রিচার্ড ডকিন্স এর দি গ্রেটেষ্ট শো অন আর্থ : পঞ্চম অধ্যায় (তৃতীয় পর্ব)

12
ছবি: জন এন্ডলার এর গাপ্পি এক্সপেরিমেন্ট

0506guppies_b (1)
ছবি: Guppies are small tropical fish native to Trinidad and other areas of the Caribbean. They are characterized by sexual dimorphism in size and color patterns. The color pattern variation of the males (left and right columns) is mostly genetic variation, not environmental. New data indicates that rare-colored males not only attract females (center column), they are also more likely to survive predation.

রিচার্ড ডকিন্স এর দি গ্রেটেষ্ট শো অন আর্থ :  পঞ্চম অধ্যায় (তৃতীয় পর্ব) 
( অনুবাদ প্রচেষ্টা: কাজী মাহবুব হাসান)

The Greatest Show on Earth: The evidence for evolution by Richard Dawkins

 প্রথম অধ্যায়
দ্বিতীয় অধ্যায়
তৃতীয় অধ্যায় ( প্রথম পর্ব)  তৃতীয় অধ্যায় ( দ্বিতীয় পর্ব)তৃতীয় অধ্যায় ( শেষ পর্ব)
চতুর্থ অধ্যায় (প্রথম পর্ব) | চতুর্থ অধ্যায় (দ্বিতীয় পর্ব) | চতুর্থ অধ্যায় (তৃতীয় পর্ব) | চতুর্থ অধ্যায় ( শেষ পর্ব)
পঞ্চম অধ্যায়: প্রথম পর্ব ; দ্বিতীয় পর্ব;

 গাপ্পি..

আমার সহকর্মী ড: জন এন্ডলার, সম্প্রতি যিনি উত্তর আমেরিকা থেকে এক্সেটার বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দিয়েছেন, তিনিই আমাকে পরবর্তীতে বর্ণিত বিস্ময়কর এবং একই সাথে হতাশারে এই গল্পটি বলেছিলেন। তিনি একবার যুক্তরাষ্ট্রের আভ্যন্তরীন বিমানযাত্রার  যাত্রী হিসাবে ভ্রমন করছিলেন, তার পাশের সীটে বসা একজন যাত্রী তার সাথে আলাপ শুরু করেছিলেন তিনি কি করেন তা  জানতে চেয়ে; এন্ডলার এর উত্তরে তাকে জানান তিনি জীববিজ্ঞানের একজন অধ্যাপক, ত্রিনিদাদে বন্য পরিবেশে গাপ্পি মাছদের নিয়ে গবেষনা করেন। মানুষটি ক্রমশই বেশ উৎসাহী হয়ে উঠতে থাকেন তার গবেষনাটি নিয়ে, এবং অনেক কিছু জানতে চান সে বিষয়ে। এই গবেষনার মুলে যে তত্ত্বটি আছে সেটা সম্বন্ধে যেন বিশেষ কৌতুহলী হয়ে উঠলেন তার সহযাত্রী। তিনি এই তত্ত্বটি কি এবং কে আবিষ্কার করেছেন জানতে চান, এন্ডলার এর পর তার সেই বোমাটি ফোটালেন যা তিনি সঠিকভাবে আগেই বুঝতে পেরেছিলেন বেশ ধাক্কা দেবে তার প্রশ্নকর্তাকে  তার উত্তরটি দিয়ে: একে বলে ডারউইনের প্রাকৃতিক নির্বাচনের মাধ্যমে বিবর্তন তত্ত্ব। সাথে সাথে সেই লোকটি সমস্ত আচরণই বদলে যায়, তার মুখ লাল হয়ে উঠলো, হঠাৎ করেই তিনি মুখ ঘুরিয়ে নিলেন, আর কোন কথা বলতে অস্বীকৃতি জানিয়ে এর  কিছুক্ষন আগ অবধি আন্তরিক আলোচনাটি শেষ করে দিলেন। শুধু আন্তরিক বললে ভুল হবে, ড: এন্ডলার এর আমাকে লিখেছিলেন, লোকটি এর আগ পর্যন্ত আমাকে সব অসাধারন প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করছিলেন। মনে হচ্ছিল ভদ্রলোক বেশ আগ্রহের সাথে এবং বুদ্ধিমত্তার সাথে তার যুক্তি বুঝতে পারছেন। আসলেই দু:খজনক।

