন্য বিনিয়োগ করে, সন্তান অপেক্ষা সেই প্রাকৃতিক নির্বাচনের আনুকুল্য পাবে।এমন কোন একটি জীন বহন করবে তার প্রতি চারটি নাতিনাতনীর মধ্যে মাত্র একজন, অপরদিকে প্রতিদ্বন্দী জীন যা বহন করবে তার প্রতি দুই সন্তানের মধ্যে একজন। কিন্তু নাতি নাতনীদের জীবনের প্রত্যাশিত আয়ুষ্কাল বেশী হবার কারনে এই বৈষম্যটির ভারসাম্য পায় বীপরিত দিকে এবং নাতিনাতনী পরার্থবাদী জীন জীনপুলে প্রভাব বিস্তার করে। কোন একটি নারী তার নাতি নাতনীর জন্য পুরোপুরি আত্মনিয়োগ করতে পারে যতি সে তার নিজের সন্তান ক্রমেই উৎপাদন করতে থাকে। সুতরাং মধ্য বয়সে প্রজননগতভাবে অনুর্বর হবার কোন জীন সংখ্যায় বাড়তে থাকে জনসংখ্যায়। যেহেতু সেই জীনটি বহন করে নাতি-নাতনীদের শরীর যাদের টিকে থাকায় সহায়তা করে পিতামহী/মাতামহী পরার্থবাদীতা। নারীদের মধ্যে মেনোপজের বিবর্তনের এটি একটি সম্ভাব্য ব্যাখ্যা। আর কেন পুরুষদের প্রজনন উর্বরতা ধীরে ধীরে হ্রাস পায়, হঠাৎ করে বন্ধ না হয়ে, এর কারন সম্ভবত পুরুষরা কোন একটি শিশুর প্রতি কোন নারীর মত বিনিয়োগ করে না। তরুন নারীদের দ্বারাও সে সন্তান উৎপাদন করতে পারে এই শর্তে খুব বৃদ্ধ পুরুষদের তার সন্তানদের প্রতি বিনিয়োগ করা লাভজনক, তার নাতি নাতনী অপেক্ষা। আপাতত এই অধ্যায় ও এর আগেরটিতে আমরা দেখেছি সবকিছু কোন পিতামাতার দৃষ্টিভঙ্গী দিয়ে, বিশেষ করে মায়ের। আমরা প্রশ্ন করেছি, আসলেই কি পিতামাতার কোন পছন্দের কোন সন্তান থাকা আমরা প্রত্যাশা করতে পারি কিনা এবং সাধারনভাবে পিতামাতার জন্য সেরা বিনিয়োগ কৌশল বা নীতিমালা কি হতে পারে। কিন্তু হয়তো প্রতিটি শিশু প্রভাবিত করতে পারে, তার পিতামাতা কতটুকু বিনিয়োগ করবে তার উপর, তার ভাই বা বোনদের প্রতি যা করে তার বীপরিতে।এমনকি যদি পিতামাতা তাদের এই বিশেষ পক্ষপাতিত্ত্ব তার সন্তানদের প্রতি দেখাতে চায়না, হতে পারে কি যে সন্তানরা নিজেরাই তাদের প্রতি পিতামাতার বিশেষ সুনজর কেড়ে নেয়? এমন কোন কাজ করলে তারা কি লাভবান হয়? আরো কঠোর অর্থে, সন্তানদের মধ্যে স্বার্থপর এই আচরণ কেড়ে নেয়ার জন্য জীনটি কোন জীনপুলে সংখ্যায় বাড়বে তার প্রতিদ্বন্দী কোন জীন অপেক্ষায় যাকিনা সন্তানদের মেনে নিতে শেখায় তার যা পাবার কথা সেই ভাগটাই সে পেয়েছে? এই বিষয়টির চমৎকার ভাবে বিশ্লেষন করেছে ট্রিভারস, ১৯৭৪ সালে লেখা তার Parent-Offspring Conflict গবেষনাপত্রে।

