জেরী কয়েন এর হোয়াই ইভোল্যুশন ইজ ট্রু : পঞ্চম অধ্যায় (শেষ পর্ব)

ছবি:  হ্যাগফিশ এবং ল্যাম্প্রের ( আদিম গঠনের ঈল-সদৃশ মেরুদন্ডী প্রানী) চোখের গঠন এবং ভ্রণতাত্ত্বিক বিকাশ ইঙ্গিত দেয় কেমন করে আমাদের ক্যামেরা-স্টাইল চোখ বিবর্তিত হয়েছে এবং এর প্রথম দিকের ধাপগুলো এটি কিভাবে কাজ করতো। প্রাপ্তবয়স্ক হ্যাগফিসের চোখ ডিজেনেরেট বা অপজাত হয়ে যায়, যা দিয়ে সে আর কোন কিছু দেখতে পায়না, তবে সম্ভবত তার শারীরিক সারকাডিয়ান (দৈনন্দিন) রিদমকে নিয়ন্ত্রন করার জন্য এই অপজাত চোখটি আলো শনাক্ত করতে সক্ষম (১); ভ্রুনাবস্থায় প্রথম দিকে ল্যাম্প্রের চোখ দেখতে অনেকটা সহজ গঠনের হ্যাগফিশের চোখের মতই, পরবর্তীতে যা রুপান্তরিত হয় গঠনগতভাবে জটিল ক্যামেরা স্টাইল চোখে (২); মানুষের চোখও ভ্রুণাবস্থায় একপর্যায়ে হ্যাগ ফিসের চোখের মত পর্যায় অতিক্রম করে, যখন আমাদের রেটিনা তিনটি স্তরের হবার আগে দুটি স্তর বিশিষ্ট থাকে (৩); সাধারনতঃ কোন প্রাণীর ভ্রুণতাত্ত্বিক বিকাশের সময় পরিলক্ষিত নানা বৈশিষ্ট তার লিনিয়েজের বিবর্তনের সময় ঘটা নানা পর্যায়গুলোকেই প্রতিফলন করে। আজ পযন্ত্য পাওয়া সকল প্রমান ‌ ইঙ্গিত করে, দৃষ্টিক্ষমতাহীন দ্বিস্তর বিশিষ্ট রেটিনা বিশিষ্ট একটি প্রোটো-আই বা আদি চোখ প্রায় ৫৫০ থেকে ৫০০ মিলিয়ন বছর আগে মেরুদন্ডী প্রানীদের আদি পুরুষদের মধ্যে বিবর্তিত হয়েছিল (৪); যে প্রোটো-আইটি ক্যামেরা স্টাইল চোখের আদিরুপ সেই প্রোটো-আই আমাদের পুর্বপুরুষ প্রানীদের শরীরের আভ্যান্তরীন শারীরবৃত্তীয় ছন্দ ( সারকাডিয়ান রিদম) বা ইন্টারনাল ঘড়িকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য আলো শণাক্ত করতো। (সুত্র: Illustration by Jen Christiansen /Scientific American);


ছবি: উপরের ছবিটিতে দেখানো হয়েছে কর্ডেট এবং মেরুদন্ডী প্রানীদের বিবর্তনের বিভিন্ন পর্যায়ে সিলিয়ারী ফটোরিসেপ্টরদের গঠন: ছবির মাঝের স্তরে দেখানো হয়েছে পুরো সিলিয়ারী রিসেপ্টরগুলোর স্কিমাটিক ডায়াগ্রাম; উপরে এবং নীচের স্তরে দেখানো হয়েছে যথাক্রমে রিসেপ্টরের বাইরের সেগমেন্টের ও সাইন্যাপটিক বা ভিতরের স্নায়ু সংযোগ স্থানের ইলেক্ট্রন মাইক্রোগ্রাফ। ভালো করে লক্ষ্য করলে বোঝা যাবে ধীরে ধীরে বাইরের সেগমেন্টে কেমন করে ল্যামিনার বা পর্দার মতো আরো সুসংগঠিত হয়েছে, আর সাইনাপটিক টার্মিনালে সাইন্যাপটিক রিবনের আবির্ভাব হয়েছে। সুত্র: ট্রেভর ল্যাম্ব ও সহযোগীরা : Nature Reviews: neuroscience; volume 8, December 2007)


ছবি: রেটিনা: আমাদের চোখের পেছনে স্নায়ুকোষ, ফটোরিসেপ্টর ও নানা সহযোগী কোষের একটি স্তর। এটি আলোক সংকেতকে স্নায়ুসংকেতে রুপান্তরিত করে অপটিক নার্ভের মাধ্যমে আমাদের ব্রেনে ভিজুয়াল ইনফরমেশন প্রেরণ করে, যা আমাদের দেখার অনুভুতি সৃষ্টি করে।  রঙ্গীন কোন দৃশ্য দেখাটা নির্ভর করে কোন ( CONE) নামের একধরনের ফটোরিসেপ্টরের উপরে, যারা কোনের মতোই দেখতে এবং আলোক সংবেদী বিশেষ পিগমেন্ট বহন করে, যা আলোর সংস্পর্শে আসলে সক্রিয় হয়ে ওঠে। অন্য যে ফটোরিসেপ্টরগুলো আমাদের কম আলোয় (যেমন রাতে) দেখতে সাহায্য করে তাদের নাম রড (ROD); এই রড এবং কোন কোষগুলো রেটিনার একদম পেছনের স্তরে, অন্য অনেক সহযোগী কোষের পিছনে অবস্থান করে যারা সবাই আমাদের দৃষ্টি ক্ষমতার জন্য দায়ী। ANDREW SWIFT (retina illustrations); Scientific American.

জেরী কয়েন এর হোয়াই ইভোল্যুশন ইজ ট্রু : পঞ্চম অধ্যায় ( শেষ পর্ব)

(অনুবাদ প্রচেষ্টা: কাজী মাহবুব হাসান)

Why Evolution Is True: Jerry A. Coyne

প্রথম অধ্যায়
দ্বিতীয় অধ্যায় : প্রথম পর্ব  দ্বিতীয় পর্ব তৃতীয় পর্ব চতুর্থ পর্বশেষ পর্ব
তৃতীয় অধ্যায়: প্রথম পর্ব , দ্বিতীয় পর্ব , তৃতীয় পর্ব , শেষ পর্ব
চতুর্থ অধ্যায়:  প্রথম পর্ব ; দ্বিতীয় পর্বশেষ পর্ব
পঞ্চম অধ্যায়:  প্রথম পর্ব ; দ্বিতীয় পর্ব ; তৃতীয় পর্ব ; চতুর্থ পর্ব ; পঞ্চম পর্ব

আরো একটি আলোচনা:  ন্যাচারাল সিলেকশন বা প্রাকৃতিক নির্বাচনকে যাচাই করে দেখার পরীক্ষা:

অধ্যায় ৫ : বিবর্তনের ইন্জিন

  নির্বাচন কি জটিল কিছু সৃষ্টি করতে পারে?