যে গবেষনার কথা ড: এন্ডলার তার বদ্ধমনের সেই সহযাত্রীকে ব্যাখ্যা করেছিলেন সেটি খুব সরল অথচ গুনগত মানে অসাধারনভাবে অভিজাত।গবেষনাগুলো খুব সুন্দরভাবেই প্রমান করে দেয় কি দ্রুতগতিতে প্রাকৃতিক নির্বাচন তার কাজ করতে পারে। আর আমার মতে এটাই সঠিক হবে যে আমি এন্ডলারের নিজস্ব গবেষনার বিষয়টি এখানে উল্লেখ করবো বিষয়টি ব্যাখ্যা করতে, এছাড়া এন্ডারস Natural Selection in the Wild শীর্ষক একটি বই এরও লেখক, যেখান থেকে এধরনের অনেক গবেষনার উদহারণ সংগ্রহ করা হয়েছে এবং তাদের প্রক্রিয়ার বিষদ বিবরণও দেয়া হয়েছে।

গাপ্পিরা সুপেয় বা মিঠা পানির মাছ, যারা অ্যাকোয়ারিয়ামের জন্য খুবই জনপ্রিয় একটি মাছ। তৃতীয় অধ্যায়ে যেমন আমরা ফিজান্টদের সম্বন্ধে জেনেছি, এই মাছ পরিবারের পরুষরাও খুব উজ্জ্বল রং আর বর্ণিল হয়, তাদের প্রজাতির স্ত্রী সদস্যদের তুলনায়, আর যারা  অ্যাকোরিয়ামের ব্যবসা করেন তারা আরো বর্ণিল আর উজ্জ্বল বর্ণের করে ব্রীড বা কৃত্রিম পজনন করেছেন তাদের। এন্ডলার এর গবেষনা করেছিলেন বুনো গাপ্পি মাছদের উপর (Poecilia reticulata) যারা ত্রিনিদাদ,টেোবাগো আর ভেনেজুয়েলার পাহাড়ী ঝর্ণায় আর নদীতে বসবাস করে। তিনি লক্ষ্য করেছিলেন স্থানীয় জনসংখ্যায় প্রতিটি সদস্য একে অপরের চেয়ে চোখে পড়ার মতই ভিন্ন। আর কোন কোন জনগোষ্ঠীতে পুর্ণবয়স্ক পুরুষ সদস্যরা রঙধণু রঙ এর রাঙানো, কৃত্রিমভাবে অ্যাকোরিয়ামের জন্য ব্রীড করা সদস্যদের মতই প্রায় উজ্জ্বল। তিনি প্রাথমিকভাবে সিদ্ধান্ত নেন, এই পুরুষ গাপ্পিদের পুর্বসুরীদের তাদের উজ্জ্বল রঙ এর জন্য নির্বাচন করেছে স্ত্রী গাপ্পিরা, ঠিক একভাবে যেমন পুরুষ ফিজান্টদের নির্বাচিত করেছে স্ত্রী ফিজান্টরা।এবং অন্য কিছু জায়গায় পুরুষ গাপ্পিরা এত উজ্জ্বল রঙ এ সাজানো না হলেও  স্ত্রী সদস্যদের তুলনায় তাদের উজ্জ্বলতা কোন অংশে কম না। স্ত্রী সদস্যদের মতই, যদিও তারা অপেক্ষাকৃত কম, পাহাড়ী নদী বা ঝর্ণার নীচে বালি আর নুড়ি পাথরের সাথে সহজে রং মিশে ক্যামোফ্লেজ করে লুকিয়ে থাকতে পারে, সাধারণত যেখানে তাদের বসবাস। ভেনেজুয়ালা আর ত্রিনিদাদের বিভিন্ন এলাকায় বাস করা গাপ্পিদের নিয়ে এন্ডলার তার চমৎকার আর বিস্তারিত গানীতিক আর পারস্পরিক তুলনামুলক বিশ্লেষন করে দেখান, যেখানে পুরুষরা অপেক্ষাকৃত কম উজ্জ্বল বর্ণে রঙীন, তাদের বসবাসের সেই পাহাড়ী জলাধারে শিকারী মাছের সংখ্যাও অপেক্ষাকৃত বেশী। আর যে জলধারায় শিকারীর প্রানীর খাদ্য হবার আশঙ্কা খুব কম, সেখানে পুরুষ গাপ্পিরা উজ্জ্বল রঙে বর্ণিল, আকারেও বড়, বড় বড় ছোপ ছোপ দাগ, এবং তারা সংখ্যাও বেশী। এখানে পুরুষরা স্বাধীনভাবে সুযোগ পেয়েছে উজ্জ্বল বর্ণ বর্ণিল হয়ে বিবর্তিত হতে যেন তারা তাদের স্ত্রী সদস্যদের আকৃষ্ট করতে পারে। স্ত্রী সদস্যদের কাছ থেকে পুরুষ সদস্যদের রঙীন রঙ বিবর্তন করার চাপটি সেখানে সর্বক্ষন বিরাজমান, প্রতিটি ভিন্ন ভিন্ন গাপ্পি জনসংখ্যার মধ্যেও সেটা বিদ্যমান একই মাত্রায়, শুধু শিকারী মাছের আক্রমন বা প্রিডেশন এর চাপটি থাকে এর বীপরিতদিকে, কখনো শক্তভাবে কখনো দুর্বলভাবে।এবং সবসময়ের মতই বিবর্তন এই দুই চাপের মধ্যে একটি সমঝোতা করে নেয়। গাপ্পীদের ক্ষেত্রে যে মজার ব্যাপারটা হলো এন্ডারস সরাসরি সেই সমঝোতাটা আর তাদের ভিন্নতা তাদের ভিন্ন ভিন্ন প্রাকৃতিক পরিবেশে দেখতে পেয়েছেন। কিন্তু এর চেয়ে ভালো একটি কাজ করেছিলেন, তিনি কিছু চমৎকার পরীক্ষা চালিয়েছিলেন।

