জেরী কয়েন এর হোয়াই ইভোল্যুশন ইজ ট্রু : পঞ্চম অধ্যায় (পঞ্চম পর্ব)

Collage2
ছবি: Top row: juvenile J. haematoloma (first and second images), J. coturnix, and B. trivittata. Second row: juvenile B. rubrolineata, L. mitellatus, L. tagalicus, and L. bahram. Species in third and fourth rows are adult versions of the species in the first and second rows, respectively. সুত্র

25-10-2013 11-15-40 PM
ছবি: Jadera haematoloma feeding সুত্র

5333880346_e001c5770f_b
ছবি: J. haematoloma feeding on Cardiospermum halicacabum seed

আকারে খুব ক্ষুদ্র কিন্তু শক্তিশালী সোপবেরী বাগ (Soapberry bug) মানুষের বদলে দেয়া এই প্রকৃতিতে খুব দ্রুত খাপ খাইয়ে নিচ্ছে, বেশ কিছু উদহারন একটি এই সোপবেরী বাগ আমাদের দেখিয়ে দিয়েছে বিবর্তন প্রক্রিয়া অব্যাহত আছে প্রতিটি মুহুর্তে।কিভাবে প্রকৃতিতে প্রাকৃতিক নির্বাচন প্রক্রিয়াটি কাজ করছে, আমাদের জীবদ্দশায় তা দেখার সুযোগ আমরা পেয়েছি।সারা পৃথিবীতে প্রায় ৬০ প্রজাতির সোপবেরী বাগ আছে; মুলত subfamily Serinethinae অন্তর্ভুক্ত ৩ টি জেনেরায় সোপবেরী বাগ এর প্রজাতিগুলো বিন্যস্ত,, Jadera, Leptocoris, ও Boisea;  সোপবেরী বাগরা মুলত সাপনিড গ্রুপের গাছদের বীজ খায়, এদের লম্বা একটা ঠোটের মত উপাঙ্গ আছে, যা ফলের মাংশল অংশ ভেদ করে সরাসরি বীজের কাছে পৌছে যায় এর পর এটি দিয়ে বীজের শক্ত খোলস ছিদ্র করে বীজের ভিতর তার পরিপাক রস ঢুকিয়ে দেয়, সেই পরিপাক রসই বীজটিকে খোলসের মধ্যে গলিয়ে তরলে রুপান্তরিত করে, সোপবেরী পোকারা সেটা চুষে খেয়ে নেয় সহজে। এই পোকাগুলো বিশেষ বিশেষ গাছের ফল বীজ খাবার জন্য অভিযোজিত হয়েছে। এর জন্য তারা তাদের ঠোটের আকারও পরিবর্তন করেছে প্রয়োজনমত; যদি সেই গাছের এমন কোন ফল থাকে যার বীজ অনেক গভীরে থাকে, যে সোপবেরী পোকারা সেই গাছে বাস করে তাদের ঠোট সেই আকারে লম্বা হয়, আর যদি বীজ বেশ গভীরে না থাকে সেই গাছে থাকা সোপবেরী পোকাদের ঠোটও সেই আকারে ছোট হয়। বিজ্ঞানীরা লক্ষ্য করেছেন সোপবেরী পোকা, বিশেষ করে উত্তর আমেরিকার Jadera haematoloma ঠোটের (মুখোপাঙ্গ) আকারের দ্রুত বিবর্তন হচ্ছে, আর  এই বিবর্তনের পেছনে কাছ করছে বিশেষ কিছু গাছের নিজেদের বীজ বাচানোর কৌশলের নির্বাচনী চাপ; বিশেষ করে যে নতুন প্রজাতির সাপনিড গাছগুলো উত্তর আমেরিকায় প্রবেশ করার সুযোগ করে হয়েছে, তাদের সাথে সহবিবর্তনের একটি ধারাবাহিকতা লক্ষ্য করেছেন বিজ্ঞানীরা। এবং এখানে সবচেয়ে লক্ষ্যনীয় বিষয় হচ্ছে এই নতুন প্রজাতির গাছ যাদের বীজ তারা খেতে শুরু করেছে, তারা কিন্তু খুব সাম্প্রতিককালে তাদের বসবাসের এলাকা নিয়ে আসা হয়েছে, এবং বিজ্ঞানীরা সহজেই পুর্বধারণা করতে পেরেছেন,এই নতুন গাছগুলোর ফলের মধ্যে বীজের অবস্থানেরে উপর নির্ভর করে এই পোকাদের ঠোটের আকার ধনাত্মক হারে পরিবরর্তিত হবে এবং নিশ্চয়ই এর একটি জিনগত ভিত্তি থাকবে। আর এটাই আমাদের দেখার সুযোগ করে দিয়েছে কিভাবে প্রকৃতিতে প্রাকৃতিক নির্বাচন বিবর্তনের ইন্জিনটাকে সচল রাখে, যা কিনা কখনো কখনো আমাদের জীবদ্দশায় দেখবার সৌভাগ্য হয়। যেমন balloon vine, Cardiospermum corindum, দক্ষিন ফ্লোরিডার স্থানীয় একটি সাপনিড জাতীয় উদ্ভিদ, এদের উপর নির্ভর করে বেচে থাকে red-shouldered সোপবেরী পোকা ( Jadera haematoloma), বেলুন ভাইন দের ফল বেশ বড়,গোল, ফোলা এবং Jadera haematoloma যারা এই বেলুন ভাইন এর ফলের বীজ খায় তাদের ঠোটের আকার দৈর্ঘে্য তাদের দেহের প্রায় ৭০%; ১৯৫০ এর দিকে তাইওয়ান থেকে আরো একটি সৌন্দর্যবর্ধন কারী সাপনিড প্রজাতির ‍বৃক্ষ Chinese flametree, Koelrueteria elegans ফ্লোরিডাতে নিয়ে আসা হয়, এবং এর কিছু দিন পর থেকেই Jadera haematoloma পোকারা এই গাছটির ফল খেতে শুরু করে; এর প্রায় ২০ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে দেখা যায় এদের এই গাছটির ফল খাবার জন্য বিশেষভাবে উপযোগী ঠোটও বিবর্তিত হয়। এবং সেই সাথে এই গাছটির বীজ খেয়ে বেচে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় বেশ কিছু পরিবর্তনও হয় ( কারন ফ্লেম ট্রী ফল বছরে একবার খুব কম সময়ের জন্য হয়), এদের ফলের আকার ছোট, এখানে বিশেষায়িত পোকারা কম উড্ডয়নক্ষম, দ্রুত প্রজনন ক্ষম হয়ে ওঠা এবং প্রজননের জন্য বিশেষ সচেষ্টা থাকা ও সেই সংক্রান্ত বেশ কিছু বৈশিষ্ট নিয়ে তারা অভিযোজিত হয় যা তাদের পার্থক্য করে তাদের পুর্বসুরী Jadera haematoloma দের থেকে।

