জেরী কয়েন এর হোয়াই ইভোল্যুশন ইজ ট্রু : পঞ্চম অধ্যায় (চতুর্থ পর্ব)

richard-lenski
ছবি:   রিচার্ড ই লেনস্কি, একজন বিবর্তন জীববিজ্ঞানী , যিনি ২৫ বছরের বেশী সময় ধরে ল্যাবরেটরীতে  E coli  এর বিবর্তন নিয়ে কাজ করছেন। তার এই গবেষনরা এখনও চলমান। এখান থেকে আমরা  বিবর্তন আর প্রাকৃতিক নির্বাচন সম্বন্ধে গুরত্বপুর্ণ সব উপাত্ত পেয়েছি।  তার বিভাগীয় ওয়েবসাইট  বলছে তার সেই E coli দের বিবর্তনে বর্তমানে 58777.8 তম প্রজন্ম চলছে।  এই দীর্ঘমেয়াদী বিবর্তনের পরীক্ষায় লেনস্কি ও তার সহযোগীরা যাত্রা শুরু করেছিলেন ১২ টি জীনগত ভাবে হুবুহু ব্যাকেরিয়াদের জনগোষ্ঠীদের নিয়ে ১৯৮৮ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারী, ২০১০ সালে এটি তাদের ৫০০০০ তম প্রজন্ম অতিক্রম করে। িএই পরীক্ষাটি খুব সহজ ভাবে ব্যাখ্যা করেছেন রিচার্ড ডকিন্স তার The Greatest Show on Earth এ, যা আমি বইটির ধারাবাহিক অনুবাদের অংশ হিসাবে এর পরের পর্বে যুক্ত করবো। (((অধ্যাপক লেনস্কির নিজের ওয়েবসাইট)))

জেরী কয়েন এর হোয়াই ইভোল্যুশন ইজ ট্রু : পঞ্চম অধ্যায় ( চতুর্থ পর্ব)

(অনুবাদ প্রচেষ্টা: কাজী মাহবুব হাসান)

Why Evolution Is True: Jerry A. Coyne

প্রথম অধ্যায়
দ্বিতীয় অধ্যায় : প্রথম পর্ব  দ্বিতীয় পর্ব তৃতীয় পর্ব চতুর্থ পর্বশেষ পর্ব
তৃতীয় অধ্যায়: প্রথম পর্ব , দ্বিতীয় পর্ব , তৃতীয় পর্ব , শেষ পর্ব
চতুর্থ অধ্যায়: চতুর্থ অধ্যায়:  প্রথম পর্ব ; দ্বিতীয় পর্বশেষ পর্ব
পঞ্চম অধ্যায়:  প্রথম পর্ব ; দ্বিতীয় পর্ব ; তৃতীয় পর্ব ;

আরো একটি আলোচনা:  ন্যাচারাল সিলেকশন বা প্রাকৃতিক নির্বাচনকে যাচাই করে দেখার পরীক্ষা:

অধ্যায় ৫ : বিবর্তনের ইন্জিন

 

টেষ্ট টিউবে বিবর্তন:

আমরা আর এক ধাপ এগিয়ে যেতে পারি, ব্রীডারদের পছন্দ মত বৈশিষ্ট বাছাই করার বদলে আমরা ব্যপারটা প্রাকৃতিকভাবে হতে দিতে পারি ল্যাবরেটরীতে, কোন একটি বন্দী প্রজাতি জনগোষ্ঠীতে পরিবেশগত কিছু চ্যালেন্জ এর মুখোমুখি দাড় করানোর মাধ্যমে। এই কাজটি খুব সহজে করা যায় অনুজীবদের সাথে, যেমন ব্যাক্টেরিয়া, যারা প্রতি বিশ মিনিট অন্তর অন্তর দ্বিবিভাজিত হয়, যে ব্যাপারটি আমাদের সুযোগ করে দেয় বহু হাজার প্রজন্মের মধ্যে বিবর্তনীয় কোন পরিবর্তন চোখের সামনে ঘটতে দেখতে। এবং এটি সত্যিকারের বিবর্তনীয় পরিবর্তন, যা প্রাকৃতিক নির্বাচনের মাধ্যমে বিবর্তনের তিনটি প্রাকশর্তই পুরণ করে: প্রকরণ, বংশগতি এবং প্রকরণদের ভিন্নহারে বেচে থাকা আর প্রজনন সাফল্য। যদিও এই পরিবেশগত চ্যালন্জে মানুষের সৃষ্টি, তবে এধরনের পরীক্ষাগুলো আরো বেশীভাবেই প্রাকৃতিক নির্বাচন এর উদহারণ, কারণ কৃত্রিম নির্বাচনের ব্যতিক্রম এখানে মানুষের কোন হাত থাকে কোন সদস্যরা প্রজননের অধিকার পাবে।

