রিচার্ড ডকিন্স এর দি গ্রেটেষ্ট শো অন আর্থ : ষষ্ঠ অধ্যায় (শেষ পর্ব)

artist-impression-of-odontochelys-semitestacea

turtle-shell-evolution-1 turtle-shell-evolution-2ছবি: Odontochelys semistestacea  চীনে আবিষ্কৃত এই জীবাশ্মটি আপাতত খুজে পাওয়া সবচেয়ে প্রাচীনতম কচ্ছপের জীবাশ্ম। প্রায় ২২০ মিলিয়ন বছর প্রাচীন জীবাশ্মটি কিভাবে তাদের খোলশ বিবর্তন করেছিলে সেই রহস্যটি উন্মোচনে গুরুত্বপুর্ণ ভুমিকা পালন করেছে। এর আবিষ্কারের পর পরই বিতর্কটি সুচনা হয়, কিভাবে এদের খোলস বিবর্তিত হয়েছে। জীবাশ্মটির  আবিষ্কার মেরুদন্ড আর পাজরের এর সম্প্রসারণ হিসাবে খোলসের বিবর্তনের স্বপক্ষে বেশ শক্তিশালী প্রমানের যোগান দেয়। জীবাশ্মটির শরীরের নীচের দিকে আংশিক খোলস এবং উপরের খোলস এর অনুপস্থিতি চের খোলসটি যে আগে বিবর্তিত হয়ে সেই বিষয়টি প্রমানিত করেছে। িএছাড়া এটি বিবর্তিত হয়েছে সমুদ্রে বিশেষ করে নীচের দিক থেকে শিকারী প্রাণীর আক্রমন বিরোধী একটি বর্ম হিসাবে। কিন্তু তারা আবার যখন স্থলবাসী হয় তখন তাদের উপরের খোলসটি বিবর্তিত হয়, যা তাদের প্রতিরক্ষা বর্ম হিসাবে বিশেষ গুরুত্বপুর্ণ ভুমিকা রাখতে শুরু করে।

Manchurochelysliaoxiensis Placodonts

রিচার্ড ডকিন্স এর দি গ্রেটেষ্ট শো অন আর্থ :  ষষ্ঠ অধ্যায়  (শেষ পর্ব)
( অনুবাদ প্রচেষ্টা: কাজী মাহবুব হাসান)

The Greatest Show on Earth: The evidence for evolution by Richard Dawkins

 প্রথম অধ্যায়
দ্বিতীয় অধ্যায়
তৃতীয় অধ্যায় ( প্রথম পর্ব)  তৃতীয় অধ্যায় ( দ্বিতীয় পর্ব)তৃতীয় অধ্যায় ( শেষ পর্ব)
চতুর্থ অধ্যায় (প্রথম পর্ব) | চতুর্থ অধ্যায় (দ্বিতীয় পর্ব)
চতুর্থ অধ্যায় (তৃতীয় পর্ব) | চতুর্থ অধ্যায় ( শেষ পর্ব)
পঞ্চম অধ্যায়: প্রথম পর্ব | পঞ্চম অধ্যায়: দ্বিতীয় পর্ব |
পঞ্চম অধ্যায়: তৃতীয় পর্ব | পঞ্চম অধ্যায়: শেষ পর্ব |
ষষ্ঠ  অধ্যায়: প্রথম পর্বদ্বিতীয় পর্ব | তৃতীয় পর্ব | চতুর্থ পর্ব

 মিসিং লিঙ্ক ? ঠিক কি বোঝাতে চাইছেন আপনি ’মিসিং’ শব্দটি দিয়ে?

সমুদ্র থেকে আবার শুকনো মাটিতে ….