ধরুন আপনি আদর্শ কোন গবেষনা পরিকল্পনা করতে চাইছেন, সেখানে কোন প্রজাতির মধ্য  ক্যামোফ্লেজ কিভাবে বিবর্তন হয়েছে সেটা আপনি দেখাতে চান: কি করবেন আপনি ? ক্যামোফ্লেজ করা কোন প্রানী তাদের যে প্রেক্ষাপট বা ব্যাকগ্রাউন্ডের সাথে দেখা যায় তার মত দেখতে হয় তারা। আপনি কি সেরকম কোন একটি একটি পরীক্ষা সাজাতে পারবেন যেখানে প্রানীরা আসলেই বিবর্তিত হয়, আপনার চোখের সামনে, তারা ক্রমেই কোন একটি ব্যাকগ্রাউন্ড বা পটভুমি সদৃশ হয়ে উঠে, পরীক্ষায় যে পটভুমি তাদের দেয়া হয়েছে? ভালো হয় যদি দুটি ব্যাকগ্রাউন্ড থাকে, ভিন্ন ভিন্ন জনগোষ্ঠীর সাথে আলাদা আলাদা পটভুমি। অধ্যায় ৩ এ বর্ণিত সেই পরীক্ষার মত, যেখানে দুটি ধারা মেইজ উদ্ভিদকে নির্বাচিত করা হয় তাদের বেশী আর কম তেল ধারণ করার বৈশিষ্ট নিয়ে। কিন্তু এই এক্সপেরিমেন্টটিতে নির্বাচন এর কাজটি মানুষ করবে না বরং সেটা করবে শিকারী মাছ আর স্ত্রী গাপ্পিরা। এই দুই পরীক্ষার ধারাকে পার্থক্য করবে শুধু তাদের ভিন্ন ভিন্ন ব্যাকগ্রাউন্ড,যেখানে আমরা তাদের রাখবো।

ক্যামোফ্লেজ করা প্রজাতির কিছু প্রাণী প্রজাতির কথা ধরুন। হয়তো কোন কীট পতঙ্গ র প্রজাতি, এবং তাদের র‌্যানডোমলি ভিন্ন ভিন্ন খাচায় রাখুন (পুকুরে বা সেখানে সুবিধা), যার রং ভিন্ন ভিন্ন, সেখানে প্যাটার্ণও ভিন্ন, যেমন ধরুন, আপনি হয়তো অর্ধেক কোন খাচার ব্যাকগ্রাউন্ডে রঙ দিলেন জঙ্গলের সবুজ রঙ, অন্য অর্ধেক এ লালচে বাদামী, মরুভুমির মত।এবার বাছাই করা  প্রানীদের তাদের সবুজ অথবা বাদামী খাচায় রাখুন। এরপর তাদের সেখানে বাচতে দিন,বংশ বিস্তার করতে দিন, আপনার হাতে যতটা সময় আছে ততটা সময় পর্যন্ত। পরে কোন এক সময় যখন আপনি আবার ফিরে এসে হয়তো দেখতে চাইবেন যে তারা আসলে বিবর্তিত হয়েছে কিনা তাদের খাচার ব্যাকগ্রাউন্ডের সাথে রঙ মিলিয়ে সবুজ কিংবা বাদামী কোন রঙে। অবশ্যই আপনি এমন কোন ফলাফল আশা করবেন  তখনই যদি সেখানে কোন শিকারী প্রানীরও উপস্থিতির ব্যবস্থা করে থাকেন। সুতরাং ধরুন আমরা যদি সেখানে একটি ক্যামেলিয়ন বা গিরগিটি ছেড়ে দেই, প্রতিটি খাচায়? না অবশ্যই না, মনে রাখবেন এটি একটি এক্সপেরিমেন্ট। সুতরাং আপনি সবুজ আর লাল রঙ এর ব্যাকগ্রাউন্ডের খাচাগুলোর অর্ধেকটিতে শিকারী প্রানী রাখলেন।এই পরীক্ষা সেই ভবিষ্যদ্বানীটিকে পরীক্ষা করবে যে, যেখানে খাচায় শিকারী প্রানী ছিল, সেখানে কীট পতঙ্গরা বিবর্তিত হবে হয় সবুজ কিংবা বাদামী রঙ এ – তারা তাদের খাচার ব্যাকগ্রাউন্ড এর সাথে ক্রমশ বেশ সদৃশ হবে। কিন্তু যে খাচায় কোন শিকারী প্রানী ছিল না সেখানে তারা যদি বিবর্তিত হয় কোনদিকে সেটা হবে তারা তাদের ব্যাকগ্রাউন্ড থেকে বেশী আলাদা হবে বর্ণে, যেন তাদের স্ত্রী সদস্যরা সহজেই তাদের দেখতে পারে।