জেরী কয়েন এর হোয়াই ইভোল্যুশন ইজ ট্রু : পঞ্চম অধ্যায় ( পঞ্চম পর্ব)

(অনুবাদ প্রচেষ্টা: কাজী মাহবুব হাসান)

Why Evolution Is True: Jerry A. Coyne

প্রথম অধ্যায়
দ্বিতীয় অধ্যায় : প্রথম পর্ব  দ্বিতীয় পর্ব তৃতীয় পর্ব চতুর্থ পর্বশেষ পর্ব
তৃতীয় অধ্যায়: প্রথম পর্ব , দ্বিতীয় পর্ব , তৃতীয় পর্ব , শেষ পর্ব
চতুর্থ অধ্যায়: চতুর্থ অধ্যায়:  প্রথম পর্ব ; দ্বিতীয় পর্বশেষ পর্ব
পঞ্চম অধ্যায়:  প্রথম পর্ব ; দ্বিতীয় পর্ব ; তৃতীয় পর্ব ; চতুর্থ পর্ব

আরো একটি আলোচনা:  ন্যাচারাল সিলেকশন বা প্রাকৃতিক নির্বাচনকে যাচাই করে দেখার পরীক্ষা:

অধ্যায় ৫ : বিবর্তনের ইন্জিন

বন্য প্রকৃতিতে নির্বাচন:

মানুষের আরোপিত নানা ধরনের প্রতিকুল চাপ ও রাসায়নিক দ্রব্যর প্রতি যে প্রতিক্রিয়াগুলো আমরা দেখি সেগুলো বোধগম্য অর্থেই প্রাকৃতিক নির্বাচনকেই বোঝায়। যদিও এই নির্বাচনের চাপের কারনটি মানুষের পরিকল্পিত, কিন্তু প্রতিক্রিয়াটি হচ্ছে পুরোপুরিভাবে প্রাকৃতিক এবং আমরা যা দেখেছি সেগুলো খুব জটিল হতে পারে।কিন্তু হয়তো এটি আরো বিশ্বাসযোগ্য হতে পারে যদি আমরা প্রকৃতিতে এই কাজটি সরাসরি হতে দেখি, কোন মানুষের হস্তক্ষেপ ছাড়াই। অর্থাৎ আমরা একটি প্রাকৃতিক জনগোষ্ঠীকে প্রাকৃতিক চ্যালেন্জ এর মুখোমুখি হতে দেখতে চাই। আমরা জানতে চাই সেই চ্যালেন্জটা কি? এবং আমরা সেই জনগোষ্ঠীকে আমাদের সামনে বিবর্তিত হতে দেখতে চাই।

বিষয়টি যে অহরহ ঘটবে এমন আশা করা আমাদের উচিৎ হবে না।এর একটা কারণ অবশ্যই প্রকৃতিতে প্রাকৃতিক নির্বাচন প্রক্রিয়া প্রায়শই অবিশ্বাস্যরকম ধীর গতিতে হয়। পালকের বিবর্তন হতে যেমন লক্ষ বছর লেগেছে।এমন কি যদি পালক এখন বিবর্তিতও হতো সেটি আমাদের চোখের সামনে ঘটতে দেখা পুরোপুরি অসম্ভব হতো, আর ঠিক কোন ধরনের নির্বাচনী চাপ সেখানে কাজ করছে যে পালকদের আকারে বাড়াচ্ছে সেটা মাপা আরো অসম্ভব হতো নি:সন্দেহে। আমরা যদি প্রাকৃতিক নির্বাচনকে আদৌ দেখতে চাই, এটিকে খুব শক্তিশালী নির্বাচন হতে হবে. যা দ্রুত পরিবর্তন ঘটাবে। এবং এর জন্য আমাদের খুজতে হবে সেই সব প্রানী কিংবা উদ্ভিদ যাদের জেনারেশন টাইম বা নতুন প্রজন্ম সৃষ্টি করার সময় খুব সংক্ষিপ্ত, যেন আমরা বেশ কয়েকটি প্রজন্মান্তরে জীনগত বিবর্তন দেখতে পাই আমাদের চোখের সামনে। এবং এর জন্য ব্যাকটেরিয়া হলে হবে না: কারন মানুষ তথাকথিত উচ্চশ্রেনীর উদ্ভিদ আর প্রানীর মধ্যে নির্বাচনকে কাজ করতে দেখতে চায়।

উপরন্তু আমাদের আশাকরা উচিৎ হবে না যে আমরা সামান্য কিছু পরিবর্তন, একটি বা কোন প্রজাতির অল্প কিছু বৈশিষ্ট, যাকে পরিচিত microevolutionary  পরিবর্তন হিসাবে ৷ বিবর্তনের মন্থর গতির কথা মনে রেখে, ব্যাপারটা অযৌক্তিক হবে যদি আমরা আশা করি মানুষের জীবদ্দশায়, আমরা নির্বাচন প্রক্রিয়াকে দেখবো এক ধরনের প্রানী থেকে অন্য প্রানীতে রুপান্তরিত হতে যা পরিচিত macroevolution নামে। যদিও macroevolution হচ্ছে তবে আমরা আজও, তবে শুধু আমাদের জীবনকাল ততটা দীর্ঘ না তা চাক্ষুষ দেখার জন্য। মনে রাখবেন এখানে মুল ব্যাপারটা কিন্তু ম্যাক্রোবিবর্তনীয় পরিবর্তন হচ্ছে কি হচ্ছে না সেটা নয় – কারন জীবাশ্ম রেকর্ড থেকে আমরা জানি এটা ঘটে, তবে বিষয়টি হচ্ছে এটা কি প্রাকৃতিক নির্বাচনের কারনে ঘটেছে কিনা এবং জটিল অভিযোজনীয় বৈশিষ্ট বা জীব সৃষ্টি করার শক্তি প্রাকৃতিক নির্বাচনের আছে কিনা?