এবার আমি আরো একটি গ্রুপের প্রানীদের কথা আলোচনা করবো, যারা সমুদ্র থেকে আবার ফিরে গেছে শুকনো মাটিতে স্থলবাসী হবার জন্য আর এরা বিশেষভাবে একটি কৌতুহল্লোদ্দীপক উদহারণ কারন এদের কেউ কেউ আবার প্রক্রিয়ার প্রতিবর্তন করে পুনরায় পানি ছেড়ে ডাঙ্গায় ফিরে এসেছে দ্বিতীয়বারের মত; সী টার্টল (Sea turtle-সামুদ্রিক কচ্ছপ), একটি গুরুত্বপুর্ণ ক্ষেত্রে পুরোপুরি পানিতে ফিরে যায়নি তিমি বা ডুগংদের মত, কারন তারা এখনও সমুদ্রের  বেলা ভুমিতে ডিম পাড়ে। এবং সমুদ্রে প্রত্যাবর্তন করা সব মেরুদন্ডী প্রানীদের মত, টার্টলরা বাতাসে শ্বাস নেবার প্রক্রিয়াটা ত্যাগ করেনি। এবং এই বিশেষ ক্ষেত্রে এদের কেউ কেউ বেশ খানিকটা সামনে এগিয়ে গেছে তিমিদের চেয়ে। এই কচ্ছপগুলো পানি থেকে বাড়তি অক্সিজেন সংগ্রহ করতে পারে, তাদের শরীরের পেছনের এক জোড়া প্রকোষ্ঠ ব্যবহারের মাধ্যমে, যেখানে রক্ত চলাচল বেশ সমৃদ্ধ। একটি অষ্ট্রেলিয় রিভার টার্টল (যেভাবে কোন অষ্ট্রেলীয় কখনোই ইতস্তত বোধ করবেন না) আসলে তাদের সিংহভাগ অক্সিজেন পায় পায়ুপথের মাধ্যমে।

আরও গভীরে যাবার আগে,  আমি আবারো এড়াতে পারবো না সেই নামকরণের ক্লান্তিকর প্রক্রিয়ায় বিশেষ বিষয়টি, জর্জ বার্ণাড শ র একটি দু:খজনক পর্যবেক্ষনের সত্যতার প্রমান মেলে যেখানে: ইংল্যান্ড এবং আমেরিকা দুটি দেশ যাদের বিভাজিত করেছে একটি সাধারণ ভাষা। ব্রিটেনে টার্টল বাস করে সাগরে, টরটয়েস (Tortoise) বাস করে স্থলে এবং টেরাপিনস (Terrapin) বাস করে মিঠাপানি কিংবা নোনা পানিতে। আর আমেরিকায় এই সব প্রানী হচ্ছে টার্টল, তারা পানি কিংবা ডাঙ্গায় যেখানেই বাস করুক না কেন। ল্যান্ড টার্টল শুনলে আমার কাছে অদ্ভুত মনে হয়, কিন্তু কোন অ্যামেরিকান এর কাছে তা মনে হয়না। যাদের জন্য টরটয়েস হচ্ছে টার্টলদের সাবসেট, যারা ডাঙ্গায় বাস করে। কিছু আমেরিকাবাসীরা টরটয়েস শব্দটি ব্যবহার করে কঠোর ট্যাক্সোনোমিক অর্থে Testudinidae এর বর্ণনা করার জন্য, এটি সকল স্থলবাসী টরটয়েস দের বৈজ্ঞানিক নাম। ব্রিটেনে আমরা স্থলবাসী যেকোন chelonian কে টরটয়েস বলতে পছন্দ করি, তারা Testudinidae গণ র অন্তর্ভুক্তে হোক বা না হোক ( যেমনটি আমরা দেখবো, জীবাশ্ম টরটয়েসও আছে যারা স্থলে বাস করতো কিন্তু Testudinida পরিবারের সদস্য নয়);পরবর্তী আলোচনা যেটা হবে আমি সেখানে কোন ধরনের সংশয় এড়াতে চাচ্ছি, এবং ব্রিটেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের ( এবং অষ্ট্রেলিয়া, সেখানে আবার এই শব্দগুলোর ব্যবহার ভিন্ন) জন্য বিশেষ ছাড় দিয়ে। কিন্তু আসলেই কাজটি কঠিন। এই নামকরণ ব্যপারটি খুবই এলোমেলো, যদি হালকা ভাবে বলি।প্রাণীবিজ্ঞানীরা ব্যাবহার করেন chelonians শব্দটি, এই সব প্রানীদের বোঝানোর জণ্য, টার্টল, টরটয়েস এবং টেরাপিন, যে সংস্করণের  ইংলিশই আমরা ব্যবহার করি না কেন।

Continue reading “রিচার্ড ডকিন্স এর দি গ্রেটেষ্ট শো অন আর্থ : ষষ্ঠ অধ্যায় (শেষ পর্ব)”

রিচার্ড ডকিন্স এর দি গ্রেটেষ্ট শো অন আর্থ : ষষ্ঠ অধ্যায় (শেষ পর্ব)

