রিচার্ড ডকিন্স এর দি গ্রেটেষ্ট শো অন আর্থ : ষষ্ঠ অধ্যায় (দ্বিতীয় পর্ব)

ছবি: কোন জীবাশ্মকে যদি সেলিব্রিটির মর্যাদা দেয়ার কথা ভাবা হয় তবে তার প্রথম দাবীদার অনায়াসে হতে পারে Archaeopteryx lithographica (উপরের ছবিটি আর্কিওপটেরিক্স এর বার্লিন স্পেসিমেন) জীবাশ্ম রেকর্ডে আপাতত খুজে পাওয়া এটি আদিমতম পাখি (তবে তার সেই অবস্থান এখন চ্যালেন্জ এর মুখে); ১৮৬১ সালে জার্মানীর শনহোফেন লাইমস্টোন কোয়ারীতে খুজে পাওয়া আর্কিওপটেরিক্স আকারে প্রায় ১.৬ ফুট মত লম্বা হত।  জীবাশ্মটির বয়স প্রায় ১৫০ মিলিয়ন বছর, জুরাসিক পর্বের ঠিক শেষ দিকে; পাখির মত পালক সহ ডানা অথচ ডায়নোসরের মত দাতযুক্ত চোয়াল, দীর্ঘ লেজ প্রথম ইঙ্গিত দিয়েছিল পাখিরা ডায়নোসরদের থেকে বিবর্তিত হয়েছে। যদিও সেই সময়ের বিজ্ঞানীরা প্রস্তুত ছিলেন না সেই যোগাযোগটি প্রতিষ্ঠা করার জন্য। তবে সেই ১৮৭০ সালে টমাস হাক্সলি, প্রথম এর পাখি আর ডায়নোসরের মধ্যে যোগসুত্রটি িউল্লেখ করেন, পরে ৭০ এর দশকে, প্রায় ১০০ বছর পর আবার বিষয়টি আলোচনায় নিয়ে আসেন ইয়েল বিশ্বাবদ্যালয়ের জন এইচ ওস্ট্রম। সেই বিতর্কটি অমীমাংসিত থেকে নব্বই এর দশকের মাঝামাঝি অবধি, এরপর চীনে জীবাশ্মবিদরা একের পর এক অসাধারন সব জীবাশ্ম খুজে বের করেন, যা পরবর্তীতে আরো দৃঢ়ভাবে প্রমান করে স্থলবাসী,ক্ষিপ্রগতির, মাংশাসী থেরোপড ডায়নোসরদেরই বংশধর আজকের পাখিরা। তবে এটাও প্রমান হয়, পাখিদের বিশেষ বৈশিষ্টগুলোও আসলে পাখিদের বিবর্তনের অনেক আগে বিবর্তিত হয়েছিল থেরোপড ডায়নোসরদের মধ্যে। আর পাখিদের বিবর্তনের সাথে তাদের উড়বার ক্ষমতার বিবর্তন ঘটেছিল তারও পরে।  (ছবিসুত্র:  উইকিপেডিয়া);

i-8352ab5f48430584ce06b635ed73bd3d-xiaotingiaছবি: ২০১১ সালে চীনে খুজে পাওয়া জীবাশ্ম  Xiaotingia zhengi  প্রায় ১৫৫ মিলিয়ন বছর আগে; আর্কিওপটেরিক্স এর মত এর কিছু বৈশিষ্ট আছে আবার পালকযুক্ত অন্য ডায়নোসরদের সাথে  এর বেশ মিল আছে। এটি আবিষ্কারের পুর্বে প্রথমদিককার পাখি হিসাবে আর্কিওপটেরিক্স এর অবস্থানটি খানিকটা নড়বড়ে হয়ে গিয়েছে। কারন সিস্টেম্যাটিক্স এ  আর্কিওপটেরিক্স এর অবস্থান ছিল প্রাচীন তম পাখি সদৃশ অ্যাভিয়ালান হিসাবে ( যদিও আর্কিওপটেরিক্স কিংবা িএটি সরাসরি পাখিদের পুর্বসুরী প্রানী হয়, তবে এরা ট্রানজিশনাল প্রজাতির চমৎকার উদহারণ), এটির ডাটা যোগ হবার পর এর অবস্থান পাখিদের থেকে খানিকটা দুরে  Deinonychosaurs দিকে নিয়ে এসেছে আর সেই সাথে এটিও আর্কিওপটেরিক্সকেও বের করে এনেছে তাদের গ্রুপে। (সুত্র : Nature);