কোন মা তার সব সন্তানদের প্রতি সমানভাবে আচরণ করে, যাদের জন্ম হয়েছে আর যারা জন্ম হবার অপেক্ষায় আছে।শুধুমাত্র জীনগত বাস্তবতায় তার সন্তানদের মধ্যে তার কোন বিশেষ পছন্দের কারো থাকা উচিৎ না, আমরা যেমন দেখেছি। কিন্তু যদি সে পক্ষপাতমুলক আচরণ প্রদর্শন করে, সেটি নির্ভর করে জীবনের প্রত্যাশিত আয়ুষ্কালের তারতম্যর উপর, এছাড়া অন্য নিয়ামকের মধ্যে আছে বয়স এবং অন্য কিছু বিষয়।মা, অন্য যেকোন সদস্যর মত, তার যে কোন সন্তানদের সাথে তার আত্মীয়তার সম্পর্কর পরিমাপে তার নিজের সাথে তার আত্মীয়তার নৈকট্যর পরিমান দ্বিগুন; আর সব বিষয় যদি অপরিবর্তিত থাকে, এর অর্থ হচ্ছে তার উচিৎ হবে তার সম্পদের বেশীর ভাগ অংশ স্বার্থপরভাবে তার নিজের জন্য ব্যয় করা। কিন্তু অন্য বিষয়গুলো সমান নয়। সে তার জীনের উপকারই করে তার সম্পদের একটি সঠিক অংশ তার নিজের সন্তানের জন্য যদি ব্যয় করে। এর কারন এইসব সন্তানরা তার ‍তুলনায় বয়সে অনেক কম এবং তার চেয়েও বেশী অসহায় এবং সে কারনে তারা লাভবান হবে প্রতিটি ইউনিট বিনিয়োগ তার নিজের করতে সক্ষম প্রতিটি ইউনিট বিনিয়োগের বিনিময়ে। অসহায় ব্যক্তিদের প্রতি বিনিয়োগ করা জীন, তার নিজের প্রতি বিনিয়োগ স্থগিত রেখে- জীন পুলে অসংখ্য হবে এবং এমনকি যদিও উপকৃত হয়তো কারো জীনের সামান্য একটি অংশ বহন করছে।আর একারনে প্রানীরা পিতামাতার পরার্থবাদ প্রদর্শন করে, আসলে এটাই সেই কারন, কেন তারা কোন এক ধরনের কিন-নির্বাচনী পরার্থবাদীতা প্রদর্শন করে।এবার বিষয়টি কোন একটি নির্দিষ্ট শিশুর ‍দৃষ্টিভঙ্গী দিয়ে দেখুন।সে ঠিক ততটাই ঘনিষ্টভাবে সম্পর্কযুক্ত তার প্রতিটি ভাইবোন এর সাথে, ঠিক যতটা তার মা সম্পর্কযুক্ত তাদের সবার সাথে।প্রতিটি ক্ষেত্রেই এই আত্মীয়তা ১/২; সেকারনে সে চায় তার মা, তার সম্পদের কিছু অংশ তার ভাই ও বোনদের প্রতি বিনিয়োগ করুক।জীনগত ভাষায়, ঠিক তার মায়ের মতই সেও তার ভাইবোনদের প্রতি পরার্থবাদী আচরন করার জন্য পুর্ব নির্দেশিত।

কিন্তু আবারো, সে নিজেই তার তার নিজের সাথে আত্মীয়তা তার যে কোন ভাই বোন এর সাথে আত্মীয়তার দ্বিগুন।এবং এটাই তাকে সেই আচরণে প্ররোচিত করে যেখানে সে চাইবে যে তার মা তার প্রতি বেশী বিনিয়োগ করুক তার যে কোন ভাইবোন অপেক্ষা, যদি আর সবকিছু অপরিবর্তিত থাকে। এই ক্ষেত্রে অন্য সব কিছু হয়তো আসলেই একই থাকে।যদি আপনি ও আপনার ভাই একই বয়সের হয়ে থাকেন এবং আপনার দুজনেই যদি এমন কোন পরিস্থিতিতে থাকেন যে মায়ের এক পাইন্ট দুধ থেকে আপনার সমানভাবে সুফলতাটি আদায় করে নিতে পারবেন, আপনার উচিৎ হবে আপনার নায্যভাবে প্রাপ্য ভাগ থেকে আরে বেশী কিছু কেড়ে নেয়ার চেষ্টা করা এবং একই ভাবে আপনার ভাই এরও উচিৎ সেই একই চেষ্টা করা, অর্থাৎ তার নায্যভাবে প্রাপ্ত ভাগের বেশী আদায় করার চেষ্টা করা।আপনি কি কোনদিন একদল শুকর ছানার চিৎকার শুনেছেন যে মা শুকর যখন শোয় তাদের দুধ খাওয়ানোর জন্য? বা ছোট বাচ্চা ছেলেদের কেকের শেষ টুকরোটির জন্য মারামারি করতে? স্বার্থপর লোভ শিশুর বেশীরভাগ আচরনেরই বৈশিষ্টসুচক।কিন্তু এর বাইরেও আরো কিছু আছে।