খুব সাধারন একটি অভিযোজন দিয়ে শুরু করি: অনুজীবরা মোটামুটি যে কোন পরিস্থিতিতে খাপ খাইয়ে নিতে পারে, তাদের যে পরিস্থিতিতে মুখে ঠেলে দিক না না কেন অনুজীববিজ্ঞানীরা, যেমন: অতি উচ্চ বা অতি নিম্ন তাপমাত্রা, অ্যান্টিবায়োটিক, টক্সিন, খাদ্যহীন কোন পরিস্থিতি এবং তাদের প্রাকৃতিক শত্রু, ভাইরাসদের সংস্পর্শ। সম্ভবত এজাতীয় সবচেয়ে দীর্ঘতম স্টাডিটি করেছিলেন রিচার্ড লেন্সকী মিশিগান স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ে। ১৯৮৮ সালে, লেন্সকী জীনগতভাবে হুবুহু আমাদের অন্ত্রনালীর বাসিন্দা একটি ব্যাকটেরিয়া  E coli দের এমন একটি পরিস্থিতিতে রাখেন যেখানে তাদের খাদ্য, (শর্করা) গ্লুকোজ প্রতিদিন সরিয়ে নেবার পর পরদিনই তা আবার নতুন করে দেয়া হয়। এই পরীক্ষাটির উদ্দেশ্য ছিল এভাবে এই অনুজীবটির অতিরিক্ত খাদ্য আর খাদ্যহীনতা দুটি বীপরিতমুখী দুটি পর্যায়ক্রমিক ভিন্ন ভিন্ন পরিবেশে অভিযোজিত হবার ক্ষমতা আছে কিনা সেটা বোঝার চেষ্টা করা। পরবর্তী ১৮ বছর ( প্রায় ৪০০০০ ব্যাকটেরিয়ার প্রজন্ম) এই ব্যাকটেরিয়াগুলো নতুন মিউটেশন তাদের জীনোমে জমা করতে থাকে এই নতুন পরিবেশের সাথে খাপ খাইয়ে নিয়ে। এই নিয়ত পরিবর্তন হওয়া খাদ্য সরবরাহ পরিস্থিতিতে তারা এখন আরো ৭০ শতাংশ দ্রুত বাড়তে পারে অন্য স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে বাড়তে থাকা একই ধরনের (স্ট্রেইন) ব্যাকটেরিয়ার  তুলনায়। ব্যাকটেরিয়ারা তাদের বিবর্তন অব্যাহত রাখে এবং লেনস্কী ও তার সহকর্মীরা কমপক্ষে ৯ টি জীন চিহ্নিত করেন, যাদের মিউটেশন এই অভিযোজনের জন্য দায়ী।

ছবি: The 12 evolving E. coli populations on June 25, 2008


ছবি: লেনস্কি একপেরিমেন্ট এর অনেকগুলো ফলাফলের একটি.. E coli সাধারণত অক্সিজেন এর উপস্থিতিতে Citrate খাদ্য হিসাবে ব্যবহার করতে পারেনা। কিন্তু ২০০৮ সালে লেনস্কি তার গবেষনায় Citrate ব্যবহার করার উপযোগী মিউটেশন সম্বলিত  E coli ভ্যারিয়্যান্ট ঠিকই খুজে পান। উপরের ছবিতে যে কাচের ফ্লাস্কটিকে বেশী ঘোলাটে লাগছে, সেটি Ara-3 নামে সেই জনগোষ্ঠী যারা তাদের মাধ্যমে Citrate ব্যবহার করার উপযোগী হয়ে বিবর্তিত হয়েছে।

