Language is courage: হিতোশী ইগারাশী স্মরণে…

Hitoshi_Igarashi
হিতোশী ইগারাশী ( ১৯৪৭ – ১৯৯১)

হিতোশী ইগারাশী (Hitoshi Igarashi), খুব কাছের কিছু মানুষ ছাড়া যাকে অনেকেই ভুলে গেছেন। বিংশ শতাব্দীর শেষ দশকটির শুরুতে যাকে হত্যা করেছিল ধর্মান্ধ ইসলামবাদীরা।

ইসলামবাদীরা আজো তাদের সেই কাপুরুষের মত আগ্রাসন অব্যাহত রেখেছে, তাদের রক্তাক্ত ছুরি নতুন শিকার খুজে বেড়াচ্ছে প্রতিনিয়ত।

১৯৯১ সালে ১২ জুলাই জাপানে ঘটেছিল ঘটনাটি…

সুকুবা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাত তলায় তার অফিসের কাছে লিফটের সামনে হলওয়েতে পড়ে ছিল ইসলামী শিল্পকলার স্কলার হিতোশী ইগারাশীর রক্তাক্ত লাশটি। তার কাধে, মুখে আর হাতে ছিল গভীর ক্ষত। আজও এই হত্যাকান্ডের রহস্যর সমাধান হয়নি, তবে অনেকেই জানেন এই নৃশংস উন্মত্ততাটি কারা ঘটিয়েছিল। সঙ্গতকারনেই মনে করা হয় ইরানী নিরাপত্তা বাহিনীর একটি আততায়ীর দল এই হত্যাকান্ডটি ঘটানোর জন্য টোকিও তে এসেছিল, তাদের সাথে ছিল খোমেনি র একটি ফতোয়ার নির্দেশ।

হিতোশীর অপরাধ ছিল, তিনি সালমান রুশদীর বিতর্কিত উপন্যাস দি স্যাটানিক ভার্সেস অনুবাদ করেছিলেন জাপানী ভাষায়। এর প্রায় এক সপ্তাহ আগে ( জুলাই ৩ ) একই ধরনের আক্রমন ঘটেছিল মিলানে, বইটির ইতালীয় ভাষার অনু্বাদক এত্তোরে ক্যাপ্রিয়ালোর উপর, তবে তিনি প্রাণে বেচে গিয়েছিলেন সামান্য কিছু জখম নিয়ে।

হিতোশী ইগারাশীর জন্ম ১৯৪৭ সালে, ইসলামিক আর্টের উপর তিনি টোকিও বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি করেছিলেন, পরে ১৯৭৯ সালে ইসলামী বিপ্লবের আগ পর্যন্ত তিনি রয়্যাল অ্যাকাডেমী অব ইরান, তেহরানের কাজ করেছিলেন একজন ফেলো হিসাবে। সুকুবা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক এবং comparative Islamic culture এর গবেষক হিতোশী ইগারাশী আরবী এবং পার্সী ভাষার একজন পন্ডিত ছিলেন। তার অন্যতম একটি কাজ ছিল ইবনে সিনার The Canon of Medicine এর জাপানী ভাষায় অনুবাদ। এর পর তিনি সালমান রুশদীর স্যাটানিক ভার্সেস অনুবাদের কাজটি শেষ করেন।