দীর্ঘদিন ধরে মনে মনে ফ্রুট ফ্লাইদের ( কারন তাদের জেনারেশন টাইম খুব সংক্ষিপ্ত, অর্থাৎ তারা খুব দ্রুত বংশ বিস্তার করে) নিয়ে ঠিক এমন ধরনের একটি পরীক্ষা করবো বলে ইচ্ছা পুষে রেখেছিলাম, কিন্তু দু:খজনকভাবে কখনোই সেটা করার সুযোগ হয়নি ।সুতরাং আমি বিশেষভাবে আনন্দিত হয়েছি, ঠিক সেটাই জন এন্ডালার্স করেছেন, তবে কোন কীট পতঙ্গ প্রজাতি নিয়ে না বরং গাপ্পি মাছদের নিয়ে। এবং অবশ্যই তিনি কোন গিরগিটি ব্যবহার করেননি শিকারী প্রানী হিসাবে, বরং শিকারী প্রানী হিসাবে বেছে নিয়েছিলেন এক ধরনের মাছ, যার নাম Pike Cichlid (উচ্চারণ, সিক-লিড, সিকলিড, Crenicichla alta), বন্য পরিবেশে যারা গাপ্পিদের জন্য ভংঙ্কর ধরনের একটি শিকারী প্রানী, এবং তিনি সবুজ বা বাদামী ব্যাকগ্রাউন্ডের কোন খাচাও ব্যবহার করেননি, তিনি আরো চমৎকারভাবে সেটার ভিন্ন ব্যবস্থা করেছিলেন। তিনি লক্ষ্য করেছিলেন যে গাপ্পিরা তাদের গায়ে থাকা নানা আকার ও রঙ এর স্পটগুলোই বেশী ব্যবহার করে ক্যামোফ্লেজ করে লুকিয়ে থাকার জন্য। এবং  প্রায়ই সেটা বড় আকারের স্পট। যাদের প্যাটার্ণ তাদের প্রাকৃতিক বাসস্থানের নদীর তলদেশের এর নুড়ি পাথরের প্যাটার্ণের সাথে সদৃশ ।কোন পাহাড়ী নদীর মোটা মোটা নুড়ি পাথরে ঢাকা, আবার কোনটা হালকা রঙ, বালুর মত খুব ছোট ছোট পাথর বিছানো, এই দুটি ব্যাকগ্রাউন্ড ই তিনি বেছে নিয়েছিলেন। আপনাদের স্বীকার করতেই হবে, যে ক্যামোফ্লেজ এর পরীক্ষাটি তিনি যা বেছে নিয়েছিলেন, তা আমার সবুজ আর বাদামীর তুলনায় অনেক বেশী সুক্ষ আর চমৎকার।

এন্ডলার একটি বিশাল গ্রীন হাউজের ব্যবস্থা করেন, যেখানে তিনি গাপ্পিদের জন্য একটি কৃত্রিম ক্রান্তীয় অঞ্চলের পরিবেশ সৃষ্টি করেন, এবং সেখানে দশটি ছোট ছোট পুকুরের ব্যবস্থা করেন, এরপর দশটি পুকুরের তলে নুড়ি পাথরের চাদর বিছিয়ে দেন, পাচটিতে ছিল মোটা মোটা পাথরের আস্তর, আর অন্য পাচটায় অপেক্ষাকৃত সুক্ষ ক্ষুদ্র, বালুর মত পাথরের আস্তর। আপনারা বুঝতে পারছেন ব্যাপারটা কোনদিকে আগাচ্ছে। বিবর্তনের এই গবেষনার প্রেডিকশন বা ভবিষ্যদ্বানী হচ্ছে, যখন গাপ্পিরা কোন শিকারী প্রানী খাদ্য হবার সম্ভাবনার তীব্র চাপের মধ্যে থাকবে, তারা সময়ের সাথে তাদের সংশ্লিষ্ট ভিন্ন ভিন্ন ব্যাকগ্রাউন্ডের মত আরো বেশী সদৃশ্য হয়ে বিবর্তিত হবে, তাদের গায়ের রঙ আর স্পট তাদের বাস করা পুকুরের তলদেশের আস্তরের সাথে বেশী মিলে যাবে। আর যখন প্রিডেশন ( শিকারী প্রানীর খাদ্য হবার সম্ভাবনা) খুব দুর্বল বা থাকবে না, ভবিষ্যদ্বানী হচ্ছে পুরুষরা বিবর্তিত হবে ঠিক ভিন্ন দিকে, তারা আরো বেশী উজ্জ্বল হবে তাদের বাস করা পুকুরের তলের আস্তর থেকে, যেন  স্ত্রী গাপ্পিদের তাদের সহজেই নজরে পড়ে ।

