রিচার্ড ডকিন্স এর দি গ্রেটেষ্ট শো অন আর্থ : ষষ্ঠ অধ্যায় (প্রথম পর্ব)

Pseudobiceros-gloriosus3
ছবি: Turbellarians বা ফ্লাট ওয়ার্ম; ওয়ার্ম (Worm) বা কেচোদের এই বিশাল পর্ব বা ফাইলামটির মধ্যে আছে পরজীবি ফ্লুক (fluke) আর টেপ ওয়ার্ম (tape worm) বা ফিতা কৃমিরাও, চিকিৎবিজ্ঞানে তারা গুরুত্বপুর্ণ একটি বিষয় স্বভাবত কারনেই। উপরের ছবিটি এদের একটি স্বাধীনভাবে বাচতে সক্ষম বা পরজীবি নয় এমন গ্রুপ, টারবেলারিয়ান ওয়ার্ম দের( Turbellarian) ছবি। এদের প্রায় ৪০০০ প্রজাতি আছে।  সব স্তন্যপায়ী প্রজাতি একসাথে করলে সেই সংখ্যা তার প্রায় সমান হয়। এদের কোন কোন টারবেলারিয়ান আসলে দারুন সুদর্শন, যেমন উপরের দুটি প্রজাতি। পানিতে এবং স্থলে দুটি জায়গায় তাদের দেখা যায় সাধারণত। খুব সম্ভবত বহু দীর্ঘ ধরেই তাদের ব্যপকভাবে উপস্থিতি । সে কারনে আপনি হয়তো আশা করবেন, আমরা তাদের বেশ জীবাশ্ম পাবো, সমৃদ্ধ হবে তাদের জীবাশ্ম ভান্ডার। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে, সেখানে প্রায় কিছুই নেই। অল্প কিছু অস্পষ্ট জীবাশ্ম নমুনা ছাড়া একটাও ফ্লাট ওয়ার্ম এর জীবাশ্ম আমরা খুজে পাইনি। আপনি যদি ওয়ার্ম দের বিবর্তন এর কথা ভাবেন, প্লাটিহেলমিনথেস রা ওয়ার্মদের বিবর্তনের ক্ষেত্রে অনেক অগ্রবর্তী একটি অবস্থা যখন এটি প্রথম বারের মত আবির্ভুত হয়। মনে হতে পারে তাদের কে যেন এখানে হঠাৎ করে প্রতিস্থাপিত করেছে কোন বিবর্তনীয় ইতিহাস ছাড়াই। কিন্তু এই ক্ষেত্রে তাদের একেবারে প্রথমবারের মত আবির্ভুত হয় ক্যামব্রিয়ান পর্বে না বরং আজকেই। আপনি কি বুঝতে পারছেন এর অর্থ কি, বা অন্ততপক্ষে কোন সৃষ্টিবাদীর কাছে এর কি হওয়া উচিৎ। সৃষ্টিবাদীরা বিশ্বাস করে যে এই ফ্ল্যাট ওয়ার্মরা অন্য সব প্রানীদের সাথে সেই একই সপ্তাহে সৃষ্টি করা হয়েছিল। এবং মধ্যবর্তী অগনিত শতাব্দী ধরে যখন সব হাড়যুক্ত আর খোলস যুক্ত প্রানীরা তাদের জীবাশ্ম তৈরী করেছিল হাজারে হাজারে, ফ্ল্যাট ওয়ার্মও নিশ্চয়ই সেই সময় তাদের সাথে বসবাস করতো, তবে তারা তাদের উপস্থিতির কোন চিহ্ন রাখেনি পাথরে। তাহলে কি, এমন বিশেষত্ব আছে যে প্রানীরা জীবাশ্ম তৈরী করতে পারে তাদের জীবাশ্ম রেকর্ডে শুন্যস্থানগুলোয়, বিশেষ করে যখন ফ্ল্যাট ওয়ার্ম এর অতীত ইতিহাস জুড়ে আছে এমন বড় একটি শুন্যস্থান।  সৃষ্টিবাদীদের নিজস্ব ব্যাখ্যা অনুযায়ী, যদি ফ্ল্যাট ওয়ার্মরা সেই একই পরিমান সময় ধরেই বেচে ছিল? যদি ক্যামব্রিয়ান পর্বের আগের শুন্যস্থানকে যদি ব্যবহার করা হয় প্রমান হিসাবে যে বেশীর ভাগ প্রানীরা ক্যামব্রিয়রান পর্বেই যেন আবির্ভুত হয়েছে হঠাৎ করে, তখন ঠিক সেই একই যুক্তি ব্যবহার করতে হবে প্রমান করতে যে এই মাত্র গতকালই ফ্ল্যাট ওয়ার্মদের সৃষ্টি করা হয়েছে। অথচ এটাই সৃষ্টিবাদীদের বিশ্বাসের সাথে সংঘর্ষ সৃষ্টি করে, কারন তারা বিশ্বাস করে এই ফ্ল্যাট ওয়ার্মদেরও বাকী সব প্রানীদের মত ঈশ্বর তার সেই বিশেষ একটি সৃজনশীল সপ্তাহে সৃষ্টি করেছিলেন। আপনি তো আপনার খেয়ালখুশী মত কোন যুক্তি দিতে পারেন না। আর এই যুক্তিটি এক ধাক্কায় জীবাশ্ম রেকর্ডে প্রি ক্যামব্রিয়ান শুন্যস্থান নিয়ে সৃষ্টিবাদীদের বিবর্তনের বিরুদ্ধে সাজানো কেসের ভিত্তিকেই দুর্বল করে দেয়। (ছবি সুত্র: http://www.starfish.ch/c-invertebrates/flatworms.html)

রিচার্ড ডকিন্স এর দি গ্রেটেষ্ট শো অন আর্থ :  ষষ্ঠ অধ্যায় (প্রথম পর্ব)
( অনুবাদ প্রচেষ্টা: কাজী মাহবুব হাসান)

The Greatest Show on Earth: The evidence for evolution by Richard Dawkins

 প্রথম অধ্যায়
দ্বিতীয় অধ্যায়
তৃতীয় অধ্যায় ( প্রথম পর্ব)  তৃতীয় অধ্যায় ( দ্বিতীয় পর্ব)তৃতীয় অধ্যায় ( শেষ পর্ব)
চতুর্থ অধ্যায় (প্রথম পর্ব) | চতুর্থ অধ্যায় (দ্বিতীয় পর্ব)
চতুর্থ অধ্যায় (তৃতীয় পর্ব) | চতুর্থ অধ্যায় ( শেষ পর্ব)
পঞ্চম অধ্যায়: প্রথম পর্ব | পঞ্চম অধ্যায়: দ্বিতীয় পর্ব |
পঞ্চম অধ্যায়: তৃতীয় পর্ব | পঞ্চম অধ্যায়: শেষ পর্ব

 মিসিং লিঙ্ক ? ঠিক কি বোঝাতে চাইছেন আপনি ’মিসিং’ শব্দটি দিয়ে?