প্রায় সবারই জানা আছে ১৯৮৮ সালে দি সাটানিক ভার্সেস প্রকাশিত হবার পর ধর্ম অবমাননার অভিযোগ এনে ইরানের আয়াতোল্লাহ রুহুল্লা খোমেনী ফতোয়া দেন, এর লেখক, প্রকাশক সংশ্লিষ্ট সবার মৃত্যুদন্ড এবং হত্যা করার আহবান জানিয়ে ( ১৪ ফেব্রুয়ারী ১৯৮৯); আর হিতোশীর হত্যাকান্ডের জড়িত ছিল এই বিতর্কিত উপন্যাসটির অনুবাদ করার বিষয়টি; ১৯৮৯ সালে জুনে খোমেনী মারা যাবার পর তার উত্তরসুরীরা তার সেই ফতোয়া বহাল রাখে, আর এটি বেশ গুরুতর রুপ নেয় যখন আয়োতাল্লাহ সানে ই, যিনি ইরানী রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান Bonyad-e Panzdah-e Khordad এর প্রধান ছিলেন। ইরানী টেলিভিশনের মাধ্যমে তিনি ঘোষনা দেন সালমান রুশদী কে হত্যার জন্যর ৩ মিলিয়ন ডলার (,যদি ইরানী নাগরিক কেউ সেটা করে আর ১ মিলিয়ন ডলার যদি ভিনদেশী কেউ হন) পুরষ্কার ঘোষনা করেন। কোন একটি সভ্য দেশের রাষ্ট্রের অন্য একটি দেশের নাগরিক হত্যা করার উস্কানী দেবার নজির স্থাপন করে পৃথিবীর অন্যতম ইসলামবাদী রাষ্ট্রটি।

১৯৯১ এর মার্চে প্রতিষ্ঠানটি জানান, তারা পুরষ্কারের প্রায় ২ মিলিয়ন ডলার সংগ্রহ করে ফেলেছে, তারা ঘটা করেই জানিয়ে দেন, বইটির প্রচার, প্রকাশনা, পরিবেশনার সাথে জড়িতদের যে কাউকে যারা হত্যা করতে পারবে, তাকে সবধরনের সাহায্য করা হবে। হিতোশী একমাত্র শিকার ছিলেন না, তার আগে ইতালীয় অনুবাদককে আক্রমন করা হয়। তিনি প্রাণে বেচে যান, তার মিলানে সেই ঘটনার তদন্তে প্রমান হয় আক্রমনকারীদের সংশিষ্টতা আছে ইরানী দুতাবাসের সাথে। হিতোশীর পর ১৯৯৩ সালে নরওয়েজীয় প্রকাশক William Nygaard কে আক্রমন করা হয়, যিনি খুব অল্পর জন্য প্রাণে বেচে যান তিনি।

২০০১ সালে অধ্যাপক শিগেমী ইনাগা তার এক সময়ের সহকর্মী হিতোশী কেন এই বিতর্কিত উপন্যাসটি অনুবাদ করেছিলেন সেই বিষয়টি ব্যাখ্যা দিয়ে তার একটি বক্তৃতায় ( Professor Shigemi Inaga of the International Research Center for Japanese Studies, Kyoto, Japan, যিনি comparative literature ও culture এবং cultural exchange এর ইতিহাস এর গবেষক ও অধ্যাপক) বলেছিলেন :

.. Igarashi also defended the novel and novelist by locating the writer in the lineage of the Islamic mystical Sufi thought. According to Igarashi, Rushdie was not anti-Islamic, but his passage to England, just like Passage to India by E. M. Foster, represented a literature of exile and could be judiciously compared to the Hejra by Muhammad, to begin with, or to the “Western Exile” in Kairouan by Suhrawardi. By interpreting theVerses as a modern version of Rumi’s “Song of a Reed,” lamenting the separation from (the) God/Creator, Igarashi identified Rushdie among the mystical and heretic poets of Islamic rage against religious profanation. Igarashi, as a Japanese man, wished to make an intervention as a third party through his Japanese translation, so as to put an end to this endless conflict.”

ইগারাশী আমাদের স্মরণ করিয়ে দেন..

প্রতি মুহর্তে মুক্তচিন্তাকে লড়তে হচ্ছে প্রতিকুলতার সাথে..;

“Language is courage: the ability to conceive a thought, to speak it, and by doing so to make it true. (Salman Rushdie: The Satanic Verses)

Advertisements
Language is courage: হিতোশী ইগারাশী স্মরণে…

2 thoughts on “Language is courage: হিতোশী ইগারাশী স্মরণে…

  1. sarmin বলেছেন:

    সাইটটা ভাল লাগল। তথ্যসমৃদ্ধ। বিজ্ঞানমনস্ক মানুষ তৈরিতে সাহায্য করবে। BTW ফন্টের রঙ গাঢ় কাল করে দিলে দেখতে ভাল হত।

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s