রিচার্ড ডকিন্স এর দি গ্রেটেষ্ট শো অন আর্থ : পঞ্চম অধ্যায় (দ্বিতীয় পর্ব)

800px-Lenski's_long-term_lines_of_E._coli_on_25_June_2008,_close-up_of_citrate_mutant
 ছবি: লেনস্কি একপেরিমেন্ট এর অনেকগুলো ফলাফলের একটি.. E coli সাধারণত অক্সিজেন এর উপস্থিতিতে Citrate খাদ্য হিসাবে ব্যবহার করতে পারেনা। কিন্তু ২০০৮ সালে লেনস্কি তার গবেষনায় Citrate ব্যবহার করার উপযোগী মিউটেশন সম্বলিত  E coli ভ্যারিয়্যান্ট ঠিকই খুজে পান। উপরের ছবিতে যে কাচের ফ্লাস্কটিকে বেশী ঘোলাটে লাগছে, সেটি Ara-3 নামে সেই জনগোষ্ঠী যারা তাদের মাধ্যমে Citrate ব্যবহার করার উপযোগী হয়ে বিবর্তিত হয়েছে।

ছবি: Lenski’s 12 long-term lines of E. coli on 25 June 2008

EVOLUTIONACTION
ছবি: রিচার্ড লেনস্কি

রিচার্ড ডকিন্স এর দি গ্রেটেষ্ট শো অন আর্থ :  পঞ্চম অধ্যায় (দ্বিতীয় পর্ব) 
( অনুবাদ প্রচেষ্টা: কাজী মাহবুব হাসান)

The Greatest Show on Earth: The evidence for evolution by Richard Dawkins

 প্রথম অধ্যায়
দ্বিতীয় অধ্যায়
তৃতীয় অধ্যায় ( প্রথম পর্ব)  তৃতীয় অধ্যায় ( দ্বিতীয় পর্ব)তৃতীয় অধ্যায় ( শেষ পর্ব)
চতুর্থ অধ্যায় (প্রথম পর্ব) | চতুর্থ অধ্যায় (দ্বিতীয় পর্ব) | চতুর্থ অধ্যায় (তৃতীয় পর্ব) | চতুর্থ অধ্যায় ( শেষ পর্ব)
পঞ্চম অধ্যায়: প্রথম পর্ব

ল্যাবরেটরীতে ঘটা ৪৫০০০ ‍টি প্রজন্মর বিবর্তন …

উপরে বর্ণিত লিজার্ডদের গড় প্রজন্মান্তরের সময় প্রায় দুই বছর। সুতরাং কোন বিবর্তনীয় পরিবর্তন যা পডে মরকারুতে বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, তা  শুধুমাত্র আঠারো বা উনিশটি প্রজন্মের প্রতিনিধিত্ব করছে। শুধু একবার ভেবে দেখুন আপনি যদি ব্যাকটেরিয়ার বিবর্তন লক্ষ্য করেন, কি ধরনের পরিবর্তন তাহলে দেখতে পারেন তিন বা চার দশকের মধ্যেই, খুব দ্রুত বংশবৃদ্ধি করা ব্যাকটেরিয়াদের প্রজন্মান্তরের হার পরিমাপ করা সম্ভব বছরের পরিবর্তে ঘন্টা বা মিনিটে, বিবর্তন বিশেষজ্ঞদের জন্য ব্যাকটেরিয়া আরো একটি অমুল্য উপহার নিবেদন করে। কোন কোন ক্ষেত্রে আপনি তাদের হিমায়িত করে রাখতে পারবেন অনির্দিষ্ট কালের জন্য এবং পরে আবার তাদেরকে জীবন্ত করা সম্ভব, যখন তারা আবার বংশবৃদ্ধি শুরু করে,যেন সব কিছু আগের মতই আছে। এর মানে হলো গবেষকরা তাদের নিজস্ব ’জীবন্ত ফসিল’ রেকর্ড সৃষ্টি করতে পারবেন, বিবর্তনীয় প্রক্রিয়ার কোন একটি নির্দিষ্ট মুহুর্তের চিত্র বা স্ন্যাপশট,যেখানে যে কোন কাঙ্খিত সময়ে যখন ইচ্ছা ফেরত যাওয়া যায়। কল্পনা করুন আমরা যদি লুসিকে ফিরিয়ে আনতে পারতাম হিমায়িত অবস্থা থেকে, সেই অসাধারণ প্রাগৈতিহাসিক আদি মানব এর জীবাশ্ম, যা খুজে পেয়েছিলেন ডন জোহানসন, এবং তার প্রজাতিকে সুযোগ করে দেয়া হতো নতুন করে বিবর্তিত হতে!! এই সব কিছুই করা সম্ভব হয়েছে Escherichia coli ব্যাক্টেরিয়ার ক্ষেত্রে, বিস্ময়কর একটি দীর্ঘমেয়াদী গব্ষেনার মাধ্যমে যার গবেষক ছিলেন মিশিগান স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ের রিচার্ড লেনস্কি ও তার সহযোগীরা। ইদানীং বৈজ্ঞানিক সব গবেষনাগুলো প্রায়শই দলবদ্ধ প্রচেষ্ঠার ফলাফল। একারনে এর পরে আমি যা লিখছি, সেখানে যদিও মাঝে মাঝে আমি লেন্সকির নাম ব্যবহার করবো সংক্ষিপ্ততার খাতিরে কিন্তু আপনাদের সেটা পড়তে হবে ’লেনস্কী ও তার সহযোগীরা এবং তার ল্যাবে কর্মরত ছাত্রছাত্রীরা’; কিছুক্ষনের মধ্যেই আমরা দেখতে পাবো সৃষ্টিবাদীদের জন্য লেনস্কী গবেষনাটি কেন যন্ত্রণাদায়ক এবং আর যথেষ্ট কারনও আছে তা হবার জন্য। কারন খুব সুন্দরভাবে  গবেষনাটি প্রদর্শন করে বিবর্তনের কাজ করার প্রক্রিয়াটি, যা সহজে হেসে উড়িয়ে দেয়া কঠিন, এমন কি যখন আমাদের সেটা করার উদ্দেশ্যও থাকে তীব্র। এবং আসলেই গোড়া সৃষ্টিবাদীদের সেই উদ্দেশ্য অনেক জোরালো । এই অংশের শেষে আমি পরে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করবো।

Continue reading “রিচার্ড ডকিন্স এর দি গ্রেটেষ্ট শো অন আর্থ : পঞ্চম অধ্যায় (দ্বিতীয় পর্ব)”

Advertisements
রিচার্ড ডকিন্স এর দি গ্রেটেষ্ট শো অন আর্থ : পঞ্চম অধ্যায় (দ্বিতীয় পর্ব)