রিচার্ড ডকিন্স এর দি সেলফিশ জীন: অষ্টম অধ্যায়, দ্বিতীয় পর্ব

রিচার্ড ডকিন্স এর দি সেলফিশ জীন: অষ্টম অধ্যায়, প্রথম পর্ব
রিচার্ড ডকিন্স এর দি সেলফিশ জীন: অষ্টম অধ্যায়, দ্বিতীয় পর্ব

প্রজন্মের যুদ্ধ

পিতামাতার বিনিয়োগ সম্পুর্ণভাবে কোন একটি আদর্শ পরিমাপ না, কারন এটি বাড়তি গুরুত্বারোপ করে শতাংশর গুরুত্বের উপর, জেনেটিক সম্পর্কের বীপরিতে। আদর্শ পরিস্থিতিতে আমাদের উচিৎ হবে সাধারনীকৃত altruism investment বা পরার্থবাদীতার বিনিয়োগ পরিমাপটি ব্যবহার করার জন্য। সদস্য ‘ক’ হয়তো বলা যেতে পারে ‘খ’ এর উপর বিনিয়োগ করেছে, যখন ‘ক’, ‘খ’ এর টিকে থাকার সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেয়, তার নিজের এবং অন্যদের প্রতি একই ভাবে বিনিয়োগ করার ক্ষেত্রে ক এর যোগ্যতার মুল্যর বিনিময়ে। সব মুল্য পরিশোধ সঠিক আত্মীয়তার পরিমাপে ওজন করা। এভাবে কোন পিতামাতার কোন একটি শিশুর প্রতি বিনিয়োগ আদর্শগত ভাবে পরিমাপ করতে হবে শুধূ মাত্র তাদের অন্য সন্তানদের প্রত্যাশিত আয়ুষ্কার হ্রাস করার অর্থেই না, বরং সেই হিসাবে আছে ভাইপো, ভাইঝি, সে নিজেও ইত্যাদি। অনেক ক্ষেত্রে যদি এটি মুল বিষয়টি এড়িয়ে চলা, কথার মার প্যাচে, এবং ট্রিভার্স এর পরিমাপ ব্যবহারিক ক্ষেত্রে ব্যবহার করার অনেক সুফল আছে। এখন যে কোন একটি নির্দিষ্ট প্রাপ্তবয়স্ক সদস্য,তার সারা জীবনে, এটি নির্দিষ্ট মোট পরিমান পিতামাতার বিনিয়োগ থাকে যা সে তার সন্তানদের জন্য বিনিয়োগ করতে পারে ( এবং অন্যান্য আত্মীয়ওরাও এবং সে নিজে, তবে খুব সরল কারনে আমরা শুধুমাত্র সন্তানদের কথাই বিবেচনা করবো এখানে); এটি প্রতিনিধিত্ব করে সর্বমোট পরিমান খাদ্য যে জড়ো করতে পারে বা তৈরী করতে পারে তার সারাজীবনের শ্রমের বিনিময়ে, সেই সব ঝুকিগুলো যা সে প্রস্তুত নেবার জন্য এবং সব শক্তি আর পরিশ্রম যা সে ব্যবহার করতে পারে তার শিশুদের কল্যানে।