কিন্তু যদি আমরা একমতও হই যে প্রাকৃতিক নির্বাচন প্রকৃতিতে কাজ করছে, ঠিক কি পরিমান কাজ আসলেই এটি করছে? নিশ্চয়ই, নির্বাচন পারে পাখির ঠোটে আকার আকৃতি বা গঠন কিংবা কোন উদ্ভিদের ফুল ফোটার সময় পরিবর্তন করতে । কিন্তু এটি কি আসলেই জটিলতর কিছু সৃষ্টি করতে পারে? জটিল কিছু বৈশিষ্ট যেমন, টেট্রাপড দের হাত পা বা রক্ত জমাট বাধা জটিল আর সুক্ষ ধাপগুলো, যা দেখাচ্ছে ঠিক কি সুনির্দিষ্ট উপায়ে সুর্নির্দিষ্ট বহুসংখ্যক প্রোটিনগুলো কাজ করছে বা সবচেয়ে জটিলতম অঙ্গ যেটি বিবর্তিত হয়েছে, মানুষের মস্তিষ্ক? আমরা খানিকটা হাতপা বাধা এই পরিস্থিতিতে কারন আমরা জানি, জটিলতর বৈশিষ্টগুলো বিবর্তিত হবার জন্য বহু সময়ের দরকার এবং বেশীর ভাগই তারা উদ্ভব হয়েছে দুর অতীতে, যখন আমরা সেখানে ছিলাম না কিভাবে সেটা ঘটেছে তা দেখার জন্য। তাহলে আমরা কিভাবে নিশ্চিৎ হবো নির্বাচন এখানে কাজ করেছ ? আমরা কিভাবে জানি যে সৃষ্টিবাদীরা ভুল, যখন তারা বলেন প্রাকৃতিক নির্বাচন ছোটখাট পরিবর্তন হয়তো ঘটাতে পারে তবে এর কোন ক্ষমতা নেই বড় ধরণের কোন পরিবর্তন ঘটাতে? কিন্তু প্রথমে আমাদের অবশ্যই জিজ্ঞাসা করতে হবে, এর বিকল্প তত্ত্বটি আসলে কি। আমাদের আর কোন প্রাকৃতিক প্রক্রিয়ার কথা জানা নেই যা কিনা এই কাজটি করতে পারে। সবচেয়ে প্রচলিত ব্যাখ্যাটা আমাদের নিয়ে যায় অতিপ্রাকৃত কোন জগতে। এটি, অবশ্যই, ক্রিয়েশনিজম বা সৃষ্টিবাদ, যার নবজন্ম পাওয়া এই জীবনে নাম  “intelligent design”  ।  ইন্টেলিজেন্ট ডিজাইন সমর্থকরা প্রস্তাব করেন যে একজন অতিপ্রাকৃত ডিজাইনার এই গ্রহে জীবনের ইতিহাসে নানা সময়ে হস্তক্ষেপ করেছে, হয় তাৎক্ষনিকভাবে জটিল কোন অভিযোজন সৃষ্টি করে  যা প্রাকৃতিক নির্বাচন নাকি বানাতে অক্ষম, কিংবা কোন   “miracle mutations”  সৃষ্টি করে যা চান্স বা দৈবক্রমে ঘটার কোন সম্ভাবনা নেই। (কিছু ID বাদীরা আরো খানিকটা এগিয়ে যায়, তারা হলো চরমপন্হী “young earth” সৃষ্টিবাদীরা, যারা বিশ্বাস করে যে পৃথিবী মাত্র ৬০০০ বছর প্রাচীন এবং এখানে জীবনের কোন বিবর্তনীয় ইতিহাসই নেই।) মুলভাবেই ID  অবৈজ্ঞানিক, কারন এর মুলে আছে পরীক্ষা করে দেখা সম্ভব না এমন সব দাবী। যেমন., কেমন করে আমরা নির্ধারণ করতে পারি যে মিউটেশনগুলো হচ্ছে শুধুমাত্র ডিএনএ প্রতিলিপিকরণ প্রক্রিয়ার সময় হওয়া ভুল বা নাকি কোন একটি সৃষ্টিকর্তার ইচ্ছায় ঘটা পরিবর্তন? কিন্তু আমরা তারপরও জিজ্ঞাসা করতে পারি এমন কোন অভিযোজন আছে কিনা যা নির্বাচনের পক্ষে সৃষ্টি করা সম্ভব না? সুতরাং আমাদের আরো একটি ভিন্ন প্রক্রিয়ার কথা ভাবতে হবে।

আই ডি সমর্থকরা প্রস্তাব করেন এরকম বেশ কিছু অভিযোজনীয় বৈশিষ্ট যেমন, ব্যাকটেরিয়ার ফ্লাজেলা (সরু চুলের মত একটি অঙ্গানু, যা যুক্ত থাকে জটিল একটি মটর সদৃশ অনুসমষ্ঠীর সাথে, যা কিছু ব্যাকেরিয়া ব্যবহার করে তাদের চলাফেরার জন্য) এবং রক্ত জমাট বাধার প্রক্রিয়া। এই দুটো প্রক্রিয়াই আসলে খুব জটিল, ফ্ল্যাজেলা, যেমন, তৈরী হয় এক ডজনের বেশী কিছু ভিন্ন ভিন্ন প্রোটিন দিয়ে, যাদের সবাই কে একসাথে কাজ করতে হবে এই চুল সদৃশ প্রপেলারটি কাজ করার জন্য। আইডি বাদীরা তর্ক করেন যে এই সব বৈশিষ্টগুলো, যাদের বহু অংশ থাকে, যাদের একটি ছাড়া এটি কাজ করতে পারেনা, তারা ডারউইনীয় ব্যাখ্যাকে ভিত্তিহীন করে দেয়। সেকারণে, বাই ডিফল্ট, তারা দাবী করেন নিশ্চয়ই এটি কোন অতিপ্রাকৃত শক্তির কর্ম। এটি প্রচলিত ভাষায় বলা হয়, “God of the gaps” বা শুন্যস্থানকে ব্যাখ্যা করার ঈশ্বর যুক্তি এবং  এই যুক্তিটি এসেছে অজ্ঞতা থেকে। এটি যা বলছে তা হলো যা আমরা বুঝতে পারছি না, কিভাবে প্রাকৃতিক নির্বাচন কোন বৈশিষ্ট সৃষ্টি করছে,সেই না বুঝতে পারাটাই অতিপ্রাকৃত সৃষ্টির স্বপক্ষে প্রমান। আপনি সম্ভবত দেখতে পারেন যে এই যুক্তিটি কত অসার। আমরা কখনোই পুণনির্মান করে দেখাতে পারবোনা,নির্বাচন কিভাবে করে কোন কোন বৈশিষ্ট সৃষ্টি করে, বিবর্তন ঘটে গেছে আমাদের আসার বহু আগে, সেই দৃশ্যে তা দেখার জন্য আমরা উপস্থিত ছিলাম না এবং কিছু জিনিস সবসময়ই অজানা রয়ে যাবে।

