রিচার্ড ডকিন্স এর দি গ্রেটেষ্ট শো অন আর্থ : পঞ্চম অধ্যায় (দ্বিতীয় পর্ব)

800px-Lenski's_long-term_lines_of_E._coli_on_25_June_2008,_close-up_of_citrate_mutant
 ছবি: লেনস্কি একপেরিমেন্ট এর অনেকগুলো ফলাফলের একটি.. E coli সাধারণত অক্সিজেন এর উপস্থিতিতে Citrate খাদ্য হিসাবে ব্যবহার করতে পারেনা। কিন্তু ২০০৮ সালে লেনস্কি তার গবেষনায় Citrate ব্যবহার করার উপযোগী মিউটেশন সম্বলিত  E coli ভ্যারিয়্যান্ট ঠিকই খুজে পান। উপরের ছবিতে যে কাচের ফ্লাস্কটিকে বেশী ঘোলাটে লাগছে, সেটি Ara-3 নামে সেই জনগোষ্ঠী যারা তাদের মাধ্যমে Citrate ব্যবহার করার উপযোগী হয়ে বিবর্তিত হয়েছে।

ছবি: Lenski’s 12 long-term lines of E. coli on 25 June 2008

EVOLUTIONACTION
ছবি: রিচার্ড লেনস্কি

রিচার্ড ডকিন্স এর দি গ্রেটেষ্ট শো অন আর্থ :  পঞ্চম অধ্যায় (দ্বিতীয় পর্ব) 
( অনুবাদ প্রচেষ্টা: কাজী মাহবুব হাসান)

The Greatest Show on Earth: The evidence for evolution by Richard Dawkins

 প্রথম অধ্যায়
দ্বিতীয় অধ্যায়
তৃতীয় অধ্যায় ( প্রথম পর্ব)  তৃতীয় অধ্যায় ( দ্বিতীয় পর্ব)তৃতীয় অধ্যায় ( শেষ পর্ব)
চতুর্থ অধ্যায় (প্রথম পর্ব) | চতুর্থ অধ্যায় (দ্বিতীয় পর্ব) | চতুর্থ অধ্যায় (তৃতীয় পর্ব) | চতুর্থ অধ্যায় ( শেষ পর্ব)
পঞ্চম অধ্যায়: প্রথম পর্ব

ল্যাবরেটরীতে ঘটা ৪৫০০০ ‍টি প্রজন্মর বিবর্তন …

উপরে বর্ণিত লিজার্ডদের গড় প্রজন্মান্তরের সময় প্রায় দুই বছর। সুতরাং কোন বিবর্তনীয় পরিবর্তন যা পডে মরকারুতে বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, তা  শুধুমাত্র আঠারো বা উনিশটি প্রজন্মের প্রতিনিধিত্ব করছে। শুধু একবার ভেবে দেখুন আপনি যদি ব্যাকটেরিয়ার বিবর্তন লক্ষ্য করেন, কি ধরনের পরিবর্তন তাহলে দেখতে পারেন তিন বা চার দশকের মধ্যেই, খুব দ্রুত বংশবৃদ্ধি করা ব্যাকটেরিয়াদের প্রজন্মান্তরের হার পরিমাপ করা সম্ভব বছরের পরিবর্তে ঘন্টা বা মিনিটে, বিবর্তন বিশেষজ্ঞদের জন্য ব্যাকটেরিয়া আরো একটি অমুল্য উপহার নিবেদন করে। কোন কোন ক্ষেত্রে আপনি তাদের হিমায়িত করে রাখতে পারবেন অনির্দিষ্ট কালের জন্য এবং পরে আবার তাদেরকে জীবন্ত করা সম্ভব, যখন তারা আবার বংশবৃদ্ধি শুরু করে,যেন সব কিছু আগের মতই আছে। এর মানে হলো গবেষকরা তাদের নিজস্ব ’জীবন্ত ফসিল’ রেকর্ড সৃষ্টি করতে পারবেন, বিবর্তনীয় প্রক্রিয়ার কোন একটি নির্দিষ্ট মুহুর্তের চিত্র বা স্ন্যাপশট,যেখানে যে কোন কাঙ্খিত সময়ে যখন ইচ্ছা ফেরত যাওয়া যায়। কল্পনা করুন আমরা যদি লুসিকে ফিরিয়ে আনতে পারতাম হিমায়িত অবস্থা থেকে, সেই অসাধারণ প্রাগৈতিহাসিক আদি মানব এর জীবাশ্ম, যা খুজে পেয়েছিলেন ডন জোহানসন, এবং তার প্রজাতিকে সুযোগ করে দেয়া হতো নতুন করে বিবর্তিত হতে!! এই সব কিছুই করা সম্ভব হয়েছে Escherichia coli ব্যাক্টেরিয়ার ক্ষেত্রে, বিস্ময়কর একটি দীর্ঘমেয়াদী গব্ষেনার মাধ্যমে যার গবেষক ছিলেন মিশিগান স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ের রিচার্ড লেনস্কি ও তার সহযোগীরা। ইদানীং বৈজ্ঞানিক সব গবেষনাগুলো প্রায়শই দলবদ্ধ প্রচেষ্ঠার ফলাফল। একারনে এর পরে আমি যা লিখছি, সেখানে যদিও মাঝে মাঝে আমি লেন্সকির নাম ব্যবহার করবো সংক্ষিপ্ততার খাতিরে কিন্তু আপনাদের সেটা পড়তে হবে ’লেনস্কী ও তার সহযোগীরা এবং তার ল্যাবে কর্মরত ছাত্রছাত্রীরা’; কিছুক্ষনের মধ্যেই আমরা দেখতে পাবো সৃষ্টিবাদীদের জন্য লেনস্কী গবেষনাটি কেন যন্ত্রণাদায়ক এবং আর যথেষ্ট কারনও আছে তা হবার জন্য। কারন খুব সুন্দরভাবে  গবেষনাটি প্রদর্শন করে বিবর্তনের কাজ করার প্রক্রিয়াটি, যা সহজে হেসে উড়িয়ে দেয়া কঠিন, এমন কি যখন আমাদের সেটা করার উদ্দেশ্যও থাকে তীব্র। এবং আসলেই গোড়া সৃষ্টিবাদীদের সেই উদ্দেশ্য অনেক জোরালো । এই অংশের শেষে আমি পরে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করবো।

E. coli খুব সাধারন একটি ব্যাকটেরিয়া যার উপস্থিতি বহু জায়গায়, এই পৃথিবীতে যে কোন সময়ে এদের মোট সংখ্যা এক শত বিলিয়ন বিলিয়ন, যার এক বিলিয়ন, লেনস্কীর হিসাব অনুযায়ী ঠিক এই মুহর্তে আপনার শরীরের বৃহদান্ত্রে অবস্থান করছে। যাদের বেশীর ভাগেই কোন ক্ষতি করে না, বরং উপকারী, কিন্তু মাঝে মাঝে খারাপ প্রকারের E coli গুলো খবরের কাগজে শিরোনাম হয়ে। এই কখনো কখনো বিবর্তনীয় নব্য পরিবর্তনগুলো খু্ব অবাক হবার মত বিষয় না যদি আপনি বিষয়টি গানিতীকভাবে হিসাব করেন, যদিও মিউটেশন খুবই দুর্লভ কদাচিৎ হবার মত ঘটনা। যদি আমরা ধরে নেই কোন একটি জীনের পরিবর্তনের সম্ভাবনা ব্যাকটেরিয়া প্রজননের কোন একটি সময়ে একেবারে কম, যেমন ধরুন এক বিলিয়নে এক বারও হয়ে থাকে, তা সত্ত্বেও ব্যাকটেরিয়ার সংখ্যা এতো বিশাল যে পৃথিবীর কোথাও না কোথাও তাদের প্রত্যেকটি জীনের মিউটেশণ ঘটছে প্রতিটি দিন। যেমনটি রিচার্ড লেনস্কি বলেন, ’বিবর্তনের প্রচুর সুযোগ আছে সেখানে।’

লেনস্কি এবং তার সহকর্মীরা এই সুযোগটাকে ব্যবহার করেছিলেন, একটি নিয়ন্ত্রিত প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে, ল্যাবরেটরীতে তাদের বৈজ্ঞানিক গবেষনায়। তাদের গবেষনাটি খুবই বিস্তারিত এবং সতর্কভাবে সম্পাদিত। এই খুটিনাটি বিস্তারিত বিষয়গুলো আসলেই এই সব গবেষনা থেকে প্রাপ্ত বিবর্তনের পক্ষে প্রমাণের শক্ত ভিতটা আরো মজবুত করেছে, আর এই সেকশনে আসলেই আমি কার্পন্য করবো না সেগুলো বর্ণনা করার সময়। সুতরাং এর মানে হচ্ছে পরের কয়েকটি পৃষ্ঠায় গবেষনাটির খুটিনাটি বিষয়ের বিবরণ থাকবে, না কঠিন না, শুধুমাত্র সুক্ষ আর বিস্তারিতভাবে বর্ণিত, সুতরাং সম্ভবত ভালো হবে যদি খুব ক্লান্ত কোন সময়ে এ অংশটা এড়িয়ে চলা যায়, বিশেষ করে কোন ব্যস্ত দিনের শেষে।

যে জিনিসটি বিষয়টির প্রতিটি খুটিনাটি বিষয় অনুসরণ করা সহজ করে তা হচ্ছে গবেষনার প্রতিটি বিস্তারিত অংশ এটিকে আরো বোধগম্য করে তোলে। এর কোনটাই আমাদের এমন কোন পরিস্থিতিতে ফেলে না, যেখানে আমরা নিজেদের মাথা চুলকিয়ে জিজ্ঞাসা করতে পারি, কি হলো ব্যপারাটা এখানে। সুতরাং দয়া করে আমার সাথে আসুন, ধাপে ধাপে, এই চমৎকারভাবে সাজানো, অসাধারণ ভাবে সম্পাদিত গবেষনাগুলোকে আমরা একটু ভালো করে বোঝার চেষ্টা করি।