ক্রিয়েশনিষ্ট বা সৃষ্টিবাদীদের জীবাশ্ম রেকর্ড বিষয়টির প্রতি একধরনের গভীর ভালোবাসা আছে, কারন তাদের একটি মন্ত্র শেখানো হয়েছে ( এবং এক অপরকেও তারা তা শেখায়), যা তারা পুনরাবৃত্তি করে বার বার, সেই মন্ত্রটি হচ্ছে, জীবাশ্ম রেকর্ডে বহু শুন্য স্থান আছে, যেমন তাদের প্রশ্ন, ‘কোথায় আমাকে দেখান আপনারা, অন্তবর্তীকালীন বা  ইন্টারমিডিয়েট কোন প্রজাতির উদহারণ।’ তাদের খুব পছন্দ (আসলেই খুবই পছন্দ) কল্পনা করা যে, এই শুন্যস্থানগুলো নিয়ে কোন প্রশ্ন নিশ্চয়ই বিবর্তনবাদীদের বিব্রতকর কোন পরিস্থিতিতে ফেলো দেবে। আর আসলেই আমরা যারা বিবর্তনবাদ নিয়ে কথা বলি, তারা জানেন যে, আমরা যে কোন জীবাশ্ম খুজে পেয়েছি সেটাই তো খুব ভাগ্যের ব্যাপার – কিন্তু  ইতিমধ্যে যে বিশাল জীবাশ্মর সম্ভার আমরা খুজে পেয়েছি বিবর্তনের ইতিহাসকে লিপিবদ্ধ করার জন্য – তাদের মধ্যে বহু প্রজাতির জীবাশ্ম আছে, যা যে কোন মানদন্ডতেই চমৎকার উদহারণ হতে পারে ইন্টাররমিডিয়েট বা অন্তর্বতীকালীন কোন জীবাশ্ম প্রজাতির। আমি অধ্যায় ৯ ও ১০ এ প্রয়োজনীয় যুক্তি দেবো, কেন আমাদের আসলেই কোন জীবাশ্মর দরকার নেই, বিবর্তন যে সত্যি সেটা প্রদর্শন করার জন্য। বিবর্তনের পক্ষে সকল প্রমানই পুরোপুরিভাবে নিরাপদ, এমন কি যদি একটি প্রজাতির প্রানীর মৃতদেহ কোনদিনও জীবাশ্মীভুত না হতো। আসলেই জীবাশ্ম আমাদের জন্য বাড়তি একটা বোনাসের মত, আসলেই আমাদের হাতে আছে নানা জীবাশ্মর সমৃদ্ধ খনি, যাদের প্রতিদিনই আমরা খুজে পাচ্ছি। বহু বড় গ্রুপের প্রানীদের বিবর্তনেন স্বপক্ষে জীবাশ্ম প্রমান অত্যন্ত চমৎকারভাবে শক্তিশালী। তাস্বত্ত্বেও কিছু শুন্যস্থান আছে, যা সৃষ্টিবাদীরা ভালোবাসে তীব্রভাবে।

আবার আমরা সেই তুলনামুলক উদহারনটি ব্যবহার করি, চাক্ষুষ স্বাক্ষীহীন বা প্রত্যক্ষদর্শী কারো অনুপস্থিতিতে  একজন গোয়েন্দার অপরাধ স্থল পর্যবেক্ষন করার সেই উপমাটি। ব্যারোনেটকে গুলি করে মারা হয়েছে, হাতের ছাপ,পায়ের ছাপ, পিস্তলে ঘামের দাগ থেকে সংগৃহীত ডিএনএ এবং শক্তিশালী মোটিভ ইঙ্গিত করছে অপকর্মটি করেছে তার বাটলার। মোটামুটি স্পষ্ট একটি কেস। এবং আদালেতে সবাই ও জুরিরা নিশ্চিৎ কাজটি ঘটিয়েছে বাটলার, সে ছাড়া আর কেউ না।  কিন্তু  একেবারে শেষ মুহুর্তে একটি গুরুত্বপুর্ণ প্রমান খুজে পাওয়া গেল, ঠিক জুরীরা তাদের রায় নিয়ে চিন্তাভাবনা করার আগ মুহুর্তে, যারা মোটামুটি নিশ্চিৎ বাটলারকে দোষী করে তাদের মতামতে পৌছানো শুধু সময়ের ব্যাপার। সেই মুহর্তে কেউ মনে করতে পারলেন যে, ব্যারনেট চোর ডাকাতের হাত থেকে বাচার জন্য তার ঘরে গোপন স্পাই ক্যামেরা লাগিয়েছিলেন কয়েকদিন আগে। শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতির মধ্যে আদালতে সবাই সেই ক্যামেরায় ধারণকৃত ভিডিও ফুটেজ দেখলেন। তাদের একটিতে দেখা যাচ্ছে বাটলার রান্নাঘরের একটি ড্রয়ার খুলে পিস্তল বের করে সেটিতে বুলেট ভরছে, তারপর খুব সন্তর্পনে সেই ঘর থেকে বের হলেন, তার চোখে তখন ক্রুর কারো ক্ষতি করার মানসিকতা প্রকাশ করার একটি দৃষ্টিভঙ্গী। আপনি হয়তো ভাববেন, এটাই তো যথেষ্ট বাটলারের বিরুদ্ধে এই কেসটি আরো শক্তভাবে প্রমান করার জন্য। এর পরের ঘটনাটা তাহলে লক্ষ্য করুন। বাটলারের ডিফেন্স উকিল বুদ্ধিমান সতর্কতার সাথে কোর্টে যুক্তি দেন, লাইব্রেরীতে তো কোন স্পাই ক্যামেরা নেই, যেখানে ঘটনাটি ঘটেছে। এছাড়া রান্নাঘর থেকে বের হয়ে যাবার সেই করিডোরেও কোন স্পাই ক্যামেরা নেই। তিনি তার আঙ্গুল নাচিয়ে কোর্ট ভর্তি মানুষকে বিশ্বাস করানোর আইনজীবি সুলভ জোরালো বক্তব্য দিলেন, এই ভিডিও রেকর্ড এ আমরা গ্যাপ বা শুন্যস্থান দেখতে পাচ্ছি, আমরা জানি না রান্নাঘর থেকে বের হবার পর কি ঘটেছিল। এবং আমার মক্কেলকে নিশ্চিৎভাবে দোষী সাব্যস্ত করার জন্য প্রয়োজনীয় প্রমানের ঘাটতি আছে এখানে।