কিন্তু বিবর্তনীয় জীববিজ্ঞান অন্য যে কোন বিজ্ঞানের মতই: এখানে অনেক রহস্য আছে, তাদের অনেকগুলোর সমাধান হয়েছে, একটার পর একটা। আমরা এখন জানি যেমন, পাখিরা কোথা থেকে এসেছে, তারা আকাশ থেকে সৃষ্টি হয়নি ( সৃষ্টিবাদীরা যা এখনও দাবী করেন), বরং ধীরে ধীরে বিবর্তিত হয়েছে ডায়নোসরদের থেকে। এবং প্রতিটা সময় একটি রহস্য যখন বিজ্ঞান সমাধান করে, সৃষ্টিবাদীরা পিছু হটতে বাধ্য হয়। যেহেতু আইডি নিজে পরীক্ষার মাধ্যমে প্রমান করা সম্ভব এমন কোন হাইপোথিসিস প্রস্তাব করেনা তাদের তথাকথিক বৈজ্ঞানিক দাবীগুলোর স্বপক্ষে, কিন্তু তারা পিছপা হয়না ডারউইনবাদের বিপক্ষে অপরিপক্ক কিছু সমালোচনা করা ছাড়া, এর বিশ্বাসযোগ্যতা ক্রমশই কমে যাচ্ছে আমাদের বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার ও রহস্য সমাধানের প্রতিটি অগ্রগতির সাথে। উপরন্তু আইডি বাদীদের এইসব জটিল বৈশিষ্টগুলো সম্বন্ধে নিজস্ব ব্যাখ্যা, যার অনেকগুলো অংশ আছে, যেখানে প্রতিটি অংশ পারস্পরিকভাবে অবশ্যই সহযোগিতা করতে হবে আদৌ কাজ করার জন্য, তা স্পষ্টভাবেই ডারউইনীয় ব্যাখ্যাকে ভ্রান্ত প্রমান করে, সুতরাং অবধারিতভাবে নিশ্চয়ই তাদের ডিজাইন করেছেন একজন অতিপ্রাকৃত ডিজাইনার। একে সাধারনত বলে “God of the gaps”, শুন্যস্থানের ঈশ্বর যুক্তি এবং এটি অজ্ঞতা প্রসুত একটি যুক্তি। এটি আসলে যা বলছে তা হলো, যদি আমরা সব বুঝতে না পারি কিভাবে প্রাকৃতিক নির্বাচন কোন একটি বৈশিষ্ট সৃষ্টি করে, এই বুঝতে না পারাটাই হলো অতিপ্রাকৃত সৃষ্টির স্বপক্ষে প্রমান।

আপনি সম্ভবত বুঝতে পারছেন কেন এই যুক্তিটি অর্থহীন, আমরা কখনোই নুতন করে সেই ধাপগুলো সৃষ্টি করতে পারবো না কিভাবে নির্বাচন সবকিছু সৃষ্টি করেছেন। বিবর্তন ঘটেছে আমরা সেই দৃশ্যে আসার বহু আগে, আর তাই কিছু কিছু জিনিস চিরকালই অজানা থাকবে আমাদের। কিন্তু বিবর্তন জীববিজ্ঞান আর যে কোন বিজ্ঞানের মতই।  এরও রহস্য আছে, যাদের অনেকগুলোরই সমাধান হয়েছে একটার পর একটা। যেমন আমরা এখন জানি, কোথা থেকে পাখিরা বিবর্তিত হয়েছে -তারা বাতাস থেকে হঠাৎ করে সৃষ্টি হয়নি (যেমনটা সৃষ্টিবাদীরা মনে করেন), বরং ধীরে ধীরে বিবর্তিত হয়েছে ডায়নোসরদের থেকে। আর প্রতিবারই যখন কোন রহস্য সমাধান হয়, আইডি বাদীরা পেছনে হটে যায় বাধ্য হয়ে। যেহেতু আই ডি নিজে কোন পরীক্ষা করা সম্ভব এমন কোন বৈজ্ঞানিক দাবী করেনা, বরং ডারউইনবাদকে সমালোচনা করে কিছু হালকা যুক্তি দেয়, সেকারনেই এর বিশ্বাসযোগ্যতা ক্রমশ ম্লান হয়ে যাচ্ছে আমাদের বোঝার প্রতিটি পদক্ষেপের সাথে।