অযৌন উপায়ে ব্যাকটেরিয়া তাদের বংশবৃদ্ধি করে, খুব সরল কোষ বিভাজন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে, সুতরাং জীনগতভাবে হুবুহু  অসংখ্য ব্যাকটেরিয়ার একটি বিশাল জনগোষ্ঠীর ক্লোন তৈরী করা খুব সহজ একটি প্রক্রিয়া এবং কাজটি করাও সম্ভব খুব অল্প সময়ে। ১৯৮৮ সালে লেনস্কি এমন একটি ক্লোন বা জীনগতভাবে একই ব্যাকটেরিয়ার জনসংখ্যাকে ১২ টি একই রকম কাচের ফ্লাস্কে কালচার করা সুরু করেছিলেন, এই ১২টি কাচের বোতলে ছিল একই নিউট্রিয়েন্ট ব্রথ, যার মধ্যে ছিল গ্লুকোজ, যা ব্যাকটেরিয়াদের মুল খাদ্য উৎস। এরপর বারোটি ফ্লাস্ক, যাদের মধ্যে ব্যাকটেরিয়ার সেই প্রথম জনসংখ্যার সদস্যরা ছিল, তাদের একটি শেকিং ইনক্যুবেটরে রাখা হয়, যেখানে তাদের প্রয়োজনীয় উষ্ণতা আর অন্যান্য সুবিধা দেয়া হলো বংশবিস্তারের জন্য, এছাড়া ফ্লাস্কটি নাড়াচড়া করার ব্যবস্থাও ছিল , যেন পুরো কালচার মিডিয়াতে ব্যাকটেরিয়ারাদের সুষমভাবে ছড়িয়ে পড়তে সাহায্য করে। এই বারোটি ফ্লাস্ক বিবর্তনের পৃথক বারোটি ধারার সুচনা করে, যারা একে অপরের থেকে পুরোপুরি আলাদাভাবে বৃদ্ধি পাবার সুযোগ পায় দুই দশকেরও বেশী সময় ধরে যা এখনও চলছে: অনেকটা ইসরায়েল এর বারোটি গোত্রের মত, শুধুমাত্র পার্থক্য ইসরায়েল এর গোত্রের মধ্যে আন্তগোত্র মিশ্রণ নিষিদ্ধ ছিল না।

এই বারো ’গোত্রের’ ব্যাকটেরিয়াদের সেই প্রথম থেকে ব্যবহৃত একই বারোটা পাত্রে কিন্তু সবসময় রাখা হয়নি। বরং প্রতিটি গোত্র প্রতিদিন নতুন করে একটি ফ্লাস্ক পেয়েছে। কল্পনা করুন বারোটি ফ্লাস্কের সেই বংশধারা বহু দুরে বিস্তৃত, প্রতিটি ধারা ৭০০০ টা ফ্লাস্কের চেয়েও দীর্ঘ, প্রত্যেকদিন,বারো গোত্রর প্রতিটির জন্য, একটি নতুন কাচের ফ্লাস্ক এর আগের দিনের ফ্লাক্স থেকে নেয়া তরল দিয়ে সংক্রমিত করা হয়। খুব সামান্য একটু নমুনা, কাচের পাত্রের আয়তনের একশতভাগের একভাগ তরল আলাদা করে সংগ্রহ করা এবং সেটি নতুন ফ্লাস্কের মধ্যে দেয়া হয়, যেখানে নতুন করে তৈরী করা গ্লুকোজ সমৃদ্ধ ব্রথ সরবরাহ করা হয়। এরপর পাত্রগুলো ব্যাকটেরিয়াদের জনসংখ্যা খুব দ্রুতহারে বাড়তে থাকে, কিন্তু সবসময় এর পরের দিন সেটি কমে আসে কারন সেখানে সরবরাহকৃত খাদ্য সরবরাহ শেষ হয়ে যায়, এবং ব্যাকটেরিয়ারা প্রয়োজনমত খাদ্য থেকে বঞ্চিত হতে থাকে। অন্যভাবে বলতে গেলে, পাত্রে ব্যাকটেরিয়ারা দ্রুত বংশবৃদ্ধি করলেও তারা একসময় একটি পর্যায়ে পৌছায় যখন আর সংখ্যায় বৃদ্ধি হতে পারে না, যে সময় সেখান থেকে কিছু ব্যাকটেরিয়ার নমুনা সংগ্রহ করে নতুন ফ্লাস্কে নিয়ে রাখা হয়, পরের দিন সেই চক্রটির পুনরাবৃত্তি করানো হয়। সমতুল্য ভুতাত্ত্বিক সময়ের চেয়ে সহস্রগুন দ্রুততায়, সুতরাং এই ব্যকটেরিয়াগুলো প্রতিদিন একটি পুনরাবৃত্তিক চক্রের মধ্য দিয়ে বংশ বিস্তার করে, প্রথমে অধিক হারে খাদ্য.. এরপর খাদ্য সংকটে স্থিতিশীল একটি পর্যায়ে, সেখান থেকে কিছু ভাগ্যবান ব্যকটেরিয়ার একটি অংশ, নতুন কাচের নোয়ার আর্কে নিয়ে যাওয়া হয় – এবং আবারো সেটা সাময়িকভাবে।( গ্লুকোজের বাড়তি সরবরাহ, বিবর্তনের জন্য সঠিক সঠিক সঠিক পরিস্থিতি, এবং উপরন্তু এই পরীক্ষা করা হয় বারোটি ভিন্ন ভিন্ন ধারায় সমান্তরালভাবে।

লেন্সকি এবং তার টীম এই দৈনন্দিন রুটিনটি অব্যাহত রেখেছেন বিশ বছরেরও বেশী কিছু সময় ধরে। এর মানে প্রায় ৭০০০ ফ্লাস্ক প্রজন্ম এবং ৪৫০০০ ব্যাকটেরিয়ার প্রজন্ম, গড়পড়তায় প্রতিদিন ছয় বা সাতটি প্রজন্ম, বিষয়টি বোঝার মত করে বললে, আমরা যদি ৪৫০০০ মানব প্রজন্ম আগে যেগে পারতাম, সে হতো প্রায় এক মিলিয়ন বছর আগে, সেই হোমো ইরেকটাস দের সময় কালে, সেটা কিন্তু খুব বেশী সময় আগের কথা না, সুতরাং বিবর্তনীয় পরিবর্তনের যা কিছুই লেনস্কি পেয়েছেন এক মিলিয়ন বছরের সময়ের মাত্রায় ব্যাকটেরিয়া প্রজন্মের সময় , ভেবে দেখুন আরো কত কিছু হতে পারে, যেমন ধরুন স্তন্যপায়ীদের ১০০ মিলিয়ন বছরের বিবর্তন। এবং এমনকি ১০০ মিলিয়ন বছরও তুলনামুলকভাবে বেশ সাম্প্রতিক সুবিশাল ভুতাত্ত্বিক সময়ের মাত্রার সাথে যদি তুলনা করা হয়।

মুল বিবর্তনের গবেষনা ছাড়া, লেনস্কি ও তার টীম এই ব্যাকটেরিয়াদের ব্যবহার করেছে নানা গুরুত্বপুর্ণ পার্শ্ব গবেষনায়, যেমন যদি নিউট্রিয়েন্ট ব্রথের খাদ্য হিসাবে গ্লুকোজের বদলে মালটোজ বলে ভিন্ন একটি সুগার দেয়া হয়, যেমন এদের ২০০০ প্রজন্ম পর; কিন্তু আমি নজর দিচ্ছি কেন্দ্রীয় গবেষনাটির উপর, যা সবসময় গ্লুকোজই ব্যবহার করেছে। তারা বিশ বছর ধরে ১২ টি গোত্রের নমুনা বিরতি দিয়ে দিয়ে সংগ্রহ করে দেখেছে, কিভাবে সেখানে বিবর্তন অগ্রসর হচ্ছে; তারা প্রতিটি ট্রাইবের কিছু নমুনাকে হিমায়িত করেছে পুণর্জন্ম দেয়া সম্ভব এমন জীবাশ্ম নমুনা হিসাবে, যারা এদের বিবর্তনের নানা স্ট্রাটেজিক মুহুর্তের প্রতিনিধিত্ব করছে। এত অসাধারন ভাবে গবেষনাগুলো সাজানো হয়েছিল যে সেটাকে নিয়ে আসলে আর বাড়িয়ে কিছু বলা খুবই কঠিন।