অর্ধেক সংখ্যক পুকুরে শিকারী মাছ আর অর্ধেকটায় কোন শিকারী মাছ না দেবার বদলে এন্ডলার আরো সুক্ষভাবে বিষয়টি সাজালেন, তিনি তিন স্তরের প্রিডেশন এর পরিস্থিতি তৈরী করলেন। দুটো পুকুরে ( একটি সুক্ষ আর একটি মোটা পাথরের আস্তরণের পুকুর) কোন শিকারী মাছ দিলেন না, চারটি পুকুর (দুটি সুক্ষ আর দুটি মোটা পাথরের আস্তরণের পুকুর) এ তিনি দেন ভয়ঙ্তর পাইক সিকলিড মাছ। অন্য চারটি পুকুরে তিনি একটি অন্য প্রজাতির মাছ রাখলেন Rivulus hartii , যে মাছটি তার পরিচিত ইংরেজী নাম Killi Fish হওয়া সত্ত্বেও ( আসলে ব্যপারটার কোন গুরুত্বপুর্ণ না কারন এটির নাম করণ হয়েছে একজন জনাব Kille সাহেব এর নামানুসারে), তারা মুলত: গাপ্পীদের প্রতি কোন ভয়ানক কিছু না, তুলনামুলকভাবে কম ক্ষতিকর। এটি একটি দুর্বল ‘শিকারী’ মাছ অন্যদিকে পাইক সিকলিড খুব শক্তিশালী ‘শিকারী’ মাছ। কোন একটি মৃদু শিকারী প্রানীর উপস্থিতির চাপ, কোন শিকারী প্রানীর চাপ না থাকা পরিস্থিতির চেয়ে বেশী ভালো কন্ট্রোল হিসাবে কাজ করে এই গবেষনায় এমনটাই পরিকল্পনা করেছিলেন এন্ডলার। এর কারন, এন্ডলার যেভাবে ব্যাখ্যা করেছেন, তিনি আসলে ‍দুটি প্রাকৃতিক পরিস্থিতির মত পরিবেশ সৃষ্টি করতে চেয়েছেণ।এবং তিনি জানেন কোন প্রাকৃতিক জলাশয় বা নদী সম্পুর্ণভাবে শিকারী প্রানী মুক্ত না। সুতরাং দুর্বল প্রিডেশন আর শক্তিশালী প্রিডেশন এর নির্বাচনী চাপের তুলনা অনেক বেশী প্রাকৃতিক তুলনা হবে ।

সুতরাং তাহলে মুল সেট আপটি হচ্ছে: গাপ্পিদের র‌্যানডোমলী এই দশটা পুকুরে ছড়িয়ে দেয়া হয়, যার মধ্যে পাচটা পুকরের তলদেশ তৈরী মোটা নুড়ি পাথরে, আর পাচটা আছে সুক্ষ বালির মত ক্ষুদ্র কণার আস্তরে। গাপ্পিদের দশটি কলোনী কোন শিকারী মাছ ছাড়া মোট ৬ মাস বংশ বৃদ্ধি করার সুযোগ দেয়া হয়। এই পর্যায়ের পর মুল পরীক্ষাটি শুরু করা হয়, এন্ডলার একটি করে ভয়ঙ্কর শিকারী প্রানী দুটি মোটা পাথরের পুকুর আর দুটি সুক্ষ পাথরের পুকুরের ছেড়ে দেন,একই সাথে ছয়টি দুর্বল শিকারী মাছ ( ১ বদলে ৬ টিতে, কারন এটি প্রাকৃতিক পরিবেশে দুই শিকারী মাছের উপস্থিতির একটি মোটামুটি বাস্তব সম্মত অনুপাত) দুটো মোটা পাথরের পুকুরে আর দুটি সুক্ষ পাথরে পুকুরে ছেড়ে দেন।বাকী দুটি পুকুর একই রকম থাকে, কোন শিকারী মাছ ছাড়াই।