উপরন্তু, আইডি দের নিজস্ব ব্যাখ্যা জটিল ব্যাখ্যাগুলো নিয়ে, এক অতিপ্রাকৃত সৃষ্টিকর্তা ডিজাইনার এর নিজস্ব খেয়াল – প্রকৃতি সংক্রান্ত চিন্তা করা সম্ভব এমন কোন পর্যবেক্ষনকেই ব্যাখ্যা করতে পারেনা। এমনকি সৃষ্টিকর্তার এমন ইচ্ছাও হতে পারে, যে তিনি জীবনকে এমনভাবে তার ইচ্ছামত সাজিয়েছেন, যেন দেখে মনে হয় এটি বিবর্তিত হয়েছে ( আপতদৃষ্টিতে এটি বহু সৃষ্টিবাদীরা বিশ্বাস করেন,যদিও খুব কম সৃষ্টিবাদীরা সেটা স্বীকার করেন),  কিন্তু যদি আপনি এমন কোন পর্যবেক্ষন কথা ভাবতে পারেন যা কোন এই তত্ত্বকে মিথ্যা প্রমাণ করতে পারে, সেই তত্ত্ব কোনভাবেই বৈজ্ঞানিক নয়। কিভাবে তাহলে,  আমরা ভুল প্রমান করতে পারি আই ডি বাদীদের সেই দাবীকে, কিছু বৈশিষ্টর উৎপত্তি প্রাকৃতিক নির্বাচনের প্রক্রিয়ার বাইরে? এই সব ক্ষেত্রে সেটা প্রমান করার দ্বায়িত্ব বর্তায় আই ডি বাদীদের উপর, ‍বিবর্তন জীববিজ্ঞানীদের উপর না, ঠিক কিভাবে ধাপে ধাপে বিবর্তনের মাধ্যমে এই বৈশিষ্টগুলোর উদ্ভব হয়েছে। এর জন্য প্রয়োজন সব কিছু জানা যা ঘটেছে আমাদের অস্তিত্বই যখন ছিলনা এই পৃথিবীতে।  পুরোটাই অসম্ভব বেশীর ভাগ বৈশিষ্ট্যএবং প্রায় সকল প্রানরাসায়নিক ধাপগুলোর ক্ষেত্রে। যেমনটা প্রাণরসায়নবিদ ফোর্ড ডুলিটল আর ওলগা জাক্সিবায়েভা ব্যাকটেরিয়ার ফ্লাজেলা বিবর্তিত হতে পারেনা আই ডিবাদীদের এমন দাবীর প্রত্যুত্তরে প্রস্তাব করেন, ’বিবর্তনবাদীদের এই অসম্ভব চ্যালেন্জ নেবার কোন দরকার নেই, যে তাদের ফ্লাজেলা বিবর্তনের প্রতিটি ধাপ সুচারুভাবে খুজে বের করতে হবে, আমাদের শুধু দরকার সেটাই দেখানো যে এ ধরনের কিছু বৈশিষ্টর উদ্ভব – সেই প্রক্রিয়াগুলো এবং উপাদানগুলো সংশ্লিষ্ট যা আমরা ইতিমধ্যেই জানি এবং একমত হতে পারি এমন কোন কিছু থেকে ভিন্ন কিছু না- সম্ভব হতে পারে। এবং এই সম্ভব হতে পারে কথাটি দিয়ে তারা বলতে চাইছেন,  প্রতিটি নতুন বৈশিষ্টর একটি বিবর্তনীয় পুর্বসুরী বৈশিষ্ট আছে এবং সেই বৈশিষ্টটির বিবর্তন ডারউইনীয় পুর্বশর্ত, অর্থাৎ কোন একটি বৈশিষ্ট ‍সৃষ্টির প্রতিটি ধাপ এর বাহককে উপকৃত করবে। সত্যি আমরা এমন কোন অভিযোজন জানিনা যার উৎসের সাথে প্রাকৃতিক নির্বাচন প্রক্রিয়া জড়িত থাকতে পারে না। আমরা কিভাবে নিশ্চিৎ হতে পারি? অ্যানোটমিকাল বৈশিষ্টগুলো, আমরা তাদের বিবর্তন ( যখন সম্ভব) চিহ্নিত করতে পারি জীবাশ্ম রেকর্ডে এবং দেখতে পাই কি ধারাবাহিকতায় সেই সব ভিন্ন ভিন্ন পরিবর্তনগুলো ঘটেছে। আমরা সেখাবে নির্ধারণ করতে পারি, এই ধারাবাহিক পরিবর্তনগুলো কি ধাপে ধাপে অভিযোজনীয় প্রক্রিয়া মেনে চলে কিনা। এবং প্রতিটি ক্ষেত্রে, আমরা কমপক্ষে একটি ডারউইনীয় সম্ভাব্য ব্যাখ্যা খুজে পাই।

আমরা এটি দেখেছি মাছ থেকে স্থলচারী স্তন্যপায়ীদের স্থলচারী স্তন্যপায়ী থেকে তিমির এবং সরীসৃপ থেকে পাখিদের বিবর্তনের সময়, কিন্তু সেভাবেই যে হতে হবে এমন কোন বাধ্যবাধকতা কিন্তু ছিল না। পুর্বসুরী তিমিদের নাকে ছিদ্র মাথার উপরে সরে যাওয়ার প্রক্রিয়া তাদের ফিন বিবর্তনের আগেই ঘটতে পারতো। এটা হয়তো ইশ্বরের কোন স্বর্গীয় নির্দেশ হতে পারতো, বরং প্রাকৃতিক নির্বাচনের মাধ্যমে তাদের বিবর্তিত হতে পারতো না। কিন্তু আমরা সবসময় বিবর্তনের সেই ধারাবাহিকতা দেখি যা ডারউই্নীয় ব্যাখ্যায় অর্থবহ হয়ে ওঠে। জটিল প্রাণরাসায়নিক বৈশিষ্ট আর প্রক্রিয়াগুলোর বিবর্তন বোঝা কিন্তু এত সহজ না, কারণ তাদের কোন জীবাশ্ম রেকর্ড নেই। তাদের বিবর্তন এর ধাপগুলো পুনরায় সৃষ্টি করতে অবশ্যই তৈরী করতে হবে আরো বেশী করে ধারণা নির্ভর কোন উপায়ে। চেষ্টা করতে হয় কিভাবে এই সব প্রক্রিয়াগুলো আরো সরল প্রাণরাসায়নিক উত্তরসুরী প্রক্রিয়াগুলোর থেকে যুক্ত করা যায়। আর আমরা এই সংযোগ হবার প্রক্রিয়ার ধাপগুলোর কথা জানতে চাই, কারণ আমাদের বুঝতে হবে প্রতিটি নতুন ধাপ কিভাবে ফিটনেস বৃদ্ধি করেছে। যদিও আই ডি সমর্থকরা এই সব রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় অতিপ্রাকৃত কোন শক্তির হাত আছে বলে দাবী করেন, তবে নিরলস বৈজ্ঞানিক গবেষনা ইতিমধ্যে এই সব প্রক্রিয়াগুলো কিভাবে বিবর্তিত হয়েছে তার সম্ভাব্য ( এবং পরীক্ষাযোগ্য) ব্যাখ্যা দিতে শুরু করেছে।

