রিচার্ড ডকিন্স এর দি গ্রেটেষ্ট শো অন আর্থ : ষষ্ঠ অধ্যায় (প্রথম পর্ব)

Pseudobiceros-gloriosus3
ছবি: Turbellarians বা ফ্লাট ওয়ার্ম; ওয়ার্ম (Worm) বা কেচোদের এই বিশাল পর্ব বা ফাইলামটির মধ্যে আছে পরজীবি ফ্লুক (fluke) আর টেপ ওয়ার্ম (tape worm) বা ফিতা কৃমিরাও, চিকিৎবিজ্ঞানে তারা গুরুত্বপুর্ণ একটি বিষয় স্বভাবত কারনেই। উপরের ছবিটি এদের একটি স্বাধীনভাবে বাচতে সক্ষম বা পরজীবি নয় এমন গ্রুপ, টারবেলারিয়ান ওয়ার্ম দের( Turbellarian) ছবি। এদের প্রায় ৪০০০ প্রজাতি আছে।  সব স্তন্যপায়ী প্রজাতি একসাথে করলে সেই সংখ্যা তার প্রায় সমান হয়। এদের কোন কোন টারবেলারিয়ান আসলে দারুন সুদর্শন, যেমন উপরের দুটি প্রজাতি। পানিতে এবং স্থলে দুটি জায়গায় তাদের দেখা যায় সাধারণত। খুব সম্ভবত বহু দীর্ঘ ধরেই তাদের ব্যপকভাবে উপস্থিতি । সে কারনে আপনি হয়তো আশা করবেন, আমরা তাদের বেশ জীবাশ্ম পাবো, সমৃদ্ধ হবে তাদের জীবাশ্ম ভান্ডার। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে, সেখানে প্রায় কিছুই নেই। অল্প কিছু অস্পষ্ট জীবাশ্ম নমুনা ছাড়া একটাও ফ্লাট ওয়ার্ম এর জীবাশ্ম আমরা খুজে পাইনি। আপনি যদি ওয়ার্ম দের বিবর্তন এর কথা ভাবেন, প্লাটিহেলমিনথেস রা ওয়ার্মদের বিবর্তনের ক্ষেত্রে অনেক অগ্রবর্তী একটি অবস্থা যখন এটি প্রথম বারের মত আবির্ভুত হয়। মনে হতে পারে তাদের কে যেন এখানে হঠাৎ করে প্রতিস্থাপিত করেছে কোন বিবর্তনীয় ইতিহাস ছাড়াই। কিন্তু এই ক্ষেত্রে তাদের একেবারে প্রথমবারের মত আবির্ভুত হয় ক্যামব্রিয়ান পর্বে না বরং আজকেই। আপনি কি বুঝতে পারছেন এর অর্থ কি, বা অন্ততপক্ষে কোন সৃষ্টিবাদীর কাছে এর কি হওয়া উচিৎ। সৃষ্টিবাদীরা বিশ্বাস করে যে এই ফ্ল্যাট ওয়ার্মরা অন্য সব প্রানীদের সাথে সেই একই সপ্তাহে সৃষ্টি করা হয়েছিল। এবং মধ্যবর্তী অগনিত শতাব্দী ধরে যখন সব হাড়যুক্ত আর খোলস যুক্ত প্রানীরা তাদের জীবাশ্ম তৈরী করেছিল হাজারে হাজারে, ফ্ল্যাট ওয়ার্মও নিশ্চয়ই সেই সময় তাদের সাথে বসবাস করতো, তবে তারা তাদের উপস্থিতির কোন চিহ্ন রাখেনি পাথরে। তাহলে কি, এমন বিশেষত্ব আছে যে প্রানীরা জীবাশ্ম তৈরী করতে পারে তাদের জীবাশ্ম রেকর্ডে শুন্যস্থানগুলোয়, বিশেষ করে যখন ফ্ল্যাট ওয়ার্ম এর অতীত ইতিহাস জুড়ে আছে এমন বড় একটি শুন্যস্থান।  সৃষ্টিবাদীদের নিজস্ব ব্যাখ্যা অনুযায়ী, যদি ফ্ল্যাট ওয়ার্মরা সেই একই পরিমান সময় ধরেই বেচে ছিল? যদি ক্যামব্রিয়ান পর্বের আগের শুন্যস্থানকে যদি ব্যবহার করা হয় প্রমান হিসাবে যে বেশীর ভাগ প্রানীরা ক্যামব্রিয়রান পর্বেই যেন আবির্ভুত হয়েছে হঠাৎ করে, তখন ঠিক সেই একই যুক্তি ব্যবহার করতে হবে প্রমান করতে যে এই মাত্র গতকালই ফ্ল্যাট ওয়ার্মদের সৃষ্টি করা হয়েছে। অথচ এটাই সৃষ্টিবাদীদের বিশ্বাসের সাথে সংঘর্ষ সৃষ্টি করে, কারন তারা বিশ্বাস করে এই ফ্ল্যাট ওয়ার্মদেরও বাকী সব প্রানীদের মত ঈশ্বর তার সেই বিশেষ একটি সৃজনশীল সপ্তাহে সৃষ্টি করেছিলেন। আপনি তো আপনার খেয়ালখুশী মত কোন যুক্তি দিতে পারেন না। আর এই যুক্তিটি এক ধাক্কায় জীবাশ্ম রেকর্ডে প্রি ক্যামব্রিয়ান শুন্যস্থান নিয়ে সৃষ্টিবাদীদের বিবর্তনের বিরুদ্ধে সাজানো কেসের ভিত্তিকেই দুর্বল করে দেয়। (ছবি সুত্র: http://www.starfish.ch/c-invertebrates/flatworms.html)