রিচার্ড ডকিন্স এর দি গ্রেটেষ্ট শো অন আর্থ : ষষ্ঠ অধ্যায় (চতুর্থ পর্ব)

whale_evo

ছবি:  তিমির বিবর্তন: প্রায় ৫০মিলিয়ন বছরের আগে িইকোসিন  ইপোকে বর্তমান স্পেন থেকে েইন্দোনেশিয়া পর্যন্ত বিস্তৃত একটি অপেক্ষাকৃত অগভীর সমুদ্র ছিল। এই সময়েই সিটাসিয়ানরা যেমন বর্তমান তিমির পুর্বসুরী প্রজাতিরা জলে প্রত্যাবর্তন করে। তখনও ভারত একটি দ্বীপ, ইউরেশিয়ার ভুখন্ডের সাথে যুক্ত হয়নি, তৈরী হয়নি হিমালয়, পাকিস্থান কেবল ভারতের একটি উপকুল অঞ্চল; আদি তিমিদের জীবাশ্মগুলোর অনেকগুলোই এখানেই সন্ধান পাওয়া গেছে। আদি তিমিদের তখন দেখলে বর্তমান বিশাল তিমিদের সাথে বাহ্যিক কোন মিল চোখে পড়তো না, তারা তাদের লেজ দিয়ে সাতার কাটতো না, পরিবর্তিত পা দিয়ে তারা সাতার কাটতে শিখেছিল এবং ক্রমেই তারা পেছনের পা হারায়, সামনের পা পরিনত হয় প্যাডেল, লেজ ফ্লুক বিবর্তন হয় সাতারের জন্য। এখনও তিমিরা তার বিবর্তনীয় অতীতের চিহ্ন বহন করছে। (ছবি সুত্র)

gingerich-earbonesছবি: পাকিস্থান ও মিশরে কিছু রহস্যময় প্রজাতির জীবাশ্ম আবিষ্কার করার আগ পর্যন্ত্য জীবাশ্মবিদ ফিলিপ গিঙরিচ (Philip Gingerich) এর তিমি র বিবর্তনে বিশেষ কোন আগ্রহই ছিল না; ১৯৭৮ সালে পাকিস্থানের উত্তরাঞ্চলে প্রথম ঘোড়ার সম্ভাব্য পুর্বসুরী প্রজাতির জীবাশ্ম খোজার সময় তার সহযোগীরা খুজে পান একটি নেকড়ে সদৃশ প্রানীর মাথার খুলি; পরে পুর্ণাঙ্গ জীবাশ্ম প্রজাতিটির নাম দেয়া হয়Pakicetus inachus — যার ব্রেইন এর আকৃতি এবং কানের বিশেষ গঠন দেখেই তিনি এর সাথে তিমির প্রথম যোগসুত্রটি করেন। পরে আরো কিছু জীবাশ্ম (যেমন মিশরের মরুভুমিতে পাওয়া  Bacilosaurus এবং পাকিস্থানে Rhodocetus  Maiacetus) এবং বিজ্ঞানের নানা শাখা থেকে সংগ্রহ করা প্রমান ও তার তিন দশকের গবেষনা প্রথম বারের মত সুস্পষ্টভাবে প্রমান করে প্রায় ৫০ মিলিয়ন বছর আগে েইকোসিন পর্বে স্থলবাসী স্তন্যপায়ী আর্টিওডাকটাইল বা Even-Toed Ungulates( বা ইভেন টোড: যাদের জোড় সংখ্যার পায়ের আঙ্গুল থাকে ও শরীরের ভার তাদের তৃতীয় এবং চতুর্থ পায়ের আঙ্গুল সমানভাবে বহন করে, আর আঙ্গুলেটস বলতে সেই সব প্রানী যা যাদের পায়ের আঙ্গুলের নোখে কেরাটিন এর শক্ত একটি অংশ থাকে, যাকে Hoof বা খুর বলা হয়, যেমন গরু, উট, শুকর ইত্যাদি , ঘোড়ারাও আঙ্গুলেট তবে তারা অড টোড বা তাদের বেজোড় সংখ্যক পায়ের আঙ্গুল থাকে, শরীরের ভার মুলত বহন করে তৃতীয় আঙ্গুলটি , এছাড়াও আর্টিওডাকটাইলদের বেশ কিছু  বৈশিষ্ট আছে) পুর্বসুরী থেকে Cetacean ( তিমি,ডলফিন ও পরপয়েস) বর্গের স্তন্যপায়ীরা বিবর্তিত হয়েছিল। আজকের সিটাসিয়ান যেমন তিমি রা সম্পুর্ণ জলজ প্রানী তবে আদি সিটাসিয়ানরা ছিল উভচরী; ভারত এবং পাকিস্থান থেকে পাওয়া জীবাশ্মগুলো ধারাবাহিক এই বিবর্তনের অন্তর্বতী কালীন সবগুলো পর্যায়কে বর্ণনা করতে সহায়তা করেছে, কিভাবে িএকটি স্থলবাসী প্রানী ক্রমান্বয়ে বিবর্তিত হয়ে তিমি ও সমগোত্রীয় জলজ প্রানীতে। (Photo: Eric Bronson, U-M Photo Services.)