কিছুটা ব্যর্থ প্রচেষ্টায় বাদী পক্ষের উকিল জানালেন যে, এটা ছাড়াও বিলিয়ার্ড রুমের ক্যামেরা আছে, যেখানে খোলা দরজা দিয়ে আমরা দেখতে পাচ্ছি, পিস্তল হাতে বাটলার পা টিপে টিপে সামনে এগুচ্ছে লাইব্রেরীর দিক বরাবর করিডোরে। নিশ্চয়ই এটি ভিডিও রেকর্ডের সেই শুন্যস্থানে ঘাটতি মেটাবে? নিশ্চয়ই এবার বাটলারের বিরুদ্ধে কেসটি প্রমানিত হবে, কিন্তু না; বিজয় নিশ্চিৎ এমন মানসিকতার সাথে আসামী পক্ষের উকিল তার আসল চালটি খেললেন, আমাদের জানা নেই বিলিয়ার্ড রুমের সেই খোলা দরজা পার হবার পর কি ঘটেছিল,এখন এই ভিডিও রেকর্ডে দুটি শুন্যস্থান আছে। জুরী ভদ্রমহোদয় ও ভদ্রমহিলাগন,আমি আমার কেস আপনাদের সামনে উপস্থাপন করলাম। এখন আমার মক্কেল এর বিরুদ্ধে আগের চেয়েও কম প্রমান আছে।

জীবাশ্ম রেকর্ড ও,এই হত্যা রহস্য উদঘাটনের কাহিনীর স্পাই ক্যামেরার মতই,বাড়তি বা বোনাস প্রমানের সম্ভার। যা আমাদের আশা করার  কোন অধিকারই ছিল না,আমরা যে এত জোরালো প্রমান পেতে পারি সে বিষয়টাই তো ভীষন অপ্রত্যাশিত। স্পাই ক্যামেরার ফুটেজ ছাড়াই আমাদের হাতে যথেষ্ট প্রমান আছে বাটলারকে খুনের দায়ে দোষী সাব্যস্ত করার জন্য। এবং জুরিরা সেই মোতাবেক তাদের রায় দেবার জন্য প্রস্তুতও ছিলেন এই স্পাই ক্যামরার বিষয়টি উদঘাটনের আগেই।

অনুরুপভাবেই, প্রয়োজনের চেয়ে অনেক বেশী প্রমান আছে বিবর্তনের সত্যতা প্রমানের জন্য, আধুনিক প্রজাতিগুলোর তুলনা মুলক গবেষনা ( অধ্যায় ১০), তাদের ভৌগলিক বিস্তার ( অধ্যায় ৯), আমাদের জীবাশ্ম রেকর্ডের কোন দরকার নেই, বিবর্তনের কেসটি ইতিমধ্যে সন্দেহাতীতভাবে প্রমানিত। সুতরাং বিষয়টি আসলেই প্যারাডক্সিকাল বা ধাধা র মত, জীবাশ্ম রেকর্ডে শুন্যস্থান খোজা, আর সেই শুন্যস্থান এমন ভাবে ব্যবহার করা যেমন সেগুলো বিবর্তনের বিরুদ্ধে জোরালো প্রমাণ। আমরা, আগে যা বলেছিলাম, আসলেই ভাগ্যবান যে আমাদের হাতে কোন জীবাশ্ম না থাকার বদলে জীবাশ্ম নমুনার কোন ঘাটতি নেই।

বিবর্তনের বিরুদ্ধে প্রমান কি হতে পারে, খুব শক্তিশালী কোন প্রমান, সেটি হতে পারে কোন ভুল ভুতাত্ত্বিক স্তরে  একটি মাত্র জীবাশ্ম আবিষ্কারের ঘটনা। আমি বিষয়টি অধ্যায় ৪ এ উল্লেখ করেছিলাম, জে বি এস হ্যালডেন তার বিখ্যাত মন্তব্যে বলেছিলেন, যখন তাকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, কোন একটি পর্যবেক্ষনের কথা উল্লেখ করতে যা কিনা বিবর্তন তত্ত্বকে ভুল প্রমান করবে..’প্রি ক্যামব্রিয়ান পর্বে জীবাশ্ম খরগোশ।’ আর এ ধরনের কোন খরগোশ,  সত্যিকারের প্রমানিত সময়ের সাথে কোন একটি মাত্র অসামন্জষ্যপুর্ণ কোন জীবাশ্ম.. মাত্র একটি  জীবাশ্মই কখনো খুজে পাওয়া যায়নি। আমাদের হাতে যে জীবাশ্ম আছে, আর আসলেই  বহু সংখ্যক জীবাশ্ম আছে, কোনটাই সত্যিকারভাবে এই নিয়মের ব্যত্যয় ঘটায়নি, তাদের অনুক্রম সবসময়ই সময়ের সাথেই সামন্জষ্যপুর্ণ। হ্যা অবশ্যই শুন্যস্থান আছে, যেখানে কোন জীবাশ্মর অস্তিত্ব নেই। এবং সেটাই আশা করার কথা। কিন্তু কখনই এমন কোন জীবাশ্মর একটি মাত্র নমুনা পাওয়া যায়নি আজ অবধি যাদের কিনা বিবর্তিত হবার আগে ভুত্বকের অপেক্ষাকৃত প্রাচীনতর কোন স্তরে পাওয়া গেছে। এটি কিন্তু যে জোরালো একটি প্রমান ( এবং কোন কারনই নেই, কেন আমরা সৃষ্টিবাদীদের তত্ত্বে এমন কিছু আশা করবো); যেমনটা আমি অধ্যায় ৪ এ সংক্ষিপ্তভাবে উল্লেখ করেছিলাম, কোন একটি ভালো তত্ত্ব, বৈজ্ঞানিক একটি তত্ত্ব, যা ভুল প্রমান হবার সম্ভাবনা বহন করে, তবে এখনও যা ভুল প্রমান করা সম্ভব হয়নি। বিবর্তনকে খুব সহজেই ভুল প্রমান করা যেতে পারে, যদি শুধু একটি ভুল জীবাশ্ম তার সঠিক সময়ের আগে আবিষ্কৃত হয়। আর বিবর্তন এই পরীক্ষায় অত্যন্ত সফলতার সাথে উত্তীর্ণ হয়েছে। বিবর্তন অবিশ্বাসীরা যারা তাদের দৃষ্টিভঙ্গী প্রমান করার ইচ্ছা পোষন করেন তাদের ‍উচিৎ পাথরের স্তরে মনোযোগ সহকারে খোজা, তাদের সর্বোতভাবে চেষ্টা করা উচিৎ সময়ের সাথে অসামন্জষ্যপুর্ণ কোন জীবাশ্ম খুজে বের করা। হয়তো তারা সেটা খুজে পেতে পারেনও, বাজী রাখতে চান?

