জেরী কয়েন এর হোয়াই ইভোল্যুশন ইজ ট্রু : পঞ্চম অধ্যায় (পঞ্চম পর্ব)

Collage2
ছবি: Top row: juvenile J. haematoloma (first and second images), J. coturnix, and B. trivittata. Second row: juvenile B. rubrolineata, L. mitellatus, L. tagalicus, and L. bahram. Species in third and fourth rows are adult versions of the species in the first and second rows, respectively. সুত্র

25-10-2013 11-15-40 PM
ছবি: Jadera haematoloma feeding সুত্র

5333880346_e001c5770f_b
ছবি: J. haematoloma feeding on Cardiospermum halicacabum seed

আকারে খুব ক্ষুদ্র কিন্তু শক্তিশালী সোপবেরী বাগ (Soapberry bug) মানুষের বদলে দেয়া এই প্রকৃতিতে খুব দ্রুত খাপ খাইয়ে নিচ্ছে, বেশ কিছু উদহারন একটি এই সোপবেরী বাগ আমাদের দেখিয়ে দিয়েছে বিবর্তন প্রক্রিয়া অব্যাহত আছে প্রতিটি মুহুর্তে।কিভাবে প্রকৃতিতে প্রাকৃতিক নির্বাচন প্রক্রিয়াটি কাজ করছে, আমাদের জীবদ্দশায় তা দেখার সুযোগ আমরা পেয়েছি।সারা পৃথিবীতে প্রায় ৬০ প্রজাতির সোপবেরী বাগ আছে; মুলত subfamily Serinethinae অন্তর্ভুক্ত ৩ টি জেনেরায় সোপবেরী বাগ এর প্রজাতিগুলো বিন্যস্ত,, Jadera, Leptocoris, ও Boisea;  সোপবেরী বাগরা মুলত সাপনিড গ্রুপের গাছদের বীজ খায়, এদের লম্বা একটা ঠোটের মত উপাঙ্গ আছে, যা ফলের মাংশল অংশ ভেদ করে সরাসরি বীজের কাছে পৌছে যায় এর পর এটি দিয়ে বীজের শক্ত খোলস ছিদ্র করে বীজের ভিতর তার পরিপাক রস ঢুকিয়ে দেয়, সেই পরিপাক রসই বীজটিকে খোলসের মধ্যে গলিয়ে তরলে রুপান্তরিত করে, সোপবেরী পোকারা সেটা চুষে খেয়ে নেয় সহজে। এই পোকাগুলো বিশেষ বিশেষ গাছের ফল বীজ খাবার জন্য অভিযোজিত হয়েছে। এর জন্য তারা তাদের ঠোটের আকারও পরিবর্তন করেছে প্রয়োজনমত; যদি সেই গাছের এমন কোন ফল থাকে যার বীজ অনেক গভীরে থাকে, যে সোপবেরী পোকারা সেই গাছে বাস করে তাদের ঠোট সেই আকারে লম্বা হয়, আর যদি বীজ বেশ গভীরে না থাকে সেই গাছে থাকা সোপবেরী পোকাদের ঠোটও সেই আকারে ছোট হয়। বিজ্ঞানীরা লক্ষ্য করেছেন সোপবেরী পোকা, বিশেষ করে উত্তর আমেরিকার Jadera haematoloma ঠোটের (মুখোপাঙ্গ) আকারের দ্রুত বিবর্তন হচ্ছে, আর  এই বিবর্তনের পেছনে কাছ করছে বিশেষ কিছু গাছের নিজেদের বীজ বাচানোর কৌশলের নির্বাচনী চাপ; বিশেষ করে যে নতুন প্রজাতির সাপনিড গাছগুলো উত্তর আমেরিকায় প্রবেশ করার সুযোগ করে হয়েছে, তাদের সাথে সহবিবর্তনের একটি ধারাবাহিকতা লক্ষ্য করেছেন বিজ্ঞানীরা। এবং এখানে সবচেয়ে লক্ষ্যনীয় বিষয় হচ্ছে এই নতুন প্রজাতির গাছ যাদের বীজ তারা খেতে শুরু করেছে, তারা কিন্তু খুব সাম্প্রতিককালে তাদের বসবাসের এলাকা নিয়ে আসা হয়েছে, এবং বিজ্ঞানীরা সহজেই পুর্বধারণা করতে পেরেছেন,এই নতুন গাছগুলোর ফলের মধ্যে বীজের অবস্থানেরে উপর নির্ভর করে এই পোকাদের ঠোটের আকার ধনাত্মক হারে পরিবরর্তিত হবে এবং নিশ্চয়ই এর একটি জিনগত ভিত্তি থাকবে। আর এটাই আমাদের দেখার সুযোগ করে দিয়েছে কিভাবে প্রকৃতিতে প্রাকৃতিক নির্বাচন বিবর্তনের ইন্জিনটাকে সচল রাখে, যা কিনা কখনো কখনো আমাদের জীবদ্দশায় দেখবার সৌভাগ্য হয়। যেমন balloon vine, Cardiospermum corindum, দক্ষিন ফ্লোরিডার স্থানীয় একটি সাপনিড জাতীয় উদ্ভিদ, এদের উপর নির্ভর করে বেচে থাকে red-shouldered সোপবেরী পোকা ( Jadera haematoloma), বেলুন ভাইন দের ফল বেশ বড়,গোল, ফোলা এবং Jadera haematoloma যারা এই বেলুন ভাইন এর ফলের বীজ খায় তাদের ঠোটের আকার দৈর্ঘে্য তাদের দেহের প্রায় ৭০%; ১৯৫০ এর দিকে তাইওয়ান থেকে আরো একটি সৌন্দর্যবর্ধন কারী সাপনিড প্রজাতির ‍বৃক্ষ Chinese flametree, Koelrueteria elegans ফ্লোরিডাতে নিয়ে আসা হয়, এবং এর কিছু দিন পর থেকেই Jadera haematoloma পোকারা এই গাছটির ফল খেতে শুরু করে; এর প্রায় ২০ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে দেখা যায় এদের এই গাছটির ফল খাবার জন্য বিশেষভাবে উপযোগী ঠোটও বিবর্তিত হয়। এবং সেই সাথে এই গাছটির বীজ খেয়ে বেচে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় বেশ কিছু পরিবর্তনও হয় ( কারন ফ্লেম ট্রী ফল বছরে একবার খুব কম সময়ের জন্য হয়), এদের ফলের আকার ছোট, এখানে বিশেষায়িত পোকারা কম উড্ডয়নক্ষম, দ্রুত প্রজনন ক্ষম হয়ে ওঠা এবং প্রজননের জন্য বিশেষ সচেষ্টা থাকা ও সেই সংক্রান্ত বেশ কিছু বৈশিষ্ট নিয়ে তারা অভিযোজিত হয় যা তাদের পার্থক্য করে তাদের পুর্বসুরী Jadera haematoloma দের থেকে।

