রিচার্ড ডকিন্স এর দি গ্রেটেষ্ট শো অন আর্থ : পঞ্চম অধ্যায় (প্রথম পর্ব)

Podarcis_sicula
ছবি: Podarcis sicula

রিচার্ড ডকিন্স এর দি গ্রেটেষ্ট শো অন আর্থ :  পঞ্চম অধ্যায় (প্রথম পর্ব)
( অনুবাদ প্রচেষ্টা: কাজী মাহবুব হাসান)

The Greatest Show on Earth: The evidence for evolution by Richard Dawkins

 প্রথম অধ্যায়
দ্বিতীয় অধ্যায়
তৃতীয় অধ্যায় ( প্রথম পর্ব)  তৃতীয় অধ্যায় ( দ্বিতীয় পর্ব)তৃতীয় অধ্যায় ( শেষ পর্ব)
চতুর্থ অধ্যায় (প্রথম পর্ব) | চতুর্থ অধ্যায় (দ্বিতীয় পর্ব) | চতুর্থ অধ্যায় (তৃতীয় পর্ব) | চতুর্থ অধ্যায় ( শেষ পর্ব)

আমি  একজন গোয়েন্দার রুপকটি ব্যবহার করেছিলাম, যিনি কোন অপরাধ সংঘটন হবার পর ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে, যে সব চিহ্নগুলো সেখানে অবশিষ্ট থাকে, সেগুলোকে ব্যবহার করে সেখানে সম্ভাব্য কি  ঘটেছিল, সেই ঘটে যাওয়া ঘটনাটিকে পুননির্মান করেন। কিন্তু হয়তো আমি একটু বেশী তাড়াতাড়ি মেনে নিয়েছি বিবর্তন প্রক্রিয়াকে চাক্ষুষ দেখার অসম্ভাব্যতাটিকে। যদিও সিংহভাগ বিবর্তনীয় পরিবর্তনই ঘটে গেছে কোন মানুষের আবির্ভাবে বহু আগেই, কিন্তু কিছু উদহারণ এত দ্রুত ঘটেছে যে আমরা আসলেই নিজেদের চোখের সামনে বিবর্তনকে দেখতে পাই কোন একটি মানুষের জীবন কালেই।

একটি সম্ভাব্য ব্যাখ্যাযোগ্য ইঙ্গিত আমাদের কাছে আছে যে বিষয়টি এমনকি ঘটেছে হাতিদের সাথেও, যাদের ডারউইন নিজেই বেছে নিয়েছিলেন সবচেয়ে ধীরে প্রজনন করে এমন প্রাণীদের অন্যতম উদহারন হিসাবে , যাদের  প্রজন্মান্তরের সময় স্পষ্টতই খুব দীর্ঘ। আফ্রিকার হাতিদের মৃত্যুর অন্যকম কারণ বন্দুক হাতে মানুষ যারা তাদের নির্বিচারে শিকার করে চলেছে, হয় শিকার হিসাবে পাওয়া কোন ট্রফির মত কিংবা তাদের আইভরি আর হাড়ে বিক্রি করা জন্য। খুব স্বাভাবিক কারনেই এই সব শিকারীরা সেই হাতিগুলো শিকার করার জন্য বেছে নেয় যাদের (টাস্ক) বড় দাত আছে। এর অর্থ হচ্ছে, অন্তত তত্ত্বের খাতিরে, অপেক্ষাকৃত ছোট দাত সহ হাতিরা এখানে তাদের বড় দাত সহ হাতি সদস্য থেকে একটি বাড়তি নির্বাচনী সুবিধা পাবে। বিবর্তনের সাথে সবসময় ঘটে থাকে, সাধারণত দুটো সাংঘর্ষিক নির্বাচনী চাপ কাজ করে। এবং আমরা যা দেখছি বিবর্তিত হতে তা হচ্ছে একটা সমঝোতা এই দুই চাপের টানাপোড়েন এর মধ্যে। বড় দাত সহ হাতিরা, কোন সন্দেহ নেই উপযোগী, যখন তারা অন্য হাতিদের সাথে প্রতিদ্বন্দীতা করছে প্রাকৃতিক পরিবেশে, কিন্তু এটি সেই স্বাভাবিক ভারসাম্যর পাল্লাটি ভারী করবে এর বীপরিত দিকে ক্ষতির সম্ভাবনা বাড়িয়ে, যখন বন্দুক হাতে শিকারী মানুষ তার প্রতিদ্বন্দী। শিকারের ক্রিয়াকলাপের পরিমানের যে কোন বৃদ্ধিতে, সেটা বেআইনি চোরা শিকারই হোক বা আইনি শিকার হোক, এটি ছোট দাত সহ হাতিদেরবেচে থাকার  দিকে সুযোগের পাল্লাটা ভারী করবে। আর সবকিছু যদি ঠিকই থাকে, আমরা অবশ্যই একটি বিবর্তনীয় প্রবণতার ধারা দেখতে পাই ছোট দাতের হাতির দিকে, যা মানুষের শিকারই মুল কারণ। কিন্তু সম্ভবত আমরা সাধারণত আশা করবো এই বিবর্তনীয় পরিবর্তনটি শনাক্ত করতে আমাদের হাজার বছর হয়তো লাগবে, আমরা হয়তো কোন একটি মানুষের জীবদ্দশায় এ পরিবর্তন দেখার আশা হয়তো করবো না.. এখন বেশ কিছু  পরিসংখ্যানের দিকে নজর দেয়া যাক।<