800px-sinosauropteryxfossil
ছবি: ১৯৯৫/৯৬ সালে চীনে খুজে পাওয়া Sinosauropteryx ( যার অর্থ Chinese reptilian wing বা চীনা সরীসৃপের ডানা কিংবা পালক) একটি জীবাশ্ম; এটাই প্রথম পাখি ও তাদের নিকট প্রজাতিগুলো বা Avialae গোষ্ঠীর বাইরে খুজে পাওয়া প্রজাতি, যাদের পালক বা এর আদি একটি সংস্করণ ছিল। এটি প্রমান করেছিল, পাখিদের বিবর্তনের পুর্বেই পাখিদের বেশ কিছু বৈশিষ্ট ও আচরন থেরোপড ডাইনোসরদের প্রজাতিদের মধ্যে বিবর্তিত হয়েছিল। (উইকিপেডিয়া)

রিচার্ড ডকিন্স এর দি গ্রেটেষ্ট শো অন আর্থ :  ষষ্ঠ অধ্যায়  দ্বিতীয় পর্ব)
( অনুবাদ প্রচেষ্টা: কাজী মাহবুব হাসান)

The Greatest Show on Earth: The evidence for evolution by Richard Dawkins

 প্রথম অধ্যায়
দ্বিতীয় অধ্যায়
তৃতীয় অধ্যায় ( প্রথম পর্ব)  তৃতীয় অধ্যায় ( দ্বিতীয় পর্ব)তৃতীয় অধ্যায় ( শেষ পর্ব)
চতুর্থ অধ্যায় (প্রথম পর্ব) | চতুর্থ অধ্যায় (দ্বিতীয় পর্ব)
চতুর্থ অধ্যায় (তৃতীয় পর্ব) | চতুর্থ অধ্যায় ( শেষ পর্ব)
পঞ্চম অধ্যায়: প্রথম পর্ব | পঞ্চম অধ্যায়: দ্বিতীয় পর্ব |
পঞ্চম অধ্যায়: তৃতীয় পর্ব | পঞ্চম অধ্যায়: শেষ পর্ব |
ষষ্ঠ  অধ্যায়: প্রথম পর্ব|

 মিসিং লিঙ্ক ? ঠিক কি বোঝাতে চাইছেন আপনি ’মিসিং’ শব্দটি দিয়ে?

আমি বিবর্তনে বিশ্বাস করবো যখন কোন বানর মানুষের বাচ্চা প্রসব করবে:

আরো একবার, মানুষরা কোন বানর থেকে বিবর্তিত হয়নি, বানরদের সাথে দুর অতীতে আমরা একটি সাধারণ পুর্বসুরী প্রানী শেয়ার করেছিলাম মাত্র; ঘটনাচক্রে, এই সাধারণ পুর্বসুরী প্রাণীটি মানুষের চেয়ে বরং বানরদের মতই বেশী দেখতে হবার সম্ভাবনা।আমরা হয়তো তাকে বানরই বলতাম যদি আমাদের দেখা হতো প্রায় ২৫ মিলিয়ন বছর আগে। যদিও মানুষরা বিবর্তিত হয়েছে এমন একটি পুর্বসুরী প্রজাতি থেকে যাদের আমরা যুক্তিসঙ্গতভাবেই বানর বলতে পারি  কিন্তু কোন প্রানী রাতারাতি নতুন কোন প্রজাতির প্রানী প্রসব করতে পারেনা, অন্ততপক্ষে বিশেষ করে বানর আর মানুষের মত ভিন্ন ভিন্ন কোন প্রাণীতো না, এমনকি কোন শিম্পান্জি থেকেও তা সম্ভব না। বিবর্তন তা বলে না। বিবর্তন শুধু একটি ধীর প্রক্রিয়াই শুধু না, বাস্তবিকভাবে, এটাকে অবশ্যই ধীর হতে হবে যদি এটি কোন ধরনের ব্যাখ্যা  দিতে চায়। কোন একটি প্রজন্মে বিশাল একটি লাফ, যেমন কোন একটি বানরের মানব সন্তান এর জন্ম দেবার ব্যপারটা স্বর্গীয় সৃষ্টির মত অসম্ভাব্য একটি ব্যাপার এবং সেই একই কারণে বাদ দেয়া যেতে পারে : কারণটি পরিসংখ্যানগতভাবে অত্যন্ত অসম্ভব একটি ব্যপার। খুবই ভালো হতো যারা বিবর্তন বিরোধী তারা যদি খানিকটা সময় নিয়ে তারা যা বিরোধিতা করছে তার সামান্য কিছু মুল বক্তব্যটা বোঝার চেষ্টা করতেন।

জীবনের মহান শৃঙ্খল  বা Great Chain of Being এর ভয়ঙ্কর লীগেসি:

মিসিং লিঙ্ক এই ভ্রান্ত দাবীর পুরোটারই প্রায় বিশাল অংশর মুল হচ্ছে মধ্যযুগীয় একটি মিথ, যা ডারউইনের সময় অবধি মানুষের মনে বেশ গভীরে গাথা ছিল এবং এর পরে এটি পরিণত হয় সংশয় সৃষ্টির একটি অনমনীয় কারণে। এই মিথটি হচ্ছে দি গ্রেট চেন অব বিইং (The Great Chain of Being); এই ধারনা অনুযায়ী এই মহাবিশ্বের সবকিছুই বসে আছে একটি ক্রমন্নোতির উর্ধগামী মই এর ধাপে। এর সবচেয়ে উপরে ধাপে বসে আছেন ঈশ্বর, তারপর  তারা প্রধান ফেরেস্তারা, এরপর নানা পদমর্যাদার ফেরেস্তারা, তারপর মানুষ, এরপর প্রানীরা, তারপর উদ্ভিদ তারপর এভাবে বাকী সব জড় পদার্থ। এমনটাই মুলত ছিল ধারনা, বিশেষ করে যখন বর্ণবাদ ছিল আমাদের দ্বিতীয় প্রকৃতি, আমার মনে হয় না কোন প্রয়োজন আছে বাড়তি কিছু তথ্য সংযোজন করা যে, সব মানুষরা কিন্তু মই এর একই ধাপে অবস্থান করছে না। ওহ না..  এবং অবশ্যই পুরুষদের মহিলাদের চেয়ে আরো বেশ একধাপ উপরে তাদের অবস্থান ( সে কারনে আমি খানিকটা স্বাধীনতা চর্চা করেছি এই সেকশনের শুরুতে occupied men’s mind ( যার অনুবাদ বাংলায় বাক্যটি ’মানুষের মনে বেশ গভীরে গাথা ছিল’ দিয়ে প্রতিস্থাপিত করা হয়েছে), কিন্তু  প্রানী জগতে তথাকথিত প্রাধান্যপরম্পরাই বা হায়ারার্কিটাই সবচেয়ে সমস্যা করেছে যখন, বিবর্তনের ধারনাটি উদ্ভাবিত হয়। যেন খুব স্বাভাবিকভাবে মনে করা হয় যে, নীচু  প্রানীগুলো ক্রমেই বিবর্তিত হয় ধাপে ধাপে ( মই এর সিড়ি বেয়ে উপরে ওঠার মত) উচ্চতর কোন প্রানীতে। কিন্তু তাই যদি হয় তাহলে আমরা এই নানা জীবশ্রেনীর মধ্যে সংযোগ বা লিঙ্ক দেখতে পাবো। এই মই এর একেবারে নীচ থেকে উপর অবধি। কোন মই এর যদি অনেকগুলো ধাপ অনুপস্থিত থাকে, সেটা বিশ্বাসযোগ্য মনে হবার কথা না। এবং এই ধাপ হীন মই  এর দৃশ্যটাই আমাদের এই মিসিং লিঙ্ক সম্বন্ধে আমাদের সন্দেহবাদীতার পেছনে লুকিয়ে আছে, কিন্তু এই পুরো মই এর মিথটি অত্যন্ত গভীরভাবে ভ্রান্ত ধারনা প্রসুত এবং অবশ্যই বিবর্তনের ধারনা বিরোধী, যা আমি এখন আপনাদের দেখাবো।

এত অনায়াসে ’উচ্চতর জীবন বা উন্নত জীব’ আর ’নিম্নতর জীবন বা নিম্নস্তরের জীব’ আমাদের কথায় ঝরে পড়ে যে, আমরা আসলেই হতবাক হয়ে পড়ি, যখন অনুধাবন করতে পারি, বিবর্তনীয় চিন্তাধারাতে এই ধারনাগুলো অনায়াসে সামন্জষ্যপুর্ণ হবার বদলে – পুরো ধারনাটি আসলেই একেবারে বীপরিত। আর বিষয়টি আগেও যেমন ছিল, এখনও তা আছে, এটি খুব গভীরভাবে বিবর্তনের ধারনা বিরোধী। আমরা চিন্তা করি যে আমরা জানি শিম্পান্জি হচ্ছে উচ্চশ্রেনীর প্রানী, আর মাটিতে বাস করা  কেঁচোরা হচ্ছে নিম্ন শ্রেনীর প্রানী। আমরা মনে করি, এর অর্থ আমাদের সব সময়ই জানা ছিল এবং শুধু ভেবে নেই বিবর্তন বিষয়টিকে শুধু আরো স্পষ্ট করে দিয়েছে মাত্র। কিন্তু  আসলে এমন ভাবনাটা সঠিক নয়। এবং কোনভাবেই এটা স্পষ্ট তো নাই বরং এর কোন অর্থই আসলে হয় না। বা এর যদি কোন অর্থ হয়ে থাকে, সেটা আসলে নানা কিছু বোঝায়, যা বিভ্রান্ত করে এমন কি ক্ষতিকরও।

আমি আরো একটি তালিকা দেই, মোটামুটিভাবে একই ধরনে সংশয় সৃষ্টিকারী কিছু বিষয় যা আপনি হয়তো বোঝাতে চাইতে পারেন …যখন আপনি বলছেন বানররা কেঁচোদের ‍তুলনায় উচ্চশ্রেনীর কোন প্রাণী।