মেরুদন্ডী প্রানীদের রক্ত জমাট বাধার কথাই ধরুন না, এই জমাট বাধার পুরো প্রক্রিয়ায় ধারাবাহিক কিছু ঘটনা ঘটে যেখানে উন্মুক্ত কোন রক্তক্ষরনের জায়গায় একটা প্রোটিন অন্য আরেকটি প্রোটিনের সাথে যুক্ত হয়। যারা একটি জটিল রাসায়নিক প্রক্রিয়ার সুচনা করে, ষোলটি ধাপ দীর্ঘ, যার প্রতিটি ধাপেই আছে ভিন্ন ভিন্ন জোড়া প্রোটিনদের ক্রিয়াপ্রতিক্রিয়া, যা শেষ অবধি শেষ হয় জমাট বাধার মাধ্যমে। যদিও এখানে ২০র বেশী প্রোটিন জড়িত। কিভাবে এর বিবর্তন সম্ভব হলো? আমরা এখনও নিশ্চিৎভাবে জানিনা কিভাবে, কিন্তু আমাদের প্রমান আছে এ ধরনের কোন সিস্টেম বিবর্তিত হতে পারে সাধারণ পুর্বসুরী অনু থেকে অভিযোজনীয় প্রক্রিয়ায়।  রক্ত জমাট বাধার সাথে সংশ্লিষ্ট অনেকগুলো প্রোটিন তৈরী করার সংকেত সাথে সম্পর্ক যুক্ত জীনগুলোয়, যার উৎপত্তি হয়েছে দ্বিলিপিকরন বা ডুপলিকেশন করার মাধ্যমে, এটি এক ধরনের মিউটেশন, যেখানে কোন পুর্বসুরী জীন এবং পরে এর উত্তরসুরীরা দ্বি অনুলিপি করণ হয় পুরেো ডিএনএ র অংশ জুড়ে কোষ বিভাজনের সময় ভ্রান্তির কারণে। একবার তাদের উৎপত্তির পর, এধরনের ডুপ্লিকেট জীনগুলো এর পরে ভিন্ন ভিন্ন পথে বিবর্তিত হয়, এমনভাবে যে তারা ভিন্ন ভিন্ন কাজ করার জন্য বিবর্তিত হয়, আজ যারা তা করে রক্ত জমাট বাধা প্রক্রিয়ায়। এবং আমরা জানি অন্য প্রোটিন বা এনজাইম যারা এই প্রক্রিয়া অংশ নেয় ভিন্ন ভিন্ন কাজ যারা করে, তারা বিবর্তিত হয়েছে মেরুদন্ডী প্রানীদের বিবর্তনের আগেই। যেমন একটি গুরুত্বপুর্ণ প্রোটিন এই রক্ত জমাট বাধা হচ্ছে ফিব্রিনোজেন, যা রক্তের প্লাজমা দ্রবীভুত থাকে, রক্ত জমাট বাধার প্রক্রিয়ায় শেষ ধাপে, একটি এনজাইম এই প্রোটিনটিকে কাটে এবং ছোট আকারের প্রোটিন ( যার নাম ফিব্রিন) তৈরী করে। যারা একটার সাথে আরেকটার যুক্ত হয় অদ্রবীভুত হয়ে পড়ে, সেটাই জালের মত বিছিয়ে রক্ত জমাট বাধার শেষ কাজটি করে। যেহেতু ফিব্রিনোজন সব মেরুদন্ডী প্রানীদের রক্ত জমাট বাধার সাথে জড়িত প্রোটিন, ধারণা করা হয় এটি বিবর্তিত হয়েছে এমন কোন প্রোটিন থেকে যা আদি অমেরুদন্ডীদের শরীরের ভিন্ন কোন কাজ করতো, যারা মেরুদন্ডী প্রানীদের চেয়ে আগেই এসেছিল কিন্তু তাদের রক্ত জমাট বাধার কোন মেকানিজম ছিল না। যদিও কোন একজন বুদ্ধিমান সৃষ্টিকর্তা ডিজাইনার একটি সুযোগ্য প্রোটিন আবিষ্কার করতে পারেন, কিন্তু বিবর্তন সেভাবে কাজ করেনা। অবশ্যই একটি পুর্বসুরী কোন প্রোটিন থাকতে হবে যেখান থেকে বিবর্তিত হয়েছে ফিব্রিনোজেন।

26-10-2013 12-17-57 AM

ছবি: Evolution of Vertebrate Blood Coagulation (Cold Spring Harb Symp Quant Biol. 2009;74:35-40. Step-by-step evolution of vertebrate blood coagulation.(Doolittle RF);

ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের রাসেল ডুলিটল প্রেডিক্ট করেছিলেন, আমরা নিশ্চয়ই এমন কোন প্রোটিন পাবো। এবং সত্যি, ১৯৯০ সালে তিনি ও তার সহকর্মী জুন জু সেই প্রোটিনটিকে আবিষ্কার করেন সি কিউকাম্বার এর শরীর থকে, চীনা খাদ্যে মাঝে মাঝে যে সামুদ্রিক অমেরুদন্ডী প্রানীটি ব্যবহৃত হয়। প্রায় ৫০০ মিলিয়ন বছর আগে, সি কিউকাম্বারটা মেরুদন্ডী প্রানীদের বংশধারা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, তারপরও তাদের শরীরে একটি প্রোটিন আছে, যা মেরুদন্ডী প্রানীদের রক্ত জমাট বাধা প্রোটিন এর সাথে সংশ্লিষ্ট তবে রক্ত জমাট বাধার কোন প্রক্রিয়ার সাথে তারা জড়িত না। এর অর্থ হচ্ছে সি কিউকাম্বারদের এবং মেরুদন্ডীদের সাধারণ পুর্বসুরী প্রানীর শরীরে  একটি জীন ছিল যা পরবর্তীতে কো অপ্ট করেছে মেরুদন্ডী প্রানীদের শরীর নতুন কাজটির জন্য, ঠিক যেমন বিবর্তন প্রেডিক্ট করেছে। এরপর থেকেই ডুলিটল এবং কোষ বিজ্ঞানী কেন মিলার একটি সম্ভাব্য এবং অভিযোজনী ধারাবাহিকতার পথ উদঘাটন করেছেন পুরো রক্ত জমাট বাধারা ধাপগুলো পুর্বসুরী প্রোটিনদের থেকে।

এই সব পুর্বসুরীদের সবকটিকে আমরা দেখি অমেরুদন্ডী প্রাণীদের শরীরে, যেখানে তারা অন্য কাজ করে এবং মেরুদন্ডীরা বিবর্তনীয় প্রক্রিয়ায় তাদের কো অপ্ট করেছে রক্ত জমাট বাধার সিস্টেমে কাজ করার জন্য। এবং ব্যাকটেরিয়ার ফ্ল্যাজেলাম এর বিবর্তন, যদি এখনও আমরা পুরোপুরি বুঝিনি, এর ক্ষেত্রেও অনেকগুলো প্রোটিন আছে যাদের  কো অপ্ট করে নেয়া হয়েছে অন্যান্য বায়োকেমিক্যাল প্রক্রিয়া থেকে। বিজ্ঞানের মাধ্যমেই কঠিন সমস্যার সমাধান আমরা খুজে পাই। এবং যদিও আমরা এখনও সেটা জানিনা কিভাবে প্রত্যেকটি জটিল প্রাণরসায়নিক প্রক্রিয়া বিবর্তিত হয়েছে, প্রতিদিনই আমরা নতুন কিছু শিখছি, জানছি। সর্বোপরি প্রাণরাসায়নিক বিবর্তনের ক্ষেত্রটি  এখন তার প্রাথমিক পর্যায়ে আছে। বিজ্ঞানের ইতিহাস আমাদের যদি কিছু শিখিয়ে থাকে, সেটা হলো আমরা আমাদের অজ্ঞতাকে জয় করি গবেষনার মাধ্যমে, কোন সৃষ্টিকর্তার বিস্ময়কর কর্ম বলে মেনে নিয়ে আমরা অজ্ঞতায় সমর্পন করিনা। আপনি যখন শুনবেন কেউ অন্য কিছু দাবী করছে, ডারউইনের সেই শব্দগুলো মনে রাখবেন, ‘সত্যিকার জ্ঞান যতটা না পারে, অজ্ঞতা তার অনেক বেশী আত্মবিশ্বাসের জন্ম দেয়, তারাই যারা কম জানে, যারা বেশী জানে তারা নয়, তারাই খুব বেশী দৃঢ়ভাবে দাবী করে এইটা বা অন্য সমস্যা কখনোই বিজ্ঞান দিয়ে সমাধান হবে না।‘