কিন্তু ’ল্যাবরেটরী অভিযোজন’ আরো জটিল হতে পারে, যেমন সম্পুর্ণ নতুন কোন প্রাণরাসায়নিক প্রক্রিয়ার বিবর্তন। হয়তো সেই চুড়ান্ত চ্যালেন্জ হচ্ছে  বিশেষ কোন জীন সরিয়ে নেয়া যা অনুজীবের প্রয়োজন কোন নির্দিষ্ট পরিবেশে বেচে থাকার জন্য এবং তারপর তাদের প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা। তারা এই সমস্যা মোকাবেলা করে বিকল্প কোন উপায় কি বিবর্তিত করতে পারবে? এর উত্তর সাধারণত হ্যা। একটি নাটকীয় গবষেনায় রচেষ্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যারী হল ও তার সহকর্মীরা E coli  থেকে একটি বিশেষ জীন মুছে ফেলার মাধ্যমে তাদের কাজ শুরু করেছিলেন, এই জীনটি একটি এনজাইম তৈরীর সংকেত বহন করে, যে এনজাইমটি ল্যাকটোজ সুগারকে ভেঙ্গে খাদ্য হিসাবে ব্যবহার উপযোগী অনুতে রুপান্তর করে। এই জীন ছাড়া যখন ব্যাকটেরিয়াদের এমন একটি পরিবেশে রাখা হলো, যেখানে একমাত্র খাদ্য হচ্ছে ল্যাকটোজ। শুরুতে অবশ্যই তারা বাচতে পারেনি, কারন তাদের সেই বিশেষ এনজাইমটি নেই। কিন্তু অল্প কিছু সময় পর পরই, সেই অনুপস্থিত জীনের কাজটি করতে শুরু করে অন্য একটি এনজাইম, যা এর আগে ল্যাকটোজ ভাঙ্গতে পারতো না ঠিকই কিন্তু এখন সেটা দুর্বলভাবে করতে পারে নতুন মিউটেশন সেখানে জমা হবার জন্য। এবং অবশেষে আরো একটি অ্যাডাপটিভ মিউটেশনও সেখানে ঘটে:  যা এই নতুন এনজাইমের পরিমান বাড়িয়ে দেয় যা এমন কি আরো ল্যাকটোজকে ভাঙ্গতে শুরু করে। পরিশেষে আরো একটি বা তৃতীয় মিউটেশনটি ঘটে ভিন্ন একটি জীনে যা ব্যাকটেরিয়াকে পরিবেশ থেকে আরো সহজে ল্যাকটোজ অনু ব্যবহারের জন্য গ্রহন করতে সাহায্য করে, সব মিলিয়ে এই পরীক্ষাটি প্রমান করে যে যে জটিল প্রাণরাসায়নিক প্রক্রিয়ার বিবর্তন হওয়ার মাধ্যমে ব্যাকটেরিয়া অস্থিতিশীল খাদ্য সরবরাহের কোন একটি পরিস্থিতিতে বাচতে পারে। বিবর্তন ছাড়াও, এই পরীক্ষা আরো দুটি গুরুত্বপুর্ণ শিক্ষা আমাদের দিচ্ছে, প্রথমত, প্রাকৃতিক নির্বাচন পারে, কোন জটিল আর পারস্পরিক সম্পর্কযুক্ত প্রাণরাসায়নিক প্রক্রিয়ার বিবর্তন ঘটাতে, যেখানে প্রতিটি অংশ পারস্পরিক নির্ভরশীল, সৃষ্টিবাদীদের দাবীতে যা কিনা অসম্ভব তা সত্ত্বেও। দ্বিতীয়, আমরা বার বার দেখেছি নির্বাচন কখনই কোন ’নতুন’ বৈশিষ্ট শুন্যস্থান থেকে বা নতুন করে থেকে সৃষ্টি করেনা, এটি ’নতুন’ অভিযোজন সৃষ্টি করে ইতিপুর্বে বিদ্যমান বৈশিষ্টগুলোর প্রয়োজনীয় পরিবর্তন করার মাধ্যমে।