একটি ছোট উদহারণ দেয়া যেতে পারে গবেষনাটির ভবিষ্যতমুখী পরিকল্পনার অসাধারণত্বর, আপনাদের মনে আছে, আমি বলেছিলাম যে প্রথমে ১২ টি সেই শুরু বা সুচনা ফ্লাস্কগুলো, যারা প্রত্যেকেটাই শুরু করেছিলো একই ব্যাকটেরিয়া ক্লোন এর সদস্যদের নিয়ে, অর্থাৎ তারা শুরু করেছিল, জীনগতভাবে হুবুহু এক রকম একটি জনগোষ্ঠী থেকে… কিন্তু বিষয়টা একেবারে সত্যি না, আর এর কারণ খুবই চমৎকার আর বুদ্ধিদ্বীপ্ত। লেনস্কি ল্যাব এর আগেই একটি জীন কে বহু ব্যবহারের মাধ্যমে উপযোগী করেছিলেন তাদের গবেষনার জন্য, জীনটির নাম ara, দুটি ভিন্ন ভিন্ন রুপে এরা থাকতে পারে.. Ara+ ও Ara – ; আপনি এই দুই রুপের জীনসহ ব্যাকটেরিয়াদের আলাদা করতে পারবেন না, যদি না আপনি তাদের নমুনা সংগ্রহ করে তাদের আগার প্লেটে কালচার না করেন, যেখানে নিউট্রিয়েন্ট ব্রথ আর আরাবিনোস সুগার থাকতে হবে, আর থাকবে একটি রাসায়নিক পদার্থ টেট্রাজোলিয়াম। এই প্লেটিং আউট প্রক্রিয়া ব্যাকটেরিওলজিষ্টরা ব্যবহার করেন প্রায়শই, এর অর্থ হচ্ছে এক ফোটা তরল, যার মধ্যে ব্যাকটেরিয়া থাকবে, তাদের একটি কাচের পেট্রি ডিশে রাখা হবে যেখানে পাতলা এক স্তর আগার জেল বিছানো থাকে, এরপর প্লেট গুলোকে সাধারণত ৩৭ ডিগ্রী সেন্টিগ্রেড তাপমাত্রায় ইনকিউবেট করা হয়; প্লেটে..ব্যাকটেরিয়ার কলোনি সেখানে বৃত্তাকারে গড়ে উঠবে, ক্ষু্দ্রকায় ফেয়ারী রিং এর মত। প্রথম সেই ফোটা থেকে আগারের সাথে মিশ্রিত পুষ্টি খেয়ে তারা এই কলোনিগুলো তৈরী করে। যদি এই মিশ্রনে আরাবিনোস আর ইন্ডিকেটর রন্জক পদার্থ থাকে, তাহলে Ara+ ও Ara- এর মধ্যে পার্থক্যটা আমরা ধরতে পারবো অনেকটা যেন অদৃশ্য কালিকে তাপ দিয়ে দৃশ্যমান করার মত, তাদের দেখা যাবে সাদা আর লাল রং এর কলোনী হিসাবে যথাক্রমে। লেনস্কি টীম এই রং শনাক্তকরণ এর ব্যপারটির গুরুত্বপুর্ণ মনে করেছিলেন এদের লেবেলিং এর জন্য। সে কারনে তারা তাদের ১২ টি ব্যাকটেরিয়ার গোত্রকে এমনভাবে সাজিয়েছিলেন যাদের মধ্যে ৬ টি Ara+ ও ৬ টি Ara – ; আর এই রঙ এর বিশেষ কোডিং কেন তারা ব্যবহার করেছিলেন তার একটি উদহারণ হচ্ছে এর মাধ্যমে নিজেদের ল্যাবরেটরী প্রক্রিয়া উপর ভালো করে নজর রাখতে পেরেছিলেন তারা। প্রতিদিনকার কাচের পাত্র পরিবর্তন করা আচারটির সময় তারা Ara+ ও Ara- এই দুই ধরনের ব্যাকটেরিয়াদের জন্য ফ্লাস্ক তৈরী করতেন একটার পর একটা। আর এর মাধ্যমে তারা যদি কোন ভুল করতেন, যেমন ট্রান্সফার পিপেটটি কাচের পাত্রে ফেলে দিতেন, যা পরে তাদের এই সাদা/লাল পার্থক্য করার টেস্টে তা ধরা পড়তো, বুদ্ধিমান একটি উপায়। এবং একই সাথে সাবধানী, আসলেই কোন ভালো বিজ্ঞানীর এই দুটি গুনই দরকার।

কিন্ত Ara+ আর Ara- কথা কিছুক্ষনের জন্য ভুলে যান। অন্য সব ক্ষেত্রে প্রথম শুরুর জনসংখ্যার সেই ১২ গোত্রর যাত্রা শুরু করেছিল হুবুহু একই রকম জীনগত উপকরণ নিয়ে, Ara+ আর Ara- এর মধ্যে আর কোন পার্থক্য লক্ষ্য করা যায়নি । সুতরাং তারা আসলেই রঙের মার্কার হিসাবে খুবই সুবিধাজনক ব্যবহার করার জন্য। যেমন করে পক্ষীবিশারদরা পাখীর পায়ে রঙ্গীন রিং পরিয়ে দেয়।

ঠিক, তাহলে, আমরা আমাদের ১২ টি গোত্র পেলাম, যারা ভুতাত্ত্বিক সময়ের স্কেলে সমতুল্য তবে অত্যন্তু দ্রুতগতিতে তাদের প্রজন্ম বংশ বিস্তার করছিল, বার বার বংশ বৃদ্ধি করা এবং একটি স্থিতিশীল অবস্থায় থাকার চক্রের মধ্য দিয়ে। এখানে সবচেয়ে কৌতুলোদ্দীপক প্রশ্নটি হচ্ছে, তারা কি তাদের আদি পুরুষদের মত একই রকম থাকে? নাকি তারা বিবর্তিত হয়? যদি তারা বিবর্তিত হয়, এই ১২ গোত্র কি একই ভাবে বিবর্তিত হয়েছে নাকি তারা পরস্পর থেকে আলাদা হয়ে বিবর্তিত হয়?

এই ব্রথ, যা আমি বলেছিলাম, এর মধ্যে আছে গ্লুকোজ, কিন্তু এটাই সেখানে একমাত্র খাদ্য না, তবে সেখানে এর পরিমানের একটি নির্দিষ্ট সীমা আছে, এর অর্থ হচ্ছে গ্লুকোজ শেষ হয়ে যাওয়াটাই মুল কারন পাত্রে ব্যাকটেরিয়ার জনসংখ্যা প্রতিদিন ক্রমশ না বেড়ে একসময় স্থিতিশীল একটি অবস্থানে পৌছায়। অন্যার্থে, যদি গবেষকরা পাত্রে আরো গ্লুকোজ সরবরাহ করতো তাহলে দিনের শেষে এই স্থিতিশীল পর্যায়ের অবস্থান হতো আরো উপরে। বা আবারো স্থিতিশীল অবস্থানে পৌছানোর পরে দ্বিতীয় বারের মত বাড়তি সরবরাহকৃত সুগার কারন হতো ব্যাকটেরিয়া জনসংখ্যা বৃদ্ধির দ্বিতীয় পর্যায়ের যা একই ভাবে পরবর্তীতে স্থিতিশীল অবস্থায় পৌছাতো।

এই পরিস্থিতিতে, ডারউইনীয় বিবর্তন আশা করে যে কোন মিউটেশণ যদি এখানে সৃষ্টি হয়, যা কোন একক ব্যাকটেরিয়া সদস্যকে সাহায্য করে আরো ভালোভাবে বা কার্যকরী উপায়ে গ্লুকোজ ব্যবহার করার জন্য, প্রাকৃতিক নির্বাচন সেই মিউটেশনটিকে বিশেষভাবে সহায়তা করে, সেই পাত্রে মিউটেশন সহ ব্যাকটেরিয়ারা মিউটেশন ছাড়া ব্যাকটেরিয়াদের তুলনা অনেক বেশী হারে বংশ বৃদ্ধি করবে। আর এই টাইপের ব্যাকটেরিয়াদের বাড়তি মাত্রার সুযোগ হবে এর পরের পাত্রে তাদের বংশধারা অব্যাহত রাখার জন্য, যখন পাত্র পরিবর্তন করা হয়। এবং খুব দ্রুত এই পরিবর্তিত মিউট্যান্টরা তাদের নিজেদের গোত্রে প্রাধান্য বিস্তার করবে। বেশ, এটাই ঠিক ঘটে এই বারোটি গোত্রের প্রত্যেকটিতে। ক্রমান্বয়ে পাত্র প্রজন্মান্তরে এই ১২ টি বংশধারার প্রত্যেকটি তাদের পুর্বসুরীদের চেয়ে আরো বেশী পরিবর্তিত হয় তাদের বেচে থাকার দক্ষতা বৃদ্ধি সহ: যেমন তারা আরো দক্ষভাবে গ্লুকোজকে ব্যবহার করতে শিখবে খাদ্য হিসাবে। আর সবচেয়ে বিস্ময়কর ব্যাপার হলো, তারা  এই বেশী দক্ষতা অর্জন করে নানা উপায়ে – অর্থাৎ ভিন্ন ভিন্ন গোত্রগুলো ভিন্ন ধরনের মিউটেশনের সৃষ্টি করার মাধ্যমে।

কিন্তু বিজ্ঞানীরা সেটা কিভাবে জানতে পারলেন? তারা সেটা বলতে পারছেন কারন প্রতিটি বংশধারা থেকে নমুনা পরীক্ষা করে তারা দেখেছেন যখন তারা বিবর্তিত হচ্ছে এবং প্রতিটি আধুনিক নমুনায় তাদের বিবর্তিত হওয়া ফিটনেসগুলোর সাথে তাদের পুরোনো সেই জীবাশ্ম পুর্বসুরীরা যাদের দিয়ে তাদের যাত্রা শুরু হয়েছিল তাদের মধ্যে বিদ্যমান ফিটনেস মধ্যকার পার্থক্যগুলোর একটি তুলনামুলক পর্যবেক্ষন করার মধ্য দিয়ে। মনে রাখতে হবে এখানে জীবাশ্মরা হচ্ছে সেই সব ব্যাকটেরিয়াদের হিমায়িত নমুনা, যাদের যখন হিমায়িত থেকে স্বাভাবিক অবস্থায় নিয়ে আসা হয়, তারাও স্বাভাবিকভাবে বেচে উঠে ও বংশ বৃদ্ধি করে। কিন্তু কিভাবে লেনস্কি ও তার সহযোগীরা এই ফিটনেস এর পার্থক্যগুলোর মধ্যে তুলনামুলক গবেষনা করেছিলেন? কিভাবে তারা অপেক্ষাকৃত ’আধুনিক’ ব্যাকটেরিয়াদের ’জীবাশ্ম’ ব্যাকটেরিয়োদের সাথে তুলনা করেছিলেন? সেটাও বেশ বিস্ময়কর, চমৎকার একটি উপায়ে, তারা যে ব্যাকটেরিয়াগুলো বিবর্তিত হয়েছে বলে ধারনা করছেন সেগুলো একটি আনকোরা নতুন বা ভার্জিন পাত্রে নেন, এবং সেখানে তারা একই পরিমান হিমায়িত অবস্থা থেকে পুণরজ্জীবিত করা ব্যাকটেরিয়াদের  রাখেন। বলাবাহুল্য এই সব পরীক্ষামুলক মিশ্র পাত্রগুলো ধারাবাহিকভাবে চলতে থাকা সেই ১২ টি গোত্রের ব্যাকটেরিয়া সহ পাত্রগুলো থেকে আলাদা করে রাখা হয়, এই পার্শ্ব গবেষনা সেই সব নমুনার সাথে করা হয়,যারা মুল গবেষনায় বাড়তি আর কোন ভুমিকা রাখে না।

nrg1088-i1
ছবি: The fitness of an evolved type is generally expressed relative to its ancestor. Relative fitness is measured by allowing the ancestral and evolved types to compete with one another.