তাহলে আপাতদৃষ্টিতে যা মনে হয়, নীতিগতভাবে আসলেই কোন সত্যিকারের সমস্যা নেই, জটিল প্রাণরাসায়নিক প্রক্রিয়ার বিবর্তনের বিষয়টিতে। কিন্তু সময়ের ব্যাপারটা?  আসলে কি যথেষ্ট সময় ছিল প্রাকৃতিক নির্বাচনের পক্ষে জটিল অভিযোজনীয় বৈশিষ্টসমুহ এবং জীবনের নানা আকারের বৈচিত্রময়তা দুটোই সৃষ্টি করার জন্য। অবশ্যই আমরা জানি যে যথেষ্ট সময় ছিল জীবনের বিবর্তন হবার জন্য, জীবাশ্ম রেকর্ডই যথেষ্ট সেটা বলার জন্য? কিন্তু প্রাকৃতিক নির্বাচন কি যথেষ্ট শক্তিশালী ছিল এ ধরনের কোন পরিবর্তনের নিয়ামক হবার জন্য? একটি উপায় হচ্ছে জীবাশ্ম রেকর্ডে বিবর্তনের হার এবং  ল্যাবরেটরির পরীক্ষায় যে কৃত্রিম নির্বাচনের হার আমরা  দেখি তার একটি তুলনামুলক পর্যালোচনা করা বা বিবর্তনীয় পরিবর্তনের ঐতিহাসিক ডাটা র সাহায্যে, যা ঘটেছিল যখন কোন একটি প্রজাতি নতুন কোন পরিবেশে তাদের বসতি গড়েছিলো ঐতিহাসিক সময়ে। যদি জীবাশ্ম রেকর্ডে বিবর্তন ল্যাবরেটরী পরীক্ষায় বা নতুন জায়গায় বসতি স্থাপনকারীদের মধ্যে দেখা বিবর্তনের হারের চেয়ে অনেক দ্রুত হয় ( যে দুই ক্ষেত্রেই নির্বাচনী চাপ অনেক বেশী শক্তিশালী), আমাদের হয়তো আবার ভাবা প্রয়োজন নির্বাচন কি আসলেই জীবাশ্মে এই পরিবর্তনগুলো ব্যাখ্যা করতে পারে কিনা। কিন্তু আসলে ফলাফল ঠিক এর বীপরিত। ফিলিপ গিংগেরিচ, মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি দেখিয়েছিলেন, প্রানীদের আকার আয়তনে পরিবর্তনের হার ল্যাবরেটরী পরীক্ষায় বা কলোনাইজেশন ইভেন্টে যা ঘটে তার চেয়ে আসলেই  অনেক দ্রুত ঘটে জীবাশ্ম রেকর্ডে যা পরিবর্তন দেখা যায় তার তুলনায়: প্রায় ৫০০ গুন দ্রুত ( কলোনাইজেশনের সময় যে নির্বাচন ঘটে) থেকে ১ মিলিয়ন গুন দ্রুত ( পরীক্ষাগারের কোন নির্বাচন গবেষনায় );

এমনকি জীবাশ্ম রেকর্ডের সবচেয়ে দ্রুততম পরিবর্তন কোনভাবেই ল্যাবরেটরীর নির্বাচন সংক্রান্ত পরীক্ষায় সবচেয়ে মন্থর গতির ধারে কাছে আসতে পারেনা, উপরন্তু বিবর্তনের গড় হার আমরা যা কলোনাইজেশন স্টাডিতে দেখি যা যথেষ্ট বেশী, যা কিনা ১০০০০ বছরে কোন ইদুরের আকার হাতির সমান করে দিতে পারে। তাহলে মুল শিক্ষাটি হচ্ছে, প্রাকৃতিক নির্বাচন নিজেই যথেষ্ট জীবাশ্ম রেকর্ডে যে পরিবর্তনগুলো আমরা দেখি তা ব্যাখ্যা করার জন্য। একটি কারন কেন মানুষ এই প্রশ্নটি তোলে , তা হচ্ছে তারা সেই বিশাল পরিমান সময়টাকে অনুধাবন করেনা ( বা করতে পারেনা) যে সময় ধরে নির্বাচনকে তার কাজ করতে হয়। সর্বোপরি, আমরা বিবর্তিত হয়েছি,  আমাদের জীবন কালের সময় মাত্রায় নানা বিষয় নিয়ে অনুধাবন করার জন্য, সম্ভবত ৩০ বছর , আমাদের বিবর্তনের বেশীর ভাগ সময় জুড়ে। ১০ মিলিয়ন বছর সময়তো আমাদের স্বাভাবিক বোধসীমার বাইরে। পরিশেষে, প্রাকৃতিক নির্বাচন কি যথেষ্ট, কোন জটিল কোন অঙ্গ যেমন চোখের বিবর্তন ব্যাখ্যা করতে? মেরুদন্ডীদের ক্যামেরা চোখ ( এবং স্কুইড এবং অক্টোপাস এর মত মোলাস্কদের)  একসময় সৃষ্টিবাদীদের খুব প্রিয় বিষয় ছিল, এর আইরিস, লেন্স রেটিনা কর্ণিয়া ইত্যাদির জটিল সজ্জা ও সংগঠন, যাদের সবগুলো একসাথে কাজ করতে হবে কোন কিছু ইমেজ সৃষ্টি করার জন্য, এই বিষয়গুলো তাদের যুক্তির অংশ ছিল বিবর্তনের বিরুদ্ধে। প্রাকৃতিক নির্বাচনের বিরুদ্ধবাদীরা দাবী করেন যে, চোখ কখনো ধাপে ধাপে তৈরী হওয়া সম্ভব না।

