জেরী কয়েন এর হোয়াই ইভোল্যুশন ইজ ট্রু : পঞ্চম অধ্যায় (তৃতীয় পর্ব)

dog-breed-2
ছবি: কয়েকটি ব্রীডের কুকুর (উপরে বা দিক থেকে): বুলডগ, বক্সার, ডাখশুন্ড;
( মধ্যে বা দিক থেকে): ব্যাসেট হাউন্ড, বরজোয়, ল্যাব্রাডর রিট্রিভার,
(নীচে: বা দিক থেকে): পুডল, ল্যাবরাডুডল, স্কটি)

17-02-2012-8-36-20-pm
ছবি: চিহুয়াহুয়া (Chihuahua) এবং গ্রেট ডেন (Great Dane): দুজনেই চামড়ার নীচে
আসলে নেকড়ে।মাত্র কয়েক শতাব্দীর কৃত্রিম নির্বাচন বা
সিলেকটিভ ব্রীডিং এর ফলে সৃষ্ট এই দুই জাতের কুকুরের ব্যাহ্যিক চেহারা দেখে তা কি অনুমান করা সম্ভব?

জেরী কয়েন এর হোয়াই ইভোল্যুশন ইজ ট্রু : পঞ্চম অধ্যায় ( তৃতীয় পর্ব)

(অনুবাদ প্রচেষ্টা: কাজী মাহবুব হাসান)

Why Evolution Is True: Jerry A. Coyne

প্রথম অধ্যায়
দ্বিতীয় অধ্যায় : প্রথম পর্ব  দ্বিতীয় পর্ব তৃতীয় পর্ব চতুর্থ পর্বশেষ পর্ব
তৃতীয় অধ্যায়: প্রথম পর্ব , দ্বিতীয় পর্ব , তৃতীয় পর্ব , শেষ পর্ব
চতুর্থ অধ্যায়: চতুর্থ অধ্যায়:  প্রথম পর্ব ; দ্বিতীয় পর্বশেষ পর্ব
পঞ্চম অধ্যায়:  প্রথম পর্ব ; দ্বিতীয় পর্ব

আরো একটি আলোচনা:  ন্যাচারাল সিলেকশন বা প্রাকৃতিক নির্বাচনকে যাচাই করে দেখার পরীক্ষা:

অধ্যায় ৫ : বিবর্তনের ইন্জিন

 

প্রানী এবং উদ্ভিদ ব্রীডিং বা কৃত্রিম প্রজনন

প্রাকৃতিক নির্বাচনের তত্ত্ব ভবিষ্যদ্বানী করে যে কোন ধরনের অভিযোজন আমরা আশা করতে পারি এবং আরো গুরুত্বপুর্ণভাবে, প্রকৃতিতে কোন ধরনের অভিযোজন আমরা খুজে পাবার আশা করি না। এবং এই সব ভবিষ্যদ্বানী পুর্ণ হয়েছে। কিন্তু বহু মানুষ আরো বেশী দাবী করেন: তারা প্রাকৃতিক নির্বাচন কাজ করছে এমনটা দেখতে চান চোখের সামনে এবং তারা তাদের নিজেদের জীবদ্দশায় বিবর্তনীয় পরিবর্তন দেখতে চান। খুব কঠিন না কিন্তু মেনে নেয়া যেমন ধরুন, মিলিয়ন বছরে প্রাকৃতিক নির্বাচন স্থলবাসী স্তন্যপায়ী প্রানী থেকে তিমির বিবর্তন ঘটাতে পারে। কিন্তু কোন না কোন এক ভাবে নির্বাচনের ধারনাটা আমাদের কাছে আরো বিশ্বাসযোগ্য মনে হয় যখন আমরা সেই প্রক্রিয়া চোখের সামনে কাজ করতে দেখি। চোখের সামনে এভাবে প্রাকৃতিক নির্বাচন আর বিবর্তন প্রক্রিয়াকে দেখতে চাইবার ব্যাপারটা বোধগম্য তবে খানিকটা কৌতুহল সৃষ্টি করে। কারণ সর্বোপরি আমরা কিন্তু মেনে নিয়েছি গ্রান্ড ক্যানইয়ন সৃষ্টি হয়েছে কলোরাডো নদীর বহু মিলিয়ন বছরের অনুভব করা সম্ভব না এমন ধীর গতির ক্ষয়ীভবন প্রক্রিয়ার খোদাইয়ের মাধ্যমে, যদিও আমাদের জীবদ্দশায় আমরা কিন্তু বুঝতে পারবো না ক্যানইয়নের গভীরতা বাড়ছে ক্রমশ। কিন্তু কিছু মানুষের জন্য ভুতাত্ত্বিক শক্তির এই এই সময়টা অনুধাবন করার ধারনা কোন না কোনভাবে বিবর্তনের জন্য প্রযোজ্য নয়। তাহলে কিভাবে আমরা নির্নয় করি যে প্রাকৃতিক নির্বাচন বিবর্তনের প্রধান চালিকা শক্তি? অবশ্যই আমরা তিমির বিবর্তন এর প্রক্রিয়ার পুণরাবৃত্তি করতে পারবো  না, যেখানে আমরা দেখতে পাই প্রতিটি ছোট ছোট ধাপের কি কি প্রজননগত সুবিধা আছে যা তাদের আবার পানির দিকে নিয়ে গেছে। কিন্তু যদি আমরা দেখতে পারি যে, নির্বাচন অল্প কয়েকটি প্রজন্মের মধ্যে ছোট ছোট কিছু পরিবর্তন করছে, তাহলে হয়তো আমাদের বুঝতে সহজ হবে, বহু মিলিয়ন বছর ধরে, একই ধরনের নির্বাচনী শক্তি অনেক বড় মাপের অভিযোজনীয় পরিবর্তন করতে পারে যা জীবাশ্ম রেকর্ডে রক্ষিত আছে।

