রিচার্ড ডকিন্স এর দি গ্রেটেষ্ট শো অন আর্থ : ষষ্ঠ অধ্যায় (চতুর্থ পর্ব)

whale_evo

ছবি:  তিমির বিবর্তন: প্রায় ৫০মিলিয়ন বছরের আগে িইকোসিন  ইপোকে বর্তমান স্পেন থেকে েইন্দোনেশিয়া পর্যন্ত বিস্তৃত একটি অপেক্ষাকৃত অগভীর সমুদ্র ছিল। এই সময়েই সিটাসিয়ানরা যেমন বর্তমান তিমির পুর্বসুরী প্রজাতিরা জলে প্রত্যাবর্তন করে। তখনও ভারত একটি দ্বীপ, ইউরেশিয়ার ভুখন্ডের সাথে যুক্ত হয়নি, তৈরী হয়নি হিমালয়, পাকিস্থান কেবল ভারতের একটি উপকুল অঞ্চল; আদি তিমিদের জীবাশ্মগুলোর অনেকগুলোই এখানেই সন্ধান পাওয়া গেছে। আদি তিমিদের তখন দেখলে বর্তমান বিশাল তিমিদের সাথে বাহ্যিক কোন মিল চোখে পড়তো না, তারা তাদের লেজ দিয়ে সাতার কাটতো না, পরিবর্তিত পা দিয়ে তারা সাতার কাটতে শিখেছিল এবং ক্রমেই তারা পেছনের পা হারায়, সামনের পা পরিনত হয় প্যাডেল, লেজ ফ্লুক বিবর্তন হয় সাতারের জন্য। এখনও তিমিরা তার বিবর্তনীয় অতীতের চিহ্ন বহন করছে। (ছবি সুত্র)

gingerich-earbonesছবি: পাকিস্থান ও মিশরে কিছু রহস্যময় প্রজাতির জীবাশ্ম আবিষ্কার করার আগ পর্যন্ত্য জীবাশ্মবিদ ফিলিপ গিঙরিচ (Philip Gingerich) এর তিমি র বিবর্তনে বিশেষ কোন আগ্রহই ছিল না; ১৯৭৮ সালে পাকিস্থানের উত্তরাঞ্চলে প্রথম ঘোড়ার সম্ভাব্য পুর্বসুরী প্রজাতির জীবাশ্ম খোজার সময় তার সহযোগীরা খুজে পান একটি নেকড়ে সদৃশ প্রানীর মাথার খুলি; পরে পুর্ণাঙ্গ জীবাশ্ম প্রজাতিটির নাম দেয়া হয়Pakicetus inachus — যার ব্রেইন এর আকৃতি এবং কানের বিশেষ গঠন দেখেই তিনি এর সাথে তিমির প্রথম যোগসুত্রটি করেন। পরে আরো কিছু জীবাশ্ম (যেমন মিশরের মরুভুমিতে পাওয়া  Bacilosaurus এবং পাকিস্থানে Rhodocetus  Maiacetus) এবং বিজ্ঞানের নানা শাখা থেকে সংগ্রহ করা প্রমান ও তার তিন দশকের গবেষনা প্রথম বারের মত সুস্পষ্টভাবে প্রমান করে প্রায় ৫০ মিলিয়ন বছর আগে েইকোসিন পর্বে স্থলবাসী স্তন্যপায়ী আর্টিওডাকটাইল বা Even-Toed Ungulates( বা ইভেন টোড: যাদের জোড় সংখ্যার পায়ের আঙ্গুল থাকে ও শরীরের ভার তাদের তৃতীয় এবং চতুর্থ পায়ের আঙ্গুল সমানভাবে বহন করে, আর আঙ্গুলেটস বলতে সেই সব প্রানী যা যাদের পায়ের আঙ্গুলের নোখে কেরাটিন এর শক্ত একটি অংশ থাকে, যাকে Hoof বা খুর বলা হয়, যেমন গরু, উট, শুকর ইত্যাদি , ঘোড়ারাও আঙ্গুলেট তবে তারা অড টোড বা তাদের বেজোড় সংখ্যক পায়ের আঙ্গুল থাকে, শরীরের ভার মুলত বহন করে তৃতীয় আঙ্গুলটি , এছাড়াও আর্টিওডাকটাইলদের বেশ কিছু  বৈশিষ্ট আছে) পুর্বসুরী থেকে Cetacean ( তিমি,ডলফিন ও পরপয়েস) বর্গের স্তন্যপায়ীরা বিবর্তিত হয়েছিল। আজকের সিটাসিয়ান যেমন তিমি রা সম্পুর্ণ জলজ প্রানী তবে আদি সিটাসিয়ানরা ছিল উভচরী; ভারত এবং পাকিস্থান থেকে পাওয়া জীবাশ্মগুলো ধারাবাহিক এই বিবর্তনের অন্তর্বতী কালীন সবগুলো পর্যায়কে বর্ণনা করতে সহায়তা করেছে, কিভাবে িএকটি স্থলবাসী প্রানী ক্রমান্বয়ে বিবর্তিত হয়ে তিমি ও সমগোত্রীয় জলজ প্রানীতে। (Photo: Eric Bronson, U-M Photo Services.)