যদি আমি আমার ভাই এর সাথে এক টুকরো খাবারের জন্য প্রতিযোগিতা করি এবং যদি সে আমার চেয়ে বয়সে অনেক বেশী কম হয়, যে আমার চেয়েও সে খাদ্যটি পেলে বেশী উপকৃত হবার সম্ভাবনা থাকে, আমার জীনের জন্য লাভবান হবে যদি আমি তাকে সেই টুকরো টা খেতে দেই।পিতামাতার যে কারন থাকে, কোন একটি বড়ভাই এর সেই একই কারন থাকে পরার্থবাদীতা প্রদর্শণ করার জন্য: উভয় ক্ষেত্রে যেমন আমরা দেখেছি, আত্মীয়তার সম্পর্ক হচ্ছে ১/২, এবং উভয় ক্ষেত্রেই তরুন সদস্যরা সম্পদের ভালো ব্যবহার করতে পারে অপেক্ষাকৃত কোন বড় সদস্যদের ‍তুলনায়।আমি যদি এমন কোন জীন বহন করি খাদ্যর উপর অধিকার ছেড়ে দেবার, তাহলে ৫০ শতাংশ সম্ভাবনা আছে আমরা শিশু ভাইটি সেই একই জীনটি বহন করছে।

যদি জীনটি দ্বিগুন সম্ভাবনা আছে আমার শরীরে থাকার -১০০ শতাংশ, এটি আমার শরীরের মধ্যে –খাদ্যের প্রতি আমার চাহিদা হয়তো জরুরী থেকে অর্ধেকেরও কম। সাধারনভাবে, কোন শিশুর উচিৎ তার নায্যভাবে পিতামাতার বিনিয়োগ এর অংশের যতটুকু পাবার কথা তার সেই ভাগ থেকে আরো বেশী আদায় করার চেষ্টা করা, কিন্তু সেটি একটি নির্দিষ্ট সীমা অবধি।কিন্তু ঠিক কতটুকু অবধি? সে পর্যন্ত যেখানে এর ফলাফলে তার ভাই বোনদের যে– যাদের জন্ম হয়েছে এবং যাদের জন্ম হবার সম্ভাবন আছে – মুল্য পরিশোধ করতে হবে সেটি সে নিজে যা লাভ করতো তার দ্বিগুন হবে। সেই প্রশ্নটির কথা বিবেচনা করুন – ঠিক কখন বুকের দুধ খাওয়ানো বন্ধ করা উচিৎ, একটি মা চাইছে তার বর্তমান শিশুকে বুকের দুখ খাওয়া বন্ধ করার জন্য, সে যেন এর পরের সন্তানের জন্য প্রস্তুত হতে পারে। বর্তমান শিশু, আবার অন্যার্থে, চায় না তার বুকের দুধ খাওয়া থেকে নিজেকে বঞ্চিত করতে, কারন দুধ হচ্ছে সুবিধাজনক, কোন ঝামেলাহীন একটি খাদ্য উৎস এবং সে বাইরে গিয়ে তার নিজের জীবনধারনের জন্য খাদ্য সংগ্রহ করতে এখনও প্রস্তুত না।আরো সঠিকভাবে বললে, যে একসময় ধীরে ধীরে বাইরে বের হতে চায় এবং তার জীবনের জন্য খাদ্য সংগ্রহ করতে চায় কিন্তু শুধুমাত্র সেই সময় সেই একই জায়গায় অবস্থান করার মাধ্যমে যে যা তার জীনের জন্য করতে পারে তার চেয়ে আরো আরো বেশী মাত্রায় সে উপকার করতে পারে তার মাকে দুধ খাওয়ানোর দায় থেকে মুক্ত করে, যেন সে তার ছোটভাইবোনকে জন্মদান ও প্রতিপালন করতে পারে।যতই একটি শিশু বয়সে বড় হয় সে অপেক্ষাকৃত কম উপকার আদায় করতে পারে প্রতি পাইন্ট মায়ের দুধ থেকে। এর কারন সে এখন আকারেও বড়, আর সেকারনে তার চাহিদা অনুযায়ী এক পাইন্ট দুধ ‍খুব বেশী পরিমান কিছু না আর এছাড়াও সে ক্রমান্বয়ে তার নিজের জন্য খাদ্য জোগাড় করার উপযুক্ত যদি তাকে বাধ্য করা হয়। সে কারনে কোন একটি অল্প বয়সী শিশু অপেক্ষা কোন বয়সে বড় শিশু এক পাইন্ট দুধ পান করে, যা কিনা কম বয়সী শিশুর জন্য বিনিয়োগ করা যেতে পারতো, সে তখন তার পিতামাতার বিনিয়োগের তার