সুতরাং আমরা নতুন পরীক্ষার ফ্লাস্ক পাচ্ছি যার মধ্যে দুটি প্রতিদ্বন্দীতারত দুই ধরনের ব্যাকটেরিয়া আছে.. ’আধুনিক’ ও ’জীবন্ত জীবাশ্ম’ প্রকার, এবং আমরা জানতে চাই এই দুটি গ্রুপের মধ্যে কোনটি এখানে প্রাধান্য বিস্তার করবে এবং সংখ্যাবৃদ্ধিতে এগিয়ে যাবে। কিন্তু তারা তো সব মিলে মিশে আছে পাত্রে, কিভাবে আমরা সেটা বলতে পারেবো? কিভাবে আপনি এই দুটি প্রকারের ব্যাকটেরিয়াদের আলাদা করতে পারবেন, যখন তারা এই কম্পিটিশন ফ্লাস্ক এ এক সাথে অবস্থান করছে। আমি আপনাদের বলেছি কৌশলটা আসলেই অসাধারণ। আপনার সেই কালার কোডিং এর কথা মনে আছে তো, সেই লাল (Ara -)এবং সাদা (Ara+) ? আপনি যদি তাদের ফিটনেস তুলনা করতে যান, যেমন ধরুন, ট্রাইব (গোত্র) ৫ এর  এর সাথে তাদের প্রাচীন আদিরুপ জীবাশ্ম প্রকার জনগোষ্ঠীর মধ্যে, আপনি কি করবেন? ধরুন ট্রাইব ৫ হচ্ছে Ara+ , তাহলে আপনাকে নিশ্চিৎ করবেন পুর্বসুরী জীবাশ্ম প্রজাতির যে ব্যাকটেরিয়াদের তাদের সাথে তুলনা করবেন তারা যেন হয় Ara – ; এবং যদি ট্রাইব ৬ হয় Ara-, আপনি তাদের সাথে প্রতিদ্বন্দীতার জন্য যোগ করবেন Ara+ ধরনের পুর্বসুরীদের ; Ara+ এবং Ara – জীনগুলো নিজেরা এককভাবে, যেমন লেনস্কি র টীম আগেই জানতেন, তাদের আগের গবেষনা থেকে – ফিটনেস এর উপর কোন প্রভাব ফেলে না। সুতরাং তারা এই রঙ্গীন মার্কার গুলো ব্যবহার করে দেখতে পারেন প্রতিটি বিবর্তিত টাইপের প্রতিদ্বন্দীতা করার ক্ষমতা, যেখানে প্রতিটি ক্ষেত্রে স্ট্যান্ডার্ড হিসাবে ব্যবহার করা হবে জীবাশ্ম টাইপের ব্যাকটেরিয়াদের। তাদের শুধু যা করতে হবে তা হলো এই মিশ্র ফ্লাস্ক থেকে নমুনা সংগ্রহ করে আগারের মধ্যে কালচার বসিয়ে দেখতে হবে আগারের উপর বংশবৃদ্ধি করা ব্যাকটেরিয়া কলোনীগুলো কয়টি সাদা আর কয়টি লাল। ( উপরের ছবি)

05-11-2013 12-44-35 AM
গ্রাফ: একটি ব্যাকটেরিয়া গোত্রের সদস্য শরীরের আকার বৃদ্ধি ( লেনস্কি েএকপেরিমেন্ট)

যেমনটি বলেছিলাম, ১২ টি গোত্রের প্রত্যেকটিরই গড় ফিটনেস বেড়ে যায় সহস্রাধিক প্রজন্মান্তর অতিক্রম হবার মাধ্যমে,১২ টা লাইনের প্রত্যেকটি আরো বেশী দক্ষ হয়ে উঠে সীমিত পরিমান গ্লুকোজের পরিবেশে টিকে থাকতে আর এই ফিটনেস বাড়ার কারন হতে পারে বেশ কিছু পরিবর্তন। জনসংখ্যা ক্রমেই বেশী হারে বাড়তে থাকে ফ্লাস্ক পরিবর্তনের সাথে ক্রমান্বয়ে আর সে সাথে ব্যাকটেরিয়াদের স্বাভাবিক আকারও বড় হয়, এই ১২ টি লাইনের প্রত্যেকটি। উপরে গ্রাফ দেখাচ্ছে কোন একটি গোত্রে ব্যাকটেরিয়াদের গড় আকার, যা খুবই স্বাভাবিক মাপের। গ্রাফের ফোটাগুলো সত্যিকারের ডাটা পয়েন্ট নির্দেশ করছে, কার্ভটি আকা হয়েছে গানীতিকভাবে তুলনায় ধারনা করে। এটা এই ধরনের কার্ভের জন্য সবচেয়ে ভালো ফিট করে, যাকে বলে হাইপারবোলা। কোন একটি হাইপারবোলার চেয়ে আরো জটিল গানিতীক সুত্র এই মডেলের জন্য আরো প্রযোজ্য হতে পারে, কিন্তু এই হাইবোলাও যথেষ্ট ভালো, আর সে কারনে বাড়তি প্রচেষ্টার তেমন কোন মুল্য নেই। জীববিজ্ঞানীরা মাঝে মাঝে গানিতীক কার্ভগুলোয় প্রাপ্ত উপাত্ত ফিট করার চেষ্টা করেন, তবে পদার্থবিদদের ব্যতিক্রম, জীববিজ্ঞানীরা এত ভালোভাবে ডাটা ফিট হবার ব্যাপারটা আশা করেন না, কারন আমাদের ডাটাগুলো বেশ এলোমেলো। ভৌতবিজ্ঞানের অন্যান্য শাখাগুলোর ব্যতিক্রম আমরা শুধু মসৃণ কার্ভই আশা করতে পারি যখন আমরা অনেক বিশাল পরিমান ডাটা খুব যত্নের সাথে সংগ্রহ করি নিয়ন্ত্রিত পরিস্থিতিতে। আর লেনস্কি গবেষনা ছিল দারুন ভাবে সুশৃঙ্খল।

05-11-2013 12-42-03 AM

আপনি দেখতে পারছেন যে শরীরের আকারের বৃদ্ধির যা ঘটেছে প্রথম ২০০০ বা এর কাছাকাছি সংখ্যক প্রজন্মে। এর পরের মজার প্রশ্নটি হচ্ছে, যে ১২ টি গোত্রর সদস্যদের শরীরের আকার বেড়েছে বিবর্তনীয় সময়ের স্কেলে, তারা কি সব একই ভাবে আকারে বেড়েছে এবং একই জীনগত পথে? না, সেটা হয়নি, আর সেটাই গবেষনাটির দ্বিতীয় মজার ফলাফল। উপরের প্রথম গ্রাফটি ১২ গোত্রের একটির। ভালো করে দেখুন আকারের মধ্যে তাদের বিশেষ বৈচিত্রতা, তারা সবাই আপাতদৃষ্ঠে কোন স্থিতিশীল দিকে অগ্রসর হচ্ছে এবং সবচে নীম্ন স্থিতিশীল আকারটি সর্বনিম্ন থেকে দ্বিগুন বেশী। এবং এই কার্ভগুলোর ভিন্ন ভিন্ন আকারও আছে, যে কার্ভটি সবচেয়ে উপরে দিকে অগ্রসর হয়েছে ১০০০০ তম প্রজন্মে, তারা অন্যদের চেয়ে বেশ ধীরে শুরু করেছিল, তবে তারা ৭০০০ প্রজন্মর আগেই বাকীদের অতিক্রম করে চলে যায়। এই প্লাটু গুলো নিয়ে কোন সংশয় করবেন না দৈনন্দিন প্ল্যাটুর সাথে যা কোন ফ্লাস্কে জনসংখ্যার সাইজকে প্রতিনিধিত্ব করে। আমরা এখন এই কার্ভটি দেখছি বিবর্তনীয় সময়ের স্কেলে, যা পরিমাপ করা হয়েছে ফ্লাস্কের জেনারেশনের উপর, কোন একক ব্যাকটেরিয়ার সময় নিয়ে না, যা কোন ফ্লাস্কে ঘন্টার সময় স্কেলে মাপা যায়।

এই বিবর্তনীয় পরিবর্তনগুলো যা প্রস্তাব করে তাহলো নিশ্চয়ই কিছু কারনে আকারে বড় হওয়াটা একটা ভালো উপায়, যখন আপনি চেষ্টা করবেন গ্লুকোজ সমৃদ্ধ আর গ্লুকোজের অভাব এই দুটি পর্যায়ক্রমে আসার পরিস্থিতিতে  যখন বাচার চেষ্টা করব্নে। আমি কোন ধারনা করতে চাইছি না কেন শরীরের আকৃতি বড় হওয়া বাড়তি সুবিধা দেয়, বেশ কিছু কারনের সম্ভাবনা আছে, কিন্তু দেখে মনে হয় এটির অবশ্যই কিছু সুবিধা আছে, কারন ১২ গোত্রর প্রত্যেকটি সেই কাজ করে, কিন্তু তাদের এই বড় হবার উপায়গুলোও নানা রকমের — ভিন্ন ভিন্ন সেট মিউটেশন – দেখে মনে হয় যেন এই ভিন্ন ভিন্ন পথগুলো যেন প্রতিটি গোত্রর বিবর্তিত বংশধারা এই গবেষনায় খুজে পেয়েছে। বিষয়টি অবশ্যই কৌতুহলোদ্দীপক, কিন্তু আরো মজার বিষয়টি হলো এক জোড়া গোত্রের ব্যাকটেরিয়া সদস্যরা স্বতন্ত্রভাবে একই উপায় খুজে বের করেছে শরীরের আকার বড় করার জন্য। লেনস্কি এবং ভিন্ন গ্রুপের সহযোগীরা এই বিষয়টি নিয়ে গবেষনা করেছেন, দুটি গোত্র, Ara +1 ও Ara -1 দের নিয়ে, তাদের ডিএনএ বিশ্লেষন করে আমরা  দেখেছি ২০০০০ প্রজন্ম তারা একই বিবর্তনীয় পথ অতিক্রম করেছে,  বিস্ময়কর যে ফলাফলটি তারা আবিষ্কার করেন তাহলে ৫৯ টি জীন তাদের প্রকাশের স্তরে পরিবর্তিত হয়েছে দুটি গোত্রে এবং ৫৯ টির সবগুলো পরিবর্তিত হয়েছে একই দিকে। এই ৫৯ টি জীনে পরিবর্তন, একই সমান্তরালে ও স্বতন্ত্রভাবে, প্রাকৃতিক নির্বাচনের মাধ্যমে যদি তা না ঘটতো, এটা অবিশ্বাস্য হতো ; এরকম কোন কিছু হবার ঘটনা শুধু মাত্র সুযোগ বা চান্স এর মাধ্যমে সেটার সম্ভাবনা হতভম্ব করে দেবার মত সামান্য। সৃষ্টিবাদিরা ঠিক এই জিনিসটা হতে পারে না বলে দাবী করে, কারন বাই চান্স কোন কিছু হওয়া তাদের কাছে অত্যন্ত অসম্ভব। কিন্তু আসলে এটা ঘটে এবং এর ব্যাখ্যা অবশ্যই, এটা বাই চান্সের মাধ্যমে ঘটে নি, বরং এর কারন ধীর, ধাপে ধাপে, পুন্জিভুত পরিবর্তন গুলোকে সাহায্য করে – আক্ষরিক অর্থে একই পরিবর্তনগুলোকে সাহায্য করেছে দুটি ভিন্ন গোত্রে স্বতন্ত্রভাবে।