কিভাবে কোন অর্ধেক চোখ কাজে আসতে পারে কারো ? ডারউইন অসাধারনভাবে বিষয়টির উত্তর দিয়েছিলেন এবং যুক্তি খন্ডন করেছিলেন, তার বই The Origin এ। তিনি জীবিত বহু প্রজাতির চোখ সার্ভে করে দেখেন, যদি এমন কোন কার্যকরী কিন্তু অপেক্ষাকৃত কম জটিল চোখ খুজে পাওয়া যায় যা কিনা শুধু কাজেই আসে না বরং এরকম উপযোগী সরল থেকে জটিল চোখের একটি হাইপোথেটিকাল ধারাবাহিকতায় তাদের সাজানো যায় কিনা, যা আমাদের ক্যামেরা চোখের বিবর্তন বুঝতে সহায়তা করবে। এবং এটা যদি করা সম্ভব হয় এবং এটি পারবে তাহলে প্রাকৃতিক নির্বাচনের বিরুদ্ধে সেই যুক্তিটিকে খন্ডন করতে, যা দাবী করছে জটিল চোখ সৃষ্টি করার কোন ক্ষমতা নেই। কারন নি:সন্দেহে বর্তমানে জীবিত সকল প্রজাতির জন্য তার চোখ প্রয়োজনীয় একটি অঙ্গ। চোখের বিবর্তনে প্রতিটি ধাপে উন্নতি কোন সন্দেহ নেই এর বাহককে ফিটনেস দিয়েছে, কারন এটি তাকে খাদ্য সন্ধান, শিকারী প্রানী এড়াতে এবং তার পরিবেশে তার চলাফেলায় সাহায্য করেছে । এই ধরনের পরিবর্তনের একটি সম্ভাব্য সুচনা হয়েছিল খুব সাধারন সরল চোখের স্পট দিয়ে,যারা তৈরী আলোক সংবেদী রঙ্গক অনু দিয়ে, যেমনটা ফ্ল্যাট ওয়ার্ম এ দেখা যায়। এরপর চামড়া এখানে ভাজ হয়ে একটি কাপের মত তৈরী করে যা এই চোখের স্পট টি রক্ষা করে এবং আরো ভালো করে আলোর উৎস নির্ণয়ে সাহায্য করে। লিম্পেটদেরও এ ধরণের চোখ আছে। আর প্রকোষ্ঠ বিশিষ্ট নটিলাস এর দের শরীরে, আমরা দেখি সেই চামড়ার কাপ টি আর সরু হয়ে যাওয়া, যা উদ্দেশ্য সৃষ্ট ইমেজ বা ছবির সুক্ষ্মতা বাড়ানো। এবং র‌্যাগওয়ার্মে আমরা দেখটি চামড়া এই কাপটির মুখ একটি স্বচ্ছ পর্দা দিয়ে ঢাকা, যা চোখটিকে সুরক্ষিত রাখে। আবালোন দের চোখে থাকা কিছু তরল জমাট বেধে তৈরী করে লেন্স, যা আলোকে ফোকাস করতে সহায়তা করে। এবং অনেক প্রজাতিতে, যেমন স্তন্যপায়ী পার্শ্ববর্তী মাংসপেশীদের ব্যবহার করা হয় এই লেন্সটির নাড়াচড়া করার জন্য যা ফোকাস পরিবর্তন করার জন্য প্রয়োজনীয়। রেটিনার বিবর্তন, একটি অপটিক স্নায়ু এর সবকিছুই পর্যায়ক্রমে ঘটে প্রাকৃতিক নির্বাচনের মাধ্যমে। এই সম্ভাব্য বিবর্তনের প্রস্তাবিত প্রতিটি ধাপই এর বাহককে সুবিধা দেয়, কারন এটি এর বাহককে ‍সুযোগ করে দেয় আরো বেশী আলো সংগ্রহ, সুক্ষ্ম ছবি তৈরী করতে, যাদের প্রত্যেকটি এর বাহককে বাচতে ও প্রজনন সফল হবার সুযোগ করে দেয়। এবং প্রতিটি ধাপ এই প্রক্রিয়ায় ঘটা সম্ভব কারন বহু ভিন্ন ভিন্ন প্রজাতির চোখে সেটি দেখা গেছে। এবং এই ধারাক্রমের শেষেই দেখি ক্যামেরা চক্ষুকে। যার অভিযোজনীয় বিবর্তন মনে হয় অসম্ভবভাবে জটিল। কিন্তু সম্পুর্ণ রুপে বিবর্তিত চোখ এর জটিলতাকে খন্ডিত করা যেতে পারে, ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অভিযোজনীয় ক্রম উন্নতির ধাপে। তারপরও আমাদের কাছে আরো প্রমান আছে বর্তমানে জীবিত প্রজাতিদের চোখের একটি ধারাবাহিক ভাবে অভিযোজনীয় ক্রম ধাপগুলো একটি সুত্রে গাথার চাইতেও। আমরা যেমন শুরু করতে পারি, খুব সাধারন একটি পুর্বসুরী চোখ থেকে এবং আসলেই আমরা একটি মডেল তৈরী করতে পারি চোখের বিবর্তনের, এবং দেখতে পারি, আসলেই কি প্রাকৃতিক নির্বাচন যার সরল পুর্বসুরী একটি চোখকে আরো জটিল চোখে বিবর্তন করতে পারে কিনা একটি  যুক্তিযুক্ত সময়ের মধ্যে।

সুইডেন এর লুন্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ড্যান-এরিক নিলসন ও সুজান পেলজার এমনই একটি গানিতিক মডেল তৈরী করেছিলেন, শুরু করেছিলেন আলোক সংবেদী কোষ, যার পেছনের এক স্তর পিগমেন্ট বা সংবেদী রন্জক  বা রেটিনা সহ সরল চোখ দিয়ে।এরপর তারা এর আশে পাশের টিস্যুগুলো র‌্যানডোমলি পরিবর্তিত হবার সুযোগ করে দেন, আর এই পরিবর্তিত হবার হার প্রতিটি ধাপের চেয়ে ১% আকারে বা পুরুত্বে হবে সেটাও ঠিক করে দেন। প্রাকৃতিক নির্বাচনের মতই এই মডেলটি শুধু সেই সব মিউটেশনদের অনুমতি দেয়, যারা দৃষ্টিশক্তির সুক্ষতার উন্নতি করে এবং সেই সবগুলো বাদ দেয়া হয় যারা ক্ষতি করছে । বিস্ময়কর রকম কম সময়ে, এই মডেল জটিল চোখের সৃষ্টি করে দেখিয়েছে, সত্যিকার প্রানীদের ধারাবাহিক যে সব ধাপ উপরে বর্ণিত হয়েছে, সেই সবগুলো ধাপ পার হয়ে। চোখ ভিতরের দিকে ভাজ হয়ে একটি কাপ তৈরী করে, এবং কাপটির উপরে আচ্ছাদন তৈরী করে একটি স্বচ্ছ পর্দা, কাপের ভিতরের তরল জমাট বেধে তৈরী শুধু লেন্সেই তৈরী হয়না, বরং এমন মাত্রার একটি লেন্স তৈরী হয় যা সম্ভাব্য সবচেয়ে ভালো স্পষ্ট ইমেজ সৃষ্টি করে। ফ্ল্যাটওয়ার্ম দের চোখের স্পটের মত একটি গঠন থেকে শুরু করে মডেলটি মেরুদন্ডী প্রানীদের জটিল চোখের মত একটি চোখ সৃষ্টি করে। এটি সম্ভব হয়েছে ছোট ছোট ধারাবাহিক অভিযোজনীয় ধাপের মাধ্যমে- সঠিক হিসাব মত মোট ১৮২৯ টি ধাপ । কিন্তু নীলসন আর পেলজার আরো গননা করে দেখেন যে এই পক্রিয়াটি আসলে কত সময় লাগতে পারে।