কিভাবে একটি তরুন স্ত্রী প্রানী, তার প্রাপ্ত বয়স্ক জীবনের প্রারম্ভে, তার জীবনের সম্পদগুলো বিনিয়োগ করা উচিৎ? তার জন্য কোনটি বিচক্ষন বিনিয়োগ নীতিমালা হতে পারে যা তার অনুসরণ করা উচিৎ? আমরা ইতিমধ্যে ল্যাক এর তত্ত্ব থেকে জেনেছি যে তার সম্পদকে বেশী সংখ্যক শিশুর মধ্যে ভাগ করে দেয়া উচিৎ হবে না। কারন সেরকম কিছু করলে সে অনেক বেশী পরিমান জীন হারাবে: তার যথেষ্ট পরিমান নাতি নাতনী থাকবে না। আবার অন্যদিকে, অবশ্যই সে যেন তার সব সম্পদ বিনিয়োগ না করে খুব অল্প সংখ্যক সন্তানের মধ্যে- বেশী মাত্রায় সযত্নে বড় করা শিশু। সে হয়তো আসলেই তার নিজের জন্য কিছু নাতিনাতনী নিশ্চিৎ করতে পারবে। সুতরাং যথেষ্ট হলো এই সমানভাবে বিন্যস্ত বিনিয়োগ নীতিমালা। আমাদের বর্তমান আলোচনা বিষয় হচ্ছে যদি কোন মা তার সন্তানদের মধ্যে বিষমভাবে তার সম্পদ বিনিয়োগ করেন, যেমন, তার কি কোন বিশেষ পছন্দের কোন সন্তান থাকতে পারে কিনা, আর এতে কি মা লাভবান হতে পারে? তার সন্তানদের সাথে তার আত্মীয়তার সম্পর্ক একই; তার অর্ধেক ১/২ উপযুক্ত কৌশল হচ্ছে সমান ভাবে সর্বোচ্চ সংখ্যক সন্তানদের মধ্যে তা বন্টন করতে পারে, যে সন্তানদের সেই বয়স অবধি সে প্রতিপালন করে যখন তার নিজেরাই সন্তানের পিতামাতা হয়। কিন্তু যেমনটি আমরা ইতিমধ্যে দেখেছি, কিছু সদস্য জীবন বীমার ঝুকি র নিশ্চয়তার জন্য বেশী উত্তম।

কোন আকারে ছোট দুর্বল রান্ট ( কোন প্রানীর একগুচ্ছ সন্তানের মধ্যে যে সবচেয়ে দুর্বল) তার অন্যান্য সবল লিটার সঙ্গীদের মতোই তার মায়ের সব জীনই বহন করে। কিন্তু তার প্রত্যাশিত আয়ুষ্কাল সংক্ষিপ্ত। অন্য আরেকটি উপায়ে বিষয়টি বলা যেতে পারে যে, পিতামাতার বিনিয়োগের তার যে ভাগ পাওয়ার কথা তার চেয়ে বেশী প্রয়োজন, তার ভাইবোনদের সমান হবার জন্য শুধুমাত্র। এই পরিস্থিতির উপর নির্ভর করে, মায়ের জন্য হয়তো বেশী লাভজনক হতে পারে তার সন্তানদের মধ্যে দুর্বলতমকে খাদ্য দিতে অস্বীকার এবং তার ভাগে বরাদ্দকৃত পিতা মাতার বিনিয়োগ টিকে বাকী ভাইবোনের জন্য বরাদ্দ করলে। সত্যি, হয়তো তার জন্য লাভ হবে যদি তার ভাই বোনকে তার এই দুর্বল সন্তানটিকে খাদ্য হিসাবে সরবরাহ করে। বা সে নিজেই যদি তাকে খেয়ে ফেলে এবং তাকে ব্যবহার করে দুধ বানাতে। মা শুকর মাঝে মাঝে তার নিজের শিশুকে খাদ্য হিসাবে গ্রহন করে, তবে আমার জানা নেই তারা কি বিশেষভাবেই খাদ্য হিসাবে তাদের দুর্বল শিশুটিকে বেছে নেয় কিনা।