নায্যভাবে প্রাপ্ত অংশর চেয়ে বেশী পরিমানে গ্রহন করছে তার নিজের জন্য। এবং যখন শিুশুটি বড় হয় বয়সে এমন কোন মুহুর্ত আচে যখন তার জন্য লাভবান হয় যদি তার মা তাকে খাওয়ানো বন্ধ করে এবং তার বদলে সেটি বিনিয়োগ করে নতুন কোন শিশুর জন্য। এবং আরো পরে এমন একটি সময় আসবে যখন বয়সে বড় শিশুটি তার নিজের জীনকে উপকার করবে সবচেয়ে বেশী নিজেকে মায়ের দুধের খাওয়া থেকে সরিয়ে আনতে পারলে। এটাই সেই মুহুর্ত যখন এক পাইন্ট দুধ আরো বেশী ভালো করবে তার নিজের ভিতর থাকা জীন এর চেয়ে তার জীনের অনুলিপিদের জন্য যা হয়তো তার ভাই বোনের মধ্যে আছে। মা ও শিশুর মধ্যে মতানৈক্য অবশ্যই চুড়ান্ত কোন বিষয় নয়, বরং বিষয়টি সংখ্যাবাচক, এই ক্ষেত্রে এই অমিলটা হচ্ছে সময় সংক্রান্ত। মা চায় তার বর্তমান সন্তানকে বুকের দুধ খাওয়াতে সেই মুহুর্ত অবধি যখন তার প্রতি বিনিয়োগ তার যতটুকু নায্যভাবে প্রাপ্য ততটুকুর সমান হয়, তবে এখানে সেই বিষয়গুলো কথা মনে রাখতে হবে, এটিকে প্রভাবিত করে তার প্রত্যাশিত আয়ুষ্কাল এবং ইতিমধ্যে কতটুকু মা তার পেছনে বিনিয়োগ করে ফেলেছে।

এই অবধি আর কোন মতানৈক্য নেই, একইভাবে মা ও শিশু উভয়ে একমত যে একটি নির্দিষ্ট সময় অবধি শিশুটি যেন আর বুকের দুধ খাওয়া অব্যাহত না রাখে, যখন ভবিষ্যত শিশুদের এর জন্য পরিশোধিত মুল্য, তার যা উপকার হবে তার দ্বিগুন। কিন্তু মা এবং সন্তানের মধ্যে মতানৈক্য ঘটে এই অন্তর্বর্তীকালীন পর্বে, সেই পর্বটি, যখন শিশুটি তার যা প্রাপ্য তার চেয়ে বেশী পায় বলে মার কাছে অনুভুত হয়, কিন্তু তার সেই সন্তানটির লাভ তখনও অন্য শিশুদের পরিশোধিত মুল্যের দ্বিগুন অপেক্ষা কম থাকে। দুধ ছাড়ার এই সময়টা শুধু একটি উদহারন, যা মা আর সন্তানের মধ্যে দ্বন্দটির প্রতিনিধিত্ব করে, কিন্তু এটিকে আরো গন্য করা যেতে পারে একটি ব্যক্তির সাথে তার ভবিষ্যত এখনও জন্ম হয়নি ভাই বোন এর দ্বন্দ হিসাবে যে মা তার ভবিষ্যত অনাগত সন্তানের ভুমিকা নেয়। আরো সরাসরিভাবে সেখানে একটি প্রতিযোগিতা থাকতে পারে সমসাময়িক প্রতিদ্বন্দীদের মধ্যে তার বিনিয়োগ এর জন্য, কোন লিটার এর সদস্য বা নীড়ের সদস্যদের মধ্যে। এখানে আরে একবার, মা সাধারনত উৎকন্ঠিত থাকবে সম্পদের সুবন্টনে। অনেক শিশুপাখিতে তার নীড়ে বসিয়ে খাওয়ায় পিতামাতা পাখি। তারা সবাই মুখ হা করে খাবারের জন্য চিৎকার করে এবং তাদের বাবামা কোন কেচো বা অন্য কোন টুকরো খাবার তাদের কোন একজনের খোলা মুখের মধ্যে ঢুকিয়ে দেয়; যে তীব্রতা আর উচ্চকন্ঠের সাথে প্রতিটি শিশু চিৎকার করে, আদর্শ পরিস্থিতিতে, সেটি নির্ভর করে কে কতটা ক্ষুধার্ত তার উপর, সেকারনে, যদি বাবা মা সবসময় যে সবচেয়ে বেশী চিৎকার করে তাকে যদি প্রথমে খাবার দেয়, তাদের সবারই তাদের নায্য প্রাপ্য পাওয়া