01-11-2013 12-55-37 AM

ছবি: সময়ে সাথে উগান্ডার হাতিদের দাতের আকার ওজন

উপরের গ্রাফটি তৈরী করেছে Uganda Game Department, যার প্রকাশকাল ১৯৬২;এখানে যে সব হাতিতের দাতের ওজন প্লট করা হয়েছে তাদের আইনগত ভাবে হত্যা করেছে লাইসেন্স সহ শিকারীরা।গ্রাফটি দেখাচ্ছে মৃত সেই হাতিতের টাস্ক বা হাতের গড় ওজন, আর সেই ওজনটি প্রকাশ করা হয়েছে পাউন্ডে। এখানে উপাত্তগুলো সাজানো হয়েছে ১৯২৫ থেকে ১৯৫৮ সালে প্রাপ্ত উপাত্তর উপর নির্ভর করে, বছরওয়ারী হিসাবে ( যে সময় উগান্ডা বৃটিশ সরকারের তত্ত্বাবধানে ছিল), এখানে বিন্দুগুলো বাৎসরিক তথ্য। আর এই সব বিন্দুগুলো যোগ করে আকা লাইনটি খালি হাতে আকা হয়নি, লাইনটি আকা হয়েছে লিনিয়ার রিগ্রেসন নামে এটি পরিসংখ্যান প্রক্রিয়ার মাধ্যমে। আপনি স্পষ্ট দেখতে পাবেন গত তেত্রিশ বছরে টাস্কের গড় ওজন এর ক্রমশ কমে যাবার প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এবং এই ট্রেন্ডটি পরিসংখ্যানগত দিক থেকেও খুব গুরুত্বপুর্ণভাবে উল্লেখযোগ্য, যার অর্থ হচ্ছে এটি সত্যিকারের ঘটার একটি প্রবণতা, কোন র‌্যানডোম বা এলোমেলো দৈবাৎ ঘটা কোন প্রভাব নয়।