জীবাশ্ম রেকর্ডের সবচেয়ে বড় গ্যাপ বা শুন্যস্থানটি যা সৃষ্টিবাদীদের খুব পছন্দের সেটা হলো ক্যামব্রিয়ান এক্সপ্লোশন বা বিস্ফোরণের এর আগের সময়টা। অর্ধ বিলিয়ন বছরের আগের কিছু ঘটনা। ক্যামব্রিয়ান পর্বে বেশীর ভাগ বড় জীবের ফাইলা বা পর্ব, জীবজগতের মুল পর্বগুলো, যেন হঠাৎ করেই জীবাশ্ম রেকর্ডে আবির্ভুত হয়। হঠাৎ করে আবির্ভুত হবার মানে এই অর্থে যে, এই সব প্রানী গ্রুপের কোন সদস্যদের জীবাশ্ম ক্যামব্রিয়ান পর্বের চেয়ে প্রাচীন কোন শিলাস্তরে পাওয়া যায় না। এই হঠাৎ করে আবির্ভুত হবার মানে কিন্তু তাৎক্ষকনিকভাবে না। যে সময় পর্বের কথা আমরা বলছি সেটার ব্যপ্তি প্রায় ২০ মিলিয়ন বছর। ২০ মিলিয়ন বছরকে খুব কম সময়ই মনে হয় যখন এটি অর্ধ বিলিয়ন বছর আগের একটি সময়। কিন্তু অবশ্যই, আজ যেমন ২০ মিলিয়ন বছর, বিবর্তনের জন্য সেটাও ঠিক একই পরিমান সময়ই ছিল, যাই হোক, তারপরও ব্যাপারটা বেশ হঠাৎ করেই ঘটেছিল এমন প্রমানই মেলে। যেমনটি আমি আমার আগেরএকটি বইয়ে লিখেছিলাম, ক্যামব্রিয়ান পর্বে আমরা বেশ কিছু প্রধান প্রধান প্রাণী গ্রুপের দেখা পাই,

যারা ইতিমধ্যেই বিবর্তনের ক্ষেত্রে বেশ অগ্রসর একটি অবস্থানে অবস্থান করছে, যখন তাদের আমরা প্রথমবারের মত জীবাশ্ম রেকর্ডে আবির্ভুত হতে দেখি। দেখে মনে হতে পারে তাদের সেখানে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, বিবর্তনীয় কোন ইতিহাস ছাড়াই। বলাবাহুল্য যে এই হঠাৎ করে আবির্ভুত হবার ব্যাপারটি সৃষ্টিবাদীদের দারুন আনন্দিত করে।

শেষ বাক্যটি কিন্তু নির্দেশ করছে, সৃষ্টিবাদীরা যে ক্যামব্রিয়ান এক্সপ্লোশন পছন্দ করতে পারেন সেটা সম্বন্ধে আমি জ্ঞান রাখি। কিন্তু যেটা আমার জানা ছিলনা (১৯৮৬ সালে সেই সময়), আর আমার বোঝার কোন উপায় ছিল না যে, সৃষ্টিবাদীরা অত্যন্ত আনন্দের সাথে আমার লেখা মন্তব্য আমার দিকেই আবার ফিরিয়ে দেবে তাদের মতামতের স্বপক্ষে প্রমান হিসাবে। বার বার, সতর্কতার সাথে আমার আমার সতর্ক ব্যাখ্যাটিকে সম্পুর্ণ অবজ্ঞা করে। খানিকটা খেয়ালের বশে আমি ওয়েব এ খুজে দেখেছিলাম ‘It is as though they were just planted there, without any evolutionary history’ আমার এই মুল উদ্ধৃতিটি, আমি সেখানে কমপক্ষে ১২৫০ টি হিট খুজে পাই। এই হাইপোথিসিসটির খানিকটা স্থুল একটি কন্ট্রোল টেষ্ট হিসাবে আমি খুজে পেলাম এদের সিংহভাগই সৃষ্টিবাদীদের উদ্ধৃতি সংগ্রহের অংশ হিসাবে। তুলনামুলক একটি আলোচনা হিসাবে বাক্যটির পরের সংযুক্ত অংশটি আমি খুজে দেখার চেষ্টা করলাম। উদ্ধৃতিটি ছিল আমার দি ব্লাইন্ড ওয়াচমেকার বইটিতে: ‘Evolutionists of all stripes believe, however, that this really does represent a very large gap in the fossil record’ (বিভিন্ন মতাবলম্বীর বিবর্তনবাদীরা অবশ্য মনে করেন এই সময়টি আসলে কোন বড় শুন্যস্থানকে প্রতিনিধিত্ব করছে ); আমি মোট ৬৩টি হিট পেলাম, এর আগের বাক্যের ১২৫০ টি হিটের তুলনায় ৬৩ টি হিট,পরের গুরুত্বপুর্ণ বাক্যটির জন্য, ১২৫০ এর সাথে ৬৩ র অনুপাত ১৯.৮; আমরা হয়তো এই অনুপাতটিকে বলতে পারি, কোট মাইনিং ইনডেক্স।

ক্যামব্রিয়ান এক্সপ্লোশন নিয়ে আমি বিস্তারিত আলোচনা করেছি বিশেষ করে আনউইভিং দ্য রেইনবো (Unweaving the rainbow) বইটিতে। এখানে আমি শুধু আরো একটি বিষয় যোগ করবো, যার চমৎকার উদহারণ হতে পারে ফ্ল্যাট ওয়ার্ম  (Flat worm) বা প্লাটিহেলমিনথেসরা (Platyhelminthes)। কেচোদের এই বিশাল পর্ব বা ফাইলামটির মধ্যে আছে পরজীবি ফ্লুক (fluke) আর টেপ ওয়ার্ম (tape worm) বা ফিতা কৃমিরাও, চিকিৎবিজ্ঞানে তারা গুরুত্বপুর্ণ একটি বিষয় স্বভাবত কারনেই। আমার পছন্দেরটি যদিও একটি স্বাধীনভাবে বাচতে সক্ষম বা পরজীবি নয় টারবেলারিয়ান ওয়ার্মরা ( Turbellarian)। এদের প্রায় ৪০০০ প্রজাতি আছে।  সব স্তন্যপায়ী প্রজাতি একসাথে করলে সেই সংখ্যা তার প্রায় সমান হয়। এদের কোন কোন টারবেলারিয়ান আসলে দারুন সুদর্শন, যেমন উপরের দুটি প্রজাতি। পানিতে এবং স্থলে দুটি জায়গায় তাদের দেখা যায় সাধারণত। খুব সম্ভবত বহু দীর্ঘ ধরেই তাদের ব্যপকভাবে উপস্থিতি । সে কারনে আপনি হয়তো আশা করবেন, আমরা তাদের বেশ জীবাশ্ম পাবো, সমৃদ্ধ হবে তাদের জীবাশ্ম ভান্ডার। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে, সেখানে প্রায় কিছুই নেই। অল্প কিছু অস্পষ্ট জীবাশ্ম নমুনা ছাড়া একটাও ফ্লাট ওয়ার্ম এর জীবাশ্ম আমরা খুজে পাইনি।