প্রাকৃতিক নির্বাচনের প্রমান আসে বেশ অনেকগুলো ক্ষেত্র থেকে। সবচেয়ে সুস্পষ্ট প্রমানটি দেখি কৃত্রিম নির্বাচনের ক্ষেত্রে- প্রানী এবং উদ্ভিদ ব্রিডিং বা কৃত্রিম প্রজনন-  ডারউইন যেমনটা অনুধাবন করেছিলেন, হতে পারে চমৎকার অনুরুপ একটি উদহারণ প্রাকৃতিক নির্বাচন প্রক্রিয়ার। আমরা জানি ব্রীডাররা অসাধারণ অসম্ভব সব কান্ড করেছেন বুনো উদ্ভিদ আর প্রানীদের পুরোপুরিভাবে ভিন্ন রুপে রুপান্তর করার মাধ্যমে, যে আকার আকৃতি খেতে ভালো বা আমাদের নন্দনতাত্ত্বিক চাহিদা পুরণ করে। এবং আমরা জানি সেটা করা হয়েছে এদের আদি বুনো পুর্বসুরীদের মধ্যে উপস্থিত প্রকরণ বা ভ্যারিয়েশন নির্বাচন করার মাধ্যমে। এবং আমরা এটাও জানি যে, কৃত্রিম প্রজনন বিস্ময়কর রকম কম সময়ে বিশাল সব পরিবর্তন সাধিত করেছে। কারন এধরনের উদ্ভিদ আর প্রানীদের কৃত্রিম প্রজনন এর প্রচলন হয়েছে মাত্র কয়েক হাজার বছর ধরে।