কিন্তু স্পষ্টতই উপরের গ্রাফে বর্ণিত পরিসংখ্যানগত প্রবণতা যদিও বলছে দাতের আকার কমে যাচ্ছে, তবে এই পর্যবেক্ষনটা কিন্তু  এটি বিবর্তনীয় একটি প্রবণতা তা বলছে না। আপনি যদি ২০ বছরের পুরুষদের গড় উচ্চতার একটি গ্রাফ তৈরী করেন, বিংশ শতাব্দীর প্রতি বছর ওয়ারী, আপনি অনেক দেশেই উল্লেখযোগ্য হারে একটি প্রবণতা দেখবেন উচ্চতা বাড়ছে; এটি সাধারণত মনে করা হয় কোন বিবর্তনীয় প্রবণতা নয়, বরং উন্নতমানের পুষ্টির প্রভাব। যাই হোক, হাতিদের ক্ষেত্রে, আমাদের খুব ভালো কারণ আছে সন্দেহ করার যে এখানে শক্তিশালী প্রাকৃতিক নির্বাচন কাজ করছে বড় আকারের দাত এর বীপরিতে। ব্যাপারটা ভাবুন, যদিও গ্রাফটি আইনীভাবে মারা হয়েছে এমন হাতির দাতের গড় ওজন এর প্রতিনিধিত্ব করছে, তবে নির্বাচনী চাপটি যা ক্রমশ দাতের আকার ও ওজন কমে যাবার প্রবণতার কারণ, সেটি কিন্তু মুলত এসেছে বেআইনি শিকারীদের জন্য। আমাদের এখানে অবশ্যই সত্যিকারের বিবর্তিন ঘটছে এই সম্ভাবনার কথা মাথায় রাখতে হবে, যে ক্ষেত্রে এই উদহারণটি বিস্ময়কর রকম দ্রুততার প্রমাণ দিচ্ছে। আমাদের অবশ্য সতর্ক হতে হবে বেশী কিছু উপসংহার টানার আগে। হতে পারে আমরা যা দেখছি তা হয়তো শক্তিশালী প্রাকৃতিক নির্বাচন, যার খুবই সম্ভাবনা আছে জনগোষ্ঠীর জীনপুলে কোন জীনের উপস্থিতির হার বাড়িয়ে দেয়া। কিন্তু এ ধরনের জীনগত পরিবর্তন এখনও প্রদর্শিত হয়নি। হতে পারে এটি বড় দাত ওয়ালা হাতি আর ছোট দাত ওয়ালা হাতির পার্থক্য জীনগত নয়। তাস্বত্ত্বেও, আমি এটিকে গুরুত্বের সাথে মেনে নেবার পক্ষপাতী যে সত্যিকারের বিবর্তনীয় ট্রেন্ডই আসলে আমরা দেখছি।

আরো প্রাসঙ্গিকভাবে আমার সহকর্মী ডঃ আইয়ান ডগলাস-হ্যামিলটন, যিনি আফ্রিকার বুনো হাতিদের উপর বিশ্বখ্যাত গবেষক, বিষয়টি গুরুত্বের সাথেই নিয়েছেন, ও বিশ্বাস করেন, এবং নিশ্বয়ই সঠিকভাবে, বিষয়টি আরো খতিয়ে দেখার জন্য। তিনি সন্দেহ করেছিলেন, এই প্রবণতা শুরু হয়েছিলো ১৯২৫ এর আগে এবং অব্যাহত ছিল ১৯৫৮ র পরেও। এছাড়া তার ভাবার কারণও ছিল যে, এমন কোন কারণ অতীতে কাজ করেছিল বহু এশীয় হাতি জনগোষ্ঠীর টাস্ক দাত হারানোর ক্ষেত্রে। সকল প্রমান সাপেক্ষে  যা আমাদের চোখের সামনে ঘটা দ্রুত বিবর্তনের একটি সুস্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে,  ভবিষ্যত গবেষনার জন্য যে কারণটি যথেষ্ট, যা স্পষ্ট করবে এই প্রাথমিক ফলাফল।

এবার বরং আমি অন্য আরেকটি কেস নিয়ে আলোচনা করি, যেখানে কিছু কৌতুহলোদ্দীপক সাম্প্রতিক কিছু গবেষনা করা হয়েছে: অ্যাড্রিয়াটিক দ্বীপপুন্জে লিজার্ড বা গিরগিটিদের নিয়ে।

 পড মরকারুর লিজার্ডরা:

Male_-_Female_Podarcis_siculus
ছবি: Podaris sicula

ক্রোয়েশিয়ার উপকুলের কাছাকাছি দুটো ছোট দ্বীপপুন্জ আছে, পড কপিস্টে (Pod Kopiste) এবং পড মরকারু (Pod Mrcaru); ১৯৭১ সালে সাধারণ ভুমধ্যসাগরীয় লিজার্ড বা গিরগিটিদের একটি প্রজাতি জনগোষ্ঠী Podarcis sicula, মুলত পোকামাকড় ছিল যাদের প্রধান খাদ্য বাস করতো পড কপিস্টে দ্বীপে, কিন্তু পড মরকারুতে কোন লিজার্ড ছিল না। সেই বছরে গবেষকরা একটি পরীক্ষা শুরু করেছিলেন, তারা মোট পাচ জোড়া লিজার্ড পড কপিস্টে দ্বীপ থেকে তুলে নিয়ে গিরগিটি শুন্য পড মরকারুতে তাদের ছেড়ে দেন বংশ বিস্তার করার জন্য । এরপর ২০০৮ সালে, বিজ্ঞানীদের একটি গ্রুপ, মুলত বেলজিয়ামের, যারা অ্যানথনী হেরেলের সাথে সংশ্লিষ্ট ছিলেন এই গবেষনায়, পড মরকারু দ্বীপে ফিরে যান, কি ঘটেছে তা দেখার জন্য। সেখানে অর্থাৎ পড মরকারু দ্বীপে গিয়ে তারা সেই প্রথম পাচ জোড়া লিজার্ডদের উত্তরসুরীদের বিশাল একটি জনগোষ্ঠীকে দেখতে পান, স্পষ্টতই যারা ১৯৭১ থেকে সেখানে অত্যন্ত সফলভাবে বংশবৃদ্ধি করে চলেছে। ডিএনএ বিশ্লেষন প্রমান করে তারা আসলেই সবাই Podarcis sicula প্রজাতির অন্তর্ভুক্ত ;  খুব সঙ্গত কারনে বিজ্ঞানীরা বুঝতে পারেন এরা সবাই সেই মুল পাচ জোড়া লিজার্ডদের বংশধর, যাদের এই দ্বীপে নিয়ে আসা হয়েছিল ১৯৭১ সালে। হেরেল ও তার সহযোগীরা পড কপিস্টে থেকে নিয়ে আসা লিজার্ডদের এই সব উত্তরসুরী লিজার্ডদের উপর কিছু গবেষনা পরিচালনা করেন এবং বেশ কিছু পর্যবেক্ষনও করেন। যখন বিজ্ঞানী পড মরকারুর এই লিজার্ড জনগোষ্ঠীর সদস্যদের সাথে, তাদের আদি পুর্বসুরী পড কপিষ্টে দ্বীপে বসবাসকারী লিজার্ডের সাথে তুলনা করে দেখেন, বিস্ময়করভাবে তারা উল্লেখযোগ্য পরিমান কিছু গুরুত্বপুর্ণ পার্থক্য খুজে পান। বিজ্ঞানীরা সম্ভবত যুক্তিযুক্তভাবে একটি ধারনা করে নিয়েছিলেন, তা হলো, দ্বীপ পড কপিষ্টে বসবাস কারী লিজার্ডরা, ৩৬ বছর আগের সেই পুর্বসুরী