প্রায় ৫ মাস ধরে একটি পরীক্ষাটা চালানোর পর, এন্ডলার পুকুরগুলোয় গাপ্পি মাছগুলোর একটি শুমারী করেন। এবং প্রতিটা পুকুরে গাপ্পিদের সংখ্যা ও তাদের শরীরে স্পটের সংখ্যা গণনা ও পরিমাপ করেন। নয় মাস পর, শুরুর ১৪ মাস পর, আবার তিনি সব গণনা করেন একই ভাবে। এবং কি ফলাফল পেলেন তিনি ? বিস্ময়কর কিছু ফলাফল, এমন কি এই স্বল্প সময়ের মধ্যেও। এন্ডলার বেশ কিছু সুচক ব্যবহার করেন মাছগুলোর রঙ  ও তাদের স্পটের এর প্যাটার্ণ পরিমাপ করার জন্য। এর একটি ছিল, ’মাছ প্রতি স্পটের’ সংখ্যা। যখন গাপ্পিদের প্রথম তাদের পুকুরে ছেড়ে দেয়া হয়েছিল, কোন শিকারী মাছ  ছাড়ার আগে, সেখানে  গাপ্পীদের গায়ে অনেক বেশী স্পট সংখ্যা ছিল, কারন মাছগুলো সংগ্রহ করা হয়েছে নানা ধরনের জলাশয় থেকে, যেখানে শিকারী মাছদের সংখ্যাও ভিন্ন ভিন্ন ধরনের।কোন শিকারী মাছ দেবার আগেই প্রথম ৬ মাসে মাছ প্রতি স্পট সংখ্যা গড়ে অনেক বেড়ে যায়, এর কারণ স্ত্রী গাপ্পিদের নির্বাচনী চাপ।তারপর যে সময় পয়েন্টে শিকারী মাছ দেয়া হয় সেখানে, তারপর থেকে বেশ নাটকীয় কিছু পরিবর্তন হয় সেখানে। চারটি পুকুরে যেখানে ভয়ঙ্কর শক্তিশালী শিকারী মাছ দেয়া হয়েছিল, সেখানে গড় পড়তা মাছ প্রতি স্পটের সংখ্যা কমে যায় বেশ বড় একটি হারে। আর এই পার্থক্য স্পষ্ট হয় ৫ মাস পরের শুমারীতে। এবং স্পটের সংখ্যা আরো কমে যায় ১৪ মাসের গণনায়। আর যেখানে কোন শিকারী মাছ ছিল না, সেই দুটি পুকুরে এবং কম শক্তিশালী শিকারী মাছ সহ চারটি পুকুরে স্পটের সংখ্যা ক্রমশ বাড়তে থাকে। বাড়তে বাড়তে সংখ্যা টি এটি স্থিতাবস্থায় পৌছায় ৫ মাসের শুমারীতে.. এবং সংখ্যাটি বেশী থাকে ১৪ মাসের শুমারীতেও । স্পট সংখ্যার পরিপ্রেক্ষিতে দেখা যায় দুর্বল প্রিডেশন কোন প্রিডেশন এর মতই না, যার উপরে প্রভাব বিস্তার করে স্ত্রী সদস্যদের যৌণ নির্বাচন কারন তারা তাদের পুরুষ সঙ্গীদের শরীরে বেশী স্পট পছন্দ করে।

স্পট নাম্বার  এর পরিবর্তন তো দেখলামই, তাদের শরীরে স্পট এর আকারও একই ভাবে পরিবর্তনের মজার কাহিনী বলছে। শিকারী প্রানীর উপস্থিতিতে, শক্তিশালী বা দুর্বল যাই হোক না কেন, মোটা পাথরের আস্তর সহ পুকুরের গাপ্পিরা বিবর্তিত হয়েছে অপেক্ষাকৃত বড় আকারের স্পট নিয়ে, অন্যদিকে সুক্ষ পাথরের আস্তরের পুকুরে তারা বিবর্তিত হয় অপেক্ষাকৃত ক্ষুদ্রকার স্পট সহ। আসলেই এটি পুকুরের তলার পাথরে আকৃতির সাথে এটি অনুকরণ বা মিমিকিং করছে , খুব সহজে তা ব্যাখ্যা করা যায়। আর বিস্ময়করভাবে, সেই পুকুরগুলোতে যেখানে কোন শিকারী মাছ ছিল না, এন্ডলার ঠিক এর বীপরিতটাই খুজে পান। সুক্ষ পাথরের গ্রাভেল পুরুষ গাপ্পিদের শরীরে বড় আকারের স্পটের বিবর্তনের সুযোগ করে দেয়, এবং মোটা পাথরের গ্রাভেলের পুকুরে এর বীপরিতটাই আমরা দেখতে পারি। সুতরাং সেখানে যেন তাদের সহজে চোখে পড়ে, কারন তারা তলার পাথরদের মিমিক করে নিজেদের লুকিয়ে রাখার জন্য তাদের সংশিষ্ট ব্যাকগ্রাউন্ডে, কারন এটাই সহজ বীপরিত লিঙ্গের দৃষ্টি আকর্ষন করার জন্য। দারুন।