উচিৎ; কারন যখন যে তার জন্য যথেষ্ট খাওয়া পায় সে আর ততটা জোরে চিৎকার করেনা। অন্ততপক্ষে এটাই হবার কথা কোন আদর্শ পরিস্থিতিতে, যদি কোন সদস্যরা প্রতারণার আশ্রয় না নেয়। কিন্তু স্বার্থপর জীনের আলোকে আমদের অবশ্যই প্রত্যাশা করতে হবে যে প্রতিটি একক সদস্য প্রতারণা করবে এবং তারা আসলে কতটুকু ক্ষুধার্ত সে বিষয়ে মিথ্যা বলবে। এটি ক্রমশ বাড়তে থাকবে, আপাতদৃষ্টিতে বরং মনে হবে উদ্দেশ্যহীনভাবে কারন এটা মনে হতে পারে তারা যদি সবাই মিথ্যা কথা বলে উচ্চস্বরে চিৎকার করার মাধ্যমে, তাহলে এই উচ্চস্বরে চিৎকার করার এই স্তরটি সাধারন একটি নিয়মে পরিণত হয় এবং আসলেই এর মুল প্রভাবে, এটি একটি মিথ্যা হওয়া থেকে বিরত হবে। তবে এটা কখনোই এর তীব্রতায় হ্রাস পাবে না, কারন কোন সদস্য যে প্রথম পদক্ষেপটি নেবে তার চিৎকারের এই তীব্রতা কমাতে বাকী সবার থেকে, সে শাস্তি পাবে কম খাদ্য পাওয়ার মাধ্যমে এবং তার না খেয়ে মারা যাবার সম্ভাবনাও বেশী হবে। শিশু পাখি চিৎকার কখনো অনির্দিষ্টভাবে উচ্চস্বরের হয় না কারন অন্য বিষয়গুলো বিবেচনা করার জন্য। যেমন, উচ্চ কন্ঠে চিৎকার, একই সাথে শিকারী প্রানীর দৃষ্টি আকর্ষন করে এবং কাজটি করার জন্য তাদের শক্তি ক্ষয় হয়। কখনো, যেমনটি আমরা দেখেছি, কোন এক গুচ্ছ বাচ্চার মধ্যে একজন থাকে রান্ট বা সবচেয়ে দুর্বল, আকারে সবার ছোট। সে বাকীদের মত শক্তির সাথে খাওয়া পাওয়ার জন্য যুদ্ধ করতে পারে না, এবং রান্টরা সাধারনত প্রায়ই মারা যায়। আমরা হয়তো সহজাতভাবেই মনে করবো যে রান্টরা নিজেই সংগ্রাম অব্যাহত রাখতে শেষ অবধি কিন্তু তত্ত্ব আবশ্যিকভাবে তেমন কোন কিছু ঘটার পুর্বধারনা করেনা। যখনই রান্টরা খুব ক্ষুদ্র আর দুর্বল হয়ে পড়ে, তাদের প্রত্যাশিত জীবনকাল এমন একটি পর্যায়ে নেমে আসে যে পিতামাতার বিনিয়োগের ফলে তার উপকৃত হবার পরিমান, সেই একই পরিমান বিনিয়োগ অন্যান্য শিশুদের প্রতি বিনিয়োগ করলে যে পরিমান উপকৃত হবার সম্ভাবনা আছে তার অর্ধেক। এবং রান্টদের মরে যাওয়া উচিৎ স্বেচ্ছায় ও সুন্দরভাবে। এবং এটা করার মাধ্যমে তারা তাদের জীনকে সবচেয়ে বেশী সাহায্য করতে পারে। এর মানে হচ্ছে বলা যে, কোন একটি জীন যা কোন নির্দেশ যে শরীর, তুমি যদি খুব বেশী ছোট হও, তোমার অন্যান্য ভাইবোন বা লিটারমেটদের তুলনায়, বেচে থাকার সংগ্রাম পরিত্যাগ করে এবং মারা যাও- জীনপুলে সে সফল হতে পারে, কার তার প্রায় ৫০ শতাংশ সম্ভাবনা আছে তার বেচে যাওয়া প্রতিটি ভাই এবং বোনের শরীরে, এবং কোন রান্টের শরীরে তার বাচার সম্ভাবনা এমনিতেই কম। এমন একটা মুহুর্ত থাকা উচিৎ কোন একটি রান্টের জীবনে। সেই মুহুর্তে পৌছাবার আগে তার উচিৎ হবে সংগ্রাম অব্যাহত রাখা। যে মুহুর্তে সে সেখানে পৌছাবে তার উচিৎ হবে হাল ছেড়ে দেয়া এবং আরো কাঙ্খিত হবে তার ভাইবোন কিংবা তার বাবা মাকে সুযোগ দেয়া তাকেই খাদ্য হিসাবে গ্রহন করার জন্য।