গৃহপালিত কুকুরদের কথা ধরুন (Canis lupus familiaris), একটি মাত্র প্রজাতি যার প্রায় সবধরনের আকার, আকৃতি, প্রকৃতি ও রঙ আছে। প্রতিটি জাত, সে বিশুদ্ধই হোক আর শংকর হোক না কেন, সবগুলোই এসেছে একটি আদি প্রজাতি থেকে – খুব সম্ভবত ইউরেশিয়ার গ্রে উলফ – যা মানুষ প্রথম নির্বাচন করতে শুরু করেছিল প্রায় ১০০০০ বছর আগে। অ্যামেরিকার কেনেল ক্লাব প্রায় ১৫০ ভিন্ন জাতকে চিহ্নিত করে এবং আপনারা কমবেশী অনেক জাতই দেখেছেন: ছোটখাট নার্ভাস চি হুয়াহুয়া, খুব সম্ভবত মেক্সিকোর টোলটেক (Toltect) রা যাদের খাদ্য হিসাবে কৃত্রিম প্রজনন এর মাধ্যমে সৃষ্টি করেছিল, থেকে বড়সড় শক্তিশালী সেন্ট বার্নার্ড, যাদের গায়ে ঘন লোম, এবং বরফে আটকে পড়া  অভিযাত্রীদের জন্য যারা বড় বাক্স ভর্তি ব্রান্ডি নিয়ে যায় বহন করে, গ্রেহাউন্ড , যে জাতটাকে প্রজনন করা হয়েছে লম্বা লম্বা পা , দারুন গড়নের শরীর এবং লম্বা, ছোট ছোট পা সহ ডাখশুন্ড, যা গর্তর মধ্য থেকে ব্যাজার (Badger) ধরার জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত। রিট্রিভার, যারা পানির মধ্য থেকে শিকার করা পাখীকে ধরে আনতে দক্ষ এবং লোম ফাপানো পোমারানিয়ান, যাদের প্রজনন করা হয়েছে আদর করে কোলে রাখার কুকুর হিসাবে। ব্রিডাররা এই সব কুকুরদের ভাস্করের মত গড়ে তুলেছেন তাদের ইচ্ছা মত, তাদের গায়ের রঙ এবং চামড়ার পুরুত্ব, তাদের কানের দৈর্ঘ আর সুচোলো প্রকৃতি, তাদের অস্থিকাঠামোর আকার আকৃতি, তাদের আচার আচরণের প্রকৃতির নানা খুটিনাটি বৈশিষ্ট এবং প্রায় সবকিছু।

dog-breeds
ছবি: কয়েকটি ব্রীডের কুকুর (উপরে বা দিক থেকে: পেকিনেস, ডালমেশিয়ান,পোমেরানিয়ান, নীচে বা দিক থেকে: হুইপেট, স্প্যানিয়েল, সেন্ট বার্ণাড)

ছবি: গ্রে উলফ (Canis lupus) এর একটি উপপ্রাজাতি মানুষের প্রিয় প্রানী সহচর কুকুর ( Canis lupus familiaris); বর্তমান সব জাতের কুকুরের লিনিয়েজ ধারনা করা হয় ১৫০০০ বছর আগে গ্রে উলফ প্রজাতিকে গৃহপালিত করন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পোষ মানিয়েছিল। যদিও ৩৩০০০ হাজার বছর আগেও গৃহপালিত কুকুরের চিহ্ন মিলেছে, তবে আগের লিনিয়েজগুলো টেকেনি

এই সব নানা জাতের কুকুরদের পাশাপাশি দাড় করান এবার ভাবুন কি অসাধারণ বৈচিত্রময়তা। যদি এমন হোত এই সব জাতগুলোর অস্তিত্ত্ব থাকতো শুধু জীবাশ্ম হিসাবে, প্রত্নতত্ত্ববিদরা তাদের বিবেচনা করতো একটি নয় একাধিক ভিন্ন প্রজাতি হিসাবে।নিঃসন্দেহে ৩৬ টিরও বেশী বুনো কুকুরের প্রজাতি আছে প্রকৃতিতে এই মুহুর্তে, বাস্তবিকভাবে গৃহপালিত কুকুরদের মধ্যে ভ্যারিয়েশন বুনো কুকুর প্রজাতিদের তুলনায় অনেক বেশী। শুধু একটা বৈশিষ্টর কথা ধরা যাক, ওজন: গৃহপালিত কুকুরদের ওজন হতে পারে  ২ পাউন্ড এর চিহুয়াহুয়া থেকে ১৮০ পাউন্ডের ইংলিশ মাস্টিফ, অন্যদিকে বুনো কুকুরদের প্রজাতির মধ্যে ওজন হতে পারে ২ পাউন্ড থেকে ৬০ পাউন্ড। এবং নিশ্চিৎভাবে কোন বুনো কুকুরের ডাখশুন্ড এর মত আকৃতি বা পাগদের মত মুখ নেই।

