রিচার্ড ডকিন্স এর দি সেলফিশ জীন: অষ্টম অধ্যায়, প্রথম পর্ব

রিচার্ড ডকিন্স এর দি সেলফিশ জীন এর অষ্টম অধ্যায় ব্যাটল অফ দি জেনারেশনস এর অনুবাদ: প্রথম পর্ব (প্রথম ড্রাফট)

প্রজন্ম যুদ্ধ:

আগের অধ্যায়ের শেষে করা প্রশ্নগুলোর উত্তর দেবার চেষ্টা করে আসুন আমরা এই অধ্যায়টি শুরু করি। তার সন্তানদের মধ্যে মায়েদের কি কোন বিশেষ পছন্দ থাকা উচিৎ, নাকি তার একইভাবে সব সন্তানদের প্রতি পরার্থবাদী আচরন করা উচিৎ? বিরক্তি মনে হতে পারে পাঠকদের এমন ঝুকি নিয়ে আমি আমরা প্রথাগত একটি সাবধানবানী আবার উল্লেখ করে নিতে চাই। প্রিয় বা বিশেষ পছন্দ শব্দটি কিন্তু আত্মগত কোন অনুভুতি জনিত অর্থ প্রকাশ করছে না এবং উচিৎ শব্দটাও কোন নৈতিক গুণবাচক অর্থ সংশ্লিষ্টতাও নেই।আমি একটি মা কে গন্য করছি একটি মেশিন হিসাবে, যা প্রোগ্রাম করা আছে তার ক্ষমতায় করা সম্ভব এমন সব কিছু করার জন্য, যেমন তার বহনকারী জীনগুলোর অনুলিপি প্রজন্মান্তরে হস্তান্তর যেন নিশ্চিৎ হয়। যেহেতু আমি ও আপনি মানুষ, যারা জানি সচেতন উদ্দেশ্য থাকলে কেমন অনুভুত হয়। সেকারনে আমার জন্য সুবিধাজনক উদ্দেশ্য সংশ্লিষ্ট ভাষা রুপকার্থে ব্যবহার করা, যা কিনা সারভাইভাল মেশিনগুলোর আচরন ব্যাখ্যা করতে সাহায্য করে।

ব্যবহারিক ক্ষেত্রে, কি বোঝাতে পারে যখন বলা হয় কোন একটি মায়ের তার সন্তানদের মধ্যে একটি সবচেয়ে প্রিয় সন্তান আছে? এর মানে হবে মা তার সন্তান প্রতিপালনের জন্য বরাদ্দকৃত সম্পদ তার সন্তানদের মধ্যে অসমভাবে বিনিয়োগ করবেন। কোন একটি মায়ের কাছে এই সম্পদ হতে পারে নানা কিছু। খাদ্য অবশ্যই একটি তার মধ্যে, এর সাথে যুক্ত আছে খাদ্য সংগ্রহ করার নিমিত্তে ব্যবহৃত সময় ও শক্তি, কারন এর জন্য মাকেও কিছু মুল্য পরিশোধ করতে হয়। শিকারী প্রানী থেকে সন্তানদের সুরক্ষা করার জন্য নেয়া ঝুকি আরো একটি সম্পদ যা মা খরচ করতে পারেন বা খরচ করতে অস্বীকৃতি জানাতে পারেন। সময় ও শক্তি যা নীড় বা ঘর বানানো আর রক্ষনাবেক্ষনে ব্যবহৃত হয়, জলবায়ুর নানা উপাদান থেকে রক্ষা এবং কোন কোন প্রজাতিতে শিশুদের শেখানোর জন্য ব্যবহৃত সময়, এই সবই হচ্ছে আসলে মুল্যবান সম্পদ যা কোন একটি পিতামাতা তার সন্তানের ভরনপোষনের জন্য বরাদ্দ করতে পারেন, সমানভাবে বা অসমভাবে, যেমনটি সে চায় বা তার পছন্দ অনুযায়ী।