আরো একটি বিষয় আছে যা আমাদের চোখের সামনে নির্বাচনের মাধ্যমে কোন পরিবর্তনকে বেশ কঠিন করে তোলে, সেটি হচ্ছে খুব সাধারন ধরনের প্রাকৃতিক নির্বাচন প্রজাতির কোন পরিবর্তন ঘটায় না। কারন প্রতিটি প্রজাতি সুঅভিযোজিত, তার অর্থ হচ্ছে নির্বাচন ইতিমধ্যে তাদেরকে তাদের পরিবেশের সাথে স্থিতাবস্থায় নিয়ে এসেছে। পরিবর্তনের পর্বটি ঘটে যখন কোন একটি প্রজাতি নতুন কোন পরিবেশগত চ্যালেন্জ এর মুখোমুখি হয়, এই ধরনের পরিস্থিতি হয়তো তুলনামুলকভাবে দুর্লভ, সেই সব পরিস্থিতির সাথে যখন প্রজাতিকের নতুন কোন কিছুর সাথে অ্যাডাপ্ট করতে হয়না। তবে তার মানে এই না যে নির্বাচন ঘটছে না। যদি কোন প্রজাতির পাখি যেমন তার পরিবেশর জন্য উপযুক্ত আকারের শরীর বিবর্তন করে, এবং পরিবেশ একই রকম থাকে, তাহলে নির্বাচন কাজ করবে শুধু যে পাখিরা উপযোগী বা অপটিমাম আকারের চেয়ে বড় কিংবা ছোট তাদের সরিয়ে দেবার মাধ্যমে, কিন্তু এই ধরনের নির্বাচন, যাকে বলা হয় stabilizing selection গড়পড়তা শরীরের আকৃতির কোন পরিবর্তন করে না। আপনি যদি এক প্রজন্ম থেকে অন্য প্রজন্মের জনগোষ্ঠীদের দেখেন, দেখবেন খুব বেশী কিছু কোন পরিবর্তন হচ্ছে না ( যদিও বড় এবং ছোট আকার হবার জীন দুটোই কিন্তু  জীনোম থেকে সরে যেতে থাকে), আমরা এটা দেখতে পারি, যেমন মানব শিশুর জন্মের সময় ওজন এর ক্ষেত্রে। হাসপাতালের পরিসংখ্যান বলছে, যে বাচ্চাদের ওজন গড়পড়তা ৭.৫ পাউন্ড, যুক্তরাষ্ট্রে ও ইউরোপে, তারা বেশী বেচে থাকে এর চেয়ে কম ওজনে ( যাদের সময়ের আগে জন্ম হয় বা মায়ের অপুষ্টি থাকে) এবং এর চেয়ে বেশী ওজন ( যাদের জন্ম জন্ম নেয়াটা কষ্টকর); আমরা যদি নির্বাচনকে কাজ করতে দেখতে চাই তাহলে আমাদের এমন প্রজাতি খুজতে হবে যারা অপেক্ষাকৃত হ্রস্ব জেনারেশন টাইম এবং নতুন পরিবেশে অভিযোজিত হতে পারে। এটি সাধারণত দেখা যায় সেই সব প্রজাতির মধ্যে যা হয় নতুন কোন একটি পরিবেশ অনুপ্রবেশ করে বা কোন বড় ধরনের পরিবেশগত বিপর্যয়ের মুখোমুখি হয়। এবং আসলে সেখানেই আমরা উদহারণ দেখি।