১ ‘কেচো থেকে বিবর্তিত হয়েছে বানররা’: এটি মিথ্যা, ঠিক যেমন ভুল, শিম্পান্জি থেকে মানুষরা বিবর্তিত হয়েছে। বানর এবং কেচো বহু দুর অতীতে কোন একটি সাধারণ পুর্বসুরী প্রানী শেয়ার বা ভাগ করেছিল মাত্র।

২ ’বানর এবং কেচোর সাধারণ পুর্বসুরী সেই প্রানী দেখতে বানরদের চেয়ে বরং অধিক কেচো সদৃশ ছিল’: বেশ, কথাটি আসলেই আগের কথা থেকে অনেক বেশী যুক্তিসঙ্গত এখন,  এমন কি আদিম বা প্রিমিটিভ শব্দটাও ব্যবহার করতে পারেন আংশিক সঠিক ভাবে, আপনি যদি একে বর্ণনা করে সদৃশ আছে এমন পুর্বসুরী হিসাবে। কারন স্পষ্টভাবে এটা সত্যি যে কিছু আধুনিক প্রাণী আসলেই প্রিমিটিভ ঠিক এই অর্থে অন্য অনেক প্রানীদের তুলনায়। আপনি যদি বিষয়টি নিয়ে একটু ভাবেন, দেখবেন, একজোড়া প্রানীর মধ্যে যে প্রানীটি বেশী প্রিমিটিভ সেটি তাদের দুজনেরই সাধারণ পুর্বসুরী প্রানীর সময় থেকে অপেক্ষাকৃত কম পরিবর্তিত হয়েছে ( প্রতিটি প্রজাতি, আপনি যদি যথেষ্ট পরিমান সময় পেছনে যেতে পারেন, দেখবেন, সবারই একটি সাধারণ পুর্বসুরী প্রাণী ছিল।) যদি কোন প্রজাতি একে অপরের থেকে নাটকীয় ভাবে পরিবর্তিত না হয়ে থাকে, সেক্ষেত্রে তাদের তুলনা করার সময় প্রিমিটিভ শব্দটি না ব্যবহার করাই যুক্তিসঙ্গত।

একটি প্রাসঙ্গিক বিষয় এখানে উত্থাপন করার প্রয়োজনীয়তা বোধ করছি, কোন কিছুর মধ্যে সদৃশ্যতার মাত্রা পরিমাপ কথা বেশ কঠিন একটি কাজ। তাছাড়াও এমন কোন আবশ্যিক কারনও কিন্তু নেই কেন দুটি আধুনিক জীব প্রজাতির সাধারন উত্তরসুরী প্রানী এই জোড়ার কোন একটির মত দেখতে হবে অপেক্ষাকৃতভাবে বেশী মাত্রায়, আপনি যদি দুটি প্রজাতির উদহারণ কল্পনা করেন, ধরা যাক একটি হেরিং এবং  একটি স্কুইড, সম্ভাবনা আছে তাদের যে কোন একটি আরেকটি তুলনায় বেশী মাত্রায় তাদের সাধারণ পুর্বসুরী প্রানীর মত দেখতে হবে, কিন্তু তার মানে কিন্তু এটা বলছে না, এমনটাই হতে হবে। তাদের সাধারন পুর্বসুরী থেকে বিভাজিত হবার পর দুটি প্রজাতি ঠিক একই পরিমান সময় অতিক্রম করেছে, সুতরাং কোন একজন বিবর্তনবাদীর পক্ষে খুব যুক্তিসঙ্গত যে পুর্বধারনাটি  হবার কথা, যদি ন্যুনতম কোন পুর্বধারনা থেকে থাকে, তবে সেটা হলো কোন আধুনিক জীবই একে অপরের সাপেক্ষে প্রিমিটিভ নয়। আমরা হয়তো আশা করতে পারি যে, সাধারন পুর্বসুরী প্রানী থেকে বিভাজিত হবার পর মধ্যবর্তী সময়কালে,উভয় প্রজাতি একই মাত্রায় পরিবর্তিত হয়েছে, কিন্তু ভিন্ন দিকে; এই প্রাকধারনা, বাস্তবে যা ঘটে, মাঝে মাঝে তার নিয়ম ভাঙ্গে ( যেমন বানর আর কেচোদের ক্ষেত্রে), কিন্তু কোন আবশ্যিক কারন কিন্তু নেই আমরা কেনই বা আশা করবো এমনটাই হতে হবে। উপরন্তু কোন একটি জীবের বিভিন্ন অংশ কিন্তু একই হারে বিবর্তিত হয় না। কোন প্রানী হয়তো তার কোমরের নীচ থেকে প্রিমিটিভ, কিন্তু কোমরের উপর অনেক উচ্চমাত্রায় বিবর্তিত, আরো ভেঙ্গে বললে বলা যায়,  কোন জীব হয়তো তাদের স্থায়ুতন্ত্রের দিক থেকে প্রিমিটিভ, কেউ হয়তো প্রিমিটিভ তার অস্থি কাঠামোয়। বিশেষভাবে লক্ষ্য করুন, প্রিমিটিভ, এই অর্থে যে, তারা তাদের পুর্বসুরীদের মত দেখতে মানে কিন্তু তা সিম্পল বা সাধারণ বোঝায় না ( অর্থাৎ কম জটিল বা কমপ্লেক্স), ঘোড়ার পা কিন্তু মানুষের পায়ের তুলনায় অনেক সরলতর ( পাচটির বদলে সেখানে একটি মাত্র আঙ্গুল আছে যেমন), মানুষের পা কিন্তু বেশী প্রিমিটিভ ( কারন ঘোড়াদের সাথে আমরা যে পুর্বসুরী শেয়ার করি তাদের কিন্তু পাচটি আঙ্গুল ছিল পায়ে, যেমন আমাদের এখন আছে, তাহলে ঘোড়ারা আমাদের চেয়ে বেশী পরিবর্তিত হয়েছে সেক্ষেত্রে), আর এই বিষয়টি আমাদের নিয়ে যাবে আমাদের তালিকার পরবর্তী পয়েন্টে।