Pseudobiceros-gloriosus3 (1)

25-12-2013 6-02-42 PM

ছবি: উপরে Glorious Flatworm – Pseudobiceros gloriosus

আপনি যদি ওয়ার্ম দের বিবর্তন এর কথা ভাবেন, প্লাটিহেলমিনথেস রা ওয়ার্মদের বিবর্তনের ক্ষেত্রে অনেক অগ্রবর্তী একটি অবস্থা যখন এটি প্রথম বারের মত আবির্ভুত হয়। মনে হতে পারে তাদের কে যেন এখানে হঠাৎ করে প্রতিস্থাপিত করেছে কোন বিবর্তনীয় ইতিহাস ছাড়াই। কিন্তু এই ক্ষেত্রে তাদের একেবারে প্রথমবারের মত আবির্ভুত হয় ক্যামব্রিয়ান পর্বে না বরং আজকেই। আপনি কি বুঝতে পারছেন এর অর্থ কি, বা অন্ততপক্ষে কোন সৃষ্টিবাদীর কাছে এর কি হওয়া উচিৎ। সৃষ্টিবাদীরা বিশ্বাস করে যে এই ফ্ল্যাট ওয়ার্মরা অন্য সব প্রানীদের সাথে সেই একই সপ্তাহে সৃষ্টি করা হয়েছিল। এবং মধ্যবর্তী অগনিত শতাব্দী ধরে যখন সব হাড়যুক্ত আর খোলস যুক্ত প্রানীরা তাদের জীবাশ্ম তৈরী করেছিল হাজারে হাজারে, ফ্ল্যাট ওয়ার্মও নিশ্চয়ই সেই সময় তাদের সাথে বসবাস করতো, তবে তারা তাদের উপস্থিতির কোন চিহ্ন রাখেনি পাথরে। তাহলে কি, এমন বিশেষত্ব আছে যে প্রানীরা জীবাশ্ম তৈরী করতে পারে তাদের জীবাশ্ম রেকর্ডে শুন্যস্থানগুলোয়, বিশেষ করে যখন ফ্ল্যাট ওয়ার্ম এর অতীত ইতিহাস জুড়ে আছে এমন বড় একটি শুন্যস্থান।  সৃষ্টিবাদীদের নিজস্ব ব্যাখ্যা অনুযায়ী, যদি ফ্ল্যাট ওয়ার্মরা সেই একই পরিমান সময় ধরেই বেচে ছিল? যদি ক্যামব্রিয়ান পর্বের আগের শুন্যস্থানকে যদি ব্যবহার করা হয় প্রমান হিসাবে যে বেশীর ভাগ প্রানীরা ক্যামব্রিয়রান পর্বেই যেন আবির্ভুত হয়েছে হঠাৎ করে, তখন ঠিক সেই একই যুক্তি ব্যবহার করতে হবে প্রমান করতে যে এই মাত্র গতকালই ফ্ল্যাট ওয়ার্মদের সৃষ্টি করা হয়েছে। অথচ এটাই সৃষ্টিবাদীদের বিশ্বাসের সাথে সংঘর্ষ সৃষ্টি করে, কারন তারা বিশ্বাস করে এই ফ্ল্যাট ওয়ার্মদেরও বাকী সব প্রানীদের মত ঈশ্বর তার সেই বিশেষ একটি সৃজনশীল সপ্তাহে সৃষ্টি করেছিলেন। আপনি তো আপনার খেয়ালখুশী মত কোন যুক্তি দিতে পারেন না। আর এই যুক্তিটি এক ধাক্কায় জীবাশ্ম রেকর্ডে প্রি ক্যামব্রিয়ান শুন্যস্থান নিয়ে সৃষ্টিবাদীদের বিবর্তনের বিরুদ্ধে সাজানো কেসের ভিত্তিকেই দুর্বল করে দেয়।

কেন তাহলে, বিবর্তনীয় দৃষ্টিভঙ্গীতে, ক্যামব্রিয়ান পর্বের  আগে এত কম জীবাশ্ম পাওয়া যায়? বেশ, খুব সম্ভবত যে বিশেষ বিষয়গুলো ফ্ল্যাটওয়ার্মদের ক্ষেত্রে ঘটেছে ভুতাত্ত্বিক এই দীর্ঘ সময় থেকে আজ অবধি, সেই একই ফ্যাক্টরগুলো বাকী প্রাণীজগতে জীবাশ্ম তৈরী করার ব্যাপারেও ঘটেছে ক্যামব্রিয়ান পর্বের আগে। সম্ভবত ক্যামব্রিয়ান পর্বের আগের সব প্রাণীরা আধুনিক ফ্ল্যাট ওয়ার্ম এর মতই নরম শরীরের ছিল, হয়তো আধুনিক টারবেলারিয়ানদের মত আকারেও ছোট ছিল, এছাড়া এরপর অর্ধ বিলিয়ন বছর আগে কিছু ঘটেছিল যেমন শক্ত আর খনিজ পদার্থপুর্ণ অস্থিকাঠামো ,যা প্রানীদের জীবাশ্ম হবার ব্যাপারটা  সহজ করেছিল ;

জীবাশ্ম রেকর্ডের শুন্যস্থানে পুর্বের নাম ছিল মিসিং লিঙ্ক। ভিক্টোরিয়ান ইংল্যান্ডে কথাটা বেশ কেতাদুরস্ত ছিল এবং যা টিকে ছিল বিংশ শতাব্দীতেও, এটি টিকে থাকার কারন ছিল ডারউইন এর তত্ত্ব সম্বন্ধে ভ্রান্ত ধারনা। এটি ব্যবহার করা হতো সাধারণত অপমানকর বিদ্রুপ হিসাবে, অনেকটাই সাধারণত কথ্যভাষায় ( যদিও অন্যায়ভাবে) নিয়ানডারথাল শব্দটি যেভাবে ব্যবহৃত হয় সেভাবে।  অক্সফোর্ড ইংলিশ ডিকশনারী শব্দটির প্রতিনিধিত্বকারী উদ্ধৃতি হিসাবে ডি এইচ লরেন্স এর একটি উদ্ধৃতি আছে যেখানে একটি মহিলার কথা বলা হয়েছে যে তার একটি চিঠিতে জানাচ্ছে যে, তার নামে দুর্গন্ধ আছে এবং তিনি আরো বলেন, তুমি শিম্পান্জি আর মিসিং লিংক এর শংকর একটি প্রানী।