20-10-2013 5-12-13 PM
ছবি: Phenotypic diversity and niche specificity among P.fluorescens SBW25 ;  সিউডোমোনাস দের কলোনীগুলো বিবর্তিত হয় ভিন্ন ভিন্ন পরিবেশ;পুরো জনগোষ্ঠী শুরুতে ছিল একটি ি‘smooth’(SMmorph) কোষের আদি পুর্বসুরী থেকে আসা, , কয়েক শত প্রজন্মের মধ্যেই-আদি স্বাধীনভাবে ভাসমান মসৃন ব্যাকটেরিয়াগুলো অতিরিক্ত আরো দুটি রুপে বিবর্তিত হয় যারা সেই জারের ভিন্ন ভিন্ন এলাকা দখল করে। একটি, যার নাম wrinkly spreader  যারা ব্রথ এর উপরে পৃষ্ঠে একটি ম্যাট বা চাদরের মত স্তর তৈরী করে, আর অন্যটি fuzzy spreader যা পাত্রের তলে একটি কার্পেট এর মত স্তর সৃষ্টি করে। এর আগে মসৃন আদিরুপের উপস্থিতি টিকে ছিল ঠিক মাঝখানের তরল পরিবেশে।

আমরা এমনকি দেখতে পাই নতুন, পরিবেশগত ভাবে বৈচিত্রময় ভিন্ন ব্যাকটেরিয়া প্রজাতির উৎপত্তি, আর সবগুলোই ঘটে একটি ল্যাবরেটরী ফ্লাস্কে। পল রাইনে ও তার সহকর্মী অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালেয়ে Pseudomonas fluorescens এর একটি স্ট্রেইনকে নিউট্রিয়েন্ট ব্রথ এর একটি কাচের পাত্রে রাখেন এবং তা পর্যবেক্ষন করতে শুরু করেন। (বিস্ময়কর কিন্তু সত্যি যে এধরনের কাচের পাত্রে আসলে ভিন্ন ভিন্ন পরিবেশ এর উপস্থিতি আছে। অক্সিজেনের এর ঘনত্ব যেমন, উপরে সবচেয়ে বেশী এবং নীচে সবচেয়ে কম); দশদিনের মধ্যে, কয়েক শত প্রজন্মের মধ্যেই-আদি স্বাধীনভাবে ভাসমান মসৃন ব্যাকটেরিয়াগুলো অতিরিক্ত আরো দুটি রুপে বিবর্তিত হয় যারা সেই জারের ভিন্ন ভিন্ন এলাকা দখল করে। একটি, যার নাম wrinkly spreader  যারা ব্রথ এর উপরে পৃষ্ঠে একটি ম্যাট বা চাদরের মত স্তর তৈরী করে, আর অন্যটি fuzzy spreader যা পাত্রের তলে একটি কার্পেট এর মত স্তর সৃষ্টি করে। এর আগে মসৃন আদিরুপের উপস্থিতি টিকে ছিল ঠিক মাঝখানের তরল পরিবেশে। এই দুটি নতুন রুপ এদের পুর্বসুরী থেকে জীনগতভাবে আলাদা,যারা মিউটেশণ ও প্রাকৃতিক নির্বাচনের মাধ্যমে বিবর্তিত হওয়া এই প্রজাতিগুলো তাদের নিজেদের পরিবেশে সবচেয়ে ভালোভাবে বংশবৃদ্ধি করতে পারে। এখানে তাহলে বিবর্তনই শুধু  না প্রজাতিকরণও ঘটেছে ল্যাবরেটরীতে। এদের আদি পুর্বসুরীরা একই সাথে তৈরী ও সহাবস্থান করছে দুটি পরিবেশগতভাবে ভিন্ন উত্তরসুরীদের সাথে। এবং ব্যাকটেরিয়ার ক্ষেত্রে এই ধরনের ফর্মগুলোকে চিহ্নিত করা হয় আলাদা প্রজাতি হিসাবে। খুব অল্প সময়ের মধ্যে, Pseudomonas এর উপর প্রাকৃতিক নির্বাচন কাজ করে একটি ছোটমাত্রার অ্যাডাপটিভ বা অভিযোজনীয় ‍র‌্যাডিয়েশন বা বহুবিভাজন ঘটায়। যা সামুদ্রিক দ্বীপে নতুন পরিবেশের পরিস্থিতিতে যেভাবে প্রানী ও উদ্ভিদরা প্রজাতি সৃষ্টি করে, এটি তার সমতুল্য।