রিচার্ড ডকিন্স এর দি গ্রেটেষ্ট শো অন আর্থ :  ষষ্ঠ অধ্যায়  (চতুর্থ পর্ব)
( অনুবাদ প্রচেষ্টা: কাজী মাহবুব হাসান)

The Greatest Show on Earth: The evidence for evolution by Richard Dawkins

 প্রথম অধ্যায়
দ্বিতীয় অধ্যায়
তৃতীয় অধ্যায় ( প্রথম পর্ব)  তৃতীয় অধ্যায় ( দ্বিতীয় পর্ব)তৃতীয় অধ্যায় ( শেষ পর্ব)
চতুর্থ অধ্যায় (প্রথম পর্ব) | চতুর্থ অধ্যায় (দ্বিতীয় পর্ব)
চতুর্থ অধ্যায় (তৃতীয় পর্ব) | চতুর্থ অধ্যায় ( শেষ পর্ব)
পঞ্চম অধ্যায়: প্রথম পর্ব | পঞ্চম অধ্যায়: দ্বিতীয় পর্ব |
পঞ্চম অধ্যায়: তৃতীয় পর্ব | পঞ্চম অধ্যায়: শেষ পর্ব |
ষষ্ঠ  অধ্যায়: প্রথম পর্বদ্বিতীয় পর্ব | তৃতীয় পর্ব

 মিসিং লিঙ্ক ? ঠিক কি বোঝাতে চাইছেন আপনি ’মিসিং’ শব্দটি দিয়ে?

আবার ফিরতে হবে সমুদ্রে….