05-11-2013 12-36-11 AM

প্রজন্মান্তরে ক্রমেই বাড়তে থাকা শরীরের আকৃতির মসৃন কার্ভ সেই ধারনাটিকে সমর্থন করে, যা দাবী করছে এই পরিবর্তনটি ধীরে ধীরে হচ্ছে;কিন্ত হয়তো এটা বেশী ধীর লয়ে? আপনি কি সত্যিকারের ভিন্ন ভিন্ন ধাপগুলো আশা করবেন না..যেখানে ব্যাকটেরিয়া জনসংখ্যা  অপেক্ষা করবে না.. কবে এর পরের মোটা দাগের উন্নতির মিউটেশনটি ঘটবে? না এমন কোন বাধ্যবাধকতা নেই, এটি নির্ভর করে সেই সব ফ্যাকটরের উপর, যেমন কয়টি সংশ্লিষ্ট মিউটেশন ঘটলো, এবং প্রতিটি মিউটেশনের প্রভাবের মাত্রা, অন্যান্য জীনের প্রভাবে পরিবর্তিত কোষের আকার এবং কত ঘন ঘন ব্যাকটেরিয়াদের থেকে নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। এবং মজার ব্যপার হচ্ছে আমরা যদি ফিটনেস বৃদ্ধি হবার  উপরের গ্রাফটি লক্ষ্য করি, কোষের আকারের পরিবর্তে আমরা যা দেখবো তা অন্তত ব্যাখ্যা করা যায় আরো বেশী স্পষ্টভাবে ধাপে ধাপে ঘটার গ্রাফ। আপনাদের মনে আছে, যখন আমি হাইপারবোলার ধারনাটি ব্যাখ্যা  করেছিলাম, আমি বলবো সম্ভব হতে পারে আরো জটিল কোন গনিতের সুত্র বের করা যেখানে এই উপাত্তগুলো ভালো ভাবে বিশ্লেষন করা যায়। গনিতজ্ঞরা যাকে বলেন মডেল। আপনি একটি হাইপারবলিক মডেলে এই ডাটা পয়েন্টগুলো ফিট করতে পারবেন এর আগের গ্রাফগুলোর মত, কিন্তু আপনি আরো বেশী ভালো ফিট পাবেন স্টেপ মডেলে, যেমনটা এই ছবিতে ব্যবহার করা হয়েছে। কোষের আকার যেভাবে হাইপারবোলা মডেলে ঠিক ফিট করেছে এটি এত ভালোভাবে ফিট করবে না এখানে। কিন্তু ডাটাগুলো অন্ততপক্ষে বিবর্তনীয় পরিবর্তনের সাথে সামন্জষ্যপুর্ণ যা আমার দেখছি, সেটা ধাপে ধাপে পুন্জিভুত মিউটেশন। এটি কোষের আকারে যেভাবে হাইপারবোলা গ্রাফে সুন্দর ভাবে খাপ খাইয়ে নিয়েছে ।কোন ক্ষেত্রেই প্রমান করা যাবে না ডাটাগুলো মডেল এর সাথে খুব ভালোভাবে ফিট করেছে বা কাজটি কখনো সেভাবে করা যাবে।কিন্তু ডাটাগুলো অন্তত সেই বিবর্তনীয় পরিবর্তনের ধারনার সাথে সামন্জষ্যপুর্ণ যা আমরা দেখতে পাচ্ছি মিউটেশনের ধাপে ধাপে পুন্জীভুত হওয়ার গ্রাফটি যা প্রতিনিধিত্ব করছে।

আমরা এতক্ষন যা দেখলাম তা আসলে বিবর্তন প্রক্রিয়ার চাক্ষুষ প্রমান, আমাদের সামনেই যা কাজ করছে। যা ১২ টি ভিন্ন ভিন্ন ব্যাকটেরিয়ার বংশধারার মধ্যে তুলনামুলক পর্যালোচনা করলেই আমরা দেখতে পাই, একইভাবে তাই আমরা দেখতে পাই যখন প্রতিটি বংশধারা  আমরা তাদের জীবন্ত জীবাশ্ম লাইনের সাথে তুলনা করি, যা আক্ষরিক অর্থের বদলে রুপকার্থে.. এসেছে অতীত থেকে।

05-11-2013 12-35-36 AM

এখন আমরা প্রস্তুত আরো কৌতুহলোদ্দীপক ফলাফল জানার জন্য.. আপাতত, আমি বলেছিলাম যে ১২ টি গোত্র তাদের ফিটনেস এর উন্নতির ক্ষেত্রে বিবর্তিত হয়েছে একই ধরনের সাধারণ একটি উপায়ে, যেখানে পার্থক্য শুধু খুটিনাটি কিছু বিষয়ে। কোনটি বেশী দ্রুত, কোনটি অন্যদের চেয়ে খানিকটা ধীরে, তবে দীর্ঘদিন ব্যাপী এই পরীক্ষা একটি নাটকীয় ব্যতিক্রমেরও জন্ম দিয়েছে।৩৩০০০ এর মত প্রজন্মের পর খুবই অদ্ভুত কিছু ঘটনা ঘটে.. বারোটা গোত্রের একটি , যার নাম Ara-3  হঠাৎ করেই অদ্ভুত আচরণ শুরু করে। উপরের গ্রাফটি খেয়াল করুন। এর উল্লম্ব অক্ষ, যা চিহ্নিত করা হয়েছে OD হিসাবে, যার অর্থ optical density বা Cloudiness বা অস্পষ্টতা, হচ্ছে কাচের পাত্রের জনসংখ্যার পরিমাপের একটি নির্দেশক। পাত্রের তরল ঝাপসা হয়ে যায় কারন ব্যাকটেরিয়াদের বিস্ময়কর রকম সুবিশাল সংখ্যায় উপস্থিতি। এই অস্বচ্ছতা বা Cloud এর পুরুত্ব মাপা যেতে পারে একটি সংখ্যা হিসাবে, সেই সংখ্যাটি হচ্ছে জনসংখ্যার ঘনত্বের একটি ইনডেক্স বা পরিমিতি। আপনি দেখতে পাবেন ৩৩০০০ প্রজন্ম অবধি Ara -3 গোত্রের জনসংখ্যার ঘনত্ব মোটামুটি ০.০৪ OD র কাছাকাছি অবস্থান করছে, যা অন্য কোন ট্রাইব থেকে খুব বেশী ভিন্ন নয়। তারপর জেনারেশন ৩৩১০০ থেকেই Ara -3 ট্রাইবের OD স্কোর সরাসরি উল্লম্বভাবে উঠে গেছে উপরে। প্রায় ৬ গুন বৃদ্ধি পায় OD স্কোর: ০.২৫; এই গোত্রের পরবর্তী প্রজন্মের সংখ্যাও এভাবে দ্রুত বাড়তে থাকে পরের পাত্রগুলোয়, এবং কিছুদিন পরে তারা বৈশিষ্টসুচক বংশবৃদ্ধির স্থিতাবস্থায় আসে এবং এসময় তাদের OD স্থিতিশীল হয় আগে যা ছিল তারচেয়ে ৬ গুন বেশী হয়ে, যা অন্যান্য সব ট্রাইব থেকেও অনেক বেশী। এই উচু স্থিতাবস্থা এর পরের সবগুলো প্রজন্মই প্রদর্শন করে, শুধু এই গোত্রে, অন্য কোনটি না। যেন মনে হতে পারে Ara -3 গোত্রে ফ্লাস্কে কেউ বেশ বিশাল পরিমান বাড়তি গ্লুকোজ বা খাদ্য সরবরাহ করেছে, অন্য কোনটায় যা করা হয়নি। কিন্তু তেমন কিছু করা হয়নি। একই পরিমান গ্লুকোজ খুব সতর্কতার সাথে যোগ করা হয়েছে প্রতিটি পাত্রে সমানভাবে।