আমি বিষয়টি উল্লেখ করিনি যখন আমরা ল্যাক এর ক্লাচ সাইজ এর তত্ত্ব নিয়ে আলোচনা করেছিলাম, কিন্তু একটি যুক্তি সঙ্গত স্ট্র্যাটেজী কোন পিতামাতার জন্য হতে পারে, যারা কিনা এখনও মনস্থির করতে পারেনি তার জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত ক্লাচ সাইজ কি হতে পারে সেই সাম্প্রতিক বছরের জন্য। তার জন্য যা উপযুক্ত সংখ্যা হতে পারে বলে সে যা ভাবছে তারচেয়ে সে হয়তো আরো একটি বাড়তি ‍ডিম পাড়তে পারে। তারপর যদি বছরের খাদ্যর পরিমান যা আশা করা হয়েছে তার চেয়ে ভালো হয়, তাহলে সে আরো একটা বাড়তি শিশু প্রতিপালন করতে পারবে, যদি না হয় তার তার ক্ষতি পরিমান হ্রুাস করতে পারবে। তার সন্তানদের খাওয়ানোর সময় সবসময় সতর্কতা অবলম্বন করে, যেমন ধরুন শরীরের আকার অনুযায়ী তার বাচ্চাদেরে খাওয়ানো মাধ্যমে, যেন সে লক্ষ্য রাখে সেই একটি, হয়তো একটি রান্ট,যেন দ্রুত মারা যায়, এবং খুব বেশী খাদ্য যেন তার জন্য অপচয় না করা হয়, তাদের ডিমের কুসুম অথবা সমতুল্য প্রাথমিক বিনিয়োগের অতিরিক্ত কিছু না। মায়ের দৃষ্টিভঙ্গী থেকে, এটি হয়তো রান্ট প্রপঞ্চের একটি ব্যাখ্যা হতে পারে। সে তার মায়ের খেলা বাজিটার হেজিং বা এর ঝুকি ব্যবস্থাপনা করে। বিষয়টি বহু প্রজাতির পাখিদের মধ্যে দেখা যায়।

টিকা

(১) আমরা কেন বৃদ্ধ বয়সে মারা যাই এই প্রশ্নটি একটি জটিল প্রশ্ন এবং এর বিস্তারিত বিষয়গুলো এই বই এর আলোচনা করার সুযোগের বাইরে। সুনির্দিষ্ট কারনগুলো ছাড়াও, আরো কিছু সাধারন কারনও প্রস্তাব করা হয়েছে। যেমন, একটি তত্ত্ব বলছে, জরা বা বার্ধক্য আসলে ডিএনএ র ক্ষতিকর অনুলিপি প্রক্রিয়ায় ঘটা পুন্জীভুত ভুল ও অন্যান্য নানা ধরনের ক্ষতিগ্রস্থ জীন এর প্রতিনিধিত্ব করে, যা কোন জীবের জীবদ্দশায় ঘটে। স্যার পিটার মেদাওয়ার এর প্রস্তাবিত তত্ত্ব অনুযায়ী, বেশ ভালো একটি উদহারন জীন নির্বাচন এর দৃষ্টিভঙ্গীতে বিষয়টি দেখার ক্ষেত্রে (*); মেদাওয়ারই প্রথম প্রচলিত যুক্তিগুলো খন্ডন করেন যেমন, বৃদ্ধ সদস্যরা মারা যায় বাকী প্রজাতি সদস্যদের প্রতি তাদের একটি পরোপকারী কর্ম হিসাবে, কারন তারা যদি বেচে থাকে যখন তারা আর যথেষ্ট জরাগ্রস্থ হয় প্রজননক্ষম হবার জন্য, তারা পৃথিবীতে সব জায়গা পুর্ণ করবে কোন ভালো কারন ছাড়া।