পানি থেকে স্থলে বসবাস শুরু করার সেই বিবর্তনীয় প্রক্রিয়ায় জীবনের প্রায় সবক্ষেত্রে বড় মাপের পুণ:পরিকল্পনার প্রয়োজন আছে। শ্বাস নেওয়া থেকে প্রজনন :  জীববিজ্ঞানের জগতে বিশাল বড় একটি অভিযান; তাস্বত্তেও, আপাতদৃষ্টিতে দেখে মনে হতে পারে প্রায় খামখেয়ালী কোন বিরুদ্ধাচারণ কিংবা বিকৃতি, অনেক বেশ সফল স্থলবাসী প্রানীও পরবর্তীতে উল্টোপথে যাত্রা করছে, তারা তাদের বহু কষ্টে পাওয়া স্থল নিবাসের নানা বৈশিষ্টগুলো পরিত্যাগ করে আবার পানিতে ফিরে গিয়েছিলো। সিল এবং সী লায়নরা গিয়েছে আংশিক পথ।তারা আমাদের দেখিয়েছে  এই দুইয়ের মধ্যে অন্তর্বর্তীকালীন প্রজাতিটি দেখতে কেমন ছিল, যখন তারা পুরোপুরি জলজ প্রানীতে রুপান্তরিত হয়েছে যেমন তিমি আর ডুগং রা। তিমিরা ( এবং ছোট তিমিরাও, যাদের আমরা ডলফিন বলি) এবং ডুগং রা ও তাদের নিকটবর্তী আত্মীয় প্রজাতি যেমন ম্যানিতি, পুরোপুরি ভাবে স্থলবাসী জীবন পরিত্যাগ করে আবার তাদের দুরবর্তী পুর্বসুরীদের সামুদ্রিক জীবন বেছে নিয়েছে। এমনকি তারা প্রজননের জন্য সমুদ্রের তীরেও আসেনা। যদিও তারা  এখনও বাতাসে নি:শ্বাস নেয়, পুরোপুরি ভাবে তাদের সামুদ্রিক পুর্বসুরীদের ফুলকার সমতুল্য কোন কিছু তারা আর বিবর্তিত করতে পারেনি। অন্য যে প্রানীরা যারা স্থল থেকে আবার পানি তে ফিরে গেছে, নিদেনপক্ষে কিছুটা সময়, তারা হচ্ছে পন্ড স্নেইল, ওয়াটার স্পাইডার, ওয়াটার বিটল, কুমির,ওটার, সামুদ্রিক সাপ, ওয়াটার শ্রিউ, গালাপাগোস দ্বীপের উড্ডয়ন অক্ষম করমোরান্ট, গালাপাগোস এর সামুদ্রিক ইগুয়ানা, ইয়াপোকস ( দক্ষিন আমেরিকার পানীবাসী মারসুপিয়াল), প্লাটিপাস, পেঙ্গুইন, কচ্ছপ।

দীর্ঘ একটা সময় ধরে যা একটি রহস্য ছিল, কিন্ত সাম্প্রতিক সময়ে, তিমির বিবর্তন সম্বন্ধে আমাদের জ্ঞান অনেক সমৃদ্ধ হয়েছে। জীনগত প্রমাণ ( দশম অধ্যায় দেখুন এধরনের প্রমানের স্বরুপ সম্বন্ধে জানার জন্য) দেখিয়েছে তিমিদের সবচেয়ে কাছের জীবিত আত্মীয় প্রানী হচ্ছে জলহস্তি বা হিপপো রা, তারপর শুকর, তার রুমিন্যান্টরা (যেমন গরু,ভেড়া ইত্যাদি);বিস্ময়করভাবে জীন নির্ভর প্রমান আরো দেখিছে হিপপো অন্যকোন ক্ষুর যুক্ত পা সহ প্রানীদের তুলনায় তিমিদের সাথে বেশী জীনগত সম্পর্ক বহন করে ( যেমন শুকর বা রুমিন্যান্টরা) যাদের সাথে তাদের বাহ্যিক সাদৃশ্য অনেক বেশী। এটি আরো একটি স্পষ্ট উদহারণ, মাঝে মাঝে যে গরমিলটা আমরা দেখতে পাই জীনগত সাদৃশ্য আর বাহ্যিক শারিরীক বৈশিষ্টগত সাদৃশ্যতার মধ্যে। আমরা বিষয়টি উপরে ব্যাখ্যা করেছিলাম সেই মাছগুলোর উদহারণ দিয়ে যারা আমাদের জীনগত আত্মীয়, বেশী মাত্রায় তারা সদৃশ অন্য কোন মাছের তুলনায়। সেক্ষেত্রে,  এই ব্যতিক্রমটি ঘটে কারন আমাদের পুর্বসুরীরা পানি ছেড়ে স্থলে এসেছে এবং ফলশ্রুতিতে বিবর্তনের মাধ্যমে  বহু পরিবর্তিত হয়েছি  আমরা আমাদের কাছের মাছ আত্মীয়দের অনেক পেছনে ফেলে, লাঙ ফিস ও সিলাকান্থ। যারা দেখতে আমাদের দুরবর্তী মাছ আত্মীয়দেরই মত, কারন তারা সবাই পানিতে থেকে গিয়েছিল। এখন আমরা সেই একই ঘটনাই ঘটতে দেখলাম আবারও, কিন্তু বীপরিতমুখী। হিপপো রা স্থলেই রয়ে যায়, অন্তত আংশিকভাবে, এবং সেকারনে তারা দেখতে তাদের স্থলবাসী আত্মীয় প্রানীদের মতই রয়ে যায়, যেমন রুমিন্যান্ট, অন্যদিকে যখন তাদের জীনগত নিকটাত্মীয়, তিমি রা, সমুদ্রবাসী হয়, এবং এতটাই তারা পরিবর্তিত হয় যে, বিষয়টি অনু জীববিজ্ঞানীদের নজর ছাড়া অন্য জীববিজ্ঞানীদের নজরে পড়েনি। বিশেষকরে যখন তাদের মাছ পুর্বসুরীরা মুলত বীপরিত দিকে যাত্রা করেছিল, সেটা অনেকটা ‍তুলনা করা যেতে পারে মহাশুন্যে যাত্রার মত, কিংবা নিদেনপক্ষে বেলুন যাত্রার মত, তিমির পুর্বসুরীরারা মধ্যাকর্ষনের সার্বক্ষনিক চাপ মুক্ত হয়ে স্বাধীনভাবে ভেসে বেড়াতে শুরু করে,পরবর্তীতে যা ডাঙ্গার সাথে বাধা তাদের বন্ধনটাও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।