তাহলে কি ঘটনা ঘটছে এখানে? হঠাৎ করেই কি ঘটলো Ara-3 গোত্রের? লেনস্কি ও তার দুই সহযোগী ব্যপারটা বোঝার চেষ্টা করেন আরো বাড়তি কিছু গবেষনা করে এবং তারা এর কারণটাও খুজে বের করেন। সেই কাহিনীটাও বিস্ময়কর। আপনাদের মনে আছে আমি বলেছিলাম গ্লুকোজ এর সরবরাহ সীমাবদ্ধ সুতরাং কোন বিশেষ মিউটেশন সহ ব্যাকটেরিয়া যদি খুজে বের করতে পারে কিভাবে সীমিত পরিমান গ্লুকোজ ব্যবহার করা যায় দক্ষতার সাথে, তারা অবশ্যই বাড়তি সুযোগ পাবে অন্যদের চেয়ে। এবং বিবর্তনের সময় এই ১২ গোত্রে সেটাই ঘটেছে। এবং আমি আপনাদের আরো বলেছিলাম গ্লুকোজ ই একমাত্র পুষ্টির উৎস ছিল না সেই পাত্রের তরলে (ব্রথ); আরো ছিল সেখানে সাইট্রেট (এটি সেই রাসায়নিক পদার্থের সাথে সংশ্লিষ্ট যারা লেবুর টক হবার জন্য দায়ী), কিন্তু E coli সাধারণত এটা ব্যবহার করতে পারে না। অন্ততপক্ষে যখন অক্সিজেন এর উপস্থিতি থাকে পানিতে, যেমন লেনস্কির ফ্লাস্ক এ ছিল। কিন্তু যদি একটি মাত্র মিউট্যান্ট সেখানে আবিষ্কার করতে পারে কিভাবে সাইট্রেট ব্যবহার করা যায়, বিশাল খাদ্য সম্ভার ব্যবহারের দরজা তাদের সামনে খুলে যায়, এটাই ঠিক ঘটেছিল Ara -3 গোত্রের সাথে। এই গোত্র এবং শুধু এই গোত্রই, হঠাৎ করেই গ্লুকোজ ছাড়াও সাইট্রেটও খাদ্য হিসাবে ব্যবহার করতে শেখে। সে কারনে ধারাবাহিকভাবে পাত্রগুলোতে এই গোত্রর জন্য বরাদ্দকৃত খাদ্যর পরিমান অনেক মাত্রায় বেড়ে যায়, আর তাদেরও সেই স্থিতাবস্থায় পৌছানো সম্ভব হয়  যা অন্য কোন গোত্র থেকে অনেক উপরের স্তরে।

Ara-3 এর বিশেষ বৈশিষ্টটি আবিষ্কার করার পর, লেনস্কি ও তার সহযোগীরা আরো একটি মজার প্রশ্নের উত্তর খোজার চেষ্টা করেন। এই অন্য একটি রাসায়নিক দ্রব্যকে খাদ্য হিসাবে ব্যবহার করা কৌশলটি যা হঠাৎ করেই ঘটেছে সেটি কোন একটি নাটকীয় ভাবে উদ্ভব হওয়া এমন কোন মিউটেশনের কারণে ঘটেছে ? যে মিউটেশনটি এতই দুর্লভ যে ১২ টি গোত্রের মধ্যে মাত্র একটি ভাগ্যবান গোত্রর মধ্যে সেটি উদ্ভব হয়েছে? অন্যার্থে এটা কি শুধুমাত্র যে কোন একটি মিউটেশনাল ধাপ, যা উপরের গ্রাফের ছোট ছোট ধাপ যা প্রদর্শন করেছে তার একটি ? লেনস্কির কাছে ব্যপারটা তা মনে হয়নি। এবং তার কারনও মজার। এইসব ব্যাকটেরিয়ার জীনোমে মিউটেশনের গড়  হার জানা ছিল তার, তার মতে ৩০০০০ প্রজন্ম আসলে যথেষ্ট বড় সময়, জীনোমের প্রতিটি জীনে অন্তত একবার মিউটেশন হবার জন্য প্রতিটি গোত্রে। সুতরাং খুব সম্ভবত এটি দুর্লভ মিউটেশন না, যা Ara-3 গোত্রটিকে বেছে নিয়েছে তাদের জনোমে উদ্ভব হবার জন্য। অন্যান্য গোত্রগুলোর এই জীনটা ’আবিষ্কার’ করা উচিৎ ছিল।

আরেকটি তাত্ত্বিক সম্ভাবনা আছে.. এবং খুবই লোভনীয়, তবে এখানে কাহিনীটা বেশী জটিল হয়ে উঠে, সুতরাং এখন যদি খুব রাত হয়ে থাকে তাহলে পড়াটা আগামীকাল সকাল শুরু করাই উত্তম….

কি হতে পারে যদি সাইট্রেটকে খাদ্য হিসাবে ব্যবহার করার প্রানরাসায়নিক যাদুকরীর প্রযোজনীয় বিক্রিয়ারগুলোর জন্য শুধু একটা না বরং দুটো ( বা তিনটি) মিউটেশনের প্রয়োজন পড়ে? আমরা কিন্তু এখানে দুটো মিউটেশন এর কথা বলছি না যারা একের অপরের সাথে সাধারন সংযোগ হবার মাধ্যমে সৃষ্টি হয়েছে। তাই যদি বলতাম, তাহলে যথেষ্ট ছিল দুটো মিউটেশন যে কোন ক্রমানুসারে পাওয়াটাই যথেষ্ট ছিল, যার যে কোন একটাই লক্ষ্যর অর্ধেকটা পথ নিয়ে যেত, তবে দুটো মিউটেশন এক সাথে যতটুকু পারতো তার চেয়ে কম হতো সেটা। শরীরের আকৃতি বৃদ্ধি হকার মিউটেশন নিয়ে যে আলোচনা করলাম ইতিমধ্যে এটি সেটির সমতুল্য হবে। কিন্তু এ ধরনের কোন পরিস্থিতি খুব দুর্লভ হবে না যথেষ্টভাবে যা কিনা Ara-3 গোত্রের নাটকীয় অনন্যতা ব্যাখ্যা করতে পারে। না, সাইট্রেট বিপাক প্রক্রিয়ার দুর্লভ বিষয়টি প্রস্তাব করে আমরা এমন কিছু খোজার চেষ্টা করছি যা অনেকটা সৃষ্টিবাদীদের প্রচারণার সেই ‘irreducible complexity’ মত। এটা হতে পারে প্রাণরাসায়রনিক একটি প্রক্রিয়া যেখানে কোন একটি রাসায়নিক বিক্রিয়ার  কোন পদার্থ দ্বিতীয় রাসায়নিক প্রক্রিয়াটি পরিচালনা করে। এবং তারা একে অপরের সাহায্য ছাড়া দুজনে কোন কিছুই করতে পারেনা। এটার জন্য দরকার দুটো মিউটেশন, মনে করুন A এবং B, এই দুই রাসায়নিক বিক্রিয়ার অনুঘটক হিসাবে। এই হাইপোথিসিস অনুযায়ী আপনার আসলেই দুটো মিউটেশন থাকবে কোন ধরনের উন্নতি নজরে আসবার জন্য এবং সেই আসলেই যথেষ্ট পরিমানে অসম্ভব  ব্যাখ্যা করা, কেন এটি ১২ টি গোত্রের  মধ্যে কেবল মাত্র  একটির মধ্যে দৃশ্যমান কিছু পরিবর্তনের কারণ হয়।

কিন্তু সেটা  পুরোটাই হাইপোথেটিকাল, লেনস্কি গ্রুপ কি কোন পরীক্ষা করে বের করতে পারবেন আসলেই সেখানে কি ঘটছে। বেশ তারা সেই বরাবর পদক্ষেপ নিতে পারেন। তাদের অসাধারন হিমায়িত জীবাশ্ম নমুনাগুলোর উত্তম একটি ব্যবহার করতে পারেন, যা এই গবেষনার জন্য অবশ্যই চলমান একটি আশীর্বাদ স্বরুপ। হাইপোথিসিসটি – আবার পুণরাবৃত্তি করছি – হচ্ছে, কোন একটি অজানা সময়ে Ara -3 গোত্র সেই মিউটিশেনটি হয়েছে আপতনের মাধ্যমে..মিউটেশন A, কিন্তু তাদের কোন প্রভাব শনাক্ত করা যায় না কারন অন্য প্রয়োজনীয় মিউটেশন B তখনও অনুপস্থিত। মিউটেশন B ও একই ভাবে যে কোন ট্রাইবের মধ্যে উদ্ভব হতে পারে, আসলেই সেটাই সম্ভবত হয়েছিল। কিন্তু B একা কোন কাজের না, কোন উপকারী ভুমিকা তা পালন করেনাম, যদি না ট্রাইব এর আগে ঘটা মিউটেশন A মাধ্যেমে তা কার্যকরী হয়ে না উঠে থাকে। এবং এই একটি ট্রাইব Ara -3 কে দেখা যায়, আগে থেকেই তারা প্রস্তুত ছিল পুরবর্তী A মিউটেশনের উপস্থিতির মাধ্যমে।

লেনস্কি তারা হাইপোথিসিস কে নতুন ভাবে উপস্থাপন করতে পারতেন প্রমান করা যায় এমন কিছু ভবিষ্যদ্বানী করার মাধ্যমে। এবং ব্যপারটা আসলেই মজার এভাবে উপস্থাপন করা, কারন এটি আসলে ভবিষ্যদ্বানী এমনকি যদিও এক অর্থে এটি অতীত সম্বন্ধে। এভাবে আমি প্রেডিকশনটা সাজাতাম, যদি আমি লেনস্কি হতাম:

আমি Ara-3 গোত্রে সদস্যদের হিমায়িত জীবাশ্ম থেকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনবো বিভিন্ন সময় পয়েন্ট থেকে, কৌশলের সাথে বাছাই করে, বহুদিন আগ পর্যন্ত পিছিয়ে গিয়ে।  এই সব ’ল্যাজারাস ক্লোনগুলোর’ প্রত্যেকটিকে আবারো বিবর্তিত হবার সুযোগ দেয়া হবে আরো, মুল বিবর্তনের পরীক্ষার সেই একই পরীক্ষার প্রণালীর মধ্য দিয়ে, তবে অবশ্যই সেই মুল পরীক্ষা থেকে তারা পৃথক থাকবে সবসময় । আমার ভবিষ্যদ্বানী হলো, এই ল্যাজারাস ক্লোন এর কয়েকটি অবশ্যই খুজে বের করবে কিভাবে সাইট্রেট ’ব্যবহার’ করা যায়, কিন্তু শুধুমাত্র যদি তাদের হিমায়িত অবস্থা থেকে স্বাভাবিক অবস্থায় নিয়ে আসা যায় ফসিল রেকর্ড থেকে, মুল বিবর্তন পরীক্ষার নির্দিষ্ট, ক্রিটিক্যাল সংখ্যক কিছু প্রজন্ম পরে; আমরা এখনও জানিনা,কখন সেই ম্যাজিক প্রজন্মটি উদ্ভব হয়েছে, তবে আমরা সেটা চিহ্নিত করতে পারবো, এবং আমাদের প্রাকধারণা বা পুর্বদৃষ্টি দিয়ে, সেই মুহুর্ত হিসাবে, যা আমাদের হাইপোথিসিস অনুযায়ী মিউটেশন A গোত্রের জীনোমে প্রবেশ করেছে।