৩ বানররা কেচোদের চেয়ে অনেক বেশী বুদ্ধিমান ( অথবা সুন্দরতর, তাদের জীনোম অনেক বড়, তাদের শরীরের গঠন পরিকল্পনা আরো জটিল, ইত্যাদি ইত্যাদি): এধরনের প্রানীবিজ্ঞানীয় অহংকারবোধ খুবই জটিল হয়ে যায় আপনি যখন বিষয়টি বৈজ্ঞানিক অর্থে ব্যবহার করার চেষ্টা করেন, আমি এটা উল্লেখ করেছি শুধুমাত্র তার কারণ হচ্ছে এর অর্থ অন্যান্য অর্থের সাথে বিষয়টিকে সংশয়াচ্ছন্ন করে ফেলে। আর এই সংশয়টি দুর করার উপায় হচ্ছে এটিকে উন্মুক্ত করে দেয়া, আপনি নিশ্চয়ই কল্পনা করতে পারছেন, নানা ধরনের মাপকাঠি দিয়ে আপনি সব জীবদের নানা পর্যায়ে সাজাতে পারেন, শুধুমাত্র যে চারটা মাত্রার কথা বলেছি সেটা ছাড়াও,  তাই এ ধরনের মই এর উপরের ধাপে থাকা কোন জীব একে অপরের চেয়ে উচ্চ শ্রেনীর হতেও পারে আবার নাও হতে পারে। স্তন্যপায়ীদের মগজ স্যালামান্ডারদের মগজ থেকে আকারে বড়, কিন্তু কোন কোন  সালামান্ডারের তুলনায় তাদের জীনোম ছোট।

৪ কেচোর তুলনায় বানররা মানুষের মত বেশী দেখতে: বানর আর কেচোর এই উদহারনের প্রেক্ষিতে এটা অস্বীকার করার কোন উপায় নেই, কিন্তু কি এসে যায় তাতে, কেনই বা আমরা মানুষকে বেছে নিচ্ছি শ্রেষ্ঠত্বর মাপকাঠি হিসাবে যার সাথে আমরা সব প্রানীদের তুলনা বা বিচার করতে পারি? একটা ক্ষুদ্ধ জোক  (Leech) হয়তো দেখিয়ে দিতে পারে একটা কেচো মানুষের মত না দেখতে হয়ে জোকের মত দেখতে হয়েছে সেটা তার বিশেষ গুন। প্রানীদের মহান শৃঙ্খল এ মানুষের ঐতিহ্যবাহী চিরাচরিত অবস্থান হচ্ছে ফেরেস্তা আর  বাকী সব জীবদের মধ্যখানে, আসলেই কোন বিবর্তনী যৌক্তিকতার অস্তিত্ব নেই  এই সাধারন ধারনাটির যা দাবী করছে বিবর্তন কোন না কোন ভাবে মানুষের দিকে বহমান বা মানুষ হচ্ছে বিবর্তনের শেষ কথা, বিস্ময়করভাবে খুব প্রচলিত  এই মিথ্যা ধারনাটি, প্রায়ই আমাদের চিন্তাকে আচ্ছন্ন করে ফেলে, এর খুব স্থুল স্তরে আপনি এটি খুজে পাবেন সর্বব্যাপী কথোপকথনে, যদি শিম্পান্জিরা বিবর্তিত হয়, তারা রুপান্তরিত হয় মানুষে, তাহলে কিভাবে এখনও শিম্পান্জিরা আছে? আমি ইতিমধ্যেই বিষয়টি উল্লেখ করেছি, আমি ঠাট্টা করছিনা, আমি বার বার এই প্রশ্নটার মুখোমুখি হয়েছি, প্রায়ই আপাতদৃষ্টিতে সুশিক্ষিত মানুষদের কাছ থেকেই[1]