এবং এই একই সময়ে, একসময় যা সামান্য কিছু জীবাশ্ম প্রমান ছিল তিমির বিবর্তনের স্বপক্ষে সেটি সন্দেহাতীতভাবে এখন সম্পুর্ণ হয়েছে, বিশেষ করে পাকিস্তানে পাওয়া সমৃদ্ধ জীবাশ্ম ভান্ডারের জন্য। যদিও জীবাশ্ম তিমিদের বিষয়ে অত্যন্ত ব্যাপকভাবে বর্ণিত হয়েছে সাম্প্রতিক কিছু বই এ যেমন, ডোন্যাল্ড প্রথেরো র Evolution: What the Fossils Say and Why it Matters এবং আরো সাম্প্রতিক জেরী কয়েন এর  Why Evolution is True বইটিতে যে আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি, বিষয়টি নিয়ে আমি বিস্তারিত আলোচনায় যাবো না। বরং আমি শুধু একটি ডায়াগ্রামেই সীমাবদ্ধ থাকবো, যেটি নেয়া হয়েছে প্রথেরো র বইটি থেকে, যা জীবাশ্মর সেই ধারাবাহিক ক্রমবিকাশটা সময়ের স্কেলে সাজিয়েছে। ভালো করে লক্ষ্য করুন ছবিটা কিভাবে আকা হয়েছে। যদিও লোভনীয় – এবং পুরোনো বইগুলো সাধারনত যা করে থাকে, এমন ধারাবাহিক ক্রমানুসারে ছবিগুলো আকা হয় যেখানে তীর চিহ্ন ব্যবহার করে প্রাচীন থেকে নবীন জীবাশ্মর দিকে ইঙ্গিত করা হয়। কিন্তু কেউই বলতে পারবে না, যেমন Ambulocetus রা এসেছে Pakicetus দের থেকে বা Basilosaurus এসেছে Rodhocetus দের থেকে। বরং ডায়াগ্রামটি সাবধানতার নীতি অবলম্বন করেছে প্রস্তাব করতে, যেমন, তিমিরা বিবর্তিত হয়েছে Ambulocetus দের একটি সমসাময়িক নিকটাত্মীয় প্রানী থেকে,  যেটি খুব সম্ভবত দেখতে ছিল দের মত ( এমনকি হতে পারে Ambulocetus ); যে জীবাশ্মগুলো এখানে দেখানো হয়েছে সেগুলো তিমির বিবর্তনের নানা পর্বের প্রতিনিধিত্বমুলক জীবাশ্ম। ধীরে ধীরে পেছনের পা বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া, সামনে পা হাটার উপযোগি পা থেকে সাতার কাটার উপযোগী ফিন পরিণত হওয়া এবং লেজ এর চ্যাপ্টাকৃতি হয়ে ফ্লুক এ পরিণত হওয়া, এই সব পরিবর্তনগুলো এই চমৎকার ধাপে ধাপে বিবর্তনের মাধ্যমেই ঘটেছে।