লিজার্ডদের অপরিবর্তিত প্রতিনিধি। অন্যার্থে তারা ধারনা করে নিয়েছিলেন তারা পড মরকারুর বিবর্তিত লিজার্ডদের সাথে তুলনা করছেন পড কপিষ্টে অবিবর্তিত পুর্বসুরী টাইপের ( অর্থাৎ তাদের সমসাময়িক তবে পুর্বসুরীর মত) লিজার্ডদের সাথে। এমনকি যদি এই ধারনা ভুলও হয়,যেমন ধরুন পড কপিষ্টের লিজার্ডরা যদি পড মরকারুর লিজার্ডদের মতই দ্রুত বংশবৃদ্ধি করে থাকে, তা হলেও আমরা প্রকৃতিতে বিবর্তনীয় পরিবর্তন দেখতে পাই তুলনামুলক এই গবেষনায়, আর সেটা যা ঘটেছে মাত্র কয়েক দশকের সময় স্কেলে, সে ধরনের সময়ের স্কেল কোন মানুষের পক্ষে দেখা সম্ভব তাদের জীবদ্দশায়। বিজ্ঞানীরা দুই দ্বীপের জনগোষ্ঠীর মধ্যে আসলে কি কি পার্থক্য দেখতে পেয়েছিলেন ? যে বৈশিষ্টসুচক পার্থক্যগুলো সৃষ্টি বা বিবর্তিত হতে সময় লেগেছে মাত্র ৩৭ বছর? বেশ, আমরা যদি পার্থক্যগুলো পাশাপাশি দেখি, তাহলে বুঝতে পারবো, মুল পুর্বসুরী টাইপের , মানে পড কপিষ্টের লিজার্ডদের তুলনায় দেখা গেল পড মরকারুর লিজার্ড দের মাথা র আকার.. লম্বায়,প্রশস্ততায় আর উচ্চতায় উল্লেখযোগ্যভাবে বড়, এর ব্যাখা হচ্ছে তাদের চোয়ালের কামড়ে র শক্তি অপেক্ষাকৃত বেশী। আর বিজ্ঞানীদের কাছে এ ধরনের কিছু পরিবর্তনের সাধারণত ইঙ্গিত করে, অপেক্ষাকৃত উদ্ভিদজাত খাদ্য তাদের মুল খাদ্য তালিকায় প্রাধান্য বিস্তার করছে। এবং সত্যি সত্যি বিজ্ঞানীরা লক্ষ্য করেন যে, পড মরকারুর লিজার্ডরা তাদের পুর্বসুরী প্রকারের পড কপিষ্টের লিজার্ডদের তুলনায় অনেক বেশী পরিমান উদ্ভিদ জাতীয় খাদ্য গ্রহন করছে; উল্লেখ্য যে পড কপিষ্টের লিজার্ডদের একমাত্র খাদ্য কিন্তু নানা ধরনের পোকামাকড়, যে খাদ্যাভ্যাসের কোন পরিবর্তন হয়নি (গ্রাফে আর্থ্রোপড হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছে); অন্যদিকে কিন্তু পড মরকারুতে এদের উত্তরসুরীরা ক্রমাগত নিরামিশাষী বা উদ্ভিদ জাত খাদ্যর দিকে ঝুকে পড়েছে, বিশেষ করে গ্রীষ্মের সময়।