এর মুল অর্থ, বেশ ঘোলাটে, আমি সেটা ব্যাখ্যা করবো, যা দাবী করছে ডারউইনীয় তত্ত্বে মানুষ এবং প্রাইমেটদের মধ্যে গুরুত্বপুর্ণ সংযোগটি নেই; অভিধানে ব্যবহৃত আরো একটি বানী, ভিক্টোরীয় যুগের, শব্দটিকে ব্যবহার করেছে এভাবে, আমি কিছু মিসিং লিঙ্ক এর কথা শুনেছি, মানুষ আর পাগীদের মধ্যে ( পাগী, স্কট ভাষায় একটি ডায়ালেক্ট এর অর্থ বানর), ইতিহাস অস্বীকারকারীরা, আজও,খুব ভালোবাসেন বলতে, যা তারা কল্পনা করেন বিদ্রুপাত্মক কন্ঠস্বরে: কিন্তু আপনারা তো এখনও মিসিং লিঙ্ক খুজে পাননি। যেমন তারা প্রায়ই পিল্টডাউন (Piltdown) ম্যান নিয়ে একটা খোচা দিয়ে থাকেন। কেউ জানে না কে পিল্টডাউন (Piltdown) গুজব এর সুত্রপাত করেছিল, কিন্তু তার অনেক প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে[1]। মানুষ আর এপ জীবাশ্মর প্রথম ক্যান্ডিডেট যে মিথ্যা হিসাবে প্রমানিত হয়েছিল, এই সত্যটি ইতিহাস অস্বীকারকারীদের একটি অজুহাতে রুপান্তরিত হয়েছে, যারা এর কারনে অগনিত জীবাশ্মকে অস্বীকার করেন, যা কোন মিথ্যা নয় এবং তারা এখনও এ ব্যাপারে চিৎকার করা বন্ধ করেনি। যদি তারা বাস্তব স্বাক্ষ্যগুলোর দিকে তাকাতো, তারা খুব শীঘ্রই আবিষ্কার করতো আমাদের এখন যথেষ্ট পরিমান অন্তর্বর্তী কালীন জীবাশ্ম আছে যা আধুনিক মানুষকে তার সাধারণ পুর্বসুরীদের সাথে সংযুক্ত করে, যা শিম্পান্জিদের ও পুর্বসুরী, অর্থাৎ একই পুর্বসুরী প্রানী থকে আমাদের ও শিম্পান্জিদের বংশধারাটি বিবর্তিত হয়েছে। এই বিভাজনের মানুষের দিকে অবশ্য জীবাশ্ম আছে। বিস্ময়করভাবে, এখনও এমন কোন জীবাশ্মর সন্ধান মেলেনি সেই সাধারণ পুর্বসুরী প্রানীটির ( যা শিম্পান্জিও ছিল না আবার মানুষও ছিল না) আধুনিক শিম্পান্জিদের সাথে সংযুক্ত করে। হয়তো এর কারন শিম্পান্জিরা বনে বাস করে, যা জীবাশ্ম তৈরী হবার জন্য উপযুক্ত পরিবেশ না। যদি মিসিং লিঙ্ক নেই বলে কোন আক্ষেপ করারই থাকে, সেটি করার অধিকার আছে মানুষদের না বরং শিম্পান্জীদের।

এবং তাহলে সেটাই, মিসিং লিঙ্ক এর একটি অর্থ।  তথাকথিতভাবে অভিযোগ করা মানুষ আর বাকী প্রানী জগতের মধ্যে শুন্যস্থানটি। সেই অর্থে মিসিং লিঙ্ক, খুব মৃদুভাবে যদি বলি, আর মিসিং নয়, এই বিষয়ে আমি এর পরের অধ্যায়ে আবার ফিরে আসবো, যেখানে বিশেষভাবে মানুষের জীবাশ্ম নিয়ে আলোচনা করেছে।

আরেকটা অর্থ হচ্ছে এই প্রস্তাবিত বা অভিযোগ করা  শুন্যস্থানগুলো বিশেষ করে বড় বড় প্রাণী গ্রুপগুলোর মধ্যে তথাকথিত ট্রানজিশনাল ফর্মগুলোর অনুপস্থিতি যেমন, সরীসৃপ এবং পাখিদের মধ্যে যেমন, অথবা মাছ এবং উভচরীদের মধ্যে। আগে আপনার ইন্টারমিডিয়েট ফর্মগুলো দেখান আমাদের, বিবর্তনবাদীরা প্রায়ই ইতিহাস অস্বীকারদের এ ধরনের চ্যালেন্জ এর উত্তরে এদের সামনে আরকিওপটেরিক্স এর হাড় ছুড়ে দেয়, সেই প্রখ্যাত পাখী আর সরীসৃপদের মধ্যে অন্তর্বতীকালীন ফর্ম। বিষয়টি ভুল আমি যা আপনাদের দেখাবো। আরকিওপটেরিক্স (Archeopteryx) কোন চ্যালেন্জ এর উত্তর না। কারন উত্তর দেবার মত উপযুক্ত কোন চ্যালেন্জ এখানে নেই; আর্কিওপটেরিক্স এর মত একটি বিখ্যাত জীবাশ্ম দেখানে ফ্যালাসী বা ভ্রান্ত যুক্তি সমতুল্য। আসলেই বিশাল সংখ্যক জীবাশ্মর জন্য, খুব জোরালো যুক্তি দেয়া যাবে, তাদের প্রত্যেকটি আসলে কোন না কোন দুটি প্রজাতির ইন্টারমিডিয়েট বা অন্তবর্তীকালীন প্রজাতি। তথাকথিত যে চ্যালেন্জ যা আরকিওপটেরিক্স জবাব দিয়েছে, তা আসলে এখন পুরোনো হয়ে যাওয়া একটি ধারনা। যা একসময় পরিচিত ছিল জীবদের বিশাল শৃঙ্খল হিসাবে বা গ্রেট চেন অব বিইং হিসাবে। এবং এই শিরোনামের অধীনে আমি বিষয়টি নিয়ে এই অধ্যায়ে পরে আলোচনা করবো।