৫ বানররা ( এবং অন্য উচ্চশ্রেনীর প্রানীরা) কেচোদের (অন্য নিম্ন শ্রেনীর প্রানীদের) তুলনায় বেচে থাকতে বেশী দক্ষ: না, এর কোন বোধগম্যতা নেই, এমনকি এটি সত্যি হবার কথাও না, সব জীবিত প্রানী বর্তমান সময় অবধি তাদের অস্তিত্ত্ব টিকিয়ে রেখেছে অন্ততপক্ষে। কিছু বানর প্রজাতি, যেমন ধরুন চমৎকার সোনালী তামারিন, যাদের বিলুপ্ত হবার সম্ভাবনা অনেক বেশী। তারা কেচোদের তুলনায় বেচে থাকায় দক্ষ নয়, ইদুর আর তেলাপোকা খুবই ভালোভাবে বংশ বৃদ্ধি করে বেচে আছে, যদিও অনেক মানুষই তাদের নিম্নশ্রেনীর প্রানী বলেই মনে করেন গরিলা আর উরাং উটানদের তুলনায়, যে প্রজাতির খুব বিদজ্জনক একটি অবস্থায় আছে বিলুপ্ত হবার সম্ভাবনায়।

আশা করি, আমি যথেষ্ট বলেছি আধুনিক কোন প্রজাতিকে এভাবে কোন মই এর উপর সাজানো চেষ্টাটা আসলেই কতটা অর্থহীন। যেন এভাবে সাজিয়ে আপনি স্পষ্ট করে বলতে পারবেন আসলে উচ্চতর প্রানী আর নিম্নতর প্রানী বলতে কি বোঝাতে চাইছেন, এবং আমার আগের আলোচনা স্পষ্ট করেছে কেন এ ধরনের কোন প্রচেষ্ঠা ঠিক কি পরিমান বিবর্তনের ধারনা বিরোধী। আমি অনেক অনেক মই এর কথা ভাবতে পারেন, এবং এই সব অসংখ্য মইএর কোন একটার ধাপে আলাদাভাবে হয়তো কোন প্রজাতিকে যদি আপনি রাখতে চান, সেটা কখনো কখনো অর্থবহ হতে পারে, কিন্তু মইগুলো কিন্তু একটার সাথে আরেকটি কোন সম্পর্ক ব্যাখ্যা করতে পারেনা, বা তারা সম্পর্কযুক্তও না ভালোভাবে। কিন্তু কোন মই এর সেই বৈশিষ্ট নেই যা কিনা নিজেকে দাবি করতে পারে বিবর্তনীয় স্কেল হিসাবে। আমরা দেখেছি  সেই ঐতিহাসিক মোটাদাগের ভুল করার প্রবণতা, যেমন, কেন কোন ফ্রনকী (Fronkeys) আমরা দেখতে পাইনা? কিন্তু সেই ভয়ঙ্কর মহান  শৃঙ্খলের ভুল হবার লিগেসীও এই চালেন্জকে মদদ দেয়, কোথায় প্রধান প্রধান গ্রুপের প্রানীদের ইন্টারমিডিয়েট রুপটি? এবং প্রায় সব বিবর্তনবাদীদের সেই কুখ্যাত প্রবণতার.. চালিকা শক্তি, তারা এই চ্যালেন্জ এর উত্তর দেবার জন্য কোন একটি নির্দিষ্ট জীবাশ্ম সবার সামনে তুলে ধরে, যেমন Archeopteryx, সেই বিখ্যাত সরীসৃপ আর পাখীদের ইন্টারমিডিয়েট রুপটি, এসব ছাড়াও আর্কিওপটেরিক্স এর ভ্রান্ত যুক্তির পেছনে আরো কিছু বিষয় কাজ করছে, এবং সেটিও সাধারনভাবে গুরুত্বপুর্ণ। সুতরাং ব্যাপারটা নিয়ে আমি কিছুটা সময় ব্যয় করবো আলোচনায়, বিশেষ করে আর্কিওপটেরিক্স এর উদহারনটাকে ব্যবহার করে।