ঔষধ এবং বিষের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ক্ষমতা

১৯৪০ এর দশকে যখন প্রথম অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার শুরু হয়েছিল, অনেকেই মনে করেছিলেন, তারা অবশেষে ব্যাকটেরিয়া জনিত সব সংক্রামক ব্যাধির সমস্যাটি সমাধান করে ফেলেছেন। আর ঔষধটি এত ভালো কাজ করেছিলো, প্রায় প্রত্যেকটি টিউবারক্যুলোসিস বা যক্ষা, স্ট্রেপটোকক্কাস গলার ইনফেকশন বা নিউমোনিয়া আক্রান্তদের খুব সাধারন কয়েক ডোজ ইনজেকশন বা কতগুলো ট্যাবলেট দিয়ে চিকিৎসার মাধ্যমে নিরাময় করা অসম্ভব কোন ব্যাপার ছিল না। কিন্তু আমরা প্রাকৃতিক নির্বাচন সম্বন্ধে ভুলেই গিয়েছিলাম। বিশেষ করে ব্যাকটেরিয়া জনগোষ্ঠীর বিশাল আকার ও তাদের খুব সংক্ষিপ্ত জেনারেশন সময় – যে বৈশিষ্টগুলো বিবর্তন সংক্রান্ত গবেষনায় ব্যাকটেরিয়াদের আদর্শ অনুজীবে পরিণত করেছে – অ্যান্টিবায়োটিকের বিরুদ্ধে তাদের প্রতিরোধী করে তোলার মত মিউটেশন হবার সম্ভাবনাও অনেক বেশী।আর সেই ব্যাকটেরিয়াগুলো যারা টিকে থাকে কারন তাদের বিরুদ্ধে অ্যান্টোবায়োটিক কার্যকারীতা হারায়, তারাই তাদের জীনগত উত্তরসুরী রেখে যেতে পারে, তারাও ঠিক একই ভাবে অ্যান্টিবায়োটিকের প্রতি প্রতিরোধ ক্ষমতা সম্পন্ন হয়। এবং ক্রমশ অ্যান্টিবায়োটিক এর কার্যকারীতাও কমে যেতে থাকে এবং আবারো আমরা একটি ডিকেল সমস্যাগুলোর মুখোমুখি হই। কিছু কিছু অসুখের জন্য এটি খুব ভয়ঙ্কর একটি সমস্যায় পরিণত হয়েছে ইতিমধ্যেই।  নতুন স্ট্রেইনের টিউবারক্যুলোসিস ব্যাকটেরিয়াদের যেমন আমরা এখন দেখি, যাদের বিরুদ্ধে ডাক্তারদের এ যাবৎ ব্যবহৃত সব ঔষধই কার্যকারিতা হারিয়েছে। বহুদিনের নিরাময় আর মেডিকেল আশাবাদিতার দীর্ঘ সময় পর, যক্ষা আবারো প্রাণঘাতি অসুখে রুপান্তরিত হয়েছে অনেক জায়গায়।