খুব কঠিন এমন কোন সাধারন মুল্যমান বিনিময় মুল্য আছে যা দিয়ে এমন কোন কিছু ভাবা বা যা দিয়ে এই সব সম্পদগুলো মাপা সম্ভব, যা কিনা কোন পিতামাতা তার সন্তানের জন্য বিনিয়োগ করতে পারেন। ঠিক যেমন মানব সমাজগুলো টাকা ব্যবহার করে সর্বজনীনভাবে বিনিময়যোগ্য একটি কারেন্সি হিসাবে যা কিনা অনুদিত হতে পারে খাদ্য,বাসস্থান আর শ্রম এর সময়ের মুল্যমান হিসাবে, সুতরাং আমাদের একটি কারেন্সির প্রয়োজন যা দিয়ে আমরা এই সব সম্পদগুলো পরিমাপ করতে পারি, যা কিনা কোন একক সারভাইভাল মেশিন হয়তো অন্য আরেকজন মানুষের জীবনে বিনিয়োগ করতে পারে – বিশেষ করে কোন একটি শিশুর জীবনে। শক্তির পরিমাপ যেমন ক্যালোরী আমাদের প্রলোভিত করে এবং কিছু পরিবেশবিদ আসলে নিজেদের আত্মনিবেদিত করেছেন প্রকৃতির এই শক্তি খরচে হিসাব নিকাশ করার জন্য। যদিও এটি যথেষ্ট না, কারন এটি শুধুমাত্র হালকাভাবে রুপান্তরযোগ্য সেই কারেন্সিতে যা আসলেই মুল্যবান, বিবর্তনের গোল্ড স্ট্যান্ডার্ড, সেটি হচ্ছে জীন সারভাইভাল বা জীনদের টিকে থাকা। আর এল ট্রিভার্স ১৯৭২ সালে পরিষ্কারভাবে সমাধান করেছিলেন এই সমস্যাটি তার Parental Investment বা পিতামাতার বিনিয়োগ এর ধারনাটি দিয়ে ( যদিও খুব আটোসাটো অসংখ্য বাক্য পড়লে, এর অন্তর্নিহিত যে কোন একটি বিষয় অনুভব করে যে কেউ মনে করতে পারেন যে স্যার রোন্যাল্ড ফিসার, বিংশ শতাব্দী অন্যতম শ্রেষ্ঠ জীববিজ্ঞানী তার ‘parental expenditure’ ধারনাটি দিয়ে ১৯৩০ সালে একই কথা বোঝাতে চেয়েছিলেন) (১);

Parental Investment বা ( P.I) বা পিতামাতার বিনিয়োগ কে সংজ্ঞায়িত করা যেতে পারে এমনভাবে: কোন একটি সন্তানের জন্য পিতামাতার দ্বারা করা যে কোন বিনিয়োগ, যা কিনা সেই সন্তানটির টিকে থাকার সম্ভাবনা (এবং সেকারনে প্রজনন সফল হবারও) বাড়াবে, সেই পিতামাতা তার অন্য সন্তানদের জন্য যতটুকু বিনিয়োগ করতে সক্ষম তার বিনিময়ে। ট্রিভার্স এর পিতামাতার বিনিয়োগ সংক্রান্ত ধারনাটির সৌন্দর্য হচ্ছে এটি মাপা হয়েছে সেই একক দিয়ে যা যে এককগুলো গুরুত্বপুর্ণ তাদের খুব কাছাকাছি। যখন কোন শিশু তার মায়ের বুকের দুধের কিছু অংশ ব্যবহার করে, যে পরিমান দুধ খাওয়া হলো সেটি পাইন্ট দিয়ে পরিমাপ করা হয় না, ক্যালোরি দিয়েও না বরং একই মায়ের অন্য সন্তানদের প্রতি ক্ষতির একক হিসাবে পরিমিত হয়। যেমন যদি কোন একটি মা র ‍দুটি সন্তান থাকে, ক ও খ, এবং ক এক পাইন্ট দুধ খায়, পিতামাতার বিনিয়োগ এর একটি সিংহভাগ যা এই পাইন্টটি প্রতিনিধিত্ব করে তা পরিমাপ করা হয় ইউনিট দিয়ে যা সেই সম্ভাবনাকে বাড়িয়ে যে খ মারা যাবে কারন সেই এক পাইন্ট দুধ খেতে পারেনি। পিতামাতার বিনিয়োগ মাপা হয় অন্য শিশুদের, যারা জীবিত আছে বা এখনও জন্ম নেয়নি তাদের সবার প্রত্যাশিত আয়ুষ্কাল কমে যাবার একক হিসাবে।