জেরী কয়েন এর হোয়াই ইভোল্যুশন ইজ ট্রু : পঞ্চম অধ্যায় ( পঞ্চম পর্ব)

(অনুবাদ প্রচেষ্টা: কাজী মাহবুব হাসান)

Why Evolution Is True: Jerry A. Coyne

প্রথম অধ্যায়
দ্বিতীয় অধ্যায় : প্রথম পর্ব  দ্বিতীয় পর্ব তৃতীয় পর্ব চতুর্থ পর্বশেষ পর্ব
তৃতীয় অধ্যায়: প্রথম পর্ব , দ্বিতীয় পর্ব , তৃতীয় পর্ব , শেষ পর্ব
চতুর্থ অধ্যায়: চতুর্থ অধ্যায়:  প্রথম পর্ব ; দ্বিতীয় পর্বশেষ পর্ব
পঞ্চম অধ্যায়:  প্রথম পর্ব ; দ্বিতীয় পর্ব ; তৃতীয় পর্ব ; চতুর্থ পর্ব

আরো একটি আলোচনা:  ন্যাচারাল সিলেকশন বা প্রাকৃতিক নির্বাচনকে যাচাই করে দেখার পরীক্ষা:

অধ্যায় ৫ : বিবর্তনের ইন্জিন

বন্য প্রকৃতিতে নির্বাচন:

মানুষের আরোপিত নানা ধরনের প্রতিকুল চাপ ও রাসায়নিক দ্রব্যর প্রতি যে প্রতিক্রিয়াগুলো আমরা দেখি সেগুলো বোধগম্য অর্থেই প্রাকৃতিক নির্বাচনকেই বোঝায়। যদিও এই নির্বাচনের চাপের কারনটি মানুষের পরিকল্পিত, কিন্তু প্রতিক্রিয়াটি হচ্ছে পুরোপুরিভাবে প্রাকৃতিক এবং আমরা যা দেখেছি সেগুলো খুব জটিল হতে পারে।কিন্তু হয়তো এটি আরো বিশ্বাসযোগ্য হতে পারে যদি আমরা প্রকৃতিতে এই কাজটি সরাসরি হতে দেখি, কোন মানুষের হস্তক্ষেপ ছাড়াই। অর্থাৎ আমরা একটি প্রাকৃতিক জনগোষ্ঠীকে প্রাকৃতিক চ্যালেন্জ এর মুখোমুখি হতে দেখতে চাই। আমরা জানতে চাই সেই চ্যালেন্জটা কি? এবং আমরা সেই জনগোষ্ঠীকে আমাদের সামনে বিবর্তিত হতে দেখতে চাই।

Continue reading “জেরী কয়েন এর হোয়াই ইভোল্যুশন ইজ ট্রু : পঞ্চম অধ্যায় (পঞ্চম পর্ব)”

জেরী কয়েন এর হোয়াই ইভোল্যুশন ইজ ট্রু : পঞ্চম অধ্যায় (পঞ্চম পর্ব)