যেমন মেদাওয়ার উল্লেখ করেছিলেন, এটি হচ্ছে একটি আবদ্ধ যুক্তি, ধরে নেয়া হয়েছে, এটি শুরু থেকেই প্রমান করতে চেয়েছে, বৃদ্ধ জীবরা প্রজননক্ষম না তাদের জরাগ্রস্থতার জন্য। এছাড়াও এটি সেই সরল গ্রুপ-সিলেকশন বা প্রজাতি-সিলেকশন ধরনের একটি ব্যাখ্যা,যদি সেই অংশটি নতুন করে বলা যেতে পারে আরো খানিকটা সম্মানজনক উপায়ে। মেদাওয়ার এর নিজের তত্ত্বে ছিল সুন্দর একটি যুক্তি। আমরা এভাবে সেই যুক্তিটি গড়ে তুলতে পারি: আমরা ইতিমধ্যেই জিজ্ঞাসা করেছিলাম, কোন একটি ভালো জীন এর সব সাধারনতম বৈশিষ্ট কি হতে পারে। এবং আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম যে স্বার্থপরতা সেই গুনাবলীর একটি। কিন্তু আরো একটি সাধারন গুন যা কোন সফল জীনের থাকে সেটি হচ্ছে এর সারভাইভাল মেশিন এর মৃত্যুকে স্থগিত করা প্রজনন শেষ হবার পর অবধি। কোন সন্দেহ নেই আপনার কিছু আত্মীয় এবং কিছু চাচা বা মামা শৈশবে মারা গিয়েছিল, কিন্তু আপনার কোন পুর্বসুরী শৈশবে মারা যাননি, পুর্বসুরী অল্প বয়সে মারা যেতেই পারে না।

কোন জীন যে এর বাহককে মেরে ফেলে তাকে বলা হয় একটি প্রাণঘাতী জীণ। একটি আংশিক প্রাণঘাতী জীন কিছু প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে, যেমন এটি অন্যান্য কারনে মৃত্যু হবার সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেয় আরো বেশী। কোন একটি জীন যা এর সর্ব্বোচ্চ প্রভাব ফেলে কোন শরীরে জীবনের নির্দিষ্ট কোন একটি পর্যায়ে, এবং প্রানঘাতী কিংবা আংশিক প্রাণঘাতী কোন ব্যতিক্রম না। বেশীর ভাগ জীন তাদের প্রভাব খাটায় ভ্রুণাবস্থায় এবং অন্যান্যরা শৈশবে। অন্যরা প্রাপ্তবয়স্কতার প্রারম্ভেই, কোনটি মধ্যবয়সে এবং অন্য কোনগুলো বার্ধক্যে ( ভাবুন একটি শুয়োপোকা আর প্রজাপতি তাদের ঠিক একই সেট জীন থাকে।); অবশ্যই প্রানঘাতী জীনরা জীন পুল থেকে ক্রমশ অপসারিত হতে থাকে, কিন্তু একই সাথে স্পষ্টতই একটি পরে কাজ করে এমন প্রাণঘাতী জীন কোন জীন পুলে বেশী স্থিতিশীল হবে, এমন কোন প্রাণঘাতী জীন থেকে যেটি সক্রিয় জীবনের শুরুতে। কোন জীন যেটি প্রাণঘাতী বৃদ্ধ শরীরে সেটি হয়তো জীন পুলে সফলভাবে টিকে থাকে, শুধুমাত্র শর্ত হচ্ছে তার সেই প্রানঘাতী প্রভাবটি প্রদর্শিত হয়না যতক্ষন না শরীরের কিছুটা সময় থাকে কোন না ভাবে প্রজনন করার জন্য। যেমন, একটি জীন, যা কোন বৃদ্ধ শরীরে ক্যান্সার এর কারণ সেটি বহুসংখ্যক উত্তরসুরীদের মধ্য দিয়ে বিস্তারিত হতে পারে কারন সেই জীনটির বাহক সদস্যটি তার শরীরে ক্যান্সার হবার আগেই প্রজনন করবে। অণ্যদিকে, একটি জীন যা কোন তরুন প্রাপ্তবয়স্ক শরীরে ক্যান্সারের কারন হয় সেটি বেশী সংখ্যক উত্তরসুরীদের মধ্যে বিস্তার লাভ করবে না এবং কোন জীন যা কোন শিশুর শরীরে প্রানঘাতী ক্যান্সার করে সেটি কোন উত্তরসুরীর মধ্যেই বিস্তার লাভ করবে না। এই তত্ত্বানুযায়ী, জরা বা বার্ধক্যে জনিত ক্ষয় শুধুমাত্র জীন পুলে জমা হওয়া পরবর্তীতে সক্রিয় হতে পারে-এমন প্রাণঘাতী ও আংশিক প্রাণঘাতী জীনের জন্য, যে জীনগুলো প্রাকৃতিক নির্বাচনের ফাদ গলে বেরিয়ে যাবার অনুমতি দেয়া হয়েছে শুধুমাত্র তারা জীবনের শেষাংশে কাজ করে।