আপনি খুশী হবে শুনে যে ঠিক এটাই  খুজে পেয়েছিলেন লেনস্কির ছাত্র জাকারী ব্লাউন্ট। তিনি খুবই পরিশ্রমের বহু পরীক্ষা নীরিক্ষা করেছিলেন প্রায় ৪০ ট্রিলিয়ন ৪০,০০,০০০,০০০,০০০ E coli ব্যাকটেরিয়ার উপর তাদের বেশ কটি প্রজন্ম ব্যাপী। তিনি সেই ম্যাজিক মোমেন্টটি খুজে পেয়েছিলেন জেনারেশননং ২০০০০ এ। হিমায়িত অবস্থা থেকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনা Ara -3 র ক্লোন ২০০০০ তম জেনারেশন পর থেকে তাদের ফসিল রেকর্ডে প্রদর্শন করেছে সাইট্রেট ব্যবহার করার ক্ষমতা অর্জনের বাড়তি সম্ভাবনা ও  জেনারেশন ২০০০০ এর আগে কোন ক্লোন এ সেটা ঘটেনি। এই হাইপোথিসিস অনুযায়ী জেনারেশন ২০০০০ এর পর ক্লোনরা প্রস্তত বা প্রাইম হয়েছিলে মিউটেশন B এর সুবিধা আদায় করে নেবার জন্য যখনই এর উদ্ভব হয়েছে। এবং এর পরে কোন পরিবর্তনের সম্ভাবনাও, যে কোন দিকেই কমে যাবে, একবার যখন জীবাশ্ম নমুনা পুনরজ্জীবন দিবস জেনারেশন ২০০০০ এর সেই ম্যাজিক তারিখের পরে হবে: জেনারেশন ২০০০০ এর পর যে  নমুনাই ব্লাউন্ট সংগ্রহ করেছেন, সেই হিমায়িত অবস্থা থেকে স্বাভাবিক অবস্থা নিয়ে আসা  ব্যাকটেরিয়াদের পরবর্তীতে সাইট্রেট ব্যবহারের ক্ষমতা উদ্ভব হবার সম্ভাবনার কোন পরিবর্তন হয় না। কিন্তু হিমায়িত অবস্থা থেকে স্বাভাবিক অবস্থা নিয়ে আসা নমুনাগুলোর ক্ষেত্রে জেনারেশন ২০০০০ এর আগে এই সম্ভাবনা কিন্তু কোন কারনে বাড়তি ছিল না। গোত্র Ara -3 জেনারেশন ২০০০০ এর আগে, আর যে কোন ট্রাইবের মতই ছিল; যদিও এর সদস্যরা গোত্র Ara -3 এর সদস্য হওয়া সত্ত্বেও মিউটেশন A ছিল না তাদের জীনোমে। কিন্তু জেনারেশন ২০০০০ এর পর গোত্র Ara -3 প্রস্তুত বা প্রাইম হয়েছিল, এবং শুধুমাত্র এর পরেই তারা মিউটেশন B এর সুবিধা নেবার দক্ষতা অর্জন করেছিল, যখন সেটি উদ্ভব হয়েছিল – যে মিউটেশনটি সম্ভবত অন্যান্য গোত্রেও উদ্ভব হয়েছিল কয়েকটি গোত্রে..কিন্তু তা কোন উপকারে আসেনি। বৈজ্ঞানিক গবেষনায় মাঝে মাঝে দারুন আনন্দের ঘটনা ঘটে, নি:সন্দেহে এটি তার একটি।

nature11487-f1.2
ছবি: An experiment studying bacterial populations over thousands of generations shows that a novel trait can evolve through rearrangement and amplification of a few pre-existing genes. ( Cit: সাইট্রেট)

লেনস্কি গবেষনা প্রদর্শন করছে, মাইক্রোকসম এ এবং ল্যাবে, অত্যন্ত দ্রুতগতিতে পুরো প্রক্রিয়াটি ঘটে ফলে আমাদের চোখের সামনেই আমরা ঘটতে দেখি প্রাকৃতিক নির্বাচনের অনেকগুলো গুরুত্বপুর্ণ অংশ: র‌্যানডোম মিউটেশনের পর  ঘটে নন র‌্যানডোম প্রাকৃতিক নির্বাচন; স্বতন্ত্রভাবে ভিন্ন ভিন্ন উপায়ে একই পরিবেশে অভিযোজিত হওয়া; যে প্রক্রিয়ায় পরবর্তী  মিউটেশন এর আগের মিউটেশনগুলোর সাথে সংযোগে সৃষ্টি করে বিবর্তনীয় পরিবর্তন। যেভাবে কিছু জিন নির্ভর করে, তাদের প্রভাবের জন্য, অন্য জীনের উপস্থিতির উপর, কিন্ত এ সব কিছুই হয় বিবর্তন সাধারনত যে সময় নেয় তার খুব সামান্যতম অংশতেই।

বৈজ্ঞানিক প্রচেষ্টার এই বিজয় কাহিনীর পরে কিছু কৌতুকময় ধারাবাহিকতা আছে.. সৃষ্টিবাদীরা এটি ঘৃণা করে। বিবর্তন যে কাজ করছে এটা শুধু সেটাই প্রমান করে না; বা এটি শুধু স্পষ্টভাবে প্রদর্শনই করে না যে কোন সৃষ্টিকর্তার হস্তক্ষেপ ছাড়াই নতুন তথ্য জীনোমে প্রবেশ করছে আর এমন কিছু ঘটা যে সম্ভব.. এসব কিছুই তাদের শেখানো হয়েছে অস্বীকার করার জন্য। শেখানো বা বলা হয়েছে কারন বেশীর ভাগই জানেন না বা বুঝতে পারেন না এই ইনফরমেশন বলতে কি বোঝায় আসলে। এটি শুধু যে প্রাকৃতিক নির্বাচনের শক্তিকেই প্রদর্শন করে তাই না, যা কিনা জীনের সম্মিলিত শক্তিকে কাজে লাগায়, অজ্ঞ সৃষ্টিবাদীদের প্রিয় গণণায় যা অসম্ভবের পর্যায়ে পড়ে। এবং একই সাথে এটি irreducible complexity র মুল মন্ত্রটি ভুল প্রমান করে। সুতরাং অবাক হবার কোন কারণ নেই লেনস্কি গবেষনার ফলাফলে বিচলিত তারা অতি উৎসাহের সাথে এর ভুল খোজার জন্য ব্যস্ত হয়ে পড়বে।

ভ্রান্ত ধারনা প্রসারের লক্ষ্যে  উইকিপিডিয়ার কুখ্যাত অনুকরণ কনজারভেপিডিয়ার সৃষ্টিবাদী সম্পাদক  অ্যান্ড্রৃ শ্লাফলি, ড: লেনস্কি কে লিখেছিলেন তার গবেষনার ডাটা গুলো বিশ্লেষনের সুযোগ তাকে দেয়া হোক, স্পষ্টতই গবেষনার সত্যতা নিয়ে তার সন্দেহ ছিল। লেনস্কির কোন বাধ্যবাধকতা ছিলনা এধরনের কোন ভিত্তিহীন ইঙ্গিতপুর্ণ চিঠির কোন জবাব দেবার, কিন্তু খুব ভদ্রভাবে তিনি সেটাই করেছিলেন, মৃদুভাবে প্রস্তাব করেছিলেন তার পেপারটা ভালো করে পড়ে যেমন শ্লাফলি যেন এর সমালোচনা করার চেষ্টা করেন। লেনস্কি আরো যোগ করেন তার শ্রেষ্ঠ ডাটাগুলো হিমায়িত ব্যাকটেরিয়ার কালচার হিসাবে সংরক্ষিত আছে, যা কেউ, নীতিগতভাবে চাইলে পরীক্ষা করে দেখতে পারেন, এবং এর উপসংহার যাচাই করে দেখতে পারেন। তিনি আনন্দের সাথে কোন ব্যাকটেরিওলজিষ্ট যিনি এই সব নমুনা সামলাতে পারবেন তাকে পাঠাতে প্রস্তুত আছেন, কারন তিনি ইঙ্গিত করেন যে কোন একজন অপ্রশক্ষিত কারো হাতে সেই নমুনা গুলো ক্ষতিকর হতে পারে। লেনস্কি সেই ব্যাকটেরিওলজিষ্ট এর কি কি গুনাবলী থাকা দরকার তার একটি তালিকা করেন বিস্তারিতভাবে কোন দয়ামায়া ছাড়া এবং যে কেউ পড়লে সেটা অনুভব করতে পারবেন, কত বিস্তারিতভাবে আনন্দের সাথে লেনস্কি সেটি তৈরী করেছিলেন। কারন তার জানা ছিল, শ্লাফলি একজন আইনজীবি, কোন বৈজ্ঞানিক নন, যার পক্ষে কোন বৈজ্ঞানিক প্রবন্ধর মর্মেোদ্ধার করা সহজ না, আর অনুজীববিজ্ঞানী হিসাবে নিরাপদভাবে অগ্রসর কোন গবেষনা করার যোগ্যতা তো দুরের কথা। এছাড়া ফলাফলের পরিসংখ্যানগত বিশ্লেষনও তার পক্ষে করা  সম্ভব না। পুরো ব্যাপারটা বিখ্যাত বৈজ্ঞানিক ও বুদ্ধিদীপ্ত ব্লগার P Z Myers সারসংক্ষেপ করেছিলেন একটি অনুচ্ছেদে, যার শুরু, ’আরো একবার, রিচার্ড লেনস্কি কনসারভেপিডিয়ার নির্বোধ আর গুন্ডাদের আবার উত্তর দিয়েছেন, আর তিনি কি কোনদিন তাদের হারাতে পারবেন না..’।