whale_evo

ছবি: স্থলবাসী প্রানী থেকে তিমির বিবর্তন। উপরের ছবিতে বেশ কিছু অন্তর্বর্তীকালীন জীবাশ্মর ছবি দেখানো হয়েছে, যা আফ্রিকা ও পাকিস্তানের ইকোসিন পর্বের স্তরে চিহ্নিত করা হয়েছে ( কার্ল বুয়েল এর ড্রইং); তিমির জীবাশ্ম ইতিহাস নিয়ে আর এতটুকুই বলবো কারন যে বইগুলোর নাম আমি উল্লেখ করেছি সেখানে বিষয়টি বিস্তারিতভাবে বর্ণিত করা হয়েছে। অন্যটি, অপেক্ষাকৃত কম এবং আরো বেশী বৈচিত্রময় এমনই পুরোপুরি জলজ স্তন্যপায়ীদের একটি গ্রুপ, সাইরেনিয়ান (Sirenians) – ডুগং এবং ম্যানাতি – এত বিস্তারিত ভাবে জীবাশ্ম রেকর্ডে তাদের বিবর্তনের ইতিহাস আমরা পাইনি, কিন্তু একটি খুবই চমৎকার মিসিং লিঙ্ক সম্প্রতি আবিষ্কৃত হয়েছে।

মোটামুটিভাবে Ambulocetus এর সমসাময়িক ইকোসিন পর্বের হাটতে সক্ষম তিমি  এবং হাটতে সক্ষম ম্যানাতি জীবাশ্ম যা পাওয়া গেছে জামাইকা, তারা দেখতে এরা অনেকটাই ম্যানাতি বা ডুগং এর মত ; শুধুমাত্র সামনে ও পেছনে হাটার জন্য এর সত্যিকারের পা ছিল,সামনে পায়েল সাথে ফ্লিপার লাগানো ছিল, নীচের ছবিটিতে একটি আধুনিক ডুগং প্রজাতির কংকালে উপরে, Pezosiren, এর কংকাল নীচে: ঠিক যেমন তিমিরা হিপপোদের আত্মীয়, তেমনিভাবে সাইরেনিয়ান রা হাতিতের সাথে সম্পর্কযুক্ত, প্রচুর পরিমানে প্রমানে , যার সাথে যুক্ত জীনগত প্রমান। Pezosiren, যদিও সম্ভবত  বসবাস করতো জলহস্তির মত, বেশীর ভাগ সময় তার কাটে তার পানিতে, পানির নীচে এর পা হাটা এবং সাতার দুকাজেই ব্যবহার হতো। এর মাথার খুলি নি:সন্দেহে সাইরেনিয়ার। Pezosiren  আধুনিক ম্যানিতি আর ডুগং দের সত্যিকারের পুর্বসুরী প্রাণী নাও হতে পারে, তবে সেই দায়িত্বটির ভুমিকা পালন করার জন্য এটি যোগ্য।