রিচার্ড ডকিন্স এর দি গ্রেটেষ্ট শো অন আর্থ :  ষষ্ঠ অধ্যায়  (চতুর্থ পর্ব)
( অনুবাদ প্রচেষ্টা: কাজী মাহবুব হাসান)

The Greatest Show on Earth: The evidence for evolution by Richard Dawkins

 মিসিং লিঙ্ক ? ঠিক কি বোঝাতে চাইছেন আপনি ’মিসিং’ শব্দটি দিয়ে?

আবার ফিরতে হবে সমুদ্রে….

পানি থেকে স্থলে বসবাস শুরু করার সেই বিবর্তনীয় প্রক্রিয়ায় জীবনের প্রায় সবক্ষেত্রে বড় মাপের পুণ:পরিকল্পনার প্রয়োজন আছে। শ্বাস নেওয়া থেকে প্রজনন :  জীববিজ্ঞানের জগতে বিশাল বড় একটি অভিযান; তাস্বত্তেও, আপাতদৃষ্টিতে দেখে মনে হতে পারে প্রায় খামখেয়ালী কোন বিরুদ্ধাচারণ কিংবা বিকৃতি, অনেক বেশ সফল স্থলবাসী প্রানীও পরবর্তীতে উল্টোপথে যাত্রা করছে, তারা তাদের বহু কষ্টে পাওয়া স্থল নিবাসের নানা বৈশিষ্টগুলো পরিত্যাগ করে আবার পানিতে ফিরে গিয়েছিলো। সিল এবং সী লায়নরা গিয়েছে আংশিক পথ।তারা আমাদের দেখিয়েছে  এই দুইয়ের মধ্যে অন্তর্বর্তীকালীন প্রজাতিটি দেখতে কেমন ছিল, যখন তারা পুরোপুরি জলজ প্রানীতে রুপান্তরিত হয়েছে যেমন তিমি আর ডুগং রা। তিমিরা ( এবং ছোট তিমিরাও, যাদের আমরা ডলফিন বলি) এবং ডুগং রা ও তাদের নিকটবর্তী আত্মীয় প্রজাতি যেমন ম্যানিতি, পুরোপুরি ভাবে স্থলবাসী জীবন পরিত্যাগ করে আবার তাদের দুরবর্তী পুর্বসুরীদের সামুদ্রিক জীবন বেছে নিয়েছে। এমনকি তারা প্রজননের জন্য সমুদ্রের তীরেও আসেনা। যদিও তারা  এখনও বাতাসে নি:শ্বাস নেয়, পুরোপুরি ভাবে তাদের সামুদ্রিক পুর্বসুরীদের ফুলকার সমতুল্য কোন কিছু তারা আর বিবর্তিত করতে পারেনি। অন্য যে প্রানীরা যারা স্থল থেকে আবার পানি তে ফিরে গেছে, নিদেনপক্ষে কিছুটা সময়, তারা হচ্ছে পন্ড স্নেইল, ওয়াটার স্পাইডার, ওয়াটার বিটল, কুমির,ওটার, সামুদ্রিক সাপ, ওয়াটার শ্রিউ, গালাপাগোস দ্বীপের উড্ডয়ন অক্ষম করমোরান্ট, গালাপাগোস এর সামুদ্রিক ইগুয়ানা, ইয়াপোকস ( দক্ষিন আমেরিকার পানীবাসী মারসুপিয়াল), প্লাটিপাস, পেঙ্গুইন, কচ্ছপ।

Continue reading “রিচার্ড ডকিন্স এর দি গ্রেটেষ্ট শো অন আর্থ : ষষ্ঠ অধ্যায় (চতুর্থ পর্ব)”

রিচার্ড ডকিন্স এর দি গ্রেটেষ্ট শো অন আর্থ : ষষ্ঠ অধ্যায় (চতুর্থ পর্ব)