হ্যা বেশ বুঝলাম, ঠিক আছে, কিন্তু এটা তো ল্যাব এর কৃত্রিম পরিবেশ, এন্ডলার কি এমন কোন ফলাফল প্রকৃতিতে করে দেখাতে পারবেন ? হ্যা, সেই কাজটি করতে তিনি একটি প্রাকৃতিক স্রোতধারার কাছেই যান, যেখানে ভয়ঙ্কর পাইক সিকলিডদের বাস, যেখানে গাপ্পিরা অপেক্ষাকৃতভাবে চোখে না পড়ার মত স্পট আর রঙও বৈশিষ্টসুচক নয়। তিনি সেখান থেকে গাপ্পি মাছ সংগ্রহ করেন দুই লিঙ্গেরই এবং সেই একই নদীর মত জলধারার একটি শাখায় তাদের ছেড়ে দেন, যেখানে তাদের জন্য কোন ভয়ঙ্কর কোন শিকারী মাছ ছিল না। যদিও দুর্বল শিকারী মাছের উপস্থিতি সেখানে ছিল। তিনি তাদের সেখানে ছেড়ে দিয়ে আসেন, যেখানে তারা বংশ বৃদ্ধি করে, ২৩ মাস পর, তিনি আবার সেখানে ফিরে যান এবং গাপ্পিদের পরীক্ষা করে দেখেন কিছু ঘটেছে কিনা সেটা বোঝার জন্য। বিস্ময়করভাবে এই দু বছরের কম সময়েই পুরুষ গাপ্পিরা চোখে পড়ার মত পরিবর্তিত হয়েছে, তারা আরো বেশী রং আর বর্ণিল হয়েছে, এর কারন স্ত্রী গাপ্পিদের যৌন নির্বাচনের চাপ, কোন সন্দেহ নেই, সেভাবে বিবর্তিত হবার মত স্বাধীনতা তারা পেয়েছে  তার কারন ভয়ঙ্কর কোন শিকারী মাছের অনুপস্থিতি।

বিজ্ঞানের একটা চমৎকার বৈশিষ্ট হচ্ছে এটি সবার জন্য উন্মুক্ত একটি কাজ। বিজ্ঞানীরা তাদের গবেষনার ধাপ ও প্রক্রিয়াগুলো প্রকাশ করেন, যেমন তারা গবেষায় পাওয়া  সব ফলাফলও প্রকাশ করেন, আর এর অর্থ হচ্ছে যে কেউই, পৃথিবীর যে কোন জায়গায় বসে, তাদের সেই কাজের পুণরাবৃত্তি করতে পারেন। আর তারা যদি একই ফলাফল না পান, বিজ্ঞানী সেই কারণটা জানতেই কেন সেটা হলো না। সাধারনত তারা পুরোনো গবেষনাই আবার করেন না, বিষয়টিতে তারা তাদের সৃজনশীলতা দিয়ে আরো সম্প্রসারিত করেন, আরো কিছু প্রশ্নের উত্তর জানতে। এভাবে তারা বিষয়টি আরো সামনে নিয়ে যান। জন এন্ডালার এর গাপ্পিদের নিয়ে প্রাকৃতিক নির্বাচনের অসাধারণ গবেষনাটিও তেমনি, এটি যেন চাইছিলই এটি অব্যাহত থাকুক, চলমান থাকুর আর আরো সম্প্রসারিত হোক। যারা এই গবেষনাটিকে আরো সামনে নিয়ে গেছেন তাদের একজন ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্ণিয়া রিভারসাইডের একজন গবেষক ডেভিড রেজনিক ।

এন্ডলার এর সেই পরীক্ষামুলক প্রাকৃতিক জলধারা থেকে গাপ্পিদের নমুনা সংগ্রহ করার ৯ বছর পর রেজনিক ও তার সহকর্মীরা সেই একই জায়গায় গিয়ে এন্ডলারের পরীক্ষামুলক গাপ্পি জনগোষ্ঠী থেকে আবার নমুনা সংগ্রহ করেন।সব পুরুষ গাপ্পিরা এখন সেখানে খুবই উজ্জ্বল রঙ এর রন্জিত ও বর্ণিল। এই স্ত্রী গাপ্পি  যৌন নির্বাচন নির্ভর পরিবর্তনের প্রবণতা যা এন্ডলার দেখেছিলেন এর আগে পুরোদমে সেখানে চলমান এবং সেটাই শুধু না। আপনাদের অধ্যায় ৩ এ সিলভার ফক্সের কথা মনে আছে, এবং কিভাবে কৃত্রিম নির্বাচনের মাধ্যমে একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য (পোষ মানা) একই সাথে টেনে নিয়ে আসে আরো একগুচ্ছ বৈশিষ্টসমুহ: যেমন তাদের প্রজননের সময়কাল, কান,লেজ ও গায়ের রং ও অন্যান্য কিছু জিনিস? বেশ প্রাকৃতিক নির্বাচনের প্রভাবে গাপ্পিদেরও সেখানে একই রকম কিছু পরিবর্তনও হয়।