সবচেয়ে বিখ্যাত এদের মধ্যে, যা আমি এখানে বিস্তারিত কিছু বলবো না, কারণ এটি বিস্তারিত ভাবে বর্ণিত হয়েছে অন্যখানে ( যেমন দেখুন  Jonathan Weiner এর book The Beak of the Finch: A Story of Evolution in Our Time), সেটা হচ্ছে জলবায়ুরে ভিন্নতার সাথে একটি পাখির অভিযোজন। মাঝারী আকারের গ্রাউন্ড ফিন্চ দের নিয়ে গালাপাগোস  দ্বীপপুন্জ্ঞে গবেষনা করেছেন বেশ কয়েক দশক ধরে, প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়ের পিটার ও রোজমেরী গ্রান্ট ও তার সহযোগীরা।১৯৭৭ সালে গালাপাগোসে একটি ভীষন খরায় ডাফনে মেজর দ্বীপে পাখীদের খাবার বীজের উৎপাদন ভীষনভাবে কমিয়ে দিয়েছিল।  এই ফিন্চটি মুলত ছোট নরম বীজ খাদ্য হিসাবে পছন্দ করে, সেই সময় তারা বাধ্য হয় বড় শক্ত বীজগুলো খাবার জন্য, যা তখন পাওয়া যেত। গবেষনা দেখায় যে শক্ত বীজগুলো সহজে ভাঙ্গতে পারে কেবল বড় আকারে পাখিগুলো, যাদের বড় আর মোটা শক্ত ঠোট আছে। সুতরাং শুধু বড় ঠোটের পাখিগুরোই কেবল যথেষ্ট খাদ্য সংগ্রহ করে খেতে পারে, আর যাদের ছোট ঠোট ছিল তারা কিছু না খেতে পেরে মারা যায় অথবা তারা এতটাই পুষ্টিহীনতায় ভুগেছিল যে প্রজননে ব্যর্থ হয়। ফলাফলে বড় ঠোটের পাখিরা বেশী উত্তরসুরী রেখে যায়, এবং পরবর্তী প্রজন্মেই তাদের গড় ঠোটের আকার বেড়ে হয়েছিল ১০ শতাংশ বেশী ( শরীরের আকারও বেড়ে গিয়েছিল), বিবর্তনীয় পরিবর্তনের এটি বিস্ময়কর দ্রুতগতির একটি ঘটনা, কোন জীবাশ্ম রেকর্ডে আমরা যা দেখেছি তার চেয়ে বহুগুন বেশী। তুলনা মুলক ভাবে মানুষের বংশধারায় তার ব্রেণের আকার বেড়েছে প্রায় ০.০০১ শতাংশ প্রতি প্রজন্মে। প্রাকৃতিক নির্বাচনের মাধ্যমে বিবর্তন এর জন্য যা কিছু প্রয়োজন তা বিস্তারিতভাবে লিপিবদ্ধ করেছিলেন  গ্রান্টরা তাদের অন্য গবেষনায়: মুল পাখি জনসংখ্যার সদস্যদের মধ্যে ঠোটের আকৃতির একটি প্রকরণ ছিল, যে প্রকরণের বেশীর ভাগই জীনগত এবং ভিন্ন ভিন্ন ধরনের ঠোটসহ সদস্যরা রেখে যায় ভিন্ন ভিন্ন সংখ্যক উত্তরসুরীদের একটি পুর্ব প্রত্যাশিত দিক বরাবর।