লেনস্কির গবেষনাগুলো, বিশেষভাবে স্বতন্ত্র তার জীবাশ্মকরণ টেকনিকটির জন্য। যা দেখায় কিভাবে প্রাকৃতিক নির্বাচনের শক্তি বিবর্তীয় পরিবর্তন ঘটাতে পারে এমন সময়ের স্কেলে যে আমরা আমাদের জীবদ্দশায় আমাদের চোখের সামনেই তা দেখতে পারি । কিন্তু ব্যাকটেরিয়া আরো চমৎকার, যদিও এখনো স্পষ্ট করে বোঝা সম্ভব হয়নি, উদহারণ দেখাতে পারে: অনেক ব্যাকটেরিয়ার প্রজাতি অ্যান্টিবায়োটিক এর প্রতি প্রতিরোধ গড়ে তোলে, অনেক দ্রুত। যেমন, প্রথম অ্যান্টিবায়োটিক পেনিসিলিন মানব শরীরে ব্যবহার উপযোগী হিসাবে ডেভোলপ করেছিলেন ফ্লোরী এবং চেইন বেশী দিন পার হয়নি, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়।  এর পর নিয়মিত বিরতি দিয়ে বেশ কিছু নতুন অ্যান্টিবায়োটিকও এসেছে এবং ব্যাকটেরিয়াও তাদের প্রত্যেকটি বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পেরেছে। বর্তমানে সবচেয়ে ভয়ঙ্কর উদহারণ হচ্ছে MRSA (methycil in-resistant Staphylococcus aureus) , যা বহু হাসপাতালকে বেড়াতে যাবার জন্য ভয়ঙ্কর জায়গায় পরিণত করেছে। আরেকটি ভয়াবহ সমস্যা হচ্ছে C diff (Clostridium difficile); এখানেও আমরা দেখছি প্রাকৃতিক নির্বাচন সেই সব স্ট্রেইনকে বাচতে সুযোগ করে দিচ্ছে যারা অ্যান্টিবায়োটিকের প্রতি প্রতিরোধ সৃষ্টি করেছে। কিন্তু এই প্রভাবের উপর আরো একটি প্রভাব বিদ্যমান, দীর্ঘমেয়াদী অ্যান্টিবায়োটিক এর ব্যবহার আমাদের অন্ত্রতে ভালো ব্যাকটেরিয়াদের মেরে ফেলে, খারাপ ব্যাকটেরিয়াদের সাথে; আর সেই সুযোগে C diff যে সব অ্যান্টিবায়োটিকের প্রতি প্রতিরোধক্ষমতা সম্পন্ন, অন্যান্য ব্যাকটেরিয়ার অনুপস্থিতিতে তাদের নিজেদের স্বার্থে বেশ চমৎকারভাবে কাজে লাগায়, যাদের সাথে নতুবা তাদের প্রতিদ্বন্দিতা করতে হতো প্রয়োজনীয় খাদ্যর জন্য। এটির মুলনীতি আমার শত্রুর শত্রু হচ্ছে আমার বন্ধু।

আমি খনিকটা বিরক্ত হয়েছিলো একবার আমার ডাক্তারের ওয়েটিং রুমে বসে একটা লিফলেট পড়ার সময় যার বিষয়বস্তু ছিল কোন অ্যান্টিবায়োটিক ঔষধের পুরো কোর্স শেষ না করলে কি ক্ষতি পারে এ বিষয়ে সতর্কবানী। এই সতর্কবানীতে কোন ভুল নেই। কিন্তু সে কারনটা আমাকে ভাবায় নি। এই লিফলেটটি ব্যাকটেরিয়াদের ব্যাখ্যা করছে ‘চালাক‘ হিসাবে, যে তারা ‘শেখে‘ কিভাবে তাদের ধ্বংসকারী অ্যান্টিবায়োটিক এর সাথে সমঝোতা করতে হয়। স্পষ্টতই এর লেখকরা ভেবেছেন ব্যাকটেরিয়াদের অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধ ক্ষমতা অর্জনের বিষয়টি বুঝতে সহজ হবে যদি প্রাকৃতিক নির্বাচনের বদলে তারা এটিকে বলেন, তারা শিখেছে। কিন্তু ব্যাকটেরিয়া চালাক বা শিখছে, এধরনের কথা খুবই সংশয়পুর্ণ। সর্বেোপরি এটি রোগীকে সাহায্য করে না, কেন তাদের সব গুলো ট্যবলেট খেয়ে শেষ করতে হবে এই নির্দেশটির সত্যিকার অর্থ বুঝতে। যে কোন নির্বোধ মানুষ বুঝবেন কোন ব্যাকটেরিয়ামকে চালাক বলে চিহ্নিত করা ব্যাখ্যাযোগ্য নয়; এমনকি যদি বুদ্ধিমান ব্যাকটেরিয়া বলেও কিছু থাকে, তাহলে সব কটা ট্যাবলেট না খেলে চালাক ব্যাকটেরিয়ার কোন কিছু শেখার ক্ষমতায় কি এমন কোন তারতম্য হবে ? কিন্তু যখনই প্রাকৃতিক নির্বাচনের ধারনা দিয়ে বিষয়টি ব্যাখ্যা করা হবে ব্যাপারটি অর্থবহ হয়ে উঠবে।

যে কোন বিষের মত, অ্যান্টিবায়োটিকও নির্ভর করে এর মাত্রা বা ডোজ এর উপর। যথেষ্ট পরিমান উচু মাত্রা বা ডোজ এ সব ব্যাকটেরিয়া মারা যায়, তেমনি যথেষ্ট নিম্ন পরিমানের ডোজ কাউকেও মারবে না। মাঝামাঝি ডোজ কিছু ব্যাকটেরিয়াকে মারবে তবে সব না। যদি ব্যাকটেরিয়াদের মধ্যে জীনগত প্রকরণ এর অস্তিত্ত্ব থাকে, যেমন কেউ অ্যান্টিবায়োটিকের প্রতি বেশী সংবেদনশীল অন্যদের চেয়ে, একটি মাঝারী মাত্রার ডোজ খুব নির্দিষ্টভাবে বানানো বিশেষ কিছু জীন যারা অ্যান্টিবায়োটিক এর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ সৃষ্টি করে তাদের সুবিধা দেয়। যখন ডাক্তার আপনাকে বলে সবগুলো পিলই খেতে হবে, সেটার কারন হচ্ছে সবগুলো ব্যাকটেরিয়াকে মারার একটি সুযোগ সৃষ্টি করা এবং যেন কোন ব্যাকটেরিয়া না থাকে যাদের জীনোমে সেই অ্যান্টিবায়োটিককে প্রতিরোধ করার মত মিউটেশন সহ জীন বিদ্যমান, আমরা হয়তো বলতে পারি, যদি ডারউইনীয় চিন্তা সম্বন্ধে আমাদের কিছু জানা থাকাতো, আমরা অনেক আগেই সতর্ক হতাম রেসিষ্ট্যান্ট স্ট্রেইনগুলো নির্বাচন হওয়া থেকে। ডাক্তারের ওয়েটিং রুমে থাকা লিফলেট সেই শিক্ষার ব্যাপারে কোন সাহায্য করবে না, কি দু:খজনক, চমৎকার একটি সুযোগ আমরা হারালাম প্রাকৃতিক নির্বাচনের বিস্ময়কর ক্ষমতার সম্বন্ধে শিক্ষা দেবার জন্য।

_________________________________________________ চলবে…

Advertisements
রিচার্ড ডকিন্স এর দি গ্রেটেষ্ট শো অন আর্থ : পঞ্চম অধ্যায় (দ্বিতীয় পর্ব)

3 thoughts on “রিচার্ড ডকিন্স এর দি গ্রেটেষ্ট শো অন আর্থ : পঞ্চম অধ্যায় (দ্বিতীয় পর্ব)

  1. অসাধারণ লেখা, আমি ধারাবাহিক পরছি, একটি প্রশ্ন
    এই অনুবাদ এবং হয়াই রেভুলেশন ইজ ট্রু? এই বই দুইটি কি প্রকাশ করেছেন, কোন অনশ? বা না হলে কত দিনের মধ্যে? আমি সংগ্রহ করব, খুব খুশি হব জানালে……………… আর আপনার প্রকাশিত বইগুলোর নাম চাই, আপনার লেখনী গুলো আমি পড়তে চাই। আশা করি আমাকে বঞ্চিত করবেন না।

    প্লিজ raf.space@yahoo.com ঠিকানায় জানান।

    1. না প্রকাশ করা হয়নি কিছুই ছাপার অক্ষরে, আমি শেষ করেই করবো.. আশা করি এ বছর জেরী কয়েন এর টা শেষ হবে, এর ভেতরে আসলে আমার ন্যারেটিভ বাড়তি ইনফো গুলো আপডেট করতে হবে, আরো কিছুটা সহজবোধ্য করে সম্পাদনা শেষ করেই প্রকাশ করবো আশা করছি। অনেক ধন্যবাদ: https://www.facebook.com/kazi.hassan.94

      1. ধন্যবাদ, আমি প্রত্যাশা করি খুব দ্রুত যেন শেষ হয়, ভাইয়া অবশই প্রকাশিত হলে আমাকে জানাবেন। আর আপনার সেরা সেরা লেখা পড়ার অপেক্ষায় থাজলাম (নিয়মিত পড়ছি অবশ্য) । উদ্ভিদের শ্রেণিবিন্যাসের উপর সেরা বই সম্পর্কে জানাবেন, আমার একটু দরকার ছিল, আসলে উদ্ভিদের শ্রেণিবিন্যাসের প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত বিষয়ক একটি সেরা ইংরেজি বই পড়ার খুব দরকার। আশা করি জানাবেন।

        আর আপনার জন্য শুভ কামনা রইল……………………………

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s