এ কাজটি করতে তারা কিছু পুর্বধারণা মেনে নিয়ে নিয়েছেন ঠিক কি পরিমান জীনগত প্রকরণ চোখের আকৃতির জন্য কোন জনগোষ্ঠীতে আছে প্রাকৃতিক নির্বাচনী চাপের অভিজ্ঞতা পাবার আগে এবং ঠিক কতটা শক্তিশালীভাবে এই নির্বাচন প্রতিটি চোখের আকারের উপযোগী ধাপে নির্বাচনী সুবিধা দেয়। এই প্রাকধারণাগুলো খুব চিন্তিতভাবে রক্ষনশীল সীমায় রাখা হয়েছে, ধরে নেয়া হয়েছে, যথেষ্ট কিন্তু তেমন বিশাল মাপের জীনগত প্রকরণ ছিল না এবং প্রাকৃতিক নির্বাচন খুবই দুর্বল। যাই হোক না কেন, চোখ তারপরও এই মডেলে খুব দ্রুত বিবর্তিত হয়েছে। পুরো প্রক্রিয়া, সেই আদি আলোক সংবেদী পর্দা থেকে ক্যামেরা চোখ এসেছে ৪০০০০০ বছরের কম সময়ে। যেহেতু সবচেয়ে আদি প্রানী চোখ সহ, দেখা মেলে ৫৫০ মিলিয়ণ বছর আগে, এই মডেল মোতাবেক, সেখানে যথেষ্ট সময় আছে জটিল চোখের বিবর্তন হবার জন্য প্রায় ১৫০০ বার। বাস্তবে, চোখ বিবর্তিত হয়েছে স্বতন্ত্রভাবে কমপক্ষে ৪০ টি গ্রুপ প্রানীদের মধ্যে। তাদের গবেষনা পত্রে নিলসন ও পেলজার শুষ্কভাবেই মন্তব্য করেন… স্পষ্টতই চোখ আসলে কখনোই ডারউইনের বিবর্তন তত্ত্বের জন্য কোন হুমকি ছিল না। তাহলে আমরা কোথায়.. আমরা জানি যে প্রাকৃতিক নির্বাচন-প্রানী আর উদ্ভিদ ব্রিডীং এর  মতই একটি প্রক্রিয়া বুনো প্রজাতির মধ্যে থাকা জীনগত প্রকরণ কাজে লাগিয়ে এর থেকে সৃষ্টি করেছেন বিশাল বিবর্তনীয় পরিবর্তন। আমরা জানি এ ধরনের পরিবর্তন আরো বিশাল হতে পারে, বা আরো দ্রুত হতে পারে সত্যিকারের বিবর্তনীয় পরিবর্তনের তুলনায় যা অতীতে ঘটেছে।

আমরা ল্যাবরেটরীতে  এবং বুনো পরিবেশে নির্বাচনকে কাজ করতে দেখেছি, অনুজীবদের এর মধ্যে, যারা নানা সংক্রামক ব্যাধির কারন। আমরা এমন কোন অভিযোজনের কথা জানিনা, যা অবশ্যই কোন না কোন ভাবে প্রাকৃতিক নির্বাচনের চাপে গড়ে উঠেনি, এবং অনেক ক্ষেত্রেই আমরা ব্যাখ্যা যোগ্য উপায়ে ধারনা করতে পারি সম্ভাব্য কি উপায়ে নির্বাচন সেখানে কাজ করেছে। এবং গানিতিক মডেল দেখিয়েছে যে প্রাকৃতিক নির্বাচন যথেষ্ট জটিল বৈশিষ্ট সহজে এবং দ্রুততার সাথে সৃষ্টি করতে পারে। সবচেয়ে স্পষ্টতম উপসংহার: আমরা প্রাথমিকভাবেই মনে করে নিতে পারি যে প্রাকৃতিক  নির্বাচন সব অভিযোজনীয় বিবর্তনের কারণ। যদিও বিবর্তনের সব বৈশিষ্ট না কারণ জেনেটিক ড্রিফট এর ভুমিকা থাকতে পারে। সত্যি কথা  ব্রীডাররা কোন বিড়ালকে কুকুর বানাতে পারেননি ঠিকইএবং ল্যাবরেটরী কোন গবেষনা পারেনি কোন ব্যাকটেরিয়াকে অ্যামিবায় রুপান্তরিত করতে ( যদিও আমরা দেখেছি, নতুন ব্যাকটেরিয়া প্রজাতি ল্যাবে উদ্ভব হতে); কিন্তু এগুলোকে প্রাকৃতিক নির্বাচনের বিরুদ্ধে কোন গুরুত্বপুর্ণ অভিযোগ হিসাবে ভাবাটা বোকামী হবে । বড় পরিবর্তন এর জন্য প্রয়োজন সুবিশাল সময়ের ব্যবধান। সত্যিকার ভাবে নির্বাচেনের শক্তি দেখতে হলে আমাদের জীবদ্দশায় দেখা সব ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র পরিবর্তনকে অবশ্যই বিশাল প্রেক্ষিতে বোঝার চেষ্টা করতে হবে, যে লক্ষ কোটি বছর ধরে  সত্যি সত্যি যে শক্তি প্রকৃতিতে কাজ করতে হয়েছে। আমরা গ্রান্ড ক্যানিয়নকে আরো গভীর হতে দেখিনা , তবে এর সেই গভীর খাদের নীচের দিকে তাকালে বুঝতে পারি কলোরাডো নদী কিভাবে এর তলদেশকে আরো গভীর করে যাচ্ছে যা আমাদের অনুভব করার সীমার বাইরে, আপনি ডারউইনবাদ থেকে সবচেয়ে গরুত্বপুর্ণ যে শিক্ষাটি পাবেন: দুর্বল কোন শক্তি অনেক দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করে অনেক বড় আর নাটকীয় পরিবর্তন সৃষ্টি করতে পারে।

________________________________ চলবে

Advertisements
জেরী কয়েন এর হোয়াই ইভোল্যুশন ইজ ট্রু : পঞ্চম অধ্যায় (শেষ পর্ব)

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s