কুকুর ব্রীডিং এর সফলতা নির্বাচনের মাধ্যমে বিবর্তনের তিনটি পুর্বশর্তের দুটি পুর্ণ করে। প্রথম, কুকুরদের আদি বংশধারায় প্রচুর পরিমান বৈচিত্র আছে, রং, আকার, আকৃতি, আচরণে, যা সম্ভব করেছে এই সব নানা জাতের কুকুরের সৃষ্টি করার জন্য। দ্বিতীয়ত এই সব ভ্যারিয়েশনের কিছু কিছু তৈরী হয় জেনেটিক মিউটেশনের মাধ্যমে যা উত্তরাধিকার সুত্রে পাওয়া যায় এবং যদি তা না হতো ব্রীডারটা খুবই কমই এর পরিবর্তন করতে পারতো। কুকরদের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বিস্ময়কর ব্যাপার হচ্ছে, কত দ্রুত এর ফলাফল আমরা পেয়েছি।  এই সব জাতগুলোকে তাদের বৈশিষ্ট অনুযায়ী নির্বাচন করা হয়েছে ১০০০০ বছরেরও কম সময়ে, প্রকৃতিতে বুনো কুকুরদের তাদের একটি সাধারণ পুর্বসুরী থেকে বর্তমান নানা প্রজাতিদের বিবর্তিত হতে যে সময় লাগে তার মাত্র ০.১ শতাংশ সময়ে কৃত্রিম প্রজনন সেই কাজটি করেছে। যদি কৃত্রিম নির্বাচন এত দ্রুত কুকুরদের মধ্যে এত ধরনের বৈচিত্র সৃষ্টি করতে পারে তাহলে এটা মেনে নিতে সহজ হয় যে বুনো কুকুরদের মধ্যে অপেক্ষাকৃত কম বৈচিত্রময়তা সৃষ্টি হয়েছে প্রাকৃতিক নির্বাচনের মাধ্যমে এর চেয়ে হাজার গুন বেশী সময়ে।

কৃত্রিম এবং প্রাকৃতিক নির্বাচনের মাধ্য আসলে একটি মাত্র পার্থক্য বিদ্যমান। কৃত্রিম নির্বাচনে প্রকৃতির বদলে নির্বাচনের দ্বায়িত্বটি নেয় ব্রীডার নিজে, তারা তাদের ইচ্ছা মত বাছাই করে কোন বৈশিষ্টটি ’ভালো’ আর  কোনটি ’খারাপ’; অন্যার্থে প্রজনন সফল কে হবে সেই বাছাইটা মানুষের ইচ্ছানুযায়ী হয়ে থাকে, সেখানে কোন প্রাকৃতিক পরিবেশের অভিযোজিত হতে হবে এই শর্ত  পুরণ করার চাপ থাকে না। কখনো কখনো অবশ্যই এই দুটো ব্যাপারই যুগপৎ ঘটে থাকে। যেমন, গ্রে হাউন্ড কুকুরদের দেখুন, যাদের নির্বাচন করা হয়েছে তাদের দ্রুত গতিতে দৌড়াবার ক্ষমতার উপর, আর কৃত্রিম নির্বাচনের ফলাফল তাদের এমন আকার দেয় যা প্রকৃতি দ্রুতগামী চীতাদের দিয়েছে। এটি হচ্ছে কনভারজেন্ট বিবর্তনের একটি উদহারণ। একই ধরনের নির্বাচনী চাপ একই ধরনের ফলাফল সৃষ্টি করে।