যে বিষয়টি মেদাওয়ার নিজেই জোর দিয়েছিলেন, সেটি হচ্ছে যে নির্বাচন সেই সব জীনের আনুকুল্য দেয় যারা অন্যান্য প্রানঘাতী জীনগুলো সক্রিয় হওয়া ওঠাটা স্থগিত করে রাখে, এটি আরো বিশেষভাবে আনুকুল্য দেয় যারা ভালো জীন যেন দ্রুত তাদের প্রভাব ফেলতে পারে, সে বিষয়টি তরান্বিত করে। হতে পারে যে বিবর্তন অনেকটুকুই জীনের কর্মকান্ড শুরু হবার সময়ে জীন নিয়ন্ত্রিত পরিবর্তনগুলোর সমষ্ঠী। গুরুত্বপুর্ণ যে বিষয়টির দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে সেটি হচ্ছে এই তত্ত্বটির কোন প্রয়োজন নেই কোন পুর্ব ধারনাটির, যে প্রজনন ঘটছে শুধুমাত্র একটি নির্দিষ্ট বয়সে।

**

আমাকে কঠোরভাবেই তিরস্কার করা হয়েছে ( অবশ্যই উইলিয়াম নিজে না বা তাদের জানামতেও না) এই বার্ধক্য সংক্রান্ত তত্ত্বটির কৃতিত্ত্ব, জি সি উইলিয়াম এর বদলে পি বি মেডাওয়ারকে দেবার জন্য।এটি সত্যি যে অনেক জীববিজ্ঞানী, বিশেষ করে আমেরিকায়, এই তত্ত্বটি সম্বন্ধে জেনেছেন মুলত ১৯৫৭ সালে লেখা উইলিয়ামস এর ‘Pleiotropy, Natural Selection, and the Evolution of Senescence’ শীর্ষক একটি প্রবন্ধ থেকে।আরো সত্যি যে, মেডাওয়ার যা বলেছিলেন উইলিয়াম এই তত্ত্বটি নিয়ে আরো বিস্তারিতভাবে আলোচনা করেছিলেন।তবে যাই হোক আমার নিজের বিবেচনা বলছে যে মেডাওয়ারই প্রথম এই ধারনাটির কেন্দ্রীয় যুক্তিটিকে ব্যাখ্যা করেছিলেন, ১৯৫২ সালে তার An Unsolved Problem in Biology এবং ১৯৫৭ সালে The Uniqueness of the Individual এ।আমি যুক্ত করতে চাই যে তত্ত্বটি নিয়ে উইলিয়াম এর ব্যাখ্যা আসলেই খুব বোধগম্য, কারন এটি এই যুক্তিতে একটি আবশ্যকীয় ধাপ সুস্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করেছে (‘pleiotropy’ বা multiple gene effects এর গুরুত্ব), যা মেডাওয়ার যেমন সুস্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করেননি।সাম্প্রতিক সময়ে ডাবলিউ ডি হ্যামিলটন এই ধরনের তত্ত্বকে আরো খানিক সম্প্রসারণ করেছেন তার প্রবন্ধ The Moulding of Senescence by Natural Selection এ।ঘটনাচক্রে আমি অনেক উল্লেখযোগ্য চিঠি পেয়েছি ডাক্তারদের কাছ থেকে, কিন্তু আমার মনে হয় কেউই মন্তব্য করেননি আমার সেই অনুমান নির্ভর ‘fooling’ বা শরীরের বয়স সংক্রান্ত বোকা বানানোর জীন সংক্রান্ত ধারনা প্রসঙ্গে, সে শরীরে তারা বসবাস করে ; ধারনাটি এখনও আমার কাছে খুব স্পষ্টভাবে অর্থহীন বলে মনে হয় না। আর যদি সেটি সঠিক হয়ে থাকে, এটি নিশ্চয় চিকিৎসাবিজ্ঞানের ক্ষেত্রে গুরুত্বপুর্ণ হবে তাই না?

((((((চলবে))))))))))))))))))))))))))))))))))))))))))))))))

Advertisements
রিচার্ড ডকিন্স এর দি সেলফিশ জীন: অষ্টম অধ্যায়, তৃতীয় পর্ব

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s