প্রাণীবিজ্ঞানীরা ঐতিহ্যগতভাবে মেরুদন্ডী প্রানীদের বিভিন্ন শ্রেনীতে বিভক্ত করেছে, প্রধার ডিভিশনগুলো যেমন স্তন্যপায়ী, পাখী, সরীসৃপ এবং উভচরী; কিছু প্রানী বিজ্ঞানী যারা পরিচিত ক্ল্যাডিষ্ট[2] ( Cladist) হিসাবে, তারা দাবী করছেন, সত্যিকারের শ্রেনীবিভাগ সম্ভব সেই সব প্রানীদের নিয়ে যারা কোন একটি সাধারণ পুর্বসুরী প্রানী থেকে বিবর্তিত হয়েছে, অর্থাৎ কমন অ্যানসেস্টর থেকে বিবর্তিত সব প্রানীরাই কেবল এক শ্রেনীতে থাকবে, এবং গ্রুপের বাইরে তাদের কোন উত্তরসুরী থাকবে না। পাখীরা শ্রেনী বা ক্লাসের একটি ভালো উদহারণ হতে পারে[3]। সব পাখীরাই বিবর্তিত হয়েছে একটি প্রজাতি থেকে, যাকে পাখীর মতই বলা যাবে, এবং আধুনিক পাখিদের সাথে তার মুল কিছু বৈশিষ্টসুচক সদৃশ্যতাও আছে, যেমন পালক, ডানা ও ঠোট ইত্যাদী। যে প্রানীরা সাধারণভাবে যাদের সরীসৃপ বলা হয়, তারা কিন্তু সেই অর্থে খুব ভালো কোন শ্রেনী না, কারন ঐতিহ্যবাহী ট্যাক্সোনমী সিস্টেমে অন্তত, এই ক্যাটেগরীটি তাদের শ্রেনী থেকে পাখীদের সুষ্পষ্টভাবে বাদ দিয়েছে ( তারা নিজেদের একটি শ্রেনী গঠন করে), কিন্তু তা সত্ত্বেও কিছু সরীসৃপকে সাধারণভাবেই মনে করা হয় (যেমন কুমির আর ডায়নোসর)পাখীদের নিকটাত্মীয় হিসাবে, অন্য সরীসৃপদের ‍তুলনায় ( যেমন টিকটিকি আর কচ্ছপ), এবং আসলেই কিছু ডায়নোসর অন্য ডায়নোসরদের ‍তুলনায় পাখীদের নিকটাত্মীয় বেশী। রেপটাইল বা সরীসৃপরা তাহলে আসলে একটি কৃত্রিমভাবে সৃষ্টি করা শ্রেনী, কারন পাখীদের সেই শ্রেনী থেকে কৃত্রিম ভাবে বাদ দেয়া হয়েছে। খুব নিয়মতান্ত্রিকভাবে, আমরা যদি সরীসৃপদের সত্যিকারের প্রাকৃতিক একটি শ্রেনী সৃষ্টি করার চেষ্টা করি, তাহলে আমাদের পাখিদের সেখানে যোগ করতে হবে সরীসৃপ হিসাবে। ক্ল্যাডিস্টিক ঘরানার প্রানীবিজ্ঞানীরা সাধারণ সরীসৃপ বা রেপটাইল শব্দটাই ব্যবহার করেননা, এই শ্রেনীটি তারা ভাগ করেছেন দুইভাগে আর্কোসর (Archosaur : কুমির, ডায়নোসর, পাখী), লেপিডোসর ( Lepidosaur: সাপ,লিজার্ড এবং ‍ নিউজীল্যান্ডের দুর্লভ Sphenodon) এবং টেস্টুডাইন (টার্টল ও টরটয়েস); যারা ক্ল্যাডিস্টিক ঘরানার না, এমন প্রানীবিজ্ঞানীরা reptile শব্দটা খুশী মনে ব্যবহার করেন কারণ বর্ণনার করার জন্য শব্দটিকে তারা উপযোগী মনে করেন এমনকি যদিও এটি কৃত্রিমভাবে পাখীদের সেই শ্রেনী থেকে বাদ দিচ্ছে।