রেজনিক এবং এন্ডলার আগেই লক্ষ্য করেছিলেন যে, যখন আপনি শিকারী প্রানীর উপস্থিতিতে থাকা গাপ্পিদের সাথে দুর্বল প্রিডেশন সহ স্রোতধারায় গাপ্পিদের তুলনা করেন, সেখানে তাদের গায়ের রঙ এর পার্থক্য আসলে খুব সামান্য অংশর প্রতিনিধিত্ব করছে, যেমন বলা যায় হিমশৈল এর ভাসমান উপরি অংশ মাত্র। আরো একগুচ্ছ পার্থক্য আছে বেশ কিছু ক্ষেত্রে। শিকারী মাছের কম প্রকোপ আছে এমন জলধারায় তারা প্রজননক্ষম হয় শিকারী মাছের প্রকোপ আছে এমন জলধারার গাপ্পিদের চেয়ে বেশ কিছুটা সময় পর এবং তারা যখন প্রাপ্ত বয়স্ক হয় তারা আকারেও বড় হয়। যখন রেজনিক এন্ডলার এর গাপ্পিদের উত্তরসুরীরদের পরীক্ষা করে দেখেন, তার পর্যবেক্ষনও বিস্ময়কর, যেন সত্যি বলে মনে হয় না। যারা মুক্ত ছিল শিকারী প্রানী তাড়িত নির্বাচন এর বদলে  স্ত্রী গাপ্পিদের তাড়িত যৌণ নির্বাচন দ্বারা প্রভাবিত হবার জন্য, তারা শুধুই বেশী ‍উজ্জ্বল রঙ এর হয় তাই না: অন্য আরো ক্ষেত্রে যার তালিকা আমি দিয়েছি, এই মাছগুলো আরো একগুচ্ছ বিবর্তনীয় পরিবর্তন ঘটে, যা শিকারী প্রানীর আক্রমন-মুক্ত জলাশয়ে বুনো জনসংখ্যার সাথে সামন্জষ্যপুর্ণ হয়। শিকারী মাছের কম প্রকোপ আছে এমন জলধারায় তারা প্রজননক্ষম হয় শিকারী মাছের প্রকোপ আছে এমন জলধারার গাপ্পিদের চেয়ে বেশ পরে। এই ভারসাম্যটা শিকারী মাছ মুক্ত পুকুরে যা ঘটেছে সেই বরাবর ঝুকে পড়ে যেখানে যৌণ আকর্ষন বিশেষ অগ্রাধিকার পায়। এবং এটি ঘটে বিস্ময়করভাবে দ্রুত, বিবর্তনীয় মানদন্ডে। পরে এই বইতে আমরা দেখবো এন্ডলার আর রেজনিক এর দেখা বিবর্তনীয় পরিবর্তনগুলো, পরিচালিত হয়েছে বিশুদ্ধভাবে প্রাকৃতিক নির্বাচনের মাধ্যমে ( খুব সুনির্দিষ্টভাবে বলে যৌন নির্বাচন সহ), যা  এতদ্রুত ঘটেছে এর সাথে তুলনা চলে গৃহপালিত পশুদের কৃত্রিম নির্বাচনের, যা আমরা অর্জন করেছি খুব অল্প সময়ে। চোখের সামনে ঘটা বিবর্তনের এটি একটি বিস্ময়কর উদহারণ।

আমরা বিবর্তন সম্বন্ধে অন্যতম একটি বিস্ময়কর বিষয় যা আমরা জানতে পেরেছি তা হলো এটি খুব দ্রুত হতে পারে যেমন আমরা এই অধ্যায়ে দেখেছি – এবং অন্য পরিস্থিতিতে -যেমন আমরা জীবাশ্ম রেকর্ডে দেখেছি বিবর্তন হতে পারে খুব ধীরে। সবচেয়ে ধীরে বিবর্তিত হচ্ছে সেই সব জীবরা যাদের আমরা বলি জীবন্ত জীবাশ্ম। আক্ষরিকভাবে লেনস্কির হিমায়িত ব্যাকটেরিয়া থেকে তাদের ফিরিয়ে আনা হয়েছে এমন কিছু নয় বরং তারা আসলে সেই সব জীব যারা তাদের দুর অতীতের পুর্বসুরীদের তুলনায় খুব সামান্যই পরিবর্তিত হয়েছে যে তারা প্রায় যেন জীবাশ্মর মতই।

 _________________________________________________ চলবে…

Advertisements
রিচার্ড ডকিন্স এর দি গ্রেটেষ্ট শো অন আর্থ : পঞ্চম অধ্যায় (তৃতীয় পর্ব)

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s