রান্ট বা দুর্বল শিশুরা একটি বিশেষ উদহারণ। আমরা কিছু সাধারন ভবিষ্যদ্বানী করতে পারি যে কিভাবে একটি মার কোন একটি শিশুর প্রতি বিনিয়োগের প্রভাবিত হতে তার বয়সের কারনে। যদি তার একটি সরাসরি বাছাই করার বিষয় থাকে, কোন একটি শিশুকে বা নাকি অন্য কোন একটি শিশুর জীবন বাচাতে, বিশেষ করে যখন যে যাকে বাচাবে না তার মৃত্যু অবধারিত, তার জন্য উচিৎ হবা বয়সে বড় শিশুটিকে বাচানো। এর কারন যদি তার ছোট ভাই এর বদলে বয়সে বড় শিশুটি মারা যায় সেখানে তার দীর্ঘ দিনের জীবনে পিতামাতার বিনিয়োগ এর অপেক্ষাকৃত বড় একটি অংশ নষ্ট হবে। হয়তো বিষয়টি আরো ভালো করা বলা হবে এভাবে, যদি সে তার ছোট ভাইটিকে বাচায়, তাহলে তারপরও তার আরো অনেকটুকু মুল্যবান সম্পদ বিনিয়োগ করতে হবে তাকে তার বড়ভাই এর বয়স অবধি নিয়ে আসতে। অন্যদিকে, যদি পছন্দ করার বিষয়টি জীবন আর মৃত্যুর মত এত স্পষ্ট কিছু না হয়, তাহলে তার সেরা বাজীর দানটি হবে ছোট ভাইটিকে বাছাই করা, যেমন, ধরুন তা দ্বন্দ, কোন একটি নির্দিষ্ট টুকরো খাবার তার বয়সে বড় সন্তানটিকে দেবে নাকি ছোট সন্তানকে দেবে। সম্ভবত তার বড় সন্তানটি যথেষ্ট বড়, কোন সাহায্য ছাড়াই তার নিজের খাদ্য খুজে নেবার জন্য। সুতরাং যদি সে তাকে খাওয়ানো বন্ধ করে দেয়, সে অবধারিত ভাবে মারা যাবে এমন বলা যাবে না। কিন্তু অপরদিকে, তার ছোট সন্তানটি যে এখন বয়সে অনেক ছোট নিজের খাদ্য নিজে সন্ধান করার জন্য, তার সম্ভাবনা থাকতে মারা যাবার যদি তার মা তাকে বাদ দিয়ে তার বড় ভাইকে খাবার দেয়। এখন যদিও মা হয়তো চাইবে ছোট ভাই মারা যাক বড় ভাইয়ের বদলে, তারপরও সে কিন্তু ছোট সন্তানকেই খাবার দেবে, কারন তার বড় ছেলে মরে যাবার সম্ভাবনা এমনিতেও কম।

এ কারনে স্তন্যপায়ী মা রা তাদের সন্তানদের তাদের জীবনে অনির্দিষ্টকাল সময় ধরে বুকের দুধ খাওয়ানো বন্ধ করে দেয়, যাকে বলে উইনিং (Weaning)। কোন একটি শিশুর জীবনে এমন একটি সময় আসে, যখন তার মায়ের জন্য লাভজনক পদক্ষেপটি হয়, তার সেই সন্তানটির প্রতি বিনিয়োগটি তার ভবিষ্যত সন্তানদের প্রতি পরিচালিত করতে। যখন এই মুহুর্তটি আসে, তখন সে তাকে তার বুকের দুধ খাওয়ানো বন্ধ করে দেয়। কোন একটি মা’র যদি কোন উপায়ে জানা থাকে সে তার শেষ সন্তানটি জন্ম দেয়া শেষ করছে, তার ক্ষেত্রে হয়তো প্রত্যাশা করা যেতে পারে তার বাকী জীবন ধরে তার সেই সন্তানটির প্রতি বিনিয়োগ অব্যাহত থাকবে, হয়তো তাকে বুকের দুধ খাইয়ে প্রাপ্তবয়স্ক করে ‍তুলবে। যাই হোক না কেন, তার উচিৎ হবে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা, কেন তার জন্য বেশী লাভজনক হবে না তার নাতি নাতনী অথবা ভাইপো ভাইঝিদের জন্য বিনিয়োগ করাটি, যদিও তারা তার নিজের সন্তানরা যতটা জীনগতভাবে আত্মীয়তার সম্পর্কের, সেই পরিমানে অর্ধেক , তার বিনিয়োগের কারনে তাদের লাভ করার ক্ষমতা হতে তার কোন একটি সন্তানেরও দ্বিগুন।

((((((((চলবে))))))))))))))))))))))))))))))))))

Advertisements
রিচার্ড ডকিন্স এর দি সেলফিশ জীন: অষ্টম অধ্যায়, দ্বিতীয় পর্ব

One thought on “রিচার্ড ডকিন্স এর দি সেলফিশ জীন: অষ্টম অধ্যায়, দ্বিতীয় পর্ব

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s