বেবেলপ্লাৎস এর Night of the shame monument: মিশা উলমান এর The Silent Library

Bebelplatz_Night_of_Shame_Monument
বেবেলপ্লাৎস এর নাইট অব দ্য শেম মনুমেন্ট

“Where they burn books, they will in the end also burn people.”

বেবেলপ্লাৎস (Bebelplatz) জার্মানীর বার্লিন এ অবস্থিত একটি পাবলিক স্কোয়ার বা চত্ত্বর। যার আগের নাম ছিল Opernplatz;  শহরের কেন্দ্রে পুর্ব পশ্চিমে বিস্তৃত চলাচলের মুল পথ Unter den Linden এর দক্ষিন দিকেই এটি অবস্থিত। এর পুর্ব প্রান্তে State Opera (যেখান থেকে এর যুদ্ধপুর্ব নামটি এসেছে), পশ্চিমে  Humboldt University  বেশ কিছু দালান.আর .দক্ষিনপুর্বে St. Hedwig’s Cathedral, প্রাশিয়ার প্রথম ক্যাথলিক চার্চ। উনবিংশ শতাব্দীর জার্মান সোস্যাল ডেমোক্রাটিক পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অগাষ্ট বেবেল এর নামে এটি নামকরণ করা হয় ১৯৪৭ সালে বেবেলপ্লাৎস। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ব্যাটল অব বার্লিনে অনেকটুকু ধ্বংশ হয়ে গিয়েছিল, তবে নতুন করে এটি পুণর্গঠন করা হয় ১৯৫০ এ। তবে এটি পরিণত করা হয় একটি মনুমেন্ট এ Night of the shame monument, কারন এই জায়গাটি সাক্ষী নাৎসী জার্মানীর একটি ভয়ঙ্কর অতীতের।

বেবেলপ্লাৎস ইতিহাসে তার জায়গা করে নিয়েছে একটি কুখ্যাত ঘটনার স্বাক্ষী হয়ে। ১৯৩৩ সালের মে মাসের ১০ তারিখে সন্ধ্যায় হিটলার এর নাৎসী পার্টির মিলিশিয়া ও ছাত্র সংগঠন, Sturmabteilung (SA) বা স্টর্ম ডিটাচমেন্ট, Schutzstaffel (SS) বা ডিফেন্স কর্প, নাৎসী স্টুডেন্টস এবং হিটলার ইয়ুথ গ্রুপের উন্মত্ত সদস্যরা প্রোপাগান্ডা মন্ত্রী জোসেফ গোয়েবলস এর প্ররোচনায় এখানে প্রায় ২০০০০ বই পোড়ায়.. কুখ্যাত সেই ঘটনা ইতিহাসে পরিচিত ..Nazi book burning ceremony  নামে;

সেদিন পোড়ানো বইগুলোর লেখকদের মধ্যে ছিলেন জার্মান ভাষার সেরা সব লেখকরা, যেমন টমাস মান, এরিখ মারিয়া রেমার্ক, হাইনরিশ হাইনে, কার্ল মার্কস সহ আরো অনেকে…; কাজটা তারা শুরু করেছিল মে মাসের ৬ তারিখ থেকেই… বেশ কিছু লাইব্রেরী বুক শেলফ থেকে বই ছিনিয়ে এনে এখানে স্তুপ করে রাখা হয়, ১০ তারিখে উৎসব করে পোড়ানোর আগে। এর পরের ইতিহাস তো সবার জানা। বিভীষিকাময় একটি সময় অতিক্রম করেছে মানব জাতি.. প্রাণ দিতে হয়েছে লক্ষ লক্ষ মানুষকে;

বেবেলপ্ল্যাৎস সেই ঘটনার কথা পরর্ব্তী প্রজন্মকে জানাতে সেখানে স্থাপন করা হয়েছে একটি মনুমেন্ট.. Night of the Shame .মেমোরিয়াল, যার পলিকল্পক ইসরায়েলী ভাস্কর মিশা উলমান, যার জার্মান বাবা মাও একদিন নাৎসীদের ইহুদী নিপীড়নে নির্যাতিত হয়ে উদ্বাস্তু হয়েছিলেন জন্মভুমি থেকে।

মনুমেন্টটি তার সাধারণত্বেই অসাধারন…পাথরের ছোট ছোট টুকরো কবলস্টোনের বিছানো পথের ধারবাহিকতা হঠাৎ থমকে যায় একটি কাচের বিছানো প্লেটে….যেখান উপর থেকে নীচে দর্শকরা দেখতে পান শুন্য হয়ে থাকা বই এর সারি বাধা তাক, ১৯৩৩ এ সেই দগ্ধ বইগুলোরই যেন শুন্যস্থান,… যা চিরকালের জন্য ভুলে যাওয়া অসম্ভব একটি অতীতের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। মনুমেন্টটির  আরেকটি অংশ মাটিতে বেছানো একটি ফলক.. যেখানে খোদাই করা আছে ১৮২১ সালে হাইনরিশ হাইনে র আল মানসোর নাটক এর সংলাপ..”Das war ein Vorspiel nur, dort wo man Bücher verbrennt, verbrennt man am Ende auch Menschen.” (ইংরেজীতে “Where they burn books, they will in the end also burn people); প্রতি বছর এই দিনটি স্মরণ করে কাছেই অবস্থিত হামবোল্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা এখানে বই বিক্রির অনুষ্ঠানের আয়োজন করার মাধ্যমে।

15-09-2013 5-31-54 PM
শিল্পী মিশা উলমান তার সৃষ্টির সামনে

ফ্যাসীবাদীরা একদিন উদ্ধত হয়ে মানুষের মুক্তচিন্তা প্রকাশকে রুদ্ধ করতে চেয়েছিল, যাকে পরাস্ত করতে পৃথিবীকে সহ্য করতে হয়েছে অবর্ণণীয় ক্ষতি… আজো এই লুকিয়ে থাকা দানবগুলো মানুষের মুক্ত চিন্তার দ্বারকেও রুখতে চায়…হত্যা আর নিপীড়ন কোন কিছুই তাদের কাছে অস্বাভাবিক আর অমানবিক নয়। কেন আমরা ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেই না……

Advertisements
বেবেলপ্লাৎস এর Night of the shame monument: মিশা উলমান এর The Silent Library

One thought on “বেবেলপ্লাৎস এর Night of the shame monument: মিশা উলমান এর The Silent Library

  1. সিলেটে ফেসবুকে ধর্ম অবমাননার মিথ্যা মামলাতেও নীরিহ বিজয় বন্দী হয়ে আছে বিনা বিচারে ।

    কোথায় তাদের মানবাধিকার ? কেন আমরা ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেই না……

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s