রিচার্ড ডকিন্স এর দি গ্রেটেষ্ট শো অন আর্থ :  ষষ্ঠ অধ্যায় (প্রথম পর্ব)
( অনুবাদ প্রচেষ্টা: কাজী মাহবুব হাসান)

The Greatest Show on Earth: The evidence for evolution by Richard Dawkins

 প্রথম অধ্যায়
দ্বিতীয় অধ্যায়
তৃতীয় অধ্যায় ( প্রথম পর্ব)  তৃতীয় অধ্যায় ( দ্বিতীয় পর্ব)তৃতীয় অধ্যায় ( শেষ পর্ব)
চতুর্থ অধ্যায় (প্রথম পর্ব) | চতুর্থ অধ্যায় (দ্বিতীয় পর্ব)
চতুর্থ অধ্যায় (তৃতীয় পর্ব) | চতুর্থ অধ্যায় ( শেষ পর্ব)
পঞ্চম অধ্যায়: প্রথম পর্ব | পঞ্চম অধ্যায়: দ্বিতীয় পর্ব |
পঞ্চম অধ্যায়: তৃতীয় পর্ব | পঞ্চম অধ্যায়: শেষ পর্ব

 মিসিং লিঙ্ক ? ঠিক কি বোঝাতে চাইছেন আপনি ’মিসিং’ শব্দটি দিয়ে?

ক্রিয়েশনিষ্ট বা সৃষ্টিবাদীদের জীবাশ্ম রেকর্ড বিষয়টির প্রতি একধরনের গভীর ভালোবাসা আছে, কারন তাদের একটি মন্ত্র শেখানো হয়েছে ( এবং এক অপরকেও তারা তা শেখায়), যা তারা পুনরাবৃত্তি করে বার বার, সেই মন্ত্রটি হচ্ছে, জীবাশ্ম রেকর্ডে বহু শুন্য স্থান আছে, যেমন তাদের প্রশ্ন, ‘কোথায় আমাকে দেখান আপনারা, অন্তবর্তীকালীন বা  ইন্টারমিডিয়েট কোন প্রজাতির উদহারণ।’ তাদের খুব পছন্দ (আসলেই খুবই পছন্দ) কল্পনা করা যে, এই শুন্যস্থানগুলো নিয়ে কোন প্রশ্ন নিশ্চয়ই বিবর্তনবাদীদের বিব্রতকর কোন পরিস্থিতিতে ফেলো দেবে। আর আসলেই আমরা যারা বিবর্তনবাদ নিয়ে কথা বলি, তারা জানেন যে, আমরা যে কোন জীবাশ্ম খুজে পেয়েছি সেটাই তো খুব ভাগ্যের ব্যাপার – কিন্তু  ইতিমধ্যে যে বিশাল জীবাশ্মর সম্ভার আমরা খুজে পেয়েছি বিবর্তনের ইতিহাসকে লিপিবদ্ধ করার জন্য – তাদের মধ্যে বহু প্রজাতির জীবাশ্ম আছে, যা যে কোন মানদন্ডতেই চমৎকার উদহারণ হতে পারে ইন্টাররমিডিয়েট বা অন্তর্বতীকালীন কোন জীবাশ্ম প্রজাতির। আমি অধ্যায় ৯ ও ১০ এ প্রয়োজনীয় যুক্তি দেবো, কেন আমাদের আসলেই কোন জীবাশ্মর দরকার নেই, বিবর্তন যে সত্যি সেটা প্রদর্শন করার জন্য। বিবর্তনের পক্ষে সকল প্রমানই পুরোপুরিভাবে নিরাপদ, এমন কি যদি একটি প্রজাতির প্রানীর মৃতদেহ কোনদিনও জীবাশ্মীভুত না হতো। আসলেই জীবাশ্ম আমাদের জন্য বাড়তি একটা বোনাসের মত, আসলেই আমাদের হাতে আছে নানা জীবাশ্মর সমৃদ্ধ খনি, যাদের প্রতিদিনই আমরা খুজে পাচ্ছি। বহু বড় গ্রুপের প্রানীদের বিবর্তনেন স্বপক্ষে জীবাশ্ম প্রমান অত্যন্ত চমৎকারভাবে শক্তিশালী। তাস্বত্ত্বেও কিছু শুন্যস্থান আছে, যা সৃষ্টিবাদীরা ভালোবাসে তীব্রভাবে।

Continue reading “রিচার্ড ডকিন্স এর দি গ্রেটেষ্ট শো অন আর্থ : ষষ্ঠ অধ্যায় (প্রথম পর্ব)”

রিচার্ড ডকিন্স এর দি গ্রেটেষ্ট শো অন আর্থ : ষষ্ঠ অধ্যায় (প্রথম পর্ব)