এই সব মিসিং লিঙ্ক চ্যালেন্জ এর সবচেয়ে হাস্যকর উদহারন হলো নীচে বর্ণিত দুটি উদহারণ ( বা তাদেরই কোন ভিন্ন রুপ, কারন এই ভিন্ন রুপের সংখ্যা কম না। প্রথম: যদি মানুষ আসে বানর থেকে ব্যাঙ এবং মাছ অবস্থা পার হয়ে, তাহলে কেন জীবাশ্ম রেকর্ডে আমরা ফ্রনকী ( Fronkey) দেখতে পাইনা? আমি এক ইসলামী সৃষ্টিবাদীকে তিক্তভাবে জিজ্ঞাসা করতে শুনেছি, তাহলে কেন কোন ক্রোকোডাক (Crocoduck) দেখতে পাইনা। এবং দ্বিতীয়, আমি বিবর্তনে বিশ্বাস করবো যখন আমি কোন বানরকে মানুষের বাচ্চা জন্ম দিতে দেখবো, এখানে একজন অন্তত সবাই যে ভুলটা করে সেটাই করেছে, কিন্তু প্রথমটি সে ক্ষেত্রে সেটা ছাড়াও একটা বাড়তি ভুল করেছে, সেটা হচ্ছে বড় কোন বিবর্তন ঘটে রাতারাতি ঘটতে পারে। ঘটনাচক্রে এই সব ফ্যালাসীর দুটি একই সাথে আবির্ভুত হয়েছে পাশাপাশি  লন্ডনে Sunday Times  এ একটি আর্টিকেল পরবর্তী মন্তব্যে, যে আর্টিকেল এর বিষয় ছিল, ডারউইনকে নিয়ে আমার উপস্থাপিত একটি টিভি প্রামাণ্যচিত্র:

ধর্ম নিয়ে ডকিন্স এর মন্তব্য অর্থহীন কারন বিবর্তন নিজেই ধর্মের মত একটা জিনিস। আপনাদের বিশ্বাস করতে হবে আমরা সবাই একটি মাত্র কোষ থেকে বিবর্তিত হয়েছি। এবং একটা শামুক পরিণত হতে পারে বানরে ইত্যাদি, হা হা। আপতত এটি সবচেয়ে হাস্যকর ধর্ম। ( জয়েস, ওয়ারউইকশায়ার,ইউকে)

ডকিন্ম উচিৎ হবে ব্যাখ্যা করা কেন বিজ্ঞানীরা ব্যর্থ হয়েছে মিসিং লিঙ্ক খুজে বের করতে। ভিত্তিহীন বিজ্ঞানে বিশ্বাস করা ঈশ্বরে বিশ্বাস করার চেয়ে আরো বেশী রুপকথার বিষয়; বব,লাস ভেগাস,  ইউ এস এ।

এই  অধ্যায় এই সব সম্পর্কযুক্ত ফ্যালাসীগুলো নিয়ে বিশদ আলোচনা করবে, শুরুতে অবশ্যই সবচেয়ে হাস্যকরটি, কারন এর উত্তর বাকীগুলোর জন্য ভুমিকা হিসাবে কাজ করবে।

আমাদের আপনি আমরা ক্রোকোডাক এর জীবাশ্ম দেখান….’Show me your crocoduck!’

জীবাশ্ম রেকর্ডে কেন আমরা ব্যঙ আর বানরের মিশ্রণ .. বা ( Frog and Monkey) Fronkey দেখি না? বেশ, অবশ্যই তার একটি কারণ বানররা ব্যঙদের থেকে বিবর্তিত হয়নি। কোন সুস্থ বিবর্তনবাদী কখনোই এমন দাবী করবেন না, করেনও নি। কিংবা হাস বা ডাক রাও কুমির থেকে বিবর্তন হয়নি বা এর বীপরিতটা। বানর ও ব্যঙ এর কোন একসময় একজন সাধারণ পুর্বসুরী প্রাণী ছিল, যারা কোনভাবেই ব্যাঙ কিংবা বানরদের মত দেখতে ছিল না। হয়তো তারা দেখতে ছিল সালামান্ডারের মত কিছুটা, এবং আসলেই আমাদের কাছে সালামান্ডারের সদৃশ জীবাশ্ম আছে, যারা ঠিক এই সময়ের প্রতিনিধিত্ব করছে। কিন্তু সেটা মুল বিষয় না, মিলিয়ন মিলিয়ন প্রজাতির প্রতিটি সদস্য একে অপরের সাথে কোন না কোন পুর্বসুরী শেয়ার করে। যদি আপনার বিবর্তন বোঝার দৌড় এমন হয় যে আপনি শুধু ভাবতে পারেন যে, আমার কোন Fronkey বা কোন Crocoduck দেখতে পাবো, তাহলে আপনার উচিৎ  হবে শ্লেষাত্মক আরো মন্তব্য করা, কেন তাহলে doggypotamus বা elephasnzee অনুপস্থিত। আসলেই কেন শুধু নিজেদের স্তন্যপায়ী প্রজাতিদের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখবেন?  তাহলে কেন kangaroach না ( ক্যাঙ্গারু আর তেলাপোকার ইন্টারমিডিয়েট) বা একটি Octopard ( অক্টোপাস আর লেওপার্ড দের মধ্যবর্তী কোন)? এভাবে আপনি অসীম সংখ্যক প্রানীকে জো ড়ায় জোড়ায় গাথতে পারেন।  অবশ্যই হিপপোপটেম্যাস রা কুকুরদের থেকে বিবর্তিত হয়নি, কিংবা এর উল্টোটা। শিম্পান্জিরাও হাতি থেকে আসেনি বা হাতিরা শিম্পান্জিদের থেকে। ঠিকযেমন করে বানররা ব্যাঙ থেকে আসেনি। কোন আধুনিক প্রজাতি কোন আধুনিক প্রজাতি থেকে সরাসরি আসেনি ( আমরা যদি খুব সাম্প্রতিক কোন বিভাজনকে আলোচনায় না আনি); আপনি এমন কোন জীবাশ্ম পাবেন যা কোন ব্যঙ আর বানরের পুর্বসুরী প্রাণীর কাছাকাছি কোন প্রাণী হবে। তেমনি আপনি এমন জীবাশ্মও পাবেন যারা হাতি আর শিম্পান্জির দুর অতীতের সাধারণ পুর্বসুরী। এখানে একটি উদহারণ দেখুন, যার নাম Eomaia, আদি ক্রিটাশিয়াস পর্বে যেটি জীবিত ছিল, ১০০ মিলিয়ন বছরের একটু আগে।

25-12-2013 6-01-26 PM

ছবি: Eomaia scansoria

ছবি: Eomaia scansoria  a, Fur  halo preserved around the skeleton (01-IG-1a, many structures not represented on this slab are  preserved on the  counter-part 01-IG-1b, not illustrated). b, Identification of major skeletal structures of  Eomaiac, Reconstruction of Eomaia as an agile animal, capable of climbing on uneven substrates and  branch walking. 