01-11-2013 1-00-07 AM
গ্রায়: দুই দ্বীপ পড কপিষ্টে ও পড মরকারুর লিজার্ডদের খাদ্যাভ্যাস

i-42076aaed006b83a5a59b4d80479374a-cecalvalves

01-11-2013 1-01-20 AM
ছবি: পড মরকারুর লিজার্ডদের অন্ত্রে সিকাল ভালভ।

আর কেনই বা কোন প্রানীর শক্তিশালী চোয়ালের কামড়ের দরকার যখন তারা উদ্ভিজ্জ খাদ্গ্রহন করে? কারন উদ্ভিদ কোষের দেয়ালে, প্রানী কোষে যা থাকে না- শক্তিশালী সেলুলোজ থাকে। তৃণভোজী স্তন্যপায়ীরা যেমন ঘোড়া, গবাদী পশু এবং হাতিদের বড় বড় চ্যাপটা ঘষার বা পিষ্ট করার উপযোগী দাত থাকে, যে দাতগুলো, মাংশাসী প্রানীদের চোয়ালে কোন কিছু কাটা ছেড়া করার উপযোগী যে ধরনের দাত দেখি তার থেকে ভিন্ন এবং একই ভাবে ভিন্ন পোকামাকড় খাবার উপযোগী সুচালো দাত থেকে। এছাড়া তৃণভোজী প্রানীদের চোয়ালে থাকে শক্তিশালী মাংশ থাকে এবং সেই সাথে তাদের মাথার খুলিও বেশ শক্তিশালী হয় এই সব মাংশপেশীগুলো নোঙ্গর করার প্রয়োজনীয় সংযোগের জন্য ( গরিলাদের মাথার খুলির ঠিক মাঝবরাবর শক্তিশালী হাড়ের খাজটার কথা ভাবুন); তৃণভোজীদের পরিপাক তন্ত্রের অন্ত্রের গঠনও ভিন্ন হয়, সেখানে বৈশিষ্টসচক কিছু ভিন্ন উপাদান থাকে। সাধারণত প্রানীরা সেলুলোজ পরিপাক করতে পারেনা, যদি না তাদের সাহায্য করে ব্যাকটেরিয়া বা অন্য অনুজীবরা আর সে কারণে অনেক মেরুদন্ডী প্রানী তাদের আন্ত্রিক নালীতে একটি বিশেষ জায়গা রাখে, থলের মত, সিকাম, যা ব্যাকটেরিয়াদের ধারণ করে, যেখানে এটি ফারমেন্টেশন চেম্বার হিসাবে কাজ করে (আমাদের অ্যাপেনডিক্স হচ্ছে সেই বড় আকারের সিকামের অবলুপ্ত প্রায় অংশ, যা আমাদের তৃণভোজী পুর্বসুরীদের শরীরের গুরুত্বপুর্ণ অংশ ছিল।); সিকাম ও অন্ত্রনালীর অন্যান্য অংশ বেশ জটিল আকারের হতে পারে বিশেষায়িত তৃনভোজীদের।এছাড়া মাংশাসী প্রানীদের অন্ত্রনালী তৃণভোজীদের তুলনায় অনেক সরল গঠনের এবং আকারেও ছোট। তৃণভোজীদের অন্ত্রে যে বাড়তি জটিলতা সে কারনে সংযোজিত হয়েছে তাদের মধ্যে আছে যেমন সিকাল ভালভ। ভালভগুলো হচ্ছে আংশিক বিভাজনকারী, কখনো তারা মাংশ পেশী দিয়ে তৈরী, যা মুলত কাজ করে অন্ত্রের ভিতর দিয়ে খাদ্য প্রবাহের গতি মন্থর করার মাধ্যমে বা সিকামের মধ্যে পৃষ্ঠদেশ এর এলাকা বাড়ানোর মাধ্যমে। উপরের ছবিতে দেখাচ্ছে সিকাম, যা কেটে দেখানো হয়েছে সম্পর্ক যুক্ত লিজার্ড প্রজাতিদের মধ্যে যারা প্রচুর পরিমানে উদ্ভিজ্জ উপাদান খাদ্য হিসাবে গ্রহন করে। তীর চিহ্ন দিয়ে ভালভটি দেখানো হয়েছে। এখন বিস্ময়কর ব্যাপার হচ্ছে Podarcis sicula প্রজাতিতে সাধারনত সিকাল ভালভ থাকেনা, এবং এরা যে পরিবারের সদস্য সেখানেও ভালভ দুর্লভ। এই সব ভালভগুলো পড মরকারুর P. sicula জনগোষ্ঠীর মধ্যে তা সত্যি সত্যি বিবর্তিত হতে শুরু করেছে গত মাত্র ৩৭ বছরের মধ্যেই। যারা ক্রমেই উদ্ভিদ বা তৃণভোজী খাদ্যর দিকে বিবর্তিত হচ্ছে। এই পরীক্ষা পড মরকারুর লিজার্ডদের মধ্যে আরো বিবর্তনীয় পরিবর্তন আবিষ্কার করেছেন। প্রজাতির সদস্য সংখ্যাও বেড়েছে এবং পড কপিষ্টের পুর্বসুরী টাইপের লিজার্ডদের মত তারা তাদের এলাকা সুরক্ষা করা আচরণটিও পরিত্যাগ করেছে। আমার পুণরাবৃত্তি করা প্রয়োজন যা এই গল্পের সবচেয়ে অসাধারণ দিক, যে কারণে আমি এখানে এই উদহারণটি বলছি তাহলো এটি এত দ্রুত গতিতে হতে পারে, মাত্র কয়েক দশকের ব্যবধানেই, আমাদের চোখের সামনে ঘটে।

_________________________________________________ চলবে…

Advertisements
রিচার্ড ডকিন্স এর দি গ্রেটেষ্ট শো অন আর্থ : পঞ্চম অধ্যায় (প্রথম পর্ব)

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s