কিন্ত পাখীদের কি এমন আছে যা আমাদের তাদের সরীসৃপ থেকে আলাদা করতে ভাবতে প্ররোচিত করে? পাখীদের উপর আলাদা শ্রেনীর সন্মান প্রদাণ করার যৌক্তিকতাটাই বা কি ? যখন তারা বিবর্তনীয় দৃষ্টিকোন থেকে আসলেই সরীসৃপদের একটি শাখা ? আরো একটি ফ্যাক্ট হচ্ছে জীবন বৃক্ষে পাখীদের সবচেয়ে কাছের প্রতিবেশী সরীসৃপরা বিলু্প্ত হয়েছে, অন্যদিকে পাখীরা কেবল শুধু তাদের শ্রেনীটি নিয়ে টিকে আছে। পাখিদের সবচে কাছের আত্মীয়দের আমরা খুজে পাই বহু আগে বিলুপ্ত হওয়া ডায়নোসরদের মধ্যে। যদি ডায়নোসরদের নানা প্রকারের বংশধারা টিকে থাকতো, তাহলে পাখীদের আলাদাভাবে চোখে পড়তো না, তাদের মেরুদন্ডী প্রানীদের মধ্যে আলাদা শ্রেনীতে শ্রেনীবদ্ধ করা হতো না, যে শ্রেনীটা তাদের নিজস্ব। এবং আমরাও এমন কোন প্রশ্ন করতাম না, পাখি আর সরীসৃপদের মধ্যে মিসিং লিঙ্কটা কোথায় ? এখনও যে কোন মিউজিয়ামে আর্কিওপটেরিক্স খুবই চমৎকার একটি জীবাশ্ম  প্রদর্শনের জন্য  কিন্তু সেখানে এটি তার বর্তমান তারকাসলভ ভুমিকাটি পালন করবে না, যা এতদিন ধরে ধরাবাধা উত্তর ছিল সেই প্রশ্নটার ( যা আমরা এখন বুঝতে পারি আসলেই ফাপা একটি চ্যালেন্জ) : ’আমাদের আপনারা ইন্টারমিডিয়েট রুপটা দেখান’; যদি কোন প্রজাতি বিলুপ্ত হবে কি হবে না, সেই ঘটনাটি ভিন্ন হতো, তাহলে বহু ধরনের ডায়নোসরদের এদিক সেদিক দৌড়ে বেড়াতে দেখতাম, কোনটার পালক আছে, কোনটা উড়তে পারে, পাখির মত ঠোট সহ ডায়নোসর যাদের বলা হতো পাখী। এবং আসলেই পালক সহ ডায়নোসর জীবাশ্ম এখন হরহামেশাই খুজ পাওয়া যাচ্ছে,  এখন খুব সুস্পষ্টভাবে বোঝা যাচ্ছে আসলেই ’আপনার মিসিং লিঙ্কটি দেখান’  এই চ্যালেন্জটি আসলেই বড় কোন চ্যালেন্জ না যার উত্তর আর্কিওপটেরিক্স।

আরো সামনে অগ্রসর হওয়া যাক এখন, বিবর্তনের আরো কিছু প্রধান টানজিশন এর দিকে, যেখানে লিঙ্কগুলো অভিযুক্ত করা হয়েছে মিসিং হিসাবে।


[1] সুশিক্ষিত শব্দটি আমাকে Peter Medawar এর বুদ্ধিদ্বীপ্ত পর্যবেক্ষনটির কথা মনে করিয়ে দেয়, মাধ্যমিক ও পরবর্তীতে উচ্চ শিক্ষা একটি বিশাল সংখ্যক জনসংখ্যার সৃষ্টি করেছে, প্রায়শই তাদের জ্ঞানগত ও সাহিত্যের ‍রুচিবোধও উন্নতমানের, যাদের শিক্ষা দেয়া হয়েছে তাদের কোন ধরনের বিশ্লেষনী চিন্তা করার যা দক্ষতা তার চেয়ে বহুগুনে বেশী। অমুল্য নয় কি মন্তব্যটা। এই ধরনের লেখাই আমাকে প্ররোচিত করে রাস্তায় দৌড়ে বের হয়ে কারো সাথে লেখাটা ভাগ করে নেই – যেকোন কারো সাখে – কারন এটি নিজের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার ঠিক নয় এর অতি আসাধারণেত্বের জন্য।

[2] ক্ল্যাড শব্দটি, যার অর্থ প্রানীদের একটি গ্রুপ যাদের ধারনা করা হয় সবাই একটি কমন পুর্বসুরীর প্রানীর বিবর্তনীয় উত্তরসুরী।

[3] অন্ততপক্ষে প্রানী বিজ্ঞানীদের ঐক্যমতানুসারে এবং আমি পাখি বা বার্ড শব্দটা ব্যবহার করেছিলাম, তর্কের খাতিরে, একটি ভালো শ্রেনীর উদহারন আছে। সাম্প্রতিক জীবাশ্ম গবেষনায় আমরা দেখেছি, বেশ কয়েকটি পালকসহ ডায়নোসরদের সন্ধান মিলেছে, এবং ব্যপারটা উন্মুক্ত যে কোন কারো জন্য দাবী করা যে কিছু আধুনিক প্রানী যাদের আমরা পাখি বলি, তারা বিবর্তিত হয়েছে একটি ভিন্ন গ্রুপের পালক সহ ডায়নোসরদের থেকে ( অন্য ডায়নোসর থেকে না);যদি সব আধুনিক পাখিরা সবচেয়ে সাম্প্রতিক কমন পুর্বসুরী যদি হয় এমন কোন প্রাণী, যাকে পাখি হিসাবে শ্রেনীভুক্ত করা যাবে না, তাহলে আমার বক্তব্যটা আবার নতুন করে সম্পাদিত করতে হবে, যে পাখিরা আসলে একটা সম্পুর্ণ শ্রেণীর প্রতিনিধিত্ব করছে।

 __________________________চলবে

Advertisements
রিচার্ড ডকিন্স এর দি গ্রেটেষ্ট শো অন আর্থ : ষষ্ঠ অধ্যায় (দ্বিতীয় পর্ব)

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s