যেহেতু বেচে থাকার জন্য খাদ্য দরকার, সেখানে খাদ্য সংগ্রহ করা, খাওয়া এবং সেটি খুব ভালোভাবে হজম করতে পারাটা হচ্ছে একটি শক্তিশালী নির্বাচনী চাপ। অনেক কীট পতঙ্গ হচ্ছে পোষক-নির্দিষ্ট। তারা একটি বা অল্প কিছু প্রজাতির উদ্ভিদ থেকে খাদ্য গ্রহন করে এবং তাদের উপর ডিম পাড়ে। তাদের সঠিক উপাঙ্গ আছে যা সেই বিশেষ উদ্ভিদ থেকে প্রয়োজনীয় পুষ্টি সংগ্রহ করার জন্য, একটি বিপাক পক্রিয়া থাকে যা উদ্ভিদের বিষাক্ত দ্রব্যকে নির্বিষ করে ফেলতে পার এবং এদের প্রজনন চক্র থাকে যেখানে  তারা তাদের বাচ্চার জন্ম দেয় যখন খাদ্য সরবরাহ থাকে ( উদ্ভিদের ফুল ফোটার সময়); যেহেগু বেশ অনেকগুলোই খুব কাছাকাছি সম্পর্কযুক্ত কীট পতঙ্গ আর উদ্ভিদের জোড়া আছে, যার মধ্যে নানা ভিন্ন ভিন্ন পোষক উদ্ভিদ বিদ্যমান, অবশ্যই অতীতে বিবর্তনীয় সময়ে নিশ্চয়ই বেশ কিছু পরিবর্তন হয়েছে এক উদ্ভিদ থেকে অন্য উদ্ভিদে; এই পরিবর্তনগুলো বিভিন্ন ভিন্ন বাসস্থানে বসতি গড়ার সমতুল্য, যার সাথে সংশ্লিষ্ট অবশ্যই শক্তিশালী প্রাকৃতিক নির্বাচন।

আমরা আসলেই এটা ঘটতে দেখেছি গত কয়েক দশকে আমেরিকার সোপবেরী বাগ (Jadera haematoloma) কীটদের ক্ষেত্রে। জাদেরা দুটি স্থানীয় উদ্ভিদের উপর নির্ভর করে আমেরিকার বিভিন্ন স্থানে বসবাস করে। দক্ষিন মধ্য যুক্তরাষ্ট্রে সোপবেরী বুশ আর দক্ষিন ফ্লোরিডার বর্ষজীবি উদ্ভিদ ব্যালুন ভাইন। এর লম্বা, সুই এর মত ঠোট দিয়ে পোকাটি এই গাছগুলো ফলের মধ্যে বীজটি খায়, প্রথম এটিকে গলিয়ে নিয়ে, তারপর চুষে নেয় সেই গলিত রসটি। ‍কিন্তু গত ৫০ বছরে পোকাটি আরো তিনটি গাছে বসতি স্থাপন করেছে যা তাদের বসবাসের এলাকে নতুন করে অনুপ্রবেশ করতে সুযোগ দেয়া হয়েছিল। এই নতুন গাছদের ফলগুলো এর সাধারণ পোষক গাছগুলো থেকে খুবই আলাদা: দুটো অনেক বেশী বড়, একটা অনেক ছোট।

স্কট ক্যারোল ও তার সহযোগীরা প্রাক ধারণা করেছিলেন, এই পোষক পরিবর্তন প্রাকৃতিক নির্বাচন নিশ্চয়ই তাদের ঠোটে আকার আকৃতিতে কিছু না কিছু পরিবর্তন আনবে। যে পোকারা বড় ফল সহ গাছে বসতি গড়ে তাদের আকারে বড় ঠোট বিবর্তিত হবার কথা, অপরদিকে যারা ছোট ফলসহ কোন গাছে বসতি গড়ে তাদের ঠোটের আকার বিবর্তিত হবার কথা বীপরিত দিকে। এবং ঠিক সেটাই ঘটেছে, কয়েকদশকের মধ্যে তাদের ঠোটের আকার পরিবর্তন হয়েছে ২৫ শতাংশ। এটা অনেকের কাছে বেশী কিছু মনে নাও হতে পারে, কিন্তু বিবর্তনের মানদন্ডে কয়েক দশকের মধ্যে ঘটা এই পরিবর্তনটি বিশাল। বিশেষ করে ১০০ র মত প্রজন্মান্তরে, যা আসলেই খুব সংক্ষিপ্ত একটি সময়।  ব্যাপারটাকে আরো খানিকটা ব্যাখ্যা করা যাক, যদি এই ঠোট বিবর্তনের হার আরো মাত্র ১০০০০ পজন্মান্তরে চলতে থাকে ( প্রায় ৫০০০ বছর), ঠোটটা আকারে বাড়বে মোটামুটি ৫ বিলিয়ন গুন, অর্থাৎ ১৮০০ মাইল লম্বা, যা চাদের সমান কোন ফলকে ভেদ করতে পারবে। এই বিস্ময়ক আর অবাস্তব তথ্যগুলো অবশ্য ক্রমশ পুন্জীভুত হতে থাকা আপাতদৃষ্টিতে খুব ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র পরিবর্তনগুলো ক্ষমতা বোঝানোর জন্য ।