আপনি ভালো করেই দেখতে পারছেন Eomaia শিম্পান্জির মত কিছু না, তেমনি হাতিদের মত না। এরা খানিকটা দেখতে হালকাভাবে শ্রিউ বা Shrew দের মত দেখতে ; সম্ভবত এটি তাদের আদি পুর্বসুরী প্রানীদের মতই দেখতে ছিল, যার সাথে এটি সমসাময়িক সময়ে বেচে ছিল,   এবং আপনারা দেখতে পারছেন বহু বিবর্তনীয় পরিবর্তন ঘটেছে  এই দুই প্রজাতির ধারায়, কোন একটি Eomaia সদৃশ পুর্বসুরী প্রাণী থেকে কোন হাতি উত্তরসুরীতে  পৌছাতে এবং সেই একই  Eomaia সদৃশ কোন পুর্বসুরী থেকে কোন শিম্পান্জি অবধি আসতে, কিন্তু সেটা কোন অর্থেই এলিফ্যানজী বোঝাচ্ছে না। যদি তাই হয়, তাহলে এটাকে হতে হবে একটি Dogatee, কারন শিম্পান্জি আর হাতির সাধারণ পুর্বসুরী যাই হোক না কেন তারা একটি কুকুর বা ম্যানিতি র পুর্বসুরী হবে। এবং এটি আরো হবে aardvapotamus, কারন একই পুর্বসুরী  aardvark  ও hippopotamus এরও। একারনেই dogatee র মুল ভাবনাটা ( বা  elepahnzee, বা aardvapotamus বা kangaroceros বা buffalion) গভীরভাবে বিবর্তন এর ধারনা বিরোধী এবং হাস্যকর;  একই ভাবে কোন ফ্রনকি, খুবই দুর্ভাগ্যজনক যে এর মুল হোতা, এই নির্বুদ্ধিতার সুচনাকারী, অষ্ট্রেলীয় যাজক জন ম্যাকে ২০০৮ ও ২০০৯ সালে বৃটিশ স্কুলগুলো পরিদর্শন করেছিল একজন ভুতত্ত্ববিদ সেজে, তিনি নিরীহ শিশুদের শিক্ষা দিয়ে বেড়িয়েছেন, বিবর্তন সত্যি হবে যদি জীবাশ্ম রেকর্ড এ আমরা Fronkey দেরে জীবাশ্ম খুজে পাই।

সমপরিমান হাস্যকর উদহারন খুজে পাওয়া যাবে, মুসলিম সৃষ্টিবাদী হারুণ ইয়াহিয়ার সুবিশাল, বিলাসবহুল চাকচিক্যময় বহু চিত্র সম্বলিত ফাপা অজ্ঞতাপুর্ণ বই Atlas of Creation এ; কোন সন্দেহ নেই এই বইটি প্রকাশ করতে বিপুল পরিমান অর্থ ব্যয় করতে হয়েছে, এবং আরো বিস্ময়কর ব্যাপার হচ্ছে বইটি বিনামুল্যে বিতরণ করা হয়েছে হাজার হাজার বিজ্ঞান শিক্ষকদের মধ্যে, তাদের মধ্যে আমিও আছি। অস্বাভাবিক পরিমান অর্থ ব্যয় এর কথা নাহয় বাদই দিলাম, এর মধ্যে বিদ্যমান ভ্রান্ত ধারনাগুলোই কিংবদন্তীতুল্য। মিথ্যা সব উদহারণ প্রতিষ্ঠা করার উদ্দেশ্যে, প্রাচীনতম জীবাশ্মরা যে বর্তমানে জীবিত প্রানীর মত দেখতে  এই দাবীর স্বপক্ষে ইয়াহিয়া একটি সামুদ্রিক সাপ এর ছবি ব্যবহার করেন, ইল হিসাবে ( ইল আর সাপ এতই আলাদা যে তাদের মেরুদন্ডী প্রানীদের দুটি ভিন্ন শ্রেনীতে তাদের রাখা হয়েছে। একটি স্টারফিস কে ব্রিটলস্টার হিসাবে ( আসলেই ভিন্ন শ্রেনীর দুটি ইকাইনোডার্ম), একটি সাবেলিড ( আনেলিড) ওয়ার্মকে দেখানো হয়েছে ক্রিনয়েড সি লিলি ( একটি একাইনোডার্ম, তারা শুধু ভিন্ন পর্বের না, তারা  ভিন্ন ভিন্ন সাব কিংডম এর অন্তর্ভুক্ত। সুতরাং  তাদের যতই সম্পর্কযুক্ত দেখানো হোক না কেন, তারা উভয়ে অবশ্য প্রানী), তবে সবচেয়ে বিখ্যাত উদহারণ একটি মাছ ধরার ফিস ল্যুর বা টোপকে দেখানো হয়েছে ক্যাডিস ফ্লাই হিসাবে।

25-12-2013 5-55-53 PM
 এই ছবি হারুন ইয়াহিয়া ব্যবহার করেছিলেন তার অজ্ঞতাপুর্ণ বইটিতে, এটি আসলে ফিস লিউর, মাছ ধরার টোপ।

কিন্তু এইসব যুদ্ধংদেহী মনোভাবে সমর্থনে দেয়া আজব সব উহদারণের নমুনা ছাড়াও, এই বইটিতে একটি সেকশন আছে মিসিং লিঙ্ক বিষয়ে, একটি ছবি খুবই গুরুত্বসহকারে বোঝানোর চেষ্টা করছে একটি মাছ আর স্টারফিসের মধ্যে কোন ইন্টারমিডিয়েট ফর্ম নেই। আমার বিশ্বাস করতে অসম্ভব মনে হয় যে এই লেখক আসলেই ভেবেছেন বিবর্তনবাদীরা আসলেই এমন দুটি পুরোপুরি ভিন্ন ধরনের প্রানী, স্টারফিস আর মাছের ইন্টারমিডিয়েট ফর্ম খুজে পাবার আশা করতে পারেন। সেকারনে আমি সন্দেহ না করে পারছি না, তিনি হয়তো তার পাঠকদের একটু বেশী ভালো করেই চেনেন। এবং খুব পরিকল্পিত আর উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে তাদের অজ্ঞতাকে অপব্যবহার করার চেষ্টা করছেন।


[1] সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামত সন্দেহ করে যে সৌখিন জীবাশ্মবিদ Charles Dawson, কিন্তু Stephen Jay Gould সম্ভবত বিকল্প তত্ত্বটি প্রস্তাব করেছিলেন যে এটি Pierre Teilhard de Chardin হতে পারেন। আপনি হয়তো Teilhard এর নাম লক্ষ্য করতে পারবেন একজন জেসুইট ধর্মতাত্ত্বিক হিসাবে, যার পরবর্তী বই The Phenomenon of Man সর্বকালের সবচেয়ে বেশী নেতিবাচক পর্যালোচনার সন্মুখীন হয়েছিল, তুলনাহীন Peter Medawar এর নিকট থেকে (পুণ:মুদ্রিত হয়েছে The Art of the Soluble এবং Plutos Republic এ).

 

 __________________________চলবে

Advertisements
রিচার্ড ডকিন্স এর দি গ্রেটেষ্ট শো অন আর্থ : ষষ্ঠ অধ্যায় (প্রথম পর্ব)

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s