খুব নিশ্চিৎ এবং সরলতমরুপে এটাই প্রাকৃতিক নির্বাচন। প্রত্যেকেই আমরা ড্রাগ রেসিস্ট্যান্স সম্বন্ধে জানি। কিন্তু প্রায়ই এটা অনুধাবন করা হয়না যে নির্বাচন কাজ করছে তার একটি উত্তম উদহারণ আমাদের হাতে আছে (যদি এই বিষয়টি ডারউইনের সময় জানা থাকতো, তিনি অবশ্যই এটি তার The Origin সবচে গুরুত্বপুর্ণ একটি অধ্যায় হতো); একটি প্রচলিত বিশ্বাস আছে যে ড্রাগ রেসিস্ট্যান্স রোগীদের শরীরে নাকি সৃষ্টি হয়, কোন না কোনভাবে রোগীরা নিজেই এমন একটি উপায়ে বদলে যান যা ড্রাগটি তার কার্যকরীতা হারিয়ে ফেলে। কিন্ত এটি ভ্রান্ত: অ্যান্টিবায়োটিক এর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ বা রেজিস্ট্যান্স সৃষ্টি হয় অনুজীবের জীনোমে বিবর্তনের মাধ্যমে, কোন ড্রাগের সাথে রোগীর অভ্যস্ত হয়ে পড়ার মাধ্যমে না।

bt1304MRSA
ছবি: This scanning electron micrograph (SEM) depicts numerous clumps of methicillin-resistant Staphylococcus aureus bacteria, commonly referred to as MRSA.

আরেকটি অন্যতম উদহারণ হলো পেনিসিলিন অ্যান্টিবায়োটিরে বিরুদ্ধে ব্যাকটেরিয়াদের প্রতিরোধ। ১৯৪০ সালে এটি যখন প্রথম ব্যবহার শুরু হয়, পেনিসিলিন সত্যিকার অর্থেই ছিল মিরাকল ড্রাগ, বিশেষ করে Staphylococcus aureus (“staph”) নামের একটি ব্যাকটেরিয়া জনিত যে কোন সংক্রমনে। ১৯৪১ সালেই পৃথিবীতে যে কোন Staph স্ট্রেইনকে ধ্বংস করতে পারতো এটি। এখন ৭০ বছর পর ৯৫ শতাংশরও বেশী Staph স্ট্রেইনের বিরুদ্ধে পেনিসিনিল কোন কাজের না। যা ঘটেছিল তা হলো মিউটেশন ঘটেছিল কোন একটি ব্যাকটেরিয়ার মধ্যে যা তাদের ক্ষমতা দিয়েছিল এই ড্রাগটিকে অকার্যকর পরিণত করার জন্য। এবং অবশ্যই এই মিউটেশন সারা পৃথিবী ছড়িয়েছে। এর প্রত্যুত্তরে ড্রাগ প্রস্তুতকারীরা আরো একটি নতুন অ্যান্টিবায়োটিক তৈরী করেছেন মেথিসিলিন, এবং এমন কি এটিও অকার্যকর হতে চলেছে নতুন মিউটেশনের কারনে। দুটো ক্ষেত্রেই বিজ্ঞানীরা শনাক্ত করেছেন ঠিক কোথায় ব্যাকটেরিয়ার জীনোমে ডিএনএ বেস অনুক্রমের পরিবর্তন এই ড্রাগ রেসিস্ট্যান্স এর বৈশিষ্ট প্রদান করে।

বিবর্তন সক্ষম এমন সবচেয়ে ক্ষুদ্রতম জীবনের রুপ হচ্ছে ভাইরাসরা, তারাও অ্যান্টিভাইরাল ড্রাগের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে। বিশেষভাবে উল্লেখ্য যেমন AZT (azidothymidine), যারা আক্রান্ত রোগীর শরীরের HIV ভাইরাসের বংশবৃদ্ধি করতে বাধা দেয়। এমনকি একটি মাত্র রোগীর শরীরেও বিবর্তন হয়, কারন ভাইরাস রুপান্তরিত হয় অত্যন্ত দ্রুত গতিতে, এবং একসময় তারা এই ঔষধটির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলে এবং AZT আর কোন কাজ করেনা। এখন আমরা AIDS কে প্রতিরোধ করার চেষ্টা করি কয়েকটি ড্রাগ একসাথে ব্যবহার বা ককটেইল তৈরী করার মাধ্যমে। এবং ইতিহাস যদি কিছু শিক্ষা দেয়, এটিও একসময় আর কাজ করবে না ।