আরো একটি পুর্বধারণার কথা আলোচনা করা যাক এখানে: অনেকদিন ধরে চলতে থাকা অনাবৃষ্টি আর খরায় প্রাকৃতিক নির্বাচন এমন উদ্ভিদ বিবর্তিত করে যারা তাদের পুর্বসুরীদের চেয়ে আগেই ফুল ধারণ করে। এর কারণ, খরার সময়, মাটি দ্রুত শুকিয়ে যায় বৃষ্টির পর পর। আপনি যদি এমন কোন উদ্ভিদ হন, খরায় যার দ্রুত ফুল ফোটে না আর বীজ তৈরী করতে পারে না, আপনি কোন উত্তরসুরীও রেখে যেতে পারবেন না।স্বাভাবিক কোন আবহাওয়ায়, আবার অন্যদিকে, ফুল ফোটাটা যদি বিলম্বিত করা যায়,  তাহলে আপনি আকারে আরো বড় হয়ে আরো বেশী বীজ তৈরী করতে পারবেন।

এই প্রাকধারণাটি প্রাকৃতিক একটি পরীক্ষার মধ্যে গবেষনা করা হয়েছিল বুনো মাস্টার্ড উদ্ভিদে ((Brassica rapa), যাদের ক্যালিফোর্ণিয়ায় প্রথম নিয়ে আসা হয়েছিল, প্রায় ৩০০ বছর আগে। ২০০০ সাল থেকে, দক্ষিন ক্যালিফোর্নিয়া প্রায় ৫ বছরের একটি খরা অবস্থায় ছিল। আর্থার ওয়েইস ও তার ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগীরা এই উদ্ভিদটির ফুল ফোটার সময় পরিমাপ করেন খরা পর্বের শুরু এবং শেষ হবার সময়ে। এবং দেখা গেল আসলেই প্রাকৃতিক নির্বাচন এর ফুল ফোটার সময় বদলে দিয়েছে সেই আগেই ধারনা করা হয়েছিল যেভাবে সেভাবে: খরার পর, এই উদ্ভিদগুলোর ফুল ফোটার সময় এক সপ্তাহ এগিয়ে আসে তাদের পুর্বসুরী প্রজাতিদের তুলনায়।

এমনি আরো অনেক উদহারণ আছে। এবং তারা সবাই একটি জিনিসই প্রদর্শন করছে: আমার সরাসরি সেখানে প্রাকৃতিক নির্বাচনকে দেখতে পারি ভালো অভিযোজনীয় বৈশিষ্ট সৃষ্টি করতে; Natural Selection in the Wild , জন এন্ডলার এর একটি বই এধরনের প্রায় ১৫০ টি গবেষনার ফলাফলের কথা লিপিবদ্ধ করেছে, এবং প্রায় এক তৃতীয়াংশ উদহারনের ক্ষেত্রে আমরা খুব ভালো করেই নিশ্চিৎ হয়েছি কিভাবে প্রাকৃতিক নির্বাচন সেখানে কাজ করছে। আমরা দেখি ফ্রুট ফ্লাই রা কিভাবে চরম তাপমাত্রার সাথে খাপ খাইয়ে নিচ্ছে, মৌমাছিরা তাদের প্রতিদ্বন্দীদের সাথে, শিকারী প্রানীদের হাত থেকে বাচার জন্য গাপ্পিরা তাদের বহুবর্ণিল চেহারা বদলেছে, আপনার কত উদহারণ দরকার?

________________________________ চলবে

Advertisements
জেরী কয়েন এর হোয়াই ইভোল্যুশন ইজ ট্রু : পঞ্চম অধ্যায় (পঞ্চম পর্ব)

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s