নোট:

(১) রবার্ট ট্রিভার্স – যার সত্তরের দশকের শুরুর দিকে প্রবন্ধগুলো আমার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপুর্ণ অনুপ্রেরণা ছিল এই বইটি প্রথম সংস্করণ লেখার জন্য, এবং তার সেই ধারনাগুলো বিশেষভাবে প্রাধান্য বিস্তার করেছে অধ্যায় ৮ এ – পরিশেষে নিজেই তার বই প্রকাশ করেছেন, Social Evolution; আমি এই বইটি পড়ার জন্য অনুরোধ করবো শুধুমাত্র এর ভিতরে যা আছে তার জন্য না, এছাড়া এর স্টাইল এর জন্য। সুস্পষ্ট চিন্তা, অ্যাকাডেমিকাল দৃষ্টিভঙ্গী থেকে নির্ভুল, কিন্তু সেই যথেষ্ট পরিমান নরাত্বরোপমুলক দ্বায়িত্বহীনতা, যা হামবড়াদের তিরষ্কার করার মত এবং ব্যাক্তিগত জীবনের কাহিনী কিছু ঘটনার মশলায় মিশ্রিত।আমি নিজেকে সংবরণ করতে পারছি না এখান থেকে একটি উদ্ধৃতি এখানে উল্লেখ না করতে, কারন এটি এত বেশী বৈশিষ্টসুচক; এখানে ট্রিভারস তার উত্তেজনার কথা বর্ণনা করছেন কেনিয়াতে দুটি প্রতিদ্বন্দী বেবুনদের আচরণ চাক্ষুষ দেখে: ‘‘আমার উত্তেজনা আরো একটি কারন ছিল এবং সেটি হচ্ছে অবচেতন মনের স্তরে আমি আর্থার এর সাথে নিজেকে একাত্ম অনুভব করেছিলাম। আর্থার চমৎকার একটি পুরুষ, তার জীবনে শিখরে …’’; ট্রিভারস এর নতুন অধ্যায় যা আলোচনা করেছে পিতামাতা ও সন্তানের দ্বন্দ, এই আলোচনাটাকেই হালনাগাদ করেছেন। ১৯৭৪ সালে তার সেই প্রবন্ধে আসলেই আর তেমন কিছু যোগ করার মত নেই, কিছু নতুন সত্যিকারের উদহারন ছাড়া। তত্ত্বটি সময়ের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে। আরে বিস্তারিত গানিতীক ও জেনেটিক মডেলগুলো নিশ্চিৎ করেছে ট্রিভারস এর মুলত মৌখিক যুক্তি আসলেই এসেছে বর্তমানে গৃহীত ডারউইনীয় তত্ত্ব থেকে।

(((((((((((((((( চলবে))))))))))))))))))))))))))))))

 

Advertisements
রিচার্ড ডকিন্স এর দি সেলফিশ জীন: অষ্টম অধ্যায়, প্রথম পর্ব

2 thoughts on “রিচার্ড ডকিন্স এর দি সেলফিশ জীন: অষ্টম অধ্যায়, প্রথম পর্ব

  1. the selfish gene এর ১ম -৭ম অধ্যায়গুলো খুজে পেলাম না।।। থাকলে লিংক দিন।।।
    অষ্টম অধ্যায় অনেক ভাল লিখেছেন।।।

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s