এই ঔষধের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ার প্রক্রিয়া মানুষ আর অনুজীবদের মধ্যে একটি অস্ত্রযুদ্ধ সুচনা করেছে, যেখানে শুধু অনুজীবরাই জয়ী হয় না, ঔষধ কোম্পানীগুলোও লাভবান হয়। যারা সারাক্ষনই নতুন নতুন ড্রাগ তৈরী করছে ক্রমেই অকার্যকর হয়ে যাওয়া ঔষধগুলো প্রতিস্থাপন করার জন্য। কিন্তু সৌভাগ্যজনকভাবে কিছু বিস্ময়কর অনুজীবও আছে যারা এই প্রতিরোধ ক্ষমতা এখনও বিবর্তিত করতে পারেনি। ( আমাদের মনে রাখতে হবে বিবর্তন তত্ত্ব কিন্তু ভবিষ্যদ্বানী করেনা যে সবকিছু বিবর্তিত হবে: যদি সঠিক মিউটেশন না ঘটতে পারে বা উদ্ভব হয়, বিবর্তনও হতে পারেনা); এক ধরনের Streptococcus, যেমন, যারা শিশুদের strep throat নামে সচরাচর দেখা যায় এমন একটি অসুখের কারণ । তারা কিন্তু আজো পেনিসিলিনের বিরুদ্ধে সামান্যতম প্রতিরোধ বিবর্তন করতে পারেনি, যা এখনও এর চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়। এবং ইনফ্লুয়েন্জা ভাইরাসের ব্যতিক্রম,পোলিও আর মীজলস ভাইরাসরা তাদের ভ্যাক্সিনের প্রতি কোন প্রতিরোধ গড়ে তোলেনি, এবং তা ব্যবহৃত হচ্ছে গত ৫০ বছর ধরে।

আরো অনেক প্রজাতি বিবর্তিত হয়েছে তাদের পরিবেশে মানুষ কর্তৃক সৃষ্ট পরিবর্তনের কারণে। কীটপতঙ্গ এখন DDT র বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে, সেই সাথে অন্যান্য কীটনাশকদের বিরুদ্ধেও। অনেক আগাছা এরই মধ্যে হার্বিসাইড বা আগাছা নাশকের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়েছে। সেই সাথে ছত্রাক, কেচো ও শৈবালরা বিবর্তিত করেছে প্রতিরোধ সাধারণত ভারী ধাতুগুলোর বিরুদ্ধে যারা তাদের পরিবেশকে দুষিত করেছে। দেখা যাচ্ছে অবধারিতভাবে কিছু সদস্য বেচে থাকে যাদের ভাগ্যে সেই মিউটেশণগুলো থাকে যা তাদের এমন কোন পরিস্থিতিতে বাচতে ও প্রজনন করতে সহায়তা করেছে, যা দ্রুত একটি সংবেদী জনগোষ্ঠীকে রুপান্তরিত করে প্রতিরোধ করতে সক্ষম এমন জনগোষ্ঠীতে। আমরা এর থেকে যুক্তিসঙ্গত উপসংহার টানতে পারি, যখন কোন জনগোষ্ঠী কোন চাপে সম্মুখীন হয় যা মানুষ সৃষ্টি করেনি, যেমন লবনক্ততা, তাপমাত্রা ও বৃষ্টিপাত, প্রাকৃতিক নির্বাচন প্রায়ই একটি অভিযোজনীয় প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে থাকে।

 

________________________________ চলবে

Advertisements
জেরী কয়েন এর হোয়াই ইভোল্যুশন ইজ ট্রু : পঞ্চম অধ্যায় (চতুর্থ পর্ব)

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s