কুকুররাই প্রমান দিচ্ছে একই রকম অন্যান্য প্রজনন পরীক্ষার সফল ফলাফলের। যেমন ডারউইন তার The  Origin  এ গঠন সম্বন্ধে কথা বলেন, যেন মনে হয় তারা খুবই নমনীয় কিছু, যাকে ইচ্ছামত আকার দেয়া সম্ভব, তারা যেমন খুশী তেমন ভাবে তাদের গড়ে তুলতে পারবেন। গুরু,ভেড়া, শুকর,ফুল, সব্জী এবং আরো অনেককিছু, সবকিছু এসেছে এদের আদি বুনো পুর্বসুরী প্রজাতির মধ্যে বিদ্যমান প্রকরণটিকে মানুষের চাহিদা মত নির্বাচন করার মাধ্যমে বা এই প্রকরণটি উদ্ভব হয়েছে তাদের গৃহপালিত করণ প্রক্রিয়ার সময়। নির্বাচনের মাধ্যমে বুনো টার্কি (svelte wild turkey) রুপান্তরিত হয়েছে আমাদের নীরিহ, মাংশল এবং আক্ষরিক অর্থেই স্বাদহীন থ্যাঙ্কস গিভিং দানবে, তাদের বুকের মাংশ এত বিশাল হয়েছে, পুরুষ গৃহপালিত টার্কিরা আর স্ত্রী টার্কিদের সাথে প্রজনন করতে পারেনা তাদের উপরে উঠে, বরং তাদের কৃত্রিমভাবে শুক্রানু দিয়ে নিষিক্ত করতে হয়। ডারউইন নিজেও কবুতর প্রজনন করাতেন, এবং তিনি ব্যাখ্যা দিয়েছেন এদের বিভিন্ন জাতের মধ্যে দৃশ্যমান অসংখ্য বৈচিত্রময় বৈশিষ্ট, এদের আকারে,গঠনে আর আচরণে, অথচ সবার আদি প্রজাতি রক ডাভ। আপনি আমাদের এই ভুট্টার আদিরুপটাকে দেখলে চিনতেই পারবেন না, যা দেখতে বৈশিষ্টহীন কোন ঘাসের মত। আদি টমেটোর ওজন ছিল কয়েক গ্রাম মাত্র, এখন তাদের চাষ করা হয়েছে ২ পাউন্ডের বিশাল দানবাকৃতিতে ( যা যথারীতি স্বাদহীন) তবে দীর্ঘদিন সংরক্ষন করা সম্ভব। বুনো ক্যাবেজ এর সেই গুল্ম জন্ম দিয়েছে পাচটি পৃথক সব্জীর: ব্রকলী,বাধাকপি, কোলরাবি, ব্রাসেলস স্প্রাউট এবং ফুলকপি, যাদের প্রত্যেকটি চাষ করা হয়েছে আদি গুল্মটির  এক একটি অংশকে নির্বাচন করার মাধ্যমে ( ব্রকলী যেমন, খুব শক্তআটুনী দিয়ে বাধা একটু বড়আকারের ফুলের সমষ্ঠি); এবং সব বুনো খাদ্যশস্যর গৃহপালিত করণ প্রক্রিয়ার ঘটনাটি ঘটেছে গত ১২০০০ বছরের মধ্যে।

এজন্যই অবাক হবার কোন কারণ নেই যে, ডারউইন তার The Origin বইটি কিন্তু প্রকৃতিতে প্রাকৃতিক নির্বাচন দিয়ে শুরু করেননি বা বিবর্তন সংক্রান্ত আলোচনার মাধ্যমে না বরং অন্য একটি অধ্যায়টি দিয়ে যার শিরোনাম, প্রানী এবং উদ্ভিদের “Variation Under Domestication“  বা গৃহপালিতকরণ প্রক্রিয়ার অধীনে প্রকরণ ; তিনি জানতেন যে যদি মানুষ কৃত্রিম নির্বাচনের ফলাফল মেনে নিতে পারে, এবং তাদের মেনে নিতেই হবে কারন এর সাফল্য সুস্পষ্ট এত বেশী, তাহলে প্রাকৃতিক নির্বাচন মেনে নেবার বাধাটা অতিক্রম করাটা খুব কঠিন হবার কথা না। যেমনটি তিনি যুক্তি দিয়েছিলেন:

গৃহপালিতকরণ প্রক্রিয়ায়, সত্যি করে এটা বলা সম্ভব যে, পুরো গঠনটাই পরিনত হয় কিছুটা নমনীয়, তাহলে কি, যে প্রকরণগুলো মানুষের জন্য উপকারী নি:সন্দেহে সম্ভব হয়েছে তা দেখে এটা ভাবা কি অসম্ভব যে, অন্যান্য প্রকরণগুলো যা কোন না কোনভাবে প্রত্যেকটা জীবের জন্য উপকারী এই মহান জটিল জীবনের যুদ্ধে, ঘটেছে সহস্র প্রজন্মান্তরে।

মানুষ সভ্য হবার পর যেহেতু বুনো প্রজাতির গৃহপালিত করণ ঘটেছে অপেক্ষাকৃত স্বল্পতম সময়ে, ডারউইন জানতেন, খুব একটা বেশী কষ্ট হবে না মেনে ‍নিতে যে প্রাকৃতিক নির্বাচনও অনেক বেশী বৈচিত্রময়তা সৃষ্টি করতে পারে আরো দীর্ঘ সময়ের ব্যাপ্তিতে।

________________________________ চলবে

Advertisements
জেরী কয়েন এর হোয়াই ইভোল্যুশন ইজ ট্রু : পঞ্চম অধ্যায় (তৃতীয় পর্ব)

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s