ছবি: ম্যানিতি, The Florida manatee

ছবি: ডুগং

28-12-2013 7-19-49 PM

ছবি: Pezosiren 

ছবি: A life restoration of Pezosiren portelli, as it may have appeared

এই বই যখন প্রায় শেষ এবং প্রকাশকের কাছে পাঠানোর অপেক্ষায় ছিল, তখন একটি দারুন খবর এসেছিল, জার্ণাল Nature এ জানায়, কানাডীয় উত্তর মেরু বা আর্কটিকে একটি নতুন জীবাশ্ম আবিষ্কৃত হয়েছে, যা আধুনিক সীল, সীলায়ন এবং ওয়ালরাস ( একসাথে যাদের বলা হয় Pinnipeds) দের বিবর্তনের ইতিহাসে একটি শুন্যস্থান পুর্ণ করেছে। একটি একক জীবাশ্ম কংকাল, প্রায় ৬৫ শতাংশ সম্পুর্ণ, Puijila darwini, যার সময়কাল মাইওসিন ইপোক এর প্রথমাংশ ( প্রায় ২০ মিলিয়ন বছর আগে); পৃথিবীর মানচিত্রে এই সময়টা যথেষ্ট সাম্প্রতিক, যেন প্রায় আজকের মতই কোন দিন। সুতরাং এই সব আদি সীল/সি লায়ন (তখনও বিভাজিত হয়নি) একটি মেরু অঞ্চলীয় প্রাণী, শীতল পানির বাসিন্দা; স্বাক্ষ্যপ্রমান বলছে এটি মিঠা পানির মাছ শিকার করতো ( আধুনিক সব ওটার বা Otter  দের মত, শুধুমাত্র ব্যতিক্রম ক্যালিফোর্নিয়ার sea otter রা) সমুদ্রের পানিতে না ( প্রায় সব আধুনিক সীলদের মত, ব্যতিক্রম শুধু Lake Baikal Seal);  Puijila দের ফ্লিপার ছিল না, তবে তাদের পাতলা পর্দা দিয়ে যুক্ত পায়ের আঙ্গুল বা webbed foot ছিল। সম্ভবত এটি স্থলে কুকুরের মত দৌড়াতে পারতো ( আধুনিক পিনিপেডদের তুলনায় যা খুবই ব্যতিক্রম) কিন্তু তার বেশীর ভাগ সময় সে কাটাতো পানি তে, যেখানে সে কুকুরদের মতো সাতার কাটতে পারতো। আধুনিক সীল ও সী লায়ন দের কেউই এই কৌশল ব্যবহার করে না। Puijila পিনিপেড দের পানি এবং স্থলে তাদের বংশধারার  মধ্যবর্তী পার্থক্যটি খুন নিখুতভাবে পুরণ করেছে। এটি আরো একটি সংযোজন আমাদের সেই চমৎকার মিসিং লিংক এর তালিকায়, যে মিসিং লিঙ্ক গুলো আর মিসিং নয়।


ছবি: In the Oligocene epoch the Canadian Arctic was a landscape of wetlands, rivers and lakes in which the Puijila darwini was well equipped to hunt, catch prey and survive.

 __________________________চলবে

Advertisements
রিচার্ড ডকিন্স এর দি গ্রেটেষ্ট শো অন আর্থ : ষষ্ঠ অধ্যায় (চতুর্থ পর্ব)

One thought on “রিচার্ড ডকিন্স এর দি গ্রেটেষ্ট শো অন আর্থ : ষষ্ঠ অধ্যায় (চতুর্থ পর্ব)

  1. এমরানুল হক নির্ঝর বলেছেন:

    অসম্ভব সাহাসী প্রয়াস, বাংলা ভাষায় বিজ্ঞানের সত্য প্রকাশের এই উদ্যগকে স্বাগত জানাই। ভবিষ্যতে বিস্তারিত আলোচনার অাশা রাখি।

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s